In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

প্রতিটি মু’মিনের উচিত খোদার সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্ট থাকা এবং সম্পূর্ণরূপে তাঁর প্রতি সমর্পিত থাকা

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল হুদা মস্‌জিদ, দিল্লি, ভারত

৫ই ডিসেম্বর, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, এ পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষেরই কিছু না কিছু চাওয়া-পাওয়া আছে। যা নিরূপন হয়ে থাকে মানুষের দৈহিক, মানসিক, সামাজিক নৈতিক অবস্থা এবং জ্ঞানের সীমারেখার উপর ভিত্তি করে। কিন্তু একজন মু’মিন সর্বদা খোদার উপর নির্ভর করে ফলে সবসময় তার দৃষ্টি খোদার প্রতিই নিবদ্ধ রাখে। যদি এমন করে তাহলেই সে মু’মিন বা বিশ্বাসী বিবেচিত হয় এবং খোদার ইবাদত গুজার বান্দায় পরিগণিত হতে পারে। এরা এমন মানুষ যারা খোদা এবং তাঁর রসূলের নির্দেশের প্রতি অনুগত হন। আমাদের নবী (সা:) বলেছেন, যদি তোমার জুতার ফিতারও প্রয়োজন পড়ে তার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করো। কেননা পকেটে অর্থ থাকলেই দোকান থেকে জুতার ফিতা কিনে ব্যবহার করা যায় না যদি না আল্লাহ্‌র রহমত সাথী হয়। তাই মানুষের প্রতিটি আশা-আকাংখা পূর্ণ হবার জন্য খোদার কাছে বিনত হয়ে দোয়া করা একান্ত আবশ্যক।

হুযূর বলেন, আমি প্রায়ই বলে থাকি যে, আমরা খুবই সৌভাগ্যবান কেননা আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এ যুগে তাঁর প্রতিশ্রুত মসীহ্ এবং মাহ্‌দীকে মানার তৌফিক দিয়েছেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘আমি সত্য সত্যই বলছি যে, খোদা তা’লা তাদেরকে ভালবাসেন এবং তাদের সন্তান-সন্ততিই আশিসমন্ডিত হয় যারা খোদা তা’লার নির্দেশ মান্য করেন। অতএব কখনও এমন হয়নি এবং হবেও না যে, খোদা তা’লার সত্যিকার অনুগত হওয়া সত্বেও সে অথবা তার আওলাদ ধ্বংস ও বিনষ্ট হবে। কেবল তারাই ধ্বংস হয় যারা খোদাকে পরিত্যাগ করে এবং জাগতিকতাকে আঁকড়ে ধরে। একথা কি সত্য নয় যে, সকল কর্মের মূল খোদার হাতে রয়েছে। তাঁকে ছাড়া কোন বিবাদের মিমাংসা সম্ভব নয় এবং কোন সফলতা আসতে পারে না। এবং কোন প্রকার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ হতে পারে না। সম্পদ থাকতে পারে কিন্তু কে বলতে পারে; মৃত্যুর পর তা অবশ্যই স্ত্রী-সন্তানের কাজে আসবে।’

তিনি (আ:) অন্যত্র বলেন,

‘আল্লাহ্ তা’লা এক গোপন সত্ত্বা কিন্তু তাঁর পবিত্র শক্তির আয়নায় তাঁকে চেনা যায়, দোয়ার মাধ্যমে তাঁর সত্তাকে উপলদ্ধি করা যায়। কোন ব্যক্তি রাজা বা বাদশাহ্ হলেও অনেক সময় এমন সমস্যায় নিপতিত হয় যে, মানুষ একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং বুঝেনা না যে তার কি করা উচিত; সে অবস্থা থেকে একমাত্র দোয়ার মাধ্যমেই উত্তরণ সম্ভব।’

সুতরাং হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) এই চেতনাই আমাদের মাঝে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদেরকে উপদেশ দিয়েছেন যে, বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করো। খোদা তা’লা নিজ বান্দাদেরকে সকল ক্ষেত্রে নির্দেশনা প্রদান করেন। আহ্‌মদীরা সৌভাগ্যবান কেননা তারা দোয়ার দর্শন ও মর্ম বুঝে তাই যখনই প্রয়োজন দেখা দেয় তখন কেবলমাত্র খোদার সমীপেই তারা বিনত ও সমর্পিত হয় এবং দোয়া করে। একথা সর্বজন বিদিত যে, মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে খোদার ইবাদত। কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে ইবাদতের প্রতি বর্ধিত মনোযোগ নিবদ্ধ করা চাই। মু’মিন ভালো ভাবেই জানে যে, তার সকল চাহিদা এবং ইচ্ছে কেবলমাত্র খোদা তা’লাই পূর্ণ করতে পারেন। ব্যক্তিগত, জাগতিক, দৈনন্দিন কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য বা ধর্মীয় যে কোন কাজই হোক না কেন সব কাজেই কল্যাণের জন্য একজন মু’মিন খোদার কাছে বিনত হয়।

হুযূর বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মু’মিন তার নেক মনোবাসনা পূর্ণ হবার জন্য চেষ্টা করেন আর দোয়া এবং সদকাও করেন। কিন্তু খোদা যেহেতু আলেমুল গায়েব তিনি অদৃষ্টের সংবাদ সম্যক অবহিত, তাঁর দৃষ্টিতে সেটি কল্যাণকর নয় বলে তিনি সে আকাংখা পূর্ণ করেন না আর তিনি অনেককে পূর্বেই সে সংবাদ অবহিত করেন। মানুষ সেসব সত্য স্বপ্নের ব্যাখ্যা বুঝতে পারে না তাই স্বীয় পরিকল্পনা মোতাবেক চুড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছার আপ্রাণ চেষ্টা করে কিন্তু সফল হয় না। পরবর্তী ঘটনাক্রম থেকে বুঝা যায় যে, খোদা যা করেছেন তা মঙ্গলের জন্যই করেছেন।

আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ের দিকে ইশারা করতে গিয়ে বলেন,

عَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

অর্থ: ‘এটি একেবারেই অসম্ভব নয় যে, তোমরা বস্তুকে ঘৃণা কর অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং এটিও সম্ভব যে, তোমরা কোন জিনিষকে ভালবাস, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত: আল্লাহ্ জানেন এবং তোমরা জান না।’ (সূরা আল্ বাকারা: ২১৭)

হুযূর বলেন, যদি কোন জিনিষ আকর্ষণীয় হয় আর তাতে মানুষ কল্যাণ দেখতে পায় তাহলে সে তা পেতে চায় কিন্তু সে জানে না এতে তার ক্ষতিও হতে পারে। অথবা সে জানে না যে, এ বাসনা এখন পূর্ণ হবার নয় বরং খোদার অভিপ্রায় অনুযায়ী তা পরবর্তী কোন সময়ে পূর্ণ হলে তার জন্য মঙ্গলজনক। মানুষ সফলতা চায়, সে উত্তম জিনিষকে পেতে চায় বা বিরুদ্ধবাদীদের উপর সুস্পষ্ট প্রাধান্য লাভ করতে চায় কিন্তু সে হয়তো জানে না যে, বিরুদ্ধবাদীদের তাৎক্ষণিক পরাজয়ের মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। যদি কেউ আল্লাহ্‌র ইচ্ছার বিরুদ্ধে নাছোড়বান্দা হয়ে কিছু হস্তগত করতে চায় তাহলে সে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। অদৃশ্যের মালিক খোদা পূর্বাপর সবকিছু ভাল জানেন। তিনিই তাঁর মু’মিন বান্দাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তিনিই কুরআনে اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ দোয়া শিখিয়েছেন অর্থাৎ তিনিই মানুষকে সরল-সুদৃঢ় পথে পরিচালিত করেন। খোদা তা’লা মুজীব; তিনি মানুষের সক��� দোয়া শুনেন এবং কবুল করেন। তাই আমাদেরকে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত যে, হে খোদা! তুমি যেভাবে চাও দান করো। সকল পরিস্থিতিতে মু’মিননের দোয়া করা উচিত। কিন্তু অনেক সময় মানুষ দোয়া করার পর সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে নির্দেশনা লাভ করা সত্বেও ব্যাখ্যা বা তা’বীর করতে ভুল করে বসে। পূর্বের কোন কোন ইশারা বা ইঙ্গীতের উপর ভর করে সম্মুখে এগিয়ে যাবার চেষ্টা চালায় আর তাদের প্রবল আকাংখা এবং বাসনা সত্বেও ঘটনাপ্রবাহ এটি প্রমাণ করে যে, খোদা এখন এটি চাননা।

হুযূর বলেন, এটি ভালভাবে স্মরণ রাখুন যে, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সাথে কৃত খোদার সকল প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ হবে। কিন্তু কখন কিভাবে তা পূর্ণ হবে তা স্বয়ং খোদা তা’লা নির্ধারণ করবেন। কিন্তু এতে কোন সন্দেহ নেই যে, আমরা খোদার কৃপাবারী লাভ করবো। খোদার ফযল একদিন স্বমহিমায় প্রকাশিত হবে এবং পূর্ণ হবে তাঁর দেয়া সকল প্রতিশ্রুতি। আমাদের উচিত দোয়ার সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়া।

হুযূর বলেন, খিলাফত শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এবছর আহ্‌মদীদের মধ্যে একটি বিশেষ উৎসাহ্ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আহ্‌মদীরা খিলাফত শতবার্ষীকি জলসা করছে এবং ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কাদিয়ানেও হবার কথা আছে কিন্তু সম্প্রতি উগ্রপন্থীরা ভারতের বোম্বে শহরে একটি নাশকতামূলক এবং নৃশংশ ঘটনা ঘটিয়েছে ফলে ভারত সরকার সতর্কতামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সে কারণে আমি অনেক দোয়ার পর বর্হিবিশ্ব থেকে সকল আহ্‌মদীকে কাদিয়ান আসতে বারণ করেছি। বিনা ব্যতিক্রমে কেউ জলসার জন্য আসবেনা। কাদিয়ানের জলসাকে কেন্দ্র বিশ্বের সকল আহ্‌মদীর মাঝে একটি বিশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। অনেকে জলসায় যোগদানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন কিন্তু তারপরও আমাদেরকে সবকিছুর উপর খোদার অভিপ্রায়কে প্রাধান্য দিতে হবে। আল্লাহ্ তা’লা মু’মিনদেরকে পরিবেশ এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাবধানতা অবলম্বনের জন্য দোয়াও শিখিয়েছেন। যারা ভারতের নাগরিক তারা আর কোথায় যাবেন কিন্তু যারা সফরে থাকেন তাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই আমাদের এমন সকল পরিস্থিতির জন্য দোয়া শিখানো হয়েছে, আমাদেরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচার জন্য দোয়া শিখানো হয়েছে, জালেমদের হাত থেকে বাঁচার দোয়া শিখানো হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের আহ্‌মদীরা স্বপ্ন দেখেছেন এবং এখনও দেখছেন অনেকে আমাকে পূর্বেও লিখেছেন আর এখনও লিখছেন। সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে দোয়ার মাধ্যমে আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, ভারতের বাইরে থেকে কোন আহ্‌মদী কাদিয়ান জলসায় যোগদানের জন্য আসবেন না। আল্লাহ্ তা’লা অবস্থার পরিবর্তন করবেন তখন ইনশাআল্লাহ্ আসার সুযোগ থাকবে। আমাদেরকে এই শিক্ষাই প্রদান করা হয়েছে আর দোয়াও শিখানো হয়েছে যে, কোন অবস্থাতেই আবেগের বশে কাজ করবেন না কেননা প্রতিটি আহ্‌মদী প্রাণের মূল্য আছে। কিন্তু মনে রাখবেন যে, আমাদের খোদা সঠিক সিদ্ধান্ত করেন এবং যা আমাদের জন্য কলাণকর তাই তিনি করেন এবং করবেন, ইনশাআল্লাহ্।

হুযূর বলেন, পবিত্র কুরআনে অনেক দোয়া আছে এছাড়া মহানবী (সা:) এবং মসীহ্ মওউদ (আ:)-এরও অনেক মসনূন দোয়া আছে সেগুলো আমাদের বেশি বেশি পাঠ করা উচিত। মহানবী (সা:)-এর একটি প্রিয় দোয়া যা আমি আগেও বিভিন্ন বরাতে উল্লেখ করেছি আজ আবার পড়ছি:-

أَعُوذُ بِوَجْهِ اللَّهِ الْعَظِيمِ الَّذِي لَيْسَ شَيْءٌ أَعْظَمَ مِنْهُ، وَبِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلا فَاجِرٌ، وَبِأَسْمَاءِ اللَّهِ الْحُسْنَى كُلِّهَا مَا عَلِمْتُ مِنْهَا وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَبَرَأَ وَذَرَأَ.

অর্থ: ‘আমি মহা মর্যাদা সম্পন্ন আল্লাহ্‌র আশ্রয় চাই যাঁর চেয়ে মহান আর কেউ নেই। এবং সেই পূর্ণাঙ্গীন শব্দাবলীর দোহাই দিয়ে তাঁর আশ্রয় চাচ্ছি, পুণ্যবান এবং পাপাচারী কেউই যার ঊর্ধ্বে নয় এবং আল্লাহ্ তা’লার অনুপম নামগুলোর মাধ্যমেও যেগুলো আমি জানি এবং যা আমার অজানা। তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে যেগুলো তিনি সৃষ্টি করেছেন, বানিয়েছেন এবং বিস্তৃতি দান করেছেন।’

এই দোয়াতে আকাশ ও পৃথিবীর সকল প্রকার বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য দোয়া শিখানো হয়েছে। মহানবী (সা:)-এর প্রতিটি দোয়াই পূর্ণাঙ্গীন এবং গভীর অর্থবহ কিন্তু আমি সর্বদা যে দোয়াগুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখি তন্মধ্যে এটিও একটি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ দোয়ার প্রতি আমার মনোযোগ বিশেষভাবে নিবদ্ধ হয়েছে। আল্লাহ্ তা’লা আমাদের সকল দোয়া শ্রবণ করুন এবং প্রত্যেক আহ্‌মদীকে সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখুন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’লা হযরত মূসা (আ:)-এর একটি দোয়া বিবৃত করেছেন তাহলো,

رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

অর্থ: ‘হে আমার প্রভু প্রতিপালক! তুমি যে কল্যাণই আমার প্রতি নাযেল কর না কেন আমি অবশ্যই তার ভিখারী।’ (সূরা আল্ কাসাস্: ২৫)

হুযূর বলেন, সর্বদা আমাদেরকে আল্লাহ্ তা’লার কাছে বিনত হয়ে দোয়া করতে থাকা উচিত যাতে আমাদের জীবন তাঁর অনন্ত ও অফুরন্ত কল্যাণে পরিপূর্ণ হয়। আমাদের চাওয়া-পাওয়া ও আকাংখাকে তিনি যেন সঠিক খাতে পরিচালিত করেন; কোন ভুল ব্যাখ্যা করে যেন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত না হই। প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্ত খোদার নিয়ামত হয়ে থাকে তাই আল্লাহ্ আমাদের প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্ত করার তৌফীক দিন। কুরআনে আরও একটি দোয়া আছে আর তাহলো

رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ

অর্থ: ‘হে আমার প্রভূ! তুমি আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং সৎ লোকদের অন্তর্ভূক্ত করো।’ (সূরা আশ্ শো’আরা: ৮৪)

খোদা প্রদত্ত প্রজ্ঞার কারণে মানুষ তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বাণীর মর্মার্থ বুঝতে সক্ষম হয় আর সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ যুগে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে স্রষ্টার সাথে পরিচিত করিয়েছেন। এবং সর্বদা তাঁর কথা মান্য করা এবং হৃদয়ঙ্গম করার উপদেশ দিয়েছেন। আমাদের উচিত সেই মহা দয়ালু ও কৃপালু খোদার সকল সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেয়া। জেনে রাখা আবশ্যক যে, মু’মিন কখনও ভয় পায় না কিন্তু এটিও ভেবে দেখা কর্তব্য যে, কি-সে তার কল্যাণ ও মঙ্গল। আমরা কোন ত্যাগ স্বীকারে কুন্ঠা বোধ করিনা কিন্তু খোদার পক্ষ থেকে কল্যাণ পেতে চাইলে বুদ্ধিমত্তার সাথে বিপদাপদ এড়িয়ে চলা উচিত। আল্লাহ্ তা’লা করুন যেন আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ হয়। তাঁর গোপন অভিপ্রায় যেন আমরা বুঝতে সক্ষম হই কেননা এটিই একজন মু’মিনের সত্যিকার পরিচয়। যাইহোক, যেভাবে আমি বলেছি; অনেকেই বিভিন্ন ধরনের স্বপ্ন দেখেছেন। আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে যখন কোন বার্তা আসে তখন মানুষের উচিত তা বুঝার চেষ্টা করা। তাই এমন বৈরি পরিবেশে এত বড় জনসমাবেশ করা সমিচীন হবে না। আমরা ভেবে-চিন্তে দোয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন খোদা তা’লা আমাদের সিদ্ধান্তে বরতক দিন। জলসায় যোগদানের জন্য যারা এখানে আসতে চাচ্ছিলেন তাদের কষ্ট ও আন্তরিকতা তাদেরকে খোদার প্রতি বিশ্বাসে আরো সমৃদ্ধ করুন। পূর্বের তুলনায় দোয়ার প্রতি তাদের মনোযোগ আরো বেশি নিবদ্ধ হোক। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘নিশ্চয় খোদা রহীম, করীম এবং হালীম। তিনি প্রার্থনাকারীকে বিনষ্ট হতে দেন না।’

তাই সর্বদা আমাদেরকে প্রত্যেক কষ্টের পর পূর্বের চেয়ে আরো বেশি খোদার প্রতি বিনত হয়ে দোয়া করতে থাকা উচিত। যেভাবে আমি বলেছি, আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে ভবিষ্যতে অনুকূল পরিবেশে জলসায় যোগদানের সুযোগ করে দিবেন, ইনশআল্লাহ্। কাদিয়ানের আহ্‌মদীদের জন্যও দোয়া করুন এবং ভারতে বসবাসকারী আহ্‌মদীদেরকে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত��� বসবাসকারী আহ্‌মদীরা দোয়ায় স্মরণ রাখুন। এখানকার আহ্‌মদীরা নিজেদের জন্য এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী আহ্‌মদীদের জন্য দোয়া করুন যাতে আল্লাহ্ তা’লা প্রত্যেককে সকল ধরনের যুলুম ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করেন। বিশ্ববাসী যেন তাদের স্রষ্টা মহান খোদাকে চিনতে পারে, মানুষ যেন মানবের প্রাপ্য অধিকার প্রদানে সক্ষম হয়। ধর্মের নামে এবং ব্যক্তিস্বার্থে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে আল্লাহ্ তা’লা এসব অপকর্মকারীদের ধৃত করুন এবং তাদেরকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদান করুন। পাকিস্তানের আহ্‌মদীরাও অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত, দোয়া করুন যেন খোদা তা’লা আপন করুণায় তাদের অসহায়ত্ব দূর করেন। প্রত্যেককে শান্তি ও নিরাপত্তার চাদরে আবৃত রাখুন। আল্লাহ্ তা’লা প্রতিটি মানুষকে মানবতার উপর প্রতিষ্ঠিত করুন, আমীন।

সানী খুতবায় হুযূর বলেন, আমি জুমুআর নামাযান্তে মরহুম দরবেশ চৌধুরী মোহাম্মদ আহমদ সাহেব এর পত্নী মোকাররমা আমাতুর রহমান সাহেবার গায়েবানা জানাযার নামায পড়াবো। তিনি ৩রা ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে কাদিয়ানে মৃত্যু বরণ করেন, إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ তিনি অত্যন্ত পরহেজগার এবং ধার্মীক ছিলেন। স্বামীর সাথে কাদিয়ানে দরবেশী জীবন যাপন করেছেন এবং জামাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আল্লাহ্ তা’লা মরহুমাকে জান্নাতুল ফেরদাউসে স্থান দিন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সবরে জামীল দান করুন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে