In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহ্ তা’লার গুণবাচক নাম ‘আল্‌-খালেক’ (সৃষ্টিকর্তা)

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

৭ই মে, ২০১০ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ عَلَيْكُمْؕ هَلْ مِنْ خَالِـقٍ غَيْرُ اللّٰهِ يَرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ وَالْاَرْضِؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ فَاَنّٰى تُؤْفَكُوْنَ

(সূরা আল্ ফাতের: ৪)

এরপর হুযূর বলেন, আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনের অসংখ্য স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি খালেক (স্রষ্টা)। খোদার বান্দা হওয়া সত্ত্বেও সত্যিকার অর্থে মানুষ তাঁর দাসত্ব করে না। খালেক আল্লাহ্ তা’লার একটি গুণবাচক নাম। মুফরাদাত নামক অভিধানে লেখা হয়েছে, প্রকৃত পক্ষে ‘আল্ খাল্‌ক’ শব্দের অর্থ কোন কিছু সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিপূর্ণ ধারণা করা বা অনুমান করা। এই শব্দ সৃষ্টির সূচনার জন্যও ব্যবহৃত হয় অর্থাৎ কোন উপাদান ও নমুনা ছাড়াই কোন জিনিস সৃষ্টি করা। অতএব পবিত্র কুরআনের আয়াত, خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ بِالْحَقِّ অর্থাৎ তিনি আকাশ ও পৃথিবী যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন। এখানে ‘খাল্‌ক’ নমুনা বিহীন সৃষ্টি’র অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, কেননা অন্যস্থানে বিষয়টিকে এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে, بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ অর্থাৎ তিনি আকাশ ও পৃথিবীকে পূর্বের কোন নমুনা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। আবার এক বস্তু দ্বারা অন্য কিছু বানানো এবং আবিষ্কার করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেভাবে বলা হয়েছে, خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ অর্থাৎ তিনি তোমাদেরকে এক আত্মা হতে সৃষ্টি করেছেন। وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ অর্থাৎ আমরা মানুষকে কাদা-মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। আয্‌হারীর মতে ‘আল্ খালেক’ এবং ‘আল্ খাল্লাক’ আল্লাহ্ তা’লার গুণবাচক নামগুলোর একটি। আলিফ ও লাম অর্থাৎ ‘আল্’ যুক্ত হলে এ গুণবাচক নামটি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য আর কারো জন্য ব্যবহৃত হয় না। এর অর্থ সেই সত্তা! যিনি সকল জিনিসকে শূন্য থেকে সৃষ্টি করেন। ‘খাল্‌ক’ শব্দের মূল অর্থ হচ্ছে, অনুমান বা ধারণা করা। অতএব, কোন কিছুর অস্তিত্ব সম্পর্কে অনুমান করা এবং সে অনুমান অনুযায়ী সেগুলোকে অস্তিত্ব দান করার অর্থে আল্লাহ্ তা’লা খালেক। সৃষ্টি করার দিক থেকে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’লার অন্যান্য নামও ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন ‘বারী’ অর্থাৎ এমন কিছুর সৃষ্টিকর্তা - যার পূর্বে কোন নমুনা বা দৃষ্টান্ত ছিল না বা সৃষ্টির সূচনা করা। ‘বারী’ও আল্লাহ্ তা’লার আরেকটি গুণবাচক নাম; এর অর্থ এমন সত্তা, যিনি কোন প্রকার নমুনা অথবা স্থান ও কালের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়ে সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ সৃষ্টি করার জন্য তাঁর কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। আরেকটি শব্দ হল ‘ফাতের’। এটি যখন আল্লাহ্ তা’লার জন্য ব্যবহৃত হবে তখন এর অর্থ হবে, সৃষ্টির সূচনা এবং তাতে সৌন্দর্য্য দানকারী।

হুযূর এরপর ‘আল্ খালেক’ এর আলোকে পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত উপস্থাপন করে তার ব্যাখ্যা করেন। অতঃপর হুযূর বলেন, খুতবার শুরুতে আমি যে আয়াতটি পাঠ করেছি তার অনুবাদ হল,

‘হে মানব জাতি! তোমাদের প্রতি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহরাজি স্মরণ কর। আল্লাহ্ ছাড়াও কি কোন সৃষ্টিকর্তা থাকতে পারে, যিনি তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিয্‌ক দান করেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমাদের কোথায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?’

(সূরা আল ফাতের: ৪)

পবিত্র কুরআনের অন্যস্থানে আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন,

أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ السَّمَاء مَاء فَأَنبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَّا كَانَ لَكُمْ أَن تُنبِتُوا شَجَرَهَا أَإِلَهٌ مَّعَ اللَّهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ

অর্থাৎ ‘অথবা (বল দেখি) তিনি কে, যিনি আকাশসমূহ্ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ হতে পানি অবতীর্ণ করেছেন? এর মাধ্যমে আমরা শস্য-শ্যামল বাগান বানিয়েছি। এটা করা তোমাদের সাধ্যের মধ্যে ছিল না। অতএব, আল্লাহ্‌র সাথে কি অন্য কোন উপাস্য আছে? কখনো না, বরং তারা এমন লোক যারা অবিচার করছে।’

(সূরা আন্ নামল: ৬১)

এ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হুযূর বলেন, উক্ত আয়াতে আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন, তোমাদের পক্ষে এ পৃথিবীতে জীবনোপকরণ সৃষ্টি করা সম্ভবপর ছিল না। কাজেই এ বিষয়টিকে উপলব্ধি করে আমাদেরকে খোদা তা’লার সমীপে অধিক অবনত হওয়া উচিত। যেমনটি আমি পূর্বেই বলেছি, খোদা তা’লা মানুষের দৈহিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করেন এবং তাঁর প্রতিপালন বৈশিষ্ট্যের অধীনে আমাদের জন্য বিভিন্ন প্রকার সৃষ্টিকে অস্তিত্বদান করে থাকেন - সেখানে মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কোন ব্যবস্থা করবেন না, তা কি হতে পারে? আল্লাহ্ তা’লা বলেন, এ উদ্দেশ্যকে স্মরণ করানো আর তা বাস্তবায়নের জন্য যুগে যুগে নবী-রসূল প্রেরণের একটি বিধান রয়েছে, আর তাঁরা এর প্রতি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। নবীদের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক পানি বর্ষিত হয়। যেভাবে বৃষ্টির পানি বর্ষিত হওয়ার ফলে ভূমিতে তরুলতা জন্মে, ফসল ও বাগানসমূহ সতেজতা ফিরে পায়। পাশাপাশি এমন সব গুল্মলতা আর আগাছাও জন্মে যা ফসলের জন্য ক্ষতিকর; অভিজ্ঞ কৃষকের কাছে বিষয়টি অজানা নয়। কখনো কখনো ফসলের মাঝে এতো বেশি আগাছা জন্মে যা পরিস্কার করা দুঃসাধ্য হয়ে যায়, ফলে আসল ফসলও নষ্ট হয়ে যায়। এখন উন্নত দেশগুলোতে ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে এসব আগাছা দূর করা হয়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন দেশও রয়েছে যেখানকার কৃষকরা পরিশ্রমী নয়, বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষেতে যেসব আগাছা জন্মে তার দ্বারা তাদের ব্যপক ক্ষতি সাধিত হয়। অনেক সময় এতো বেশি আগাছা জন্মে যা পরিস্কার করেও শেষ করা যায় না। একই বৃষ্টি একজনের উপকার সাধন করে আবার সে-ই বৃষ্টিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারার কারণে অন্যজনের ক্ষতি হয়। আধ্যাত্মিক জীবনের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। নবীদের আগমনের ফলে যে আধ্যাত্মিক বৃষ্টি বর্ষিত হয় তা থেকে সৎ ও পরিশ্রমীরা উপকৃত হয় ঠিকই কিন্তু বিরুদ্ধবাদী ও ধর্মহীনরা বঞ্চিত থেকে যায়। কেবল বঞ্চিতই থাকে না বরং তারা তাদের নিজেদেরকে ধ্বংস করে থাকে। আমরা দেখি যে, মহানবী (সা.)-এর যুগে দরিদ্র শ্রেণী এ বৃষ্টি থেকে বেশি লাভবান হয়েছে। আর লাভবান হয়ে রাযিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা পেয়েছে। অপরদিকে অনেক নেতৃস্থানীয় এ পৃথিবীতেই তাদের মন্দ পরিণামে পৌঁছেছে। এছাড়া তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’লা পরকালের শাস্তির সংবাদও দিয়েছেন। এ যুগে খোদা তা’লা যাকে পাঠিয়েছেন তিনি খোদা তা’লার ভালবাসা ও অনুগ্রহের দৃশ্যাবলী প্রত্যক্ষ করেছেন। কিন্তু বিরুদ্ধবাদীরা সেই ঐশী পানি থেকে বঞ্চিত থেকে গেল যা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর মাধ্যমে বর্ষিত হয়েছে।

আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলেন,

أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاء الْأَرْضِ أَإِلَهٌ مَّعَ اللَّهِ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ

অর্থাৎ ‘অথবা কে আছে যে- বিপদগ্রস্থ ও উদ্বিগ্ন ব্যক্তির দোয়া শুনেন যখন সে তাঁর সমীপে দোয়া করে আর তাঁর কষ্ট দূর করে দেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীর উত্তরাধিকারী করে দেন? আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।’

(সূরা আন্ নামল: ৬৩)

উক্ত আয়াতে সেসব লোকের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে - যারা বিপদে পড়লেই আল্লাহ্ তা’লার দরবারে অবনত হয়। যখন অবস্থা চরমরূপ ধারণ করে আর কোন উপায় থাকে না, তখন মানুষ খোদা তা’লার দরবারে উপস্থিত হয়; আর বলে, হে আমাদের খোদা! পৃথিবীর সকল পথ আমাদের জন্য রুদ্ধ। হে প্রতিপালক-প্রভু! তুমি আকাশ ও পৃথিবীর অধিপতি। আধ্যাত্মিক বৃষ্টি বর্ষণ করা তোমারই একটি পুরস্কার। আর তোমার প্রতিনিধিকে গ্রহণ করতে পারা - এটিও তোমারই পুরস্কার। কিন্তু তাঁকে গ্রহণ করার পর তোমার পৃথিবীকে আমার জন্য সংকীর্ণ করা হচ্ছে। যে পরীক্ষা ও বিপদাপদ এসেছে কেবলমাত্র তুমিই তা দূরীভূতকারী। কাজেই আমার উপর থেকে তুমি এ পরীক্ষা অপসারণ কর।

হুযূর বলেন, আমরা দেখছি, পাকিস্তানে দীর্ঘদিন থেকে আহমদীদের জন্য চরম বৈরী পরিবেশ বিরাজমান। এত্থেকে মুক্তি লাভের পন্থা একটাই আর তাহলো - নিষ্ঠার সাথে তাঁর সমীপে অবনত হওয়া; এ থেকে উত্তরণের এ ছাড়া আর কোন পথ নেই। আজকাল অন্যান্য দেশেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে যেমন, মিশর। কাজেই একমাত্র আল্লাহ্‌র দরবারে সমর্পণের মাধ্যমেই এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আল্লাহ্ তা’লা বলেন, যখন এমন বিনত অবস্থা সৃষ্টি হবে, আর বিনত অবস্থায় দোয়া করা হবে - তখন আমি তা গ্রহণ করবো।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর লেখা হতে উদ্ধৃতি উপস্থাপন করে হুযূর বলেন,

‘ঐশী কালামে মুজতার শব্দ দ্বারা সেই বিনয়কে বুঝায় যা বিপদের সময় প্রকাশ পায়। কিন্তু কোন শাস্তির সময় যে বিনয় প্রকাশ পায় তা মোটেও এ আয়াতের উদ্দিষ্ট নয়। নতুবা নূহ, লুত, মুসা ও ফেরাউন এর জাতির দোয়া ঐ বিনয়ের সময় কবুল করা হতো। কিন্তু এমন হয়নি, বরং খোদার হাত ঐ জাতিগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’

কাজেই যেসব স্থানে আহমদীরা কষ্টে আছেন - আপনরা স্মরণ রাখবেন, আজ শুধু আহমদীরাই আছেন; যারা পরীক্ষা বা বিপদের সময় বিনয়াবনত হয়। আর তাদের দোয়াই আল্লাহ্ তা’লা গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য যারা বিপদে আছে - তাদের দোয়া কবুল করার জন্য তিনি কোন প্রতিশ্রুতি দেননি, কেননা তারা খোদার প্রেরিতকে মানতে অস্বীকার করেছে। বিনয়ের সাথে ও বিগলিত চিত্তে দোয়া করো তারপর দেখ! খোদা তা’লা কীভাবে তোমাদের দোয়া কবুল করেন।

যাহোক, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) তাঁর আবির্ভাবের ঘোষণা দিয়ে মানবজাতির উদ্দেশ্যে বলেন,

‘হে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ! আপনারা জানেন, যখন অনাবৃষ্টি হয় আর দীর্ঘদিন ধরে খরা চলতে থাকে এর ফলশ্রুতিতে পরিশেষে অবস্থা এমন হয় যে, কূপও শুকিয়ে যেতে আরম্ভ হয়। কাজেই যেভাবে বস্তুজগতে আকাশের পানি ভূ-ভাগের পানিতে এক প্রকার আলোড়ন সৃষ্টি করে, তেমনিভাবে আধ্যাত্মিক জগতে - ঐশী পানি (অর্থাৎ খোদা তা’লার ওহী) হীন চিন্তাধারায় সজিবতা সৃষ্টি করে। অতএব, এ যুগও সেই আধ্যাত্মিক পানির মুখাপেক্ষী ছিল। আমি আমার দাবী সম্বন্ধে এতটা বলে দেয়া আবশ্যক মনে করি যে, আমি একান্ত প্রয়োজনের সময় খোদার পক্ষ থেকে প্রেরিত হয়েছি। এযুগে বহু মুসলমান ইহুদীদের রীতি অবলম্বন করেছে। তারা শুধু ত্বাক্ওয়া ও পবিত্রতাকেই বিসর্জন দেয়নি, হযরত ঈসার যুগের ইহুদীদের ন্যায় সত্যের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে খোদা আমার নাম মসীহ্ রেখেছেন। এমন নয় যে, শুধু আমিই এ যুগের লোকদের আহ্বান জানিয়েছি, বরং যুগ (আমার প্রয়োজন অনুভব করে) স্বয়ং আমায় ডেকে এনেছে।’

(বারাহীনে আহমদীয়া-৫ম খন্ডের ইয়াদ্ দাশতেঁ (স্মৃতির পাতা থেকে) পৃষ্ঠা: ১২)

সুতরাং মুসলমানরা যদি নিজেদের মাঝে পুনর্জাগরণ দেখতে চায়, তবে তাদের হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে; একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্ তা’লার প্রতি অবনত হতে হবে। মনে রাখবেন, কখনোই তরবারি হাতে তুলে নেয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়।

হুযূর আরো বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন, আমরা আকাশ ও ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যে রিয্‌ক লাভ করছি, তা আল্লাহ্ তা’লাই আমাদের দান করছেন। কাজেই আল্লাহ্ তা’লার কাছে নত হও আর তাঁর সন্নিধানেই সকল প্রকার কল্যাণ অন্বেষণ কর। আল্লাহ্ তা’লার সাহায্য ছাড়া জাগতিক রিয্‌ক পাওয়াও সম্ভব নয় এবং আধ্যাত্মিক রিয্‌ক লাভ করাও অসম্ভব।

এরপর আল্লাহ্ তা’লা বলেন:

أَمَّن يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَمَن يَرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَاء وَالْأَرْضِ أَإِلَهٌ مَّعَ اللَّهِ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

অর্থাৎ কে সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করেন? আর কে তোমাদেরকে আকাশ ও ভূ-পৃষ্ঠ থেকে রিয্‌ক দেন? আল্লাহ্ তা’লা ছাড়া আরো কোন উপাস্য আছে কি?

(সূরা আন্ নামল: ৬৫)

পূর্বোল্লেখিত আয়াত সমূহে আল্লাহ্ তা’লা প্রতিটি বিষয় উপস্থাপনের শেষে বলেছেন, আল্লাহ্ তা’লা ব্যতীত আরো কোন উপাস্য আছে কি? যদি থাকে তবে নিয়ে আস। অতএব এ ব্যাপারে মু’মিনদেরকে প্রণিধান করতে হবে।

হুযূর বলেন, আজ কোন কোন আহমদীও এই চিরন্তন বিধান ভুলতে বসেছে। আমি পূর্বেও অনেকবার উল্লেখ করেছি, এসব ঘটনা প্রায়শঃই ঘটে থাকে। তাই এ বিষয়টি আবারও বলছি, নিয়মিত নামায পড়া এবং এর সুরক্ষার প্রতি যত্নবান হওয়া একান্ত প্রয়োজন। দোয়ার জন্য অনেকে আমার কাছে আবেদন করে, তাদের অনেকের চেহারা দেখেই বোঝা যায় যে, শুধু প্রথাগতভাবে, দোয়ার জন্য বলছে। তাদের যদি জিজ্ঞাসা করা হয় - তুমি কি নিজে নামায পড়, দোয়া কর? তখন তাদের পক্ষ থেকে না বোধক উত্তর পাওয়া যায়। আমাদের একজনও যেন নামায পরিত্যাগ না করে। গতকাল একটি ঘটনা ঘটেছে। এক পিতা পুত্রসহ আমার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছেন। পিতা, পুত্রের সামনেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করল যে, সে নামাযের ব্যাপারে উদাসীন। পুত্রের ব্যবসা ভাল চলছে আর ব্যবসায় উত্তরোত্তর উন্নতির জন্য আমার কাছে দোয়ার আবেদন জানাচ্ছিল। তখন আমি তাকে বললাম, তুমি আমাকে যে কথা বলছো - এটাতো খোদা তা’লার সাথে ঠাট্টা-তামাশার শামিল। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেছেন,

‘যে ব্যক্তি আমাকে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য দোয়া করতে বলে, তাদের প্রতি আমার এক ধরনের ঘৃণা হয়।’

জাগতিক উন্নতির জন্যও দোয়া করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সেটাই আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিৎ নয়, বরং সর্বাগ্রে খোদা তা’লার অধিকার প্রদানে যত্নবান হতে হবে। আর প্রত্যেক আহমদীকে এ ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। আমি সেই ছেলেকে বলেছি, তোমার ব্যবসা ভালো চলছে, এটাও আল্লাহ্ তা’লার কৃপা। যে খোদা তোমার ব্যবসায় উন্নতি দানের ক্ষমতা রাখেন, তিনি নিঃসন্দেহে এ প্রাচুর্য কেড়েও নিতে পারেন আর আপন দয়ার হাত প্রত্যাহার করতে পারেন। এজন্য খোদা তা’লার দয়া আকৃষ্ট করার জন্য তাঁর ইবাদত করা একান্ত প্রয়োজন। আর এটাই মানব সৃষ্টির সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য। অতএব আমরা তখনই আমাদের সৃষ্টিকর্তা-প্রভু খোদার হক আদায় করতে পারব, যখন আমরা তাঁকে সত্যিকার উপাস্য জ্ঞান করব এবং তাঁর সামনে সম্পূর্ণরূপে বিনত হব। আল্লাহ তা’লা আমাদের সবাইকে এই সৌভাগ্য দান করুন।

প্রাপ্ত সুত্র: কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে