In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

Press Logo

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

আহমদীয়া মুসলিম জামা'ত প্রধান কর্তৃক লেস্টারে নতুন আহমদীয়া মসজিদের উদ্বোধন

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন নবনির্মিত মসজিদটি হবে শান্তির আলোকবর্তিকা

NewMosqueInLeicester2016

আহমদীয়া মুসলিম জামা'ত সানন্দে জানাচ্ছে যে, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে নিখিল বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামা'তের নেতা, পঞ্চম খলীফা হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) যুক্তরাজ্যের লেস্টারে বায়তুল ইকরাম (সম্মানের গৃহ) মসজিদ উদ্বোধন করেন।

NewMosqueInLeicester2016

মসজিদ প্রাঙ্গনে পৌঁছামাত্র হুযূর আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারক ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে মসজিদটি উদ্বোধন করেন এবং দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহতায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। হুযূর এরপর নবনির্মিত মসজিদে মাগরিব এবং ইশার নামায পড়ানোর পর স্থানীয় আহমদী মুসলমানদের সাথে দেখা করেন।

পরবর্তীতে মসজিদের উদ্বোধন উপলক্ষে এক বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে ৮০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। রাইট অনারেবল কীথ ভায এম.পি. এবং লেস্টার পুলিশ প্রধান সাইমন কোলসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনীতিবিদ এই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

NewMosqueInLeicester2016

অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) এর ভাষণ যার মধ্য দিয়ে তিনি মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যাবলী ব্যাখ্যা করেন এবং ইসলামের শিক্ষার আলোকে প্রতিবেশীর অধিকার পরিপূরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

লেস্টারের ইতিহাস সম্পর্কে তুলে ধরতে গিয়ে হুযূর এই শহরের অধিবাসীদের সহনশীলতা এবং ঐক্যের প্রশংসা করেন।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের জাতিগতভাবে সর্বাধিক বৈচিত্র্যপূর্ণ শহরগুলোর মাঝে লেস্টার অন্যতম। আমি পড়েছি যে সম্প্রতি লেস্টারের নারবোরা সড়কটি সারাদেশের মধ্যে সংস্কৃতিগতভাবে সর্বাধিক বৈচিত্র্যপূর্ণ সড়ক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। আমি মনে করি, এই স্বীকৃতিকে এই শহরের জন্য একটি সম্মাননা হিসেবে গণ্য করা উচিৎ এবং এটি সর্বব্যপী ঐক্যের আদর্শ হিসেবে লেইস্টারের সফলতার স্বাক্ষর বহন করেন। এই উৎকর্ষসমূহ কখনও পরিত্যাগ করা বা অবহেলা করা উচিৎ নয়।

NewMosqueInLeicester2016

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

যেহেতু আমরা বর্তমানে অত্যন্ত নিরাপত্তাহীনতার মাঝে রয়েছি, যেখানে কিনা পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশই ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলা এবং অবিচারের শিকার হচ্ছে, তাই এটি এই সময়ের এক সংকটময় চাহিদা যে আমরা যেন সহনশীলতার মূল্যবোধকে উন্নীত করি এবং ছড়িয়ে দেই যেক্ষেত্রে এই শহরের জনগণ দীর্ঘকাল যাবত আদর্শিক ভূমিকা পালন করে আসছে। আমাদের সকলকে সমাজকে মানবতার পতাকাতলে একতাবদ্ধ করতে হবে এবং একে অপরের মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রেরণাকে লালনের প্রয়াসী হতে হবে।

হুযূর (আই.) আরও বলেন যে নানাবিধ ধর্মবিশ্বাসের সম্মিলনই লেস্টারকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করেছে এবং "এর সৌন্দর্য্য ও আকর্ষণকে বাড়িয়ে দিয়েছে"

NewMosqueInLeicester2016

মসজিদ নির্মাণের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিশদভাবে বলতে গিয়ে হুযূর (আই.) বলেন, একটি মসজিদ হল মুসলমানদের জন্য এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদত করার এবং আল্লাহর অধিকার পরিপূরণের স্থান।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

আমার আত্মবিশ্বাস রয়েছে যে প্রত্যেক এমন আহমদী যিনি ইবাদত করার উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে আসবেন তিনি শুধুমাত্র মহান আল্লাহতায়ালার প্রাপ্য অধিকার পরিপূরণের জন্যই সচেষ্ট হবে না বরং তার উপর এই মসজিদের প্রতিবেশীদের যে অধিকার রয়েছে, নিঃসন্দেহে আরও বৃহৎ পরিসরে সেটি পালনের জন্যে সচেষ্ট হবেন। তাই এই মসজিদ নিয়ে ভীতিগ্রস্ত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই কারণ এই প্রাঙ্গনের প্রত্যেক অভিমূখে আমাদের প্রতিবেশীদের প্রতি কেবলমাত্র আমাদের ভালবাসা এবং সহানুভূতির মনোভাবই প্রতিবিম্বিত ও প্রতিধ্বনিত হবে।

আহমদীয়া মুসলিম জামাতের নীতিবাক্যের উল্লেখ করে হুযূর (আই.) বলেন:

আপনারা নিজেরাই অনুধাবন করতে পারবেন যে আমাদের নীতিবাক্য ‘ভালবাসা সবার তরে, ঘৃণা নয়কো কারও পরে’ কোন ফাঁকা বুলি বা মিথ্যা স্লোগান নয়।

লেস্টার এর বৈচিত্র এবং সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে এর জনগণের দীর্ঘ সময়ব্যাপী একতার প্রসঙ্গে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

নিঃসন্দেহে, আহমদী মুসলমানরা এই মহান ঐতিহ্যকে সর্বদা সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকবে। প্রকৃতপক্ষে, শুধুমাত্র সমুন্নত রাখাই নয় বরং আমরা সবসময় এই ঐতিহ্যের ভিত্তিতেই পারস্পরিক সহনশীলতা এবং অমায়িকতার মজবুত বুনিয়াদ সংস্থাপন ও এর উৎকর্ষ সাধনের চেষ্টায় নিয়োজিত থাকব। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের ভালবাসব এবং তাদের খেয়াল রাখব এবং সর্বোৎকৃষ্ট উপায়ে তাদের অধিকার পরিপূরণ করব।

হুযূর (আই.) বলেন, নবী করিম (সা.) তাঁর উম্মতকে এই শিক্ষা দিয়েছেন যে তারা যেন অন্যের জন্য সেই মনোভাব পোষণ করে যেমনটা তারা নিজেদের জন্য চিন্তা করে।

NewMosqueInLeicester2016

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতকে এই শিক্ষা দিয়েছেন যে তারা নিজেদের জন্য যা পছন্দ করে অন্যের জন্যেও যেই তাই পছন্দ করে। আমি বিশ্বাস করি, এই সাধারণ কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ নীতিই বিশ্বে প্রকৃত এবং সুদূর-প্রসারী শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি। এই কালোত্তীর্ণ নীতি যেমন অতীতের জন্য সত্য ছিল ঠিক তেমনি বর্তমান সময়ের জন্যেও সত্য।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আরও বলেন:

যখন আমি এই প্রসঙ্গে চিন্তা করি, তখন আমি এটি অনুধাবন করি যে যদি আমি চাই অন্যেরা আমার সাথে ভালভাবে এবং শান্তি ও নিরাপদ উপায়ে আচরণ করুক তখন এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে আমিও যেন অন্যদের প্রতিও একই মনোভাব পোষণ করি।

খলীফা সুস্পষ্ট করে বলেন যে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী প্রতিবেশীর সংজ্ঞা অত্যন্ত ব্যাপক এবং একজন মুসলমানের উচিৎ সমগ্র মানবজাতির প্রতি প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করা।

NewMosqueInLeicester2016

পবিত্র কুরআনের ২২তম সূরার ৪১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে হুযূর (আই.) বলেন যে, প্রচারমাধ্যমের অঙ্কিত চিত্রের বিপরীতে ইসলামের উদ্দেশ্য হল সকল প্রতিবেশীর অধিকার সংরক্ষণ করা। এই আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রারম্ভিক পর্যায়ের মুসলমানগণ আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধের অনুমতি পেতেন সকল ধর্মের নিরাপত্তার জন্য, শুধু ইসলামের সুরক্ষার জন্য নয়। মুসলমানরা যদি প্রতিরোধ না করত তাহলে কোন গির্জা, ইহুদী উপাসনালয়, মন্দির, মসজিদ অথবা ইবাদতের কোন স্থানই সুরক্ষিত থাকত না।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

এটি মুসলমানদের দায়িত্ব যে তারা যেন অন্যদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে এবং অন্যদের ধর্মের বিরোধীতা বা তাদের ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষতিসাধনের পরিবর্তে, তাদের নিরাপত্তা প্রদানই মুসলমানদের দায়িত্ব।

ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার আলোকে হুযূর (আই.) বলেন যে তথাকথিত মুসলিম যারা নিষ্ঠুরতাকে অবলম্বন করে তাদের কর্মকাণ্ড "সম্পূর্ণ অসমর্থনীয় এবং অন্যায়"

খলীফা বলেন যে পূর্বের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষের মাঝে একতাবদ্ধতার প্রয়োজন অনেক বেশি গুরুতর।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

আমাদেরকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তি ও পারস্পরিক সমঝোতা উন্নীত করতে হবে যেন একটি বিপর্যয়কারী বিশ্বযুদ্ধের মত ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের করাল গ্রাস থেকে এই পৃথিবীকে রক্ষা করা যায়, যা সময়ের সাথে সাথে আরও নিকটবর্তী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অতীতে এই শহরের মানুষ যুদ্ধবিগ্রহ এবং সহিংসতার মাঝে বেঁচে থাকার পর শান্তি ও সহনশীলতার উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। তাই আমি প্রার্থনা করি যে আমাদের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করার নিমিত্তে আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য অতীতের এই শিক্ষা যেন যথেষ্ট হয়।

স্থানীয় আহমদী মুসলমানদের উদ্দেশ্যে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

আমি আহমদী মুসলমানদের যারা এখানে বসবাস করছেন আরও বলতে চাই যে তাদের সর্বদা ইসলামের শিক্ষাকে বাস্তবায়িত করতে সচেষ্ট হওয়া উচিত। তাদের ব্যবহার এবং চরিত্র যেন সবসময় অনুকরণীয় হয়। তাদের সবসময় মনে রাখা উচিৎ যে তারা যদি অন্যদের সেবায় নিজেদের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের ইবাদত আল্লাহকেও সন্তুষ্ট করবে না আর তাদের নিজেদের জন্যেও কল্যাণজনক বলে সাব্যস্ত হবে না আর এই মসজিদ নির্মাণের কোন উপকারিতাও পাওয়া যাবে না।

পরিশেষে হুযূর (আই.) বলেন:

ইনশাআল্লাহ, এই মসজিদ আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিচিত হবে যা এই পরিপার্শ্বকে আলোকিত করে এবং লেস্টারে শান্তির এক প্রকৃত প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। আল্লাহতায়ালা স্থানীয় আহমদীদের তৌফিক দিন যেন তারা এই মসজিদ প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে পারেন। আমীন।

এর আগে, বিভিন্ন অতিথি বক্তাবৃন্দ বায়তুল ইকরাম মসজিদের উদ্বোধন উপলক্ষে আহমদীয়া মুসলিম জামাতকে তাদের সাধুবাদ জানান।

লেস্টারশায়ারের পুলিশ প্রধান, সাইমন কোল বলেন:

আহমদীয়া মুসলিম জামাত লেস্টার এবং লেস্টারশায়ারে সাম্প্রদায়িক উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং এজন্য আজ আপনাদের সাথে থাকতে পারা কল্যাণজনক এবং আমরা আত্মিকভাবে প্রত্যেক বছরের প্রত্যেক সপ্তাহের প্রতিটি দিন আপনাদের সাথে অবস্থান করব।

লেইস্টারশায়ারের ডেপুটি লেফটেন্যান্ট, রিয়াজ রাওয়াত বি.ই.এম. বলেন:

এই নবনির্মিত মসজিদটির উপস্থিতি আন্ত-ধর্মীয় সৌহার্দের জন্য লেস্টারের সুনামকে আরও জোরদার করবে। নিশ্চিতভাবেই, আহমদীয়া মুসলিম জামাত নিজেদের একটি নিঃস্বার্থ সম্প্রদায় হিসেবে প্রমাণ করেছে যারা এই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

পূর্ব লেস্টারের এম.পি. রাইট অনারেবল কীথ ভায বলেন:

এই মসজিদটি শুধুমাত্র ইবাদতকারীদের জন্য একটি আশ্রয়স্থলই হবে না, বরং এটি পুরো সমাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং ইসলামের শান্তি ও সহানুভূতির মূল্যবোধ বিকাশের মাধ্যমও হবে.. হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) এর উপস্থিতি আমাদের শহরের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক। আপনার উপস্থিতি অন্য যেকোন কিছুর চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই দিনটি তাই অনেক অনেক বিশেষ একটি দিন।

নৈশভোজের পূর্বে হুযূর (আই.) এর দোয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক এই অধিবেশন সমাপ্ত হয়।

ShareThis Copy and Paste