In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে নবনির্মিত ‘মসজিদুল্ মাহদী’র উদ্বোধন এবং মসজিদ নির্মাণের প্রেক্ষাপটে জামাতের দায়িত্ব ও কর্তব্য

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

মসজিদুল মাহদী, ব্র্যাডফোর্ড, ইউকে

৭ই নভেম্বর, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

قُلْ لِعِبَادِيَ الَّذِينَ آَمَنُوا يُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خِلَالٌ

(সূরা আল্ ইব্রাহীম: ৩২)

হুযূর বলেন, সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ্‌র। তিনি আজ ব্র্যাডফোর্ড জামাতকে একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের সুযোগ ও সৌভাগ্য দান করেছেন। পূর্বে এখানে যে কেন্দ্র ছিল তাতে জামাতের চাহিদা পূরণ হলেও তা রীতিমত মসজিদ ছিল না তাই জামাত এখন মিনার ও গম্বুজ সমৃদ্ধ সুদৃশ্য মসজিদ নির্মাণ করেছে। স্থানীয় মুসলমানদের একটি শ্রেণী এবং অমুসলমানদের পক্ষ থেকে অনেক বিরোধিতা হয়েছে কিন্তু তারপরও আল্লাহ্ তা’লা এ মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার তৌফিক দিয়েছেন। এটি শহরের প্রাণ কেন্দ্র সবচেয়ে উঁচু স্থানে সুন্দর একটি জায়গায় নির্মিত হয়েছে ফলে শহরের যে কোন প্রান্ত থেকেই মসজিদ দেখা যায় আর মসজিদ থেকে পুরো শহর দেখা যায়, এটি খোদা তা’লার অপার কৃপা। ব্র্যাডফোর্ড জামাত এখন বুঝতে পারছে যে, যখন ইচ্ছা ও সংকল্প দৃঢ় হয় তখন আল্লাহ্‌র সাহায্যে অসাধ্য সাধন হয়।

১৯৬২ সনে এখানে জামাত প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৭ এবং ১৯৭৩ সনে হযরত খলীফাতুল মসীহ্ সালেস (রাহে:) এ জামাত পরিদর্শনে আসেন। ১৯৮২, ১৯৮৯ এবং ১৯৯২ সনে হযরত খলীফাতুল মসীহ্ রাবে (রাহে:)-ও এ জামাত পরিদর্শন করেন। ২০০১ সনে জামাত এখানে মসজিদ নির্মাণ করার অনুমতি লাভ করে এবং ২০০৪ সনে এই মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। আর আল্লাহ্‌র অপার কৃপায় আজ এই সুন্দর মসজিদের উদ্বোধন করা হচ্ছে। এ মসজিদ নির্মাণে প্রায় ২৩ লক্ষ পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য পৃথক পৃথক নামায কক্ষে মোট ১২০০ মুসল্লী নামায আদায় করতে পারবে এছাড়া নিচে বেশ প্রশস্ত একটি হলও আছে।

হুযূর বলেন, খুবই সুন্দর মসজিদ। কিন্তু মসজিদ নির্মাণ করেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। মসজিদ নির্মাণের ফলে আপনাদের দায়িত্ব পূর্বের তুলনায় আরো বেড়েছে। এখন এই মসজিদকে আবাদ করতে হবে। এই মসজিদ উপলক্ষ্যে এখন এখানে তবলীগের নবদ্বার উম্মুক্ত হবে। আপনারা নিজেদের আধ্যাত্মিকতা ও ইবাদতের মান উন্নত করুন যাতে মানুষ আমাদের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে।

হুযূর বলেন, ব্র্যাডফোর্ডে মসজিদ নির্মাণের জন্য কেবল স্থানীয় জামাতই তহবিল সংগ্রহ করেনি বরং আমি যুক্তরাজ্যের লাজনা ইমাইল্লাহ্ এবং খোদ্দামুল আহ্‌মদীয়াকে তহবিল সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছিলাম। তারা আমার আহবানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছেন এবং এ মসজিদ নির্মাণের পিছনে বড় অবদান রেখেছেন। স্থানীয় জামাতের কুরবানীও কোন অংশে কম নয় তারাও প্রায় দশ লক্ষ পাউন্ড চাঁদা দিয়েছেন। অনেকের বাহ্যত সামর্থ আছে বলে মনে হয় না কিন্তু তারপরও তারা অনেক কুরবানী করেছেন। হার্টলিপুল মসজিদ বানানোর পিছনে মজলিসে আনসারুল্লাহ্ যুক্তরাজ্য অনেক বড় অবদান রেখেছিলেন।

হুযূর বলেন, বর্তমানে ইউরোপবাসীদের মধ্যে ইসলামের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা দলে দলে আহ্‌মদীদের কাছে আসছে এবং ইসলামের অনুপম সৌন্দর্য এবং শিক্ষা সম্পর্কে অবগত হচ্ছে। অনেক স্থানে আহ্‌মদীয়া জামাতের সংখ্যা কম বা জামাত ততটা পরিচিতি লাভ করেনি সেখানে ইউরোপের অনেক মানুষ সত্য জানার আগ্রহে অন্যান্য মুসলিম সংগঠনের ফাঁদে পড়ছে এবং ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি ফ্রান্সে নব নির্মিত মসজিদ উদ্বোধনকালে একজন জার্মান কূটনৈতিক আমার সাথে সাক্ষাতে বলেছিলেন,

‘বর্তমানে জার্মান যুবকদের মধ্যে ইসলামের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে, আমার দোয়া হলো মুসলমান যদি হতেই হয় তাহলে তারা যেন আহ্‌মদী মুসলমান হয়।’

যাই হোক, মসজিদ নির্মাণের ফলে জামাতের পরিচিতি বাড়ে এবং মানুষ জামাত সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়। যুক্তরাজ্যের এ অঞ্চলে এখন বেশ ক’টি মসজিদ নির্মিত হচ্ছে আর দু’টি কেন্দ্রও ক্রয় করা হয়েছে। আগামী কাল শেফিল্ডে মসজিদ উদ্বোধন করা হবে। যেহেতু আগামী জুমুআর পূর্বেই সে অনুষ্ঠান হবে তাই আজই সংক্ষেপে সেখানকার জামাতের ইতিহাসও তুলে ধরছি। ১৯৮৫ সনে এখানে জামাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ২০০৬ সনে মসজিদের জন্য জমি ক্রয় করা হয়, তখন সেখানে হাতেগোনা ক’জন আহ্‌মদী ছিলেন মাত্র। আজ আল্লাহ্‌র অপার করুণায় প্রায় পাঁচ লক্ষ পাউন্ড ব্যয়ে সেখানে মসজিদ নির্মিত হয়েছে। তিন শতাধিক মুসল্লী এতে বাজামাত নামায আদায় করতে পারবে। এছাড়া লেমিংটন স্পা’তে একটি কেন্দ্র ক্রয় করা হয়েছে এবং হার্ডসফিল্ডে মিশন হাউস এর জন্য দেড় একর জমি ক্রয় করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ্ সত্বর সেখানেও মসজিদের নির্মাণ কাজ আরম্ভ হবে। আপনারা দোয়া করুন খোদা তা’লা যেন দ্রুত কাজ শেষ করার তৌফিক দেন।

হুযূর বলেন, ইতিপূর্বে জামাতে আহ্‌মদীয়া যুক্তরাজ্য মাঝে-মধ্যে কোথাও মিশন হাউস ক্রয় করতো কিন্তু এখন গোটা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে তারাও কুরবানীর ক্ষেত্রে যথেষ্ট এগিয়ে এসেছে এবং এখন এরা পঁচিশটি মসজিদ নির্মাণের অঙ্গীকার করেছেন। আল্লাহ্ তা’লা তাদের আন্তরিকতা কবুল করুন এবং অঙ্গীকার পালনের ক্ষেত্রে সাহায্যকারী বন্ধু হোন আর লক্ষ্য পূরণের তৌফিক দিন। কিন্তু স্মরণ রাখবেন, কেবল সুন্দর অট্টালিকা নির্মাণই যথেষ্ট নয়। হাদীসে এসেছে,

‘যে এ পৃথিবীতে মসজিদ বা���াবে খোদা তা’লা তার জন্য জান্নাতে ঘর বানাবেন।’

নি:সন্দেহে মসজিদ ���ির্মাণ ভাল কাজ কিন্তু এ হাদীসে বর্ণিত কল্যাণ পেতে হলে খোদা তা’লা যে উদ্দেশ্যে মসজিদ বানাতে বলেছেন তা মাথায় রাখা আবশ্যক হবে। স্বচ্ছ নিয়্যত, দৃঢ় সংকল্প এবং হৃদয়ের স্বত:স্ফূর্ততা আবশ্যক। খোদার সন্তুষ্টি লাভের প্রবল আকাংখা থাকা চাই। খোদা এবং মানুষের প্রাপ্য অধিকার প্রদান করাও আবশ্যক। আমি আশা করি মহানবী (সা:)-এর সত্যিকার দাস হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর প্রিয় জামাতের সদস্য হিসেবে আপনাদের মধ্যে এ চেতনা রয়েছে। যদি কারো মধ্যে এ চেতনা জাগরুক না থাকে তাহলে জান্নাতে ঘর পাওয়া তো দূরের কথা বরং এ পৃথিবীতে যে মসজিদ অন্য উদ্দেশ্যে বানানো হয় তা ধ্বংস করে দেবার কথা বলা হয়েছে। বিরুদ্ধবাদীদের মসজিদ নির্মাণের একটি ঘটনা পবিত্র কুরআনে খোদা তা’লা সংরক্ষণ করেছেন। আল্লাহ্ তা’লা সূরা আত্ তাওবার নিম্নোক্ত আয়াত ক’টিতে বলেন,

وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مَسْجِدًا ضِرَارًا وَكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادًا لِمَنْ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ مِنْ قَبْلُ وَلَيَحْلِفُنَّ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا الْحُسْنَى وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ

لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَنْ تَقُومَ فِيهِ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ

أَفَمَنْ أَسَّسَ بُنْيَانَهُ عَلَى تَقْوَى مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ خَيْرٌ أَمْ مَنْ أَسَّسَ بُنْيَانَهُ عَلَى شَفَا جُرُفٍ هَارٍ فَانْهَارَ بِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

অর্থ: ‘এবং (মোনাফেকদের মধ্য থেকে) যারা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল-(ইসলামের) ক্ষতিসাধন, কুফরী প্রচার, মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য এবং ঐ ব্যক্তির জন্য গোপন ঘাঁটিরূপে ব্যবহার করার জন্য যে ইতিপূর্বে আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। এবং তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, এবং আমরা কেবল সৎ উদ্দেশ্যেই তা করেছি, কিন্তু আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। তুমি কস্মিনকালেও তার মধ্যে নামাযের জন্য দাঁড়াবে না। যে মসজিদ প্রথম দিন থেকে ত্বাকওয়ার ভিত্তির উপর নির্মিত হয়েছে, তা অধিকতর যোগ্য যে, তুমি তথায় নামাযের জন্য দন্ডায়মান হও, সেখানে এমন লোক আছে যারা পবিত্র হতে ভালবাসে, এবং আল্লাহ্ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র ত্বাকওয়া এবং তাঁর সন্তুষ্টির উপর অট্টালিকার ভিত্তি স্থাপন করে সে উৎকৃষ্টতর, না ঐ ব্যক্তি যে নিজের অট্টালিকার ভিত্তি এক গর্তের পতনোম্মুখ কিনারায় স্থাপন করে ফলে তা তদসহ জাহান্নামের আগুনে পতিত হয়? এবং আল্লাহ্ অত্যাচারী জাতিকে হেদায়াত দান করেন না।’ সূরা আত্ তাওবা: (১০৭-১০৯)

আমরা যারা এ যুগে নিজেদেরকে মোহাম্মদী মসীহ্‌র দাস বলে মনে করি। যে মসীহ্‌কে খোদা তা’লা এ যুগে তাঁর আপন সত্ত্বাকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করানোর বিশেষ দায়িত্বসহ প্রেরণ করেছেন। তাঁর মূল দায়িত্ব হচ্ছে খোদা ও বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদানের জন্য মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা, যাতে মানুষ খোদার নৈকট্য লাভে সক্ষম হতে পারে। তাই আমাদের ব্যাপারে কখনো এটি ভাবা যেতে পারে না যে, আমাদের মসজিদ মানুষকে কষ্ট দিবে, কুফরির শিক্ষা দিবে আর আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের শিক্ষা বহির্ভূত কাজ করবে।

হুযূর বলেন, এ আয়াতে খোদা সুস্পষ্ট নির্দেশ হচ্ছে, ত্বাকওয়ার ভিত্তিতে মসজিদ বানাতে হবে নতুবা তা খোদা প্রদত্ত তৌহিদের শিক্ষা প্রচারের পরিবর্তে কুফরি চর্চার ঘাঁটিতে পরিণত হবে। কোন ক্রমেই আমাদের দ্বারা সে কাজ করা সম্ভব নয়, কেননা আমরা মহানবী (সা:)-এর নির্দেশেই তাঁর সত্যিকার দাস হিসেবে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে মেনেছি। তিনি শান্তির দূত হিসেবে ধরায় আবির্ভূত হয়েছেন। সকলকে খোদার নৈকট্যের পথ দেখানোই তাঁর আবির্ভাবের মূল লক্ষ্য। তাই মানুষকে কষ্ট দেয়াতো দূরের কথা আমরাতো বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে ভালবাসা ও সৌহার্দের প্রদীপ জ্বালবো।

এরপর হুযূর পবিত্র কুরআন, হাদীস ও মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর লেখনীর আলোকে জামাতকে নসীহ্ত করতে গিয়ে বলেন। মহানবী (সা:) বলেছেন,

‘যারা এই পৃথিবীতে মসজিদ নির্মাণ করবে জান্নাতে খোদা তা’লা তাদের জন্য ঘর বানাবেন।’

যদি খোদার সন্তুষ্টি লাভের জন্য স্বচ্ছ নিয়্যত ও দৃঢ় সংকল্পের সাথে মানুষ চেষ্টা করে তাহলে তা খোদা তা’লা কবুল করেন এবং এর উত্তম প্রতিদান দেন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) একস্থানে তাঁর আবির্ভাবের কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন,

‘খোদা তা’লা আমাকে প্রেরণ করেছেন যাতে সত্য প্রকাশের মাধ্যমে ধর্মীয় যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তির ভিত রচনা করি।’

আমাদের মসজিদ এই শিক্ষা প্রচার করে যা খোদা তা’লা মোহাম্মদী মসীহ্‌র মাধ্যমে বিস্তার করতে চান। আমরা তাঁর মান্যকারী হিসেবে মসজিদ নির্মাণ করেছি এখন তাঁর আনিত শিক্ষাও অত্রাঞ্চলে ব্যাপকভাবে প্রচার করা আবশ্যক। মানুষকে জানাতে হবে যে, আমরা কাকে মেনেছি আর তাঁকে মানার ফলে আমাদের মাঝে কি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

প্রেম-প্রীতি, ভালবাসা, সহনশীলতা এবং নমনীয়তার কেন্দ্র হচ্ছে এ মসজিদ। আমরা সর্বদা সন্ধি ও মীমাংসার হস্ত প্রসারিত করি। আজ গোটা বিশ্বে জামাতে আহ্‌মদীয়ার একটি অনন্য পরিচিতি হচ্ছে এ জামাত শান্তি প্রিয় জামাত। মানব সেবা এবং এক খোদার ইবাদতের প্রতি আহবান করা এ জামাতের মূল কাজ। ধর্ম ও বর্ণ সবার প্রতি আমাদের পক্ষ থেকে সাহায্যের হস্ত প্রসারিত এবং এ কাজে আমরা সবার তুলনায় এগিয়ে আর গোটা বিশ্ব এর সাক্ষী। আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চল, দক্ষিণ আমেরিকা এবং বিভিন্ন দ্বীপাঞ্চলে আমরা দুর্গত মানুষের দু:খ, দুর্দশা দূরীভূত করার জন্য অহোরাত্র সেবা করে যাচ্ছি। আমাদের মানব সেবা মূলক সংগঠন ‘Humanity First’ আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সেবায় বিশুদ্ধ পানি এবং বিদ্যূৎ সরবরাহের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের যুক্তরাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং সংগঠনের কর্মীরা বিনা পারিশ্রমিকে এ কাজ করছেন। খোদা তা’লা জামাতের এসব নিষ্ঠাবান কর্মীকে উত্তম পুরস্কারে ভূষিত করুন।

আমাদের এই মসজিদ কেবল মাত্র মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ খোদার ইবাদতের জন্যই নির্মিত হয়েছে। আমাদের বিরোধিতা হচ্ছে কিন্ত বিরোধীদের এহেন কর্ম যেন আমাদেরকে খোদার সাথে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় না হয় বরং তাঁর সাথে সম্পর্ক যেন আরো নিবিড় হয়। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অন্যত্র বলেন,

‘সেই খাঁটি তৌহিদ যা সকল প্রকার শিরকের মিশ্রণ থেকে মুক্ত তা এখন পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে। তাই পুনরায় মানুষের মধ্যে তৌহিদের স্থায়ী চারা রোপণ করাই আমার আগমনের মূল উদ্দেশ্য।’

হুযূর বলেন, শুধু তৌহিদের বীজ বপন করাই যথেষ্ট নয় বরং একে লালন করতে হবে যাতে তা সর্বদা সতেজ থাকে। আজ আমরা যুগ ইমামকে মানার দাবী করি। তাঁকে মানার পর আপন-পর সবার কাছে তাঁর শিক্ষা তুলে ধরতে হবে আর সবাইকে জানাতে হবে যে, আমরা এমন এক জামাত যারা নিষ্ঠার সাথে খোদার ইবাদতকারী এবং শিরকের মূল উৎপাটনকারী। প্রত্যেক আহ্‌মদীর কথা ও কাজ দ্বারা এটি প্রমাণ করা আবশ্যক যে, আমরা পৃথিবীতে শান্তি বিস্তার করি এবং সমাজ ও বিশ্ব থেকে বিশৃঙ্খলা এবং নৈরাজ্য দূর করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি। তাহলে আপনাদের তবলীগ ফল বহন করবে। বর্তমান বিশ্বের চলমান সংকট যাতে বিশেষ���াবে মুসলমানরা জর্জরিত তাদের সে আশংকা দূর করতে সচেষ্ট হোন। আজ মোহাম্মদী মসীহ্‌র জামাতের দায়িত্ব হচ্ছে সত্যিকার মু’মিনের ভূমিকা পালন করা তাই এই মসজিদকে সেই মসজিদের আদলে আবাদ করুন যা খোদার কাছে একান্ত পছন্দনীয় এবং গ্রহ��ী�� অর্থাৎ মদীনার মসজিদে নববীর আদলে, যার ভিত্তি ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত। তা-না হলে উপরোক্ত আয়াতের আলোকে এমন অট্টালিকা আগুনের গর্তের পতনোম্মুখ কিনারায় অবস্থিত।

হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল (রা:) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন,

‘নদীর তীর ভেঙ্গে তা পানিতে পড়ে, এতে নদী বড় হয় আর অনেক সময় তা মানুষের জন্য উপকারী সাব্যস্ত হয় কিন্তু কপট বা মুনাফিকদের নির্মিত মসজিদের কিনারা ভেঙ্গে আগুনেই পড়ে।’

আমরা কপটতা মুক্ত। আমাদের মসজিদকে সেই মসজিদের ভূমিকা পালন করতে হবে যার জন্য ত্যাগের ফলে আমরা জান্নাতে খোদার পুরস্কাররূপী ঘর লাভ করবো। এখানে হুযূর সেই মসজিদ বলে মদীনার মসজিদে নববীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এই মসজিদ ত্বাকওয়া ও বিনয়ের ভিত্তিতে নির্মিত হয়েছিল। তাই একজন আহ্‌মদী যখনই মসজিদ নির্মাণ করবে তাকে খোদার ভালবাসা পাবার জন্য সাধ্যমতো তাঁর ইবাদত করতে হবে এবং ত্বাকওয়ার পানে পরিচালিত হতে হবে। প্রকৃত মুত্তাকী কে এবং ত্বাকওয়া কাকে বলে এ প্রসঙ্গে হযরত আকদাস মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘খোদার ভয় এবং খোদার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যে ব্যক্তি প্রতিটি পাপ এড়িয়ে চলে তাকে মুত্তাকী বলা হয়।’

আরেক স্থানে তিনি (আ:) বলেন,

‘পবিত্র কুরআন ত্বাকওয়ার শিক্ষা প্রদান করে এবং এটি কুরআনের অনুপম বৈশিষ্ট্য ও নাযেল হবার উদ্দেশ্য। যদি মানুষের মাঝে ত্বাকওয়া না থাকে তাহলে মানুষের নামাযও নিরর্থক বরং তা দোযখের কুঞ্জী হবে।’

আল্লাহ্ তা’লা প্রত্যেক আহ্‌মদীকে এত্থেকে রক্ষা করুন।

হুযূর বলেন, আমরা মসজিদ নির্মাণের কথা বলছি। মসজিদ নির্মাণের জন্য সর্বাগ্রে নিয়্যত স্বচ্ছ হতে হবে; কোন বিশৃঙ্খলায় জড়ানো যাবে না। মনে রাখবেন ত্বাকওয়া বহির্ভূত নামায কোন কাজে আসবে না আর ত্বাকওয়া ছাড়া কোন নেকী বা পুণ্য নেই। এটি ভেবে মিথ্যে আত্মপ্রসাদ নিলে চলবে না যে, আমরা এত মনোরম একটি লোকেশনে কত সুন্দর ও বড় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। বরং ত্বাকওয়াশীল হয়ে খোদার সন্তুষ্টির জন্য নামায পড়ুন। খোদার সন্তুষ্টি লাভের জন্য মানুষের ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করুন, আর আপন-পর সবার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করুন আর নিজেদের মাঝে বিনয় ও নম্রতা সৃষ্টি করুন তাহলেই মসজিদ নির্মাণ খোদার দৃষ্টিতে গ্রহণীয় হবে।

হুযূর বলেন, আপনারা একান্ত বিনয়ের সাথে এ মসজিদে নামায আদায় করুন। আমি খুতবার শুরুতে যে আয়াত পাঠ করেছি তাতে আল্লাহ্ তা’লা দু’টি বিষয়ের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আয়াতের অনুবাদ হচ্ছে,

‘আমার যেসব বান্দা ঈমান এনেছে, তুমি তাদেরকে বল যেন তারা নামায কায়েম করে এবং যা কিছু আমরা তাদেরকে রিয্ক দিয়েছি তা হতে গোপনে এবং প্রকাশ্যে খরচ করে ঐ দিন আসার পূর্বে যেদিন কোন ক্রয়-বিক্রয় ও বন্ধুত্ব থাকবে না।’

মসজিদ নির্মাণের পর ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে নামাযের হেফাযত করা এটি প্রত্যেক মু’মিনের দায়িত্ব। নামায কায়েম সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘নামায কি? এটি একটি দোয়া, যা তসবীহ্ (মহিমা কীর্তন), তাহ্‌মীদ (প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন), তাকদীস (পবিত্রতা ঘোষণা) এবং ইস্তেগফার ও দরূদসহ সবিনয়ে প্রার্থনা করা । সুতরাং যখন তোমরা নামায পড় তখন দোয়ার মধ্যে কেবল অজ্ঞ লোকদের ন্যায় আরবী শব্দ ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ থেকো না। কারণ তাদের নামায এবং ইস্তেগফার সবই বাহ্যিক ক্রিয়াকলাপ মাত্র যাতে কোন সারবস্তু নেই। কিন্তু তোমরা যখন নামায পড় তখন খোদা তা’লার কালাম কুরআন এবং রসূলুল্লাহ্ (সা:)-এর কালামে বর্ণিত অন্যান্য কতিপয় প্রচলিত দোয়া ছাড়াও নিজেদের যাবতীয় সাধারণ দোয়া আপন ভাষাতেই করো। নিবেদন জানাও যেন সেই সকাতর নিবেদনের সুপ্রভাব তোমাদের হৃদয়ে পতিত হয়।’

মসজিদ নির্মাণের ফলে এখন আপনাদের দায়িত্ব আরো বাড়বে। তবলীগের নিত্য-নতুন দ্বার উম্মুক্ত হবে। তাই আপনাদেরকে ইবাদতের মান সমুন্নত করতে হবে। নামাযের মাধ্যমে আত্ম সংশোধনের পাশাপাশি তবলীগের জন্য উত্তম সুযোগ লাভ হবে। আল্লাহ্ তা’লা আপনাদের তৌফিক দিন।

এরপর হুযূর বলেন, যে আয়াত আমি খুতবার শুরুতে পাঠ করেছি তাতে প্রথমতঃ নামায কায়েম এবং দ্বিতীয়ত আল্লাহ্‌র রাস্তায় খরচ করার নির্দেশ রয়েছে। আপনারা যে মসজিদ বানিয়েছেন তা যথারীতি নামাযের মাধ্যমে আবাদ করুন এবং আর্থিক কুরবানী করে মসজিদ বানিয়েছেন বলে কুরবানীর দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি এই কুরবানী যেন ভবিষ্যতে কুরবানীর দ্বার উম্মোচনকারী হয়। আজ জামাতে আহ্‌মদীয়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মসজিদ মিশন হাউস এবং সেন্টার বানাচ্ছে এটি যে তাহরীকের সুফল তা হচ্ছে ‘তাহরীকে জাদীদ’। আজ আমাদেরকে একটি নব উদ্যম ও চেতনার সাথে ইবাদত ও আর্থিক কুরবানী করতে হবে। বিশ্বের সর্বত্র আহ্‌মদীয়াতের পয়গাম পৌঁছাতে হবে। প্রতিটি শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ এবং অলি-গলিতে আহ্‌মদীয়াতের বাণী পৌঁছে দিতে হবে। আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে যথার্থই বলেছেন, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, বন্ধু-বান্ধব কোন কাজে আসবে না বরং তোমাদের ইবাদত ও আর্থিক কুরবানীই তোমাদের মুক্তির কারণ হবে।

হুযূর বলেন, দু’বছর পূর্বে হার্টলিপুল এবং ব্র্যাডফোর্ড মসজিদের ভিত্তি একই সময় রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৬ সনেই হার্টলিপুল মসজিদের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয় এবং তার উদ্বোধন করা হয় কিন্ত ব্র্যাডফোর্ড মসজিদের নির্মাণ কাজে বিলম্ব হেতু আজ উদ্বোধন করা হচ্ছে। এটি হার্টলিপুল মসজিদের চেয়ে বড় যা বিলম্ব হবার একটি কারণ হতে পারে। যাই হোক, তবে কাকতালীয় ব্যাপার হচ্ছে সেদিনও আমি লন্ডনের বাইরের কোন মসজিদ থেকে তাহরীকে জাদীদের নব বর্ষের ঘোষণা করেছিলাম আর আজও এখান থেকে করতে হচ্ছে। জামাতের প্রচলিত রীতি মোতাবেক ৩১শে অক্টোবর তাহরীকে জাদীদের বছর শেষ হয় এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নব বর্ষের ঘোষণা করা হয়। তাই আজ আমি তাহরীকে জাদীদের নব বর্ষের ঘোষণা করছি। গত ৩১শে অক্টোবর তাহরীকে জাদীদের ৭৪তম বছর শেষ হয়েছে এবং এখন ৭৫তম বছর আরম্ভ হয়েছে। আল্লাহ্‌র ফযলে গোটা বিশ্বে অর্থনৈতিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করলেও তা আহ্‌মদীদের কুরবানীর চেতনাকে প্রভাবিত করেনি। অনেক এমন আহ্‌মদী আছেন যারা এ দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন যে, কখন খলীফায়ে ওয়াক্ত ঘোষণা দিবেন আর আমরা নতুব বছরের ওয়াদা লিখাবো এবং তা আদায়ও করবো। আল্লাহ্ তা’লার ফযলে এবছর তাহরীকে জাদীদ খাতে মোট আদায়ের পরিমান হচ্ছে (৪১২৭৫২) একচল্লিশ লক্ষ দু হাজার সাতশ বায়ান্ন পাউন্ড যা গত বছরের তুলনায় পাঁচ লক্ষ পাউন্ড বেশি। বিশ্বে বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকট সত্বেও আহ্‌মদীদের কুরবানীর মানে কোন আঁচড় লাগেনি। হুযূর বলেন, বিশ্বের আহ্‌মদীরা পরিসংখ্যান এবং কোন দেশ কোন অবস্থানে আছে তা জানার জন্যও উদগ্রীব থাকেন তাই সংক্ষেপে বলে দিচ্ছি, আদায়ের দিক থেকে প্রথম দশটি দেশ হচ্ছে, যথাক্রমে পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, কানাডা, ভারত, বেলজিয়াম, অষ্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড এবং দশ নাম্বারে আছে মরিশাস এবং নাইজেরিয়া।

হুযূর বলেন, আমেরিকার মোট আদায় গত বারের তুলনায় কমেছে তাদেরকে এদিকে মনোযোগ দেয়া উচিত। যুক্তরাজ্য এবছর গতবারের তুলনায় চুয়াত্তর হাজার পাউন্ড বেশি আদায় করেছে। সুইজারল্যান্ড গতবার শীর্ষ দশ দেশ থেকে ছিটকে পড়েছিল কিন্তু এবছর আবার নিজেদের অবস্থান বহাল করেছ���। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে এবারই প্রথম নাইজেরিয়া শীর্ষ দশে এসেছে।

আল্লাহ্ তা’লা সবার কুরবানী কবুল করুন এবং প্রত্যেক আর্থিক কুরবানীকারীর ধনবল ও জন সম���পদ ���ৃদ্ধি করুন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রী�� বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে