In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহ্ তা’লার গুণবাচক নাম ‘আল্‌-মতীন’(ক্ষমতাবান ও শক্তিশালী)

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১৬ই অক্টোবর, ২০০৯ইং

‘আল্লাহ্ তা’লার ‘মতীন’ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পবিত্র কুরআন এবং মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বিভিন্ন উদ্ধৃতির আলোকে তত্ত্বপূর্ণ আলোচনা’

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর আনোয়ার (আই.) বলেন, পবিত্র কুরআনের তিনটি সূরার তিনটি আয়াতে ‘মতীন’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে একবার সূরা আরাফে এবং একবার সূরা যারিয়াতে এবং একবার ব্যবহৃত হয়েছে সূরা কলমে। আল্লাহ্ তা’লা প্রতিটি স্থানেই ‘মতীন’ শব্দটি তাঁর গুণবাচক নাম হিসেবে উল্লেখ করে অস্বীকারকারী ও মুশরিকদের মন্দ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। ‘মাতানা’ শব্দের অর্থ দৃঢ় কোমরের অধিকারী হওয়া। কোন কোন আভিধানিক ‘মাতানা’ বলতে মেরুদন্ডের ডান ও বামে - উপর থেকে নিচের লম্বালম্বি মাংস পেশীকে বুঝিয়েছেন। দৃঢ় এবং মজবুতও এর অর্থ। লিসানুল আরব-এ লিখা রয়েছে যে, সেই ব্যক্তিকে ‘রাজুলুন মাতানুন’ বলা হয় যে শক্তিশালী এবং দৃঢ় কোমরের অধিকারী। লিসানুল আরবে আল্লাহ্ তা’লার গুণবাচক নাম হিসেবে এর অর্থ লিখা রয়েছে, ‘যুল কুওয়্যাতিল মতীন’ অর্থাৎ সেই সত্তা যিনি ক্ষমতাবান ও শক্তিশালী।

অতএব আল্লাহ্ তা’লার সত্তা - স্বীয় শক্তি ও সামর্থের পূর্ণতার দিক থেকে উৎকর্ষ। দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণের দিক থেকে তাঁর প্রিয়ভাজন ও নবীদের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে তিনি এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যা বিরোধীরা ভাবতেও পারে না। এ থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য কেবল একটি পথই খোলা রয়েছে, আর তা হল আল্লাহ্ তা’লার শাস্তি আসার পূর্বেই সাধ্যমত ইস্তেগফার করা, তওবা করা এবং পাপ থেকে মুক্তি পাবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ্ তা’লা যতটুকু জানান তার বাইরে নবীরাও জানেন না। বিরোধীদেরকে তিনি কোন পন্থায় এবং কীভাবে শাস্তি দিবেন তা তাঁরাও জানতে পারেন না। বদরের যুদ্ধে কোন কোন কাফির নেতার ভয়ানক পরিণাম সম্বন্ধে আল্লাহ্ তা’লা মহানবী (সা.)-কে সুনির্দিষ্টভাবে অবহিত করেছেন যে, অমুক অমুক স্থানে অমুক অমুক কাফিরের লাশ পড়ে থাকবে।

আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَالَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِاٰيٰتِنَا سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِّنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُوْنَ‌ۖ‌ۚ‏

وَاُمْلِىْ لَهُمْ‌ؕ اِنَّ كَيْدِىْ مَتِيْنٌ‏

অর্থ: যে সব লোক আমাদের নির্দশনসমূহকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে অবশ্যই আমরা তাদেরকে ক্রমান্বয়ে সেই দিক থেকে ধরবো যে সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। আর আমি তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছি, নিশ্চয় আমার কৌশল সুদৃঢ়।

(সূরা আল্ আ’রাফ: ১৮৩-১৮৪)

এরপর সূরা কলমে বলেন:

فَذَرْنِىْ وَمَنْ يُّكَذِّبُ بِهٰذَا الْحَـدِيْثِ‌ؕ سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِّنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُوْنَۙ‏

وَاُمْلِىْ لَهُمْ‌ؕ اِنَّ كَيْدِىْ مَتِيْنٌ‏

অর্থ: ‘অতএব (উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য) তুমি আমাকে এবং তাদেরকে, যারা (আমার) বাণীকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে, ছেড়ে দাও; আমরা তাদেরকে ধাপে ধাপে এমনভাবে ধরবো যা তারা বুঝতেও পারবে না। আর আমি তাদেরকে অবকাশ দিব; নিশ্চয় আমার কৌশল অত্যন্ত দৃঢ়।’

(সূরা আল্ কলম: ৪৫-৪৬)

আল্লাহ্ তা’লার নিদর্শন সমূহকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যানকারী সেসব লোক যারা মক্কায় মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল তারা জানতো না যে, তাদের এই অত্যাচার ও নির্যাতনের শাস্তি তারা কীভাবে ভোগ করবে। মক্কায় মুসলমানরা যে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তা ইসলামের ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। এরূপ পরিস্থিতিতেই আল্লাহ্ তা’লা মহানবী (সা.)-কে এ বলে সান্ত্বনা দিয়েছেন, আমি ‘মতীন’ এবং আমি যখন শাস্তি দেই তখন অত্যন্ত কঠোরভাবে ধৃত করি। ইসলামের শত্রুরা কোনভাবেই আমার শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে না। আল্লাহ্ তা’লা বদরের যুদ্ধে তাদের অহংকার ও অহমিকাকে যেভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছেন, ধর্মের ইতিহাসে তার দৃষ্টান্ত মেলা ভার।

অতএব আল্লাহ্ তা’লা বলেন, হে নবী! যারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে, তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করোনা। তোমার উপর এবং তোমার মান্যকারীদের উপর যারা নির্যাতন করছে তাদেরকে আমার হাতে ছেড়ে দাও। একথা ভেবোনা যে, তারা সফল হবে বা নির্যাতন করে মু’মিনদেরকে তোমার কাছ থেকে দূরে ঠেলে দিবে। আমি তাদেরকে এমন ভয়াবহ পরিণামের সম্মুখীন করবো যা হবে শিক্ষনীয় দৃষ্টান্ত। আমি তাদেরকে সামান্য অবকাশ দেই ঠিকই তবে তা সংশোধনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু আমি যখন এসব নির্যাতনকারীকে তাদের অপরাধের কারণে ধৃত করতে চাইব তখন কেউই আমাকে বাঁধা দিতে পারবে না আর ঐশী শাস্তির যাঁতাকল তাদেরকে পিষ্ট করে ছাড়বে।

হুযূর বলেন, মহানবী (সা.)-এর চেয়ে আর কে আল্লাহ্ তা’লার বেশি প্রিয় হতে পারে? আল্লাহ্ তা’লা আপন অনুগ্রহে বদরের যুদ্ধে তাঁর এই প্রত্যাদিষ্ট মহাপুরুষকে সাহায্য করা এবং নির্যাতনকারীদের দম্ভ চূর্ণ করতে গিয়ে একটি মহান নিদর্শন দেখিয়েছেন। উতবা, শায়বা আর আবু জাহ্লের মত সর্দাররা প্রতিপত্তি ও শক্তির অহমিকায় নিরীহ মুসলমানদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালাত, নিজেদেরকে মহা শক্তিধর মনে করত। তাদের আকষ্মিকভাবে এরূপ শাস্তি পাওয়া অন্যদের জন্য ছিল শিক্ষনীয় দৃষ্টান্ত। আবু জাহ্ল দু’জন অল্প বয়স্ক কিশোরের হাতে প্রাণ হারায়, মৃত্যুকালে অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে সে বলেছিল, হায়! ‘আমি যদি কোন কৃষকের হাতে নিহত না হতাম।’

বদরের প্রান্তরে নিহত ২৪জন কুরায়শ সর্দারকে যখন গণ কবর দেয়া হয় তখন তাদের কবরের সম্মুখে দাঁড়িয়ে মহানবী (সা.) বলেছিলেন,

‘তোমরা কি সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হতে দেখছ যা তোমাদের প্রভু তোমাদের সাথে দিয়েছেন? নিশ্চয় আমি সেই অঙ্গীকারকে প্রকৃতভাবে পূর্ণ হতে দেখছি যা আমার প্রভূ আমাকে দিয়েছেন।’

অতএব খোদা তা’লা তাঁর প্রিয় নবীকে বলেছিলেন, তাদের বিষয়টি আমার উপর ছেড়ে দাও আর দেখ আমি তাদের সাথে কী করি? সামান্য পরিমান যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে হাতে গোনা ক’জন মানুষ সমর কৌশলে অভিজ্ঞ এবং সব ধরণের যুদ্ধাস্ত্রে সুসজ্জিত একটি সেনা বাহিনীর কোমর এমন ভাবে ভেঙ্গে দিয়েছিল যা কল্পনাতীত। পার্থিব কোন রণ কৌশলের মাধ্যমে এত বড় বিজয় আসে না আর পৃথিবীবাসী এমন দৃষ্টান্ত কখনো দেখে নি। এটিই হল, আল্লাহ্ তা’লার পরম শক্তিশালী হবার সমুজ্জ্বল প্রমাণ।

মহানবী (সা.)-এর যুগের প্রতি যদি আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ করি তাহলে দেখতে পাই যে, আল্লাহ্ তা’লা শক্রদেরকে কান্ডজ্ঞান খাটানোর যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছিলেন। আর যখন মহানবী (সা.) হিজরত করেছেন, সে সময় তারা যদি ফেরাউনী স্বভাবের বহিঃপ্রকাশ না ঘটাতো আর চিন্তা-ভাবনা করত তাহলে কখনোই বদরের যুদ্ধে তাদের এমন ভয়ানক পরিণতি হত না।

আল্লাহ্ তালা পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলেন:

وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّمَا نُمْلِىْ لَهُمْ خَيْرٌ لِّاَنْفُسِهِمْ‌ؕ اِنَّمَا نُمْلِىْ لَهُمْ لِيَزْدَادُوْۤا اِثْمًا‌ۚ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ‏

অর্থ: এবং যারা অস্বীকার করেছে তারা যেন কখনো এটি মনে না করে যে, আমরা তাদেরকে যে অবকাশ দিচ্ছি তা তাদের জন্য উত্তম। আমরা তো তাদেরকে শুধুমাত্র এজন্যই অবকাশ দিচ্ছি যাতে তারা পাপে আরো বৃদ্ধি পায়। বস্তুতঃ তাদের জন্য লাঞ্ছনাজনক আযাব নির্ধারিত আছে।’

(সূরা আল্ ইমরান: ১৭৯)

আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে ফিরাউনের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন - তিনি ফিরাউনকে অবকাশ দেয়ার পরে পাকড়াও করেছেন অনুরূপভাবে মহানবী (সা.)-এর শক্রদেরকেও আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন, আমি তাদেরকে ধৃত করব, আর যথাসময় তিনি তাদেরকে ধৃত করেছেন, ইসলামের ইতিহাস যার জাজ্জ্বল্যমান সাক্ষী।

শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহ্ তা’লার নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। মহানবী (সা.)-এর যুগ ছিল জালাল ও প্রতাপের যুগ। শত্রুরা তাঁকে যুদ্ধে নামতে বাধ্য করেছিল। এ কারণে আল্লাহ্ তা’লা যুদ্ধ ক্ষেত্রেই শত্রুদের শাস্তি দেন।

খোদা তা’লা আজও তাঁর শক্তির বিকাশ দেখাচ্ছেন আর ভবিষতেও দেখাতে থাকবেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর যুগেও আল্লাহ্ তা’লা তাঁর নিজস্ব পদ্ধতিতে শত্রুদের শাস্তি দিয়েছেন। পন্ডিত লেখরাম কিছুকাল অবকাশ পাবার পর দোয়ার অস্ত্রের মাধ্যমেই অশুভ পরিণামের শিকার হয়। অনুরূপভাবে আব্দুল্লাহ্ আথম, আলেকজান্ডার ডুই এবং অন্যান্য বিরোধীরাও ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হয়েছে।

হুযূর বলেন, আজও যারা মহানবী (সা.)-কে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন কথাবার্তা বলে, সে আস্তিক অথবা নাস্তিক যে-ই হোক না কেন - আল্লাহ্ তা’লার শাস্তি সে এড়াতে পারবে না। মহানবী (সা.)-এর ঘটনাবলী ছাড়াও পবিত্র কুরআন অন্যান্য নবীদের ঘটনাবলীও বর্ণনা করে। নবীদের বিরোধীদের কৃত ষড়যন্ত্র তাদেরই ক্ষতি করে অপরদিকে খোদা তাঁর নবী ও জামাতকে নিরাপত্তার চাদরে আবৃত রাখেন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেছেন,

‘খোদা তা’লা ছাড়া চূড়ান্ত পরিণাম কি হবে তা কে বলতে পারে আর এই অদৃশ্য সম্বন্ধে জ্ঞাত সত্তা ছাড়া আর শেষ দিবসের সংবাদ কার জানা আছে? শক্ররা বলে, অতি উত্তম হয় যদি এ ব্যক্তি লাঞ্ছনার সাথে ধ্বংস হয়। হিংসুক আকাঙ্খা করে, এর উপর এমন কোন শাস্তি পতিত হোক যাতে তার কোন কিছুই অবশিষ্ট না থাকে। কিন্তু এরা সবাই অন্ধ, আর অচিরেই তাদের এ নোংরা চিন্তা-ভাবনা আর অশুভ দুরভিসন্ধি তাদেরই বিরুদ্ধে যাবে। মিথ্যা দাবীকারক যে অতি শীঘ্রই ধ্বংস হয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। আর যে ব্যক্তি বলে, আমি খোদা তা’লার পক্ষ থেকে প্রেরিত এবং তাঁর ইলহাম এবং বাক্যালাপে ধন্য অথচ না সে খোদা তা’লার পক্ষ থেকে আর না-ই সে ইলহাম ও বাক্যালাপে ভূষিত, সে অত্যন্ত ঘৃণ্যভাবে মারা যায় আর তার পরিণাম চরম অশুভ ও শিক্ষনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। কিন্তু যে সত্যবাদী এবং তাঁর পক্ষ থেকে (প্রেরিত) সে মরেও অমর থাকে, কেননা খোদা তা’লার কৃপার হাত তার উপর থাকে আর সত্যের রূহ্ তার মাঝে বিদ্যমান থাকে। যদি সে সমস্যায় জর্জরিত হয়, পিষ্ট হয় আর মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয় আর চতুর্দিক থেকে তাকে নিন্দা ও (তার উপর) অভিসম্পাত বারি বর্ষিত হয় এবং তাকে ধ্বংস করার জন্য সমস্ত জগত ষড়যন্ত্র করে তবুও সে ধ্বংস হয় না। সে কেন ধ্বংস হয় না? সেই সত্যিকার সম্পর্কের কল্যাণে যা তার প্রকৃত প্রেমিকের (খোদার) সাথে তার হয়ে থাকে। খোদা তার উপর সবচেয়ে বেশী বিপদাপদ অবতীর্ণ করেন, তবে তা তাকে ধ্বংস করার জন্য নয় বরং ফুলও ফলে ভরে দেয়ার জন্য বা উন্নতি দেয়ার জন্য, কেননা প্রত্যেক মূল্যবান বস্তুর জন্য এটিই প্রকৃতির বিধান। প্রথমে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখিন হতে হয়। উদাহরণ স্বরূপ সেই ভূমিকে দেখ! যা প্রস্তুত করার জন্য কৃষক কয়েক মাস ধরে কষ্ট করে হাল চালনার মাধ্যমে ভূমি কর্ষণ করে.... অনুরূপভাবে সেই প্রকৃত কৃষক (খোদা তা’লা) কখনও কখনও তাঁর বিশেষ বান্দাদের মাটিতে নিক্ষেপ করেন আর লোকেরা তাদের গায়ে পা রেখে হাটে, তাদেরকে পদতলে পিষ্ট করে আর সকল অর্থে তাদের লাঞ্ছনা প্রকাশ পায়। তখন অল্প দিনের মধ্যেই সেই বীজ উদ্ভিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আর এক অপূর্ব রং এবং প্রভাসহ প্রকাশিত হয়, তা দেখে মানুষ অবাক হয়। আদিকাল থেকে খোদার মনোনীত বান্দাদের সাথে এটিই আল্লাহ্ তা’লার সুন্নত বা রীতি যে, তাদেরকে ভয়াবহ ঘূর্ণিস্রোতো নিক্ষেপ করা হয় কিন্তু নিমজ্জিত করার উদ্দেশ্যে নয় বরং (তৌহিদ) একত্ববাদ - অর্থাৎ নদীর তলদেশে বিরাজমান সব মনি-মুক্তার উত্তরাধীকারী করার জন্য। আর তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয় কিন্তু পোড়ানোর উদ্দেশ্যে নয় বরং খোদা তা’লার কুদরত বা শক্তির বিকাশ ঘটনোর লক্ষ্যে। তাদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়, তাদের অভিসম্পাত করা হয়, আর তাদেরকে সকল প্রকার দু:খ কষ্ট দেয়া হয় আর তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের কথা রটানো হয়, কুধারণা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, অনেকে ভাবতেই পারে না যে, তিনি সত্য হতে পারেন। বরং যে ব্যক্তি তাঁকে কষ্ট দেয় এবং অভিসম্পাত বর্ষণ করে সে মনে মনে ভাবে যে, সে বড়ই পূণ্যের কাজ করছে, অতএব একটা সময় পর্যন্ত এমনই হতে থাকে। সেই মনোনীত ব্যক্তি যদি মানবীয় দুর্বলতা হেতু কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে তখন খোদা তা’লা এ বাক্য দ্বারা তাকে সান্তনা দেন যে, তুমি ধৈর্য ধারণ কর যেভাবে পূর্ববর্তীগণ ধৈর্য ধারণ করেছে। আরও বলেন, আমি তোমার সাথে আছি, আমি শুনি আর আমার দৃষ্টি আছে, অতএব সে ধৈর্য ধারণ করে একপর্যায়ে নির্ধারিত বিষয় তার মেয়াদ পূর্ণ করে। তখন ঐশী আত্মাভিমান সেই বিনীত বান্দার জন্য উদ্বেলিত হয়। আর একটি বিকাশের মাধ্যমেই শত্রুকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেয়। সুতরাং প্রথম পালা শত্রুর আর শেষে আসে (মু’মিনের) তার পালা।

এভাবে দয়াময় খোদা আমাকে বার বার বুঝিয়েছেন যে - হাসি, ঠাট্টা এবং অভিসম্পাত বর্ষণ করা হবে, আর অনেক দুঃখ দেয়া হবে কিন্তু অবশেষে খোদার সাহায্য তোমার পক্ষে থাকবে। আর খোদা শত্রুদেরকে পরাভূত ও লজ্জিত করবেন।’

এরপর একটি কাশফের উল্লেখ করে তিনি (আ.) বলেন, ‘আমি একটি কাশফে দেখেছি একজন ফিরিশতা আমার সামনে আসলো আর সে বলল, লোকেরা ফিরে যাচ্ছে। তখন আমি তাকে বল্লাম, তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে আরবী ভাষায় উত্তর দিল আর বলল, ‘জি’তু মিন হাযরাতিল বেতের’ অর্থাৎ আমি তার পক্ষ থেকে এসেছি যিনি এক ও অদ্বিতীয়। তখন আমি তাকে এক নিভৃত কো���ে নিয়ে গিয়ে বললাম, মানুষ ফিরে যাচ্ছে কিন্তু তুমিও কি ফিরে যাবে? তখন সে বলল, আমরা তোমার সাথে আছি। তখন আমি এ কাশফী অবস্থা থেকে জাগ্রত হলাম। এ সব কিছু অন্তর্বর্তীকালীন বিষয়, আর চূড়ান্ত বিষয় হিসেবে যা নির্ধারিত হয়েছে তা হল খোদা তা’লা পুনঃপুনঃ ইলহাম এবং কাশফের মাধ্যমে আমার সামনে প্রকাশ করেছেন ও আমাকে অবহিত করেছেন যার সংখ্যা সহস্র-সহস্র আর সূর্যের ন্যায় দেদীপ্যমান আর তা হল, অবশেষে তোমাকে বিজয় দান করব। আর প্রত্যেক অপবাদ থেকে তোমাকে নির্দোষ প্রমাণ করব। তুমি জয়যুক্ত হবে আর তোমার জামাত কিয়ামত পর্যন্ত তোমার বিরোধীদের উপর জয়যুক্ত থাকবে। আর বলেন, আমি প্রবল আক্রমন সমূহ্ দ্বারা তোমার সত্যতা প্রকাশ করব।’

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, ‘স্বরণ রাখবে, এ ইলহাম সমূহ এ কারণে লেখা হয়নি যে, এখনই কেউ তা গ্রহণ করবে। বরং এ কারণে যে, প্রত্যেক জিনিসের একটি নির্ধারিত ঋতু এবং সময় রয়েছে। অতএব যখন এ ইলহাম সমূহ পূর্ণ হবার সময় আসবে তখন এ লেখা সদাত্মাদের জন্য বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ঈমান, প্রশান্তি এবং বিশ্বাসের কারণ হবে। ওয়াস্ সালামু আলা মানিত্তাবাআল হুদা।’

(আনওয়ারুল ইসলাম, পৃ:৫-৫৪)

খুতবার শেষাংশে হুযূর বলেন, আল্লাহ্ তালা আমাদেরকে দোয়া, কুরবানী এবং ঈমানী দৃঢ়তার সাথে সাথে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে আহমদীয়াত অর্থাৎ প্রকৃত ইসলামের দৃশ্যাবলী দেখাতে থাকুন। আপনারা দোয়ার উপর জোর দিন, বিশেষ করে পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য অনেক বেশি দোয়া করুন। আল্লাহ্ তা’লা এ দেশকে আহমদীয়াতের কারণে রক্ষা করুন। কেননা আহমদীরা এই দেশ গড়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, অনেক কুরবানীও দিয়েছে। এ দেশকে বিভক্তকারী মোল্লারা কখনই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় অংশ নেয়নি; আর পকিস্তান নামে পৃথক একটি রাষ্ট্র হোক এর পক্ষেও তারা ছিল না। কিন্তু এখন তারা দেশ দরদী সেজে নিত্য-নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করছে। ইসলাম ও দেশ রক্ষার নামে দেশকে বিভক্ত করার পায়তারা করছে। আল্লাহ্ তা’লা এসব শত্রুকে ধরাশায়ী করার ব্যবস্থা করুন আর আমাদের প্রিয় মাতৃ ভূমিকে এদের খপ্পর হতে রক্ষা করুন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে