In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

Press Logo

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সোমবার, ১৬ মে, ২০১৬

মাহমুদ মসজিদের উদ্বোধন উপলক্ষে সুইডেনের মালমোতে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান আয়োজিত

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) এর মূল বক্তব্য প্রদান

SwedenMahmudMosqueReception2016

সুইডেনের মালমোতে অবস্থিত মাহমুদ মসজিদ (প্রশংসার যোগ্য সত্ত্বার/ব্যক্তির মসজিদ) এর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ১৪ মে, ২০১৬ তারিখে আয়োজিত এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে নিখিল বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের প্রধান, পঞ্চম খলীফা হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) মূল বক্তব্য প্রদান করেন।

সুইডেনে আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের দ্বিতীয় এই মসজিদটি একদিন আগেই হুযূর (আই.) এর সাপ্তাহিক জুম’আর খুৎবা প্রদানের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

SwedenMahmudMosqueReception2016

মালমো শহরের কাউন্সিল চেয়ারম্যানসহ ৮০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং অতিথি মধ্যাহ্নভোজনের সময় এই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তব্য প্রদানকালে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বিস্তারিতভাবে একটি মসজিদের উদ্দেশ্যাবলী সম্পর্কে বলেন; তিনি সকল প্রকার সন্ত্রাস এবং চরমপন্থার নিন্দা করেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন অংশে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত কর্তৃক পরিচালিত মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বলেন।

SwedenMahmudMosqueReception2016

চরমপন্থার সম্প্রসারণ বা গোড়াপত্তনে মসজিদসমূহের অপব্যবহার সম্পর্কে বলতে গিয়ে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

ইসলামে এমন মসজিদের কোন স্থান নেই যেখান থেকে অপকর্মের বিস্তার ঘটে। পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশনা এটাই যে নেতিবাচক উদ্দেশ্যে নির্মিত মসজিদ গুড়িয়ে দেয়া উচিত।

SwedenMahmudMosqueReception2016

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ(আই.) আরও বলেন :

কিছু চরমপন্থি মুসলমান গোষ্ঠী বর্তমানে ইউরোপেও অনুপ্রবেশ করেছে এবং তাদের সদস্যরা এইসব দেশে বাস করছে এবং এই মহাদেশের শান্তি ও মঙ্গলের জন্য এক গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

SwedenMahmudMosqueReception2016

এর বিপরীতে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত কর্তৃক নির্মিত মসজিদসমূহের উল্লেখ করে হুযূর (আই.) বলেন যে সেগুলো প্রকৃতপক্ষে “শান্তির আবাসস্থল” যেখানে মানুষ মহান আল্লাহ্‌তায়ালার ইবাদতের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়।

মালমোতে অবস্থিত মাহমুদ মসজিদের প্রসঙ্গে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

অপরিচিত কোনকিছুর প্রতি ভীত হওয়া নিতান্তই স্বাভাবিক এবং এজন্য প্রতিবেশীরা এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারেন যে এই মসজিদ নির্মাণের পর তাদের শহরের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। কিন্তু যে ইসলামকে আমি জানি এবং অনুসরণ করি, তার প্রেক্ষিতে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে এই মসজিদটি শান্তির উৎস হিসেবে প্রমাণিত হবে, যেখান থেকে কেবল ভালবাসা ও সহানুভূতির অবিরাম প্রস্রবণ নিঃসৃত হবে।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আরও বলেন:

মসজিদের একটি মৌলিক উদ্দেশ্য হল মুসলমানদের ইবাদতের স্থান হিসেবে সেবা প্রদান করা এবং আরবীতে ইবাদতের পরিভাষা হল ‘আস-সালাত’ যার সারাংশ হল ‘সহানুভূতি, ভালবাসা এবং অনুগ্রহ’। কাজেই একজন মুসলমান যিনি একনিষ্ঠভাবে তার নামায আদায় করেন তিনি দয়াশীল, যত্নবান ও অনুগ্রহকারী হয়ে থাকেন এবং তিনি অনৈতিক, অবৈধ কার্যকলাপ এবং যাবতীয় অপকর্ম থেকে বিরত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

হুযূর (আই.) বলেন যে আহমদীরা বিশ্বব্যাপী মসজিদ নির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং যেখানেই তা প্রতিষ্ঠিত হোক তা অতিশীঘ্রই বৃহত্তর সমাজ তাদের বরণ করে নেবে।

SwedenMahmudMosqueReception2016

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

সারা বিশ্বে আমরা হাজার হাজার মসজিদ নির্মাণ করেছি এবং আমরা সব সময় প্রত্যক্ষ করেছি যে স্থানীয় অধিবাসীরা যখন আমাদের সম্পর্কে জানতে পারেন তখন খুব দ্রুত তাদের ভয়ভীতি দূরীভূত হয় এবং সমাজের একটি অখণ্ড অংশ হিসেবে আমাদেরকে মূল্যায়ন ও সমর্থন করতে এবং স্বাগত জানাতে তারা এগিয়ে আসেন।

খলীফা এটিও উল্লেখ করেন যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী অধিকারবঞ্চিত অংশে বসবাসকারী মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে কীভাবে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত ব্যাপক পরিসরে মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

SwedenMahmudMosqueReception2016

হুযূর (আই.) বলেন যে এই সমস্ত সেবা মানুষের বিশ্বাস ও জাতিধর্ম নির্বিশেষে প্রদান করা হয় এবং আরও জানান যে নিঃসঙ্গ ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে অবিরাম পানি সরবরাহ প্রদানের লক্ষ্যে নিয়োজিত কর্মকাণ্ডের সাথে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত সংশ্লিষ্ট হয়েছে।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

পাশ্চাত্যে বসবাস করে, যেখানে পানির কল এবং ঝরনার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, পানির প্রকৃত মূল্য অনুধাবন করা অত্যন্ত দুরূহ। এটি তখনই বোঝা সম্ভব যখন আপনারা আফ্রিকার প্রত্যন্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করবেন যে পানির গামলা ভরার জন্য অল্পবয়স্ক বাচ্চারা প্রতিদিন অনেক কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিচ্ছে, যা তারা মাথায় করে বাড়ি নিয়ে আসে, এরপর আপনারা হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন যে পানি আসলে কতটা মূল্যবান সম্পদ।

আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের প্রতিষ্ঠাতার শিক্ষা সম্পর্কে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

আমরা আহমদী মুসলমানরা আমাদের জামা’তের প্রতিষ্ঠাতাকে প্রতিশ্রুত মসীহ এবং ইমাম মাহদী হিসেবে বিশ্বাস করি। শুধুমাত্র একটি আধ্যাত্মিক মশাল উঁচিয়ে তিনি ইসলামের মহিমান্বিত এবং চিরন্তন শিক্ষাগুলোর উপর এক শাশ্বত আলো জ্বেলেছেন।

পরিশেষে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের প্রত্যেকটি উপায় অবলম্বন করা উচিৎ, যেন আমাদের সন্তানদের উপর খন্ডিত ও নির্যাতিত একটি পৃথিবীর দায়িত্বভার অর্পণ করতে না হয়। বরং আমাদের নিশ্চিত করা উচিৎ যে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বসবাসের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী পৃথিবী রেখে যাব।

এর আগে সুইডেনে আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট মি. মামুন-উর-রশীদ সাহেবের শুভেচ্ছা বক্তব্যসহ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শ্রোতামন্ডলীর উদ্দেশ্যে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

SwedenMahmudMosqueReception2016

মালমো শহরের কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, কেন্ট অ্যান্ডারসন বলেন:

মালমোতে মাহমুদ মসজিদের উদ্বোধন উপলক্ষে আজ একটি ঐতিহাসিক দিন।

লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ক্যটারিনা কিনভাল বলেন:

আপনাদের বাণী ‘ভালবাসা সবার তরে, ঘৃণা নয় কারো ‘পরে’, যা আহমদীয়াতের নীতিবাক্য, এমন একটি বাণী যা শিক্ষা, সমতা, সহনশীলতা, ধর্মনিরপেক্ষ আইন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) এর নীরবে দোয়া পরিচালনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয় এবং এরপর হুযূর (আই.) অ-আহমদী অতিথিদের সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ করেন।

ShareThis Copy and Paste