In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

Press Logo

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সোমবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

লন্ডনে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বিশ্ব প্রধানের ওয়াকফে নও মেয়েদের ইজতেমায় বক্তব্য প্রদান

মুসলিম তরুণীদের তাদের বিশ্বাসে অটল থাকতে এবং ইসলামের প্রকৃত ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষা প্রচারের আহ্বান জানালেন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.)

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে আহমদীয়া মুসলিম জামাত যুক্তরাজ্যের ওয়াকফে নও মেয়েদের ইজতেমায় সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেছেন আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বিশ্ব প্রধান ও পঞ্চম খলিফা হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.)।

লন্ডনের বায়তুল ফুতুহ মসজিদে প্রায় এক হাজার ওয়াকফে নও সদস্যাসহ ১৫০০ এর অধিক অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

ইজতেমায় বিভিন্ন কর্মশালা, শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ের উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ জন সদস্যা, যারা সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন মুখস্থ বা হিফয করেছেন, তারা তাদের এ অসাধারণ সাফল্যের জন্য সম্মানিত হুযূরের হাতে পুরস্কৃত হন।

WaqfenauIjtemaUK2016

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) তাঁর ভাষণে শ্রোতৃমণ্ডলীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, যেহেতু 'ওয়াকফাতে নও' সদস্যারা সত্য ইসলাম প্রচারের জন্য স্বেচ্ছায় তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন সেজন্য তাদের উপর অসাধারণ কর্তব্য অর্পিত রয়েছে।

পবিত্র কুরআনের আলোকে দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি সূরা আল মু'মিনূন এর ৯ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করেন, যেখানে বলা হয়েছে- "যারা নিজেদের আমানত ও অঙ্গীকারের প্রতি যত্নশীল।"

WaqfenauIjtemaUK2016

শ্রদ্ধেয় হুযূর (আই.) বলেন যে, 'ওয়াকফাতে নও' সদস্যাদের দায়িত্ব হলো আহমদীয়া মুসলিম জামাতের পবিত্র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিশ্রæত মসীহ হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.) আগমনের উদ্দেশ্যাবলীর পূর্ণতার লক্ষ্যে কাজ করা।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

মসীহ মাও'উদ (আ.) এর লক্ষ্য কী ছিল? মানবজাতিকে খোদার নৈকট্য লাভে সহায়তা করা ও একে অপরের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে জগৎকে আলোকিত করা - তাঁর কথা, কাজ ও আচার ব্যবহারের মাধ্যমে। ইসলামের প্রকৃত বার্তা পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

সম্মানিত হুযূর (আই.) বলেন যে, বর্তমান যুগের মানুষ খোদা থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে এবং তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত এই ধ্যান-ধারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, ধর্ম হলো হাসি-ঠাট্টা বা তামাশার বিষয়।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

এখন এরূপ এক বিরূপ হাওয়ার মধ্যে আপনাদেরকে নিজের ধর্ম সম্পর্কে শিখতে হবে ও এর সত্যতার বিশ্বাসে আপনাদের দৃঢ় হতে হবে। খোদার সাথে অবশ্যই ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে, যেন অন্যদের সামনে তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন এবং এটিও প্রদর্শন করতে পারেন যে, যারা আল্লাহর শরণাপন্ন হন তিনি তাদের প্রার্থনা আজো শুনেন।

শ্রদ্ধেয় হুযূর বলেন যে, শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে নৈতিক পরিবর্তন আনয়ন করতে ওয়াকফাতে নও সদস্যাদের সচেষ্ট হওয়া উচিত।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

কোনটি ভুল ও কোনটি শুদ্ধ এ বিষয়ে সমাজকে আপনাদের শেখাতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ, আপনাদের দায়িত্ব অন্যদের কাছে এটি ব্যাখ্যা করা যে, তথাকথিত স্বাধীনতার নামে অশালীনতাকে উৎসাহিত করা মানবীয় মূল্যবোধকে উন্নীত করার পরিবর্তে কেবল অবনমিতই করে। এটি মানুষের আত্মমর্যাদাবোধের বৃদ্ধি নয়, বরং একে জলাঞ্জলি দেওয়ার একটি উপায় মাত্র। আপনাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, ধার্মিক তারাই যারা সর্বোত্তম নৈতিক চরিত্র প্রদর্শন করে।

শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় পবিত্র কুরআনের শিক্ষা তুলে ধরে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

পবিত্র কুরআনে আল্লাহতা'লা বলেছেন যে, একজন ঈমানদারের উচিত দরিদ্রদের প্রতি খেয়াল রাখা এবং ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো। সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন, অপরের উপকারের জন্য প্রত্যেকের উচিত ব্যক্তিগত চাহিদার কুরবানী করা। সর্বশক্তিমান আল্লাহ আরো বলেন, মানুয়ের উচিত সব ধরনের অহমিকা ও অপরের প্রতি কু-ধারণা থেকে বিরত থাকা। সর্বশক্তিমান আল্লাহ এও বলেন, মানুষের উচিত সত্যকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করা ও যাবতীয় মিথ্যা থেকে দূরে থাকা।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আরো যোগ করেন:

আল্লাহতা'লা বলেছেন, মানুষের উচিত তাঁর ও তাঁর সৃষ্টি - উভয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করা। সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন, যতটা সম্ভব ক্ষমা, ধৈর্য্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন করা উচিত। একইভাবে, সর্বমক্তিমান আল্লাহ আরো অনেক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং এর উপর আমল করে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে সমাজের শুদ্ধতা ও সৌন্দর্য আনয়ন করতে পারবো।

ওয়াকফাতে নও সদস্যাদের উপদেশ দিতে গিয়ে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

সব সময় মনে রাখবেন, আপনাদের প্রতি এ গুরু দায়িত্ব বর্তায় যে যেকোন জাগতিক বিষয়ের উপর আপনারা ধর্মকে প্রাধান্য দিবেন। যদি আপনারা চলতি ফ্যাশনের প্রতি অতি মাত্রায় উৎসুক হয়ে যান, তবে স্বাভাবিকভাবেই ধর্ম থেকে দূরে সরে যাবেন। একইভাবে, যদি পার্থিব মোহ দ্বারা বেশি প্রভাবিত থাকেন, আপনার ধর্ম বিশ্বাস প্রভাবিত হবে ও এর গুরুত্ব হ্রাস পাবে। সুতরাং, আমি আবারও বলছি আপনাদের প্রত্যেককে অবশ্যই ওয়াকফাতে নও এর একজন সদস্য হিসেবে ব্যক্তিগত দায়িত্ব অনুধাবন করতে হবে।

ভবিষ্যতে পেশা নির্বাচনের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সম্মানিত হুযূর বলেন যে, বিশেষ প্রয়োজন হলো আহমদী মুসলিম নারীরা যেন চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং গণ মাধ্যম বিষয়ে জ্ঞাতক হয়। তাই, যারা এসব বিষয়ে আগ্রহী তাদের এমন ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়া উচিত।

ওয়াকফাতে নও সদস্যাদের সমাজের অন্যান্যদের জন্য ইতিবচিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের গুরুত্ব উল্লেখ করে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

আপনাদেরকে নিজেদের ধর্ম-বিশ্বাস ও অঙ্গীকারের কথা স্মরণ রাখা উচিত এবং সহপাঠীদের দ্বারা পার্থিব বা অনৈতিক বিষয়ের প্রতি প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়। আপনাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সব সময় হওয়া উচিত আল্লাহকে সন্তুষ্ট রাখা ও এটি বুঝা যে অন্যদের পবিত্র পরিবর্তন সাধন করাও আপনাদেরই কাজ। যুগের স্রোতে ভেসে যাওয়ার বদলে, আমাদের আহমদী মেয়েদের অন্যদের জন্য উত্তম কাজের ধারা ও নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত।

পরিশেষে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) দোয়া করেন:

এই বরকতময় স্কীমের অন্তর্ভুক্ত সদস্যরা যেন তাদের পিতা-মাতা যে উদ্দেশ্যে তাদেরকে উৎসর্গ করেছেন তা অর্জন করুন। তারা চিরকাল মহানবী (সা.) এর প্রদর্শিত অনন্য সুন্দর শিক্ষার অনুসরণে জীবন যাপন করুন। সর্বশক্তিমান আল্লাহ সব দিক থেকে ওয়াকফে নও স্কীমের সদস্যদের প্রতি তাঁর করুণা বর্ষিত করুন। আমীন।

ShareThis Copy and Paste