In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

‘ওয়াকফে জাদীদ’-এর ৫২তম বর্ষ আরম্ভ এবং বিশ্বের চলমান অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা সত্বেও আহ্‌মদীদের কুরবানীর মান সমুন্নত

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

৯ই জানুয়ারী ২০০৯ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর আনোয়ার (আই:) বলেন, আজকের খুতবার মূল বিষয় আরম্ভ করার পূর্বে আমি গত খুতবার ধারাবাহিকতায় আরো কিছু কথা বলতে চাই। অবশ্য অধিকাংশ মানুষের জন্যই আমার খুতবার বিষয় সুস্পষ্ট ছিল কেননা জামাত এই বিষয়টি বুঝে এবং জানে আর জামাতী বই-পুস্তকেও এ সম্পর্কে প্রচুর লেখা হয়েছে। বিষয়টি দরূদ শরীফের বরাতে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর মোকাম এবং পদমর্যাদার সাথে সম্পর্ক রাখে। অনেকেই লিখেছেন যে, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) মহানবী (সা:)-এর ‘আল্’ বা বংশধরদের মাঝে সবচেয়ে বড় মর্যাদার অধিকারী এবং ‘আল্’ হিসেবে তিনি সর্বাগ্রে। কেননা আগমনকারী মসীহ্‌র এই মহান মোকাম বা সম্মানের কথা বিভিন্ন হাদীসে উল্লেখ রয়েছে আর তাঁর জন্য মহানবী (সা:)-এর অকৃত্রিম ভালবাসার বহি:প্রকাশও আমরা দেখতে পাই। বন্ধুদের এই ধারণা একেবারেই সঠিক, মহানবী (সা:)-এর এই আধ্যাত্মিক সন্তানের প্রতি তাঁর একান্ত ভালবাসার কথা তিনি (সা:) স্বয়ং বলেছেন। কিন্তু আমি যেহেতু মহররমের বরাতে কথা বলেছিলাম তাই শিয়া এবং সুন্নিদের মাঝেই আমার আলোচনা সীমাবদ্ধ রেখেছিলাম। আমি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে গিয়ে বলেছিলাম যে, আপনারা যদি মহানবী (সা:)-এর কথা স্মরণ রাখেন যে,

‘মুসলমান সে যার জিহ্বা এবং হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ’।

তাহলে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, হত্যাকান্ড ও যুলুম-নির্যাতন বন্ধ হয়ে প্রেম-প্রীতি এবং ভালবাসার মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হবার কথা। এ সম্পর্কে মহানবী (সা:) বলেন,

مَنْ قَالَ لا إِلَهَ إِلا اللهُ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللهِ حَرُمَ مَالُهُ وَدَمُهُ وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি বলে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ বা উপাস্য নেই এবং আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে যার ইবাদত করা হয় তাকে অস্বীকার করে তার প্রাণ ও সম্পদের সম্মান আবশ্যক; বাকী তাঁর হিসাব-নিকাশ খোদার উপর ন্যস্ত।’ (মুসলিম)

তার সাথে কিরূপ ব্যবহার করবেন সে সিদ্ধান্ত খোদাই করবেন। মহানবী (সা:) বলেছেন,

‘যদি কেউ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলে, তা সে মুসলমানের ভয়েই বলুক না কেন, যদি তুমি এরপরও তাকে হত্যা কর তাহলে তুমি তার স্থান গ্রহণ করবে আর সে তোমার স্থান পাবে।’

সুতরাং এভাবেই মহানবী (সা:) একজন মুসলমানকে অপরের রক্তের হিফাযত করার শিক্ষা দিয়েছেন। আজ সকল মুসলমান যদি কলেমা এবং দরূদের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে তাহলে বর্তমানে মহররম মাসে যেসব ঘৃণ্য অপকর্ম চলছে তা কখনই হতো না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, মুসলমানরা এ বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে বা অনুধাবন করতে পারে না। সম্প্রতি মহররম মাস সম্পর্কে পত্র-পত্রিকায় যা লেখা হচ্ছে তাও আমার কথাকে সত্যায়ন করছে। এ মাসে শিয়া-সুন্নি পরস্পরকে হত্যা করে। কি কারণে আজ তারা এমন করছে? হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে যারা গ্রহণ করেনি তারাই এসব অপকর্মের হোতা। এরা মহানবী (সা:)-এর আধ্যাত্মিক সন্তানকে মানেনি যার সম্পর্কে স্বয়ং তিনি (সা:) বলেছেন,

‘বরফের পাহাড়ের উপর হামাগুড়ি দিয়েও যদি যেতে হয় তবুও তোমরা তাঁর কাছে যাবে এবং তাঁকে আমার সালাম পৌঁছাবে।’

অনুরূপভাবে আরো অনেক হাদীস রয়েছে যার আলোকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আগমনকারী মসীহ্‌র প্রতি মহানবী (সা:)-এর একটি বিশেষ ভালবাসা রয়েছে। মহানবী (সা:)-এর সাথে মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সম্পর্ক ছিল অনুপম। গত খুতবায় আমি হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর একটি কাশ্‌ফ বা দিব্যদর্শনের কথা উল্লেখ করেছিলাম তাতে তিনি দেখেছিলেন যে,

‘হযরত ফাতেমাতুজ্ জাহরা একজন মমতাময়ী মায়ের মত তাঁর মাথা নিজ ঊরুতে রেখেছিলেন।’

সেখানে স্বয়ং রসূলুল্লাহ্ (সা:) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাসত্বেও তাঁর মাথা নিজ ঊরুতে রাখা এ ইঙ্গিত বহন করে যে, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) মহনাবী (সা:)-এর ‘আল্’ বা বংশধরদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) দাবীর পূর্বে একবার মারাত্মকভাবে অসুস্থ্য হলে ইলহামে তাঁকে একটি দোয়া শিখানো হয় যে,

سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم اللهم صل على محمد وآل محمد

(সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলে মুহাম্মাদ)।

এই ইলহামেও ‘আলা’ অব্যয় ব্যবহার না করে শুধু ‘আল্’ এ মুহাম্মাদ শব্দের মাধ্যমে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর মোকাম এবং পদমর্যাদা স্বয়ং মহানবী (সা:) নির্ণয় করে দিয়েছেন। মহানবী (সা:)-এর বংশধরদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে নিকটতম হচ্ছেন হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)। অন্যরা এটি মানুক বা না মানুক আমাদের দৃষ্টিতে এবং আল্লাহ্ তা’লার দৃষ্টিতেও হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) সরাসরি মহানবী (সা:)-এর ‘আল্’ বা বংশধরদের শিরোমণি। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-ও স্বয়ং বলেছেন,

‘মহানবী (সা:)-এর প্রতি অজস্র ধারায় দরূদ প্রেরণ আর আন্তরিক ভালবাসা ও অনুরাগের মাধ্যমে তিনি এই মর্যাদা লাভ করেছেন।’

সুতরাং এদিক থেকেও আজ জামাতে আহ্‌মদীয়ার অনেক বড় দায়িত্ব রয়েছে। মুসলমানদের মাঝে আজ পারস্পরিক যে ভুল বুঝাবুঝি এবং মতানৈক্য দেখা দিয়েছে তা দূর করার জন্য বেশি বেশি দরূদ পাঠ করুন কেননা, আমরা সেই যুগ ইমামকে মেনেছি যাকে আল্লাহ্ তা’লা সরাসরি মহানবী (সা:)-এর ‘আল্’ বা বংশধরদের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। মুসলমানদের চরম স্বার্থপরতার স্বরূপ বর্তমানে আমাদের সামনে সুম্প���্ট। আজ যখন ���িলিস্তিনের উপর ইসরাইল নৃশংস হামলা করছে এমন নাজুক পরিস্থিতিতেও মুসলমান দেশগুলো সমবেতভাবে ও সমস্বরে কোন জোরালো প্রতিবাদ করতে পারেনি। খুবই ক্ষীণকন্ঠে দু’একটি স্থানে প্রতিবাদ দেখা গেলেও এদের চেয়ে পাশ্চাত্যের বিভিন্ন খৃষ্টান সংগঠণ এবং ব্যক্তির প্রতিবাদ ছিল এরূপ বর্বর ইসরাইলী আক্রমনের বিরুদ্ধে বেশী জোরালো। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মুসলমানদের চেতনা লোপ পেয়েছে। তাই আমি পুনরায় দোয়ার প্রতি আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি আর এটিই আমাদের একমাত্র অস্ত্র। এই দোয়ার মাধ্যমেই আমাদের বিজয় তরান্বিত হবে।

এরপর হুযূর বলেন, এখন আমি খুতবার দ্বিতীয় বিষয়ের দিকে আসছি। আপনারা জানেন যে, জানুয়ারীর প্রথম বা দ্বিতীয় জুমুআয় রীতি অনুসারে ওয়াকফে জাদীদের নববর্ষের সূচনা হয় এবং বিগত আর্থিক বছরের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। আজ আমি বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরার পূর্বে আর্থিক কুরবানীর গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু কথা বলবো। আল্লাহ তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

إِنَّ الْمُصَّدِّقِينَ وَالْمُصَّدِّقَاتِ وَأَقْرَضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيمٌ

অর্থ: ‘নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীলা নারীগণ এবং যারা আল্লাহ্‌কে অতি উত্তম ঋণ দান করে-তাদেরকে সম্মানজনক প্রতিদান বর্ধিতাকারে দেয়া হবে। তাদেরকে দেয়া হবে অতি সম্মানজনক পুরস্কার।’ (সূরা আল্ হাদীদ: ১৯)

এ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘তোমাদের অর্থ-কড়ি বা ধন-সম্পদের কোন প্রয়োজন নেই খোদার। কিন্তু তিনি নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছেন, যদি খোদার পথে তোমরা ব্যয় করো তাহলে সেটিকে তিনি কর্জে হাসানা (উত্তম ঋণ) গণ্য করে তোমাদেরকে তা ফেরত দিবেন।’

এটি বান্দাদের প্রতি খোদার ভালবাসার বহি:প্রকাশ। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ, পরবিমূখ, স্বনির্ভর, মানুষের ধন-সম্পদ বা টাকা প্রয়সায় তাঁর কোন প্রয়োজন নেই। তিনি জাগতিক ঋণ গ্রহীতাদের মত নন যারা ঋণ নিয়ে ফেরত দিতে ভুলে যায় বরং তিনি উত্তমভাবে বর্ধিতাকারে ঋণ প্রত্যর্পণ করেন। আজ ধর্মের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করা হচ্ছে তা খোদার দরবারে এতটাই গ্রহণযোগ্যতার মর্যাদা রাখে যা আপনারা ভাবতেও পারবেন না; কিন্তু শর্ত হচ্ছে খোদাপ্রেমের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তা করতে হবে আন্তরিকভাবে। বর্তমান যুগে মানুষ উম্মাদের মত জাগতিকতা এবং বস্তুবাদিতার পিছু ছুটছে এ সময় যদি কেউ কেবল খোদার খাতিরে কুরবানী করেন তাহলে তা গভীরভাবে মূল্যায়িত হবে।

হুযূর বলেন, আর্থিক কুরবানী গৃহীত হবার অভিজ্ঞতা শুধু অতীতের বিষয় নয় বরং এটি প্রতিনিয়ত আমাদের যুগেও আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটি আমাদের জন্য একটি বড় নিয়ামত যা আমরা বয়’আত করার সুবাদে লাভ করছি। এই নিয়ামতের জন্য যতই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন না কেন তা যথেষ্ট হবে না। আল্লাহ্ তা’লার ফযলে জামাতের সদস্যরা এই গূঢ় তত্বটি বুঝেন বলেই প্রতি বছর কুরবানীর মান উন্নত হচ্ছে। এবছর সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করা সত্ত্বেও খোদার কৃপায় আহ্‌মদীরা আর্থিক ত্যাগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা দেখান নি। তারা এ কথা একটুও ভাবেন না যে, আমাদের চলবে কিভাবে। তাঁদের চিন্তা একটাই কিভাবে নিজ প্রতিশ্র“তি রক্ষা হবে। অপরদিকে কুরআন বিপরীত চিত্রও তুলে ধরেছে আর সে প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে সাবধান করে বলেন যে, ইবাদত বা আর্থিক কুরবানী যাইহোক না কেন এ ক্ষেত্রে দুর্বলতা প্রদর্শন করবেনা। আল্লাহ্ তা’লা বলেন:

اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآَخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ

অর্থ: ‘তোমরা জেনে রাখো, এই পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, চাক-চিক্য, সৌন্দর্য, তোমাদের মাঝে পারস্পরিক আত্মশ্লাঘা, এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা মাত্র; এর দৃষ্টান্ত সেই বারিধারার ন্যায় যার কল্যাণে উৎপাদিত শাক-সবজি কৃষকদের চমৎকৃত করে, অত:পর তা পরিপক্ক হয় এবং তুমি একে হলুদ বর্ণ দেখতে পাও, যা অবেশেষে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এবং পরকালে রয়েছে (বস্তুবাদীদের জন্য) কঠিন আযাব এবং (সৎকর্মশীলদের জন্য) খোদার পক্ষ হতে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। এবং এই পার্থিব জীবন ছলনাময়ী ভোগ্যবস্তু ব্যতিরেকে কিছু নয়।’ (সূরা আল্ হাদীদ: ২১)

আজ সমগ্র বিশ্বে ইসলামী শিক্ষানুসারে সুসংগঠিত ও জামাতবদ্ধভাবে একমাত্র আহ্‌মদীরাই খোদার খাতিরে কুরবানী করছে। বাকীরা করলেও তা অতি সামান্য। তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রীড়া-কৌতুক ও প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার কাজে মত্ত; জাগতিক চাক-চিক্য ও বিভিন্ন কুপ্রথা ও হরেক রকম বি’দাত মুসলমানদের জীবনে অনুপ্রবেশ করেছে। বিয়ে-শাদীর বেলায়ও এ ধরনের বেহুদা কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয় এবং মানুষ অনেক অযথা খরচ করে।

হুযূর বলেন, প্রসঙ্গক্রমে এখানে এটিও বলে দিচ্ছি যে, বিভিন্ন আহ্‌মদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। আপনারা যদি যুগ ইমামকে মানার পরও তাদেরই অন্ধ অনুকরণ করেন আর মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর হাতে বয়’আতের উদ্দেশ্য ভুলে বসেন তাহলে আপনারাও তাদের মতই যাদের সম্পর্কে খোদা বলেন জেনে রাখ, ইহলৌকিক জীবন কেবল ক্রীড়া-কৌতুক ও ভোগ-বিলাস বৈ আর কিছু নয় এবং এর সবই সাময়িক ও অস্থায়ী। যুগ ইমামকে মানার পরও যদি আমাদের ভেতর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে অহমিকা থাকে এবং ইহজীবন নিয়ে যদি অহংকার করি তাহলে আমরা আজরে আজীম অর্থাৎ মহা পুরস্কার থেকে বঞ্চিত থাকবো। আল্লাহ্ বলেন, আমি তোমাদেরকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছি তা নিয়ে অহমিকা বা গর্ব করবে না বরং খোদার পথে এই ধন-সম্পদ হতে খরচ করো তাহলে উত্তম প্রতিদান পাবে। পার্থিব সম্পদ অস্থায়ী, এর উপমাস্বরূপ সেই কৃষকের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে যে, ফসল পাকতে দেখে খোদার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পরিবর্তে বিভিন্ন রঙিন স্বপ্ন বুনতে থাকে কিন্তু ফসল ঘরে উঠানোর পূর্বেই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে সব হারিয়ে কৃষক সর্বশান্ত হয়। মনে রাখবেন! যে খোদাকে ভুলে যায় সে ইহকালীন ব্যর্থতার পাশাপাশি পরকালের শাস্তিও ভোগ করবে।

আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آَمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ

অর্থ: ‘(হে লোক সকল!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে ক্ষমা এবং এমন জান্নাতের দিকে ধাবিত হও, যার মূল্য আকাশ ও পৃথিবীর মূল্যের সমতুল্য, এটি ঐসব লোকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে যারা আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূলদের প্রতি ঈমান আনে। এটি আল্লাহ্‌র একান্ত কৃপা, তিনি যাকে চান দান করেন বস্তুত: আল্লাহ্ মহা ফযলের অধিকারী।’ (সূরা আল্ হাদীদ: ২২)

এখানে একজন মু’মিনের কর্তব্য সম্পর্কে খোদা তা’লা বলেন যে, সে সর্বদা তাঁর প্রভুর ক্ষমা সন্ধান করে ফলে সে সেই জান্নাতের উত্তরাধিকারী হয় যা ইহ ও পর উভয় জগতে লাভ করবে।

হুযূর বলেন, আমি এমন অগণিত চিঠি পাই যাতে জামাতের নিষ্ঠাবান সদস্যারা, আর্থিক কুরবানী করার পর ধন-সম্পদ ও জনবলে শক্তিশালী হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন একই সাথে তারা যে কত অসাধারণ মানসিক প্রশান্তি লাভ করেন তাও বিবৃত করেন। এটিই মূলত: জান্নাত আর এরূপ জান্নাত লাভের ফলে মু’মিন ইহকালেও খোদার সন্তুষ্টি লাভ করে আর পরকালের প্রতি তাদের ঈমান আরো দৃঢ়তর হয়। একটি জামাতের সেক্রেটারী মাল সাহেব আমাকে লিখেছেন যে, ‘জামাতের এক সদস্য তার কাছে এসে বলেন, এ হ��্ছে আমার ওয়াদা এবং এই হচ্ছে টাকা; নববর্ষের ঘোষণা হওয়া মাত্র সর্ব প্রথম আমার নামে রশীদ কাটবেন।’ এ ধরনের নিষ্ঠাবান এবং আন্তরিক লোকদের জন্যই আল্লাহ্ বলেছেন, جَنَّةٍ عَرْضُهَا অর্থাৎ তাদের জন্য জান্নাত বিস্তৃত করা হবে আর এ বিস্তৃতির কোন সীমা-পরিসীমা নেই আর জান্নাতের আসল অর্থ হচ্ছে খোদার সন্তুষ্টি।

একদা একজন সাহাবী মহানবী (সা:)-কে জিজ্ঞেস করেন যে,

‘জান্নাত যদি আকাশ এবং পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে রাখে তাহলে জাহান্নাম কোথায়? উত্তরে মহানবী (সা:) বলেন, যখন দিন আসে তখন রাত কোথায় যায়? তিনি (সা:) বলেন, যেভাবে সূর্য উদয়ের ফলে আঁধারের অবসান ঘটে তেমনিভাবে জান্নাত এবং জাহান্নাম একই সময় সহাবস্থান করছে।’

খোদা তা’লাকে যারা বিস্মৃত হয় তারা যেথায় জাহান্নাম দেখে খোদাভক্তরা সেখানেই জান্নাত উপভোগ করেন; শুধু দৃষ্টিকোন পরিবর্তনের প্রয়োজন। তাই মু’মিন খোদার সন্তুষ্টির প্রতি দৃষ্টি রাখে। যে বস্তুবাদী তার দৃষ্টি থাকে বস্তু জগতের প্রতি। আমি বলেছি, জান্নাত হলো খোদার সন্তুষ্টি। আল্লাহ্ তা’লা সর্বদা আমাদেরকে এই জান্নাতের প্রতি মনোযোগী হবার তৌফিক দিন। আমাদের ত্যাগ, ইবাদত ও আমাদের কুরবানী যেন খোদার কৃপাবারীকে আকর্ষণ করতে পারে আমাদেরকে নিরবধি সে চেষ্টাই চালিয়ে যেতে হবে। আল্লাহ্ বলেন,

ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ

অর্থাৎ, জান্নাত তাদের জন্য যাদের উপর খোদা তার বিশেষ অনুগ্রহ করেন আর তারা খোদা ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনেন।

আর এ যুগে আমরা হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর উপর ঈমান এনেছি। এটি আল্লাহ্‌র একান্ত কৃপা, তিনি যাকে চান তাকে দান করেন।

হুযূর বলেন, এ যুগের মসীহ্ (আ:) খোদা ও রসূলের ভবিষ্যদ্বাণী মোতাবেক আবির্ভূত হয়েছেন। এটিও আমাদের প্রতি একান্তই খোদার ফযল। আল্লাহ্ তা’লা নিজ করুণায় আমাদেরকে তাঁর প্রেরিত পুরুষকে মানার তৌফিক দিয়েছেন এখন আমাদেরকে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে যে,

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! তুমি আমাদেরকে হেদায়াত দেবার পর আমাদের হৃদয়কে বক্র হতে দিও না।’ (সূরা আল্ ইমরান: ৯)

মোটকথা যুগ ইমামকে মানার পর ইহজাগতিক ক্রীড়া-কৌতুক এবং চাক-চিক্য যেন আমাদের হৃদয়কে সত্য থেকে বিমূখ না করে। কখনো যেন মনে এ ধারণা না জন্মে যে, এত প্রকার চাঁদা আমাদের জন্য একটি বোঝা বরং সবসময় এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, খোদার ফযল বলেই আমরা তাঁর মনোনীত জামাতের জন্য কিছু করতে পারছি। আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এ যুগে পূর্ববর্তীদের সাথে মিলিত করেছেন এবং নিজ ধর্মের খাতিরে কুরবানী এবং ত্যাগ স্বীকার করার তৌফিক দিচ্ছেন। আমাদের উপর বর্ষিত খোদার এই অনুগ্রহরাজি বংশ পরম্পরায় খোদা তা’লা বলবৎ রাখুন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) একস্থানে বলেন,

‘চাঁদা দিলে ঈমান উন্নত হয় আর এটি নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার প্রমাণ।’

অতএব সহস্র সহস্র মানুষ যারা বয়’আত করেন তাদেরকে বলা আবশ্যক যে, তোমরা শুরু থেকেই খোদার পথে আর্থিক কুরবানী করো। অনেক আহ্‌মদী চাঁদা দেবার বেলায় এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন যা দেখে বিষ্মিত হতে হয়। অবশ্য অনেক ক্ষেত্রে নবাগতদের চাঁদার ব্যবস্থাপনায় সঠিকভাবে শামিল করা হয়নি, যদি সামান্য পরিমানও নেয়া হয় তাহলে তাদের মাঝে পুণ্যকর্মের একটি উন্নত অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে। যেখানকার জামাত এটি করেছে তারা চমৎকার ফল পেয়েছে। আল্লাহ্ তা’লা নবাগতদের প্রতি ফযল করেছেন, কোন পুণ্যের কারণে তাদেরকে মহানবী (সা:)-এর আহবানে সাড়া দিয়ে যুগ মসীহ্‌কে মানার সুযোগ দিয়েছেন। আপনারা নিজেরা চাঁদার ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভূক্ত হোন এবং আপনাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও এই বাবরকত নেযামে অন্তর্ভূক্ত হতে উৎসাহিত করুন। বিশেষ করে ওয়াকফে জাদীদ খাতে শিশুদেরকেও অন্তর্ভূক্ত করুন। আল্লাহ্ তা’লা প্রত্যেক পিতা-মাতাকে এই নেক কাজ করার তৌফিক দিন।

এরপর হুযূর পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে মালী কুরবানীর অপরিসীম গুরুত্বের কথা সবিস্তারে বর্ণনা করে বলেন, আল্লাহ্ তা’লার অপার কৃপায় সামগ্রীকভাবে জামাতের অগ্রযাত্রা ও উন্নতি অব্যাহত আছে। কোন কোন জামাত দুর্বলতা দেখালেও অন্যেরা সে ঘাটতি পূরণ করছে। যে রিপোর্ট আমি উপস্থাপন করছি তাতে পুরো চিত্র ফুটে উঠবেনা কেননা এখনও সব জায়গা থেকে রিপোর্ট এসে পৌঁছেনি। যাইহাক, ওয়াকফে জাদীদ এর ৫১তম বছর শেষ হয়ে ৫২তম বছর আরম্ভ হয়েছে। বর্তমানে গোটা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দাভাব বিরাজ করা সত্ত্বেও আল্লাহ্‌র ফযলে আহ্‌মদীদের কুরবানীর চেতনাকে তা এতটুকু প্রভাবিত করতে পারেনি। এ বছর বিশ্ব জামাতে আহ্‌মদীয়া ওয়াকফে জাদীদ খাতে মোট একত্রিশ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার পাউন্ড চাঁদা দিয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে সাত লক্ষ পাউন্ড বেশি। এ খাতে চাঁদা প্রদানকারী বিশ্বের শীর্ষ দশটি দেশ হলো যথাক্রমে: পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানী, ভারত, ইন্দোনেশীয়া, বেলজিয়াম, ফ্রান্স এবং সুইজারল্যান্ড। পাকিস্তানে চাঁদা দাতার সংখ্যা গতবারের চেয়ে দশ হাজার বেড়েছে। আপনারা জানেন, এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ আহ্‌মদীই দরিদ্র তাদের জন্য সেই দৃষ্টান্তই প্রযোজ্য যা একটি হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি।

‘একবার মহানবী (সা:) বলেছেন, এক দেরহাম একলক্ষ দেরহামের তুলনায় এগিয়ে গেছে, জিজ্ঞেস করা হলো যে, কীভাবে? রসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেন, একজনের কাছে শুধু দু দেরহাম ছিলো আর সে তাহরীক শুনে এর মধ্যে থেকে এক দেরহাম চাঁদা দিয়েছে। অন্য আরেকজনের কাছে লক্ষ লক্ষ দেরহাম ছিলো আর সে এরমধ্যে থেকে এক লক্ষ দেরহাম চাঁদা দিয়েছে। যদিও সে পরিমাণে অর্থ বেশি দিয়েছে কিন্তু কুরবানীর দিক থেকে এক দেরহামের মূল্য খোদার দৃষ্টিতে অনেক বেশি।’

পাকিস্তান ও আফ্রিকার বিভিন্ন দরিদ্র দেশের অবস্থাও অনুরূপ, তারা সীমিত সাধ্য সত্ত্বেও অসাধারণ কুরবানী করছেন। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী আমেরিকা জামাত এবছর এই খাতে ২৫৬ জনকে নতুনভাবে শামিল করেছে। কিন্তু তাদের সম্মিলিত চাঁদা গত বছরের তুলনায় ৭৯হাজার ডলার কম। এদের মোট চাঁদা দাতার সংখ্যা হচ্ছে ৮২৭৬জন। উন্নত বিশ্বের জামাতগুলোর এদিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করা উচিত। তারা এ খাতে যে চাঁদা দিয়ে থাকে তা ভারত এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দরিদ্রাঞ্চলে মিশন হাউস, মসজিদ নির্মাণ ও বই-পুস্তক প্রকাশ ও অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হয় তাই আপনাদের উচিত চাঁদাদাতার সংখ্যা আরো বাড়ানো। তৃতীয় স্থান অধিকারী জামাত যুক্তরাজ্য যারা গত বছরের তুলনায় এবছর ৮৬ হাজার পাউন্ড বেশি আদায় করেছে। ১৩৮২জন নতুন যোগ হয়েছে এখন এদের মোট চাঁদাদাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫১৯-এ। আল্লাহ্‌র ফযলে যুক্তরাজ্য জামাতের উন্নতির গতি খুবই প্রশংসনীয়। চতূর্থ স্থানে আছে কানাডা, এই জামাতও এ বছর ১লক্ষ ৮০হাজার ডলার বেশি আদায় করেছে আর ৩৭৮জন চাঁদা দাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কানাডার দফতর আতফালও বেশ সক্রিয়। তাদের মোট চাঁদাদাতার সংখ্যা হচ্ছে ১৩,৩২৫ জন। পঞ্চম হচ্ছে জার্মানী আর এ জামাতও ৩২ হাজার ইউরো বেশি দিয়েছে কিন্তু ১৩৮৭জন চাঁদাদাতা কমে গেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী বেশ ভারী সংখ্যক আহ্‌মদী চলতি বছরগুলোতে জার্মানী থেকে যুক্তরাজ্যে চলে এসেছে বলে তাদের চাঁদা দাতার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু আমার মতে চেষ্টাতেও কিছু ত্রুটি আছে। ষষ্ঠ স্থানে আছে ভারত আর তারাও এবছর ১৭লক্ষ রূপী বেশি আদায় করেছে আর মোট চাঁদাদাতার সংখ্যা হচ্ছে ১লক্ষ ১৬হাজার ১২০জন। ভারতকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে হবে কেননা, বর্তমান বিশ্বের যে ���বস্থা তাতে ভবিষ্যতে কি ঘটবে তা বলা যায় না। ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে সাহায্য করা হচ্ছে কিন্তু হতে পারে যে, একটি সময় আসবে যখন সাহায্য করা সম্ভব হবে না। তাই আফ্রিকা এবং ভারতকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। সপ্তম স্থানে আছে ইন্দোনেশীয়া, তারাও ৩২৯০৮ পাউন্ড বেশি আদায় করেছে আর চাঁদাদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৮২৯জন। এরপর যথাক্রমে আছে বেলজিয়াম, ফ্রান্স এবং সুইজারল্যান্ড।

মাথাপিছু আদায়ের দিক থেকে প্রথম পাঁচটি দেশ হচ্ছে যথাক্রমে: আমেরিকা, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং বেলজিয়াম।

আফ্রিকার দেশসমূহের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করেছে নাইজেরিয়া এরপর পর্যায়ক্রমে ঘানা, বুর্কিনাফাঁসো, বেনিন এবং সিয়েরালিওন এর অবস্থান। ওয়াকফে জাদীদ খাতে আল্লাহ্‌র ফযলে এবছর মোট পাঁচ লক্ষ সাইত্রিশ হাজার নিষ্ঠাবান আহ্‌মদী চাঁদা দিয়েছেন আর এ বছর চাঁদাদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সাতাইশ হাজার। হুযূর বলেন, আপনারা এ সংখ্যা আরো বাড়াতে পারেন। আতফাল ও নাসেরাতের কাছ থেকে পঞ্চাশ পেনি নিয়ে হলেও তাদেরকে চাঁদায় অভ্যস্ত করুন আর নবাগতদের কাছ থেকে টোকেন স্বরূপ সামান্য অর্থ নিয়ে হলেও তাদেরকে এতে অন্তর্ভূক্ত করুন। এরপর হুযূর পাকিস্তানসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের আভ্যন্তরীণ অর্থাৎ স্থানীয় পরিসংখ্যান বর্ণনা করে বলেন, আল্লাহ্ তা’লা সকল চাঁদাদাতা এবং আর্থিক কুরবানীকারীর কুরবানী কবুল করুন এবং তাদের ধন-সম্পদ ও জনবলে অশেষ বরকত দিন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে