In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

বিশ্ব অর্থনীতির চলমান মন্দাভাব থেকে উত্তোরণের জন্য ইসলামী শিক্ষার কোন বিকল্প নেই

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

৩১শে অক্টোবর, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

فَآَتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ ذَلِكَ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

وَمَا آَتَيْتُمْ مِنْ رِبًا لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ وَمَا آَتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ

اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ ثُمَّ رَزَقَكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ هَلْ مِنْ شُرَكَائِكُمْ مَنْ يَفْعَلُ مِنْ ذَلِكُمْ مِنْ شَيْءٍ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ

অর্থ: ‘তারা কি দেখে নাই যে, আল্লাহ্ যার জন্য চান রিয্‌ককে সম্প্রসারিত করেন এবং যার জন্য চান সঙ্কুচিত করেন? নিশ্চয় এতে সে জাতির জন্য বহু নিদর্শন আছে যারা ঈমান আনে। অতএব তুমি আত্মীয়-স্বজনকে তাদের প্রাপ্য দাও এভাবে মিসকীনদেরকে এবং পথিকদেরকেও। এটি তাদের জন্য উত্তম যারা খোদার স্নেহের দৃষ্টি চায়, বস্তুতঃ এরাই সফলকাম হবে। এবং তোমরা যা সুদ হিসেবে দিয়ে থাক যেন তা মানুষের ধন-সম্পদকে বৃদ্ধি করে, বস্তুতঃ তা আল্লাহ্‌র সমীপে বৃদ্ধি পায় না। এবং তোমরা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে যাকাত দাও-জেনে রাখো যে, এ সকল লোকই নিজেদের ধন-সম্পদ বহু গুণে বর্ধিত করছে। তিনিই আল্লাহ্ যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর রিয্‌ক দিয়েছেন, এরপর তিনি তোমাদেরকে মৃত্যু দিবেন তারপর পুনরায় তোমাদেরকে জীবিত করবেন। তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে এসব কাজের কিছুমাত্র করতে পারে? তিনি পবিত্র এবং তারা যাকে তাঁর সাথে শরীক করছে তিনি তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে।’ (সূরা আর্ রূম: ৩৮-৪১)

এরপর হুযূর বলেন, আল্লাহ্ তা’লার রাজ্জাক বৈশিষ্ট্য মু’মিনের জন্য অনেক নিদর্শন নিয়ে আসে ফলে মু’মিনের ঈমান দৃঢ় হয়। বর্তমানে গোটা বিশ্বে যে, অর্থনৈতিক মন্দাভাব বিরাজ করছে তাতে ধনী-দরিদ্র সকল দেশই কমবেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্পোন্নত দেশ এবং যারা তাদের উপর নির্ভরশীল সবাই এর ফলে প্রভাবিত হচ্ছে। বড় বড় পরাশক্তি যারা মনে করে যে, গোটা বিশ্ব তাদের সাহায্যের মুখাপেক্ষী, যারা মনে করে যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা তাদের এত বেশী যে পৃথিবী তাদের সেবাদাস। তাদের মতে বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে তাদের সাহায্য ছাড়া মানুষের আর কোন গত্যন্তর নেই। অনেকে ভেবেছিল, আমাদের অর্থনীতি এত বেশী দৃঢ়, এত উন্নত যে সত্বর সারা পৃথিবীকে আমরা করতলগত করব আর কার্যত সারা পৃথিবীকে তারা নিজেদের কথা মানতে বাধ্য করে এবং নিজেদের ইচ্ছা ও মতামত তাদের উপর চাপিয়ে দেয়। অর্থ ও ক্ষমতার বলে সমগ্র পৃথিবীর উপর আধিপত্য বিস্তারের অলীক স্বপ্ন তারা দেখছিল। তারা ভেবেছিল যে, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছি যে, কেউ এখন এক্ষেত্রে আমাদের সমকক্ষ নয়, আমাদের দেশ বিশাল এবং জলবায়ুও বৈচিত্রময় যে কারণে খাদ্য শস্যে আমরা স্বয়ং সম্পূর্ণ আর চিকিৎসা বিজ্ঞানে আমরা এত উন্নত যে, সারা পৃথিবী আমাদের কাছে শিখতে বাধ্য। আর অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় আমরা এত এগিয়ে রয়েছি যে, আমাদেরকে বাদ দিয়ে পৃথিবী অন্য কিছু ভাবতেই পারেনা। তারা এই পৃথিবীতে সফলতা লাভের পাশাপাশি অন্যান্য গ্রহে পাড়ি দেয়ার নেশায় বিভোর। বস্তুত সবদিক থেকে গোটা বিশ্বের উপর তাদের প্রাধান্য সুস্পষ্ট। অতএব তারা মনে করে যে, আপনা-আপনিই আমাদের বশ্যতা স্বীকার করে পৃথিবীর উচিত আমাদের অধীনস্ত হওয়া। পরিতাপের বিষয় হলো, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা মজবুত হবার কারণে কৃষির প্রতি মনোযোগে ভাটা পড়ে আর অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ করে দেয়; এখন নামমাত্র কৃষিকাজ এবং শিল্প-কারখানা তাদের অবশিষ্ট আছে। এদিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সুদ ভিত্তিক আয়ের পিছনে অর্থ লগ্নি করতে আরম্ভ করে। বর্তমানে হঠাৎ করে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়ার কারণে তাদের আয়ের পথ বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে কেননা পূর্বেই তারা কৃষি ও শিল্প-কারখানার উৎপাদন থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে আকস্মিক ধ্বস নামার কারণ কি তা এখনও এরা অনুধাবন করতে পারছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে সকল কুদরত ও শক্তির আঁধার রাজ্জাক খোদাকে অস্বীকার করা। আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা খোদা তা’লার একটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনা পৃথিবীতে প্রবর্তিত রয়েছে। যখন জাগতিক ও ঐশী বিপদাবলী; ভূমিকম্প এবং সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের আকারে মানুষের প্রতি ধেয়ে আসে তখন কেউ এর মোকাবিলা করতে পারে না। মূহুর্তের মধ্যে সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যায়। প্রকৃতির নিয়ম বহির্ভূতভাবে যখন এরা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা পরিচালিত করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তখন এর কুফল বিশ্ববাসীর সম্মুখে স্পষ্ট। আল্লাহ্‌র নির্দেশ লঙ্ঘন করে নিজস্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অপপ্রয়াসের ভয়াবহ মন্দ পরিণতির সম্মুখিন হচ্ছে এরা। আর আজ গোটা বিশ্ব এর দ্বারা আক্রান্ত। সহসা এই মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠার কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয়না। সমাধানের যে চেষ্টা তারা করছে তা যথেষ্ট নয় আর কোনভাবেই তা স্থায়ী সমাধান বয়ে আনবে না। বরং অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে এরা সমাধানের চাইতে আরো বেশি সমস্য��র পাকে বাঁধা পড়বে।

সুতরাং এসব কিছু যখন আমরা দেখি তখন খোদার অস্তিত্বের প্রতি আমাদের ঈমান আরো দৃঢ় হয়। এখন আহ্‌মদীদের দায়িত্ব হচ্ছে বিশ্ববাসীকে সচেতন করা এবং বলা যে, এসব সংকটের মূল কারণ হচ্ছে আল্লাহ্‌কে ভুলে যাওয়া। বান্দার প্রাপ্�� প্রদানের ক্ষেত্রে অমনোযোগিতা। দ্বিতীয়তঃ অন্যের সম্পদের প্রতি লোভাতুর দৃষ্টি দেয়া। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান চাইলে এ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করো। কোটি-কোটি ডলার খরচ বা পাউন্ড সাহায্য দিয়ে এ সংকট কাটাতে পারবে না কেননা এ অর্থও তাদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে যারা পূর্বেই দারিদ্রতার যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। মোটকথা এটি হবে ‘মরার উপর খাঁরার ঘা’

বর্তমানে মুসলমান দেশগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। তারাও মানব সৃষ্ট অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাসী। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যে, এদের কোন চেতনাই নেই। নেতৃবৃন্দ নিজেদের আখের গুছাতে ব্যস্ত, দেশ যদি রসাতলে যায় তাতে তাদের কিই-বা আসে যায়। মুসলমান দেশগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনাও খোদা প্রদত্ত শিক্ষা মোতাবেক নয়। তারা সেই রীতি-নীতির উপর পরিচালিত হবার চেষ্টা করেনি যার নির্দেশ খোদা তা’লা দিয়েছেন। তারা নি:সন্দেহে দেশের কাঠামোকে উন্নত করেছে কিন্তু সেভাবে সম্পদের ব্যবহার করেনি যেভাবে আল্লাহ্ তা’লা নির্দেশ দিয়েছেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ তাদের প্রয়োজনাতিরিক্ত অর্থ সুদ পাওয়ার আশায় পাশ্চাত্যের ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছে, দরিদ্র মুসলিম দেশগুলোকে সাহায্য করেনি। আর ইসলামী দেশগুলো মানুষকে দেখানোর জন্য ইসলামী ব্যাংকিং নামে ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। দাবী করছে যে, আমরা সুদ নেই না বা দেই না। কিন্তু লভ্যাংশের নামে তারা যা প্রদান করে তা সুদেরই নামান্তর। যদি বিশ্লেষনাত্মক দৃষ্টিতে দেখেন তাহলে দেখবেন যে, এরা পুরোপুরি সুদেরই ব্যবসা করছে। মোটকথা মুসলমানরাও ইসলামী শিক্ষার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছে যারফলে বর্তমানে সর্বত্র বিপর্যয় নেমে এসেছে।

হুযূর বলেন, খুতবার শুরুতে আমি যে আয়াতগুলো পাঠ করেছি তাতে আল্লাহ্ তা’লা আত্মীয়-স্বজন, মিসকীন এবং পথিকদের পিছনে অর্থ ব্যয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। যদি খোদার এই নির্দেশ পালন করো তাহলে তোমরা খোদার সন্তুষ্টি লাভ করবে, আর ইহ ও পরকালে সফল হবে। সুতরাং মুসলমান হবার জন্য এটি বলা যথেষ্ট নয় যে, আমরা ঈমান এনেছি বা রাজ্জাক খোদায় বিশ্বাসী। বরং এ দাবীর পাশাপাশি ব্যবহারিক পদক্ষেপ একান্ত আবশ্যক। সত্যিকার ঈমান থাকলে রিয্‌ক নিয়ে শংকিত হবার কোন কারণ নেই। যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল তারা খোদার নির্দেশ মোতাবেক দরিদ্রদের সাহায্য করবেন। ধনী মুসলমান দেশগুলোর উচিত দরিদ্র মুসলমান দেশগুলোকে সাহায্য করা। আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, فَآَتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ এখানে ‘আত্’ শব্দ ব্যবহার করে বলেছেন, যাদের পিছনে ব্যয় করবে তাদেরকে দান-দক্ষিণা হিসেবে দেবে না বরং সম্মানজনকভাবে তাদের সেবা কর আর জেনে রেখো যে, খোদার দয়ায় তোমরা সেবার দায়িত্ব পালন করছো মাত্র। ইসলামী বিশ্ব যদি দরিদ্রদের কল্যাণের কথা ভাবতো এবং লোভের বশবর্তী হয়ে নিজেদের অর্জিত অর্থ পাশ্চাত্যের হাতে তুলে না দিত তাহলে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেত আর খোদার নির্দেশ পালনের ফলে তাঁর নৈকট্যও পেত। বর্তমানে পাশ্চাত্যে যে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে এতে যেসব ইসলামী দেশ পাশ্চাত্যে অর্থ লগ্নি করেছে তারাও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুদতো দূরে থাক আসল পাবে কি-না তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তেল সমৃদ্ধ বিভিন্ন দেশের লগ্নি খাটানো এসব অর্থ পাশ্চাত্যর অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকগুলো যেভাবে মানুষকে ঋণ হিসেবে দেয় তা উৎপাদনমূলক কোন কাজে লাগেনা। মানুষ গাড়ী, বাড়ী এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্রয় করে সে অর্থ উড়িয়ে ফেলে। পাশ্চাত্য দেখছে যে, তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে অঢেল অর্থ আসছে তাই তারা এ টাকার ৯০% থেকে ৯৫% মানুষকে প্রাণখুলে ঋণ হিসেবে দিচ্ছে।

হুযূর বলেন, একজন ব্যাংকার আমাকে বলেছেন, ব্যাংক মানুষকে শতকরা ৪৫% ঋণ দেয় বাড়ী কেনার জন্য, কোন উৎপাদনমূলক কাজে নয়। পাশ্চাত্যের প্রতিষ্ঠানগুলো সহজ শর্তে ঋণ দেয়, যেমন আপনি যদি মোট অংকের ১০% নগদ জমা দেন তাহলে ৯০% ঋণ নিয়ে আপনি বাড়ী কিনতে পারেন। কিন্তু ঋণ গ্রহীতা চিন্তা করে না যে, এ অর্থ পরিশোধ করতে তার কতদিন লাগবে আর কত অর্থ তাকে এর বিনিময়ে সুদে আসলে দিতে হবে। শুধুমাত্র অন্যের দেখাদেখি বাড়ী কেনার লোভে এ কাজ করে বসে। কিন্তু সে জানে না যে, দীর্ঘকাল এ ভাবে মর্টগেজ পরিশোধ করতে হবে। সীমিত আয় এবং দ্রব্যমূল্যের ক্রম উর্ধগতির কারণে জীবন-যাত্রার ব্যয় বেড়ে যায় ফলে সময় মত কিস্তি আদায় করতে হিমশিম খেতে হয়। আবার বকেয়া পড়ে গেলে পুন: মর্টগেজ নিয়ে পূর্বের ঋণ শোধ করার ব্যর্থ চেষ্টা করে আর এভাবে একজন মানুষ ধীরে ধীরে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হতে থাকে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে ব্যয় বৃদ্ধি এবং কিস্তি পরিশোধ করতে না পারার কারণে মৃত্যুকালেও ঋণ পরিশোধ হয় না যার ফলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান সম্পত্তি ক্রোক করে।

হুযূর বলেন, ইতোপূর্বে যখন আমি সুদের অভিশাপ সম্পর্কে খুতবা দিয়েছিলাম তখন অনেক আহ্‌মদী দ্রুত সুদের বেড়াজাল থেকে নিজেদের মুক্ত করেছেন। অনেকই আছেন যারা লোভ সংম্বরণ করতে না পেরে চিন্তা-ভাবনা না করেই লোন নিয়ে বসে পরে আর শোধ করতে পারে না। ধীরে ধীরে ঋণ খেলাপী হয়ে যায়। মনে রাখবেন, ব্যাংক আপনাকে যে সুদ দিচ্ছে তা মানুষের কাছ থেকে নিয়েই দিচ্ছে। যদি কোন কারণে মানুষ অর্থ ফেরত দিতে না পারে তাহলে ব্যাংকের মূলধন হ্রাস পায়, ব্যাংকের টাকার উৎস বন্ধ হয়ে যায় তখন হঠাৎ করে ব্যাংক ঋণ দেয়া বন্ধ করে দেয় আর শুধু অনুৎপাদন মূলক খাতে নয় বরং উৎপাদনমূলক খাতেও ঋণ দেয়া বন্ধ করে দেয় যারফলে আস্তে আস্তে বিপর্যয় নেমে আসে এবং পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধ্বস নামে।

এ সপ্তাহের টাইমস পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ ছেপেছে যার শিরোনাম হচ্ছে:

‘A sea of debt’ (ঋণের সমুদ্র)

‘এটি এমন সমুদ্র যে, আমেরিকার মত দেশ যারা নিজেদের অর্থনীতিকে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করে তাদের নৌকায় এর পানি এতটা উঠেছে যে, এখন তাদের নৌকা দোদুল্যমান বরং ডুবন্ত প্রায়। আমেরিকার অর্থনীতিতে এতটা ধ্বস নেমেছে যে, তারা যত চেষ্টাই করুক না কেন সত্বর এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার কোন সম্ভাবনা নেই। এছাড়া বর্তমান অর্থনীতির যে টালমাটাল অবস্থা এত্থেকে বিশ্বের কোন দেশই নিরাপদ নয়।’

পাশ্চাত্যের দেশগুলোর বিশেষ করে আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থার হালচিত্র এতে তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে ক্রেডিট কার্ডের অবাধ ও বাছবিচারহীন ব্যবহারের ব্যাধি রয়েছে। ভোগ-বিলাসের জন্য মানুষ নির্বিচারে একার্ড ব্যবহারে অভ্যস্ত। কিন্তু অর্থনীতির বর্তমান বেহাল অবস্থার কারণে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ আরোপিত হচ্ছে যা মানুষের ভোগ-বিলাসের পথে অন্তরায়। একটি জরিপ মোতাবেক গত পনের বছরের মধ্যে এবছর সবচেয়ে কম গাড়ী বিক্রি হয়েছে। মানুষের প্রমোদ ভ্রমন কমে গেছে ফলে কতক এয়ারলাইন তাদের অনেক ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। মোটকথা যে দু’টি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি তেল ব্যবহৃত হয় সে দু’টি মাধ্যমই যদি বন্ধ হবার উপক্রম ঘটে তাহলে তেল উৎপাদনকারীদের একথা বলা যে, আমাদের কাছে তেল সম্পদ আছে তাই আমাদের অর্থনীতি ঠিক থাকবে তা ভ্রান্ত, কেননা তেল যদি বিক্রিই না হয় তাহলে তেল দিয়ে কি হবে। পাশ্চাত্বের দেশগুলোতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, মানসিক চাপ বেড়ে চলেছে যেকোন সময় আকস্মিক বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে।

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আ��োকে ইসলামী অর্থনীতির অনিন্দ্য সুন্দর শিক্ষা এবং সম্পদের সুষম বন্টন ও ব্যবহারের মাধ্যমেই এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে উল্লেখ করত: �����যূর আনোয়ার (আই:) বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’লা মানুষকে সুদ খেতে বারণ করেছ���ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করেছেন,

الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

অর্থ: ‘যারা সুদ খায় তারা সেভাবে দাঁড়ায় যেভাবে ঐ ব্যক্তি দাঁড়ায় যাকে শয়তান সংস্পর্শে এনে জ্ঞান-বুদ্ধি হারা করে ফেলে। এটি এ কারণে যে, তারা বলে,‘ক্রয়-বিক্রয়ও সুদেরই মত’; অথচ আল্লাহ্ ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ এবং সুদকে হারাম আখ্যা দিয়েছেন। সুতরাং যার কাছে তাঁর প্রভুর পক্ষ থেকে কোন উপদেশ আসার পর সে বিরত হয়, তাহলে অতীতে যা কিছু হয়েছে তা তারই এবং তার ব্যাপার আল্লাহ্‌র কাছে ন্যস্ত। এবং যারা অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি করবে তারা নিশ্চয় অগ্নিবাসী হবে, সেখানে তারা দীর্ঘকাল থাকবে।’ (সূরা আল্ বাকারা: ২৭৬)

সুতরাং এ আয়াতের আলোকে মুসলমানদের উচিৎ সুদ খাওয়া বন্ধ করা এবং সুদের চক্র থেকে বেরিয়ে আসা। বর্তমানে বিশ্বে যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে এটি মূলতঃ হবারই কথা কেননা মানুষ খোদা প্রদত্ত শিক্ষা পরিত্যাগ করে নিজেদের মনগড়া ব্যবস্থাপনা দ্বারা অন্যের সম্পদ ও অর্থ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করার অপকর্মে মেতে উঠেছে। সাময়িকভাবে তারা লাভবান হলেও খোদার শাস্তিরূপী হাত যখন সক্রিয় হয় তখন আর তাদের কোন পরিকল্পনা সফল হয় না। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের ফলে পুরো বিশ্বে একটি অনিশ্চিত অবস্থা বিরাজ করছে। অস্থিরতা, মানসিক ব্যাধি এবং সামাজিক অশান্তি হু হু করে বাড়ছে। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ চাকুরী হারাচ্ছে। এখনও সময় আছে, মানুষের উচিত সুদের ব্যবসা বন্ধ করে সুদ মুক্ত ব্যবসা করা; এতেই মানবের ইহ ও পরকালীন কল্যাণ নিহিত।

হুযূর বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশ কি করবে বা না করবে এটি তাদের ব্যাপার কিন্তু মুসলমানদের উচিৎ খোদা নির্দেশিত পথ অবলম্বন করা, নতুবা শাস্তি পাবে। অনেক মুসলমান দেশ আছে যাদের কাছে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে অথচ তারা তা দেশের উন্নয়নের পিছনে ব্যয় না করে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করছে। যেমন পাকিস্তান, সেখানে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা আছে, প্রাকৃতিক সম্পদতো আছেই। এছাড়া নাইজেরিয়াও তেল সমৃদ্ধ একটি দেশ কিন্তু জাতীয় স্বার্থ নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। সম্প্রতি পাকিস্তান চার মিলিয়ন ডলার পাবার আশ্বাস পেয়েছে, এতে এরা উল্লসিত ও আনন্দিত কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখে না যে, কিভাবে তা পরিশোধ করবে অথচ পূর্বের ঋণ পরিশোধ করতেই হিমসিম খাচ্ছে। মোটকথা এরা রাষ্ট্র এবং জনগনের প্রতি বিশ্বস্ত নয় সবাই নিজ স্বার্থসিদ্ধি নিয়ে ব্যস্ত। এরা খোদাকে একেবারেই ভুলে গেছে। বিভিন্ন দৈব দুর্বিপাকে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে তারপরও চিন্তা করে না যে, এসব কেন হচ্ছে। এরা জানে না যে, আজ যারা তোমাদেরকে সাহায্য দিচ্ছে এটি কোন সাহায্য নয় বরং গলার ফাঁস। তোমাদের সম্পদ হরণের জন্য সাহায্যের নামে তোমাদেরকে অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে।

হুযূর বলেন, বর্তমান সময় বিশ্বকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য আহ্‌মদীদের অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। পৃথিবীকে বুঝাতে হবে যে, পবিত্র কুরআনের শিক্ষা মোতাবেক যা কিছু হয়েছে হয়েছে এখন ভবিষ্যতের জন্য অঙ্গীকার করুন এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা ছেড়ে দিন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’লা সত্যিকার মু’মিনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ

অর্থ: ‘হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহ্‌র ত্বাকওয়া অবলম্বন করো, এবং যদি তোমরা মু’মিন হও তাহলে তোমরা সুদের যা কিছু বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও।’ (সূরা আল্ বাকারা: ২৭৯)

কুরআনের এই শিক্ষা জানার পরও যারা একে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবে। একে উপেক্ষা করবে তাদের জন্য পবিত্র কুরআনেই আল্লাহ্ তা’লা সাবধাণবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন,

فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ

অর্থ: ‘এবং যদি তোমরা এরূপ না করো তাহলে আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা করা হচ্ছে, কিন্তু যদি তোমরা তওবা করো, তাহলে তোমাদের জন্য তোমাদের মূলধন রয়েছে, তোমরা কারো উপর যুলুম করবে না এবং তোমাদের উপরও যুলুম করা হবে না।’ (সূরা আল্ বাকারা: ২৮০)

এ আয়াতে মুসলমানদেরকে বিশেষভাবে সাবধান করা হয়েছে। এ আয়াত অনুসারে একটি দেশের ভেতর অভ্যন্তরীণ যে অশান্তি দেখা দেয় তারও মূল কারণ হলো ধনী ও দরিদ্র শ্রেণীর মাঝে বৈষম্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অশান্তিরও একই কারণ। আজকাল শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে পৃথিবীতে যা কিছু হচ্ছে তা কোন দেশের ভৌগলিক সীমানা সম্প্রসারণের জন্য নয় বরং সম্পদের উৎসের উপর নিয়ন্ত্রণই হলো এর উদ্দেশ্য।

এরপর পুনরায় আরেক আয়াতে আল্লাহ্ বলেছেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অর্থ: ‘হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা সুদ খেও না যা অন্যায়ভাবে (ধন-সম্পদ ও অনিষ্টকে) বৃদ্ধি করে এবং আল্লাহ্‌র ত্বাকওয়া অবলম্বন করো যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সূরা আল্ ইমরান: ১৩১)

কুরআনের শিক্ষা মোতাবেক ত্বাকওয়া অবলম্বন করুন এবং ইহ ও পরকালে উত্তম সফলতা লাভের নিশ্চয়তা লাভে ধন্য হোন। সমাজের সকল শ্রেণী যদি এ বিষয়টি অনুধাবন না করে তাহলে বিশ্বে অশান্ত পরিস্থিতি বলবৎ থাকবে এবং বিভিন্ন সময় খোদার শাস্তি হিসেবে এরা চরম দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে থাকবে।

সুতরাং বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য মুসলমানসহ অন্যান্য দেশগুলোর চেষ্টা করা উচিত। আর এই সংকট কাটানোর জন্য ত্বাকওয়া অবলম্বন করা আবশ্যক। আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন যে, অন্যের সম্পদের প্রতি লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকাবে না বরং তোমাদের যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাক। মুসলমানদের উচিত আল্লাহ্‌র আহবান শোনা যা তিনি তাঁর প্রিয় মসীহ্‌র মাধ্যমে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ যাঁকে প্রেরণ করেছেন তাঁর আহবান শোনা ছাড়া এ যুগে মানুষের মুক্তির কোন পথ খোলা নেই।

হযরত মসীহ্ (আ:) বলেন,

‘এখন মানুষ আধ্যাত্মিক পানির জন্য পিয়াসী। ধরাপৃষ্ঠ একবারেই মরে গেছে। এ যুগ ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ’এর যুগ। জঙ্গল এবং সমুদ্র বিকৃতির শিকার হয়েছে। জঙ্গল অর্থ পৌত্তলিক আর সমুদ্র দ্বারা আহলে কিতাবকে বুঝানো হয়েছে। অজ্ঞ এবং জ্ঞানীও এর অর্থ হতে পারে। মোটকথা সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে বিশৃংখল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে দৃষ্টিকোন আর যে আঙ্গিকেই দেখবে বিশ্বের অবস্থা পরিবর্তিত পাবে। আধ্যাত্মিকতা বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই আর এর কোন প্রভাবও পরিলক্ষিত হয় না। চারিত্রিক ও ব্যবহারিক দুর্বলতায় ছোট-বড় সকলে আক্রান্ত। খোদার ইবাদত ও ধার্মিকতার নাম গন্ধও নেই। তাই এখন ঐশী পানি এবং নবুয়তের জ্যোতি অবতীর্ণ হওয়া এবং সন্ধানী হৃদয়গুলোকে আলোকিত করা আবশ্যক। খোদা তা’লার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। তিনি আপন কৃপায় সেই নূর এখন অবতীর্ণ করেছেন কিন্তু অত্যল্পই আছে যারা সেই জ্যো��ি দ্বারা লাভবান হয়। (আল্ হাকাম ৭ম খন্ড-নাম্বার-১২. ৩১শে মার্চ, ১৯০৩ সন, পৃষ্ঠা: ২)

আল্লাহ্ তা’লা বিশ্ববাসীকে তৌফিক দিন তারা যেন এ জ্যোতিতে আলো���ি�� হতে পারে আর খোদার প্রতি অবাধ্যতার কারণে বিশ্বে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি ��চ্ছে তাথে���ে রক্ষা পায়। এখন খোদার সাথে পরিচিত হওয়া এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক গড়া একান্ত প্রয়োজন। খোদা তা’লা বিশ্ববাসীকে বিবেক-বুদ্ধি দিন যাতে তারা ধ্বংসের হাত থেকে রেহাই পেতে পারে।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে