In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

দরূদ এবং এস্তেগফার - বিশ্বের চলমান অশান্ত পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের উপায়

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

২রা জানুয়ারী ২০০৯ইং

ইংরেজি নববর্ষ সবার জন্য অশেষ কল্যাণ বয়ে আনুক। বিশ্বের চলমান অশান্ত পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য বেশি বেশি দোয়া এবং দরূদ পাঠ করুন

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর আনোয়ার (আই:) বলেন, বর্তমানে আমরা মহররম মাস অতিক্রম করছি। ঘটনাক্রমে আজ চান্দ্র এবং খ্রীষ্ট উভয় পঞ্জিকার প্রথম জুমুআ। আজকের এই জুমুআ জামাতের জন্য অশেষ কল্যাণ বয়ে আনুক। এ উপলক্ষে আমি দোয়ার প্রতি জামাতের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই।

জামাতের বিভিন্ন বই-পুস্তক, মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর গ্রন্থাবলীতে এবং আমি নিজেও বহুবার বলেছি যে, জুমুআর দিনের সাথে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর যুগের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একেতো এ যুগে বস্তুবাদীতার কারণে মুসলমানদের জীবন থেকে জুমুআর গুরুত্ব হারিয়ে হয়ে গেছে। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর ইবাদতের প্রতি এবং বিশেষভাবে সূরা আল্ জুমুআয় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, তোমরা জাগতিকতার মোহে অন্ধ হয়ো না বরং সর্বদা স্মরণ রেখো যে, সকল কল্যাণের উৎস হচ্ছেন খোদা তা’লা। তাই জুমুআর নামাযের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করো আর যখন নামায শেষ হয় তখন স্বানন্দে তোমরা জাগতিক কাজ কর্মে ব্যাপৃত হও এবং আল্লাহ্‌র করুণা অন্বেষণ করো। এই সূরার প্রারম্ভে আখারীনদের (শেষ যুগের লোক) মধ্য থেকে মহানবী (সা:)-এর নিষ্ঠাবান দাস ও প্রেমিকের আবির্ভূত হবার শুভসংবাদ দেয়া হয়েছে। তিনি মহানবী (সা:)-এর আবির্ভাবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করবেন অর্থাৎ তাঁর মিশনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখাই তাঁর দায়িত্ব। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত শিক্ষার প্রসার এবং মানুষের আত্মসুদ্ধি বা পবিত্র করার দায়িত্ব নিয়েই তিনি আবির্ভূত হয়েছেন। যেন বিশ্ববাসী আপন স্রষ্টা খোদাকে চিনতে পারে এবং সমগ্র বিশ্বের মুসলমানরা এক জাতিসত্ত্বায় পরিণত হয়। আর অন্যান্য জাতির মানুষও যেন একহাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খোদার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) এ প্রসঙ্গে একস্থানে বলেন,

‘মহানবী (সা:)-এর আবির্ভাবের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ধর্মকে পরিপূর্ণ করা। এটি দু’পর্যায়ে পূর্ণতা পাবে এক, তকমীলে হেদায়াত (শিক্ষার চরমোৎকর্ষ) এবং অন্যটি হচ্ছে, তকমীলে ইশায়াতে হেদায়াত (শিক্ষা পুরোপুরি প্রচার-প্রসার)। মহানবী (সা:)-এর নিজের যুগটি হচ্ছে তকমীলে হেদায়াতের যুগ এবং তকমীলে ইশায়াতে হেদায়াতের যুগ হচ্ছে তাঁর দ্বিতীয় যুগ অর্থাৎ যখন وَآَخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمএর যুগ আসবে। এবং সেই সময়টি হচ্ছে এখন অর্থাৎ আমার যুগ, (হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর যুগ)।’

তকমীলে হেদায়াত এবং তকমীলে ইশায়াতে হেদায়াত এর যুগের সম্মিলিত হওয়াও এক মহান জুমুআ। তকমীলে হেদায়াত এর অর্থ হচ্ছে মহানবী (সা:)-এর আবির্ভাবের সাথে সকল নিয়ামতরাজি চরমোৎকর্ষে পৌঁছে গেছে তা জাগতিক বা আধ্যাত্মিকই হোক না কেন। এখন কামেল ধর্ম ইসলামের পর নতুন কোন ধর্ম বা শরীয়তের প্রয়োজন নেই। কেউ এ প্রশ্ন উঠাতে পারে যে, মহানবী (সা:)-এর যুগে জাগতিক নিয়ামতরাজি পরম পরাকাষ্ঠা লাভ করেনি বরং এখনও প্রতিনিয়ত নিত্য-নতুন আবিষ্কারাদী সামনে আসছে। একথা তাদের কাছে সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, মহানবী (সা:)-ই পরিপূর্ণ এবং কামেল নবী। তাঁকে আল্লাহ্ তা’লা গোটা বিশ্বের সকল মানবের জন্য আবির্ভূত করেছেন এবং তাঁর যুগকে কিয়ামত পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন। তাঁর প্রতি নাযিলকৃত গ্রন্থ পবিত্র কুরআনের একটি অনুপম বৈশিষ্ট্য হলো, এ গ্রন্থে অতীত ইতিহাসের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঘটিতব্য বিভিন্ন শুভসংবাদের সমাহার ঘটেছে। অধুনা বিশ্বে যেসব নিত্য নতুন আবিষ্কারাদী হচ্ছে তার সংবাদও আল্লাহ্ তা’লা পূর্বেই এ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আজ নব আবিষ্কাররূপে যা কিছু আমরা দেখতে পাচ্ছি পবিত্র কুরআনে কোন না কোন ভাবে এর সমর্থন পাওয়া যায়। মুসলমান বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা যদি এর প্রতি মনোযোগ দেন এবং পবিত্র কুরআনের আলোকে তাদের গবেষণা কর্ম চালিয়ে যান তাহলে তাঁদের গবেষণার অনেক খোরাক তাঁরা এখান থেকে লাভ করতে পারবেন। আমাদের ড. প্রফেসর আব্দুস সালাম সাহেবও পবিত্র কুরআন থেকে লদ্ধ জ্ঞানের আলোকে নিজ গবেষণা কর্ম পরিচালনা করেছেন। তাঁর গবেষণা অনুযায়ী পবিত্র কুরআনে এমন প্রায় সাতশত আয়াত আছে যা কোন না কোনভাবে বিজ্ঞানের সাথে যোগসূত্র রাখে বা এমন আয়াত পাওয়া যায় যদ্বারা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। যদি এখনও আহ্‌মদী বিজ্ঞানীরা পবিত্র কুরআন নিয়ে গবেষণা করেন বা এই মহা সমুদ্রে অবগাহন করেন তাহলে হতে পারে যে, তারা হয়ত আরও অধিক মনি-মুক্তা এতে খুঁজে পাবেন। যাইহোক, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন, মহানবী (সা:)-এর যুগেই ‘শিক্ষা’ পরম উৎকর্ষ লাভ করেছে। সে যুগে অনেক কিছুই পর্দার অন্তরালে ছিল ফলে মানুষ তা অনুধাবন করতে পারে নি কিন্তু হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর যুগে নিত্য-নতুন আবিষ্কারাদীর কল্যাণে প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু নতুন জিনিষ উদ্ভাবিত হচ্ছে এবং এসকল উপকরণ ‘সত্য’ প্রচারের কাজকে বেগবান করছে। আল্লাহ্ তা’লার ফযলে এসব নতুন আবিষ্কারাদী যা মানুষের জন্য কল্যাণকর তা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জামাতের প্রচার-প্রসারে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। হযরত মসীহ্ মওউ��� (আ:) তাঁর গ্রন্থাবলীতে এসব কিছুর উদাহরণ দিয়েছেন। সুতরাং মহানবী (সা:)-এর সত্যিকার দাস বা প্রেমিকের যুগে এমন এমন জিনিষ উদ্ভাবিত হচ্ছে যার কল্যাণে ধর্মের প��রচার ও প্রস���র কাজে অনেক গতি সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র কুরআন এবং মহানবী (সা:)-এর অনন্য শিক্ষা আর তাঁর সুমহান মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য এমনসব উপায়-উপকরণ সৃষ্টি হচ্ছে যা একজন মু’মিনের বিশ্বাস এবং ইমানকে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর করছে। এসব দেখে মহানবী (সা:)-এর প্রতি ভক্তি ও ভালবাসায় হৃদয় ভরে যায় আর মানুষ দরূদ পাঠের প্রেরণা পায়; “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ”

হুযূর বলেন, আমি পূর্বেও বলেছি যে, ইংরেজী নববর্ষের আজ প্রথম জুমুআ আর আরবী পঞ্জিকারও আজ প্রথম জুমুআ। আমি একথাও বলেছি যে, জুমুআর সাথে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর যুগের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দু’টি ক্যালেন্ডারেরই প্রথম জুমুআর সম্মিলন ঘটেছে তাই দোয়ার প্রতি বিশেষভাবে আমাদের মনোযোগ নিবদ্ধ করা প্রয়োজন। সৌর বছরের সূচনা হয় সিজারের যুগে এবং তা পরবর্তীতে গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিতি লাভ করে। চান্দ্রমাস হলো ইসলামী মাস কিন্তু চান্দ্র ও সৌর উভয় ব্যবস্থাপনাই খোদা কর্তৃক সৃষ্ট। হযর‏ত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর তিরোধানের পর তাঁর খিলাফতের দ্বিতীয় শতাব্দীতে চান্দ্র এবং সৌর উভয় পঞ্জিকার জুমুআ একত্রিত হলো। আমরা যদি সঠিকভাবে কাজ করি আর দোয়া করি তাহলে এটি ইহ ও পরকালে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সাথে যুক্ত সকল কল্যাণে আমাদেরকে ভূষিত করবে। চান্দ্র ও সৌর মাসের প্রথম জুমুআ একটি আশিসপূর্ণ দিনে মিলিত হওয়া অবশ্যই কল্যাণকর। এটি আহ্‌মদীয়াতের জন্যও সর্বৈব কল্যাণ বয়ে আনুক।

হুযূর বলেন, আজ গোটা বিশ্ব যেখানে ক্রীড়া-কৌতুকে মত্ত সেখানে সারা বিশ্বের আহ্‌মদীদের নোংরা পানিতে নিমজ্জিত মানবতাকে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে বিধৌত করতে হবে। নতুবা আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত বলে পরিগণিত হতে পারিনা আর মোহাম্মদী মসীহ্‌র হাওয়ারীও গণ্য হবোনা এবং যারা ইতিপূর্বে نَحْنُ أَنْصَارُ اللَّهِ ’র ধ্বনী উচ্চকিত করেছেন তাদেরও অন্তর্ভূক্ত হবো না। এটি আমাদের একটি গুরুদায়িত্ব। খোদা তা’লা মানুষের কাছ থেকে কেবল পরীক্ষাই নেন না কখনও কখনও কিছু ব্যতিক্রমধর্মী এবং অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত করেন ফলে মানুষের ইমান সতেজ হয়। আর প্রতিটি পরীক্ষার পর মানুষের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, পরীক্ষার সময় নিষ্ঠা এবং দৃঢ়তা প্রদর্শন আবশ্যক। অধিক সচেতনতার সাথে কাজ করতে হবে যাতে খোদা কর্তৃক নির্ধারিত বিজয় তরান্বিত হয়। আজ আরবী এবং ইংরেজী নববর্ষের এই প্রথম জুমুআতে আমি সবার কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, আপনারা নিজেদের মাঝে একটি পবিত্র পরিবর্তন সাধন করুন। বেশি বেশি দোয়া করুন এবং এমন বেদনাভরা হৃদয় নিয়ে দোয়া করুন যাতে আমাদের দোয়া কবুল করত: মহানবী (সা:)-এর পতাকা সমগ্র বিশ্বে উড্ডীন রাখার দৃশ্য খোদা তা’লা আমাদেরকে দেখান। দোয়ার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে বলছি, বেশি বেশি দরূদ পাঠ করুন। মহানবী (সা:)-এর নিষ্ঠাবান প্রেমিক হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) দরূদ পাঠের গুরুত্ব এবং ফযিলত সম্পর্কে অনেক স্থানে লিখেছেন। আমাদেরকে অবিরত দরূদ পাঠ করতে হবে। কিন্তু দরূদ পাঠ করার পূর্বে মহানবী (সা:)-এর প্রকৃত মর্যাদার কিছুটা জ্ঞান ও নিজের আধ্যাত্মিক মানকে উন্নত করা আবশ্যক। একটি হাদীসে হযরত আবু তালহা (রা:) আনসারী কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যে,

‘একদিন প্রভাতে মহানবী (সা:) যখন আমাদের সামনে আসেন তখন তাঁর চেহারা বিশেষভাবে প্রফুল্ল ছিল। সাহাবীগণ (রা:) জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহ্‌র রসূল! আজ আপনার পবিত্র চেহারায় আনন্দের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে; উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে এক ফিরিশ্তা এসে আমাকে বলেছে, তোমার উম্মতের মধ্যে থেকে যে ব্যক্তি একবার যথযথভাবে তোমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে এর বিনিময়ে আল্লাহ্ তাকে দশটি নেকী বা পুণ্য প্রদান করবেন, তার দশটি গুনাহ্ ক্ষমা করে দিবেন আর তার পদমর্যাদা দশ ধাপ উন্নত করবেন এবং অনুরূপ রহমত তার প্রতি বর্ষণ করবেন যেভাবে সে তোমার জন্য দরূদ পাঠ করেছে।’

এ হাদীস থেকে সুস্পষ্ট যে, আমাদের প্রিয় নবী (সা:) তাঁর উম্মতের ক্ষমালাভ ও পদমর্যাদার উন্নতি দেখে যারপর নাই আনন্দিত ছিলেন। তাই আমাদের দায়িত্ব একনিষ্ঠভাবে দরূদ পাঠ করা আর এর কল্যাণে পাপ মুক্তি এবং নেকী করার সৌভাগ্য লাভ করা আর ইহ ও পরকালকে সুনিশ্চিত করা। আরেকটি হাদীসে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা:) বর্ণনা করেন যে,

‘মহানবী (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি দরূদ প্রেরণ করবে কিয়ামত দিবসে আমি তাঁর শাফা’য়াত করবো।’

এ দু’টো হাদীস থেকে সুস্পষ্ট যে, দরূদ পাঠ করার বদৌলতে প্রথমে পদমর্যাদা উন্নত হবে তারপর তিনি (সা:)-এর শাফা’য়াত লাভ করবে।

হুযূর বলেন, যে ব্যক্তি সত্যিকারেই বুঝে-শুনে মহানবী (সা:)-এর প্রতি দরূদ পাঠ করে সে অন্য মুসলমানের বিরুদ্ধে আপন হৃদয়ে হিংসা-বিদ্বেষ লালন করতে পারে কি? তাঁর আল্ বা বংশধর এবং সাহাবীদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য মনোভাব পোষণ করতে পারি কি? এই হাদীসের প্রতি মনোযোগ দিলে আজ ধর্মের নামে যেসব ঝগড়া-বিবাদ ও হানাহানি হচ্ছে তা দূর হতে পারে। মহানবী (সা:)-এর উম্মত সম্পর্কে খোদা বলেন যে,

رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ

অর্থ: ‘তারা পরস্পরের প্রতি দয়ার্দ্রচিত্ত’ (সূরা আল্ ফাত্‌হ: ৩০)

কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, আজকের তথাকথিত রসূল প্রেমিরা মুখে দরূদ পাঠ করে ঠিকই কিন্তু তাদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দের লক্ষণ আদৌ নেই বরং তারা বহুধা বিভক্ত। এখন মহররম মাস, এ মাসে মুসলমানরা পরস্পরের রক্ত নিয়ে হুলি খেলায় মত্ত। পাকিস্তানে বড় বড় নামধারী আলেম-উলামা রসূলের মিম্বরে দাঁড়িয়ে মহানবী (সা:)-এর অনুপম শিক্ষা প্রদানের পরিবর্তে ঘৃণা এবং বিদ্বেষ ছড়ায়, মানুষকে হিংসাত্মক কর্মের জন্য উত্তেজিত বা প্ররোচিত করে। এরা শান্তির দূত না হয়ে ঘৃণার দূত হিসেবে কাজ করে। এজন্য সরকার বাধ্য হয়ে এদের চলাফিরার উপর প্রত্যেক বছর এ দিনগুলোতে বিধিনিষেধ আরোপ করে যে, অমুক-অমুক মৌলভী অমুক-অমুক স্থানে যেতে পারবে না কারণ এরা বিষোদগার করা ছাড়া আর কিছুই জানেনা আর সহিংসতা ছাড়া অন্য কিছু শিখায় না। প্রতি বছরই পাকিস্তানে এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটে ফলে অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়। কারবালায় শিয়া-সুন্নি পরস্পরের উপর আক্রমন করে। প্রশাসন মৌলভীদের নিয়ে শান্তি কমিটি বানাতে বাধ্য হয়। ফলে মহররমের দিন ভালোয় ভালোয় কাটলেও পরে এদের হৃদয় থেকে ঘৃণার লাভা উদগীরিত হয়। প্রচুর হানাহানির সংবাদ পাওয়া যায়। বাহ্যত দরূদ পাঠ করলেও এরা এমন জঘণ্য কাজ করে বেড়ায় যা অবিশ্বাস্য। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ ধরনের দরূদ পাঠকারীদের জন্য মহানবী (সা:) শাফা’য়াত করবেন কি?

হুযূর বলেন, আমাদের আহ্‌মদীদেরকে অধিকহারে দরূদ পাঠ করতে হবে আর বিশ্বের চলমান অস্থিরতা থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। যারা মহানবী (সা:)-এর আধ্যাত্মিক আত্মীয়-পরিজন তাদের বিরুদ্ধে কোনরূপ বাজে বা আপত্তিকর উক্তি করার কথা একজন মুসলমান ভাবতেও পারে না। আমাদের প্রিয় নবীর জীবন রক্ষায় যারা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন আর বুক পেতে তাঁকে আগলে রেখেছেন দরূদ পাঠের সময় তাদের পবিত্র চেহারা আমাদের চোখে ভাসতে থাকে। যাদের একজন কঠিনতম মূহুর্তে সাথী হিসেবে গুহায় তাঁর সাথে অবস্থান করেছেন, যার সম্পর্কে স্বয়ং রসূলুল্লাহ্ বলেছেন,

لَاتَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا

অর্থ: দু:খ করোনা, নিশ্চয় আল্লাহ্ আমাদের সাথে আছেন।

খোদা তা’লা স্বয়ং তাঁকে মহানবী (সা:)-এর পবিত্��� সাথী আখ্যায়িত করেছেন; এতদসত্বেও এমন পবিত্রচেতা বুযুর্গদের বিরুদ্ধে অবমানননাকর কথা বলতে এদের হৃদয় কাঁপে না। সকল মুসলমানই মহানবী (সা:)-এর আল্ বা বংশধরদের জন্য দোয়া করেন আর এ দোয়াতে কেবল তাঁর রক্তসম্পর্কের বংশধররাই নয় বরং যারা তাঁর সাথে আধ্যাত্মিকতার বন্ধনে আবদ্ধ তারাও অন্তর্ভূক্ত। আজ তাঁরা কেউই এসব নামধারী মুসলমানদের আক্রোশ এবং হিংসা-বিদ্বেষ থেকে নিস্তার পাচ্ছে না। আপনারা সত্যিকার ভালবাসার প্রেরণা নিয়ে দরূদ পাঠ করুন এবং তাঁদের জন্য দোয়া করুন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘একবার ইলহাম হয় যার অর্থ হচ্ছে, আরশে ফিরিশ্তারা মতবিনিময় করছিল যে, ধর্মকে সঞ্জীবিত করার জন্য খোদার ইচ্ছা প্রবল কিন্তু এখনও খোদার দরবারে সংস্কারক নির্ধারিত হয়নি এজন্য তারা মতভেদ করছে। এ সময় স্বপ্নে দেখলাম যে, ফিরিশ্তারা একজন সংস্কারককে খুঁজে ফিরছে। তখন এক ব্যক্তি এই অধমের সামনে আসেন এবং ইঙ্গিতে তিনি বলেন, হাযা রাজুলুন ইউহিব্বু রাসূলাল্লাহি অর্থাৎ, এই সেই ব্যক্তি যিনি রসূলুল্লাহ্‌কে ভালবাসেন। এবং এ কথার অর্থ ছিল, এই পদের জন্য প্রধান শর্ত হচ্ছে, রসূলের প্রতি ভালবাসা; যা এই ব্যক্তির মধ্যে সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। একইভাবে উপরোক্ত ইলহামে রসূলের বংশধরদের প্রতি দরূদ প্রেরণ করার যে নির্দেশ রয়েছে এর রহস্য হলো, ঐশী জ্যোতি থেকে কল্যাণ মন্ডিত হবার জন্য আহলে বায়তকে গভীরভাবে ভালবাসার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হন তিনি সেইসব পুণ্যাত্মাদের উত্তরাধিকার লাভ করেন এবং সকল জ্ঞান ও মা’রেফতের উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত হন। এ স্থলে একটি খুবই প্রাঞ্জল কাশ্‌ফের কথা মনে পড়ছে আর তা হলো, একদা মাগরিবের নামাযের পর একেবারে জাগ্রত অবস্থায় সামান্য তন্দ্রাভাব হয় যা হালকা নেশাতুল্য ছিল। তখন বিস্ময়কর পরিস্থিতির অবতারণা হয়, প্রথমে একবার কয়েকজনের খুব দ্রুত আসার শব্দ পাই, দ্রুত হাটার সময় যেভাবে জুতো এবং মোজার শব্দ হয়। তারপর ঠিক সে সময় পাঁচজন সুদর্শন সম্মানিত মানুষ সামনে এসে যান অর্থাৎ রসূলুল্লাহ্ (সা:), হযরত আলী (রা:), হযরত হাসান ও হুসাইন (রা:) এবং ফাতেমা (রা:)। উনাদের মধ্য থেকে একজন এবং যতটা মনে পড়ছে যে, হযরত ফাতেমা (রা:) একান্ত স্নেহ এবং ভালবাসার সাথে মমতাময়ী মায়ের মত এই অধমের মাথা তাঁর ঊরুর উপর রাখেন। এরপর আমাকে একটি গ্রন্থ প্রদান করা হয়। যার সম্পর্কে বলা হয় যে, এটি কুরআনের তফসীর যা আলী (রা:) রচনা করেছেন। এখন আলী (রা:) সেই তফসীর তোমাকে দিচ্ছেন, ফালহামদুলিল্লাহি আলা যালিক (সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র)।’ (বারাহীনে আহ্‌মদীয়া, রূহানী খাযায়েন, ১ম খন্ড-পৃষ্ঠা:৫৯৮-৫৯৯ টীকা-পাদটীকা-নাম্বার: ৩)

হুযূর বলেন, অনেকে এই ইলহাম বিকৃত করে বলে যে, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ:) ফাতেমার (রা:) অবমাননা করেছেন। এটি মূলত তাদের নোংরা চিন্তাধারার বহি:প্রকাশ। বিশৃংখলা পরায়ণ মৌলভীরা এই কাশ্‌ফের পুরো শব্দাবলী তুলে ধরেনা বরং আংশিক কথা বলে মানুষকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে আর মানুষও যাচাই-বাছাই না করেই মোল্লাদের অন্ধ অনুকরণ করে। মোল্লারা বাকীসব কথা বাদ দিয়ে বলে, মির্যা সাহেবের মাথা নাকি ফাতেমার ঊরুতে রেখেছেন। অথচ হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর ইলহামে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, তিনি পরম মমতাময়ী মায়ের মত আমার মাথা তাঁর ঊরুতে রেখেছেন! মায়ের ব্যাপারে কেউ নোংরা কোন চিন্তা করতে পারে কি? হ্যাঁ কেবল এ ধরনের মোল্লারাই এমন নোংরা ও কদর্য চিন্তা করতে পারে। অথচ এই ইলহামে আল্লাহ্ তা’লা মহানবী (সা:)-এর প্রতি অগাধ ভালবাসা ও ভক্তির কারণে মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর উন্নত পদমর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। খোদার নৈকট্য লাভ করার জন্য সেইসব পবিত্র ও নিষ্পাপ লোকদের নৈকট্য পাওয়া এবং তাদের উত্তরাধিকার পাওয়া আবশ্যক আর খোদার প্রেমাস্পদ ও প্রিয়দের ভালবাসা পাওয়া প্রয়োজন। এটি যদি মোল্লারা বুঝতো তাহলে আজ মুসলমানদের মাঝে এমন ঘৃণা ও বিদ্বেষের দেয়াল দাঁড় করাতো না। এ ধরনের মোল্লারা নিজেদের মনগড়া এসব হীন ও ঘৃণ্য অপকর্ম করতে গিয়ে খোদার পুণ্যবান বান্দাদের দুর্নাম করে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে বিবেক খাটাতে হবে। মহানবী (সা:) খোদার ভালবাসা পাবার জন্য যেসব দোয়া শিখিয়েছেন তাতে খোদার নৈকট্যের পাশাপাশি পুণ্যবানদের ভালবাসা পাবার জন্যও দোয়া রয়েছে। একটি দোয়া হলো,

اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يَنْفَعُنِي حُبُّهُ عِنْدَكَ

অর্থ: ‘হে আল্লাহ্! আমাকে তোমার ভালবাসা দাও এবং আমার হৃদয়ে সেই ব্যক্তির প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি করো যার ভালবাসা তোমার সন্নিধানে আমার কাজে আসবে।’ (সুনানে তিরমিযী-বাব:আবওয়াবুদ্ দাওয়াত)

রসূলের ভালবাসাই সবার কাজে আসবে। আমাদের দায়িত্ব তাঁর নির্দেশ মান্য করা আর তিনি যাদেরকে ভালবাসতেন তাদেরকে ভালবাসা ও শ্রদ্ধা করা। অগণিত রেওয়ায়েত থেকে জানা যায় যে, তিনি (সা:) যেভাবে তাঁর আপন আত্মীয়-স্বজনকে ভালবাসতেন সেভাবে তাঁর মান্যকারী আধ্যাত্মিক বংশরূপী সাহাবীদেরকেও ভালবাসতেন। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা:) বলেন,

‘যারা তাঁর ভালবাসার পাত্রের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করবে খোদা তা’লা তাদের প্রতি রহমত করবেন।’

কেবল প্রথম যুগের সাহাবারাই এ শ্রেণীভূক্ত নন বরং কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল রসূল প্রেমিকের জন্য রসূলুল্লাহ্ (সা:) ভালবাসার উপদেশ দিয়ে গেছেন। আজ মুসলমানরা যদি এই রহস্যটি বুঝে তাহলে কোনরূপ বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য দেখা দিতে পারে না। কখনও পরস্পরের মসজিদে আত্মঘাতি বোমা হামলা করতে পারে না। মুসলমানদের চিন্তা করা উচিত যে, আজ কি কারণে এসব হচ্ছে। একটি যুগ ছিল যখন পরস্পরের প্রতি ভালবাসা এবং মমত্ববোধ পরিদৃষ্ট হতো। কিন্তু আজ সর্বত্র পরস্পরের বিরুদ্ধে শুধু ঘৃণার বিষবাস্প ছড়ানো হচ্ছে। কি হয়েছে তোমাদের? কার ক্রোধের দৃষ্টি পড়েছে তোমাদের উপর? কোথায় তোমরা অবাধ্যতা প্রদর্শন করেছ, তা একটু চিন্তা করে দেখো! তোমাদের দুর্বলতা কোথায় তা খুঁজে বের করো।

অতএব আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের মঙ্গল এবং কল্যাণের জন্য দোয়া করে যাওয়া। আমি পুনরায় আহ্‌মদীদের বলছি, আপনারা এ মাসে অজস্রধারায় দরূদ শরীফ পাঠ করুন এবং উম্মতে মুসলেমার মধ্য হতে পারস্পরিক বিবাদ-বিসম্বাদ দূরীভূত হবার জন্য বেশি বেশি দোয়া করুন। মহানবী (সা:) এবং সে সকল মানুষ যাদেরকে তিনি ভালবাসতেন তাদের এমনভাবে ভালবাসুন যার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া ভার। মসীহ্ মওউদ (আ:) হযরত হুসাইন (রা:) সম্পর্কে বলেন,

‘হযরত হুসাইন (রা:) পবিত্রকারী ও পবিত্র ছিলেন এবং নি:সন্দেহে সেইসব মনোনীত লোকদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন যাদেরকে খোদা তা’লা নিজ হাতে পবিত্র করেছেন। স্বীয় ভালবাসায় খোদা তাঁকে সমৃদ্ধ করেছেন। নি:সন্দেহে তিনি বেহেশ্তের সর্দারদের অন্তর্ভূক্ত। তাঁর প্রতি বিন্দু পরিমাণ বিদ্বেষ পোষণ করাও ঈমান হারানোর কারণ। তাঁর ঈমান, খোদার প্রতি ভালবাসা, ধৈর্য্য, ত্বাকওয়া, দৃঢ়চিত্ততা, খোদাভীতি ও ইবাদতের মান আমাদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। সে হৃদয় ধ্বংসপ্রাপ্ত যে তাঁর প্রতি শত্রুতা রাখে। আর সফলকাম সেই হৃদয় যা কার্যত তাঁর প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করে।’

অতএব প্রত্যেক আহ্‌মদীকে হযরত হুসাইন (রা:)-এর প্রতি এমনই ভালবাসা পোষণ করা উচিত। হযরত মসীহ মওউদ (আ:) হযরত আবু বকর সিদ্দিক, হযরত উসমান এবং হযরত উমর (রা:)-এর জন্য আমাদের হৃদয়ে ভালবাসা সঞ্চার করেছেন একইভাবে সাহাবীদের পদমর্যাদা সম্পর্কেও আমাদের মাঝে সচেতনতা রয়েছে। অতএব রসূলের প্রতি যাদের ভালবাসা রয়েছে তাদের জন্য আমাদের হৃদয়ে ভালবাসা থাকা আবশ্যক। সাহাবীদের পদমর্যাদার কথা বলতে গিয়ে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) একস্থানে বলেন,

‘সাহাবায়ে কেরাম খোদা এবং তাঁর রসূল (সা:)-এর খাতিরে এমন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করে��েন যে কারণে তাদেরকে ‘রাযিআল্লাহ্ আনহুম ওয়া রাযু আনহুম’ এর শুভ সংবাদ দেয়া হয়েছে।’

এটি সেই মহান মর্যাদা যা সাহাবাগণ লাভ করেছেন। খোদা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তাঁরাও খোদার প্রতি সন্তুষ্ট, এই শুভ সংবাদ তাদেরকে দেয়া হয়েছে। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা:) সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় আদম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রসূলের প্রতিচ্ছবি। তিনি নবী ছিলেন না সত্যি কিন্তু তাঁর মধ্যে নবী এবং রসূলের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী এবং আধ্যাত্মিক শক্তি ছিল।’

আরেকটি হাদীসে রসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেছেন,

‘শয়তান উমরের ছায়া দেখলেও পলায়ন করে’

অন্য আর একটি হাদীসে তিনি (সা:) বলেন,

‘আমার পর যদি কেউ নবী হবার থাকতো তাহলে উমর (রা:) নবী হতো।’

অন্যত্র এসেছে,

‘পূর্ববর্তী বিভিন্ন উম্মতে অনেকেই মোহাদ্দিসের পদমর্যাদা লাভ করেছেন আর এই উম্মতের মধ্যে যদি কেউ মোহাদ্দিস থেকে থাকেন তিনি হলেন উমর (রা:)।’

হুযূর বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে রসূলের সব প্রিয়ভাজনই একান্ত সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয়। আল্লাহ্ তা’লা উম্মতে মুসলেমাকে সকল মতভেদ ভুলে যাবার তৌফিক দিন। আজ বহি:শত্রুরা ইসলামের উপর চরম আক্রমন হানছে, এমতাবস্থায় আমাদেরকে খোদার দরবারে সমর্পিত হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও সঠিক নির্দেশনা না থাকার কারণে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তারা নিজেরাই নিজেদের দুর্দশার জন্য দায়ী। এ যুগ সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যে, ধর্মের নামে কোন যুদ্ধ হবে না। ধর্মের নামে কেউ যুদ্ধ করলে সে ব্যর্থই হবে। আর এমনিতেই এই যুদ্ধে কোন ভারসাম্য নেই। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত যাতে নিরীহ এবং বেসামরিক লোকজন মারা না যায়। ইসরাইল নিরীহ লোকদের উপর আক্রমন করছে, যদিও তারা কোন কোন লক্ষ্যেও আঘাত হানছে কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ মারা পড়ছে। এখানকার পত্র-পত্রিকাতেও ব্যাপক লেখালেখি হচ্ছে যে, একজনের বিপরীতে তোমরা শ’ দেড়’শ মানুষকে হত্যা করছ। তাদের সাথে খোদা কি ব্যবহার করবেন বা তাদের কি পরিণতি হবে তা খোদার তকদীর স্বয়ং সিদ্ধান্ত করবে আর কুরআন থেকে এটিই বুঝা যায়। অতএব ফিলিস্তিনিদের জন্য যদি কিছু করতে চান তাহলে মুসলমানদের উচিত হবে খোদার দরবারে বিনত হওয়া এবং তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করা। খোদা তা’লা অত্যাচারীকে যে শাস্তি দেবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু মুসলমানদের উচিত যুগ ইমামের আহবানে সাড়া দেয়া এবং যুগ ইমামকে শনাক্ত করা। আমি যখনই এখানে অমুসলিমদের সামনে বলার সুযোগ পেয়েছি তাদেরকে বলেছি যে, যদি তোমরা মানুষের প্রতি ইনসাফ বা সুবিচার না করো তাহলে নিজেদেরকে ভয়াবহ যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেবে। নিরীহ লোকদের উপর যুলুম করে তোমরা কখনই রেহাই পাবে না। এদেরকে সবসময় একথাই বলা হয়েছে যে, তোমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিওনা এবং ইনসাফের দাবী সমুন্নত রাখো। খোদা করুন যাতে এই বড় বড় পরাশক্তিগুলো সুবিচারের দাবী মোতাবেক কাজ করে নতুবা এটি একটি বা দু’টি দেশের যুদ্ধের ব্যাপার নয় বরং বিশ্বজনীন ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে, বর্তমান পরিস্থিতিও এ কথাই বলছে।

হুযূর বলেন, আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে বেশি বেশি দোয়া এবং দরূদ পাঠ করার তৌফিক দিন যেন এই পৃথিবীকে আমরা ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। খোদা করুন পৃথিবীবাসী যেন এই বাস্তবতা অনুধাবন করে এবং ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়। এই নতুন বছর জামাতে আহ্‌মদীয়ার জন্য সহস্র সহস্র রহমত ও বরকত বয়ে আনুক। আমরা যেন খোদার অপার কৃপায় নিত্য-নতুন সফলতার সোপান মাড়াতে পারি। সকল অর্থে এই নতুন বছর আহ্‌মদীদের জন্য বয়ে আনুক প্রভূত কল্যাণ, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে