In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহ্‌র রাস্তায় প্রাণ উৎসর্গকারীরা চির-অমর

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১১ই জুন, ২০১০ইং

তাশাহ্‌হুদ, তাউয ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর (আই.) বলেন, আমি আজ সেই সব শহীদদের স্মৃতিচারণ করবো যারা লাহোরে জুমুআর নামাযের সময় সন্ত্রাসীদের পাশবিকতা ও নৃশংসতার শিকার হয়েছে। গত খুতবায় আমি বলেছিলাম, মসজিদে উপস্থিত প্রত্যেক আহমদী মৃত্যুকে সামনে দেখেও ভীত বা ত্রস্ত ছিলেন না। তারা সন্ত্রাসীদের সামনে হাত জোড় করে জীবন ভিক্ষা চান নি বরং দোয়ায় রত ছিলেন আর একে অপরের জীবন রক্ষার চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন। তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিগ্বিদিক ছুটোছুটিও করেন নি বরং নিজেদের জীবন বাজি রেখে অপরকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। হানাদারদের ছোড়া এলোপাতারী গুলির মোকাবিলা করেছেন তারা দোয়ার মাধ্যমে। আল্লাহ্ তা’লা দোয়ারত এমন নিষ্ঠাবানদের মধ্য থেকে কতক মু’মিনকে শাহাদাতের সুমহান মর্যাদা দান করেছেন। আহমদীয়াতের ইতিহাসে তাঁরা সবাই উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় জ্বলজ্বল করবে, ان شاء الله। আল্লাহ্ তা’লা শহীদদের মর্যাদাকে উত্তরোত্তর উন্নীত করুন।

হুযূর বলেন, শহীদদের স্মৃতিচারণের পূর্বে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করতে চাই। বিভিন্ন জামাত থেকে আমার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে যে, শহীদ তহবিলে কিভাবে চাঁদা দেয়া যায়; আবার কোন কোন বন্ধু পরামর্শ দিয়েছেন, শহীদদের জন্য কোন ফান্ড বা তহবিল খোলা দরকার। আসলে না জানার কারণে তাদের মনে এমন প্রশ্ন জাগছে। আল্লাহ্ তা’লার কৃপায় চতুর্থ খিলাফতকাল থেকেই শহীদদের জন্য ‘সৈয়দনা বেলাল ফান্ড’ নামে একটি তহবিল আছে। আমার খিলাফতকালেও আমি দু’বার এ তাহরীকটির উল্লেখ করেছি। আল্লাহ্ তা’লার কৃপায় এ ফান্ডের মাধ্যমে শহীদ পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা করা হয়। যদি তাদের কোন প্রয়োজন নাও থাকে তারপরও অবশ্যই আমরা তাদের খবরা-খবর রাখবো আর এটি আমাদের কর্তব্য। যারা শহীদদের জন্য চাঁদা দিতে চান তাদের জন্য ‘সৈয়দনা বেলাল ফান্ড’ খোলা রয়েছে, এতে দিতে পারেন।

এরপর হুযূর বলেন, আজ আমি সর্ব প্রথম জনাব মুনীর আহমদ শেখ সাহেবের কথা উল্লেখ করব। তিনি লাহোর জেলার আমীর ছিলেন এবং ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শাহাদত বরণ করেছেন। তাঁর পিতা মোকাররম শেখ তাজ দ্বীন সাহেব স্টেশন মাষ্টার ছিলেন, যিনি ১৯২৭ সালে আহমদীয়াত গ্রহণ করেন। তাঁরা জলন্ধরের অধিবাসী ছিলেন। মরহুম মালেক সাইফুর রহমান সাহেবের সাথে শহীদের গভীর বন্ধুত্ব ছিল। শেখ সাহেবের পিতা এবং হযরত মুফতি মালেক সাইফুর রহমান সাহেব উভয়ই আহমদীয়াতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বিভিন্ন বই-পুস্তক এবং মহানবী (সা.)-এর প্রশংসায় রচিত হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর ‘নাত’ পাঠের পর তাদের মাঝে সত্যান্বেষণের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, আরও কতিপয় বই-পুস্তক পাঠের পর তারা উভয়ই আহমদীয়াত গ্রহণ করেন।

শহীদ শেখ মুনীর আহমদ সাহেব এল. এল. বি. পাশ করে সিভিল জজ হিসেবে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেন। তিনি বিভিন্ন স্থানে বদলি হন আর এক পর্যায়ে পদোন্নতি পেয়ে সেশন জজ হন। পরবর্তীতে লাহোরের এন্টিকরাপশন বিভাগের স্পেশাল জজ হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তিনি কাষ্টমস বিভাগের স্পেশাল জজ হিসেবেও কাজ করেছেন এবং সহকারী জজ হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০০০ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ন্যায়পরায়ণতার জন্য শহীদ শেখ সাহেবের সুখ্যাতি ছিল। তাঁর সাথে যারা কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তারা বুঝতে পেরেছেন, ইনি একজন ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভিক মানুষ। রাওয়ালপিন্ডিতে একটি মামলায় একপক্ষে ছিল লাহোরী আহমদী পরিবারের এক মহিলা, তার উকিল ছিলেন এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান সাহেব এবং অন্য পক্ষ ছিল মোল্লাদের। শহীদ মুনির সাহেব কোর্টে এসে প্রথমেই বললেন, “আমি একজন আহমদী, কারো কোন আপত্তি থাকলে বলুন”। তারা বলল, “আমাদের কোন আপত্তি নেই”। এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান সাহেব বলেন, আমার ভয় হচ্ছিল, তিনি হয়তো তার ন্যায়পরায়ণতা প্রকাশের লক্ষ্যে আমাদের বিপক্ষে রায় দিবেন। তিনি তার ন্যায়বিচারের মানকে সমুন্নত রেখেছেন এবং ন্যায়ের ভিত্তিতেই সেই মহিলার পক্ষে এবং মোল্লাদের বিপক্ষে রায় ঘোষণা করেন। তিনি অনেক জ্ঞানী, সাহসী ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ছিলেন। কর্মচারী ও দরিদ্র মানুষের সাথে তার সহমর্মিতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তিনি একজন সাদাসিধে দরবেশ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তিনি ফযলে উমর ফাউন্ডেশনের পরিচালকও ছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি মডেল টাউন হালকার যয়ীমে আলা হিসেবে জামাতের সেবা করেছেন। এছাড়া গার্ডেন টাউন হালকার প্রেসিডেন্ট হিসেবেও জামাতের খিদমতের সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর স্ত্রী বলেছেন, তিনি সর্বদা আমার ও ছেলেমেয়েদের প্রতি খেয়াল রাখতেন এবং বলতেন, “আমি একজন দরিদ্র স্টেশন মাষ্টারের ছেলে, তোমাদের প্রয়োজনের প্রতি আমার লক্ষ্য রাখতে হয়, কারণ তোমরা নিজেদেরকে সেশন জজের সন্তান মনে কর”। তিনি একজন মূসী ছিলেন।

শাহাদাতের একদিন পূর্বের ঘটনা: তার বোন লাজনা ইমাইল্লাহ্‌র সদস্যদের ওসীয়্যত সম্পর্কে বুঝাতে গিয়ে বলেন, ওসীয়্যত জান্নাত লাভের একটি মাধ্যম। তিনি বাড়ি এসে শেখ সাহেবকে বলেন, “আমি কি ঠিক বলেছি”? উত্তরে তিনি তাঁর বোনকে বলেন, “ঠিক; কিন্তু আপা! প্রকৃত জান্নাতের নিশ্চয়তা কেবল শাহাদাতের মাধ্যমেই পাওয়া যায়”। তাঁর সহধর্মীনি বলেন, শাহাদাতের পূর্বে শহীদ মরহুমের ফোন এসেছিল, তিনি বলেছিলেন, আমার মাথা ও পায়ে আঘাত লেগেছে তারপর উচ্চস্বরে বলেন, আমি ভাল আছি। কোন একজন তাকে নিচে অর্থাৎ basemant-এ যেতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান। গোলাগুলি শুরু হলে তিনি দাঁড়িয়ে দুই হাত উপরে তুলে বলেন, “আপনারা বসে পড়ুন, দরূদ শরীফ পড়ুন আর দোয়া করতে থাকুন”। একজন যুবকের কাছ থেকে ফোন নিয়ে বাসায় এবং পুলিশের কাছে ফোন করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা এসে গেছি। এ কথা শুনে তিনি খুবই রাগান্বিত স্বরে বলেন, “ভেতরে আসছেন না কেন?” যে যুবক তাঁকে ফোন দিয়েছিল সে তাঁর মুখ থেকে নিঃসৃত শেষ যে শব্দটি শুনেছিল - তা হল, اشهد ان لا اله الّا الله

তাঁর সহধর্মীনি জানান, “জুমুআর নামাযে যাবার আগে আমার হাতে চাঁদার টাকা দিয়ে বললেন, তোমার কাছে রাখ। এর পূর্বে কখনোই এমনটি করেন নি; তাই আমি বলেছিলাম, আগে যেখানে রাখতেন সেখানেই রেখে দিন। তিনি বললেন, আজ তুমি রাখ, অফিস বন্ধ থাকবে তাই চাঁদা দিতে পারবো না।”

তিনি হযরত খলীফাতুল মসীহ্ রাবে (রহ.) এর কাছে দু’বার অবসরোত্তর জীবন উৎসর্গ করার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছিলেন। হুযূর (রহ.) তাঁকে বলেছিলেন, “যেখানে আপনি কাজ করছেন সেখানেই কাজ করুন, কেননা এর মাধ্যমে আহমদীয়াতের খুবই ভাল তবলীগ হচ্ছে। মানুষ যেন বুঝে, আহমদী অফিসার কেমন হয়”। তাঁর এক ছেলে আমাকে বলেছেন, সে তাঁকে বলেছিল, “একজন সিকিউরিটি গার্ড রেখে নিন”, তিনি বলেন, “কি হবে? আমাকে গুলি করলে আমি শহীদ হয়ে যাব”।

আমাদের জামাতের একজন মুবাল্লেগ নাম মুবাশ্বের মজীদ সাহেব, ইনি লাহোরের গুলবার্গের মুরব্বী ছিলেন। তিনি শহীদ মুনীর আহমদ শেখ সাহেব সম্পর্কে লিখেন: এটি ৯৭/৯৮ সালের ঘটনা; একবার জেলা মুরব্বী সাহেব আমাকে ফোন করে বললেন, একজন অ-আহমদী আলেমের সাথে সাক্ষাত করতে যাব। ইনি পাকিস্তান জমিয়তে উলামা’র একজন বড় কর্মকর্তা। আমি খুব আশ্চর্য হয়ে ভাবলাম এমন কি বিপদ ঘটেছে যে, তার সাথে সাক্ষাত করতে হবে? যাহোক, আমি জেলার মুরব্বী সাহেবের সাথে জমিয়তে উলামা’র দপ্তরের আঙ্গিনায় পৌঁছানোর পর আমাদের ঘোর বিরোধী পাকিস্তান জমিয়তে উলামার সেক্রেটারীর সাথে আমাদের পরিচয় হল। তিনি বললেন, কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে একটা মিথ্যা মামলা করেছে। আর যিনি এ মামলার বিচারক তিনি বড়ই অদ্ভূত লোক। আমি তিনবার হাজিরা দিয়েছি। যখনই আমি আদালতে গিয়েছি - দেখেছি, তিনি চেয়ারে বসার পরই টেবিলে একটা সজোড়ে চাপড় মেরে বলেন, আপনারা সবাই শুনুন, আমি একজন আহমদী; এখন মামলার কার্যক্রম শুরু করছি। তিনি যখন এরূপ বলতেন তখন আমার ‘আত্মা রাম খাঁচা ছাড়া’ হয়ে যেত। আমার মনে হয় তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ‘এবার ধরা পরে গেছো ওহে সোনার চান’; আমি তোমাকে আর ছাড়ছি না। আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে আপনারা আমাকে সাহায্য করুন এবং এর হাত থেকে আমাকে বাঁচান। আমার মনে হয়, ধর্মীয় প্রতিহিংসা বশতঃ উনি আমাকে শাস্তি দিবেন। সেই মুরব্বী সাহেব লিখেছেন, আমি তাকে বললাম, আপনি ভুল বুঝছেন। আপনি তাঁর কথা বুঝতে পারেন নি। তিনি টেবিল চাপড়ে এ ঘোষণা দেন যে, আপনারা শুনুন, আমি একজন আহমদী। এর অর্থ এটা নয়, তিনি আপনাকে শাসাচ্ছেন। বরং এর অর্থ, আপনারা শুনুন এবং গভীর মনোযোগের সাথে শুনুন, আমি একজন আহমদী; আমি কারো কাছ থেকে ঘুষও খাই না আর কারো সুপারিশও শুনবো না। আর আমি প্রতিহিংসা বশতঃ কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না; আমি শুধু আল্লাহ্ তা’লাকে ভয় পাই। কাজেই, আপনি অনুগ্রহ পূর্বক আমাকে কোন প্রকার সুপারিশ করতে বলবেন না আর আমি এমনটি করবোও না। সেই ভদ্রলোক খুবই অস্থির ছিল এবং বলছিল, তিনি যদি আমাকে ফাঁসিয়ে দেন, তখন কী হবে? আমি বললাম, আপনার কথা মতো আপনি যদি নির্দোষ হয়ে থাকেন, তবে আমরা আপনাকে কথা দিচ্ছি, কেবল ধর্মীয় মতপার্থক্যের দরুন তিনি আপনাকে শাস্তি দিবেন না। এরপর আমরা সেখান থেকে চলে আসি। এর প্রায় ৫/৬ মাস পর তার ব্যক্তিগত সহকারী ফোনে জানালো যে, আমাদের নেতা বেকসুর খালাস পেয়েছেন, তাই তিনি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

হুযূর (আই.) বলেন, গত বছর আমি যখন তাঁকে লাহোর জামাতের আমীর নিযুক্ত করলাম তখন লিখেছিলাম, “কোন সমস্যায় পড়লে অবশ্যই আমার কাছ থেকে সরাসরি দিক-নির্দেশনা নিবেন এবং আমার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেবেন”। একদিন তাঁর ফোন এলো, আমি বললাম, “সব কিছু ঠিক আছে তো”? তিনি বললেন, “চিন্তা করলাম আপনি যে অনুমতি দিয়েছেন এর সদ্ব্যবহার করে একটু ফোন করে নেই আর সালামও করে নেই এবং কোন দিক-নির্দেশনা থাকলে তাও জেনে নেই। কাজ সঠিক ভাবেই চলছে”।

তিনি খুবই অভিজ্ঞ লোক ছিলেন। সকল কর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করতেন। লাহোর জেলার লাজনার প্রেসিডেন্ট সাহেবা আমাকে বলেছেন, “ইনি যখন আমীর নিযুক্ত হলেন তখন মনে হচ্ছিল, আপনি কাকে যে জামাতের আমীর মনোনীত করলেন? অধিকাংশ মানুষ তাঁকে চিনেও না। কিন্তু তাঁর সাথে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সবাইকে সাথে নিয়ে একান্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করেন”।

তিনি বিভিন্ন গুণের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহ্ তা’লা তাঁকে তাঁর প্রিয়দের মাঝে স্থান দিন।

দ্বিতীয় শহীদ মেজর জেনারেল (অব:) নাসের চৌধুরী সাহেব। তিনি চৌধুরী সাফদার আলী সাহেবের পুত্র ছিলেন। ইনিও শিয়ালকোট জেলার অন্তর্গত বেহলুলপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর পিতা পুলিশ ইন্সপেক্টর ছিলেন, তিনিও ১৯৩০ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় শাহাদত বরণ করেন। সে সময় শহীদ জেনারেল সাহেবের বয়স ছিল মাত্র দশ বছর।

জেনারেল সাহেবের দাদি হযরত চৌধুরী স্যার মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ্ খান সাহেবের দুধমাতা ছিলেন। ১৯৪২ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মার ফ্রন্টিয়ার ফোর্স এর সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন। ১৯৪৩ সালে তার বিয়ে হয় এবং সৈয়্যদ সরওয়ার শাহ্ সাহেব তাঁর বিয়ে পড়ান। হযরত মির্যা বশীর আহমদ সাহেব (রা.) এবং হযরত মির্যা শরীফ আহমদ সাহেব (রা.) তাঁর বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীতে পদোন্নতি লাভ করতে থাকেন। ১৯৭১ সালে রাজস্থানে তিনি তাঁর নিজের গঠিত ৩৩ ডিভিশন এর নেতৃত্বে ছিলেন। সে সময় তাঁর হাটুতে গুলি লাগে কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও ডাক্তাররা সেটি বের করতে পারেন নি, তাই এটি তাঁর হাটুতেই থেকে যায়। এই হামলার সময় তাঁর ব্যক্তিগত সেক্রেটারীও আহত হয়। তিনি তাকে হেলিকপ্টারে করে হায়দ্রাবাদ পাঠান আর স্বয়ং ট্রেনে করে হায়দ্রাবাদে যান। ডাক্তাররা বলতো, তিনি যদি আবার চলাফেরা করতে পারেন, তবে এটি হবে একটি অলৌকিক ঘটনা। তিনি আত্মশক্তিতে বলীয়ান ছিলেন। নিয়মিত শরীরচর্চা করতে থাকেন এবং আল্লাহ্ তা’লার ফযলে তার পা ভাল হয়ে যায় এবং তিনি চলাফেরা করতে আরম্ভ করেন। বিশ বছর পর্যন্ত তিনি লাহোর জেলার সেক্রেটারী ইসলাহ্ ও ইরশাদ ছিলেন। ১৯৮৭ সাল থেকে শহীদ হওয়া পর্যন্ত তিনি মডেল টাউন হালকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে জামাতের খিদমত করেছেন। শাহাদাত বরণের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। আল্লাহ্‌র ফযলে তিনি মূসী ছিলেন। মডেল টাউনের মসজিদে নূর-এ তিনি শহীদ হন।

সাধারণত তিনি জুমুআর নামাযের জন্য মসজিদের মূল কক্ষের বাইরে চেয়ারে বসতেন। ঘটনার দিন যখন গোলাগুলি শুরু হয়, তখন একজন আহমদী বন্ধু রওশন মির্যা সাহেব তাঁকে ভেতরে আসতে বললে তিনি প্রথমে অন্যদেরকে ভেতরে নিয়ে যেতে বলেন আর সবশেষে তিনি ভেতরে গিয়ে হলের শেষ প্রান্তের একটি চেয়ারে বসেন। এরপর লোকজন basemant (মাটির নিচের তলায়) যেতে লাগলো এবং উনাকেও নিয়ে যাবার চেষ্টা করলো। কিন্তু তিনি বললেন, “না আমাকে এখানেই থাকতে দিন”। সে সময় সন্ত্রাসীরা একটি গ্রেনেড তাঁর দিকে ছুড়ে মারে যা তাঁর পায়ের কাছে বিস্ফোরিত হয়। গ্রেনেড বিষ্ফোরণের কারণে তিনি এবং তাঁর সাথের একজন প্রবীণ আহমদী নিচে পড়ে যান, কিন্তু পরবর্তীতে পুনরায় উঠে চেয়ারে বসেন। এরপর সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে; তাঁর ঘাড়ে একটি গুলি লাগে এবং তিনি সিজদারত অবস্থায়ই শাহাদত বরণ করেন। তিনি বিনয় এবং বিশ্বস্ততার সাথে জামাতের সেবা করেছেন এবং বয়’আতের অঙ্গীকারকেও পূর্ণ করেছেন। সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন শাহাদাতের মর্যাদা লাভের মত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ্ তা’লা তাঁকে মুহাম্মদী মসীহ্‌র জামাতের একজন সেবক এবং ইবাদতরত অবস্থায় শহীদের মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর মর্যাদাকে উন্নীত করুন।

শহীদ আসলাম রওয়ানা সাহেব, ইনি মুকাররম রাজা খান রওয়ানা সাহেবের পুত্র, ঝং এর অধিবাসী ছিলেন। শহীদ মরহুমের পিতা হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.)-এর নিকট বয়’আত করেন। তিনি টেকসালা ইউনিভার্সিটি থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন এবং ১৯৮১ সালে পাকিস্তান রেলওয়েতে চাকুরী গ্রহণ করেন। তিনি মজলিস আনসারুল্লাহ্‌র একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি জুমুআর দিন নিয়মিত খুতবার পূর্বে মসজিদে দোয়ার এলান পাঠ করতেন। ঘটনার দিনও এলান করেছিলেন। শাহাদাতের সময় তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। তিনিও ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শাহাদত বরণ করেছেন। শহীদ মরহুম জামাতের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। রাওয়ালপিন্ডি এবং লাহোর অঞ্চলের প্রাক্তন কায়েদ ছাড়াও তিনি লাহোর জামাতের সেক্রেটারী তরবিয়ত নওমোবাইন ও সেক্রেটারী জায়েদাদ ছিলেন এবং লাহোরের হান্ডু গুজ্জার নামক কবরস্তানের তত্বাবধায়ক ছিলেন।

নিষ্ঠার সাথে দিনরাত পরিশ্রম করতেন এবং অত্যন্ত বীরপুরুষ ছিলেন। তিনি যখন কোয়েটাতে কর্মরত ছিলেন তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিল জেনারেল জিয়াউল হক। জিয়াউল হক সেখানে আগমন করলে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন অফিসার হবার সুবাদে একটি অনুষ্ঠানে তিনি সামনের সারিতে আসন পান। সে সময় কলেমার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছিল। আহমদীদের কলেমা পড়া, লেখা ও ব্যাজ পড়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। অথচ তিনি নির্ভিকভাবে কলেমার ব্যাজ পড়ে সামনে বসেছিলেন। গভর্নর তাঁকে খবর দিলেন যে, “আপনি হয় পিছনে যান নতুবা কলেমা খুলে ফেলুন”। তিনি উত্তরে বললেন, “আমি কলেমা খুলতেও পারবো না এবং ভীত হয়ে পিছনেও যেতে পারবো না। আপনি যদি চান তাহলে নিঃসন্দেহে আমাকে বাসায় পাঠিয়ে দিতে পারেন অর্থাৎ চাকরী থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন”। মোটকথা তিনি অবিচল থাকেন।

শহীদ মরহুমের স্ত্রী বলেন, খিলাফত এবং জামাতের প্রতি তাঁর অগাধ ভালবাসা ছিল। জামাতের কাজকে প্রাধান্য দিতেন। যিন্দেগী ওয়াক্‌ফ করার বাসনা ছিল। অবসর নেয়ার পর তিনি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ছাত্রাবস্থায় জামাতের এতীম ফান্ড থেকে তাঁর পড়ার খরচ বহন করা হতো, আর এজন্যই তিনি এতীমদের লালন-পালন ফান্ডে নিয়মিত চাঁদা দিতেন। এছাড়া অন্যান্য চাঁদার খাতেও বেশি বোশি চাঁদা দিতেন। শহীদ মরহুমের আত্মীয়া একটি মেয়ে কিছুদিন আগে স্বপ্নে শব্দ শুনেছিলেন, “শহীদদের নির্বাচিত করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও”। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর মর্যাদা উন্নীত করুন।

শহীদ আশরাফ বেলাল সাহেব, ইনি মুকাররম লতীফ সাহেবের ছেলে। শহীদ মরহুমের অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজন অ-আহমদী। তাঁর নানা মোকাররম খোদা বখ্শ সাহেব হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.)-এর হাতে বয়’আত করেছিলেন। তিনি ইংল্যান্ডের অধিবাসী ছিলেন। ঘটনার সময় পাকিস্তানে ছিলেন। তিনি মালী কুরবানীতে অংশ নিতেন। শালিমার টাউনে ‘বায়তুয্ যিক্‌র’ নির্মাণ করে জামাতকে দান করেছিলেন। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত ছিলেন। নিজের ওয়ার্কশপ ও ফ্যাক্টরী ছিলো। শাহাদাতের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। আল্লাহ্ তা’লার ফযলে তিনি সেক্রেটারী তাহরীকে জাদীদ ইত্যাদি পদে নিষ্ঠার সাথে জামাতের খিদমত করেছেন। দারুয্ যিক্‌রে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। মুসী ছিলেন। সর্বদা যিক্‌রে এলাহী এবং ইস্তেগফারে রত থাকতেন। সর্বদা নামাযে কাঁদতেন। তাঁর স্ত্রী এর কারণ জিজ্ঞেস করলে বলতেন, আমি আল্লাহ্ তা’লার শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি, আল্লাহ্ আমাকে অঢেল দিয়েছেন অথচ আমি এর যোগ্য নই। প্রত্যেক মাসে কয়েক লক্ষ টাকা খিদমতে খাল্কের জন্য খরচ করতেন। একটি দাতব্য চিকিৎসালয় চালাতেন। অনেককেই তিনি মাসোহারা দিতেন। তাঁর কাছে কেউ সাহায্যের জন্য আসলে তিনি বলতেন, এখন থেকে অন্য কারো কাছে আর যাবে না যা প্রয়োজন আমার কাছ থেকে নিয়ে নিবে। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর মর্যাদা উন্নত করুন।

ক্যাপ্টেন (অব:) মির্যা নঈম উদ্দীন সাহেব শহীদ, পিতা মোকাররম মির্যা সিরাজ উদ্দীন সাহেব। শহীদ গুজরাত জেলার অন্তর্গত ফতেহপুর গ্রামের অধিবাসী। পরিবারের মধ্যে তাঁর দাদা সর্বপ্রথম বয়’আত করেন। কাদিয়ানের দরবেশ মির্যা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ সাহেব তাঁর চাচা ছিলেন। শাহাদাত বরণের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তিনি ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শহীদ হয়েছেন। তাঁর পেটে গুলি লেগেছিল। এ ঘটনায় তার ছেলে আমের নঈমও আহত হয়েছে। আল্লাহ্ তা’লা তাদের পরিপূর্ণ আরোগ্য দান করুন। তার স্ত্রী বলেন, “আমাদের বৈবাহিক জীবন আমাদের দুই পরিবারের জন্য ছিল দৃষ্টান্তস্বরূপ। আমাদের পাঁচটি মেয়ে, প্রত্যেক মেয়ের জন্মের পর তিনি বলতেন, রহমত এসেছে”। প্রত্যেক মেয়ের জন্মের পর তাঁর পদোন্নতি হয়েছে। সাধারণ সৈনিক থেকে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ক্যাপ্টেন হয়েছিলেন। সততার কারণে মানুষ তাঁকে খুবই সম্মান করতো। তিনি একজন বীরপুরুষ ছিলেন। ১৯৭১ সালে এবং কারগিল যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর শহীদ হবার প্রবল বাসনা ছিল। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর এই আকাঙ্খাও ইবাদতরত অবস্থায় পূর্ণ করলেন।

শহীদ কামরান সাহেব, পিতা মোকাররম মোহাম্মদ আরশাদ সাহেব। তার দাদা মোকাররম হাফেয মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ সাহেব তাঁর বংশে প্রথম আহমদী ছিলেন। তিনি ১৯১৮ সালে বয়’আত করেন। দেশ বিভাগের সময় তিনি জলন্ধর জেলা থেকে হিজরত করে আসেন। শাহাদতের সময় শহীদের বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর। তিনি ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শাহাদত বরণ করেন। আল্লাহ্ তা’লার ফযলে তিনি মুসী ছিলেন। তার বিষয়ে জানা গেছে যে, এলোপাতাড়ী গোলাগুলি শুরু হলে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে জীবনের ঝুকি নিয়ে এম.টি.এ’র জন্য রের্কডিং করতে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় সন্ত্রাসীদের বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন। শহীদের মাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “শুক্রবার ফজরের নামাযের পর স্বপ্নে দেখেছি, ঘরে বিয়ের আমেজ বিরাজ করছে। বাহিরের রাস্তায় আহমদী মেয়েরা বসে আছে। তারা আমাকে দেখে খুশি হচ্ছে। আর তারা আমার গলায় মালা পড়াচ্ছে। এক মহিলা আমার সাথে কোলাকুলি করে আর আমাকে একটি সোনালী রঙের প্যাকেট দিয়ে বললো, আমরা মেহেদী লাগিয়ে নিয়েছি আপনি কখন লাগাবেন। আমি বললাম ঘরে গিয়ে লাগাবো”। শহীদের ভাই নিজের স্বপ্নের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন - “কামরানকে অনেক ফুলের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখেছি”। শহীদের মা দীর্ঘকাল থেকে ‘দারুয্ যিক্‌র’ হালকার লাজনা ইমাইল্লাহ্‌র প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন এবং তাঁর পিতা সেক্রেটারী মালের দায়িত্বে রয়েছেন। এই ঘটনায় শহীদের মামা মুজাফফর আহমদ সাহেবও শহীদ হয়েছেন। আল্লাহ্ তা’লা তাঁরও মর্যাদা উন্নীত করুন।

শহীদ এজায আহমদ বেগ সাহেব, পিতা মোকাররম আনওয়ার বেগ সাহেব। তিনি কাদিয়ানের নিকটবর্তী লাঙ্গরওয়ালা গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। মায়ের দিক থেকে মোহাম্মদী বেগমের আত্মীয় ছিলেন। শাহাদাতের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৯ বছর। তিনি ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শহীদ হন। শহীদের স্ত্রী তাঁর সম্পর্কে বলেন, তার ইউরিনে ইনফেকশন ছিল। দুই বছর থেকে অসুস্থ ছিলেন। দুই মাস পর আজই প্রথম জুমুআর নামায পড়তে গিয়েছিলেন। খুবই সাদাসিধে, দৃঢ়চেতা, অবিচল ও ধৈর্যশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। পেশায় তিনি গাড়ি চালক ছিলেন। ঐ দিন তিনি জেনারেল নাসির সাহেব শহীদ এর গাড়ীর ড্রাইভার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। আল্লাহ্ তা’লা তাদের সবার মর্যাদা উন্নীত করুন।

শহীদ মির্যা আকরাম বেগ সাহেব, পিতা মোকাররম মরহুম মনোয়ার বেগ সাহেব। এই শহীদ মরহুম মির্যা উমর বেগ সাহেবের নাতি ছিলেন। উমর বেগ সাহেব খলীফাতুল মসীহ্ সানী (রা.)-এর পবিত্র হাতে বয়’আত করেছিলেন। দেশ বিভাগের সময় কাদিয়ান থেকে হিজরত করে এসেছিলেন। শাহাদাতের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ তিনি শহীদ হন। আল্লাহ্ তা’লা তার মর্যাদা উন্নীত করুন।

শহীদ মনোয়ার আহমদ খান সাহেব, পিতা মোকাররম মোহাম্মদ আইয়ূব খান সাহেব। তিনি নারোয়াল জেলার ডেরিয়াঁর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শাহাদাতের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। বিভিন্ন তাহরীকে তিনি সবসময় মোটা অংকের চাঁদা দিতেন। শহীদের স্ত্রী বলেন, ইতিপূর্বে যখন লাহোরের পরিস্থিতি ক্রমশঃ খারাপের দিকে যাচ্ছিল তখন তিনি আমাকে বলেন, “আমার কিছু হলে আমার সন্তানদেরকে আহমদীয়াত ও খিলাফতের সাথে সম্পৃক্ত রাখবে”। আল্লাহ্ তা’লা শহীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। সন্তানদের ব্যাপারে তাঁর দোয়া ও আন্তরিক অভিপ্রায় আল্লাহ্ তা’লা পূর্ণ করুন।

শহীদ ইরফান আহমদ সাহেব, পিতা মরহুম আব্দুল মালেক সাহেব। শহীদের দাদা মিয়া দ্বীন মোহাম্মদ সাহেব ১৯৩৪ সালে বয়’আত গ্রহণ করেন। নারোয়াল জেলার বাদ্ধুমাল্লি গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর বড় নানী মোহতরমা হাসিনা বিবি সাহেবা হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.)-এর মেয়ে সাহেবযাদী আমাতুল কাইয়ূম সাহেবার দুধমাতা ছিলেন। শহীদ লাহোর জেলার সেক্রেটারী তালীমুল কুরআন, সেক্রেটারী ওসীয়্যত হিসেবে জামাতের খিদমত করার তৌফিক পান। তিনি ৩১ বছর বয়সে ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শাহাদত বরণের সৌভাগ্য লাভ করেন।

শহীদ মোকাররম সাজ্জাদ আজহার ভারওয়ানা সাহেব, পিতা মোকাররম মেহের উল্লাহ্ ইয়ার ভারওয়ানা সাহেব। তিনি ঝং জেলার অধিবাসী ছিলেন। শাহাদাতের সময় তার বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। খোদ্দামুল আহমদীয়ার অত্যন্ত সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শাহাদাত বরণ করেন। তিনি মুসী ছিলেন। শহীদের স্ত্রী বলেন, “এক সপ্তাহ পূর্বে আমি স্বপ্নে দেখেছি: সাজ্জাদ আহত অবস্থায় ঘরে এসেছে এবং বলছে, আমার পেটে ভীষণ ব্যাথা। আমি কাপড় উঠিয়ে দেখলাম - রক্ত ঝরছে”। ঘটনার সময়ও শহীদের পেটে গুলি লেগেছিল। আল্লাহ্ তা’লা তার মর্যাদা উন্নীত করুন।

শহীদ মাসউদ আহমদ আখতার বাজওয়া সাহেব, পিতা মোকাররম মোহাম্মদ হায়াত বাজওয়া সাহেব। শহীদের পিতা বাহ্ওয়াল নগরের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর পিতার মাধ্যমে বংশে আহমদীয়াত বিস্তার লাভ করেছে। শহীদ ওয়াপদার অবসরপ্রাপ্ত অফিসার ছিলেন। মজলিস আনসারুল্লাহ্‌র একজন পরিশ্রমী ও কর্মঠ সদস্য ছিলেন। যয়ীম আনসারুল্লাহ্ এবং ‘দারুয্ যিক্‌র’ হালকার আমীর ছিলেন। ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শাহাদাতের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। আল্লাহ্ তা’লার ফযলে তিনি মুসী ছিলেন। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর মর্যাদা উন্নীত করুন। আর সমস্ত দোয়া ও নেক আকাঙ্খা যা তিনি তার সন্তানদের জন্য এবং বিশেষভাবে তাঁর ওয়াকফে যিন্দেগী সন্তানের জন্য করেছেন তা পূর্ণ হোক।

শহীদ আসিফ ফারুক সাহেব, পিতা-মোকাররম লিয়াকত আলী সাহেব। তাঁর পিতা ১৯৫৫ সালে বয়’আত গ্রহণ করেছিলেন। শাহাদত বরণের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ত্রিশ বছর। তিনি গণসংযোগ বিষয়ে বি.এ পাশ করেছিলেন। খোদ্দামুল আহমদীয়া ও এম.টি.এ লাহোরের একজন কর্মঠ, একনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। মুসী ছিলেন। ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শাহাদত বরণ করেন। সন্ত্রাসীদের আক্রমনের সময় তিনিও এম.টি.এ’র জন্য চিত্র ধারণের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরেন এবং সে উদ্দেশ্যেই উপর তলা নিচে থেকে নামছিলেন। তখনই সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হন। তিনি বলতেন, “আমার বাঁচা-মরা সব এই দারুয্ যিক্‌রেই”। শহীদের পিতামাতা ও ভাই বলেন, “তাঁর শাহাদত লাভ আমাদের জন্য অনেক বড় পুরস্কার”। খোদা করুন, তাঁর এ রক্ত যেন জামাতের জন্য প্রাণ সঞ্জীবনী হয়।

শহীদ শেখ শামীম আহমদ সাহেব, পিতা- মোকাররম শেখ নঈম আহমদ সাহেব। তিনি হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর সাহাবী মরহুম হযরত মুহাম্মদ হোসেন সাহেব (রা.)-এর পৌত্র ছিলেন এবং হযরত মসীহ মওউদ (আ.)-এর সাহাবী হযরত করীম বখ্শ সাহেব (রা.)-এর প্রপৌত্র ছিলেন। শহীদ তাঁর পিতামাতার একমাত্র পুত্র ছিলেন এবং ঘরের একমাত্র তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। শাহাদতের সময় তাঁর বয়স ছিল আটত্রিশ বছর। তিনি ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শহীদ হন। মসজিদে আক্রমনের পর পৌনে দু’টার সময় তিনি তাঁর কাজিনকে ফোন করেন এবং সব ঘটনা খুলে বলেন। ঘটনার সময় তিনি আমীর সাহেবের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সন্ত্রাসীরা বলেছে, “তোমার পেছনে কে?” তিনি উত্তর দেন, “আমার স্ত্রী, আমার সন্তান এবং আমার খোদা”। তখন সন্ত্রাসীরা বলে উঠে, “তবে তোমার খোদার কাছেই যাও”; এই বলে তাঁর উপর গুলি বর্ষণ করে। আল্লাহ্ তা’লা শহীদের মর্যাদা উন্নীত করুন।

শহীদ মোহাম্মদ শাহেদ সাহেব, পিতা-মোকাররম মোহাম্মদ শফী সাহেব। শহীদ মরহুমের দাদা মোকাররম ফিরোজ দ্বীন সাহেব ১৯৩৫ সালে আহমদী হন। আযাদ কাশ্মীরের কোটলী জেলার বাসিন্দা ছিলেন। শাহাদত লাভের সময় তাঁর বয়স ছিল আটাশ বছর। ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ তিনি শাহাদত বরণ করেন। দু’ভাই একত্রে একটি দোকান চালাত। ছোট ভাই তাঁকে বলেছিল, আজ আমাকে জুমুআয় যেতে দিন কিন্তু তিনি বলেন, আজ আমাকে যেতে হবে তুমি আগামী শুক্রবার যেও। আল্লাহ্ তা’লা শহীদকে তাঁর দয়া ও ক্ষমার চাদরে আবৃত রাখুন।

শহীদ প্রফেসর আব্দুল ওয়াদুদ সাহেব, পিতা-মোকাররম আব্দুল মজীদ সাহেব। তিনি হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর সাহাবী হযরত শেখ আব্দুল হামীদ সাহেব শিমলবীর (রা.)-এর নাতি ছিলেন এবং বাগবানপুরা - লাহোরের গভর্নমেন্ট কলেজের ইংরেজীর অধ্যাপক ছিলেন। জামাতের একনিষ্ঠ সেবক ছিলেন। শহীদ মুসী ছিলেন এবং ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শাহাদত বরণের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল পঞ্চান্ন বছর। আল্লাহ্ তা’লা শহীদের বংশধরদের মধ্যেও তাঁর পুণ্য জারী রাখুন।

শহীদ ওয়ালীদ আহমদ সাহেব, পিতা-মোকাররম চৌধুরী মুনাওয়ার আহমদ সাহেব। শহীদ মরহুমের দাদা মোকাররম চৌধুরী আব্দুল হামীদ সাহেব, সাবেক সদর জামাত মেহরাবপুর - সিন্ধু প্রদেশ, ১৯৫২ সালে আহমদীয়াত গ্রহণ করেছিলেন। ১০ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে তাঁর দাদা মেহরাবপুরেই শাহাদত বরণ করেন। অনুরূপভাবে, শহীদ মরহুমের নানা নওয়াব শাহ্ জামাতের সাবেক আমীর, মোকাররম চৌধুরী আব্দুর রাজ্জাক সাহেবকে ৭ এপ্রিল ১৯৮৫ সালে আহমদীয়াতের শত্রুরা শহীদ করে। শাহাদত লাভের সময় শহীদের বয়স ছিল সাড়ে সতের বছর এবং মেডিকেল কলেজে প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত ছিল। শহীদ ওয়াকফে নও স্কীম ও মুসীদের অন্তর্ভূক্ত ছিল। তিনিও ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ শহীদ হয় এবং লাহোরের ঘটনায় সেই সবচেয়ে কম বয়সী তরুন ছিল। শহীদ মরহুম পাঁচ ওয়াক্ত নামাযী এবং সর্বদা জামাতের প্রতি বিশ্বস্ত ও অনুগত ছিল। স্বল্পভাষী ও মেধাবী যুবক ছিল এবং তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিল। তার সম্পর্কে শহীদ মরহুমের শৈশবের সেক্রেটারী ওয়াকফে নও বলেন, স্নেহাস্পদ ওয়ালীদ আহমদের শৈশবের একটি ঘটনা আছে। যখন তার বয়স এগার বছর, তখন একদিন আমি ওয়াক্‌ফে নও ক্লাশ নেয়ার সময় সব বাচ্চাদের এক এক করে জিজ্ঞাসা করলাম, “তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও?” যখন ওয়ালীদ আহমদের পালা আসল, সে বলল - “আমি বড় হয়ে দাদা জানের মত শহীদ হব”। আল্লাহ্ তা’লা শহীদের এ কুরবানী গ্রহণ করে জামাতকে তার মত লক্ষ লক্ষ ওয়ালীদ দান করুন।

শহীদ মোহাম্মদ আনোয়ার সাহেব, পিতা-মোকাররম মোহাম্মদ খান সাহেব। তিনি শেখুপুরার অধিবাসী ছিলেন। হযরত খলীফাতুল মসীহ্ সালেস (রাহে.) খিলাফতকালে তিনি বয়’আত গ্রহণ করেছিলেন। তরুন বয়সেই সেনাবাহিনীতে ভর্তি হয়েছিলেন। দশ বছর পূর্বে অবসর গ্রহণ করেন এবং সাথে সাথেই ‘বাইতুন্ নূর’ মডেল টাউনে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। শাহাদত বরণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি তাঁর দায়িত্ব উত্তমরূপে পালন করেছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৪৫ বৎসর। মডেল টাউন মসজিদের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় তিনি শাহাদাত লাভ করেন। তিনি একজন মুসী ছিলেন। এ ঘটনায় তার পুত্র আতাউল হকও গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে আছেন। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর মর্যাদা উন্নীত করুন।

শহীদ আনসারুল হক সাহেব হলেন মুকাররম মালেক আনোয়ারুল হক সাহেবের সুপুত্র। তাঁরা কাদিয়ানের পাশে অবস্থিত ফায়যুল্লাহ্ গ্রামের অধিবাসী। শাহাদাতের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বৎসর। তিনি ‘দারুয্ যিক্‌র’ মসজিদে শাহাদাত লাভ করেন। শহীদ বিভিন্ন গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর মর্যাদা উন্নীত করুন এবং সন্তান-সন্তুতিকে তাঁর এসব পুণ্য জারি রাখার তৌফিক দিন।

শহীদ নাসের মাহমুদ খান সাহেব, তিনি মোকাররম আরেফ নাসিম সাহেবের পুত্র। শহীদের পিতা আরেফ নাসিম সাহেব ১৯৬৮ সালে বয়’আত গ্রহণ করেন। তিনি অমৃতসরের অধিবাসী ছিলেন। শহীদ মরহুম খোদ্দামুল আহমদীয়ার একজন নিষ্ঠাবান কর্মী ছিলেন। প্রিন্টিং প্রেস এজেন্সির কাজ করতেন। শহীদ মরহুম নাযেম উমুমী এবং ফয়সাল টাউন হালকার নায়েব কায়েদ আউয়াল হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি একজন মুসী ছিলেন। ‘দারুয্ যিক্‌র’ মসজিদে তিনি শাহাদাত লাভ করেন। শাহাদাতের সময় তার বয়স ছিল ২৯ বছর। শহীদ মরহুমের ভাই মোকাররম আমের মাশহুদ সাহেব বলেন, “আক্রমনের সময় ভাইয়ের সাথে আমার ফোনে কথা হয়, তিনি আমাকে বলেন, আমি নিরাপদ আছি। আত্মরক্ষার্থে সিড়ির নিচে অনেক লোক জড়ো হয়েছে। সন্ত্রাসীরা তাদের দিকে গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে আমার ভাই তা ধরে ফেলে এবং সন্ত্রাসীদের দিকে ছুড়তে প্রয়াসী হয়”। হুযূর বলেন, এই সেই যুবক যে সন্ত্রাসীদের নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড নিজের হাতে ধরে ফেলে যাতে অন্য মুসল্লীরা প্রাণে রক্ষা পায় এবং তাদের কোন ক্ষতি না হয়। কিন্তু সে মুহূর্তেই তাঁর হাতে গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয় আর তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।

শহীদ আমীর আহমদ মালেক সাহেব, তিনি ছিলেন মালেক আব্দুর রহিম সাহেবের পুত্র। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর সাহাবী হযরত হাফেয নবী বখ্‌শ সাহেব (রা.) মরহুম শহীদের বড় দাদা ছিলেন। তারা কাদিয়ানের পাশে অবস্থিত ফায়জুল্লাহ্ গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তিনি মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়ার একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বিগত সাত বছর ধরে লাহোর জেলার নাযেম ইশায়াত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং জামাতের কম্পিউটার প্রফেশনাল এসোসিয়েশন এ.এস.সি.পি’র অডিটর ছিলেন। তিনি একজন মুসী ছিলেন। শাহাদাতের সময় তার বয়স ছিল ৩৬ বছর। মডেল টাউন মসজিদে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাকে জিন্নাহ্ হাসপাতালে নেয়া হলে তিনি সেখানেই শাহাদাতের সুধা পান করেন।

শহীদ সরদার ইফতেখারুল গনি সাহেব, তিনি মুকাররাম সরদার আব্দুশ্ শাকুর সাহেবের পুত্র। তিনি মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর সাহাবী হযরত ফায়েয আলী সাহেব (রা.)-এর প্রপৌত্র ছিলেন। হযরত ফয়েয আলী সাহেব (রা.) আফ্রিকাতে হযরত রহমত আলী সাহেবের হাতে আহমদীয়াতের দীক্ষা নেন। শহীদ একজন মুসী ছিলেন। শাহাদাতের সময় তার বয়স হয়েছিল ৪৩ বছর। গড়্‌হীশাহুর ‘দারুয্ যিক্‌র’ মসজিদে তিনি শাহাদাত লাভ করেন। শাহাদাতের পূর্বে শহীদের মামা মোহাম্মদ আব্দুল বাসেত সাহেবের সাথে এবং নিজের ঘরে ফোনে কথা বলেন। ‘ইয়া হাফিজু ইয়া হাফিজু, হে সুরক্ষাকারী! হে সুরক্ষাকারী! জপতে থাকেন এবং মামাকেও দোয়া করার জন্য বলেন। মসজিদে আক্রমন করা হয়েছে জানতে পেরে তার সম্মানীয়া স্ত্রী তাকে ফোন করে বলেন, ‘আপনার জুমুআর নামাযে যাবার দরকার নেই’। কিন্তু জানতে পারলেন যে, তিনি তখন ‘দারুয্ যিক্‌র’-এ উপস্থিত আছেন। ঘরে দোয়া করার জন্য বললেন। সাড়ে তিনটার সময় তার এক আর্মী বন্ধুকে ফোন করে বলেন, এখানকার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ আর পুলিশ কিছুই করছে না। তোমরা নামাযীদের সাহায্য করার জন্য মসজিদে আসো। শহীদ হবার আগ পর্যন্ত লোকদেরকে রক্ষার চেষ্টা করতে থেকেছেন। সুযোগ বুঝে দৌড়ে গিয়ে তিনি এক সন্ত্রাসীকে ধরে ফেলেন কিন্তু তখনই অন্য আরেক সন্ত্রাসী তার উপর গুলি বর্ষণ করে। তিনি যে সন্ত্রাসীকে জাপটে ধরেছিলেন সে নিজের আত্মঘাতী জ্যাকেট বিষ্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করে, কিন্তু তা সম্পূর্নভাবে বিষ্ফোরিত হতে পারে নি বরং সামান্যই বিষ্ফোরণ ঘটে। এ বিষ্ফোরণে তিনি শাহাদত বরণ করেন আর সন্ত্রাসী মারাত্মকভাবে আহত হয়। লোকেরা বলেছে, তিনি যদি সে সময় সন্ত্রাসীর উপর ঝাপিয়ে না পড়ে একদিকে সরে যেতেন তাহলে সহজেই বাঁচতে পারতেন। শহীদ মরহুমের খিদমতে খাল্‌ক অর্থাৎ মানবসেবার জন্য খুবই আগ্রহ ও উৎসাহ ছিল। কারো কখনো রক্তের প্রয়োজন হলে রক্ত দিতেন। সর্বদা নিজের কষ্ট সত্ত্বেও অন্যদেরকে সাহায্য করতেন। অতি উত্তম স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর মর্যাদাকে উন্নীত করুন এবং পশ্চাতে থাকা তার আত্মীয়-স্বজনকে ধৈর্য, সাহস এবং সান্ত্বনার মাধ্যমে এ শোক সইবার ক্ষমতা দিন এবং তাদেরকে পুণ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন।

এরপর হুযূর বলেন, ইনশাল্লাহ্ তা’লা বেঁচে থাকা আহমদীরা এসব আত্মত্যাগের সম্মান রক্ষা করবে এবং মহানবী (সা.)-এর মর্যাদা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করবে ও কখনো পশ্চাদপদ হবে না। আগামীতে ইনশাআল্লাহ্ বাকী শহীদদের উল্লেখ করব। আল্লাহ্ তা’লা প্রত্যেক আহমদীকে তাঁর সুরক্ষার চাদরে আবৃত রাখুন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্র: কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে