In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহ্ তা’লার গুণবাচক নাম কাফী (আল্লাহ্ই যথেষ্ট) - তৃতীয় অংশ

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

৩০শে জানুয়ারি, ২০০৯ইং

আল্লাহ্ তা’লা স্বীয় প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাঁর প্রিয় মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জন্য সর্বত্র যথেষ্ট হয়েছেন।

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর আনোয়ার (আই:) বলেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) স্বীয় মনিব ও নেতা হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর পদাঙ্ক অনুসরণে যে মর্যাদা বা সম্মান লাভ করেছিলেন তা প্রত্যেক আহ্‌মদীর কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট। গত খুতবায় আমি আল্লাহ্ তা’লার ‘কাফী’ (খোদা যথেষ্ট) বৈশিষ্ট্যের বরাতে উল্লেখ করেছিলাম যে, মহানবী (সা:)-এর সাথে প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসার সেই উন্নত মানে অধিষ্ঠিত হবার কারণে তিনি আল্লাহ্ তা’লার অতি প্রিয়ভাজন হয়েছেন। তাঁর অগণিত ইলহাম একথার সাক্ষ্য বহণ করে; যার মধ্যে আরবী, উর্দূ এবং ফারসী ইলহাম অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। গত খুতবায়ও আমি উল্লেখ করেছি, আল্লাহ্ তা’লা কতক কুরআনের আয়াতাংশ তাঁর প্রতি ইলহাম করেছেন। জামাতে আহ্‌মদীয়ার জীবনে আগত প্রতিটি দিন এর সাক্ষ্য প্রদান করে যে, নিশ্চয় তাঁর ইলহাম সত্য এবং নিশ্চিত তাঁর দাবীও সত্য ছিল। আল্লাহ্ তা’লার প্রতি মিথ্যা আরোপকারী বিশেষত: নবুয়তের মত মিথ্যা দাবীদার কখনও রেহাই পেতে পারে না। আল্লাহ্ তা’লা স্বয়ং পবিত্র কুরআনে এই অমোঘ নীতির কথা বর্ণনা করেছেন। যেভাবে পবিত্র কুরআনের সূরা আল্ হাক্কা’র আয়াতে বলেন,

وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْاَقَاوِيْلِۙ‏

لَاَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِيْنِۙ‏

ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِيْنَ

فَمَا مِنْكُمْ مِّنْ اَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِيْنَ‏

অর্থ:‘এবং সে যদি কোন কথা মিথ্যা রচনা করে আমাদের প্রতি আরোপ করতো, তাহলে নিশ্চয় আমরা তাকে ডান হাতে ধৃত করতাম, অত:পর আমরা তার জীবন-শিরা কেটে দিতাম, তখন তোমাদের কেউই তাঁর (আযাব) হতে তাঁকে ঠেকিয়ে রাখতে পারতো না।’ (সূরা আল্ হাক্কা: ৪৫-৪৮)

সুতরাং আল্লাহ্ তা’লার প্রতি যে মিথ্যা আরোপ করে তার জন্য এটি একটি নীতিগত মাপকাঠি আল্লাহ্ বর্ণনা করেছেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-ও একে আপন সত্যতার মাপকাঠি হিসেবে নির্ণয় করেছেন। তিনি (আ:) বলেন,

‘খোদা তা’লা সত্যবাদীর আরো একটি পরিচিতি নির্ধারণ করেছেন আর তাহলো, মহনাবী (সা:)-কে বলেছেন, যদি তুমি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করো তাহলে আমি তোমাকে ডান হাতে ধৃত করবো। আল্লাহ্ তা’লার নাম নিয়ে মিথ্যাদাবীকারী, প্রতারক কখনও সফল হতে পারে না বরং ধ্বংস হয়ে যায়। আমি খোদা তা’লার ওহী প্রকাশ করে আসছি প্রায় পঁচিশ বছরকাল অতিবাহিত হয়েছে। যদি প্রতারণা হতো তাহলে এই জালিয়াতির শাস্তিস্বরূপ নিজ প্রতিশ্রুতি রক্ষার ব্যবস্থা নেয়া কি খোদার জন্য আবশ্যক ছিল না? উপরন্তু আমাকে শাস্তি দেবার পরিবর্তে আমার সমর্থনে শত শত নিদর্শন প্রকাশ করেছেন আর আমাকে সাহায্যের পর সাহায্য করেছেন। প্রবঞ্চকদের সাথে এরূপ করা হয় কি? আর দাজ্জালরা এমন সাহায্যপুষ্ট হয় কি? কিছুটা অন্তত চিন্তা করো, এমন কোন দৃষ্টান্ত দেখাও। আমি দাবীর সাথে বলতে পারি যে, কখনও এমন দৃষ্টান্ত খুঁজে পাবে না। (আল্ হাকাম ৭ম খন্ড, নাম্বার:৭, তারিখ ২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯০৩-পৃ: ৮)

অন্যত্র তিনি (আ:) বলেন,

‘মহানবী (সা:)-এর জন্য বিধান হচ্ছে, যদি তুমি আমার প্রতি একটি মিথ্যা আরোপ করতে তাহলে আমি তোমার জীবন-শিরা কেটে দিতাম যেভাবে * وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ * لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ আয়াতের আলোকে কথা স্পষ্ট হয়। আর এখানে বিগত চব্বিশ বছর ধরে প্রত্যহ খোদার সাথে প্রতারণা চলছে আর খোদা স্বীয় চিরন্তন সুন্নত বা রীতি কার্যকর করছেন না! মন্দকর্ম এবং মিথ্যার উপর কখনও স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকা যায়না। একপর্যায়ে মানুষ মিথ্যা পরিত্যাগ করেই থাকে। আমার স্বভাব কি এমনই যে, আমি বিগত চব্বিশ বছর ধরে এই মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত আর অনবরত বলেই চলছি আর এর মোকাবিলায় খোদা তা’লা নিশ্চুপ বসে আছেন পরন্তু সর্বদা সমর্থনের পর সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যদ্বাণী করা বা অদৃশ্যের জ্ঞান থেকে অংশ লাভ করা কোন সাধারণ ওলীর জন্যও সম্ভব নয়। এই নিয়ামত তিনিই শুধু লাভ করেন যিনি মহাসম্মানিত খোদার দরবারে বিশেষ সম্মানের আসনে আসীন থাকেন।’ (আল্ হাকাম ৮ম খন্ড, নাম্বার:১৯, তারিখ ১০ থেকে ১৭ই জুন,১৯০৪-পৃ:৬)

হুযূর বলেন, হযরত মসীহ্ ম‏ওউদ (আ:)-একে খোদার পক্ষ থেকে মনোনীত হবার মানদন্ড নিরূপণ করেছেন যা স্বয়ং আল্লাহ্ তা’লা কর্তৃক নির্ধারিত। সুতরাং এই মাপকাঠিতে প্রত্যেক সত্যবাদীকে যাচাই করা উচিত। ‘আসওয়াদ আল্ আনসী’ বা ‘মুসায়লামা কায্যাব’ এর পরিণতি ইসলামের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। এরপরও কি মুসলমানরা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে মিথ্যা সাব্যস্ত করতে বদ্ধপরিকর। অতএব যারা পবিত্র কুরআনের উপর ঈমান এনেছে কমপক্ষে তারা যেন আল্লাহ্ তা’লার কালাম নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা থেকে বিরত থাকে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) একথা গুলো যারা মুসলমান হবার দাবী করা সত্বেও স্বয়ং আল্লাহ্ তা’লার এই কালাম বুঝার চেষ্টা করে না এবং সাধারণ মানুষকেও বুঝতে দিতে চায় না তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন। এরা কেবল বুঝারই দাবী করে না বরং এই কালামের বুৎপত্ত�� অর্জন এবং এর সূক্ষ্ণ রহস্যাবলী অনুধাবনের দাবী করে কিন্তু প্রকৃত কথা হলো এরা না স্বয়ং বুঝতে চায় আর না-ই সাধারণ জনতাকে বুঝতে দিতে চায়।

সুতরাং মুসলমানদের চিন্তা করা উচিত ও ভাবা উচিত। এ হচ্ছে একজন সতবাদী ও মিথ্যাবাদীকে যাচাই করার মাপকাঠি। একস্থানে অত্যন্ত মহিমার সাথে ঐশী সাহায্য ও সমর্থণ এবং শত্রুদের আক্রমনের বিরুদ্ধে তাঁর জন্য আল্লাহ্ তা’লা যথেষ্ট হবার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি (আ:) বলেন, (প্রথমে মহানবী (সাঃ) এর কথা বলে পরে নিজের কথা বলেন)

‘স্মর্তব্য যে, পাঁচ বার আঁ-হযরত (সা:)-এর জীবনে অত্যন্ত নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, জীবন নাশের সমূহ আশংকা দেখা দিয়েছিল। মহানবী (সা:) যদি আল্লাহ্‌র সত্য রসূল না হতেন তাহলে নিশ্চয় তাঁকে হত্যা করা হতো। প্রথম ঘটনা হচ্ছে: যখন মক্কার কুরায়শরা আঁ-হযরত (সা:)-এর ঘর ঘেরাও করে ফেলে এবং কসম খায় যে, আজ আমরা অবশ্যই তাঁকে হত্যা করবো। (২) দ্বিতীয় ঘটনা হচ্ছে, যখন কাফিরদের বিরাট একটি দল পাহাড়ের সেই গুহার মুখে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিল, যে গুহার ভেতর হযরত আবু বকর (রা:)-সহ মহানবী (সা:) আত্মগোপন করেছিলেন। (৩) তৃতীয় বারের নাজুক অবস্থা হচ্ছে, যখন মহানবী (সা:) ওহোদ-এর যুদ্ধের ময়দানে নি:সঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন এবং কাফিররা তাঁকে ঘেরাও করে ফেলেছিল আর তরবারি দিয়ে তাঁর উপর বহুবার সমবেত আক্রমন করেছে কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থকাম হয়েছে, এটিও একটি নিদর্শন ছিল। (৪) চতুর্থ হচ্ছে সেই ঘটনা যখন এক ইহুদী নারী মাংশে বিষ মিশিয়ে মহানবী (সা:)-কে তা খেতে দিয়েছিল। আর সেই বিষ ছিল যেমন তীব্র তেমনিই মারাক্তক এবং তা পরিমাণেও ছিল অত্যাধিক। (৫) পঞ্চম বারের ঘটনাও ছিল অত্যন্ত বিপদজ্জনক। যখন পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজ আঁ-হযরত (সা:)-কে হত্যা করার দৃঢ় সংকল্প করেছিল এবং তাঁকে গ্রেফতার করার জন্য সৈন্য প্রেরণ করেছিল। এসব চরম বিপদজ্জনক অবস্থা থেকে আঁ-হযরত (সা:)-এর প্রাণে বেঁচে যাওয়া এবং পরিশেষে সেই সমস্ত শত্রুর উপর বিজয় লাভ করা একথার এক শক্তিশালী প্রমাণ যে, তিনি (সা:) সত্য ছিলেন এবং খোদা তাঁর সাথে ছিল।’ (চশমায়ে মা’রেফত, রুহানী খাযায়েন, ২৩তম খন্ড-পৃ: ২৬৩-২৬৪)

এর ব্যাখ্যায় হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) তাঁর প্রতি আল্লাহ্ তা’লার সাহায্য ও সমর্থণ কেমন ছিল তা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন যে,

‘এটি বড়ই আশ্চর্যের ব্যাপার যে, আমার জীবনেও এমন পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে যাতে সম্মান ও প্রাণ চরমভাবে হুমকির সম্মুখিন হয়। (১) প্রথম সেই সময় যখন আমার বিরুদ্ধে ডা: মার্টিন ক্লার্ক হত্যা মামলা দায়ের করেছিল। (২) দ্বিতীয় সেই সময় যখন পুলিশ আমার বিরুদ্ধে গুরুদাসপুরের অতিরিক্ত কমিশনার জনাব ডুই সাহেবের আদালতে একটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করেছিল। (৩) তৃতীয় সেই ফৌজদারী মোকদ্দমা যা জেহ্‌লেমের করম দ্বীন নামী এক ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে দায়ের করেছিল। (৪) চতুর্থ সেই ফৌজদারী মামলা যা একই করম দ্বীন আমার বিরুদ্ধে গুরুদাসপুরে দায়ের করেছিল। (৫) পঞ্চম, লেখরামের মৃত্যুর পর আমার গৃহ তল্লাশী করা হয়েছিল এবং শত্রুরা আমাকে হন্তারক সাব্যস্ত করার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করেছিল কিন্তু এদের সকল ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধি ভেস্তে গেছে।’ (চশমায়ে মা’রেফত, রুহানী খাযায়েন, ২৩তম খন্ড-পৃ: ২৬৩)

দেখুন! তিনি বলেন, আমার নেতা ও মনিবের দাসত্বে মসীহ্, নবী বা মাহ্‌দী হবার আমার যে দাবী রয়েছে, বিভিন্নভাবে আল্লাহ্ তা’লা তাঁর সত্যায়ন করছেন এবং সাদৃশ্যের মাধ্যমেও আল্লাহ্ তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। যদিও মনিবের মহিমা অতিব উঁচু। কিন্তু নিষ্ঠাবান দাসের জন্য দাসত্বের কল্যাণে আল্লাহ্ তা’লা যথেষ্ট হবার সাক্ষর রেখেছেন।

এরপর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে যে আল্লাহ্ তা’লা প্রতি পদে পদে সাহায্য ও সমর্থন দিয়েছেন তা তাঁর পবিত্র জীবনের বিভিন্ন ঘটনা থেকে স্ববিস্তারে তুলে ধরেছেন। পূর্বে ডা: মার্টিন ক্লার্ক সম্পর্কিত মোকদ্দমার উল্লেখ করা হয়েছে এটি জামাতের ইতিহাসে খুবই প্রসিদ্ধ কেননা, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা এ মামলায় হিন্দু, খৃষ্টান ও মুসলমান সবাই সম্মিলিতভাবে আঁতাত করেছিল। এ কাহিনী অতি দীর্ঘ, আল্লাহ্ তা’লা তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করেছেন। কিন্তু আল্লাহ্ তা’লা পরিহাসকারীদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করেন বা যারা হাসিবিদ্রুপের মনমানসিকতা রাখে তাদের সাথে কেমন আচরণ করেন তার একটি দৃষ্টান্ত এই মোকদ্দমার আলোকে তুলে ধরছি। তিনি (আ:) বলেন,

‘প্রকৃতপক্ষে সেই খোদা মহা শক্তিশালী প্রবল পরাক্রমের অধিকারী, যাঁর প্রতি ভালবাসা ও বিশ্বস্ততার সাথে অবনত ব্যক্তি কখনও বিনষ্ট হয় না। শত্রু বলে যে, আমি আমার ষড়যন্ত্রের জোরে তাকে ধ্বংস করবো এবং ফন্দিবাজ দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে বলে যে, আমি তাকে পিষ্ট করবো। কিন্তু খোদা বলেন, হে নির্বোধ! তুই কি আমার সাথে যুদ্ধ করবি? আমার প্রিয়কে লাঞ্ছিত করবি? আসলে যতক্ষণ আকাশে কোন সিদ্ধান্ত না হয় পৃথিবীতে কিছুই হতে পারে না। আকাশে কাউকে যতটা শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত হয় পৃথিবীতে তার তুলনায় বেশী শক্তিশালী হতো পারেনা।’

যারা তাঁকে লাঞ্ছিত করতে চেয়েছে কিভাবে আল্লাহ্ তা’লা তাঁর এমন বিরুদ্ধবাদীদের লাঞ্ছিত ও অপমানিত করেছেন এই মোকদ্দমার পরবর্তী বিবরণীতে তা মসীহ মওউদ (আঃ) এর ভাষায় শুনুন:

‘আমি এই মামলা উপলক্ষ্যে ডেপুটি কমিশনার সাহেবের আদালতে যখন তার সামনে উপস্থিত হই দেখি যে, সেখানে পূর্বেই আমার জন্য চেয়ার রাখা হয়েছে। জেলা জজ আমাকে অত্যন্ত নমনীয় ও সদয়ভাবে চেয়ারে বসার জন্য ইঙ্গিত করেন। তখন মোহাম্মদ হোসেন বাটালভী এবং আরো কয়েক’শ মানুষ যারা আমার গ্রেফতারী এবং লাঞ্ছনা দেখার বাসনায় এসেছিল তারা বিস্মিত হয় যে, আজতো এই ব্যক্তির জন্য অসম্মান এবং লাঞ্ছনার দিন হবার কথা। কিন্তু একে যে একান্ত স্নেহ এবং ভালবাসার সাথে চেয়ারে বসানো হয়েছে।’

তিনি বলেন,

‘আমি তখন ভাবছিলাম যে, আমার বিরুদ্ধবাদীদের জন্য এটি কোন সামান্য কষ্ট নয় কেননা, তারা তাদের প্রত্যাশার বিপরীতে আদালতে আমার সম্মান দেখছে। কিন্তু তাদেরকে এরচেয়েও বেশি লাঞ্ছিত করাই ছিল খোদার অভিপ্রায়। সুতরাং ঘটনা যা ঘটে তা হলো, বিরুদ্ধবাদীদের নেতা মৌলভী মোহাম্মদ হোসেন বাটালভী যে আজ পর্যন্ত আমার প্রাণ এবং সম্মানের উপর আক্রমন করে আসছে সে আদালতকে নিশ্চিয়তা দেয়ার মানসে ডা: ক্লার্ক এর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসে যে, এই ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে এমনই, তার পক্ষে ডা: ক্লার্ককে হত্যার জন্য আব্দুল হামীদকে প্রেরণ করা অসম্ভব নয়। সাক্ষ্য দেবার জন্য আদালতে আসার পূর্বে ডা: ক্লার্ক তার পক্ষে জেলা জজের কাছে জোরদার সুপারিশ করে যে, ইনি আহলে হাদীসের একজন নামকরা মৌলভী তাই তাঁকে চেয়ার প্রদান করা প্রয়োজন। কিন্তু ডেপুটি কমিশনার বাহাদুর আবেদন মঞ্জুর করেন নি। সম্ভবত: মোহাম্মদ হোসেন এ ব্যাপারটি জানতো না যে, তার চেয়ারের কথা পূর্বেই উত্থাপিত হয়েছে এবং চেয়ারের আবেদন গৃহীত হয়নি। এজন্য যখন সাক্ষ্য দেয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ভেতরে ডেকে পাঠানো হয়’ কাঠ মোল্লারা যেমন সম্মানের জন্য লালায়িত ও আত্মম্ভরী হয়ে থাকে ‘সে ভেতরে আসামাত্রই অত্যন্ত ঔদ্ধত্যের সাথে ডেপুটি কমিশনার বাহাদুর এর কাছে চেয়ারের আবেদন করে। কমিশনার সাহেব বলেন, তুই আদলতে চেয়ার পেতে পারিস না তাই আমি তোকে চেয়ার দিতে পারি না। পুনরায় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে লালসাবশে চেয়ারের আবেদন করে বলে, আমি চেয়ার পেয়ে থাকি এবং আমার পিতা রহিম বখ্‌শও চেয়ার পেতেন। কমিশনার বাহাদুর বলেন, তুই মিথ্যাবাদী! না তুউ চেয়ার পাস আর না-ই তোর বাপ রহিম বখ্‌শ পেত। আমাদের কাছে তোকে চেয়ার দেয়ার জন্য ��োন নির্দেশ নেই। তখন মোহাম্মদ হোসেন বলে যে, আমার কাছে প্রমাণ আছে যে, লাট বাহাদুর আমাকে চেয়ার দিতেন। এই মিথ্যা কথা শুনে বিচারক মহোদয় অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে বলেন, বকবক করিস না, পিছনে গিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে থাক। তখন মোহাম্মদ হোসেনের প্রতি আমারও করুণা হলো, কেননা তখন তার অবস্থা মৃতবৎ ছিল। যদি শরীর কাটা হতো তাহলে হয়তো একবিন্দু রক্তও পাওয়া যেতো কিনা সন্দেহ হয় আর সে এমনভাবে লাঞ্ছিত হয় যার নজীর সারা জীবনে দেখেছি বলে আমার মনে পড়েনা। এরপর হতভাগা নিরুপায়, নির্বাক ভীত-ত্রস্ত পিছুহটে সোজা দাঁড়িয়ে থাকে। প্রথমে সে টেবিলের দিকে ঝুঁকে ছিল তৎক্ষণাৎ খোদা তা’লার এই ইলহাম আমার মনে পড়ল যে, ‘ইন্নি মুহিনুন মান আরাদা ইহানাতাকা’ অর্থাৎ যে তোমাকে লাঞ্ছিত করতে চাইবে আমি তাকে লাঞ্ছিত করবো। এটি খোদার মুখ নি:সৃত বাণী। সেই ব্যক্তি মহাসৌভাগ্যশালী যে এর প্রতি মনোনিবেশ করে।’

যারা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর লাঞ্ছনা দেখার অলীক স্বপ্ন দেখতো, যারা এই মোকদ্দমার রায়ের পর তাঁর অসম্মান দেখতে চেয়েছে, এবং উপহাসের সুযোগ সন্ধান করেছে তারা স্বয়ং এর লক্ষ্যে পরিণত হয়। এ হচ্ছে আল্লাহ্ তা’লার সাহায্য ও সমর্থন। বারাহীনে আহ্‌মদীয়া গ্রন্থ প্রকাশের পর তা পুনি:মূদ্রণের সাহায্যকল্পে বিভিন্ন জনের কাছে মসীহ্ মওউদ (আ:) বইটি ক্রয়ের অনুরোধ জানান কিন্তু ধৃষ্টতা প্রদর্শনকারী ভূপালের নবাব কিভাবে খোদার শাস্তি পেয়েছেন তা তুলে ধরেন। এরপর মুনশী এলাহী বখ্‌শ তাঁকে মিথ্যাবাদী ও প্রতারক সাব্যস্ত করার দুরভিসন্ধি এঁটে কিভাবে খোদার শাস্তিতে ধৃত হয়েছেন তার বিবরণ দিতে গিয়ে হুযূর বলেন, আপন-পর সবাই হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর চরম বিরোধিতা করেছে কিন্তু পরিশেষে হযরত (আ:)-ই জয়যুক্ত হয়েছেন কেননা তিনি ছিলেন খোদার মহাপুরুষ। তাঁর আপন চাচাতো ভাই মির্যা ইমাম দ্বীন এবং মির্যা নিজাম দ্বীনও তাঁকে হেনস্থা করার পাঁয়তারা করে সর্বশান্ত হয়েছে। এ সম্পর্কে খোদা পূর্বেই তাঁকে আরবী ভাষায় ইলহাম করে জানিয়েছিলেন যে,

‘যাঁতা ঘুরবে এবং খোদার তকদীর বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ পাবে। এটি খোদার ফযল, যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে এবং একে রদ করার ধৃষ্টতা কারো নেই। আমি আমার খোদার কসম খাচ্ছি! এ কথাই সত্য, এতে কোন ব্যত্যয় হবেনা এবং একাজ গোপনও থাকবে না। আরও একটি বিষয় সৃষ্টি হবে যা তোমাকে বিষ্মিত করবে, এটি সেই খোদার ওহী যিনি সুউচ্চ আকাশসমূহের খোদা। নিজ মনোনীত বান্দাদের সাথে যে ব্যবহার করে থাকেন আমার প্রভু সেই সোজাপথকে পরিত্যাগ করবেন না, এবং তিনি তাঁর সেসব বান্দাদের ভুলেন না যারা সাহায্য পাবার যোগ্য, সুতরাং এ মামলায় তুমি প্রকাশ্য সফলতা লাভ করবে। কিন্তু খোদার নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তে বিলম্ব ঘটবে।’

এ মোকদ্দমায় সামান্য বিলম্ব ঘটলেও খোদা তা’লা তাঁকেই সফলতা দিয়েছেন এবং পরাস্ত করেছেন আল্লাহ্‌র রসূল এবং মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর প্রাণের শত্রুদের।

এ প্রসঙ্গে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘পরিতাপ, এরূপ ক্রমাগত ব্যর্থতা সত্বেও আমার বিরুদ্ধবাদী মৌলভীরা আমার সম্পর্কে এতটুকুও বুঝতে পারলনা যে, এই ব্যক্তির সমর্থনে সত্যিকার অর্থে পর্দার অন্তরালে একটি হাত আছে, যা তাঁকে এদের প্রতিটি আক্রমন হতে রক্ষা করেন। যদি তারা হতভাগা না হতো তাহলে বুঝতো, এটি একটি মো’জেযা (অলৌকিক ঘটনা) যে, তাদের প্রতিটি আক্রমনের সময় খোদা আমাকে তাদের অনিষ্ট হতে রক্ষা করলেন কেবল রক্ষাই করেন নি বরং পূর্বেই রক্ষা করবেন বলে অবহিত করেছেন।’ (হাকীকাতুল ওহী-রূহানী খাযায়েন, ২২তম খন্ড-পৃ: ১২৫)

পুনরায় তিনি (আ:) বলেন,

‘এটি অদ্ভুত ব্যাপার, এই রহস্য কেউ অনুধাবন করতে পারে কি যে, এই সব লোকদের দৃষ্টিতে মিথ্যাবাদী, প্রতারক এবং দাজ্জাল আখ্যায়িত হলাম আমি; কিন্তু মোবাহালার সময় মারা পড়ে এরা। নাউযুবিল্লাহ্, খোদাও কি ভুল করে থাকেন? এমন নেক লোকদের উপর কেন ঐশী ক্রোধানল বর্ষিত হয়? মারাও পড়ে আবার অপমান এবং লাঞ্ছনাও দেখে!’ (হাকীকাতুল ওহী-রূহানী খাযায়েন, ২২তম খন্ড-পৃ: ২৩৮)

তিনি (আ:) বলেন,

নিঃসন্দেহে মৌলবীদের পক্ষ হতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যেন মানুষ আমার প্রতি মনোযোগী না হয়। এমনকি তারা মক্কা হতেও ফতওয়া আনিয়েছে। প্রায় দু’শত মৌলবী আমার বিরুদ্ধে কুফরীর ফতওয়া প্রদান করে বরং ওয়াজেবুল কতল (হত্যার) বলেও ফতওয়া ছাপিয়ে দেয় কিন্তু তারা নিজেদের সকল প্রচেষ্টায় ব্যর্থ ও বিফল হয়।........যদি এ কাজ মানুষের হতো তবে তোমাদের বিরুদ্ধাচারণ করার এবং আমাকে বিনাশ করার জন্য এত কষ্ট করার কোনই প্রয়োজন ছিল না বরং আমাকে মারার জন্য খোদাই যথেষ্ট ছিলেন।’ (হাকীকাতুল ওহী-রূহানী খাযায়েন, ২২তম খন্ড-পৃ: ২৬২-২৬৩)

হুযূর বলেন, আমি তাঁর জীবন চরিত থেকে কয়েকটি ঘটনা এখানে উপস্থাপন করলাম, কিন্তু অগণিত ঘটনা রয়েছে যা তাঁর জীবনি এবং জামাতের ইতিহাস থেকে জানা যায়। তাঁর মৃত্যুর পরও যখনই তাঁর জামাতের বিরুদ্ধে কোন ফিৎনা মাথাচাড়া দিয়েছে আল্লাহ্ তা’লা জামাতকে সাহায্য করেছেন। এর কুফল থেকে জামাতকে নিরাপদ রেখেছেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) যে জামাত প্রতিষ্ঠা করেছেন তা বিশ্বের প্রতিটি দেশে অনবরত উন্নতি করছে। বিভিন্ন দেশে বিরোধিতা ও সরকারী বিধিনিষেধ থাকা সত্বেও আল্লাহ্ তা’লার ফযলে তাঁর জামাত বিস্তৃতি লাভ করছে।

এরপর হুযূর বলেন, এখানে আমি আরো একটি কথা স্পষ্ট করতে চাই। গত খুতবায় আমি বাহাউল্লাহ্‌র কথা বলতে গিয়ে বলেছিলাম যে, নবুয়তের এক দাবীদার দন্ডায়মান হয়েছে। সত্যিকার অর্থে বলা উচিত ছিল যে, একজন দাবীকারক দন্ডায়মান হয়েছে। যদি এটি ধরেও নেয়া হয় যে, সে নবুয়তের দাবী করেছে তবুও আল্লাহ্ তা’লার সাহায্য-সমর্র্থন তার সাথে ছিলনা। একথার যতটুকু সম্পর্ক আছে, বাহাইদের ভেতর এবং বাহাই বই-পুস্তক ও লিটারেচারে তার নবুয়তের দাবী দেখা যায়না; এসম্পর্কে স্মরণ রাখা উচিত যে, এ ধারণা ভুল কেননা তার সন্তানদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ এমনও আছে যারা বলে যে, তিনি নবী, কুতুব বা ওলীউল্লাহ্ ছিলেন কিন্তু তিনি খোদা হবার দাবী করেন নি। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে বাহাউল্লাহ্‌র নিজের শরিয়ত যা ছাপা হয়নি বা অপ্রকাশিত তাতে তার খোদা হওয়ার দাবীই দেখা যায়। তার নবুয়তের দাবী ছিলনা কিন্তু আসল কথা হচ্ছিল, তর্কের খাতিরে যদি তার নবুয়তের দাবী মেনেও নেয়া হয় তাহলেও আল্লাহ্ তা’লার সমর্থন সেখানে প্রদর্শিত হয়নি। এ কথাগুলো বলার কারণ হলো, আজকাল কোন কোন স্থানে আহ্‌মদীদের বাহাইদের সাথে তুলনা করা হয় আর বলা হয় যে, এরা উভয়ই মিথ্যা। এক্ষত্রে স্মরণ রাখতে হবে যে, একদিকে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সাথে খোদার সমর্থন রয়েছে অপরদিকে বাহাইদের বেলায় সে সমর্থন দেখা যায়না আর যদি এরা প্রতারণার আশ্রয় না নেয় তাহলে দেখবেন যে, তার আসল বই যা ‘আকদাস’ নামে তার রচিত শরিয়ত গ্রন্থ তাতে সে নিজেকে মা’বুদ বা খোদা হওয়ার দাবীকারক বলে উপস্থাপন করেছে। তাই বিষয় নবুয়তের নয়; কিন্তু তা সত্ত্বেও যারা বলে যে, তিনি নবী ছিলেন, যেমন তার কতক মান্যকারীও বলে থাকে, এ বেলায়ও আমরা তার পক্ষে খোদার কোন সমর্থন দেখিনা।

হুযূর বলেন, আল্লাহ্ তা’লা নবীদের সম্পর্কে বলেছেন, যদি তারা মিথ্যা দাবী করে আমার নামে বলে যে, আমি তাদের প্রেরণ করেছি বা তাদের উপর আমার বাণী নাযিল হয়েছে আমি তাদের ধৃত করি এবং জীবন-শিরা কেটে দেই কিন্তু যারা খোদা হওয়ার দাবীদার তাদের সম্পর্কে বলেন নি যে, আমি তাদের ধৃত করবো এবং এ পৃথিবীতে ধ্বংস করবো বরং বলেন যে,

وَمَنْ يَّقُلْ مِنْهُمْ اِنِّىْۤ اِلٰـهٌ مِّنْ دُوْنِهٖ فَذٰلِكَ نَجْزِيْهِ جَهَـنَّمَ��ؕ كَذٰلِكَ نَجْزِىْ الظّٰلِمِيْنَ

অর্থ: ‘এবং তাদের মধ্য হতে যে কেউ একথা বলবে, নিশ্চয় ‘তিনি ব্যতীত আমি মা’বুদ,’ তাহলে আমরা এরূপ ব্যক্তিকে প্রতিফলে জাহান্নাম দান করবো। বস্তুত: যালিমদেরকে আমরা এরূপ প্রতিফলই দিয়ে থাকি।’ (সূরা আল্ আম্বিয়া: ৩০)

খোদা হবার দাবীকারকদের জন্য আল্লাহ্ তা’লা মৃত্যুর পর শাস্তি রেখেছেন। অতএব আল্লাহ্ তা’লা যেখানে সত্য নবীদের সমর্থন ও সাহায্য জুগিয়ে থাকেন, তাদের জন্য নিদর্শন প্রকাশ করে থাকেন পক্ষান্তরে মিথ্যা নবুয়তের দাবীকারকদের ধৃত করেন, মিথ্যা দাবীকারকদেরকে এ পৃথিবীতে লাঞ্ছিত করেন। খোদা হবার দাবীকারকদের জন্য মৃত্যুর পর জাহান্নামে অগ্নি নির্ধারিত করে রেখেছেন। খোদা আমাদের সত্যিকার একত্ববাদী এবং তাঁর প্রেরিত রসূলের কামেল আনুগত্যের তৌফীক দান করুন; খোদা তা’লা যেন আমাদেরকে স্বীয় রহমত ও ফযলের চাদরে সদা আবৃত রাখেন এবং আমাদেরকে ক্রমাগত ভাবে নিজ নৈকট্য দান করুন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে