In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহ্ তা’লার গুণবাচক নাম ‘আল্‌-কভী’ (মহা শক্তিশালী)

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

৯ই অক্টোবর, ২০০৯ইং

‘আল্লাহ্ তা’লার ‘কভী’ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পবিত্র কুরআনএবং মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বিভিন্ন উদ্ধৃতির আলোকে তত্ত্বপূর্ণ আলোচনা’

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর আনোয়ার (আই.) বলেন, কুরআন করীমের বেশ কয়েকটি স্থানে আল্লাহ্ তা’লার ‘কভী’ বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে। ‘কভী’ আল্লাহ্ তা’লার একটি গুণবাচক নাম। এটি সাধারণভাবে মানুষের জন্য শক্তিশালী অর্থে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া শারীরিক ও মেধাগত শক্তি, কোন কাজ করার যোগ্যতা রাখা এবং জ্ঞানের দিক থেকে দৃঢ় দলিল-প্রমাণের অধিকারী হবার অর্থেও এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আল্লাহ্ তা’লার জন্য আমরা যখন ‘কভী’ শব্দ ব্যবহার করি, তখন এর অর্থ হবে সব ধরনের শক্তির অধিকারী, যার মোকাবেলা কেউ করতে পারে না, তিনি সকল শক্তিশালী হতেও অধিক শক্তির অধিকারী। তিনি তাঁর সৃষ্টিকেও একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের শক্তি-সামর্থ্য দান করেছেন।

হুযূর বলেন, আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন সূত্রে তাঁর এ গুণবাচক নামের উল্লেখ করেছেন। যেখানেই তিনি এই বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করেছেন, তা মূলতঃ মানুষকে সতর্ক করা ও মন্দ পরিণাম সম্পর্কে ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহার করেছেন। অথবা সেসব মানুষের পরিণাম উল্লেখ করেছেন, যাদের উপর অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ্ তা’লার শাস্তি নেমে এসেছিল। এর পাশাপাশি তিনি এও বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ্ তা’লাকে যারা সমস্ত শক্তির আধার ও সর্বশক্তিমান জ্ঞান করে, তারা আল্লাহ্ তা’লার কৃপাভাজন হয়। আল্লাহ্ তা’লা সর্ব প্রথম সূরা বাকারায় সে সব মুশরেকদেরকে সতর্ক করেছেন, যারা আল্লাহ্‌কে পরিত্যাগ করে দেব-দেবী বা প্রতিমা পূজা করে।

আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّتَّخِذُ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَنْدَادًا يُّحِبُّوْنَهُمْ كَحُبِّ اللّٰهِؕ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْٓا اَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِؕ وَلَوْ يَرَى الَّذِيْنَ ظَلَمُوْٓا اِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَۙ اَنَّ الْقُوَّةَ لِلّٰهِ جَمِيْعًۙا وَّاَنَّ اللّٰهَ شَدِيْدُ الْعَذَابِ‏

অর্থাৎ, ‘মানুষের মাঝে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহ্‌কে ছেড়ে অন্যদেরকে তাঁর সমকক্ষ বানিয়ে নেয়। তারা তাদেরকে আল্লাহ্ তা’লাকে ভালবাসার ন্যায় ভালবাসে, কিন্তু যারা ঈমানদার তারা আল্লাহ্ তা’লাকে সর্বাধিক ভালবাসে। হায়! যারা অত্যাচার করেছে তারা যদি (এখনই) বুঝতে পারতো যে, যখন (পরে) তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে, (তাহলে তারা বুঝতো যে) আল্লাহ্ই সমস্ত শক্তির আধার এবং আল্লাহ্ শাস্তি প্রদানে অতি কঠোর।’

(সূরা আল্ বাকারা: ১৬৬)

আল্লাহ্ তা’লা এ আয়াতের প্রথমাংশে বলেছেন, মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ্ তা’লাকে ভালবাসা এবং তাঁকে স্মরণ রাখা। কিন্তু কোন কোন মানুষ এ উদ্দেশ্যকে ভুলে যায় বরং এ দিকে মনোযোগই দেয় না। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ্ তা’লার ভালবাসা সম্পর্কে জানেই না এবং এটা বুঝারও চেষ্টা করে না; পক্ষান্তরে তারা প্রকাশ্যে দেবদেবীকে হৃদয়ে স্থান দেয়, বিভিন্ন ধরনের প্রতিমা তাদের হৃদয়ে আসন গেড়ে বসেছে। তাদের হৃদয়ে দেবদেবীর প্রতি ভালবাসা এমনভাবে প্রথিত হয়ে যায় যে, তাদের মাঝে আল্লাহ্ তা’লার প্রতি ভালবাসার চিন্তাও আর অবশিষ্ট থাকে না। পক্ষান্তরে একজন প্রকৃত মু’মিন আল্লাহ্ তা’লার ভালবাসাকে সব কিছুর উর্ধ্বে স্থান দেয়।

হুযূর বলেন, এ আয়াত আল্লাহ্ তা’লার কাছ থেকে দূরে অবস্থানকারীদের জন্য একটি সতর্কবাণী স্বরূপ। আল্লাহ্ তা’লা অন্যত্র বলেছেন, যারা শির্‌ক করবে আমি তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবো না। কাজেই, এ পৃথিবীর সাময়িক ভোগবিলাস তোমাদেরকে আল্লাহ্ তা’লা হতে উদাসীন করে মন্দ পরিণামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু তিনি মু’মিনদেরকে বলেছেন, তোমরা যদি মু’মিন হওয়ার দাবী কর তবে জেনে রেখো, প্রকৃত মু’মিনের পরিচয় হল, সে আল্লাহ্ তা’লাকে সর্বাধিক ভালবাসে। সব কিছুর উপর আল্লাহ্‌র ভালবাসাকে প্রাধান্য দেয়। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে সে যেসব পুরস্কার পাবে তা মূলতঃ আল্লাহ্‌কে ভালবাসার জন্যই পাবে। অতএব, একজন মু’মিনকে সর্বদা এ কথা মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ্ তা’লার সাথে তার ভালবাসা তখনই পূর্ণতা লাভ করবে, যখন তাঁর রসূল (সা.)-এর প্রতিও নিঃস্বার্থ ভালবাসা থাকবে। فَاتَّبِعُوْنِىْ يُحْبِبْكُمُ اللّٰهُ (সূরা আল্ ইমরান: ৩২) এর বিষয়বস্তুটি উপলব্ধি করতে হবে। মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি পরম শান্তি ও আশিস কামনার মাধ্যমে নিজ ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে।

হুযূর বলেন, খোদা তা’লাকে ভালবাসার ফলে মু’মিনের মাঝে যে খোদাপ্রেম সৃষ্টি হওয়া উচিত, তারা যদি এর প্রতি দৃষ্টি না দেয়, তবে তারা নিজেদের প্রাণের উপর যুলুম করবে।

এই ভালবাসা কীরূপ হওয়া উচিত এবং এর প্রকৃত গভীরতা কি? এবং এর উদ্দেশ্য কি? এ সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন:

‘জানা উচিত যে, ভালবাসার মাঝে কৃত্রিমতা এবং লৌকিকতা শোভা পায় না। বরং মানবীয় বৃত্তির একটি বৈশিষ্ট হলো, হৃদয় যে জিনিষকে পছন্দ করে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। আর যেভাবে প্রতিটি জিনিষের আসল বৈশিষ্ট্য তার চরম উৎকর্ষতার সময় প্রকাশ পায়। ভালবাসার অবস্থাও তদ্রুপ, প্রকৃত সৌন্দর্য সে সময় সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ হয় যখন তা পূর্ণতা পায় ও চরমোৎকর্ষে পৌঁছে। ���ল্লাহ্ তা’লা বলেন, اُشْرِبُوْا فِىْ قُلُوْبِهِمُ الْعِجْلَ (সূরা আল্ বাকারা: ৯৪) অর্থাৎ, তারা গোবৎসকে এত ভালবাসে যেন গোবৎসকে শরবতের ন্যায় তাদের পান করানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, যে ব্যক্তি কাউকে পরিপূর্ণরূপে ভালবাসে মনে হয় যেন সে তাকে পান করে বা খেয়ে ফেলে এবং তার চারিত্রিক গুণাবলী ও আচার-ব্যবহারের রঙ্গে রঙ্গীন হয়ে যায়। আর ভালবাসা যতই গভীর হয়, ততই মানুষ তার প্রেমাস্পদের গুণাবলীর প্রতি আকর্ষিত হতে থাকে। এমনকি তার রূপ ধারণ করে, যাকে সে ভালবাসে। এটাই সেই নিগূঢ় তত্ত্ব; যে ব্যক্তি খোদাকে ভালবাসে সে নিজ সামর্থানুযায়ী প্রতিচ্ছায়া রূপে সেই আলোতে আলোকিত হয়, যা খোদা তা’লার সত্তায় রয়েছে। আর শয়তানকে যে ভালবাসে সে সেই অন্ধকার লাভ করে, যা শয়তানের মধ্যে রয়েছে।

প্রকৃত ভালবাসার দাবী হলো, সত্যনিষ্ঠার সাথে প্রেমাস্পদেরে সমস্ত অভ্যাস, চারিত্রিক গুণাবলী এবং ইবাদত সমূহ পছন্দ করা এবং তাতে বিলীন হবার জন্য মনে প্রাণে চেষ্টিত থাকা, যাতে তার ভালবাসার মধ্যে বিলীন হয়ে সেই জীবন লাভ করতে পারে যা প্রেমাস্পদ লাভ করেছে। প্রকৃত প্রেমিক তার প্রেমাস্পদের মাঝে বিলীন হয়ে যায়। সে তার প্রেমাস্পদের মত হয়ে যায়। এবং নিজের মাঝে তার এমন চিত্র ধারণ করে যেন তাকে পান করে ফেলেছে বা খেয়ে ফেলেছে। মোটকথা, তার হৃদয়ে অবস্থান করে তার সত্তায় বিলীন হয়ে, তার রঙ্গে রঙ্গীন হয়ে এবং তার সাথে থেকে মানুষকে জানিয়ে দেয় যে, আসলেই সে তার প্রেমাস্পদের মাঝে হারিয়ে গেছে। মোহাব্বত একটি আরবী শব্দ আর এর আসল অর্থ হচ্ছে পরিপূর্ণ হওয়া। অতএব, আরবে এই উদাহরণ বহুল প্রচলিত, গাধার পেট যখন পানিতে ভরে যায় এটিকে বুঝানোর জন্য আরবরা বলে ‘তাহাব্বাবাল হেমারু’ অর্থাৎ, ভালবাসার পানিতে তার পেট ভরে গেছে। আর যখন এটা বুঝাতে চায় যে, উট এত বেশি পানি পান করেছে যে, পানিতে ভরে গেছে তখন বলে ‘শারিবাতিল ইবিলু হাত্তা তাহাব্বাবাত’ আর ‘হাব্ব’ শস্যদানাকে বলা হয়। এই শব্দটিও তা থেকেই নির্গত হয়েছে। যার অর্থ হলো, পূর্বোক্ত দানা’র সমস্ত গুণাবলীতে পূর্ণ হয়েছে আর এরই ভিত্তিতে স্বর্ণকেও আহবাব বলে থাকে। কেননা যা অন্যের দ্বারা ভরে যাবে সে নিজ অস্তিত্বকে মিটিয়ে দেবে, যেনো ঘুমিয়ে পড়বে, আর তার অস্তিত্বের কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

(গভর্ণমেন্ট ইংরেজী আওর জিহাদ - রূহানী খাযায়েন, ১৭তম খন্ড, পৃ: ৫-৬)

অতএব, আল্লাহ্ তা’লার প্রকৃত ভালবাসা ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য একজন মু’মিন নিজের সব কিছু উৎসর্গ করার চেষ্টা করে। তারপর দেখুন যে, সেই শক্তিশালী খোদা, যিনি সব শক্তির অধিকারী, তিনি তার বান্দার জন্য কি করেন।

এরপর আল্লাহ্ তা’লা সূরা হজ্জে শক্তিশালী কাফিরদের মোকাবিলায় তাঁর শক্তিশালী হবার কথা বলে মু’মিনদের সান্তনা দিয়েছেন। দুর্বলতা, সংখ্যা স্বল্পতা আর উপকরণের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও তোমরা এই কাফিরদের সাথে যুদ্ধ কর কেননা, তারা কেবল র্শিকের চরম সীমায়ই পৌঁছেনি, বরং অত্যাচারেও সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এখন ধর্মের অস্তিত্ত্বের প্রশ্ন, নতুবা যুলুম বেড়েই যাবে। আল্লাহ্‌র সাথে যারা শরীক করে তারা কোন ধর্মাবলম্বীকে সহ্য করে না। আল্লাহ্ তা’লা বলেন:

ۨالَّذِيْنَ اُخْرِجُوْا مِنْ دِيَارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٍّ اِلَّاۤ اَنْ يَّقُوْلُوْا رَبُّنَا اللّٰهُ‌ؕ وَلَوْلَا دَفْعُ اللّٰهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَـعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَّصَلٰوتٌ وَّمَسٰجِدُ يُذْكَرُ فِيْهَا اسْمُ اللّٰهِ كَثِيْرًا‌ؕ وَلَيَنْصُرَنَّ اللّٰهُ مَنْ يَّنْصُرُهٗؕ اِنَّ اللّٰهَ لَقَوِىٌّ عَزِيْزٌ‏

অর্থাৎ ‘সেসব লোক যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে শুধুমাত্র এই দোষে বহিষ্কার করা হয়েছে যে, তারা বলে আল্লাহ্ আমাদের প্রতিপালক। যদি আল্লাহ্ তা’লা মানুষের একদলকে অন্যদল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে সাধু-সন্যাসীদের মঠ, গির্জা, ইহুদীদের উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ - যাতে অধিকহারে আল্লাহ্‌র নাম স্মরণ করা হয় অবশ্যই ধ্বংস করে দেয়া হত। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অতিশয় শক্তিমান ও মহা পরাক্রমশালী।’

(সূরা আল্ হাজ্জ: ৪১)

অতএব, এই আয়াতে নীতিগত বিষয় বলে দেয়া হয়েছে, ধর্মীয় যুদ্ধ আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হলে অবশ্যই তা প্রতিহত করতে হবে। শান্তি বজায় রাখার জন্য, কঠোরভাবে যুলুম-নির্যাতনের প্রতিউত্তর দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহ্ তা’লার সাহায্য তোমাদের সাথে থাকবে। শুধু নিজের ধর্মের নয় বরং অন্যান্য ধর্মেরও সুরক্ষা করতে হবে। কেননা মুসলমানদের দাবী হলো, অপর কোন ধর্মের অনুসারীকে আমরা বাহুবলে ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করবো না। কারণ এটি ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী। আর এ বিষয়টি বিশ্বের শান্তি বিনষ্টকারী। হেদায়াত দেয়া বা না দেয়াটা খোদা তা’লা নিজের হাতে রেখেছেন। তবে, ভালবাসা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে তবলীগ করার দায়িত্ব একজন মুসলমানকে পালন করা আবশ্যক।

তৃতীয় বিষয় হলো, আল্লাহ্ তা’লা ধর্র্মীয় যুদ্ধে, নির্যাতিত ও সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিতদের অবশ্যই সাহায্য করেন। সে যুগে মহানবী (সা.)-এর প্রতি যুলুম-নির্যাতন হচ্ছিল সীমাতিরিক্ত। মক্কায় অবস্থানকারী মুসলমানদের দুঃখ-দুর্দশা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। হিজরতের পরও মুসলমানদের সাথে ধর্মের কারণে যুদ্ধ করা হচ্ছিল। ফলে আল্লাহ্ তা’লা আপন প্রতিশ্রুতি অনুসারে পরম শক্তিশালী ও মহা পরাক্রমশালী হবার প্রমাণ দিয়েছেন। উপকরণের অপ্রতুলতা ও অনভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও মুসলমানদেরকে যখন যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হলো, তখন তিনি তাদের সাহায্যও করেছেন এবং মুসলমানদের সাহায্যের জন্য দলে দলে ফিরিশ্তা পাঠিয়েছেন।

হুযূর বলেন, এ আয়াত হতে এটিও সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, আল্লাহ্ তা’লা শুধুমাত্র আত্মরক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধের অনুমতি প্রদান করেছিলেন। ধর্মের উপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাই হল প্রকৃত জিহাদ। অন্য যেসব যুদ্ধ হয়ে থাকে তা একটি মুসলিম দেশের সাথে অন্য মুসলিম দেশের হোক, অথবা অমুসলমানদের সাথে মুসলমানদের হোক, তা রাজনৈতিক ও জাতিগত যুদ্ধ। বর্তমানে যেসব যুদ্ধ হচ্ছে, এগুলো রাজনৈতিক ও জাতিগত যুদ্ধ। এগুলো জিহাদ নয়। আল্লাহ্ তা’লা নিজের পরম শক্তিশালী হবার ঘোষণা পুনঃব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন - ধর্মের উপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে আমি ধর্মের অনুসারীদের সাহায্য করবো। যেহেতু আল্লাহ্ তা’লার ঘোষণানুসারে শেষ ও পূর্ণাঙ্গ ধর্ম ইসলাম তাই আল্লাহ্ তা’লা মুসলমানদেরকে সাহায্যের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আর اِنَّ اللّٰهَ لَقَوِىٌّ عَزِيْزٌ অর্থাৎ, আল্লাহ্ তা’লা অতিশয় শক্তিশালী বলে এ কথার ঘোষণা দিয়েছেন যে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় যুদ্ধ হলে অবশ্যই আমি তাদেরকে সাহায্য করবো।

বর্তমানে যেসব যুদ্ধ হচ্চে মুসলমানরা তাতে বিজয়ের পরিবর্তে পরাজয়ের সম্মূখীন হচ্ছে, এটি একথার জ্বলন্ত প্রমাণ যে, এগুলো জিহাদ নয় এবং আল্লাহ্ তা’লার দৃষ্টিতে ধর্মীয় যুদ্ধ নয়, তাই তারা আল্লাহ্ তা’লার সাহায্য হতে বঞ্চিত।

হুযূর বলেন, আজ মুসলমানদেরকে ধর্মের জন্য অস্ত্র ও কামান ধারণের পরিবর্তে নিজেদের ঈমান ও কর্মের সংশোধন করা প্রয়োজন। আল্লাহ্ তা’লার সমীপে বিনত হয়ে নিজেদের সংশোধনের জন্য কান্নাকাটি করা উচিত। তাহলে কামান ও বন্দুক ছাড়াই জগৎকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে। দ্বিতীয়তঃ মুসলমানদের বলা হয়েছে যে, ‘কোন ধর্মের উপর আক্রমণ করার বা বল প্রয়োগ করার অনুমতি তোমাদের দেয়া হচ্ছে না।’ বর্তমান যুগে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর শিক্ষাই হচ্ছে পবিত্র কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা। এ শিক্ষা অনুসারে কাজ করুন, আর দেখুন, পরম শক্��িশালী খোদা কীভাবে নিজের শক্তি ও প্রতাপ প্রকাশ করেন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) ইসলামের প্রাথমিক যুগের, মুসলমানদের উপর নির্যাতনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে জিহাদের অনুমতি প্রদান এবং আল্লাহ্ তা’লার সাহায্য লাভের চিত্র এভাবে তুলে ধরেছেন:

‘যেহেতু ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমানরা সংখ্যায় অল্প ছিল। এ জন্য তাদের বিরোধিরা অহংকারবশতঃ যা প্রকৃতিগতভাবে এমন লোকদের মন ও মস্তিষ্কে বিদ্যমান থাকে, নিজেদেরকে ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা, সংখ্যাধিক্য, মানসম্মান এবং আভিজাত্যে অন্যান্য দল থেকে উত্তম মনে করত। তারা সে সময়ের মুসলমান, অর্থাৎ সাহাবাদের প্রতি চরম শক্রতা রাখতো। তারা এটা চাইতো না, এই ঐশী বৃক্ষের চারা পৃথিবীতে রোপিত হোক। বরং তারা ঐ হেদায়াতপ্রাপ্তদের ধ্বংস করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছিল। আর দুঃখ-কষ্ট দেয়ার কোন সুযোগ হাত ছাড়া করেনি। তাদের ভয় ছিল - এই ধর্মের ভীত কোথাও দৃঢ় না হয়ে যায়, এবং এ ধর্মের উন্নতি তাদের জাতিসত্তা ও ধর্মের ধ্বংসের কারণ না হয়ে যায়। সুতরাং, এই ভয় যা তাদের হৃদয়ে এক প্রকার আতঙ্ক হিসেবে বিরাজমান ছিল, এ কারণে অত্যন্ত নির্মম ও নিষ্ঠুর কর্মকান্ড তাদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে এবং নির্মমভাবে অনেক মুসলমানকে হত্যা করেছে। দীর্ঘ তের বছর পর্যন্ত এই ধারা অব্যহত ছিল। খোদার নিষ্ঠাবান বান্দাদের নির্দয়ভাবে এসব নিকৃষ্ট জন্তুদের তরবারি দ্বারা টুকরো টুকরো করা হয়েছে। এতীম ছেলে-মেয়ে এবং দুর্বল নারীদেরকে অলিগলিতে জবাই করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও নিশ্চিতরূপে খোদা তা’লার পক্ষ থেকে এই নির্দেশ ছিল, দুষ্টের সাথে লড়াই করো না। অতএব ঐ নিষ্ঠাবান পুণ্যাত্মারা তদ্রুপই করেছেন। তাদের রক্তে অলিগলি রঞ্জিত হয়েছে কিন্তু তারা টু শব্দ পর্যন্ত করেন নি। তাদেরকে কুরবানীর (পশুর) মত জবাই করা হয়েছে, কিন্তু তারা উফ্ পর্যন্ত করেন নি। খোদার পুত-পবিত্র রসূল, তাঁর প্রতি আকাশ ও পৃথিবী থেকে অগণিত সালাম বর্ষিত হোক, তাঁকে পাথর মেরে অসংখ্যবার রক্তাক্ত করা হয়েছে, কিন্তু সততা ও অবিচলতার এই পাহাড়, এ সব নির্যাতন প্রশস্ত চিত্তে এবং হাসিমুখে সহ্য করেছেন। তাঁর ধৈর্য্য ও উদারতার ফলে বিরুদ্ধবাদীদের দুঃসাহস ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে এবং এই পবিত্র জামাতকে তারা নিজেদের শিকার মনে করে নিল। তখন সেই খোদা! যিনি চান না যে, পৃথিবীতে যুলুম-নিযার্তন ও নিষ্ঠুরতা - সীমা অতিক্রম করুক, তিনি নিজের নির্যাতিত বান্দাদের স্মরণ করলেন এবং তাঁর ক্রোধ ঐ হীন-নিকৃষ্টদের বিরুদ্ধে প্রকাশ পেল। তিনি তাঁর নির্যাতিত বান্দাদেরকে তাঁর পবিত্র বাণী কুরআন শরীফের মাধ্যমে জানালেন, তোমাদের সাথে যেসব আচরণ করা হচ্ছে, আমি সবই দেখছি। আমি আজ থেকে তোমাদের প্রতিহত করার অনুমতি দিচ্ছি, আমি সর্বশক্তিমান খোদা! যালেমদের শাস্তি না দিয়ে ছাড়বো না। এ নির্দেশকেই অপর ভাষায় ‘জিহাদ’ নাম দেয়া হয়েছে। আর সেই নির্দেশের মূল বাক্যাবলী পবিত্র কুরআনে এখন পর্যন্ত সুরক্ষিত আছে তা হল:

أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٍّ

(সুরা আল্ হাজ্জ্: ৪০-৪১)

অর্থাৎ যাদের অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয়েছে আর মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, খোদা তা’লা তাদের আকুতি শুনেছেন ও তাদের মোকাবেলা করার অনুমতি প্রদান করেছেন। খোদা তা’লা নির্যাতিতদের সাহায্য করতে পূর্ণ ক্ষমতাবান। কিন্তু এই নির্দেশ যুগের অবস্থানুযায়ী সীমিত সময়ের জন্য ছিল, এটি সকল যুগের জন্য প্রযোজ্য ছিল না। বরং ঐ যুগ সম্পর্কে ছিল, যখন ইসলাম গ্রহণকারীদেরকে ছাগল ভেড়ার ন্যায় জবাই করা হত।’

(গভর্ণমেন্ট ইংরেজী আওর জিহাদ - রূহানী খাযায়েন, ১৭তম খন্ড, পৃ: ৫-৬)

সর্বশক্তিমান খোদার শক্তি দুর্বলদের পক্ষে প্রকাশ পেল আর বিশ্ববাসী জানে, ঐ সকল নির্যাতিতদের, যাদেরকে মক্কায় জলন্ত আগুনের উপর শোয়ানো হতো, চাবুক মারা হতো এবং যাদের দেহ চিরে ফেলা হতো, সেই শক্তিধর খোদা তা’লার সাহায্যে তারা শুধু এ নিযার্তন থেকে রক্ষাই পায়নি, বরং তাদেরকে রোম ও পারস্য সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারীও করা হল। এ হচ্ছে শক্তিশালী খোদা তা’লার মাহাত্ম্য।

এটি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, সত্য সর্বদা জয়যুক্ত হয়েছে এবং সকল নবীর বিরোধিরাই মন্দ পরিণামের শিকার হয়েছে। যতদিন মুসলমানরা ইসলামের সঠিক শিক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, বিজয়ের পর বিজয় তাদের পদচুম্বন করেছে।

বর্তমানে মুসলমানদের ভেতর উন্নতির কোন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। হ্যাঁ, যারা ইসলামের দিকে তাকাচ্ছে, তারা কেবল মুসলমানদের লাঞ্ছিত, নিগৃহীত হতে ও মার খেতে দেখছে। তবে কি আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের বিজয়ী হবার অঙ্গীকার (নাউযুবিল্লাহ) মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে, অথবা এই অঙ্গীকার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে, যা কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিল, নাকি আল্লাহ্ তা’লার শক্তিতে কোন ঘাটতি হয়েছে? এসব কথার পুরোটাই ভুল।

আল্লাহ্ তা’লার অঙ্গীকারও সত্য, কিয়ামত পর্যন্ত ইসলাম ধর্ম স্থায়ী হবার ও উন্নতি করার যে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, তাও সত্য। আর আল্লাহ্ তা’লার অন্যান্য গুণাবলীর ন্যায় তাঁর মহাশক্তিশালী হবার গুণও বিদ্যমান আছে আর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তার সর্ব ক্ষেত্রে বিজয়ী ও শক্তিশালী হবার প্রমাণ দেবার জন্যই এ যুগের ইমাম বানিয়ে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্ তা’লা তার উপরও এ ইলহাম করেছেন, كَتَبَ اللّٰهُ لَاَغْلِبَنَّ اَنَا وَرُسُلِىْ (সূরা আল্ মুজাদেলা: ২২) {আল্লাহ্ লিখে নিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই আমি এবং আমার রসূলগণই বিজয়ী হবো।}

এরপর হুযূর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর উপর নাযিলকৃত বিভিন্ন ইলহাম তুলে ধরেন, যাতে খোদা তা’লা স্বীয় শক্তিশালী হবার এবং শেষ যুগে মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর নেতৃত্বে ইসলাম ধর্ম পুনরায় সুদৃঢ় ভাবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সুনামের সাথে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন:

‘মহা প্রতাপশালী খোদা আমাকে এই সুসংবাদও দিয়েছেন যে, কতক রাষ্ট্র প্রধান ও রাজা-বাদশাহ্ আমাদের জামাতে প্রবেশ করবেন। আর তিনি আমাকে বলেছেন, আমি তোমাকে কল্যণের পর কল্যাণ দান করব এমনকি বাদশাহ্ তোমার পোষাক থেকে কল্যাণ অন্বেষণ করবে।’

(বারকাতুদ্ দোয়া - রূহানী খাযায়েন - ৬ষ্ঠ খন্ড - পৃ: ৩৫)

তিনি (আ.) অন্যত্র বলেন,

‘এই কল্যাণ অন্বেষণকারীরা বয়’আত গ্রহণ করবে, আর তাদের বয়’আত গ্রহণ করার কারণে সাম্রাজ্যও তাদের হয়ে যাবে। এরপর কাশ্‌ফে আমাকে সেসব বাদশাহ্ দেখানো হয়েছে যারা ঘোড়ায় আরোহিত ছিল আর তাদের সংখ্যা ছয়-সাত জনের কম নয়।’

(তাযকিরাহ্ - পৃ: ৮ - ৪র্থ সংস্করণ)

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন:

‘এটি খোদা তা’লার সুন্নত, যখন থেকে তিনি এ জগতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনি সর্বদা এ সুন্নত প্রকাশ করেছেন যে, তিনি নিজ নবী এবং রসূলদেরকে সাহায্য করে থাকেন। আর তাদেরকে বিজয় দান করেন। যেভাবে তিনি বলেছেন كَتَبَ اللّٰهُ لَاَغْلِبَنَّ اَنَا وَرُسُلِىْ (সূরা আল্ মুজাদেলা: ২২) আর বিজয়ের অর্থ হলো, যেভাবে নবী এবং রসূলদের এ আকাঙ্খা থাকে যে, খোদার অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হোক, আর তার মোকাবেলা যেন কেউ করতে না পারে। এভাবে আল্লাহ্ তা’লা প্রবল নিদর্শনসমূহ্ দ্বারা তাঁদের (নবীদের) সত্যতা প্রকাশ করেন আর যে সাধুতা তিনি জগতে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, (খোদা তা’লা) তাঁদের হস্ত দ্বারাই তার বীজ বপন করেন, কিন্তু এর পূর্ণতা তাঁদের হাতে করেন না। বর�� এমন মূহূর্তে তাদেরকে মৃত্যু দান করেন, যখন বাহ্যিকভাবে এক প্রকার ব্যর্থতার ভীতি বিদ্যমান থাকে এবং বিরোধীদেরকে হাসি-ঠাট্টা, বিদ্রুপ ও উপহাস করার সুযোগ দেন। আর যখন তারা হাসি-ঠাট্টা করতে থাকে তখন তিনি আপন কুদরতের অপর হস্ত প্রদর্শন করেন, আর এমন উপকরণ সৃষ্টি করেন যার মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্য সমূহ, যার কতক অসম্পূর্ণ ছিল, তা পূর্ণতা লাভ করে।

(আল ওসীয়্যত - রূহানী খাযায়েন - ২০তম খন্ড - পৃ: ৩০৪)

খুতবার শেষাংশে হুযূর বলেন, আল্লাহ্ করুন আমরা যেন সর্বদা আল্লাহ্ তা’লার পূর্ণ আনুগত্যের মাঝে থাকি। সকল গুনাহ্ থেকে যেন মুক্ত থাকি। আল্লাহ্ তা’লার ভালবাসার আগুন প্রত্যেক আহমদী নিজ হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত করুন যাতে সমস্ত নোংরামী পুড়ে ছাই হয়ে যায়, এরপর আমরা বিশ্ববাসীকে সেই দৃশ্য দেখাব যা দেখানোর আশা ও আকাঙ্খা আমাদের হৃদয়ে আছে। আল্লাহ্ করুন যেন এমনই হয়, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্র: কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে