In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহতা’লার ঐশী গুণ ‘আশ্‌-শাফী’ (আরোগ্য দাতা)

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

২৬শে ডিসেম্বর, ২০০৮ইং

আল্লাহ্ তা’লা মানুষের শারীরিক আরোগ্যের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক আরোগ্যের বিধান করেছেন আর পবিত্র কুরআনেই রয়েছে সকল প্রকার ব্যাধি থেকে মুক্তির উপকরণ

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, গত খুতবায় আমি আল্লাহ্ তা’লার শাফী বা আরোগ্যদাতা বৈশিষ্ট্যের উপর খুতবা দিতে গিয়ে শারীরিক আরোগ্য সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে, আল্লাহ্ তা’লা তাঁর বান্দাদের রোগ নিরাময়ের জন্য বিভিন্ন বস্তুতে আরোগ্যের বহুবিধ উপকরণ রেখেছেন কিন্তু আরোগ্যর পিছনে মূল শক্তি হলেন আমাদের মহান খোদা। তাঁর ইচ্ছায় মানুষের দোয়ার মধ্যে একটি বিশেষ শক্তি সৃষ্টি হয়। আমি বলেছিলাম যে, অনেক সময় বাহ্যিক সকল প্রকার চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় আর সেখানে কাজ করে মানুষের অনুনয়-বিনয় এবং বিগলিত চিত্তের কান্না। একে গ্রহণ করত: খোদা তা’লা মানুষকে আরোগ্য দান করেন এবং মানুষ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসে। দোয়ার মাধ্যমে মানুষ আরোগ্য লাভের অলৌকিক নিদর্শন দেখে থাকে ফলে খোদার প্রতি একজন মু’মিনের ঈমান এবং বিশ্বাস দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয় আর খোদার সত্ত্বাই যে সকল শক্তির আধার এর উপর মানুষের ঈমান বৃদ্ধি পায় ও আধ্যাত্মিক উন্নতি হয়। অথবা এভাবেও বলা যেতে পারে যে, শারীরিক আরোগ্যের ফলে অনেক সময় আধ্যাত্মিক আরোগ্যের ভিত্তি রচিত হয়। বস্তুত পক্ষে মানব জীবনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সকল প্রকার কৌলুস থেকে মুক্ত হয়ে আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে উন্নতি করতে থাকা এবং এ ধারা চলমান রাখার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। এবং খোদার সত্যিকার দাসত্ব বা তাঁর নির্দেশে উঠাবসা করার অবিরত চেষ্টা করে যাওয়া। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর বান্দাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যদি তোমরা আমার ইবাদতের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী হও তাহলে তোমরা শারীরিক আরোগ্যের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভের দৃষ্টান্তও প্রতিনিয়ত দেখতে পাবে। আমাদের প্রতি আল্লাহ্ তা’লার কত বড় অনুগ্রহ যে, তিনি কামেল ও পরিপূর্ণ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা:)-এর মাধ্যমে আমাদেরকে আধ্যাত্মিক ব্যাধি থেকে মুক্ত করার জন্য পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা হিসেবে পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন। পবিত্র কুরআন মানুষের জন্য এক মহা আরোগ্য আর একথা স্বয়ং খোদা তা’লা পবিত্র কুরআনেরই বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন। গত খুতবায় আমি মৌমাছির বরাতে এক প্রকার আরোগ্যের কথা বলেছিলাম আর সেটি ছিল শারীরিক আরোগ্যের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু যদি আপনারা গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন তাহলে মৌমাছির মাধ্যমে আধ্যাত্মিক আরোগ্যের বিধানও শনাক্ত করা যায়। আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে এ প্রসঙ্গে বলেন,

وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ

অর্থ: ‘এবং তোমার প্রভু মৌমাছির প্রতি ওহী করছেন।’ (সূরা আন্ নাহ্‌ল: ৬৯)

যারফলে সে উঁচু স্থানে বাসা বাঁধে, ফুলের রস আহরণ করে এবং বিভিন্ন ধাঁপ অতিক্রমের পর তাথেকে মধু উৎপন্ন হয়। আর সেই মধু সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেছেন,

شِفَاءٌ لِلنَّاسِ

অর্থাৎ ‘মানুষের জন্য এতে আরোগ্য রয়েছে’।

এ আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন,

إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ

অর্থ: ‘নিশ্চয় এর মধ্যে সেই জাতির জন্য নিদর্শন রয়েছে যারা চিন্তা করে।’ (সূরা আন্ নাহ্‌ল:৭০)

এখানে আল্লাহ্ তা’লা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, তাহলো একটি সামান্য মাছিকে আল্লাহ্ তা’লা ওহী করেন যার কল্যাণে সে এমন বস্তু উৎপন্ন করে যা মানুষের জন্য আরোগ্যের কারণ। আজ মুসলমান অমুসলমান সবাই একবাক্যে এ কথা স্বীকার করে যে, মধুতে আরোগ্য রয়েছে। এথেকে বুঝা যায় যে, সবকাজের জন্য আল্লাহ্‌র ওহীর আবশ্যকতা রয়েছে। আল্লাহ্ বলেন, হে লোক সকল! তোমাদের মধ্য থেকে যারা খোদার সত্ত্বাকে অস্বীকার করছো, তোমরা মধু সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি নিয়ে ভাবলে দেখবে, ফুল থেকে রস সংগ্রহ এবং এরপর মধু উৎপাদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ওহীর আলোয় সম্পন্ন হয়। এটি থেকে বুঝা যায় যে, একটি সাধারণ প্রাণীও নিজ কার্য সম্পাদনের জন্য খোদার ওহীর মুখাপেক্ষী। সুতরাং মানুষ কি করে বলতে পারে যে, সে আপনা আপনিই হেদায়াত লাভ করবে অথবা তার জন্য কোন হেদায়াতদাতার প্রয়োজন নেই কেননা সবকিছু স্বয়ংক্রিয় ভাবেই হচ্ছে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) এ প্রসঙ্গে বলেন,

‘একজন বস্তবাদী মানুষ মনে করতে পারে যে, সে স্বীয় চেষ্টা-প্রচেষ্টা দ্বারা আপন উদ্দেশ্য অর্জন করবে বা করে। অথচ তার চেষ্টাও এক প্রকার দোয়া এবং এর ফলশ্রুতিতে তার মাথায় যে পরিকল্পনা আসে তাও মূলত: একপ্রকার ওহী।’

সুতরাং মৌমাছির কর্ম থেকে মানুষের শিক্ষা নেয়া উচিত যে, আল্লাহ্ তা’লার দিকনির্দেশনা ছাড়া কোন কিছুরই উন্নত মার্গে পৌঁছা অসম্ভব। মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব আখ্যায়িত করা হয়েছে; তার জন্য দু’টি জীবন নির্ধারিত রয়েছে এর একটি হচ্ছে ইহকাল আরেকটি মৃত্যু পরবর্তী স্থায়ী বা অনন্ত জীবন। স্মরণ রাখা আবশ্যক যে, ইহলৌকিক কর্মই হচ্ছে পারলৌকিক জীবনের ভিত্তি। সে কর্ম কি? তা হলো খোদা নির্দেশিত পথে কৃত কাজ। যখন খোদা নির্দেশিত কর্মের উপরই পরকালের ভিত্তি তখ��� খোদার ওহী ব্যতীত সেই কর্ম কিরূপে সফলভাবে সম্পাদিত হতে পারে?

হুযূর বলেন, আল্লাহ্ তা’লা যুগে যুগে নবীদের মাধ্যমে মানুষকে পথ নির্দেশনা দিয়ে আসছেন আর এরই ধারাবাহীকতায় এ ধরায় আবির্ভূত হয়েছেন পরিপূর্ণ ও কামেল নবী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা:) এবং নিয়ে এসেছেন সর্বশেষ ও পরিপূর্ণ জীবন বিধান-আল্ কুরআন। আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে মানুষের আধ্যাত্মিক আরোগ্যর কথা বিভিন্ন ভাবে বর্ণনা করেছেন আর পবিত্র কুরআনও যে মানুষের আধ্যাত্মিক আরোগ্যের পাশাপাশি দৈহিক আরোগ্যের কারণ তাও বিভিন্ন আয়াতে সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে।

একবার কয়েকজন সাহাবী একটি এলাকায় যান। সে এলাকার গোত্র প্রধান সর্প দংশনের কারণে মারাক্তকভাবে অসুস্থ্য ছিলেন। একজন সাহাবী তাকে দম (ঝার-ফুক) করেন ফলে তিনি পূর্ণ আরোগ্য লাভ করেন। সাহাবীরা ফিরে এসে একথা মহানবী (সা:)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি (সা:) সেই সাহাবীকে জিজ্ঞেস করেন ‘তুমি কিভাবে দম করেছিলে’? তিনি (রা:) বলেন, ‘হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি সূরা ফাতিহা পাঠ করে দম করেছি’। তিনি (সা:) বললেন, ‘তুমি সঠিক কাজ করেছো কিন্তু তুমি কি করে জানলে যে, সূরা ফাতিহাতে আরোগ্য নিহিত আছে’? ঘটনার এখানেই শেষ নয় বরং সুস্থ্য হওয়ার পর সেই সর্দার সাহাবীদেরকে উপহার স্বরূপ একটি ছাগপাল প্রদান করতে চান কিন্তু তাঁরা তা গ্রহণ করেন নি। একথা শুনে তিনি (সা:) বললেন, ‘যদি কেউ স্বইচ্ছায় কিছু দেয় তাহলে তা গ্রহণ করবে’। সাহাবীর উপহার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর কারণ হলো কুরআনের এই নির্দেশ যে, ‘তোমরা পবিত্র কুরআনকে আয়-রোজগারের মাধ্যম বানাবে না’।

বর্তমান যুগে পীর-ফকির এবং যেসব মোল্লা-মৌলভী তাবীজ-কবচের ব্যবসা করে তাদের জন্য এতে একটি শিক্ষা রয়েছে। যাইহোক খোদার অপার কৃপায় আমরা আহ্‌মদীরা এধরনের হীন কর্ম থেকে মুক্ত। পবিত্র কুরআন যে আধ্যাত্মিক ব্যাধির পাশাপাশি দৈহিক ব্যাধি থেকেও নিরাময়ের কারণ সে সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে অনেক আয়াত রয়েছে; এর মধ্য থেকে আমি কয়েকটি আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরবো কিন্তু তার পূর্বে আমি আরেকটি কথা এখানে স্পষ্ট করতে চাই। পবিত্র কুরআন সর্বোত্তম ওহী ভিত্তিক গ্রন্থ, এতে খোদার ওহী উৎকর্ষতা লাভ করেছে কিন্তু তাই বলে কোনভাবেই কুরআনের পর ওহীর ধারা বন্ধ হয়ে যায়নি। মহানবী (সা:)-এর পূর্বে অনেক এমন নবী এসেছেন যারা কোন নুতন শরীয়ত নিয়ে আসেন নি কিন্তু প্রয়োজনে খোদা তাদের প্রতি ওহী করে নির্দেশনা দিয়েছেন আর এ ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে। শরীয়ত সম্বলিত ওহীর ধারা পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে ইতি ঘটলেও অন্যান্য ওহীর ধারা কোন ক্রমেই বন্ধ হয়ে যায়নি, আজও খোদা তা’লা তাঁর মনোনীত বান্দাদের সাথে কথা বলেন।

এ প্রসঙ্গে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) হযরত মূসা (আ:)-এর দৃষ্টান্ত উল্লেখ পূর্বক বলেন,

‘তাঁর উপর তওরাতরূপী শরীয়ত নাযেল হয়েছে কিন্তু তারপর অগণিত নবী প্রেরণ করেছেন যেন তারা মূসা (আ:)-এর সত্যায়ন ও সমর্থন করেন। কিন্তু কালের প্রবাহে মানুষ যখন শরীয়তের শিক্ষার উপর আমল করা ছেড়ে দেয় তখন সেই শরীয়তের অধীনে খোদা যে সকল নবী প্রেরণ করেন তাদের প্রতিও তিনি ওহী করেছেন এবং তাদের সাথে আল্লাহ্ তা’লার কথোপকথোন হয়েছে।’

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘কুরআনের পর ওহীর দ্বার রুদ্ধ হয়নি।’

বরং তিনি নিজের দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে বলেছেন,

‘খোদার সাথে তাঁর সরাসরি বাক্যালাপ হয়েছে, খোদা তাঁকে সম্বোধন করেছেন, খোদা তা’লা তাঁকে কুরআনের শিক্ষার সমর্থনের জন্য এবং কুরআনের শিক্ষা প্রসারের জন্য আবির্ভূত করেছেন। যেনো খোদার সাথে বাক্যালাপ বা কথোপকথোন কোন অতীতের কাহিনী বিবেচিত না হয় বরং এটি একটি চলমান ও ধ্রুব সত্য এবং বাস্তব বিষয় হিসেবে গৃহীত হয়। কুরআনের অবস্থান যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতির ঊর্ধ্বে এর উপর এবং মহানবী (সা:) ও খোদার সত্ত্বার প্রতি পরিপূর্ণ ঈমানের উপর মানুষ যেন প্রতিষ্ঠিত হয়।’

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘আমাদের কথা হলো, একটি দীর্ঘসময় অতিবাহিত হবার পর ভ্রান্ত চিন্তাধারার কুয়াশা যখন পবিত্র শিক্ষার উপর ছেয়ে যায় এবং সত্যের চেহারা ম্লান হয়ে যায় তখন সেই আকর্ষণীয় চেহারা মানুষের সামনে পুন: তুলে ধরার জন্য মোজাদ্দেদ, মুহাদ্দেস এবং আধ্যাত্মিক বা রূহানী খলীফার আগমন ঘটে থাকে। তাঁরা ধর্মকে রহিত করার জন্য নয় বরং ধর্মের উজ্জল্য ও জ্যোতি প্রকাশের জন্য আবির্ভূত হন।’

হুযূর বলেন, আমাদের ঈমান হলো, চতুর্দশ শতাব্দীতে পবিত্র কুরআনের অনুপম এবং অমোঘ শিক্ষামালা মানুষের সামনে পুনরায় তুলে ধরার জন্য খোদা তা’লা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে ধরায় আবির্ভূত করেছেন। হযরত মসীহ মওউদ (আ:)-এর পর আজ পৃথিবীতে কুরআনের সত্যিকার শিক্ষা ও অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করা খিলাফতের অন্যতম কাজ। কুরআনরূপী উৎকর্ষ শিক্ষা থেকে যাতে পৃথিবী কল্যাণমন্ডিত হয়ে নিজেদের ব্যাধি নিরাময়ের বিধান করতে পারে তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ত্ব। আজ হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জামাতের উপর যারা আপত্তি করে তারা একবার স্বয়ং ভেবে দেখতে পারে যে, বর্তমান যুগে বড় বড় ফকীহ্ এবং মুফাসসেরদের বিদ্যমান থাকা সত্বেও কুরআন বলে যে, ‘কুরআন মানুষের বক্ষ পরিস্কার করে’ এ দাবী সত্য প্রমাণিত হচ্ছে না, এর কারণ কি? তবে কি কুরআনের এ দাবী মিথ্যা? না কখনই নয় বরং দায়ী হচ্ছে তারা যারা বলে আমাদের হাতে কুরআন আছে তাই আমাদের কোন ইমাম মাহদীর প্রয়োজন নেই।

এরপর হুযূর আনোয়ার (আই:) বলেন যে, পবিত্র কুরআন হলো আরোগ্য আর এ কথা তিনি বিভিন্ন আয়াত এবং মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর লেখনীর আলোকে প্রমাণ করেন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْـقُرْاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّرَحْمَةٌ لِّـلْمُؤْمِنِيْنَ‌ۙ وَلَا يَزِيْدُ الظّٰلِمِيْنَ اِلَّا خَسَارًا‏

অর্থ: ‘এবং এই কুরআনের যা কিছু আমরা ধীরে ধীরে নাযেল করি তা মু’মিনদের জন্য আরোগ্য এবং রহমত বিশেষ, কিন্তু এটি যালেমদেরকে কেবল ক্ষতিতেই বৃদ্ধি করে।’ (সূরা বনী ইসরাঈল: ৮৩)

এ আয়াতে আল্লাহ্ তা’লা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, এই কুরআন বিশ্বাসীদের জন্য শেফা বা আরোগ্য আর রহমত কিন্তু অবিশ্বাসীদের জন্য এতে ক্ষতি ছাড়া কিছুই নেই। কুরআনের সূচনাতেই আল্লাহ্ তা’লা এ ব্যাপারে একটি ধ্রুব সত্য কথা ঘোষণা করেছেন যে,

الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ ذَلِكَ

অর্থ: ‘এটি সেই কামেল (পূর্ণতম) কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই; যা হেদায়াত (পথ-নির্দেশ) মুত্তাকীদের জন্য।’ (সূরা আল্ বাকারা: ৩)

মোটকথা, এই কুরআনে মু’মিনদের জন্য রয়েছে পথ-নির্দেশনা ও আরোগ্য আর হিংসা-বিদ্বেষের কারণে অবিশ্বাসীদের জন্য এতে কোন কল্যাণ নেই তাদের হৃদয়ে খোদা মোহর মেরে দিয়েছেন। এই কুরআন থেকে কেবল তারাই কলাণমন্ডিত হন যারা ঈমান আনার পর তা লালন করে। আজ যুগ মসীহ্ (আ:) আমাদের সম্মুখে কুরআনের রহস্য এবং মা’রেফত এমন প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরেছেন যা আমাদের হৃদয়ের পঙ্কিলতা দূর করছে। এখন আমরা বুঝতে পারছি যে, ঔষধতো পূর্বেও ছিল আর ব্যবহারও করতাম কিন্তু আমরা সঠিক ব্যবহার বিধি জানতাম না ফলে বিভিন্ন ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলাম; আজও যারা মসীহ মওউদ (আ:)-কে মানে না তারাও ঔষধ ব্যবহার করে ঠিকই কিন্তু কই তাদের ব্যাধিতো দূর হয়না। এর কারণ কি? অন্যতম কারণ হলো তারা খোদার মনোনয়নকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। খোদা তা’লা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তিনি আমাদেরকে যুগ মসীহ্‌কে মানার ফলে ব্যাধি মুক্ত করেছেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘এটি খোদার উক্তি যে, তোমার মাধ্যমে রুগ্নদের উপর আশিস বর্ষিত হবে-এই ���থাটি আধ্যাত্মিক ও দৈহিক উভয় প্রকার রুগ্নদের জন্য প্রযোজ্য। আধ্যাত্মিক অর্থে এ জন্য প্রযোজ্য যে, আমি দেখছি আমার হাতে এইরূপ হাজার হাজার বয়’আত গ্রহণকারী রয়েছেন যাদের ব্যবহারিক অবস্থা পূর্বে খারাপ ছিলো। কিন্তু বয়’আত করার পর তাদের কর্মের অবস্থা সুধরে গেছে এবং তারা হরেক প্রকার পাপ হতে তওবা করেছেন। তারা নিষ্ঠার সাথে নামায আদায় করেন। আমার জামাতের শত শত লোক আমি এরূপ দেখেছি, যাদের হৃদয়ে এই দহন ও উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে যে, কীভাবে প্রবৃত্তির আকর্ষণ থেকে মুক্ত হওয়া যায়।’ (হাকীকাতুল ওহী, রূহানী খাযায়েন-২২তম খন্ড, পাদটীকা-পৃষ্ঠা: ৮৬-৮৭)

হুযূর বলেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’লা মানুষকে আরোগ্য দিয়েছেন তিনি হলেন মহানবী (সা:)-এর সত্যিকার দাস, কুরআন প্রেমিক, যাকে মানলে আত্মা আরোগ্য লাভ করে শর্ত হলো পুরো সাবধাণতা এবং সচেতনতার সাথে এর থেকে লাভবান হবার চেষ্টা করা। কুরআনে উল্লিখিত সকল ভবিষ্যদ্বাণী মু’মিনদের পক্ষে অতীতেও পূর্ণ হয়েছে এবং আখারীনদের যুগেও পূর্ণ হবে। শয়তানের বিরুদ্ধে মু’মিনদের জামাতের যে যুদ্ধ চলছে তাতে অবশেষে মু’মিনরাই জয়যুক্ত হবে এবং বিরোধীরা হবে চরমভাবে ব্যর্থ ও নিষ্ফল।

হুযূর বলেন, এই ভবিষ্যদ্বাণী মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর যুগেও চলমান রয়েছে। তাই আমি সহমর্মিতার প্রেরণা নিয়ে সকল নেক স্বভাবের মুসলমানদেরকে বলবো, কুরআনের শিক্ষার সত্যিকার কল্যাণ এবং মঙ্গল আর এর শিক্ষায় অন্তর্নিহিত আরোগ্য ও রহমত এখন কেবল হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জামাতের সাথেই সম্পৃক্ত। কেননা মহানবী (সা:) জোরালোভাবে এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আর আল্লাহ্ তা’লাও বলেন, আখেরী যুগে যিনি আসবেন তাঁর জামাতের সাথে যুক্ত হলেই সেই কল্যাণ লাভ করবে যা পূর্ববর্তীরা লাভ করেছিলেন।

এরপর হুযূর বলেন, আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِىْ الصُّدُوْرِ ۙ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لِّـلْمُؤْمِنِيْنَ‏

অর্থ: ‘হে মানবমন্ডলী! তোমাদের প্রভুর পক্ষ হতে তোমাদের নিকট নিশ্চয়ই উপদেশবাণী এসেছে এবং বক্ষসমূহে যা কিছু ব্যাধি আছে এর জন্য আরোগ্য এবং মু’মিনগণের জন্য হিদায়াত ও রহমত।’ (সূরা ইউনুস: ৫৮)

এ আয়াতে আল্লাহ্ তা’লা সবাইকে বলেছেন যে, এটি খোদার বাণী। আকাশ এবং পৃথিবীতে কোন বস্তুই এমন নেই যা তাঁর প্রতিপালনের গন্ডি বহির্ভূত, তাই তোমরা আমার এই রসূলকে অস্বীকার করো না যাঁকে আমি প্রেরণ করেছি। তিনি এই কুরআনের মাধ্যমে তোমাদেরকে আধ্যাত্মিক ব্যাধি থেকে মুক্ত করবেন যাতে তোমরা সত্যিকারেই খোদার বান্দা হতে পারো। এই গ্রন্থ মহানবী (সা:)-এর প্রতি নাযিল করে আল্লাহ্ তা’লা মানব জাতির প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন, যা মানুষকে প্রথমে চরিত্রবান এবং পরবর্তীতে খোদাপ্রেমী মানুষে পরিণত করে। অতএব মানুষকে এমন কামেল গ্রন্থের অনুসরণ করা উচিত যেন তার ইহ ও পরকাল সুনিশ্চিত হতে পারে আর তার জন্মের উদ্দেশ্য সফল হয়। উপদেশ প্রদান করার এই যে কুরআনী রীতি তা কত আকর্ষণীয় ও অনুপম। মানুষ যদি একটু বিবেক খাটায় এবং চিন্তা করে তাহলে জানতে পারবে যে, ইসলাম জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে প্রসার লাভ করেনি বরং সকল যুগে কুরআনের পবিত্র উপদেশবাণী মানুষ মেনে ও গ্রহণ করে ধন্য হয়েছেন এবং যা কল্যাণকর তা মেনে সৌভাগ্যবান হয়েছেন। মহানবী (সা:) কোন দল গঠন করে মানুষের উপর শ্রেষ্ঠত্ব পাবার চেষ্টা করেন নি বরং তিনি মানুষের ভেতর মনুষত্ব বোধ এবং বিবেক জাগ্রত করে তাদেরকে মহান স্রষ্টার রঙে রঙিন করতে সচেষ্ট ছিলেন। তাদেরকে তিনি সদুপদেশ ও নসীহতের মাধ্যমে সত্যের প্রতি আকর্ষণ করেছেন; যেমন পবিত্র কুরআনে তবলীগের পন্থা এবং রীতি সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ

অর্থ: ‘তুমি হিকমত (প্রজ্ঞা) ও সদুপদেশ দ্বারা তোমার প্রতিপালকের পথের দিকে আহবান করো এবং তাদের সাথে এমন ভাবে মতবিনিময় করো যা সর্বাধিক উত্তম।’ (সূরা আন্ নাহ্‌ল: ১২৬)

এ আয়াতের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, পবিত্র কুরআনের অনুপম ও অমোঘ শিক্ষা মানুষের আধ্যাত্মিক ব্যাধি দূর করে। তবলীগের উদ্দেশ্য আদৌ দলভারী করা নয় বরং অন্যের প্রতি সহমর্মিতার প্রেরণা নিয়ে তাদের আধ্যাত্মিক উন্নয়নের জন্য ব্যাকুলতার সাথে সত্যের প্রতি আহবান জানানো। তাদেরকে এটি অবহিত করা যে, মহানবী (সা:)-এর উপর খোদার যে পবিত্র গ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে একে মেনে আধ্যাত্মিক রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করো। আল্লাহ্ তা’লার কৃপায় মহানবী (সা:)-এর সত্যিকার প্রেমিকের যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আজও আমরা অবিরত তাই করছি।

হুযূর বলেন, আমি বিশ্ববাসীকে বলতে চাই; আপনারা হাতে গোনা কতক উগ্রপন্থীকে দেখে ইসলামকে মূল্যায়ণ করবেন না আর এভাবে ইসলামের উপর অপবাদ আরোপের মত নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিবেন না। বরং ইসলামের ঔদার্য্যপূর্ণ ও সুমহান শিক্ষার প্রতি দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক। পবিত্র কুরআন দাবী করে যে,

شِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ

অর্থ: ‘বক্ষসমূহে যা কিছু (ব্যাধি) আছে তার জন্য আরোগ্য।’ (সূরা ইউনুস: ৫৮)

অতএব হৃদয়ই হলো মানুষের আরোগ্য ও সুস্থ্য চিন্তার-চেতনার কেন্দ্রবিন্দু। অবশ্য অনেকেই বলেন, চিন্তা করে মানুষের মস্তিষ্ক কিন্তু এখানে হৃদয়ের ব্যাধি দূর করার কথা বলা হয়েছে! হৃদয় ও মস্তিষ্কের মধ্যে কি সম্পর্ক তা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত রয়েছে কিন্তু একথা একেবারেই প্রমাণিত যে, হৃদয়ই হলো চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দু কেননা হৃদয় যতদ্রুত মস্তিস্কে তথ্য সরবরাহ করে মস্তিস্ক তত দ্রুত তথ্য সরবরাহ করে না। এখানে কথা প্রসঙ্গে হুযূর বলেন, আমাদের একজন প্রতিথযশা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: নূরী সাহেব তার চিকিৎসা কেন্দ্রে পবিত্র কুরআনের একটি বাক্য সুস্পষ্টভাবে লিখে রেখেছেন তাহলো

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

অর্থ: ‘আল্লাহ্‌র স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।’ (সূরা আর্‌ রা’দ: ২৯)

অতএব হৃদয়ই প্রশান্তির কেন্দ্র আর সে প্রশান্তি লাভ হয় খোদাকে স্মরণের মাধ্যমে।

কথা প্রসঙ্গে জানাচ্ছি যে, রাবোয়াতে প্রতিষ্ঠিত আমাদের তাহের হার্ট ফাউন্ডেশনে ডাক্তার নূরী সাহেব এবং তার নেতৃত্বে গঠিত একটি চৌকশ টীম নিরলসভাবে রোগীদের সেবা করে যাচ্ছেন। অনেক অতিথি ডাক্তার যারা আমেরিকা এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে সেখানে সাময়িক সেবাদানের জন্য যান তারাও বলেছেন, উনাদের হাতে খোদার ফযলে আরোগ্যের আশ্চর্যজনক ঘটনাবলী ঘটছে। এটি একান্তই খোদার কৃপা। আল্লাহ্ তা’লা তাদের নিরলস শ্রম এবং নি:স্বার্থ সেবা কবুল করুন।

অন্য আরেকটি আয়াতে আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآَنًا أَعْجَمِيًّا لَقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آَيَاتُهُ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آَمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آَذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى أُولَئِكَ يُنَادَوْنَ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ

অর্থ: ‘এবং আমরা যদি একে অনারবী ভাষায় নাযেল করতাম তাহলে নিশ্চয় তারা বলতো, কেন এর আয়াতসমূহ্ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয় নাই? অনারবী আর আরবী কি সমান হতে পারে? তুমি বল! এটি যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য একটি হিদায়াত ও আরোগ্য। এবং যারা ঈমান আনেনি তাদের কর্ণে বধিরতা আছে ফলে এটি তাদের কাছে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে। তারাই এমন লোক যাদেরকে যেন অনেক দূরবর্তী স্থান হতে আহবান করা হচ্ছে।’ (সূরা হামীম আস্ সাজ্‌দা: ৪৫)

হুযূর বলেন, পবিত্র কুরআন এমন এক গ্রন্থ যা সকল বিশ্বাসীর জন্য আরোগ্��� আর পবিত্র কুরআনের শুরুতেই আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন, এতে মানবের জন্য হিদায়াত রয়েছে। কিন্তু অবিশ্বাসীদের চোখে যেহেতু পর্দা পড়ে আছে তাই তারা এর অনুপম শিক্ষা, স���ন্দর্য এবং মাহত্ব অনুধাবন করতে পারে না। আল্লাহ্‌র ফযলে আহ্‌মদীরা খোদার গ্রন্থের তাৎপর্য বুঝে এবং মূল্যায়ন করে ফলে আহ্‌মদীদের হাতে আল্লাহ্ তা’লা অনেক শাফা বা আরোগ্য রেখেছেন। আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে খোদার পবিত্র নবী এবং তাঁর মাধ্যমে প্রাপ্ত ঐশী গ্রন্থের উপর সত্যিকার অর্থে আমল করার তৌফিক দান করুন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে