In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহতা’লার ঐশী গুণ ‘আশ্‌-শাফী’ (আরোগ্য দাতা)

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১৯ই ডিসেম্বর, ২০০৮ইং

বর্তমান বিশ্বে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকা সত্বেও খোদার কৃপা বা ফযল না হলে মানুষ আরোগ্য লাভ করতে পারে না কেননা খোদা তা’লাই হচ্ছেন আসল আরোগ্যদাতা।

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, এ পৃথিবীতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ বরং কোটি কোটি মানুষ রোগাক্রান্ত হচ্ছে। যদি বড় কোন হাসপাতালে যান তাহলে রোগীর আধিক্য দেখে মনে হবে যেনো পৃথিবীর সব মানুষই রোগাক্রান্ত। পাশ্চাত্য এবং বিশ্বের ধনী দেশগুলোতে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে কিন্তু তৃতীয় বিশ্ব বা স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে চিকিৎসা সেবার মান খুবই অনুন্নত। সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ দরিদ্রতা এবং চিকিৎসার ভালো ব্যবস্থা না থাকার কারণে রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে থাকে। এসব দেশের হাসপাতালগুলোর অবস্থাও বড়ই করুণ, সেখানে মানুষ চিকিৎসার জন্য গেলেও আধুনিক ব্যবস্থা না থাকার কারণে সঠিক চিকিৎসা পায় না। যদি কোন ক্ষেত্রে চিকিৎসার ব্যবস্থা থেকেও থাকে তাহলে হয়তো সময়মত ডাক্তার পাওয়া যায় না ফলে প্রয়োজনের সময় মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। আমার এ কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ আছেন যারা সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা পান ফলে আরোগ্য লাভ করেন এবং অনেক এমনও আছেন যাদের আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে আসে ফলে যতই উন্নত চিকিৎসা করা হোক না কেন তারা নিয়তির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়। আবার অনেকে এমন আছেন যারা নিজেদের ভুলের কারণে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। বাহ্যিকভাবে সুঠামদেহী এবং কমবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও এমন রোগ-ব্যাধির শিকার হন যা ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে, সব ধরনের চিকিৎসা এবং চেষ্টা-তদবীর করা সত্বেও তারা প্রাণ বাঁচাতে পারেন না। কিন্তু যেভাবে আমি বলেছি, পৃথিবীতে এমনও অনেক মানুষ আছেন যাদের চিকিৎসা করানোর মতো সাধ্য বা সামর্থ কোনটিই নেই। অনেক ক্ষেত্রে বাহ্যত রোগীর বেঁচে থাকার মতো কোন সম্ভাবনা আছে বলেও মনে হয় না কিন্তু খোদা তা’লার দয়ায় তারা বেঁচে যান। এথেকে প্রমান হয় যে, মানুষ যত চেষ্টাই করুক না কেন খোদার কৃপা না হলে কেউ আরোগ্য লাভ করতে পারে না। আর খোদার ফযল হলে বিনা চিকিৎসায়ও মানুষ পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে উঠে। মহানবী (সা:)-এর বিভিন্ন হাদীস এবং তাঁর সত্যিকার প্রেমিক হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জীবনী থেকে বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে খোদার দয়া এবং ফযলেই যে মানুষ আরোগ্য লাভ করে হুযুর তা বিশদভাবে বর্ণনা করেন।

আল্লাহ্ তা’লার একটি গুণবাচক নাম হচ্ছে শাফী বা আরোগ্য দাতা। কেবল মানুষই নয় বরং সকল প্রাণী, জীব-জন্তু এবং পশুপাখি ও জড়জগত সব কিছুরই তিনি আরোগ্য দাতা। বর্তমানে মানুষ গবেষণা করে বিভিন্ন জীবজন্তু এবং উদ্ভিদ এর রোগ-ব্যাধি নির্ণয়ের চেষ্টা করে তারপর সে মোতাবেক খোদা তা’লা তাকে চিকিৎসা পদ্ধতি শিখান। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, তাদের শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি আল্লাহ্ তা’লা আধ্যাত্মিক চিকিৎসারও ব্যবস্থা করেছেন। মানুষের আত্মিক উন্নতি, খোদার নৈকট্য এবং আধ্যাত্মিক রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত করার জন্য খোদা তা’লা যুগে যুগে নবী রসূল প্রেরণ করেছেন। যদি মানুষ তার বিবেক-বুদ্ধিকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করে তাহলে এটি তাকে খোদার সমীপে আরো সমর্পিত হতে উদ্বুদ্ধ করবে, সে বুঝতে পারবে যে খোদা তা’লা কিভাবে তাঁর আত্মিক উন্নতির বিধান করেছেন, তার শারীরিক ও আধ্যাত্মিক ব্যাধি নিরাময়ের জন্য কি কি উপকরণ সৃষ্টি করেছেন।

হুযূর বলেন, আজ আমি মানুষের শারীরিক ব্যাধির বরাতে একটি বিষয় তুলে ধরবো: খোদা তা’লা মানুষকে ব্যাধি মুক্ত করতে এ জগতে কতই না আয়োজন করেছেন। বরং আল্লাহ্ তাঁর অন্যান্য সৃষ্টির সেবায়ও মানুষকেই নিয়োজিত করেছেন। বিভিন্ন দেশে প্রাণী জগতের চিকিৎসা এবং তাদের সেবার পিছনে বেশ বড় অংক ব্যয় করা হয়ে থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন নতুন নতুন ঔষধ আবিষ্কৃত হচ্ছে, অস্ত্রপচারের অত্যাধুনিক এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিও উদ্ভাবিত হচ্ছে। এসব চিকিৎসা এবং অপারেশনের ফলে মানুষ আশানুরূপ আরোগ্যও লাভ করছে। এই সফলতার মূল কারণ হচ্ছে খোদা প্রদত্ত জ্ঞান ও বিবেক-বুদ্ধির সফল প্রয়োগ। বর্তমানে উন্নত বিশ্বে আরোগ্যের হার যে মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে এটি পূর্বে কোন ক্রমেই সম্ভব ছিল না। তারপরও আল্লাহ্ তালা মানুষের সামনে একটি বিষয় সুস্পষ্ট করেন যে, সত্যিকার শাফী বা আরোগ্যদাতা তিনিই। অনেক সময় চিকিৎসকরা চিকিৎসা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সত্বেও রোগী মারা যায়। তাই এ ব্যাপারে ডাক্তারদের দৃষ্টি রাখা উচিত, কোন প্রকারেই যেন বড়াই প্রকাশ না পায়। মহানবী (সা:) বলেন,

‘রোগের কষ্ট থেকে মূলত: খোদাই মুক্তি দিয়ে থাকেন।’

খোদার পুণ্যবান বান্দারা খোদার আসনে কাউকে বসান না তারা খোদা তা’লার পবিত্র সত্ত্বার জন্য গভীর আত্মভিমান রাখেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জীবনে এমন অগণিত ঘটনার প্রমান পাওয়া যায়। হযরত মুনশী জাফর আহমদ সাহেব (রা:) বলেন,

‘হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর মাথা ঘুরার ব্যাধি ছিল তাঁকে জানানো হল যে, এমন একজন চিকিৎসক আছেন যিনি এ ব্যাপারে পারদর্শী। অনেক দূর থেকে সেই চিকিৎসককে ডেকে আনা হয়, তিনি হযরত (আ:)-কে দেখে বলেন, দু’দিনেই আমি আপনাকে ঠিক করে দিবো। একথা শুনে হযরত মসীহ�� মওউদ (আ:) গৃহাভ্যন্তরে চলে যান এবং হযরত মৌলভী হেকীম নূরউদ্দিন (রা:)-কে চিরকুট লিখে পাঠান যে, আমি এ ব্যক্তির চিকিৎসা গ্রহণ করতে কোন ক্রমেই প্রস্তুত নই কেননা সে খোদা হবার দাবী করছে। এরপর যাতায়াত ভাড়া এবং অতিরিক্ত ২৫ টাকা বেশি দিয়ে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।’

এই হলো খোদার প্রতি যারা পূর্ণরূপে সমর্পিত এবং খোদার সত্ত্বার উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল তাদের রীতি। তারা সর্বদা খোদার প্রতিই ভরসা করেন কোন মতেই চিকিৎসকের প্রতি নয়। বর্তমান যুগ এমন যে, নিত্য দিন কোন না কোন আবিষ্কারাদি সামনে আসছে। লাইফ সাপোর্ট মেশিন আবিষ্কৃত হয়েছে। এরফলে কৃত্রিমভাবে একজন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। কয়েক বছর পূর্বে একথা চিন্তাও করা যেতো না। যেসব ব্যাধিকে পূর্বে দূরারোগ্য ব্যাধি মনে করা হতো আজ তার সফল চিকিৎসা হচ্ছে। তাই বলে মানুষের নিজেকে খোদা মনে করা উচিত নয় কেননা জ্ঞানের আসল উৎস হলেন খোদা তা’লা। তিনিই মানুষকে সেই জ্ঞান দান করেছেন যা তাদের পূর্ববর্তীদের ছিল না। তাই আসল শাফী বা আরোগ্যদাতা তিনিই। মানুষ একজন সহমর্মী মাত্র এর চেয়ে বেশি সে কিছুই করতে পারে না।

হুযূর বলেন, প্রত্যেক ডাক্তার এবং গবেষকের উচিত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের চিকিৎসা করা এবং তাদের কষ্ট লাঘব করার সাম্ভাব্য সকল উদ্যোগ নেয়া। অমুসলিমরা এদিকে মাথা না ঘামালেও আহ্‌মদীদের উচিত এর প্রতি মনোযোগ দেয়া। রাবওয়া এবং আফ্রিকায় আহ্‌মদী ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন এর উপর লিখেন ‘হুয়াশ্ শাফী’ (আল্লাহ্ই আরোগ্যদাতা)। এর অনুবাদও যদি লিখে দেন তাহলে আরো ভালো হয়। পুরোনো অধিকাংশ আহ্‌মদী ডাক্তারই এটি লিখে থাকেন কিন্তু নতুন প্রজন্মের ডাক্তারদেরও এ অভ্যাস রপ্ত করা উচিত। সবার মাথায় এটি থাকা চাই যে, আমরা খোদা প্রদত্ত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করেই মানুষের চিকিৎসা করছি কিন্তু আল্লাহ্ চাইলেই কেবল আরোগ্য লাভ হবে। চিকিৎসকের মন-মানসিকতা যদি এমন হয় তাহলে রোগীদের জন্য দোয়ার প্রতিও তার মনোযোগ নিবদ্ধ হবে। অনুরূপভাবে রোগীদের এটি বলা কোন ক্রমেই সমীচীন নয় যে, অমুক ডাক্তার চিকিৎসা করলে বা তমুক হাসপাতালেই আমার চিকিৎসা হলে আমি সুস্থ্য হয়ে যাবো বরং দোয়া করা উচিত। আল্লাহ্‌র ফযলে প্রতিদিন আমার কাছে যে হারে আহ্‌মদীদের পক্ষ থেকে দোয়ার চিঠি আসে তাতে মনে হয় যে, খোদার প্রতি আহ্‌মদীদের প্রবল ভরসা আছে। কিন্তু যারা বলেন যে, অমুক ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিলেই আমি আরোগ্য লাভ করবো তারা এক ধরণের প্রচ্ছন্ন শির্‌কে লিপ্ত।

এ পর্যায়ে হুযূর হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল (রা:)-এর বোনের একটি ঘটনা তুলে ধরেন।

‘একবার হযরত মৌলভী হেকীম নূরউদ্দীন (রা:) এর এক ভাগ্নে ভেরাতে আমাশয় রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এর কিছু দিন পর তিনি (রা:) গ্রামে আসেন এবং তার চিকিৎসায় একজন আমাশয়’র রোগী আরোগ্য লাভ করলে তাঁর বড় বোন বলেন, তুমি যদি এখানে থাকেত তাহলে আমার সন্তানটি আমাশয় আক্রান্ত হয়ে মারা যেতো না। বোনের কথা শুনে হযরত মৌলভী সাহেব বলেন, তোমার আরেকটি ছেলে হবে এবং সেও আমাশয় আক্তান্ত হবে আর আমি চিকিৎসা করা সত্বেও সে মারা যাবে কিন্তু এরপর খোদা তোমাকে আর এক সন্তান দান করবেন। বাস্তবে সেভাবেই ঘটনা ঘটে যেভাবে তিনি বলেছিলেন। পরে খুবই সুদর্শন আরেকটি ছেলে জন্মে এবং সে দীর্ঘজীবন লাভ করে।’

এ ছিল খোদার জন্য মৌলভী সাহেবের আত্মাভিমান।

এরপর হযরত মীর মোহাম্মদ ইসমাঈল সাহেবের ১৯০৭ সনের একটি ঘটনা:-

‘তিনি ১৯০৭ সালে লাহোর মিউ হাসপাতালের হাউস সার্জন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বড় শ্যালিকা বোনের সাথে সাক্ষাত করতে আসেন এবং একমাস তাঁর কাছে অবস্থান করেন। তিনি কেবল আমার শ্যালিকাই নন বরং আমার ফুপাতো বোনও ছিলেন। তার একটি কন্যা সন্তান হয়েছিল কিছুদিন জীবিত থাকার পর সে মারা যায় মেয়ের মৃত্যু শোক ভোলার জন্য সে বোনের বাড়ীতে বেড়াতে আসে। এখানে এসে সে বারবার একটি কথাই বলতে থাকে যে, আমার বোন জামাই সেখানে থাকলে আমার মেয়েটি মারা যেতো না। সে বারংবার এ কথাই বলতে থাকে ফলে খোদা সম্পর্কে আমার হৃদয়ে আত্মাভিমান জাগ্রত হয় আমি তাকে বললাম যে, আপনার ঘরে আরেকটি ছেলের জন্ম হবে এবং আমার চিকিৎসাধীন থাকা সত্বেও সে মারা যাবে। বাস্তবে দীঘকাল পরে তার ঘরে একটি ছেলে সন্তান জন্ম লাভ করে এবং ছেলেকে সাথে নিয়ে তিনি পুনরায় বোনের বাড়ীতে বেড়াতে আসেন, পতিমধ্যে ফ্লাক্সে রাখা গরম দুধ নষ্ট হয়ে যায় আর তাই বাচ্চাকে পান করানো হয় ফলে বাচ্চাটি মারাত্মকভাবে পেটের পীড়ায় আক্তান্ত হয়। তারা বাচ্চার সব ধরনের চিকিৎসা করান, হযরত মীর সাহেব নিজে চিকিৎসা করেন আর অন্য ডাক্তার দিয়েও চিকিৎসা করানো হয় কিন্তু দু মাস রোগ ভোগের পর শিশুটি মারা যায়। মীর সাহেব বলেন, ছয় বছর পূর্বে তার শির্‌ক দূর করার জন্য আমি যে কথা বলেছিলাম তা আমার মনে পড়ে আর বাস্তাবেও আমি চিকিৎসা করা সত্বেও সেই ছেলেটি মারা যায়।’

এমন মহান ব্যক্তিরা নিজেরাও প্রচ্ছন্ন শির্‌ক থেকে মুক্ত থাকতেন এবং অন্যদেরকেও মুক্ত রাখতেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর আধ্যাত্মিক শক্তি তাঁর পুণ্যবান সাহাবীদের গুণাবলীতে আরো ঊজ্জ্বল্য সৃষ্টি করেছে।

হুযূর বলেন, আল্লাহ্‌র কৃপাতেই রোগ-ব্যাধি দূরীভূত হতে পারে। নি:সন্দেহে খোদা তা’লা সকল রোগের চিকিৎসা বা ঔষধ রেখেছেন খোদার সৃষ্ট উপকরণই মানুষ চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করে। বিভিন্ন গুল্মলতা, পোকা-মাকড় এবং সাপের বিষ থেকেও ঔষধ বা প্রতিষেধক প্রস্তুত করা হয়। এটি সৃষ্টি জগতের প্রতি খোদার একান্ত অনুগ্রহ যে, তিনি ঔষধের পাশাপাশি মানুষকে তা সেবন বিধির জ্ঞান দিয়েছেন এবং তাদেরকে ব্যবহার করার রীতি নীতিও শিখিয়েছেন। যেমন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’লা মধুর কথা উল্লেখ করে বলেছেন, شِفَاءٌ لِلنَّاسِ অর্থাৎ ‘মানুষের জন্য এতে আরোগ্য নিহিত আছে’ মুসলমানরা মধুর গুরুত্বকে সঠিকভাবে বুঝতে না পারলেও অমুসলমানরা ঠিকই এর উপকারীতা ও গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। তারা মধুর মিশ্রনে বিভিন্ন যৌগ প্রস্তুত করে যা অত্যন্ত উপকারী একই ভাবে রয়েল জেলি রয়েছে যা মানুষের জন্য খুবই উপকারী। এমন এমন ঔষধ প্রস্তুত করছে যা বিভিন্ন রোগ বা দুরারোগ্য ক্ষতের চিকিৎসায় উত্তম ফল প্রদান করছে। প্রসঙ্গক্রমে এখানে একটি কথা জানিয়ে দিচ্ছি যে, বর্তমানে মৌচাকে এক ধরনের পোকার আক্রমন হচ্ছে। মৌচাককে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা স্বয়ং মৌচাকেই আছে। মৌমাচি যখন কোন স্থান থেকে উড়ে এসে চাকে বসে তখন সেখানে একটি পাপোশের মত আছে সেটির উপর বসে এবং মৌমাছি প্রথমে সেখানে পা মুছে তারপর ভেতরে প্রবেশ করে। কিন্তু প্রকৃতিগত ব্যবস্থা থাকা সত্বেও বর্তমানে মৌচাক এবং মৌমাছি বাহ্যত হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়ছে এর ফলে মৌ চাষীরা প্রচন্ডভাবে চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন। তারা বলছে যে, যদি এমনটি চলতে তাকে তাহলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মধু ও মৌমাছি বিলুপ্ত যাবে।

হুযূর বলেন, আমার মতে কোনভাবেই তা হবে না কারণ পবিত্র কুরআন একটি স্থায়ী ঐশী গ্রন্থ এবং এর শিক্ষাও স্থায়ী তাই এতে বর্ণিত বিষয়ও স্থায়ীভাবে থাকবে। তবে, খোদা তা’লা বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে তাঁর প্রতি চরম অবিশ্বাস এবং আস্থাহীনতার ফলে শাস্তি স্বরূপ যদি কোন স্থান থেকে এই নিয়ামত উঠিয়ে নিতে চান তাহলে ভিন্ন কথা। আমি আহ্‌মদীদের বলবো যে, আপনারা মৌমাছি নিয়ে গবেষণা করুন। আমি পূর্বেই আহ্‌মদীদের বলেছি যে, আপনারা গবেষণার ময়দানে প্রবেশ করুন কারণ খুব দ্রুত এ ক্ষেত্র খালি হচ্ছে। গবেষণায় গেলে আপনারা নিজেরাও উন্নতি করবেন এবং সমাজেও প্রতিষ্ঠা পাবেন আর স্বদেশেরও সেবা করতে পারবেন।

এরপর হুযূর বিভিন্ন হাদীসের আলোকে মধু দ্বারা চিকিৎসা এবং মহানবী (সা:)-এর দোয়ার অলৌকিক নিদর্শন স্বরূপ বিভিন্ন সাহাবীর আরোগ্য লাভের কথা তুলে ধরেন।

হযরত সা’দ (রা:) বর্ণনা করেন যে,

‘একবার আমি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে মহানবী (সা:) আমাকে দেখতে আসেন। তিনি (সা:) তাঁর হাত আমার বুকের উপর রাখেন। এক পর্যায়ে আমি তাঁর হাতের শীতল স্পর্শ আমার হৃদয়ে অনুভব করছিলাম। তারপর তিনি (সা:) বলেন, তোমার হৃদরোগ হয়েছে; তুমি সাকীফ গোত্রের হালীফ হারেস বিন কালদাহ্’র কাছে যাও এবং কেননা সে এক জন চিকিৎসক। তাকে বল সাতটি আজওয়া খেজুর বিচিসহ পিষে তা দিয়ে ঔধষ প্রস্তুত করে তোমার মুখে দিতে।’

এরপর হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বর্ণনা করেন যে,

‘তিনি (সা:) বলেছেন, তিনটি জিনিষের মধ্যে আরোগ্য আছে। (১) মধুর ফোটা (২) অস্ত্রপচার (৩) আগুনের ছ্যাঁক দেয়ার মধ্যে। এবং আমি আমার উম্মতকে আগুনের ছ্যাঁক দিতে বারণ করছি।’

হযরত খালেদ বিন সাঈদ (রা:) বর্ণনা করেন যে,

‘আমরা সফরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই, গালেব বিন আবজরও আমাদের সাথে ছিলেন। কিন্তু পতিমধ্যে তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়েন এবং যখন আমরা মদীনা পৌঁছি তখনও তিনি অসুস্থ্যই ছিলেন। ইবনে আবী আতীক তাকে দেখার জন্য আসেন এবং তিনি আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমাদের কালো জিরা ব্যবহার করা উচিত। এর পাঁচ-সাতটি দানা পিষে তা তেলের সাথে মিশিয়ে ফোটা ফোটা করে তার নাকে ঢালতে থাকো। উভয় নাকেই দিতে থাকো। কেননা, হযরত আয়েশা (রা:) আমাকে বলেছেন যে, তিনি মহানবী (সা:)-কে বলতে শুনেছেন যে, কালোজিরায় ‘সাম’ ছাড়া সকল প্রকার রোগ-ব্যাধির আরোগ্য রয়েছে। হযরত আয়েশা (রা:) জিজ্ঞেস করেন ‘সাম’ কাকে বলে, তিনি (সা:) বলেন, মৃত্যু।’

হযরত সাঈদ বিন যায়েদ (রা:) বলেন,

‘মহানবী (সা:)-কে বলতে শুনেছি যে, মাশরুমের পানি চোখের জন্য আরোগ্যের কারণ।’

হযরত ইবনে উমর (রা:) বর্ণনা করেন যে,

‘নবী করীম (সা:) বলেছেন, জ্বর হচ্ছে জাহান্নামের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ তাই তোমরা পানি দ্বারা তা নির্বাপিত করো।’

হযরত আয়েশা (রা:) বর্ণনা করেন যে,

‘মহানবী (সা:) তাঁর পরিবার পরিজনের জন্য দোয়া করতেন। ডান হাতে তাদের স্পর্শ করে বলতেন:

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي لا شِفَاءَ إِلا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لا يُغَادِرُ سَقَمًا

হে আল্লাহ্! মানুষের প্রভু-প্রতিপালক, রোগ-ব্যাধি দূর করে দাও। তুমি একে আরোগ্য দাও কেননা তুমিই আরোগ্যদাতা। তোমার আরোগ্য ব্যাতীত কোন আরোগ্য নেই। এমনভাবে আরোগ্য দাও যাতে রোগের নাম গন্ধও না থাকে।’

হযরত আবু হুরায়রা (রা:) বর্ণনা করেন যে,

‘রসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেছেন, তোমাদের কারো থালায় মাছি পড়লে মাছিকে পুরোপুরি থালায় ডুবিয়ে এরপর ফেলে দিবে কেননা এর একটি ডানায় আরোগ্য এবং অন্যটিতে ব্যাধি রয়েছে।’

এ বিষয়টি আজ জাপানের গবেষকগণ প্রমাণ করেছেন যে, মাছি এক ডানায় জীবানু এবং অন্য ডানায় জীবানু প্রতিষেধক বহন করে।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বর্ণনা করেন যে,

‘একজন মহিলা তার ছেলেকে সাথে নিয়ে রসূলুল্লাহ্ (সা:)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এই ছেলেটি পাগল আর যখন আমরা খেতে বসি তখনই ওর পাগলামী প্রকাশ পায় ফলে ও আমাদের খাবার-দাবার সব নষ্ট করে ফেলে। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সা:) সেই ছেলের বুকের উপর হাত বুলান এবং তার জন্য দোয়া করেন। ছেলেটি বমি করে এবং তার মুখ দিয়ে কালো রঙ এর কোন পদার্থ বের হয়ে আসে এরপর সে হাটতে আরম্ভ করে বা পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।’

ইয়াযিদ বিন আবি উবাইদ (রা:) বর্ণনা করেন যে,

‘আমি হযরত সালমাহ্ (রা:)-র পায়ের গোছায় ক্ষত দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করি হে আবু মুসলিম! এটি কি ভাবে হলো? তিনি উত্তরে বলেন, খয়বররের যুদ্ধে আমি এখানে আঘাত পেয়েছিলাম। মানুষ বলতে থাকে যে, হযরত সালমাহ্ আহত হয়েছে। আমি নবী করীম (সা:)-এর কাছে এলে তিনি (সা:) সেই ক্ষতের উপর তিন বার ফুঁ দেন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আমার কোন কষ্ট হয়নি।’

হুযূর বলেন, অন্যান্য হাদীসে চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে যা বর্ণিত হয়েছে তা তুলে ধরছি:

‘প্রকৃত চিকিৎসক হচ্ছেন আল্লাহ্ তা’লা কিন্তু তুমি একজন সহানুভূতিশীল মানুষ মাত্র। এই রোগের আরোগ্যদাতা হচ্ছেন সেই সত্ত্বা যিনি একে সৃষ্টি করেছেন।’

‘তোমরা সদকা প্রদানের মাধ্যমে তোমাদের রোগীদের চিকিৎসাকে তরান্বিত করো এবং যাকাত প্রদানের মাধ্যমে তোমাদের ধন-সম্পদকে পবিত্র কর।’

এরপর হুযূর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সময়কার বিভিন্ন ঘটনা সবিস্তারে উল্লেখ করেন যাতে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর দোয়ার বদৌলতে অলৌকিকভাবে বিভিন্ন মানুষ আরোগ্য লাভ করেছেন বলে জানা যায়। নিচে দু’একটি ঘটনা উল্লেখ করা হচ্ছে:-

হযরত মৌলভী শের আলী সাহেব (রা:) বলেন,

‘১৯০৪ সনে একবার হযরত মুফতী মুহাম্মদ সাদেক সাহেব মারাত্মকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। অসুস্থাবস্থায় তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েন যে, তাঁর মরহুমাহ্ স্ত্রী মনে করেছিলেন যে, এটি তাঁর জীবনের শেষ সময়। তিনি কাঁদতে কাঁদতে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর খিদমতে উপস্থিত হন। হুযূর (আ:) সামান্য পরিমান কস্তুরী দিয়ে বলেন, উনাকে খাওয়ান আর আমি দোয়া করছি। একথা বলে তখনই তিনি অযু করে নামাযে দাঁড়িয়ে যান, সময় ছিল সকাল বেলা। হযরত মুফতী সাহেবকে কস্তুরী খাওয়ানোর পর তিনি আরাম বোধ করেন আর অল্প সময়ের মধ্যেই সুস্থ্য হয়ে উঠেন।’

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) স্বয়ং বলেন,

‘মালির কোটলার রঈস সরদার নওয়াব মোহাম্মদ আলী খাঁন সাহেব এর ছেলে আব্দুর রহীম খাঁন প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হন এবং তার বাঁচার কোন আশাই ছিল না বরং মৃতবৎ হয়ে পড়েছিল। সে সময় আমি তার জন্য দোয়া করি, জানা যায় যে, তকদীরে মুবরাম (অটল তকদির)-এর মত বিষয়, তখন আমি খোদার দরবারে নিবেদন করি যে, হে মা’বুদ! আমি এর জন্য শাফায়াত করছি। এর উত্তরে আল্লাহ্ তা’লা বলেন, مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ অর্থাৎ, এমন কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করতে পারে? তখন আমি চুপ করে যাই। এরপর অনতিবিলম্বে ইলহাম হয় انك انت المجاز অর্থাৎ, তোমাকে শাফায়াত করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ফলে আমি পরম অনুনয় বিনয়ের সাথে দোয়া আরম্ভ করি এবং খোদা তা’লা আমার দোয়া কবুল করেন এবং সেই ছেলে মনে হলো যেন কবর থেকে বেরিয়ে এলো এবং স্বাস্থ্য ভালো হবার লক্ষণ দেখা গেলো, এত বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে, দীর্ঘদিন লেগেছে তার পুরোন স্বাস্থ্য ফিরে পেতে, পরিশেষে পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে এবং এখনও জীবিত আছে।’

সুতরাং আসল বিষয় হচ্ছে খোদার সত্ত্বায় পরিপূর্ণ বিশ্বাস, কেননা তিনিই শাফী বা পূর্ণ আরোগ্য দাতা। চিকিৎসা কেবল তখনই কাজে আসে যখন এতে আল্লাহ্‌র ইচ্ছা শামেল হয়। হাদীসে এসেছে ঔষধ একটি উসীলা মাত্র মূলত আল্লাহ্‌র ইচ্ছাতেই মানুষ রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করে। হযরত ইব্রাহীম (আ:) খোদার মাহাত্ব বর্ণনা করত এবং তাঁর ফযল ও কৃপার উল্লেখ করে বলেন,

وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ

অর্থ: এবং যখন আমি পীড়িত হই তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।’ (সূরা আশ্ শো’আরা: ৮১)

‘এখানে আমি পীড়িত হই’ বলে সেদিকেই ইশারা করেছেন যে, অনেক সময় মানুষ নিজের ভুলের কারণে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। মানুষের ভুলের কারণে সে খোদার হাতে ধরা পড়ে এবং খোদার নির্ধারিত তকদির প্রকাশ পায়। তাই হযরত ইব্রাহীম (আ:) বলেছেন, যখন আমি অসুস্থ্য হয়ে পড়ি তখন খোদা তা’লা আমাকে আরোগ্য দেন। সুতরাং যদি আল্লাহ্ ফযল করেন তাহলেই মানুষ আরোগ্য লাভ করতে পারে নতুবা নয়। এ কারণেই হযরত ইব্রাহীম (আ:) বলেছেন, আমি আমার ভুলের কারণে রোগাক্রান্ত হই এবং আমার খোদা তাঁর কৃপা দ্বারা আমাকে আরোগ্য দান করেন। বর্তমান যুগে আবিস্কৃত বিভিন্ন ঔধষ আল্লাহ্‌র ফযলেই আমরা পাচ্ছি, এসব ঔষধ ব্যবহারের পর খোদার ফযলেই আমরা আরোগ্য লাভ করতে পারি। তাই এসবকিছু থেকে লাভবান হবার জন্য খোদার ফযলকে আকর্ষণ করা চাই আর খোদার সম্মুখে পূর্ণরূপে সমর্পিত হবার ফলেই তা লাভ হতে পারে। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর বান্দাদের দোয়া শ্রবণ করে আপন শাফী বা আরোগ্য দাতা হবার প্রমান স্বরূপ তাঁর বান্দাদের আরোগ্য দান করেন। যেভাবে উপরে আমি কয়েকটি ঘটনা আপনাদের শুনালাম। আল্লাহ্ তা’লার প্রতিটি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা মু’মিনের জীবনের উদ্দেশ্য। আল্লাহ্ করুন, আমরা সবাই যেন তাঁর অনুপম বৈশিষ্ট্যাবলীর জ্ঞান লাভে সক্ষম হই আর আল্লাহ্ তা’লা আমাদের দোয়াসমূহ শ্রবন করত: আমাদের মধ্যে যারা পীড়িত তাদের সবাইকে আরোগ্য দান করুন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে