In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

ভারত সফরের সংক্ষিপ্ত বিবরন

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১২ই ডিসেম্বর, ২০০৮ইং

ভারতের দাক্ষিণাত্যে আহ্‌মদীয়াতের প্রচার কাজকে বেগবান করার ঔদাত্ত আহবান। খোলাফায়ে রাশেদার যুগেই প্রথমবার এতদাঞ্চলে হযরত মালেক বিন দিনারের মাধ্যমে ইসলামের বানী পৌঁছে।

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, আপনারা অবগত আছেন যে, গত দু জুমুআ আমি ভারতে পড়িয়েছি; একটি খুতবা দিয়েছিলাম কেরালা রাজ্যের কালিকাটে অপরটি দিয়েছি দিল্লিতে। বৈরী পরিস্থিতির কারণে আমি সফর সংক্ষিপ্ত করে লন্ডন ফিরে এসেছি। সাধারণতঃ সফর থেকে ফিরে এসে আমি সফরের সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত তুলে ধরি। জামাতের বন্ধুরা সফরের বিবরণ শোনার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করেন আবার যে জামাত সফর করে আসি সে জামাতের সদস্যরা নিজ নিজ জামাত সম্পর্কে আমার মুখ থেকে কিছু শুনতে উদগ্রীব থাকেন। যদিও কেরালা সফরের সময় বরং কালিকাট থেকে প্রদত্ত খুতবাতেই আমি এই স্থানের গুরুত্ব এবং এতদাঞ্চলের ধর্মীয় ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আহ্‌মদীদের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কেও নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের বিশ্বাস এবং আন্তরিকতার কথাও বলেছি। কিন্তু সফরের বরাতে আজ আরো কিছু কথা আমি সংক্ষেপে বলবো। কেরালা যাবার পূর্বে পথিমধ্যে চেন্নাই যাই যা পূর্বে মাদ্রাজ হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে যদিও মাত্র কয়েক ঘন্টা অবস্থান করেছি তারপরও লাজনাদের একটি সুন্দর অনুষ্ঠান হয়েছে। আমি লাজনাদের মনোযোগ তাদের দায়িত্বের প্রতি আকর্ষণ করেছি। এখানে মাউন্ট টমাস নামক স্থানে আমাদের একটি নবনির্মিত মসজিদও আমি উদ্বোধন করেছি। চেন্নাই কয়েক শত সদস্যের ছোট্ট একটি জামাত কিন্তু ছোট্ট জামাত হলেও খিলাফতের প্রতি বিশ্বাস এবং আন্তরিকতায় তারা সমৃদ্ধ। কাদিয়ান থেকে প্রায় দু হাজার মাইল দূরে অবস্থিত এই জামাতের অনেক আহ্‌মদী এমনও আছেন যারা কখনও কাদিয়ান যাননি কিন্তু জামাত এবং খিলাফতের প্রতি ভালবাসা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা এবং বিশ্বাসে তারা অটল যা আমি তাদের চোখে মুখে সুস্পষ্টরূপে দেখতে পেয়েছি। এর মূল কারণ হচ্ছে তাদের বুজুর্গদের তরবিয়ত এবং এমটিএ’র ভূমিকা। এমটিএ সারা পৃথিবীর আহ্‌মদীদের ভেতর এক ধরনের সমমূল্যবোধ ও সমরূপের জন্ম দিয়েছে; আজ আফ্রিকা, এশিয়া বা ইউরোপের যেখানেই যান না কেন তাদের নযম পড়ার ধরনও একই। এমটিএ’র বদৌলতে সর্বত্র একটি ঐকতান পরিদৃষ্ট হয়। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর যুগেই এখানে আহ্‌মদীয়াত প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাঁর ষোল জন সাহাবী এ অঞ্চলে বাস করেছেন বলে আহ্‌মদীয়া ইতিহাস থেকে জানা যায়। আজ আল্লাহ্ তা’লার অপার কৃপায় তাদের সন্তান-সন্ততি সকলেই আহ্‌মদী এবং এদের পরবর্তী প্রজন্মও আহ্‌মদীয়াতের উপর দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত, এছাড়া অনেক নতুন আহ্‌মদীও আছেন। এখানে মাউন্ট টমাস নামক স্থানে আমি যে মসজিদ উদ্বোধন করেছি সে স্থানের সংক্ষিপ্ত ধর্মীয় ইতিহাস রয়েছে। খৃষ্টধর্মের আঞ্চলিক ইতিহাস অনুসারে হযরত টমাস বায়ান্ন খৃষ্টাব্দে এখানে আসেন। তিনি হযরত ঈসা (আঃ)-এর হওয়ারী বা শিষ্য ছিলেন। এখানে মাউন্ট টমাস বা টমাস টিলা নামে ছোট একটি পাহাড় আছে, হযরত ঈসা (আ:)-এর সাহাবী টমাস চেন্নাই হয়ে এ স্থানে এসেছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই এখানে খৃষ্ট ধর্মের গোড়াপত্তন হয়। ইতিহাস অনুসারে তিনি বনী ইস্রাঈলের হারানো মেষ বা গোত্রগুলোর সন্ধানে এখানে এসেছিলেন। এখানে ছোট একটি গির্জাও আছে। তিনি জীবনের শেষ ১৫/১৬টি বছর এখানেই অতিবাহিত করেন এবং দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়ে গির্জাতেই সমাহিত হন। অবশ্য পরে কোন সময় তাঁর দেহাবশেষ ভ্যাটিকানে স্থানান্তরিত করা হয়। হযরত টমাস (রা:) সম্পর্কে এটিও প্রসিদ্ধ যে, তিনি ক্রুশীয় ঘটনার পর হযরত ঈসা (আ:)-এর সফরসঙ্গী হিসেবে এসেছিলেন। এ প্রসঙ্গে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) তাঁর রচিত গ্রন্থ বারাহীনে আহ্‌মদীয়ার পঞ্চম খন্ডে বলেন,

‘খৃষ্টানরা স্বয়ং একথা মানে ও বিশ্বাস করে যে, ঈসা (আ:)-এর কতক সাহাবী ভারতবর্ষে এসেছিলেন এবং টমাস হাওয়ারীর (শিষ্য) মাদ্রাজে আগমন এবং প্রতিবছর তাঁর স্মরণে খৃষ্টানদের সেখানে একটি মেলায় সমবেত হওয়া এমন একটি বিষয় যা কারো অজানা নয়।

এছাড়া টমাস হাওয়ারী সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) আরো বলেন,

‘যেভাবে মক্কা থেকে হিজরতের সময় হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা:) মহানবী (সা:)-এর সঙ্গী হয়েছিলেন অনুরূপভাবে হযরত ঈসা (আ:)-ও স্বীয় হিজরতের সময় সাহাবী টমাসকে সঙ্গী হিসেবে নিয়েছিলন। সাবধানতা বশত: তিনি এরূপ করেছিলেন যাতে লোক জানাজানি না হয়। পরিশেষে তারা বিভিন্ন স্থান অতিক্রম করে কাশ্মীর এসে পৌঁছেন।’

হুযূর বলেন, কেরালাতে ইহুদী ধর্মের যে ইতিহাস তাও সংক্ষেপে বলে দিচ্ছি। দীর্ঘকাল পূর্ব থেকে ইহুদীরা এখানে এসে বসতি স্থাপন করে। ইহুদীদের কাছে হযরত ঈসা (আ:)-এর বাণী পৌঁছানোর জন্য তাঁর কোন সাহাবীর এখানে আগমন আবশ্যক ছিল যাতে বনী ঈস্রাইলের এ গোত্রটি হযরত ঈসা (আঃ)-এর বাণী থেকে বঞ্চিত না থাকে। এই শহরের প্রাচীন ধর্মীয় ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই আমি এ সবকিছু বলছি। এখন খোদার কৃপায় মুহাম্মদী মসীহ্‌র অনুসারীদের মাধ্যমে এখানে আহ্‌মদীয়া জামাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত জামাত উন্নতি করছে। নতুন প্রজন্ম জামাতের প্রতি ভক্তি এবং বিশ্বস্ততার উন্নত আদর্শ স্থাপন করে চলছে। জামাত এখন সেই অঞ্চলে মসজিদ নি���্মাণ করেছে যেখানে মুসায়ী মসীহ্‌র অনুসারীরা বসতি স্থাপন করেছিল এবং এখানে খৃষ্টধর্ম প্রসার লাভ করে আর এখানে তাদের বেশ বড় একটি গির্জাও রয়েছে। এখন আল্লাহ্ ��া’লা আমাদেরকে এখানে মসজিদ নির্মাণের তৌফিক দিয়েছেন, এরফলে মুহাম্মদী মসীহ্‌র পয়গাম অত্রাঞ্চলে দ্রততার সাথে ছড়িয়ে পড়বে বলে আমি আশা রাখি। কেননা আজ ত্রিত্ববাদের শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে মুহাম্মদী মসীহ্‌র হাতে সমবেত হবার এবং এক খোদার ইবাদতের মাঝেই মানবের মুক্তি নিহিত। যাইহোক, এরপর আমি এখান থেকে কেরালার কালিকাট শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। এটি সেই শহর যেখানে হযরত টমাস সর্বপ্রথম এসেছিলেন কেননা ইহুদীদের এখানে অনেক বড় জনবসতি ছিল, যারা মালাবারী ইহুদী নামে প্রসিদ্ধ ছিল। এদের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, হযরত সুলাইমান (আ:)-এর যুগেই তারা ব্যবসা-বাণিজ্য উপলক্ষ্যে এখানে আসা আরম্ভ করে যাদের সূত্র ধরেই ইহুদীরা এখানে বিস্তার লাভ করে। হাওয়ারী টমাস তার জীবনের বেশীরভাগ সময় এখানেই ইহুদীদের মাঝে খৃষ্টধর্ম প্রচার করে কাটান এবং ইহুদীদের মাঝে খৃষ্ট ধর্মের বাণী পৌঁছান ফলে তারা খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করে। যেসব ইহুদী এখানে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তারা নাসরানী বা টমাস খৃষ্টান নামে প্রসিদ্ধ। তাদের অনেকেই এক খোদায় বিশ্বাসী। এহলো, সংক্ষেপে অত্রাঞ্চলের ইহুদী এবং খৃষ্টানদের ইতিহাস। হিন্দুরা এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও বেশ ভারী সংখ্যায় মুসলমানদের বাস রয়েছে এখানে। আল্লাহ্ তা’লার বিশেষ কৃপায় এরা সহনশীল এবং ভারতের অন্যকোন রাজ্যে ধর্মীয় উম্মাদনা দেখা দিলেও কেরালাবাসীরা তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। এরপর হুযূর ঘানায় তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার একটি ঘটনা তুলে ধরে বলেন, সত্যিকারেই তাদের মধ্যে সহনশীলতা এবং পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ভিন্ন হওয়া সত্বেও এরা একে অপরের বিশ্বাস এবং ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অত্রাঞ্চলে আরব বাণিজ্য কাফেলার মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আমি আগেও বলেছি, খোলাফায়ে রাশেদার যুগেই হযরত মালিক বিন দিনার এখানে আসেন এবং তাঁর সাথে বারোজন আরব ব্যবসায়ী এ অঞ্চলে আগমন করেন। অত্রাঞ্চলের রাজা যিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন, তার কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছানো হলে তিনি এ ব্যাপারে গবেষণা করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ঐ ব্যবসায়ীদের সাথে মক্কাও গমন করেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-ও তাঁর লেখনীতে এতদাঞ্চলে এক রাজার ইসলাম গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন তবে নামের বেলায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে বৈকি। এখানে একটি আহ্‌মদী পরিবার আছে যারা সেই রাজার বংশধর। আমি পূর্বেও বলেছি এ এলাকায় শিক্ষিতের হার শতকরা শতভাগ। অথচ ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে শিক্ষার হার খুবই কম আর মুসলমানদের মাঝে শিক্ষা নেই বললেই চলে কিন্তু এখানে কমপক্ষে ৯০% মুসলমান শিক্ষিত। এখানে সকল ধর্মের অনুসারীরা শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছে। এদের মধ্যে পারষ্পরিক মূল্যবোধ এবং সহনশীলতা রয়েছে। যদি এখানে আহ্‌মদীরা নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন তাহলে ভালো ফল পাবার সম্ভাবনা রয়েছে কেননা এখানকার মাটি খুবই উর্বর। যদিও আজকাল পৃথিবীর অপরাপর দেশের মত কয়েকটি উগ্রপন্থী মুসলমান সংগঠন এখানেও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছে কিন্তু স্থানীয় জনগনের কাছ থেকে তারা একেবারেই কোন সাড়া পায়নি। তারা আমার সফরের সময়ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিল কিন্তু পূর্বেই সরকার এদেরকে পাকড়াও করে এবং এখন এরা জেলের ভাত খাচ্ছে। কেরালাতে আমি একজন আহ্‌মদীর বাড়ীতে অবস্থান করেছি, সেখান থেকে মসজিদের দূরত্ব ছিল ২০ মিনিটের পথ। সেখানকার একটি স্থানীয় হোটেলে একটি সূধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে ক’জন গণ্যমান্য ব্যক্তি আমাকে বলেছেন, আপনাদের মসজিদ এ শহরের হৃদয়ে অর্থাৎ প্রাণকেন্দ্রে নির্মিত হয়েছে, আশা করি এখান থেকে সম্প্রীতি এবং ভালবাসার শিক্ষা প্রচারিত হবে এবং তা মানুষের হৃদয় জয় করবে। আমার সেখানে অবস্থান কালে প্রাদেশীক সরকার এবং পুলিশ বাহিনী যথেষ্ট সহযোগীতা করেছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাও ভালো ছিল, যেখানেই আমরা গিয়েছি মানুষ আমাদের জন্য পথ ছেড়ে দিয়েছেন।

হুযূর বলেন, কালিকাট এবং কেরালায় আহ্‌মদীদের সাথে সাক্ষাত হয়েছে। ব্যক্তিগত সাক্ষাতে তারা যে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততা দেখিয়েছেন তা অনুপম। এদের অবস্থা দেখে কোন ভাবেই বোঝার উপায় নেই যে, এরা নবাগত আহ্‌মদী না-কি পুরোন আহ্‌মদী। নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য বারবার প্রশ্ন করেন যাতে জামাতের কাজে গতি সঞ্চার করা যায়। আমি ভারতের অন্যান্য স্থানেও এমন আহ্‌মদী দেখতে চাই। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-ও বলেছেন,

‘সংখ্যা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই, আমি ত্বাকওয়াশীল লোক চাই।’

আমি যখন বলি যে, হারানো বয়’আতের সন্ধান করুন তখন কিন্তু এটিও মাথায় রাখা আবশ্যক যে, আমাদের এমন মানুষ প্রয়োজন যারা স্বার্থপর নয়। আমাদের এমন পাকা ফল চাই যার বীজ থেকেও নতুন চারা জন্ম নিবে যা জামাতের কাজে আসবে। যেভাবে আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ অর্থ: তাদেরকে নিজের প্রতি পোষ মানাও। এরপর তাদেরকে ডাকো দেখবে يَأْتِينَكَ سَعْيًا তারা তোমার কাছে ছুটে আসবে আর আমাদের এমন বয়’আতের প্রয়োজন যারা সত্ত্বর ব্যবস্থাপনার অংশ হয়ে যাবে। কিন্তু এই অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয় যতক্ষণ মোবাল্লেগ বা তবলীগকারী ব্যক্তি পবিত্র স্বভাবের না হবে। আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ

অর্থ: ‘যার শিকড় দৃঢ়ভাবে প্রোথিত এবং এর শাখা প্রশাখাসমূহ আকাশে বিস্তৃত।’ (সূরা আল্ ইব্রাহীম: ২৫)

যদি তবলীগকারীর নিয়্যত স্বচ্ছ হয় আর তিনি যদি পুরো আন্তরিকতার সাথে মানুষকে সত্যের প্রতি আহবান করেন তাহলে তার মাধ্যমে যারা সত্য কবুল করবে তারা অচিরেই জামাতের মূল্যবান অংশে পরিণত হবে। এমনটি না হলে আপনারা জানেন যে, অনেক বয়’আতকারীর বয়াতের পর কোন হদিসই পাওয়া যায় না। যাইহোক, কথা প্রসঙ্গে এটি বললাম; এ সম্পর্কে পরে কখনও বিস্তারিত বলা যাবে।

হুযূর বলেন, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে আমি দেখেছি, এরা নবাগত আহ্‌মদী হওয়া সত্বেও কুরবানী এবং আর্থিক ত্যাগের প্রেরণায় যথেষ্ট সমৃদ্ধ। আমাদের মসজিদ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এরই সাথে আছে একটি দামী প্লট যার মূল্য কয়েক কোটি রূপী। প্রথমে তারা এটি ক্রয়ের জন্য কেন্দ্রের কাছে সাহায্য চায় কিন্তু আমি বলি যে, আপনারা নিজ টাকায় ক্রয় করুন। এত বাড় অংক কিভাবে যোগাড় হবে তা নিয়ে তারা চিন্তিত ছিলেন, কিন্তু আমার যাবার পর তারা সাহস করেন। একজন আহ্‌মদী যার এই প্লটে অংশ ছিল তিনি বলেন, আমি বিনামূল্যে জামাতকে আমার অংশ দিয়ে দিচ্ছি। এভাবে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই জামাতের সম্পদশালীরা বড় বড় ওয়াদা করেন এবং এই জমি হস্তগত হয়। আল্লাহ্ তা’লা তাদের এই আন্তরিকতা ও কুরবানী কবুল করুন এবং তাদেরকে ঈমানের বলে বলীয়ান করুন।

এরপর কালিকাটে অল্প সময়ের মধ্যেই লাজনার একটি ইজতেমাও অনুষ্ঠিত হয় আর এতে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল প্রায় চার সহস্রাধীক। যুক্তরাজ্যের লাজনার ইজতেমার চেয়ে তাদের সংখ্যা নি:সন্দেহে বেশি ছিল। আমি তাদের প্রত্যেকের চেহারায় একটি বিশেষ উদ্দম ও প্রেরণা লক্ষ্য করেছি। ভারতের লাজনাদের মধ্যে কেরালার লাজনা ইমাইল্লাহ্ শীর্ষস্থানে আছেন। ভারতের অন্যান্য স্থানের লাজনারা এখন আমার কথা শুনছেন হয়ত; আশা করি আপনাদের মধ্যেও একটি নবজাগরন ঘটবে। কালিকাট থেকে এই প্রথমবারের মত এমটিএ’তে আমার খুতবা সরাসরি সম্প্রচারিত হলো।

এর��র হুযূর তার সফরের অন্যান্য ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, সফরের ফলে ব্যাপকভাবে তবলীগের সুযোগ ঘটে। বর্তমান যুগ যেহেতু মিডিয়ার যুগ তাই যেখানেই যাই পত্র-পত্রিকায় আমা��ের সফরের বরাতে জামাত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য এবং আমাদের ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে ব্যাপকভাবে লেখালেখি হয়। দক্ষিণ ভারতের বড় বড় পত্রিকার বিভিন্ন সম্পাদক আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন এবং তা হুবহু তাদের পত্রিকায় প্রকাশ করেন। এরফলে দূরদূরান্তে জামাতের তবলীগ পৌঁছেছে। কালিকাটের স্থানীয় একটি হোটেলে আমার আগমন উপলক্ষ্যে অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়েছিল এতে সাংসদ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও সুশিল সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশাজীবির মানুষ যোগদান করেন। এদের মধ্য থেকে একজন বক্তব্য প্রদান করেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ফলাও করে এই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রচার করেছে ফলে সমাজের একটি বিশাল শ্রেণী পর্যন্ত জামাতের তবলীগ পৌঁছেছে। কালিকাটে মালায়ালাম ভাষার সর্ববৃহৎ পত্রিকার সম্পাদক জনাব ভূপাল কৃষ্ণ আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন এবং হুবহু তা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। তিনি একজন জ্ঞানী মানুষ. পবিত্র কুরআনও পাঠ করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি আমার কাছে বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় এবং সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা থেকে উত্তোরণের উপায় জানতে চান। এই পত্রিকার পাঠক সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে তিনি বলেন, “আপনাকে গান্ধিজীর আদর্শে অনুপ্রাণিত বলে মনে হচ্ছে”। আমি তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি যে, “আমি কোন গান্ধিজীর শিক্ষা বা আদর্শে প্রভাবিত নই বরং মহান আল্লাহ্ প্রদত্ত কুরআন এবং মহানবী (সা:)-এর পবিত্র জীবনাদর্শের অনুসারী”

এরপর কালিকাট থেকে কোচিন যাই। চতুর্দিক থেকে আহ্‌মদীরা সেখানে সমবেত হন। সেখানে একটি নবনির্মিত মসজিদ উদ্বোধন করারও সৌভাগ্য হয়। এটিও শহরের মধ্যস্থলে নির্মিত হয়েছে। আশেপাশে ব্যাপক সংখ্যক খৃষ্টান এবং হিন্দুদের বাস হলেও তারা অনেক বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। আমার আগমন উপলক্ষ্যে তারা নিজেদের ঘরদোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেছেন, দেয়ালে চুনকাম করিয়েছেন। সবাই সহযোগিতা করেছে ফলে সেখানে আসতে যেতে কোন অসুবিধা হয়নি। কোচিনের আশেপাশে আরো চারটি মসজিদ নির্মিত হয়েছে সেসব জামাতের সদস্যদের একান্ত ইচ্ছে ছিল যাতে আমি সেখানে গিয়ে মসজিদ উদ্বোধন করি কিন্তু যখন আমি অপারগতা জানাই তারা কোন বাড়াবাড়ি না করে আমার কথা মেনে নিয়েছেন, তবে সবগুলো মসজিদের এখান থেকেই প্রতিকি উদ্বোধন করি। এখানেও জামাতের সদস্যদের মধ্যে খিলাফত এবং আহ্‌মদীয়াতের প্রতি অনুপম ভালবাসা বিদ্যমান রয়েছে। এখান থেকে ভারতের একটি জাতীয় পত্রিকা The Hindu’ প্রচারিত হয় যার প্রধান সম্পাদক আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। এর পাঠক সংখ্যাও কোটির উপরে। আর Indian Express’ এর পাঠক সংখ্যাও কোটির কাছাকাছি। তিনি কয়েক মিনিটের জন্য আমার সাক্ষাৎকার নিতে এসেছিলেন কিন্তু বাস্তবে প্রায় দেড় ঘন্টা যাবত প্রশ্ন করেছেন। যাই হোক এসব সাক্ষাৎকারে জামাত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ হয়েছে। আশা করি এর মাধ্যমে বিশাল জনসমষ্টির কাছে আহ্‌মদীয়াতের পয়গাম পৌঁছেছে। সেখানেও একটি সূধি সমাবেশের আয়োজন করা হয় আর এতেও দেশের বরেণ্য শ্রেণী যোগদান করেন। একজন এমপি ছিলেন প্রধান অতিথি। তাদের অধিকাংশই প্রকাশ্যে বলেছেন,

‘আপনারা যেভাবে ইসলামের কথা বলেন তাতে আজ পৃথিবীতে পুণ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আপনারাই মূখ্য ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আমরা আশা করি।’

আমার সফরের ফলে কেবল তবলীগের নতুন পথই উম্মুক্ত হয়নি বরং আহ্‌মদীদেরও যথেষ্ট তরবিয়ত হয়েছে। মোটকথা খুবই সফল একটি সফর হয়েছে। সেখানে থেকে প্রাপ্ত চিঠিপত্র পাঠেও তারই বহি:প্রকাশ ঘটছে।

হযরত খলীফাতুল মসীহ্ সানী (রা:) খলীফার সফরে কি উপকার সাধিত হয় তার উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন,

‘যুগ খলীফার সফরের মূল উদ্দেশ্য তবলীগ নয় আর এটি মনে করাও উচিত নয় বরং স্থানীয় পরিবেশ-পরিস্থিতি স্বচক্ষে অবলোকেন করে ও অবগত হয়ে সেখানে তবলীগি কর্মপন্থা এবং তবলীগি কার্যক্রমকে দ্রুততর করার জন্য তবলীগি পন্থা ও পরিকল্পনা করার উদ্দেশ্যেই তাঁর সফর হয়ে থাকে। এই কাজ করতে গিয়ে তবলীগেরও সুযোগ ঘটে কেননা, তবলীগ একটি অব্যাহত প্রক্রিয়ার নাম। সেটি যে অঞ্চলই হোক না কেন সেখানে বসবাসকারী মানুষ উত্তমভাবে তা সম্পাদন করতে পারে।’

এটি সত্য কথা যে, কোন এলাকা সফরকালে সে এলাকা সম্পর্কে অবগত হবার কারণে মোবাল্লেগ এবং জামাতের কর্মকর্তাদেরকে তবলীগের ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনা দেয়া যেতে পারে। এছাড়া সফরের ফলে জামাতের কর্মকান্ডে একটা গতি সঞ্চারিত হয় আর জামাতের কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। নতুবা খলীফা কোন এলাকা সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে না জানলে সেখান থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টকেই বিশ্বাস করতে হয়। খলীফার সফরের ফলে দুর্বল জামাতগুলো অলসতা পরিহার করে গা ঝাড়া দিয়ে দাঁড়ায়। আপনারা নিজেদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমার সফরের অপেক্ষা করবেন না। আপনাদের মাঝে যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে তা স্তিমিত হতে দিবেন না। এই চেতনা এবং প্রেরণাকে জাগ্রত রাখুন আর সম্মুখে এগিয়ে যান। ধর্মের ইতিহাসে দক্ষিণ ভারতের অনেক গুরুত্ব আছে। আমি মনে করি, সঠিক পরিকল্পনা এবং পরিশ্রম করলে এখানে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এটিই মোহাম্মদী মসীহ্‌র মান্যকারীদের কাজ, আপনারা স্নেহ, ভালবাসা, নমনীয়তা, সহনশীলতা এবং প্রেম-প্রীতির মাধ্যমে সবার কাছে যুগ মসীহ্‌র বার্তা পৌঁছে দিন যেভাবে তিনি (আ:) পৌঁছাতে চেয়েছেন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) নিজ বাণী মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্পর্কে বলেন,

‘সাধারণ মানুষের কানে একবার খোদার পয়গাম বা বাণী পৌঁছে দেয়া আবশ্যক। কেননা সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বিরাট শ্রেণী এমনও আছে যারা অহংকার ও বিদ্বেষ মুক্ত। কেবল মৌলভীদের কারণে তারা সত্য গ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত থাকে।’

তিনি (আ:) আরো বলেন,

‘পৃথিবীতে তিন শ্রেণীর মানুষ আছে। সাধারণ মানুষ, মধ্যম শ্রেণী এবং ধনী সমাজ। সাধারন মানুষের বোধ-বুদ্ধি তুলনামূলক কমই হয়ে থাকে। তারা স্থুলবুদ্ধির মানুষ তাই তাদেরকে বুঝানো কঠিন। ধনী সমাজকে বুঝানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য কেননা তারা ভঙ্গুর মনমানসিকতার অধিকারী হয়। এরা খুব তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত করে আর তাদের অহংকার ও ঔদ্ধত্ব্য সত্যের পথে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা নিজেদেরকে অনেক বড় মনে করে, তাই তাদের সাথে যে কথা বলবে তার উচিত তাদের মত করে সংক্ষেপে কথা বলা কিন্তু পুরো বিষয় যেন সুস্পষ্ট হয় অর্থাৎ কাল্লা ওয়া দাল্লা অর্থাৎ অল্প কথায় পুরো যুক্তি তাদের সামনে ফুটিয়ে তোলা উচিত। সাধারণ মানুষকে তবলীগ করার জন্য স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট বক্তৃতা দেয়া উচিৎ যাতে সবার বোধগম্য হয়। মধ্যম শ্রেণীর মানুষের মাঝে কথা শোনার যোগ্যতা থাকে। তারা কথা বুঝতে পারে এবং তাদের মধ্যে ধনীদের মত অহংকার ও ভঙ্গুরপনা থাকে না তাই এদেরকে বুঝানো তেমন কঠিন নয়।’

হুযূর বলেন, এই এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণী হলো মধ্যবিত্ত। এখানে মোল্লাদের তেমন উৎপাত নেই। কিন্তু পাকিস্তানের মধ্যম শ্রেণী আমাদের কথা শুনতে ভয় পায় কারণ তারা মনে করে যে, যদি আমাদের কথা শুনে তাহলে মৌলভী তাদের বিরুদ্ধে কুফরী ফতোয়া প্রদান করবে। কিন্তু এখানে সেই ভয় নেই বললেই চলে। তাই যে যে স্থানে ভূমি উর্বর সেখানে এই পয়গাম পৌঁছানোর প্রানান্তকর চেষ্টা আমাদের চালিয়ে যাওয়া উচিত। কেননা আ��� মোহাম্মদী মসীহ্‌র এটিই কাজ, হিকমত এবং প্রজ্ঞার মাধ্যমে মূসায়ী মসীহ্‌র মান্যকারী খৃষ্টানদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং যারা মুসলমান হবার দাবী করেন তাদেরকে��� সঠিক পথ প্রদর্শন করার চেষ্টা করুন।

আল্লাহ্ তা’লা সকল আহ্‌মদীকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব পালন করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ তা’লা তাদের চেষ্টা-প্রচেষ্টায় অশেষ বরকত দিন এবং হিকমত ও প্রজ্ঞার সাথে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর এই বাণী প্রচারের প্রতি যেন সবার মনোযোগ নিবদ্ধ হয়, যেন বিশ্ব এই পয়গামের মাধ্যমে সকল অশান্তি ও নৈরাজ্য থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে