In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

Press Logo

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

আহমদীয়া মুসলিম জামা'ত বাংলাদেশের ৯২তম জলসা সালানার সমাপ্তি

লন্ডন হতে সরাসরি সমাপনী ভাষণ প্রদান করলেন আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের প্রধান হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.)

92ndJalsaBD2016

আহমদীয়া মুসলিম জামা'তের বিশ্বজনীন নেতা, পঞ্চম খলীফা, হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) এক ঈমান বর্ধক ও আবেগঘন ভাষণের মধ্য দিয়ে ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বাংলাদেশের ৯২তম সালানা জলসা সমাপ্ত করেন।

সম্মানিত হুযূর স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে যোগে সরাসরি লন্ডনের বাইতুল ফুতূহ মসজিদ হতে জলসার সমাপনী অধিবেশনের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন।

92ndJalsaBD2016

বাংলাদেশে ৫,৮০০ জন তিন দিন ব্যাপী এই জলসায় অংশগ্রহণ করেন এবং ৩,৭০০ এর অধিক অতিথি লন্ডনে সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য একত্রিত হয়।

হুযূর (আই.) তাঁর বক্তব্যে জলসা সালানার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন যেভাবে আহমদীয়া মুসলিম জামা'তের প্রতিষ্ঠাতা মসীহ্ মাওউদ হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.) বর্ণনা করেছিলেন।

এরপর, হুযূর (আই.) আল্লাহতালার প্রতি এবং একে অপরের প্রতি মানবজাতির দায়িত্বের প্রতি আলোকপাত করেন।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ বলেন:

সংক্ষেপে বলতে গেলে মসীহ মাওউদ (আ.) এর উপদেশ অনুযায়ী জলসা সালানার উদ্দেশ্য হল সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক আধ্যাত্মিক পরিবর্তন আনয়ন করা যাতে তারা স্রষ্টার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

92ndJalsaBD2016

মসীহ্ মাওউদ (আ.) এর আগমনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

হযরত মসীহ্‌ মাউদ (আ.) এর জামাত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কেবল এটা প্রমাণ করা নয় যে, ঈসা (আ.) মারা গিয়েছেন, কেউ স্বর্গ থেকে নেমে আসবে না। বরং জামাত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য অনেক বড় ছিল – (তা ছিল) এমন মানুষের একটি জামাত প্রতিষ্ঠা করা যারা আল্লাহর একত্ববাদের মর্ম অনুধাবন করবে, যারা মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর সত্য ও শান্তিপূর্ণ উদাহরণ অনুসরণ করবে এবং যারা আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির অধিকার পূর্ণ করবে।

92ndJalsaBD2016

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আরো বলেন:

মসীহ মাওউদ (আ.) এ পৃথিবীতে এসেছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর সত্যিকারের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি এসেছিলেন পৃথিবীকে বলতে যে, শুধুমাত্র একটি উপায়ে আল্লাহর একত্ববাদ বোঝা ও তাঁর সাথে বন্ধন স্থাপন সম্ভব, সেটি হল মহানবী (স.) এর পবিত্র সত্ত্বার মাধ্যমে।

আহমদী মুসলমানদের নিষ্ঠার সাথে মসীহ্ মাওউদ (আ.) এর আদর্শ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলতে গিয়ে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

জলসা সালানার অংশগ্রহণকারীগণ এবং বস্তুতঃ সকল আহমদী মুসলিমের ওয়াদা করা উচিত যে তারা মসীহ মাওউদ (আ.) এর শিক্ষা অনুসরণ করে চলবে এবং তাঁর পৃথিবীতে আগমনের উদ্দেশ্য ধারণ করে চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজেদের ইসলামের সত্য শিক্ষা ধারণ করতে না পারবো ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা সফলভাবে ইসলামের শিক্ষা প্রচার করতে পারবো না।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের মধ্যে হযরত ঈসা (আ.) এর এখনো জীবিত থাকার ভ্রান্ত বিশ্বাস সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে হুযুর (আই.) বলেন যে, এ ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং কুরআনের শিক্ষার বিরোধী।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) এ সম্পর্কে মসীহ মাওউদ (আ.) এর উদ্ধৃতি পড়ে শোনান, যিনি বলেন:

যখন মুসলমানরা কুরআনের শিক্ষার বিপরীতে দাবি করে যে, ঈসা (আ.) আজও জীবিত আছেন এবং স্বর্গে বসে আছেন, তখন তারা খ্রিষ্টান পাদ্রীদের মহানবী (স.) এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেবার সুযোগ করে দেয়। তারা সাথে সাথে বলে যে, 'যেখানে তোমাদের নবী মারা গিয়েছেন এবং তিনি এ পৃথিবীরই মানুষ, যেখানে ঈসা (আ.) জীবিত আছেন এবং তিনি অতিমানবীয়।' ... এ বিশ্বাস [যে ঈসা (আ.) আজও জীবিত আছেন] ধারনের মাধ্যমে মুসলমানরা কি নবীকুল শিরোমণি ও খাতামান্নাবীঈন হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর মহান মর্যাদা ও খাতামিয়াতের অবমূল্যায়ণ করে না?

তাঁর বক্তব্যের পরবর্তী অংশে সম্মানিত হুযূর (আই.) বলেন যে, পবিত্র কুর’আন সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের মাঝে শান্তি ও সহমর্মিতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। তথাপি, সম্মানিত হুযূর অভিমত প্রকাশ করেন যে, কিছু মুসলমান ও ইসলামী রাষ্ট্র এ মহৎ শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়েছে।

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:

এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে মুসলিম বিশ্বের বেশির ভাগই ইসলামের শান্তিপূর্ণ শিক্ষা ভূলে গিয়েছে আর এটিই কারণ যে আজ ইসলামী দেশগুলোতে এত অরাজকতা ও বিশৃংখলা। জনগণ ও সরকারগুলো একে অপরের সাথে বিবাদে লিপ্ত এবং একে অপরের ক্ষতি করতে চেষ্টা করছে। সরকারগুলো জনগণের কাছে অযৌক্তিক দাবী পেশ করে আর জনগণ তাদের সরকারের নিকট অন্যায্য দাবি পেশ করে।

হুযূর আকদাস (আই.) বলেন যে, আহমদী মুসলমানদের দায়িত্ব হচ্ছে সমগ্র বিশ্বে সত্যিকারের ইসলামের শিক্ষা পৌঁছে দেয়া এবং সমাজের সর্বস্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

সর্বশেষে দোয়ার মাধ্যমে জলসার সমাপ্তি হয়। দোয়ায় হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আহমদী মুসলমানদের মানবজাতির জন্য দোয়া করতে বলেন যাতে তারা স্রষ্টাকে চিনতে পারে এবং একে অপরের প্রতি অধিকার পূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তাকে অনুধাবন করতে শুরু করে।

92ndJalsaBD2016
ShareThis Copy and Paste