In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহ্ তা’লার গুণবাচক নাম কাফী (আল্লাহ্ই যথেষ্ট) - দ্বিতীয় অংশ

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

২৩শে জানুয়ারী, ২০০৯ইং

‘পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন আয়াতের আলোকে আল্লাহ্ তা’লার গুণবাচক নাম কাফী (আল্লাহ্ই যথেষ্ট) সম্পর্কে বিশদ আলোচনা’

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَبَ عَلَى اللَّهِ وَكَذَّبَ بِالصِّدْقِ إِذْ جَاءَهُ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْكَافِرِينَ

وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ

لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ عِنْدَ رَبِّهِمْ ذَلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ

لِيُكَفِّرَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَسْوَأَ الَّذِي عَمِلُوا وَيَجْزِيَهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ

أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ وَيُخَوِّفُونَكَ بِالَّذِينَ مِنْ دُونِهِ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ

وَمَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ مُضِلٍّ أَلَيْسَ اللَّهُ بِعَزِيزٍ ذِي انْتِقَامٍ

অর্থ: ‘অতএব ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা বড় যালেম আর কে যে আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে এবং যখন সত্য তার কাছে প্রকাশিত হয়, তাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে? জাহান্নামে কি কাফিরদের জন্য আবাসস্থল নেই।’

‘এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে সত্য নিয়ে আসে এবং যে তাঁর সত্যায়ন করে-তাঁরাই মুত্তাকী।’

‘তারা যা কিছু কামনা করবে সবকিছু প্রতিপালকের সন্নিধানে তাঁদের জন্য মওজুদ থাকবে; সৎকর্মশীলদের পুরস্কার এটিই।’

‘যেন আল্লাহ্ তাদের কৃত-কর্মের অনিষ্টকে দূরীভূত করে দেন এবং তাদের কৃত-কর্মের মধ্যে সর্বোত্তম কর্ম অনুযায়ী তাদেরকে তাদের পুরস্কার প্রদান করেন।’

‘আল্লাহ্ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? তথাপি তারা তোমাকে তাঁর পরিবর্তে লোকদের ভয় দেখায়। এবং যাকে আল্লাহ্ বিপথগামী সাব্যস্ত করেন- তার জন্য অন্য কেউ পথ-প্রদর্শক নেই।’

‘এবং আল্লাহ্ যাকে পথ-প্রদর্শন করেন- অন্য কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আল্লাহ্ কি প্রবল প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন?’

(সূরা আল্ যুমার: ৩৩-৩৮)

এরপর হুযূর বলেন, উপরোক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ্ তা’লা আলোচনার সুত্রপাত এভাবে করেছেন যে, দু’ধরনের মানুষ যালেম; যারা নিজ প্রাণের উপর যুলুম করে আর যারা স্বয়ং নিজেদের ধ্বংসের জন্য দায়ী। এক হচ্ছে তারা যারা খোদার নামে মিথ্যা বলে এবং খোদার পক্ষ থেকে প্রেরিত হবার মিথ্যা দাবী করে। অপর শ্রেণী তারা যারা খোদার পক্ষ থেকে আবির্ভূত মহাপুরুষকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে। অর্থাৎ এরা খোদা তা’লা যখন কাউকে মনোনীত করে আপন বার্তা সহকারে এ ধরায় প্রেরণ করেন তখন তাঁকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে, এবং বলে, তুমি মিথ্যাবাদী; খোদার পক্ষ থেকে আবির্ভূত হওনি। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের অন্যত্র আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন,

وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰى عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا اَوْ كَذَّبَ بِالْحَـقِّ لَـمَّا جَآءَهٗ‌ؕ

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা দাবী করে, অথবা যখন তার কাছে সত্য আসে একে মিথ্যা বলে যে প্রত্যাখান করে, সে ব্যক্তি অপেক্ষা অধিকতর যালেম আর কে হতে পারে?’ (সূরা আল্ আন্‌কাবূত: ৬৯)

এ প্রসঙ্গে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘ইফতিরা’ বা জালিয়াতিরও একটি সীমা আছে আর মিথ্যাবাদী সর্বদা লাঞ্ছিত, অপদস্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় قَدْ خَابَ مَنِ افْتَرَى (সূরা আত ত্বাহা:৬২)। এবং মহানবী (সা:)-কে আল্লাহ্ বলেছেন, যদি তুমি মিথ্যা রচনা করে আমার প্রতি আরোপ করতে তাহলে আমরা তোমার জীবন শিরা কেটে দিতাম। একইভাবে আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন, وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا অতএব এই কথার উপর ঈমান রেখে এক ব্যক্তি কি করে খোদার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার মত দু:সাহস বা ধৃষ্টতা দেখাতে পারে।’

এরপর তিনি (আ:) বলেন,

‘পার্থিব জগতে যদি কোন ব্যক্তি ভূয়া সরকারী পিওন সেজে বসে, সরকার তাকে শাস্তি দেয় এবং জেলে পাঠায়। তাহলে খোদা তা’লা যিনি মহাপরাক্রমের অধিকারী ও রাজাধিরাজ তাঁর রাজত্বে কেউ খোদা কর্তৃক প্রত্যাদিষ্ট হবার মিথ্যা দাবী করে পার পেয়ে যাবে উপরন্তু তাকে সাহায্য ও সমর্থন দেয়া হবে এটি কি করে সম্ভব? যদি এমনটি হয় তাহলে বিশ্বে নাস্তিকতা প্রসার লাভ করবে। সকল ঐশী গ্রন্থেই লেখা আছে যে, মিথ্যাবাদীকে ধ্বংস করা হয়।’

সুতরাং হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে থাকে, এ ধ্রুব সত্যের মাধ্যমে তাদের অপবাদও খন্ডিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন, তার থেকে বড় যালেম আর কে হতে পারে যে, স্বরচিত কথাকে খোদার কথা হিসেবে প্রচার করে।

সুতরাং এখানে দু’শ্রেণীর মানুষের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে খোদা বলেন যে, এরা নিজ প্রাণের উপর যুলুম করে। যাকে খোদা তা’লা নবী মনোনীত করেন নি অথচ সে যদি নবী হবার দাবী করে বসে, খোদা তা’লা অবশ্যই তাকে শাস্তি দিবেন। মনে রাখা আবশ্যক যে, নবুয়ত খোদার পক্ষ থেকে সমুজ্জল নিদর্শনাবলী নিয়ে আসে। প্রত্যহ প্রেরিত পুরুষের সমর্থনে নিত্য-নতুন নিদর্শন প্রকাশ পায়। মহানবী (সা:)-এর পূর্বের নবীদের উপর অপবাদ আরোপ করা হয়েছে। একই রীতির ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে, মহানবী (সা:) এবং তাঁর নিষ্ঠাবান দাস হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)- এর উপর আক্রমন করা হয়েছে। সূরা যুমারের যে আয়াতগুলো আমি পাঠ করেছি তার পূর্বে আল্লাহ্ এই সম্পূর্ণ ও উৎকর্ষ শিক্ষা অবতরণ করে বলেছেন, এর প্রতিটি অক্ষর নিদর্শন। খোদার শাস্তির বিধান যখন কার্যকর হয় তখন বিরোধী��াও নবীকে মানতে বাধ্য হয়। খোদা তা’লা বলেন, তোমরা যদি আমার নবীকে মানতে অস্বীকার করো তাহলে ইহ ও পরকালে ধৃত হবে। তাই হঠকারিতা পরিহার করো; সততার দাবী হলো, সত্য নবীকে মান্য করা। প্রত্যাদিষ্ট নবীর সত্যতার প্রমাণ হলো, খোদা তা’লা তাঁকে সফলতার পর সফলতা দান করেন। এ প্রসঙ্গে খোদা তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰى عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا اَوْ كَذَّبَ بِاٰيٰتِهٖؕ اِنَّهٗ لَا يُفْلِحُ الْمُجْرِمُوْنَ‏

অর্থ: ‘এবং সেই ব্যক্তির তুলনায় বড় যালেম কে যে খোদার নামে মিথ্যা বলে অথবা তাঁর নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে? প্রকৃত বিষয় হচ্ছে, অপরাধীরা কখনও সফলকাম হয় না।’ (সূরা ইউনুছ: ১৮)

অর্থাৎ সেও সফলকাম হবে না যে মিথ্যা দাবী করবে আর তারাও সফলতা লাভ করতে পারবে না যারা সত্যকে মিথ্যা বলে পরিহার করবে। মোটকথা এ দু’ধরনের মানুষ কোনক্রমেই খোদার শাস্তি থেকে নিস্তার পাবে না। এটি খোদার চিরন্তন বিধান এবং সকল বিবেকবানের জন্য বুঝা সম্ভব। এর ভিত্তিতেই ফিরাউনের বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি বলেছিল,

وَإِنْ يَكُ كَاذِبًا فَعَلَيْهِ كَذِبُهُ وَإِنْ يَكُ صَادِقًا يُصِبْكُمْ بَعْضُ الَّذِي يَعِدُكُمْ

অর্থ: ‘এবং যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তার মিথ্যার প্রতিফল তারই উপর বর্তিবে আর যদি সে সত্যবাদী হয় তাহলে সে তোমাদেরকে যেসব শাস্তি সম্বন্ধে সতর্ক করছে তার কিয়দংশ অবশ্যই তোমারা ভোগ করবে।’ (সূরা আল্ মোমেন: ২৯)

সুতরাং এটি তাদের জন্য প্রণিধানযাগ্য বিষয় যারা মহানবী (সা:)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী খোদা প্রেরিত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে মানেনি বরং মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

হুযুর বলেন, মুসলমানদের কাছে সংরক্ষিত এমন এক কামেল, উৎকর্ষ ও পরিপূর্ণ গ্রন্থ রয়েছে স্বয়ং খোদা তা’লা যার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন, বিরোধীরা বিগত চৌদ্দ’শ বছর যাবতকাল ধরে হাজার ষড়যন্ত্রমূলক চেষ্টা করেও এতে কোন ভুল বের করতে পারে নি। কেননা আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআন রক্ষণা-বেক্ষণের পাশাপাশি এ ঘোষণাও করেছেন,

لَا يُفْلِحُ الْمُجْرِمُونَ অর্থাৎ তারা যত চেষ্টাই করুক না কেন সফল হতে পারবে না।’

প্রশ্ন হচ্ছে সফলতার মানদন্ড কি? অর্থাৎ সত্য প্রত্যাখ্যানকারী বা মিথ্যা দাবীকারক কোনভাবেই নিজের শিক্ষা বা মিশনে সফলতা লাভ করতে পারবে না যেভাবে খোদার পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন সত্য নবী হয়ে থাকেন। সে তার সাথে একটি দল ভেড়াতে পারলেও বা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হলেও চুড়ান্ত সফলতা লাভ করতে পারবে না। খোদার নবীগণ এ ধরায় মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আবির্ভূত হন, সত্য প্রতিষ্ঠা করা, অতীতের হারিয়ে যাওয়া শিক্ষামালা পুনর্বহাল এবং মানুষের ভেতর থেকে বিকৃতি দূর করে তাদেরকে সরল-সুদৃঢ় পথে পরিচালিত করা নবীদের অন্যতম কাজ। যদি মানুষ খোদার নৈকট্য লাভ না করে এবং মানুষের মধ্যে যদি বৈপ্লবিক পরিবর্তন না ঘটাতে পারে তাহলে এমন ব্যক্তি সত্য নবী হতে পারে না।

হুযূর বলেন, আজ মানুষের কি হয়েছে, কেন তারা সময়ক্ষেপণ করছে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) কোন বি’দাতমূলক শিক্ষার প্রসার করেছেন কি? না বরং তিনি শতভাগ কুরআনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করার প্রাণান্ত চেষ্টা করেছেন। তিনি নামায কম করেছেন কি? মহানবী (সা:)-এর শিক্ষা পরিপন্থী কোন দাবী করেছেন কি? তাঁর শিক্ষা বহির্ভূত কোন নতুন শিক্ষা প্রবর্তণ করেছেন কি? না, তিনি ইসলামী শিক্ষায় কোন কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করেন নি বরং তিনি (আ:) সকল সুমহান শিক্ষাকে আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন। তিনি মহানবী (সা:)-এর ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতাকল্পেই এসেছেন। তাঁর জামাতের অবস্থা কি? এ জামাত বৃদ্ধি পাচ্ছে কি? নাকি একবার বেড়ে সেখানেই স্থির হয়ে আছে বা সংকুচিত হচ্ছে? না তাঁর জামাত প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বংশের পর বংশ বরং দলে দলে মানুষ জামাতভূক্ত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এটিই খোদার পক্ষ থেকে প্রেরিত নবীর সত্যতার নিদর্শন বা চিহ্ন। অপরপক্ষে যারা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জামাতের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করে তাদের মধ্যে কোন একতা বা শৃঙ্খলা নেই বরং তারা বহুধা বিভক্ত আর বি’দাত ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত, নাসেখ-মনসূখের অযথা বিতর্কে লিপ্ত। পাকিস্তান এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায় যে, মানুষ পীরের আস্তানায় বা তাদের কবরে গিয়ে সফলতার বা মুক্তির জন্য প্রার্থনা করছে, বিপদাপদ থেকে বাঁচার জন্য মৃত পীরের কাছে আশ্রয় কামনা করছে। এছাড়া বাহাউল্লাহ্ নামী এক ব্যক্তি নবী ও খোদা হবার দাবী করেছে। যদিও তার দাবীর সত্যতা কোনভাবেই প্রমাণিত নয়। তার দাবীর স্বপক্ষে কোন দলীল-প্রমাণ বা ঐশী সাহায্য ও সমর্থন ছিল বলেও দেখা যায় না। কোন উজ্জল নিদর্শন সে দেখাতে পারে নি। উপরন্তু সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সে সর্বশেষ কামেল শরিয়ত পবিত্র কুরআনকে রহিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সেসময় কিছু সাঙ্গপাঙ্গ তার সাথে জড়ো হলেও আজ পৃথিবীতে তাদের কথা খুব একটা শোনা যায় না। অপরদিকে হাসি-ঠাট্টা এবং হাজার অপচেষ্টা সত্বেও চৌদ্দ’শ বছরের ব্যবধানে শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে আজও পবিত্র কুরআন অপরিবর্তিতরূপে সংরক্ষিত আর সমানভাবে জনপ্রিয়। আজ আহমদীয়া জামাতের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ঐশী গ্রন্থের প্রাণ জুড়ানো সুশীতল ছায়ার আশ্রয়ে আসছে। পবিত্র কুরআন বলে, খোদার সাহায্য, সমর্থন এবং নিদর্শন লাভই হচ্ছে আসল সফলতা। কেবল বড় দল বা সংখাধিক্য কোনভাবেই সফলতার মানদন্ড হতে পারে না। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর দাবীও এই মাপকাঠিতে সত্যায়িত। আজ যারা আহমদী জামাতকে বাহাইদের সাথে তুলনা করে তাদের বিবেক খাটানো প্রয়োজন। সত্য নিয়ে যারা আসেন তারা খোদার কাছ থেকে সমুজ্জল নিদর্শনপ্রাপ্ত হন। খোদার পক্ষ থেকে আগত ব্যক্তির কথা সত্য হয়ে থাকে। তাঁর কথায় সত্যের সৌরভ অনুভব করা যায় যা বুদ্ধিমান মানুষের জন্য নিদর্শন স্বরূপ। খোদার প্রেরিত পুরুষ সর্বদা তাঁর সমর্থনসহ ধরায় আবির্ভূত হন।

এরপর আল্লাহ্ তা’লা বলেন, যারা খোদার নবী এবং যারা তাঁদের মান্যকারী তারা মুত্তাকী বা খোদাভীরু হন। তাদের মাঝে স্বল্পেতুষ্টি এবং পুণ্যের প্রতি প্রবল আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। তারা যা চাইবে তাই লাভ করবে। এটি সুস্পষ্ট যে, যারা খোদার নেকবান্দা তারা খোদার সন্তুষ্টিই কামনা করে আর এটিই তাদের জীবনের চরম চাওয়া-পাওয়া। এবং এদের সম্পর্কেই আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন,

نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ

অর্থ: ‘আমরা পার্থিব জীবনেও তোমাদের বন্ধু এবং পরকালেও।’ (সূরা হামীম আস্ সাজদা: ৩২)

অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’লা সৎকর্মশীলদেরকে ইহ ও পরকালে তাঁর অপার নিয়ামতে ভূষিত করেন।

তারপর আল্লাহ্ তা’লা আরো সুস্পষ্ট করে বলেন, খোদার দৃষ্টিতে যা অপছন্দনীয়, মানবিয় দুর্বলতাবশত: যদি তোমাদের অজ্ঞাতে সে কর্ম সংঘটিত হয়েও যায় খোদা তা’লা নিজ করুণায় তোমাদেরকে তার কুফল থেকে রক্ষা করবেন। হাদীসে মহানবী (সা:) বলেছেন,

‘পাপের প্রতিফল তাই যতটুকু সে পাপ করেছে কিন্তু পুণ্যের প্রতিদান খোদা তা’লা দশগুণ বর্ধিত করে দেন এবং পাপের সকল কুফল থেকে মানুষকে মুক্ত রাখেন।’

ইহকাল জান্নাতে পরিণত হয় আর পরকালের অনন্ত জান্নাততো আছেই। আত্মিক প্রশান্তি লাভ এবং উন্নতিই খোদা কর্তৃক মনোনীত হওয়ার প্রমাণ। এযুগে অগণিত আহমদী এ বিষয়ের অভিজ্ঞতা রাখেন, নবাগতরা এর জলন্ত সাক্ষ্য বহন করেন। প্রতিদিন আমি এমন বিষয় সম্বলিত বহু চিঠি পাই যা থেকে এটি প্রতিভাত হয় যে, আহমদীরা আল্লাহ্‌র অপার কৃপায় সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।

হুযূর বলেন, খোদার প্রেরিতদের উপর অপবাদ আরোপ করতে গিয়ে যারা নিজ প্রাণ��র উপর যুলুম করে তারা জাহান্নামী। অপরদিকে যারা শত বাধা-বিপত্তি অগ্রাহ্য করে সত্যের রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে তারা খোদার অনন্ত নিয়ামত বা পুরস্কার লাভ করেন। আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে যালেম বা উৎপীড়কদের সম্বোধন করে বলেন, তোমরা যতই চেষ্টা, দুরভিসন্ধি বা কুমতলব আঁটো না কেন বিশ্বাসীদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না, সাময়িক কোন কষ্ট হলে হতে পারে কিন্তু চুড়ান্ত সফলতা তাদের জন্যই নির্ধারিত। খোদা আপন প্রতিশ্রুতির পরিপূর্ণতাস্বরূপ প্রতি পদে-পদে মহানবী (সা:) ও তাঁর সাহাবীদের সাহায্য করেছেন। বিভিন্ন যুদ্ধে মুসলমানরা শাহাদত বরণ করলেও তাদের সংখ্যা কাফিরদের তুলনায় ছিল অতি নগণ্য এবং ক্ষতির পরিমানও ছিল যৎসামান্য। কোন ক্ষেত্রেই শত্রুদের কামনা বা দুরভিসন্ধি সফল হয়নি। আজও আমরা খোদার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হতে দেখছি। শত্রুরা ইসলামের উপর হেন আক্রমন নেই যা করছে না কিন্তু ইসলামের কোন ক্ষতি তারা করতে পারছে না। আজও ব্যাপক সংখ্যক মুসলমান মহানবী (সা:) কর্তৃক আনিত শরিয়তকে মানে আর সে মোতাবেক জীবন-যাপন করে। এটি প্রমাণ করে যে, মহানবী (সা:) কর্তৃক প্রবর্তিত শরীয়ত বা শিক্ষামালা সঠিক ও সত্য আর কিয়ামত পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

হুযূর বলেন, বর্তমান যুগে আল্লাহ্ তা’লা মহানবী (সা:)-এর নিষ্ঠাবান দাস ও সত্যিকার প্রেমিক হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে প্রেরণ করেছেন, তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত শত্রুদের প্রতিটি আক্রমনের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন। হায়! মুসলমানরা যদি এর বাস্তবতা বুঝতো তাহলে কতইনা ভালো হতো। এরপর আল্লাহ্ বলেন, أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَه অর্থাৎ, আল্লাহ্ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? ‘আবদ’ অর্থ কি? খোদার সৃষ্টি হিসেবে সবাই তাঁর বান্দা। কিন্তু সত্যিকার বান্দা সে-ই যিনি খোদা তা’লার সকল নির্দেশ শিরোধার্য করে নেন, আল্লাহ্‌র আহবানে نَحْنُ أَنْصَارُ اللَّهِ (আমরা আল্লাহ্‌র সাহায্যকারী) বলে সাড়া দেয় আর প্রকৃত নিষ্ঠার সাথে তাঁর ইবাদত করেন এবং খোদার জন্য সত্যিকার আত্মাভিমান রাখেন। আর এর সমুজ্জল ও সবচেয়ে মহান দৃষ্টান্ত হলেন স্বয়ং আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা:)। তাঁর চেয়ে বড় আর কেউ হতে পারে না। খোদা তা’লাই যে তাঁর জন্য যথেষ্ট ছিলেন তা বিভিন্ন সময় ও ঘটনায় সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে যা দেখে মানুষ বিষ্মিত হয় যে, এটি কি করে সম্ভব। হিজরতের সময় মহানবী (সা:) যে গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন শত্রুরা তাঁর মুখে পৌঁছে গিয়েছিল কিন্তু তারপরও তাঁকে স্পর্শও পারে নি। বিভিন্ন যুদ্ধে খোদা তা’লা তাঁর জন্য যথেষ্ট হবার সাক্ষর রেখেছেন। এমনকি একদা ঘুমন্ত অবস্থায় তরবারী হাতে শত্রু ভেবেছিল তাকে হত্যা করবে কিন্তু সেখানেও প্রবল পরাক্রমের অধিকারী খোদাই তাঁর জন্য যথেষ্ট হবার প্রমাণ দিয়েছেন। এমনকি তাঁর পুণ্যবান সাহাবীদের জীবনেও এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা দেখতে পাওয়া। কিন্তু দুর্ভাগা কাফিরদের পরিনতি হয়েছে অত্যন্ত মন্দ; ইহ জগতেও তারা লাঞ্ছিত হয়েছে আর পরকালের শাস্তিতো আছেই।

এরপর হুযূর বলেন, যে আয়াতগুলো খুতবার শুরুতে পাঠ করেছি এর শেষটিতে আল্লাহ্ তা’লা বলেন, হেদায়াত বা সঠিক পথপ্রদর্শন করা খোদার কাজ। তিন কাউকে হেদায়াত দিলে তাকে কেউই পথভ্রষ্ট করতে পারে না। অতএব হেদায়াত লাভের জন্যও সর্বদা খোদা তা’লার প্রতি সমর্পিত থাকা আবশ্যক। ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং ঈমানে উন্নতি করার জন্যও তাঁর সামনে অবনত থাকা প্রয়োজন। যিনি হেদায়াত পান তিনি খোদার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে দেখান। আর তিনি ভাল ভাবে জানেন যে, এতেই তাঁর মুক্তি বা কল্যাণ নিহীত। তিনি এটিও জানেন যে, খোদার মান্যকারীরাই সত্যিকারভাবে সফলতা লাভ করবেন আর আল্লাহ্ই বিজয়ী হন। আল্লাহ্ এবং তাঁর নবীর জামাতকে যারা ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে তারা আল্লাহ্‌র শাস্তি থেকে নিস্তার পায় না। আল্লাহ্ তা’লার প্রিয়ভাজনদের সাথে যারা শত্রুতা করে আল্লাহ্ তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। ইহ ও পরকালে খোদার প্রতিশোধ শাস্তি আকারে তাদের উপর বর্ষিত হয়। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর নবীর পক্ষে এমন এমন উজ্জল নিদর্শন দেখান যা অনেক সময় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

হুযূর বলেন, আল্লাহ্ তা’লা তাঁর প্রেরিতদের সত্যতাই কেবল প্রতিষ্ঠিত করেন না বরং শত্রুদের সকল হীন আক্রমন ও ষড়যন্ত্র থেকে তাদেরকে রক্ষা করেন এবং তাদের সত্যতার পক্ষে সমুজ্জল নিদর্শনাবলী প্রকাশ করেন। আর বিরুদ্ধবাদীদের এমন শাস্তিদেন যা গোটা বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয় নিদর্শনে পরিণত হয়; উপরন্তু পরকালের কঠোর শাস্তিতো আছেই। আল্লাহ্ তা’লা এবং তাঁর প্রিয়ভাজনদের মান্যকারী এবং তাদের নির্দেশের উপর আমলকারীরা فَادْخُلِي فِي عِبَادِي (সূরা আল্ ফজর: ৩০) অর্থ: সুতরাং তুমি আমার বান্দাদের মধ্যে প্রবেশ করো, এর জামাতর্ভূক্ত হন, ত্বাকওয়ার পথে পরিচালিত হয়ে সৎকর্ম সম্পাদনের কারণে তারা খোদার সন্তুষ্টি লাভ করেন। আর এক্ষেত্রে চরমোৎকর্ষে পৌঁছেছেন আমাদের প্রিয় নবী মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা:)। তাঁর কারণে আল্লাহ্ তা’লা তাঁর অনুসারীদের জন্য যথেষ্ট হয়েছেন আর তাদের জন্যও আপন নিদর্শন প্রকাশ করেছেন।

মহানবী (সা:)-এর দাসদের মধ্যে সবচেয়ে নিষ্ঠাবান ও কামেল দাস হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর প্রতি আল্লাহ্ তা’লা উপরোক্ত আয়াতের অংশ أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَه (অর্থাৎ, আল্লাহ্ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?) কয়েকবার নাযিল করেছেন। প্রথমবার যখন পিতার মৃত্যু সংবাদ তাকে জানানো হয় তখন মানবিক কারণে তিনি কিছুটা চিন্তাগ্রস্ত হলে আল্লাহ্ বলেন, أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَه অর্থাৎ, আল্লাহ্ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? আল্লাহ্ বলেন, তুমি জানো যে, আমি তোমায় ভালবাসি; তোমার সাথে স্নেহসূলভ ব্যবহার করি তারপরও তুমি কেন চিন্তিত হচ্ছ? أأَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَه ইলহামেও হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর প্রতি খোদার ভালবাসারই বহি:প্রকাশ ঘটেছে। অর্থাৎ পিতার মৃত্যুতে তুমি কেন চিন্তিত হচ্ছ! আমি তোমার সাথে আছি। এরপর আল্লাহ্ তা’লা তাঁকে সকল প্রকার জাগিতক দু:চিন্তা ও দুর্ভাবনা থেকে মুক্ত করেছেন এবং তাঁর কল্যাণে এক বিশাল জনগোষ্ঠী তাঁর অতিথিশালায় খেয়েছে এবং খাচ্ছে। এরপরও অনেকবার এই ইলহাম হয়েছে। এই ইলহামে কেবল পার্থিব অভাব মোচনের প্রতিশ্রুতিই দেয়া হয়ানি বরং শত্রুদের সকল প্রকার ঘৃণ্য আক্রমন ও হীন ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষার শুভসংবাদও রয়েছে। অনেকবার তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ নিতে গিয়ে আল্লাহ্ তা’লা তাঁর শত্রুদের শাস্তিও দিয়েছেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জীবন চরিতে এধরনের বহু ঘটনা দেখা যায়। যেভাবে আল্লাহ্ তা’লা তাঁর মনিব মহানবী (সা:)-এর জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়ে তাঁকে শত্রুদের জিঘাংসা থেকে রক্ষা করেছিলেন সেভাবে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে শত্রুরা মামলা-মকদ্দমায় জড়িয়ে কষ্ট দেয়ার যেসব ফন্দি-ফিকির এঁটেছে তাথেকেও আল্লাহ্ তা’লা তাঁকে রক্ষা করেছেন। বিরুদ্ধবাদীরা প্রশাসনের কাছে নালিশ করলে পুলিশ তাঁর ঘর পর্যন্ত তল্লাশী করেছে কিন্তু সর্বদাই আল্লাহ্ তা’লা তাঁর সম্মান রক্ষা করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’লা মহানবী (সা:)-কে সম্বোধন করে বলেছেন, তুমি তোমার কাজ চালিয়ে যাও আর কাফিরদেরকে তাদের সবধরনের অপচেষ্টা এবং হঠকারিতায় ছেড়ে দাও,

إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ

অর্থ: ‘নিশ্চয় উপহাসকারীদের বিরুদ্ধে আমরাই তোমার জন্য যথেষ্ট।’ (সূরা আল্ হিজর: ৯৬)

আমরা দেখেছি ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে আল্লাহ্ প্রতিশোধ নিয়েছেন এবং তাদের মোকাবিলায় মহানবী (সা:) এবং তা����� অনুসারীদের জন্য যথেষ্ট হয়েছেন। আল্লাহ্ তা’লা মহনাবী (সা:)-কে বলেছেন, তুমি ঘোষণা করে দাও,

فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّه

অর্থাৎ, তোমরা আমার আনুগত্য করো তাহলে আল্লাহ্ তা’লা তোমাদেরকে ভালবাসবেন। (সূরা আল্ ইমরান: ৩২)

এ যুগে তাঁর আনুগত্য এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উন্নত মান প্রতিষ্ঠা করেছেন হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)। তাই আল্লাহ্ তা’লা এ যুগে গোটা মানবজাতীকে এক পতাকাতলে সমবেত করার দায়িত্ব বা সম্মান তাঁকে দিয়েছেন। মহানবী (সা:)-এর আনুগত্যের ফলেই তিনি এসব কিছু লাভ করেছেন আর আল্লাহ্ তালাও তাঁকে ভালবেসেছেন। একারণেই আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনের কোন কোন আয়াত এবং আয়াতাংশ তার প্রতি ইলহাম করেছেন এবং إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ (সূরা আল্ হিজর: ৯৬) আয়াতটিও তাঁর প্রতি অবতীর্ণ একটি ইলহাম। প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ্ তা’লা আপন প্রতিশ্রুতি মোতাবেক হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সম্মান রক্ষা করেছেন। যে আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মোকদ্দমা চলছিল সেই আদালতের বিচারক তাঁকে সসম্মানে চেয়ারে বসার অনুরোধ করেন আর মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে আসা মৌলভী মোহাম্মদ হোসেন বাটালভী চেয়ার চেয়ে বিচারকের ধমক খেয়ে সবার সম্মুখে লাঞ্ছিত ও অপদস্ত হয়েছে। আজও যেসব বিরুদ্ধবাদী হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে অস্বীকার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তারা সফল হবে না। তিনি যে মহানবী (সা:)-এর নিষ্ঠাবান দাস এবং খোদার পক্ষ থেকে প্রেরিত মহা পুরুষ তার প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়ত অবলোকন করছি। খোদার সম্মান প্রদান, হিফাযত ও যথেষ্ট হওয়ার এসব দৃষ্টান্ত নি:সন্দেহে আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করে।

হুযূর বলেন, সুতরাং আমি আহমদীদেরকে বলছি যখন এধরনের ঘটনা প্রকাশিত হতে দেখবেন তখন ভাসাভাসা দৃষ্টি না দিয়ে এর প্রতি গভীরভাবে অভিনিবেশ করুন যাতে ঈমান দৃঢ় ও মজবুত হয়। এবং সেসব লোকদের অন্তর্ভূক্ত হোন যাদের জন্য খোদা তা’লা যথেষ্ট। যখন আমরা ত্বাকওয়ার পানে পদচারণা করে মহানবী (সা:)-এর আনুগত্য করবো আর তাঁর সত্যিকার নিষ্ঠাবান দাস হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সাথে যে সম্পর্ক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি তাঁকে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর করবো কেবল তখনই এটি সম্ভব হবে। আজ কেবল আমরাই আল্লাহ্ তা’লার প্রতিশ্রুতি স্বমহিমায় পূর্ণ হতে দেখছি। আজ আমরাই এমন মানুষ যাদের সাথে মহানবী (সা:)-এর সত্যিকার ভালবাসার সম্পর্ক রয়েছে। বিরুদ্ধবাদীরা আমাদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করছে তারা আমাদের দুর্নাম বা আমাদেরকে ব্যর্থ করার যত কূটকৌশলই অবলম্বন করুক না কেন আল্লাহ্ তা’লা আমাদের জন্য যথেষ্ট। তিনি যেভাবে পূর্বে যথেষ্ট ছিলেন আজও যথেষ্ট এবং ভবিষ্যতেও যথেষ্ট হবেন। এসব নোংরা উলামা এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী বরং পাকিস্তানের সেসব নামধারী শিক্ষিত মানুষ যারা বিচারকের আসন আঁকড়ে বসে আছে তারা কিভাবে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর মান্যকারীদেরকে যুলুম ও নির্যাতনের লক্ষ্যে পরিণত করছে, সাম্প্রতিক একটি ঘটনা এর জাজ্বল্যমান প্রমাণ। সম্প্রতি মোল্লাদের পক্ষ থেকে আহমদীদের বিরুদ্ধে নানকানা’তে মিথ্যা, বানোয়াট এবং একেবারেই ভিত্তিহীন একটি মামলা দায়ের করা হয় যে, আহমদীরা নাকি মোল্লাদের লাগানো কোন পোষ্টার দেয়াল থেকে ছিঁড়ে ফেলেছে। এটি কি করে সম্ভব? আহমদীরা এমনটি করতেই পারে না কেননা, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) আমাদেরকে ধৈর্যের শিক্ষা দিয়েছেন। আমরা তাদের অকথ্য নির্যাতন এবং অবর্ণনীয় যুলুম সহ্য করেছি কিন্তু কোনদিন প্রতিশোধ নেইনি আর নেয়ার চিন্তাও করিনি। যদি আমাদের পক্ষে কেউ প্রতিশোধ নিয়ে থাকেন তাহলে আল্লাহ্ই বিভিন্ন সময় প্রতিশোধ নিয়েছেন। যাই হোক, নিম্ন আদলতে জামিনের আবেদন নাকচ হয়ে গেলে আহমদীরা ন্যায়বিচারের আশায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং পুনরায় জামিনের আবেদন করেন কিন্তু হাইকোর্টের বিচারপতি রানা জাহেদ মাহমুদ নিজ খোদাদের সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় রায় প্রদান করতে গিয়ে বলে যে,

‘এদের জামিন দেয়া যায়না কেননা এরা আমাদের সম্মানিত ও পবিত্র লোকদের অপমান করেছে; তাই আমরা কোনক্রমেই এসব অপরাধীকে জামিন দিতে পারি না।’

হুযূর বলেন, যদি এদের দৃষ্টিতে বর্তমান যুগের মোল্লারা পবিত্র মানুষ হয়ে তাকে তাহলে আমাদের বলার কিছুই নেই কিন্তু আমাদের দৃষ্টিতে মহানবী (সা:) এবং তার পবিত্র সাথীরাই সবচেয়ে পবিত্র। একজন আহমদী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-কে অপমান করার কথা কখনো চিন্তাও করতে পারে না। আমরাতো তাঁর নিষ্ঠাবান দাসের মান্যকারী। আমরা সেসব মানুষের অন্তর্ভূক্ত নই যারা সাহাবাদের (রা:) বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বা তাদেরকে দোষারোপ করে।

এ হচ্ছে পাকিস্তানের বর্তমান বিচারবিভাগের অবস্থা বরং দীর্ঘদিন থেকে সেখানে এই অবস্থাই চলে আসছে, আমরা তাদের কাছ থেকে সুবিচার বা ভালো কিছু আশাই করতে পারি না। আজ পাকিস্তানের সর্বত্র বিচারের বাণী নিরবে কাঁদে। আমরা আল্লাহ্‌র সত্ত্বায় বিশ্বাসী আর তাঁর কাছে আমাদের সকল চাওয়া-পাওয়া। তাঁর কাছেই আমরা সমর্পিত হই আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এরা অবশ্যই ধৃত হবে বরং হচ্ছে, কিন্তু নির্বোধরা বুঝতে পারছে না। আল্লাহ্ বলেন, সে অপেক্ষা বড় যালেম আর কে হতে পারে যে খোদার প্রেরিত নবীকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে। পাকিস্তানের চলমান অবস্থাদৃষ্টে আমি বলছি এখনও বিবেক খাটাও, খোদার শাস্তিকে তোমরা আমন্ত্রন জানাবেনা। শাস্তি আসার লক্ষণাবলী ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়ে গেছে, এখনও সময় আছে, তওবা করো। আমাদের বিরুদ্ধে তোমরা যে অপবাদ আরোপ করছ তা থেকে বিরত হও। মহানবী (সা:) বলেছেন, কার হৃদয়ে কি আছে তা কেউ জানে না কিন্তু আমাদের হৃদয় সমুদ্র মহানবী (সা:)-এর ভালবাসায় ভরা, যার ধারেকাছেও তোমরা পৌঁছতে পারবে না। পাকিস্তানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে আমি বলছি, এই নামধারী উগ্র মোল্লাদের পিছু অনুসরণ করে আপনারা নিজেদের ইহ ও পরকালকে বরবাদ করবেন না। খোদার শাস্তিকে আমন্ত্রন জানানোর পরিবর্তে খোদার আশ্রয়ে আসার চেষ্টা করুন। আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে তাঁর নিরাপত্তার চাদরে আবৃত রাখুন।

খুতবার শেষাংশে হুযূর বলেন, পাকিস্তানে মোল্লারা উস্কানী মূলক কর্থাবার্তা বলে সাধারণ জনতাকে আহমদীদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে থাকে ফলে প্রায়শ:ই কোন না কোন আহমদী শাহাদত বরণ করেন। আর এটিও সেই কালা কানুনের কারণেই হচ্ছে যা পাকিস্তান সরকার নিরীহ আহমদীদের বিরুদ্ধে প্রণয়ন করেছে। আর এ আইনই পাকিস্তানে বেআইনী কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দিয়েছে, বাহ্যত পাকিস্তানে কোন আইন আছে বলেই মনে হয় না।

আজ আমি আপনাদেরকে আরেকটি হৃদয় বিদারক সংবাদ দিচ্ছি, জনাব সাঈদ আহমদ সাহেব পিতা মোকররম চৌধুরী গোলাম কাদের সাহেব আঠওয়াল; একজন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও নিবেদিতপ্রাণ আহমদী ছিলেন। তিনি নিজ আবাসস্থল কুটরীতে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর গুলিতে শাহাদত বরণ করেন। إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন) মরহুম অত্যন্ত নেক এবং মানব সেবার প্রেরণায় সমৃদ্ধ ছিলেন। কারো অসুস্থ্যতার সংবাদ পেলে সেবা-শুশ্রূষার জন্য ছুটে যেতেন; কঠোর পরিশ্রমী, মিষ্টভাষী, সদালাপি, সজ্জন, অতিথি সেবক, ধৈযশীর্ল এবং সহিষ্ণু ছিলেন। শহীদ মরহুমকে গোন্দফার্ম নামক স্থানে দাফন করা হয়েছে। তিনি দু’ছেলে এবং দু’মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবার এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া করুন।

এছাড়া জামাতের একজন নিরলস কর্মী ভাওয়ালনগরের সুদীর্ঘকালের জেলা আমীর এডভোকেট রানা মোহাম্মদ খাঁন সাহেবও ২১শে জানুয়ারী, ২০০৯ ইন্তেকাল করেছেন। إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِ��ُونَ (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন) দীর্ঘ চল্লিশ বছর তিনি জামাতের সেবা করেছেন; এছাড়া স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি কাজ করেছেন। খিলাফতের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসা ছিল। প্রতিবছর লন্ডন জলসায় আসতেন অসুস্থতার কারণে গত দু’বছর আসতে পারেন নি বলে দু:খ প্রকাশ করে চিঠি লিখতেন। মরহুম স্ত্রী, তিন ছেলে, দু’মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর এক ছেলে ইউগান্ডার কাম্পালায় নুসরত জাঁহা স্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত আছেন। মরহুমের রুহের মাগফিরাতের জন্য আপনারা দোয়া করুন। জুমুআর নামাযের পর আমি এই দু’জনের নামাযে জানাযা গায়েব পড়াবো ইনশাআল্লাহ্।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে