In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহ্‌র ইবাদতই মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল কুদ্দুস মস্‌জিদ, কালিকাট, কেরালা, ভারত

২৮শে নভেম্বর, ২০০৮ইং

খোদার ইবাদত, সৎকর্ম ও উত্তম আদর্শ স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আহ্‌মদীয়াতের প্রতি আকর্ষণের সাম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

এরপর হুযূর বলেন, সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তা’লার যিনি আমাকে আজ ভারতের এতদাঞ্চলে আসার তৌফিক দিয়েছেন। ২০০৫ সালে যখন আমি কাদিয়ান এসেছিলাম তখন কেরালার অনেক নিষ্ঠাবান আহ্‌মদী আমাকে এখানে আসার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেছিলেন কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আসা হয়ে উঠেনি অবশ্য আমি বলেছিলাম যে, পরে কোন সময় আসার চেষ্টা করব। আজ আল্লাহ্ তা’লার অপার কৃপায় আমি আপনাদের মাঝে এসেছি এবং খোদা তা’লা আমাকে প্রতিশ্র“তি রাখার সুযোগ করে দিয়েছেন। মানুষকে কাছে থেকে না দেখলে তার আন্তরিক ভালবাসা ও আবেগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা করা যায় না। কাদিয়ান জলসায় এবং লন্ডনে কেরালার অনেকের সাথেই আমার সাক্ষাত হয়েছে এবং তাদেরকে আমি খিলাফতের প্রতি আন্তরিকতা এবং ভালবাসায় সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ পেয়েছি কিন্তু খিলাফতের প্রতি জামাতের আবাল বৃদ্ধ-বনিতার ভালবাসা যে কত আন্তরিক ও প্রগাঢ় তা এখানে না এলে অনুমান বা অনুধাবন করা আমার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব হতো না। আমার সফরসঙ্গীদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ বলছিলেন যে, এখানকার আহ্‌মদীদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার আহ্‌মদীদের মত শৃঙ্খলা দেখা যায় আবার কতকের মতে এদের মধ্যে আফ্রিকান আহ্‌মদীদের মত আন্তরিকতা রয়েছে। যদিও আফ্রিকানদের আন্তরিকতা ও ভালবাসায় আবেগ ও উদ্দীপনার আধিক্য দেখা যায় কিন্তু আমি বলবো পৃথিবীর যে প্রান্তেই আহ্‌মদীরা বসবাস করুক না কেন মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর প্রিয় জামাতের প্রতি তাদের আন্তরিকতা ও ভালবাসার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া ভার। যদিও প্রত্যেকের আন্তরিকতা প্রকাশের ভাষা ভিন্ন আর ভারতের এ অঞ্চলের আহ্‌মদীদের নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততা প্রকাশের একটি নিজস্ব রীতি রয়েছে। এ অঞ্চলটি কাদিয়ান থেকে সহস্র সহস্র মাইল দূরে অবস্থিত বলে কেবল হাতে গোনা কতক আহ্‌মদীই হয়তো যুগ খলীফার সাথে সরাসরি সাক্ষাত করার তৌফিক পেয়েছেন কিন্তু আমি এখানকার আপামর আহ্‌মদী যারা কখনও খলীফাকে দেখেননি তাদের চেহারায় খিলাফতের প্রতি যে শ্রদ্ধা এবং প্রগাঢ় ভালবাসা দেখেছি তা অনুপম, খিলাফত এবং আহ্‌মদীদের মাঝে যে ভালবাসার বন্ধন গড়ে উঠেছে আজ পৃথিবীর এমন কোন শক্তি নেই যা এর মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এমন আন্তরিকতা এবং ভালবাসা সত্বেও বিরুদ্ধবাদীরা এখনও হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহের দোলাচাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। আমাদের এই মসজিদ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। যাতায়াতের সময় মানুষ দেখছে যে, খিলাফতের জন্য আহ্‌মদীদের ভালবাসা, আবেগ ও উদ্দীপনা কত প্রবল আর এই ভালবাসার মূল কারণ হচ্ছে, তারা জানে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সূচিত কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত খিলাফত রূপী রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার মাঝেই সবার মুক্তি নিহিত। আমাদেরকে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছতে হবে; আমাদের গন্তব্য, উদ্দেশ্য আর লক্ষ্য কি? আমাদের উদ্দেশ্য হলো খোদার সন্তুষ্টি অর্জন। আমৃত্যু সেই কাজ করতে হবে যা খোদার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমাদের সহায় হয়। অবিরাম সেই কাজ করে যেতে হবে যা মহানবী (সা:)-এর পরিপূর্ণ আনুগত্যের কারণ হবে। তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর সকল নির্দেশ পালন করা আমাদের জন্য শিরোধার্য। যুগ ইমাম হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর হাতে বয়’আত করার পর আমাদের সেই উন্নত মানে অধিষ্ঠিত হবার চেষ্টা করতে হবে যা তিনি আমাদের মাঝে দেখার প্রত্যাশা করেছেন। এটিই আমাদের জীবনের পরম লক্ষ্য হওয়া উচিত। এ লক্ষ্য অর্জিত না হলে খিলাফতের জন্য আবেগ ও আন্তরিকতা প্রদর্শন, ভক্তিমূলক গান গাওয়া ও নযম পাঠ করা অর্থহীন। আমি এখানে দেখেছি, মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সাথে ভালবাসার কারণে কিভাবে আপনারা তাঁর প্রবর্তিত নেযামের প্রতি আবেগ ও অনুরাগ রাখেন। মানুষ এ পৃথিবীতে বিভিন্ন জাগতিক এবং রাজনৈতিক নেতার সাথেও ভালবাসার সম্পর্ক রাখে এবং বিভিন্ন জাগতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্যও ত্যাগ স্বীকার করে থাকে কিন্তু এমন ক’জন আছেন যারা খোদার ভালবাসা পাবার মানসে মহানবী (সা:)-এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের প্রেরণা নিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেন। যারা জাগতিকতার পূজারী তাদের ত্যাগ বা কুরবানী লোক দেখানো। এরা এমন আলেম-উলামার পদাঙ্ক অনুসরণ করছে যারা স্বয়ং এমন এক ব্যক্তির জন্য অপেক্ষমান যিনি স্বয়ং খোদার পক্ষ থেকে হেদায়াতপ্রাপ্ত হবেন। এ যুগে একমাত্র হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-ই খোদার পক্ষ থেকে মনোনীত এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি, তিনি ছাড়া আর কেউ নন। অতএব সত্যিকারের চেতনা এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য গন্তব্য নির্ধারণ কেবলমাত্র আহ্‌মদীদের দ্বারাই সম্ভব অন্য কারো পক্ষে এ কাজ সম্ভব নয়। আর এ লক্ষ্যে প্রত্যেক আহ্‌মদীকে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) কর্তৃক প্রদর্শিত কুরআন ও হাদীসের অমূল্য শিক্ষামালা বুঝে তার উপর আমল করার অক্লান্ত চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তবেই আমরা সত্যিকার আহ্‌মদী হবার যোগ্যতা লাভ করবো।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘স্মরণ রেখো যে, সত্য এবং পবিত্র চারিত্রিক গুণাবলী হচ্ছে পুণ্যবা���দের নিদর্শন বা মুত্তাকীদের চিহ্ন। এতে অন্য কেউ শরীক নেই। কেননা যে খোদার সত্ত্বায় বিলিন হয়না সে ঐশী শক্তি লাভ করতে পারে না। তাই তাদের জন্য সেই পবিত্র নৈতিক গুণাবলী অর্জন করা কোন ক্রমেই সম্ভব নয়। অতএব তোমরা আপন প্রভুর সাথে স্বচ্ছ ও পুত-পবিত্র সম্পর্ক স্থাপন করো। হাসি-ঠাট্টা, ইর্ষা-বিদ্বেষ, কুবাক্য, লোভ-লালসা, মিথ্যা, অপকর্ম, কুদৃষ্টি, কুধারণা, জাগতিকতার পূজা, অহংকার, আত্মশ্লাঘা, অনিষ্ট, অযথা বিতর্ক পরিহার করো, তাহলেই এ সবকিছু তোমরা আকাশ থেকে বা স্বর্গ থেকে লাভ করবে অর্থাৎ পুণ্যবানদের জন্য নির্ধারিত নিদর্শন বা অলৌকিক গুনাবলী তোমরা আকাশ থেকে প্রাপ্ত হবে। যতদিন সেই মহান শক্তি তোমাদের সাথী না হবে যা তোমাদেরকে উপরের দিকে আকর্ষণ করবে আর প্রাণ সঞ্চারী রুহুল কুদুস যতক্ষণ তোমাদের হৃদয়ে প্রবেশ না করবে ততদিন তোমরা অতি দুর্বল এবং অন্ধকারে নিমজ্জিত। এমন পরিস্থিতিতে তোমরা কোন সমস্যার মোকাবিলা করতে পারবে না আর সম্মানও অর্জন করতে পারবে না। আর সম্পদশালী হবার কারণে মানুষের মাঝে যে অহংকার জন্মে সে অহংকার থেকেও কোনভাবে মুক্ত হতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন যে,

‘তোমরা আবনাউস্ সামা’ হও অর্থাৎ আধ্যাত্মিক জগতে বিচরণকারী মানুষ হও, বস্তুবাদী হবে না। আলোর উত্তরাধিকারী হও আঁধার প্রেমী হবে না যাতে তোমরা শয়তানের খপ্পর থেকে নিরাপদ থাকতে পারো।’

অতএব এ হচ্ছে সেই মহান ও উন্নত মান যা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) আমাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। মানুষ অত্যন্ত দুর্বল বলে উত্থান-পতন তার জীবনের স্বাভাবিক রীতি, তাই দুর্বলতা মুক্ত হয়ে খোদার নৈকট্য লাভের বাসনায় একজন আহ্‌মদীকে অব্যাহত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া উচিত। উন্নত নৈতিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ হবার জন্য হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর উপরোক্ত উদ্ধৃতিতে আমাদের জন্য দিক নির্দেশনা রয়েছে। আর তাহলো খোদা তা’লার সাথে পরিস্কার ও স্বচ্ছ সম্পর্ক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। একটি দৃঢ় ও অকৃত্রিম সম্পর্ক গড়ে তোলা। তা কিভাবে সম্ভব? যদি আমরা আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য সর্বদা দৃষ্টিগোচর রাখি তাহলেই এটি সম্ভব হবে। মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বয়ং খোদা তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

অর্থ: ‘এবং আমি জিন্ন ও ইনসানকে শুধু এজন্য সৃষ্টি করেছি যাতে তারা কেবল মাত্র আমরই ইবাদত করে।’ (সূরা আয্ যারিয়াত: ৫৭)

এটি অনেক বড় একটি উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য। যদি আমরা কেবল মাত্র খোদার হয়ে পবিত্র অন্ত:করণে তাঁর ইবাদত করি তাহলে আমরা সেসব কর্ম এড়িয়ে চলতে সক্ষম হবো যাকে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) চারিত্রিক গুণাবলীর পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং সেসব সৎকর্ম করার প্রতি আমাদের মনোযোগ নিবদ্ধ হবে যা করার জন্য খোদা তা’লা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রেও আমরা যত্নবান থাকবো। আর এসব কর্ম আমাদেরকে খোদার বর্ধিত নিয়ামত লাভে ধন্য করবে। খিলাফতের প্রতিশ্রুতিও কেবল তাদেরকেই দেয়া হয়েছে যারা সৎকর্ম করবে এবং সকল প্রকার শিরক মুক্ত হয়ে নিরন্তর খোদার ইবাদত করতে থাকবে। এমন কর্ম যা খোদা পসন্দ করেন তার মাধ্যমেই আমরা এই খিলাফতের কল্যাণ ও আশিসমালা ধরে রাখতে পারবো।

হুযূর বলেন, মোটকথা আমাদেরকে সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে হবে। আল্লাহ্ তা’লা ইবাদতের যে রীতি ও পদ্ধতি শিখিয়েছেন তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ইবাদত হচ্ছে প্রত্যহ পাঁচ বেলা নামায আদায় করা। অতএব জামাতের প্রত্যেক আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে এ ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে, যদি একনিষ্ঠভাবে খোদার সমীপে বিনত না হন তাহলে সৎকর্মের সেই মানে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না যে মানে অধিষ্ঠিত হবার নির্দেশ রয়েছে। এ ব্যাপারে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) আমাদের কাছে কি প্রত্যাশা করেছেন। তিনি (আ:) একস্থানে বলেন,

‘অতএব, যারা আমার সম্প্রদায়ভূক্ত বলে দাবী কর একথা নিশ্চয় জেনো যে, আকাশে কেবল তখনই তোমরা আমার শিষ্যমন্ডলী বলে পরিগণিত হবে, যখন তোমরা সত্য সত্যই ধর্মনিষ্ঠার পথে অগ্রসর হবে। সুতরাং তোমরা তোমাদের দৈনিক পাঁচ বেলার নামায এরূপ ভীতি সহকারে এবং নিবিষ্টচিত্তে পড়বে যেন তোমরা আল্লাহ্ তা’লাকে সাক্ষাৎভাবে দেখছো।’

অতএব খোদার প্রতি ঈমান আনার পর সবচেয়ে বড় শর্ত হলো নামায আদায় করা। কিন্তু মাথা থেকে কোন বোঝা নামানোর মত তাড়াহুড়ো করে নামায পড়া ঠিক নয়। বরং মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেছেন,

‘তুমি এমন ভাবে নামায পড় যেন তুমি খোদা তা’লাকে দেখছো।’

দেখুন যখন কোন বড় মানুষের সামনে আমরা দন্ডায়মান হই তখন আমাদের মধ্যে একটি ভীতি বিরাজ করে তাহলে সবচেয়ে বড় সত্ত্বা খোদার দরবারে যখন আমরা দন্ডায়মান হবো তখন যদি এই সচেতনতা আমাদের মধ্যে থাকে যে, তিনি আমাদের দেখছেন তাহলে তাঁর ভয়ে আমরা ত্রস্ত থাকবো। আর এটিই সত্যিকার অর্থে একজন মানুষকে খোদার ইবাদতগুজার বান্দায় পরিণত করে। কিন্তু রাতারাতি মানুষের মধ্যে এ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে না তাই মহানবী (সা:) বলেছেন,

‘নামায পড়ার সময় যদি এই চেতনা সৃষ্টি না হয় যে, তুমি তাঁকে দেখছো তাহলে নিদেনপক্ষে এটি মনে রাখো যে, খোদা তা’লা তোমায় দেখছেন।’

যদি এমন সচেতনতা আমাদের মাঝে জন্ম নেয় তাহলে জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, ভোগ-বিলাস এবং আরাম-আয়েশকে তুচ্ছ জ্ঞান করে আমরা খোদার ইবাদতকে সবার উপর প্রাধান্য দিতে সক্ষম হবো। এই অবস্থাই আমাদেরকে আধ্যাত্মিক জগতে বিচরণকারী বানাবে এবং হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জামাতে অন্তর্ভূক্ত করবে।

হুযূর বলেন, আমি একথাগুলো যারা এ মানে পৌঁছতে পারে নি তাদেরকে নিরাশ করার জন্য বলছি না। এটি ভাববেন না যে, এ মান যেহেতু আমরা অর্জন করতে পারিনি তাই আমরা জামাত থেকে বিচ্যুত। বরং আমাদেরকে এ মান অর্জনের প্রাণপন চেষ্টা করতে হবে কেননা উন্নয়নশীল জামাতের জন্য মহান লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে পানে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়া আবশ্যক। তাহলে খোদার কল্যাণরাজি এবং কৃপাবারী পূর্বের তুলনায় তাদের উপর অধিক মাত্রায় বর্ষিত হয়। আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ

অর্থ: ‘এবং আমার রহমত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।’ (সূরা আল্ আ’রাফ: ১৫৭)

সুতরাং আমরা যা কিছু পাচ্ছি তা কেবলই খোদার দয়ায় লাভ করছি। তাই নিরাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে চেষ্টা-প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন তাহলে খোদার করুণা আপনাদেরকে সফলকাম করবেন। খোদা তা’লা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জামাতের জন্য যেসব কল্যাণ নির্ধারণ করে রেখেছেন তা আপনারা লাভ করবেন। আল্লাহ্‌র ফযলে জামাতে এমন অনেক সদস্য আছেন যারা সত্যিকারেই নামাযের হক্ব আদায় করেন, রাতের ঘুম হারাম করে খোদার দরবারে বিনত হয়ে কান্নাকটি করেন, জামাতের উন্নতির জন্য দোয়া করেন এবং তারা পূর্ণরূপে ত্বাকওয়াশীল। এমন লোকদের কারণে আল্লাহ্ তা’লা সামগ্রীকভাবে জামাতের উপর ফযল এবং কৃপাবারী বর্ষণ করে থাকেন। কিন্তু হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) জামাতের প্রতিটি সদস্যকে খোদার সাথে নিবিড় সম্পর্ক বন্ধনে আবদ্ধ দেখতে চেয়েছেন। জামাতের প্রতিটি সদস্য যেন খোদার পক্ষ থেকে সেই কল্যাণ লাভ করতে পারে যা তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্তরা পেয়ে থাকেন। প্রত্যেক সদস্যের ত্বাকওয়ার মান যত উন্নত হবে ততই জামাতের বিজয় তরান্বিত হবে। যেসব সৎকর্ম করার নির্দেশ খোদা দিয়েছেন তা যদি আপনারা করেন তাহলে গোটা সমাজকে আপনারা জামাতের প্রতি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবেন। এসব সৎকর্মের ফলে সমাজের উপর আমাদের প্রভাব পড়বে ফলে আমাদের তবলীগি কর্মকান্ডও সফল হবে। আল্লাহ্‌র ফযলে মোলাকাতের সময় অ���েককেই আমি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং ভালবাসায় আপ্লুত দেখেছি। খোদার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস এবং দোয়া কবুল হবার বিশ্বাসে তারা সমৃদ্ধ এবং খোদার সন্তুষ্টি অর্জনের আক���ল বাসনা তাদের কথাবার্তা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছিল। অনেক পুরুষ মহিলা তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য দোয়ার আবেদন করেছেন। খিলাফত এবং জামাতের সাথে তাদের একটি সুসম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে বরং প্রতিনিয়ত এ বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর করতে হবে। এ জন্য সর্বদা খোদার নির্দেশ পালন এবং তাঁর ইবাদত করা একান্ত আবশ্যক। সকল প্রকার শির্‌ক থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখুন। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সাথে উঠাবসা ও চলাফেরার কারণে কিছু কুপ্রথাও আপনাদের জীবনধারায় অনুপ্রবেশ করতে পারে তাই সদা সতর্কতার সাথে এত্থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। কেননা এসব কুপ্রথাই ধীরে ধীরে মানুষকে খোদা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

হুযূর বলেন, খোদার ফযলে ভারতের এ রাজ্যের অন্যান্যের মত আহ্‌মদীরাও শতভাগ শিক্ষিত। এ শিক্ষাকে নিজেদের ধর্মের হিফাযতের জন্য আপনারা ব্যবহার করুন। ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন আপনাদের জীবনের পরম উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যাতে নিজেদের ধর্মের হিফাযতের পাশাপাশি সন্তান-সন্তুতিকেও ধর্মের সাথে যুক্ত রাখতে পারেন। তারপর এই ধর্মীয় জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আপনারা তবলীগি কর্মকান্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এ প্রদেশটি এমন যেখানে হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা ছাড়াও ইহুদীরা বসতি স্থাপন করেছে আর তাদের সন্ধানে ঈসা (আ:)-এর সাহাবী টমাস এসেছেন এবং খৃষ্টধর্ম প্রসার লাভ করেছে। এটিও সবার জানা যে, হযরত মালেক বিন দিনার এখানে এসেছেন এবং মুসলমান ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে প্রথম যুগেই এখানে ইসলাম ধর্ম প্রসার লাভ করে। এখন আল্লাহ্ তা’লা আপনাদের মুহাম্মদী মসীহ্কে মানার সৌভাগ্য দিয়েছেন। তাই আপনারা একটি বিশেষ প্রেরণা এবং উদ্দীপনা নিয়ে এই মূল্যবান শিক্ষারূপী নিয়ামতের প্রচারে ব্রতী হোন। এতদাঞ্চলের মানুষকে মুহাম্মদী মসীহ্‌র পতাকা তলে সমবেত করার আপ্রাণ চেষ্টা করুন কেননা আজ মুহাম্মদী মসীহ্কে মান্য করার মধ্যেই সবার মুক্তি নিহিত। মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’লা যে পয়গামকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছানো অবধারিত করে নিয়েছেন সত্যিকার অর্থে তা পৌঁছানোর সাম্ভাব্য সকল চেষ্টা আমাদেরকে করতে হবে। পুর্বের তুলনায় এখন গোটা বিশ্বের দৃষ্টি আহ্‌মদীয়াতের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে, আপনারাও আধুনিক প্রচার মাধ্যমের কল্যাণে এ অঞ্চলে বসে তা দেখতে পাচ্ছেন। বিরোধীতা বেড়েছে পাশাপাশি আহ্‌মদীদের কথা শোনার প্রতিও বিশ্ববাসীর মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে তাই এখন আমাদের মাঝে একটি পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করে অর্পিত দায়িত্ব পালনের সমূহ চেষ্টা করতে হবে। সর্বদা একথা মনে রাখবেন যে, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেছেন,

‘আমাকে দোয়ার অস্ত্র দেয়া হয়েছে’

তাই দোয়ার প্রতি অনেক বেশি মনোযোগ নিবদ্ধ করার প্রয়োজন রয়েছে, ইনশাআল্লাহ্ এটিই আমাদের সফলতার কারণ হবে। আল্লাহ্ তা’লা আমাদের সবাইকে এর তৌফিক দান করুন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে