In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

Press Logo

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬

কানাডার জাতীয় সংসদে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত প্রধানের ঐতিহাসিক ভাষণ

সমতা ও ন্যায়বিচারের জন্য আহ্বান জানিয়ে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) এর বক্তব্য উপস্থাপন

AddressAtCanadianParliament2016

১৭ই অক্টোবর ২০১৬ তারিখে নিখিল বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের প্রধান, পঞ্চম খলীফা, হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) কে কানাডার সংসদ ভবনে সাদর অভ্যর্থনা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী রাইট অনারেবল জাস্টিন ট্রুডো, মন্ত্রীপরিষদের মন্ত্রীবর্গ এবং ৫০ জনেরও অধিক এমপি ও সিনেট সভার সদস্যবৃন্দ।

দিনের শেষে সম্মানিত হুযূর অটোয়াতে কানাডার সংসদ ভবনের স্যার জন এ ম্যাকডোনাল্ড বিল্ডিং-এ আয়োজিত এক বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ২২৫ জনেরও অধিক ব্যক্তিবর্গের সামনে “মানবিক মূল্যবোধ – শান্তিপূর্ণ বিশ্বের ভিত্তি” শীর্ষক একটি ঐতিহাসিক বক্তব্য প্রদান করেন।

অর্ধশতাধিক সাংসদসহ ১১০ জনেরও অধিক অতিথি অংশগ্রহণ করেন। বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি প্রতিনিধি অনারেবল কারস্টি ডানকান এবং ঐক্য, শরণার্থী ও নাগরিকাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী অনারেবল জন ম্যাককালাম সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সরকারি মন্ত্রীবর্গ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও উপস্থিতমণ্ডলীর মাঝে ছিলেন সিনেট সভ্যবৃন্দ, কূটনৈতিক প্রতিনিধিবর্গ, সরকারপক্ষের ১১ জন রাষ্ট্রদূত, মিডিয়া প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, এনজিও নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় নেতা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

AddressAtCanadianParliament2016

বক্তব্য প্রদানের সময় হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ক্রমবর্ধমান মৌলবাদ ও চরমপন্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিশ্বব্যাপী গুরুত্ববহ বিষয়াবলী সম্পর্কে বলেন।

সম্মানিত হুযূর প্রত্যেক বিষয়ে প্রকৃত ন্যায়পরায়ণতা এবং সাম্যের দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের জন্য বিশ্বের শাসকগোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানান। সম্মানিত হুযূর ইসলামের শিক্ষাকে তুলে ধরেন এবং পবিত্র কুরআনের শিক্ষার আলোকে বৈশ্বিক সমস্যাবলীর সমাধান উপস্থাপন করেন।

সমাজে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

আমি বিশ্বাস করি জাতিধর্ম নির্বিশেষে মানবতার ভিত্তিতে আমরা সবাই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত, এবং তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিৎ। সকল মানুষ এবং সকল সংগঠনকে সম্মিলিতভাবে মানবিক মূল্যবোধ উন্নীত করার প্রয়াস করতে হবে, এবং যে পৃথিবীতে আমরা বাস করছি তাকে উন্নত এবং আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ বাসভূমিতে পরিণত করার জন্য সাগ্রহে চেষ্টা করতে হবে।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

যদি কোন রাষ্ট্র বা ধর্ম মানবিক মূল্যবোধ এবং মানবাধিকারকে সমর্থন না দেয় তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বের অপরাপর অংশেও পড়ে এবং ফলশ্রুতিতে এরূপ অন্যায়াচরণ আরও ছড়িয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে বিশ্বের কোন অংশে যদি ধার্মিকতা, মানবতাবোধ এবং সমৃদ্ধি বিরাজ করে তাহলে অন্যান্য সমাজব্যবস্থা এবং মানবসম্প্রদায়ের উপরও এর ইতিবাচক প্রভাব বিস্তৃত হয়।

AddressAtCanadianParliament2016

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব সম্পর্কে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

আধুনিক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার কল্যাণে আমরা সবাই এখন অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হতে পারছি এবং আমরা ভৌগলিক সীমারেখার মাঝেও আর আবদ্ধ নই। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও এটি একটি অদ্ভুত এবং দুঃখজনক বাস্তবতা যে আমরা আগের চেয়ে আরও বেশি সংবদ্ধ হলেও প্রকৃতপক্ষে আমাদের মাঝে ক্রমেই দুরত্ব বাড়ছে। এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এবং কষ্টদায়ক যে মানবজাতির মাঝে ঐক্য ও ভালবাসা ছড়িয়ে দেয়ার পরিবর্তে ঘৃণা, নিষ্ঠুরতা ও অবিচার বিস্তারের প্রতি এই বিশ্ব অনেক বেশি মনোযোগী।

সম্মানিত হুযূর এটি স্বীকার করেন যে বিশ্বের অধিকাংশেই ইসলামের প্রতি ভীতি বাড়ছে। তবু তিনি বলেন যে এই ধর্মের প্রতি ভীতিপ্রদ হওয়া সম্পূর্ণ অনাবশ্যক।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে ইসলাম প্রকৃতপক্ষে তা নয় যা আপনারা সাধারণত প্রচারমাধ্যমের চিত্রায়ণে দেখে বা শুনে থাকেন। ইসলাম সম্পর্কে আমার জ্ঞান অনুযায়ী আমি এটিই জানি যে ইসলামের শিক্ষা এর নামেই নিহিত। ‘ইসলাম’ শব্দের পারিভাষিক অর্থ হল শান্তি, ভালবাসা ও একতা এবং এর সমস্ত শিক্ষার ভিত্তি এই আদর্শ মূল্যবোধসমূহের উপর নির্মিত।

AddressAtCanadianParliament2016

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আরও বলেন:

দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটি অস্বীকার করা যাবে না যে কিছু মুসলমান গোষ্ঠী আছে যাদের বিশ্বাস ও কার্যকলাপ ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইসলামের মৌলিক শিক্ষাগুলোকে লঙ্ঘন করে তারা এর নামে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ রচনা করছে।

সম্মানিত হুযূর বলেন যে যেকোন সফল ও সহনশীল সমাজব্যবস্থার পূর্বশর্ত হল সার্বজনীন ধর্মীয় স্বাধীনতা।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

পবিত্র কুরআনের সূরা আল বাকারা এর ২৫৭ নম্বর আয়াতে পরিস্কার বলা হয়েছে, ‘ধর্মের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্যবাধকতা নেই।’ কী স্পষ্ট, পরিপূর্ণ এবং দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য যা চিন্তার স্বাধীনতা, ধর্মের স্বাধীনতা এবং বিবেকের স্বাধীনতাকে সংরক্ষণ করে। অতএব, আমার বিশ্বাস এবং আমার শিক্ষা হল যে প্রত্যেক গ্রাম, শহর, মহানগরী অথবা দেশের প্রত্যেক ব্যক্তির সুনিশ্চিত অধিকার রয়েছে নিজ ধর্ম চয়ন করার এবং তা চর্চা করার।

AddressAtCanadianParliament2016

সম্মানিত হুযূর বলেন এটি অনুতাপের বিষয় যে মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ এবং কতিপয় পশ্চিমা সরকারগুলো তাদের দেশে কিছু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারকে সীমিত করতে চেয়েছে।

সম্মানিত হুযূর বলেন যে ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার যেকোন প্রচেষ্টাই বিপজ্জনক।

AddressAtCanadianParliament2016

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

ব্যক্তিবিশেষে প্রত্যেকের শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজ শিক্ষাকে অন্যের কাছে প্রচার ও প্রসার করার অধিকার রয়েছে।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আরও বলেন:

মানুষের মৌলিক ধর্মবিশ্বাস বা ধর্মচর্চার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা সরকার বা সংসদীয় ব্যবস্থাসমূহের পক্ষে সুবিবেচনাপ্রসূত নয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন নারী কেমন পোষাক পরিধান করছে তা নিয়ে সরকারের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিৎ নয়। তাদের এমন কোন আদেশ জারী করা উচিৎ নয় যাতে ধর্মাচরণের স্থান কেমন হওয়া উচিৎ তার উল্লেখ থাকবে। এক্ষেত্রে যদি তারা সীমার বাইরে অগ্রসর হয় তাহলে সেটা তাদের জনগণের মাঝে অস্থিরতা এবং গুরুতর হতাশার উদ্রেক করবে। এইরূপ অসন্তোষজনক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে যদি তাদের প্রতিহত করা না হয় এবং পরিণামে এটি সমাজের শান্তিকে হুমকির সম্মুখীন করবে।

AddressAtCanadianParliament2016

ইসলামের শিক্ষার আলোকে রাষ্ট্রের ভূমিকা সম্পর্কে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

জাতির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে রাষ্ট্র এবং সংসদীয় সদস্যদের কর্তব্য হল এমনভাবে আইন প্রণয়ন করা যা তাদের নাগরিকদের অধিকার হরণের পরিবর্তে তাদের অধিকারকে সুনিশ্চিত করবে।

সম্মানিত হুযূর বলেন যে যদিও ধর্মীয় স্বাধীনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি, তথাপি যেখানেই চরমপন্থার আশঙ্কা থাকুক অথবা ঘৃণার উদ্রেক ঘটুক না কেন, সেখানে নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে হস্তক্ষেপ করা এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সরকারের কর্তব্য।

সম্মানিত হুযূর আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিষয়াবলী এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উভয় ক্ষেত্রে সুবিচারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও বলেন।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা একটি বিশাল আস্থার বহিঃপ্রকাশ এবং এজন্য আমরা প্রায়ই দেখতে পাই রাষ্ট্রীয় নেতাবৃন্দ বিশ্বস্ততা ও পরম ন্যায়পরায়ণতার সাথে জাতির সেবা করার উদ্দেশ্যে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে থাকেন। দুঃখের বিষয়ে এই যে অনেক ক্ষেত্রেই এমন সম্মানজনক অঙ্গীকারসমূহ কেবল ফাঁকা বুলি প্রমাণিত হয়।

AddressAtCanadianParliament2016

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

কিছু কিছু দেশে একনায়কতন্ত্র কিংবা ন্যায়বিরুদ্ধ সরকার রয়েছে, তবু পরাশক্তিসমূহ এই নিষ্ঠুরতার প্রতি নির্বিকার থাকে কারণ সেইসব সরকার তাদেরকে সমর্থন যোগায় এবং তাদের স্বার্থ পরিপূরণ সহজতর করে। অথচ যেসব দেশে নেতৃবর্গ অথবা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পরাশক্তিগুলোর বাতিকের সামনে অনড় থাকে, তারা নির্বিকারচিত্তে বিদ্রোহী দলসমূহকে সহযোগিতা প্রদানে অথবা সরকার পরিবর্তনের দাবি করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে, নিজ জনগণের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে এই সরকারগুলোর মাঝে কোন পার্থক্য নেই। বস্তুগত পার্থক্য কেবল এটিই যে কোন ক্ষেত্রে সরকারগুলো পরাশকিগুলোকে সহযোগিতা করে থাকে, আর অন্যান্য ক্ষেত্রে করে না।

সম্মানিত হুযূর কিছু নির্দিষ্ট সরকারের সমালোচনা করেন যারা “সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা না করেই” কিছু মুসলমান রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। তিনি বলেন যে এই অস্ত্রগুলো প্রায়ই ভুল হাতে গিয়ে পৌঁছায় নতুবা নিরীহ অসামরিক মানুষদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

ইয়েমেনে সৌদি আরবের যুদ্ধকে অবিচারের মুখ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করে এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

এটি সর্বজনবিদিত যে সৌদি আরব পাশ্চাত্য থেকে কেনা অস্ত্র ইয়েমেনের যুদ্ধে ব্যবহার করছে যার ফলে নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার নিরীহ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এবং নিদারুণ ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত হচ্ছে। এরূপ অস্ত্র ব্যবসার চূড়ান্ত ফলাফল কি হবে? ইয়েমেনের জনগণ, যাদের জীবন এবং ভবিষ্যৎ বিনষ্ট করে দেয়া হচ্ছে, তারা শুধু সৌদি আরবের প্রতিই বিদ্বেষপরায়ণ ও প্রতিশোধপরায়ণ হবে না বরং সৌদি আরবে অস্ত্র সরবরাহকারীদের প্রতি এবং সাধারণভাবেই পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিও ঘৃণার মনোভাব পোষণ করবে।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

কোন প্রকার প্রত্যাশা কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অনুপস্থিতিতে এবং সবচেয়ে ভয়ঙ্কর নিষ্টুরতার সাক্ষী হওয়ার কারণে তাদের যুবসমাজ মৌলবাদের প্রতি ঝুঁকে যেতে পারে এবং এইভাবে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার আরেকটি নতুন দুষ্টচক্রের উত্থান ঘটবে। কয়েক বিলিয়ন ডলারের জন্য কি এমন ধ্বংসাত্মক ও ভয়াবহ বিপর্যয় কাম্য?

AddressAtCanadianParliament2016

সম্মানিত হুযূর আরও বলেন যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন জাতিসংঘের উচিৎ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মাঝে সুবিচার এবং সমতা নিশ্চিত করা।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

যদি পরাশক্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, যেমন জাতিসংঘ, সব রকম পরিস্থিতিতে প্রকৃতপক্ষেই তাদের মূলনীতি মেনে চলত তাহলে বিশ্বের অনেক অংশেই সন্ত্রাসের বিষাক্ত আক্রমণ প্রত্যক্ষ করতে হত না। বিশ্বের শান্তি এবং নিরাপত্তাকে বারংবার পতন ও ধ্বংসের সম্মুখীন হতে দেখতাম না। এবং নিশ্চিতভাবেই এত ব্যাপক শরণার্থী সঙ্কট আমাদের দেখতে হত না যা এখন ইউরোপ এবং অন্যান্য উন্নত দেশের নাগরিকদের দ্বিধাগ্রস্ত ও ভীতিপ্রদ করে তুলছে।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আরও বলেন:

জাতিসংঘের উচিৎ পৃথিবীকে রাজনীতি, অবিচার বা পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে মুক্ত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে নিজ দায়িত্ব পালন করা।

পরিশেষে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

আমি আশা করি এবং এই দোয়া করি যেন মহান আল্লাহতায়ালা জাতিসংঘ এবং বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহকে এমন ভাবে কাজ করার তৌফিক দিন যেন প্রকৃত ও সুদূরপ্রসারী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর অন্যথায় কোন কিছু চিন্তার অতীত কারণ আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন না করি তাহলে এই পৃথিবী আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের আকারে এক বিশাল বিপর্যয়ের দিকে ক্ষিপ্রতার সাথে অগ্রসর হবে।

AddressAtCanadianParliament2016

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আরও বলেন:

আল্লাহতায়ালা বিশ্বের নেতামণ্ডলী এবং নীতিনির্ধারকদেরকে বিচক্ষণতা দান করুন যেন আমরা আমাদের সন্তানসন্ততি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী পৃথিবী রেখে যেতে পারি।

অনুষ্ঠানচলাকালীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রাক্তন হাই কমিশনার এবং কানাডার সুপ্রীম কোর্টের প্রাক্তন বিচারক অনারেবল লুইস আরবারকে জনসেবার জন্য স্যার জাফরুল্লাহ খান পুরস্কারে ভূষিত করেন।

AddressAtCanadianParliament2016

পুরস্কার গ্রহণের পর লুইস আরবার বলেন:

এই অসাধারণ সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত বোধ করছি যার নামকরণ করা হয়েছে একজন মহান আইনজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক এবং একজন মহান কূটনীতিকের নামে। আমি বিশেষত সম্মানিত বোধ করছি স্যার জাফরুল্লাহ খানের সাথে সংযুক্ত হতে পেরে কারণ তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক আদালতের প্রধান বিচারক এবং প্রেসিডেন্ট ... এছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত যেরূপ দৃঢ়তার সাথে অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং করে যাচ্ছে তাতে আমি গভীরভাবে অভিভূত।

উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অতিথি বক্তারাও তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

AddressAtCanadianParliament2016

বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর অফিসিয়াল প্রতিনিধি অনারেবল কিরস্টি ডানকান

আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের নেতা এবং পঞ্চম খলীফা হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) কে পার্লামেন্ট হিলে স্বাগত জানাতে পেরে আজ আমি সম্মানিত এবং গর্ববোধ করছি। আজ পার্লামেন্ট হিলের প্রত্যেকে সম্মিলিতভাবে উপস্থিত হয়েছে.সম্মানিত হুযূরকে স্বাগত জানানোর জন্য, আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের সাথে উচ্ছ্বাস প্রকাশের জন্য এবং আমাদের দৃঢ় সমর্থন প্রকাশের জন্য .. কানাডায় আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত অসাধারণ অবদান রেখে চলেছে এবং সবসময় ‘ভালবাসা সবার তরে, ঘৃণা নয় কারো পরে’ এর দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে।

আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ড. জেমস জে. জগবি বলেন:

সম্মানিত হুযূর, হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.), আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কমিশনের পক্ষ থেকে আমি আজ রাতে আপনার সাথে উপস্থিত থাকতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের ব্যপারে যা আমাদেরকে সবসময় মুগ্ধ করেছে তা হল, অধিকাংশ সময়েই নিপীড়নের শিকার হওয়ার পরও অন্যান্য নির্যাতিত মানুষদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে আপনারা সবার শিরোভাগে। এমর এক পৃথিবীতে যেখানে অসহিষ্ণুতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে সেখানে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত সহনশীলতা এবং সহানুভূতির দৃঢ় সমর্থক হিসেবে সব সময় অবস্থান গ্রহণ করেছে।

দিনের প্রথমাংশে সম্মানিত হুযূর কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীবর্গ, সিনেট সদস্যবৃন্দ এবং সাংসদীয় নেতাবৃন্দের সাথে পালাক্রমে সাক্ষাৎ করেন। সম্মানিত হুযূর কানাডার প্রধানমন্ত্রী রাইট অনারেবল জাস্টিন ট্রুডোর সাথেও সাক্ষাৎ করেন।

AddressAtCanadianParliament2016

এক প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের প্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেন সংসদের মাননীয় স্পীকার যেসময় প্রধানমন্ত্রীসহ হাউজ অফ কমন্সের সকল সক্রিয় সদস্য সম্মানিত হুযূরকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানান।

AddressAtCanadianParliament2016

এছাড়াও অনারেবল জুডি স্গ্রো, এমপি হাউজ অফ কমন্সে একটি সদস্য বিবৃতি পড়ে শোনান যেখানে বলা ছিল:

মাননীয় স্পীকার, আজ দিনের প্রথমার্ধে আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্বজনীন আধ্যাত্মিক নেতা পার্লামেন্ট হিলে এক আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের জন্য অটোয়াতে এসে পৌঁছান।

আমাদের সাথে অবস্থানকালে তিনি তাঁর শান্তিপূর্ণ বার্তা ‘ভালবাসা সবার তরে, ঘৃণা নয় কারো পরে’ বিস্তৃত করার লক্ষ্যে মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সেনেটর সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করবেন।

এটি ইসলামের শান্তিপূর্ণ দিক ও সৌন্দর্য তুলে ধরা এবং কানাডা ও বিশ্বের অন্যান্য অংশে শান্তি, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোকে একটি কর্মসূচী গ্রহণের আহ্বান জানানোর জন্য সম্মানিত হুযুর কর্তৃক গৃহীত চলমান প্রচেষ্টার একটি অংশবিশেষ ।

আমি সম্মানিত হুযুর এবং বিশ্বব্যপী আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের সদস্যদেরকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য সাধুবাদ জানাই, আর আমি আমার সংসদীয় এলাকার জনগণ এবং কানাডার জনগণের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছি।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) এর নীরবে দোয়া পরিচালনার মাধ্যমে এই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। নৈশভোজের পর সংসদ সদস্য এবং অতিথিবৃন্দ হুযুর (আই.) এর সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ করেন।

ShareThis Copy and Paste