In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

সম্প্রতি ইউরোপ সফরে আল্লাহ্‌র অপার করুণায় দৃশ্যমান বিভিন্ন সফলতার প্রাঞ্জল বিবরণ

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

২৪শে অক্টোবর, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) তাঁর সন্তানের আমীন উপলক্ষ্যে একটি কবিতা রচনা করেছেন এবং এতে তিনি আল্লাহ্‌র কৃপা এবং অনুগ্রহরাজির উল্লেখ করেছেন। কবিতার প্রত্যেক স্তবকের শেষ লাইন হলো,

‘ফাসুব্‌হানাল্লাযী আখ্‌যাল আআদী’

অর্থাৎ: ‘পবিত্র সেই সত্ত্বা যিনি আমার শত্রুদের লাঞ্ছিত করেছেন, যারা আমায় অপদস্ত করার চেষ্টা করেছে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছেন।’

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর উপর আল্লাহ্ তা’লা যে কৃপা বারী বর্ষণ করেছেন তা অনন্ত। আজ তাঁর ইহধাম ত্যাগের শতবর্ষ পরও আমাদের উপর সেই আশিস বর্ষণ অব্যাহত আছে আর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) আমাদেরকে এই দৃঢ় বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, এ করুণাধারা কিয়ামত কাল পর্যন্ত বর্ষিত হতে থাকবে। তোমাদের পথে বিভিন্ন অন্তরায় ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে কিন্তু খোদা নিজ করুণায় তা দূর করবেন। উন্নতি করা এবং এগিয়ে যাওয়া এখন হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জামাতের অদৃষ্ট। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘তিনি এ জামাতকে উন্নতির পরম মার্গে পৌঁছাবেন যার কিছুটা আমার মাধ্যমে আর কিছুটা আমার পরে আসবে।’

তিনি আরও বলেন,

‘শত্রুর হাসি ঠাট্টার পর খোদা তা’লা তাঁর কুদরতের অপর হস্ত প্রদর্শন করেন এবং এমন উপকরণ সৃষ্টি করেন যদ্বারা সেই উদ্দেশ্য সমূহ, যা কতক অসম্পূর্ণ ছিল, তা পূর্ণতা লাভ করে।’

সুতরাং খোদা তা’লা আপন মসীহ্‌র সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে তাঁর মৃত্যুর পর খিলাফত ব্যবস্থাপনার প্রবর্তন করেন যাতে তাঁর পক্ষ থেকে যুগ মসীহ্‌র উপর ন্যস্ত সকল দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পাদিত হয়। জামাতকে একহাতে সমবেত রেখে ঐক্যের এক সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। যেন তারা সবাই এক দেহ-মন হয়ে খোদার জন্য কাজ করে আর খোদার কল্যাণরাজির উত্তরাধিকারী হতে পারে। তারা কৃতজ্ঞতার প্রেরণা নিয়ে বিশ্ব জগতকে খোদার পানে আহবানকারী হয় আর উন্নতির সোপান মাড়াতে থাকে। অতএব আজ আমরা সর্বত্র জামাতের যে উন্নতি দেখতে পাচ্ছি তা আমাদের কোন প্রচেষ্টা বা পরিকল্পনার বলে নয় বরং এটি খোদার একান্ত অনুগ্রহ। তিনি তাঁর মসীহ্‌র সাথে কৃত অঙ্গীকার রক্ষার্থে করুণাবশত আমাদেরকে এ সফলতা দিচ্ছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে খোদার সমীপে বিনত হয়ে তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে থাকবো, ততক্ষণ উন্নতি অব্যাহত থাকবে। যতদিন আমরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে খোদার নির্দেশ পালন করবো, ততদিন খোদা কৃর্তক তাঁর মসীহ্‌র সাথে কৃত সকল প্রতিশ্রুতি আমাদের পক্ষে পূর্ণ হতে থাকবে। কোন অহমিকা ও মিথ্যা গৌরব যেন আমাদের পথে অন্তরায় সৃষ্টি না করে।

হুযূর বলেন, গত দু সপ্তাহে আমি ফ্রান্স, হল্যান্ড, জার্মানী এবং বেলজিয়াম সফর করেছি। এ সফরে আমি জামাতের উপর খোদার যে আশিস বর্ষিত হতে দেখেছি তার কিছুটা আপনাদের সম্মুখে বলবো। প্রথমে আমি ফ্রান্স যাই এবং সেখানে প্যারিসের Saint Prix -এ জামাতের নবনির্মিত প্রথম মসজিদ উদ্বোধন করা হয়। আপনারা পূর্বেই শুনেছেন, ১৯২৪ সনে হযরত খলীফাতুল মসীহ্ সানী (রা:) যখন ইউরোপ এসেছিলেন তখন তিনি সর্বপ্রথম লন্ডনের ফযল মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। সেসময় লন্ডনে একটি কনফারেন্সও হয়েছিল যা ‘ওয়েম্বলি কনফারেন্স’ নামে প্রসিদ্ধ। যাই হোক এরপর হুযূর (রা:) প্যারিস গমন করেন। তখন সেখানে জামাতের কোন মসজিদ বা কেন্দ্র ছিল না কিন্তু সেসময় সরকারী অনুদানে অ-আহ্‌মদীদের একটি মসজিদ নির্মিত হয়। হুযূর (রা:) সে মসজিদে নামাজ পড়ান বা সে মসজিদে তিনিই প্রথম নামায পড়ান। এ সফরে হুযূরের সাথে মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সাহাবীগণ ছাড়াও জামাতের অন্যান্য প্রবীন ব্যক্তিবর্গ ছিলেন যাদের একজন হলেন হযরত মির্যা শরীফ আহমদ সাহেব। হুযূর তখন একটি তবলীগি কমিটি গঠন করেন এবং তাদেরকে ফ্রান্সবাসীদের মধ্যে তবলীগ করার জন্য বিশেষ নির্দেশ প্রদান করেন। সেসময় বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষ হুযূরের সাথে সাক্ষাত করতে আসেন কিন্তু তখনও ফ্রান্সে কোন জামাত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে চতুর্থ খিলাফতের সময় এখানে মিশন হাউস প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বাড়ি ক্রয় করা হয় আর সেখানেই একটি কক্ষে নামায আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়। ধীরে ধীরে আহ্‌মদীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে সেই কমপ্লেক্স এর প্রাঙ্গনে অস্থায়ী ভাবে একটি নামায ঘর নির্মাণ করা হয় আর সেখানেই এতদিন নামায আদায় করা হয়েছে। এই নামায ঘর নির্মাণের সাথে সাথে সেখানে জামাতের চরম বিরোধিতা আরম্ভ হয়, স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রদর্শন করে। এলাকার মেয়র সাহেব জুতো পায়ে আমাদের অস্থায়ী মসজিদে প্রবেশ করে এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ ব্যবহার করেন। সেসময় ধৈর্য্য ধারণ ছাড়া জামাতের আর কিছু করার ছিলনা, কিন্তু আজ মেয়র সাহেব তার সে আচরণের জন্য লজ্জিত এবং অনুতপ্ত। এরপর ২০০৩ সনে পাশের একটি বাড়ী এবং ২০০৬ সনে কমপ্লেক্স এর পাশ্ববর্তী আরো একখন্ড জমি ক্রয় করা হয়। এখন সেখানে জামাতের বেশ বড় জায়গা রয়েছে। কমপ্লেক্স এর সম্মুখে প্রশস্ত উঠোনও আছে। মসজিদে মোবারক নির্মাণ এর পাশাপাশি এ কমপ্লেক্স-এ আবাসন, অতিথি শালা, বিভিন্ন অফিস, সম্মেলন কক্ষ ছাড়াও বেশ বড় রান্নাঘর ও খাবার ঘর রয়েছে। মোটকথা খোদা তা’লা অশেষ অনুগ্রহ করেছেন, খুব সুন্দর মসজিদ নির্মিত হয়েছে। যে মেয়র সাহে��� প্রথমে বৈরী মনোভাব রাখতেন এখন তিনিই আমাদের প্রতি এত ভালবাসা র���খেন যা দেখে আশ্চর্য হতে হয় যে, ইনিই কি সেই ব্যক্তি! তার অতীত আচরণের কথা শুনলে তিনি লজ্জায় রাঙা হন এবং আক্ষেপ ও অনুশোচনা প্রকাশ করেন। যেদিন (১০ই অক্টোবর, ০৮) মসজিদ উদ্বোধন করা হয় সেদিন সন্ধ্যায় সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়, কিন্তু মেয়র সাহেব জুমুআর নামাযের সময়ই মসজিদে চলে আসেন এবং বসে থেকে পুরো জুমুআর খুতবা শুনেন। তারপর একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন,

‘এখন আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, এটি এমন এক জামাত যাদের পক্ষ থেকে কেবল কোন ভয়ই নেই বরং এ জামাত আমাদেরই অংশ। খোদার ইবাদতের জন্য আহবান এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ জামাতের আর কোন উদ্দেশ্য নেই।’

হুযূর বলেন, এভাবে আল্লাহ্ তা’লা মানুষের হৃদয়কে পরিবর্তন করছেন যা দেখে বিস্মিত হতে হয়। আমি সেখানে খুতবায় বলেছিলাম, এখন তবলীগের ক্ষেত্র প্রসারিত হবে আর কার্যত তাই হচ্ছে। মানুষ মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে এখানে আসছেন আর জামাতের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ ব্যক্ত করছেন। এসব কিছু আমাদের দয়ালু খোদার কৃপায় ঘটছে এবং এটি আমাদের কোন চেষ্টা-প্রচেষ্টার ফসল নয়। মসজিদের পাশেই বসবাসকারী একজন তিউনিসিয়ান মুসলমান মসজিদ পরিদর্শন করে আশ্চর্য হয়ে বলেন,

‘আপনারা মসজিদ নির্মাণের অনুমতি কি করে পেলেন? কেননা এখানকার মেয়র এবং কাউন্সিল মুসলমানদের প্রতি খুবই কঠোর।’

কিন্তু খোদার অপার কৃপায় সেই মেয়র সাহেবই আমাদের মসিজদ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন এবং বিভিন্ন পত্রিকায় জামাতের ভূয়সী প্রশংসা করে বিবৃতি দিয়েছেন। ফ্রান্সের একটি প্রসিদ্ধ দৈনিক পত্রিকা Jean Pierre Enjalbert –এ মেয়রের একটি বক্তব্য ছিল এরূপ:

‘এই অপরিচিত জামাতটি শান্তিপূর্ণ এবং খুবই সম্মানযোগ্য একটি ইসলামী শিক্ষা উপস্থাপন করে। আমি স্বয়ং তাদের শান্তিকামী হওয়ার সাক্ষী। এরা আমাদের সমাজের সাথে মূলধারায় মিশে গেছে আর দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। একারণেই তারা তাদের সকল প্রতিবেশীকে সান্ধ্যভোজে নিমন্ত্রণ করেছে এবং এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্টদূতসহ অনেক দেশের কূটনীতিবিদরা যোগদান করেছেন।’

উক্ত পত্রিকাটি জামাতের পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে লিখেছে,

‘আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামাত একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় যা ১৮৮৯ সনে ভারতের পাঞ্জাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরা বিশেষভাবে পাকিস্তানে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখিন। ১৯৩টি দেশে প্রতিষ্ঠিত এ জামাতের সদস্য সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন এবং ফ্রান্সে এদের সংখ্যা প্রায় এক হাজারের মত। ‘ভালবাসা সবার জন্য কারো পরে ঘৃণা নয়’ এ হচ্ছে তাদের শ্লোগান। এরা সর্বোতভাবে উগ্রতা এবং সন্ত্রাস বিরোধী। এরা সমাজের সকল শ্রেণীর সাথে মুক্ত আলোচনায় বিশ্বাসী এবং প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী। এ জামাতের বর্তমান খলীফা ২০০৩ সনে জামাতের নেতা নির্বাচিত হন আর তিনিই এ মসজিদ উদ্বোধন করবেন। প্রকাশ থাকে যে, তিনি জামাতের পঞ্চম খলীফা।’

হুযূর বলেন, খোদা তা’লা এভাবে মানুষের চিন্তা ধারার প্রবাহকে পরিবর্তন করছেন। জামাতের পরিচিতি, মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্য এবং ইসলামের অনুপম সৌন্দর্য ও শিক্ষা নিয়ে পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে লেখালেখি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে মসজিদ উদ্বোধনের সংবাদ ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। ফ্রান্সের আমীর সাহেব জানিয়েছেন, মসজিদ দেখার জন্য এত দর্শনার্থী আসছে যে, আমরা তাদের আতিথেয়তা এবং তাদের কাছে আহ্‌মদীয়াতের বাণী সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবো কি-না তা নিয়ে শংকিত। জুমুআর দিন সন্ধায় ফ্রান্সের জাতীয় টেলিভিশন প্রথমবারের মত জামাতের নাম উল্লেখ করে কোন সংবাদ প্রচার করেছে। ফ্রান্সের আরেকটি টেলিভিশন চ্যানেল ‘টিভি-২৪’ উদ্বোধনের পুরো অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে এবং তারা জামাতকে নিয়ে একটি প্রামান্য চিত্র নির্মাণ করে তাও সম্প্রচার করেছে। ‘টিভি-২৪’ এটি কোন সাধারণ টেলিভিশন চ্যানেল নয় বরং বিবিসি’র সমপাল্লার। পাঁচটি মহাদেশে এর সম্প্রচার রয়েছে। এই চ্যানেল মোট চারবার জামাতের এ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করেছে। দু’বার ফ্রেঞ্চ ভাষায় এবং একবার করে ইংরেজি ও আরবীতে। এরপর ফ্রেন্সভাষাভাষী বিভিন্ন আফ্রিকান দেশ এবং মরিশাসও এ অনুষ্ঠান তাদের জাতীয় টিভিতে সম্প্রচার করেছে।

হুযূর বলেন, ফ্রান্স ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পত্র-পত্রিকা এবং টেলিভিশন চ্যানেলে এই মসজিদ উদ্বোধনের সংবাদ ফলাও করে প্রচার করেছে। সেদিনকার সান্ধ্যভোজে আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে আমি ইসলামী শিক্ষা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি। এবং এটিও বলেছি কিভাবে মুসলমানরা বিভিন্ন যুগে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে অনেকেই আমাকে বলেছেন,

‘মুসলমানদের উপর এত যুলুম-নির্যাতন হয়েছে একথা কেউ কোনদিন আমাদের বলেনি।’

ব্যক্তিগত সাক্ষাতে একজন জার্মান কূটনৈতিক আমাকে বলেন,

‘বর্তমানে জার্মান যুবকদের মধ্যে ইসলামের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে, আমার দোয়া হলো মুসলমান যদি হতেই হয় তাহলে তারা যেন আহ্‌মদী মুসলমান হয়।’

এরপর হল্যান্ডে খিলাফত জুবিলী জলসায় যোগদান করার সুযোগ ঘটে। এ জলসা উপলক্ষ্যে সেখার পত্র-পত্রিকায় ব্যাপক লেখালেখি হয়েছে। সেখানকার জামাতের জন্য এ কাজ কোন ক্রমেই সম্ভব ছিল না কিন্তু খোদার বিশেষ কৃপা আমাদের সাথী ছিল বলেই এভাবে জামাতের প্রচার হচ্ছে। আমরা যদি খোদার নিয়ামত গণনা করতে করতে জীবন কাটিয়ে দেই তবুও তা গুণে শেষ করা যাবে না।

তারপর বার্লিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই এবং ৫/৬ ঘন্টার পথ অতিক্রম করে সেখানে পৌঁছি। বার্লিন মসজিদের উদ্বোধন নিজ গুরুত্বের নিরিখে একটি অসাধারণ অনুষ্ঠান। সে এলাকার বিরোধীদের পক্ষ থেকে জামাত সম্পর্কে বিভিন্ন ভুল তথ্য ছড়ানোর কারণে দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশংকা ছিল, যে কারণে স্থানীয় প্রশাসনও অনেক বিধি-নিষেধ আরোপ করে। তারা আদেশ জারী করে যে, নিমন্ত্রণ বহির্ভূত কেউ যেন অনুষ্ঠানে না আসেন। যদিও তারা অযথা বাড়াবাড়ি করেছে তারপরও আল্লাহ্ তা’লা অনেক ফযল করেছেন। আন্দোলনকারীরা একদিন পূর্বে কোন মিছিল-মিটিং করবে না বলে ঘোষণা করলেও প্রশাসনের ভীতি কাটেনি বরং বিরোধী মনমানসিকতার লোকদের মধ্যে এরূপ নাটকীয় পরিবর্তন তাদের সন্দিহান করে তুলে। জামাতের সদস্যরা এবং মোবাল্লেগগণ ইসলাম, মসজিদের গুরুত্ব এবং ইসলামে নারীর অধিকার সম্পর্কে এসব বিরোধীদের বুঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান কিন্তু এরা কোনভাবেই মানতে প্রস্তুত ছিলনা। কিন্তু হঠাৎ করে এই যে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে এটি খোদার বিশেষ দয়া বৈ আর কিছু নয়। বার্লিন মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সময় বিরোধীরা মিছিল করেছে ফলে এলাকার সুশীল সমাজও আমাদের পক্ষে পাল্টা মিছিল করে। যারা আমাদের পক্ষে কাজ করেছেন খোদা তাদের হৃদয়কে আরো প্রশস্ত করুন এবং সত্যের আলোয় আলোকিত করুন।

উদ্বোধনের পূর্বে ‘নবনির্মিত মসজিদের জন্য শুভেচ্ছা’ শিরোনামে একটি পত্রিকা লিখেছে,

‘নবরূপে কুরআনের শিক্ষা মানুষের গৃহে প্রবেশ করছে। এটি একথার সাক্ষ্য বহন করে যে, মুসলমানরা এখন যথারীতি জার্মানীর অংশ। ভাষ্যকার বলেছে, আহ্‌মদী, শিয়া অথবা সুন্নি যারাই মসজিদ নির্মাণ করছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পঞ্চাশের দশকে CSU পার্টির দৃষ্টিভঙ্গির অনুরূপ। উদাহরণ স্বরূপ, মহিলারা যদি চাকরী করতে চায় তাহলে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে, বর্তমানে ইউরোপে এ দৃষ্টিভঙ্গির প্রচলন হচ্ছে। জার্মানীতে মুস���মানরা যেখানেই মসজিদ নির্মাণ করুক না কেন আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাবো কিন্তু তারা কোন ক্রমেই নাগরিক দায়-দায়িত্বের ঊর্ধ্বে নয়। মুসলমানদের ধর্মীয় আকর্ষণ দেখে ক্যাথলিক এবং প্রটেষ্ট্যান্টরাও ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। প্রতিযোগিতার ফলে উন্নতি ঘটে, ধর্মের ক্ষেত্রেও এই রীতি পরিদৃষ্ট হয়।’

হুযূর বলেন, হায়! ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সহনশীলতার বিষয়টি যদি আজ মুসলমানরাও অনুধাবন করত তাহলে কতইনা ভাল হতো। যাইহোক, পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি এবং বিরোধিতার ফলে ‘মসজিদে খাদীজাহ্’ উদ্বোধনের পূর্বেই প্রসিদ্ধি লাভ করে। উদ্বোধনের জন্য মানুষের সাথে ব্যাপক কোন যোগাযোগের প্রয়োজন পড়েনি। সবাই সোৎসাহে এসেছেন। একজন জার্মান মহিলা আমাকে বলেছেন,

‘আমাকে কেউ নিমন্ত্রণ করেনি। ঔৎসুক্য বশে নিজেই মসজিদ দেখতে এসেছি।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখানে একটি সান্ধ্যভোজের আয়োজন করা হয় আর এতে জার্মান সংসদের ডেপুটি স্পীকার, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদ, স্থানীয় মেয়র এবং তার সহকর্মীবৃন্দ ছাড়াও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বক্তৃতাও করেছেন। শেষের দিকে আমিও ইসলামের সুন্দর ও অনুপম শিক্ষা তুলে ধরার সুযোগ পাই। এর বিস্তারিত সংবাদ আপনারা এমটিএ’র মাধ্যমে জানতে পারবেন। খোদার অপার অনুগ্রহে বিশ্বের প্রধান প্রধান সংবাদ ও প্রচার মাধ্যমে এই মসজিদ উদ্বোধনের খবর প্রকাশিত হয়েছে এবং এরফলে জামাতের পরিচিতি ব্যাপক পরিসরে বিস্তৃতি লাভ করেছে। বিশ্বের মোট ১৪৮টি পত্র-পত্রিকা মসজিদ উদ্বোধনের সংবাদ ছেপেছে। জার্মানীর ১১টি জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে মসজিদ উদ্বোধনের সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করেছে। এছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য ১৬টি দেশের পত্রিকায়ও মসজিদ উদ্বোধনের সংবাদ ছেপেছে। দেশগুলো হচ্ছে, ১. আমেরিকা ২. অষ্ট্রিয়া ৩. তুরষ্ক ৪. বাহরাইন ৫. নিউজিল্যান্ড ৬. ইংল্যান্ড ৭. পাকিস্তান ৮. শ্রিলংকা ৯. কানাডা ১০. কুয়েত ১১. ফ্রান্স ১২. স্কটল্যান্ড ১৩. ইন্ডিয়া ১৪. তাইওয়ান ১৫. সৌদি আরব ও ১৬. অষ্ট্রেলিয়া। যে আটটি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন সে দেশগুলো হচ্ছে, জাপান, চেক রিপাবলিক, পোল্যান্ড, হল্যান্ড, ইতালী, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স এবং সুইডেন। এছাড়া বিশ্বের চারটি আন্তর্জাতিক এজেন্সির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে, এএফপি ও রয়টার্স। বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং ম্যাগাজিনে এই মসজিদ উদ্বোধনের বরাতে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি হলো: Euro-Islam, Yahoo News, International Tribune, Associated press AP, Zimbio News Agency, World news network. Newstoday.com, CNN, Google news, Gulf News, CNN UK, USA Today, Washington Post USA, The Times of India, Spiegel (Germany) MSNBC (USA), The Gaurdian UK. যেসব টিভি চ্যানেল সংবাদ পরিবেশন করেছে তারমধ্যে জার্মান জাতীয় টেলিভিশন ছাড়া RTL, NTV, N-24, ARD, ZDF, DW, Euronews, এবং বার্লিনের স্থানীয় চ্যানেল, ABC-World এবং RBB অন্যতম। মোটকথা পত্র-পত্রিকায় ব্যাপক প্রচারের ফলে জামাতের তবলীগ এবং পরিচিতির এক নব দিগন্ত উম্মোচিত হয়েছে।

বার্লিনের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং বহুল প্রচারিত Berliner Zeitung পত্রিকা ‘শান্তি ও সৌহার্দ্যরে সম্মেলন কেন্দ্র মসজিদ’ শিরোনামে লিখেছে।

‘খাদীজাহ্ মসজিদের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বার্লিনের প্রধান মন্ত্রী আহ্‌মদীদেরকে মোবারকবাদ জানান এবং বলেন, এই মসজিদ সহনশীলতা ও নমনীয়তার প্রতীক। একে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য তিনি সাহায্যের আশ্বাস প্রদান করেন। জার্মান সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্থানীয় লোকদেরকে আহ্‌মদীদের প্রতি সহনশীল ও প্রীতিপূর্ণ ব্যবহার করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। আহ্‌মদীদের পঞ্চম খলীফা হযরত মির্যা মসরূর আহমদ তাঁর বক্তব্যে অভ্যাগত সূধীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, চরম বিরোধিতা সত্বেও আপনারা আমাদেরকে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন এজন্য আমরা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি তাঁর জামাতের সদস্যদের পক্ষ থেকে জার্মানীর প্রতি বিশ্বস্ত এবং অনুগত থাকার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন এবং মসজিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের জন্য দোয়া করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আহ্‌মদীদেরকে জার্মান জাতির অংশ মনে করা হবে। জার্মানীতে আহ্‌মদীদের মোট সংখ্যা প্রায় ত্রিশ হাজার।’

জার্মানীর একটি প্রসিদ্ধ পত্রিকা উরব Die Welt মসজিদ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে তাদের ১৭ই অক্টোবরের সংখ্যায় ‘ইসলামী সংগঠনের মসজিদ নির্মাণ উপলক্ষ্যে সন্তোষ প্রকাশ’ শিরোনামে লিখেছে:

‘ইসলামী সংগঠন ওআইসি’র মহাপরিচালক জনাব এহসান উগলু বলেন, মসজিদ নির্মাণ মুসলমানদের জার্মান সমাজের মূলধারার অংশ হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। আমি মসজিদ উদ্বোধনে আনন্দিত কেননা ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আন্দোলনে জার্মানীর সকল নাগরিকের সমর্থন নেই। অনুরূপভাবে তিনি আরো বলেন, জার্মান একটি স্বাধীন দেশ এজন্য এখানে মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হওয়া উচিৎ নয়। এই নতুন মসজিদটি জামাতে আহ্‌মদীয়ার যার উদ্বোধন উপলক্ষ্যে তাদের খলীফা লন্ডন থেকে এখানে এসেছেন।’

Washington Post পত্রিকা তাদের ১৬ই অক্টোবরের সংখ্যায় ‘সাবেক পূর্ব জার্মানী’তে প্রথম মসজিদের উদ্বোধন’ শিরোনামে লিখেছে:

‘বৃহস্পতিবার বার্লিনে সুউচ্চ মিনার ও গম্বুজ সমৃদ্ধ প্রথম মসজিদের উদ্বোধন করা হয়। দু’তলা বিশিষ্ট খাদীজাহ্ মসজিদের মিনারের উচ্চতা হচ্ছে বিয়াল্লিশ ফুট। উদ্বোধন কালে তিন’শ বিরোধী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। জার্মানীতে বেশিরভাগ মুসলমান পশ্চিম জার্মানীতে বসবাস করে। বার্লিনে কমপক্ষ্যে সত্তরটি’র মত মসজিদ আছে কিন্তু বেশিরভাগই অঘোষিত এবং বার্লিনের পশ্চিমাঞ্চলে এমনসব বিল্ডিং রয়েছে যাকে বাহ্যত মসজিদ বলে মনে হয়না।’

পত্রিকাটি আরো লিখেছে,

‘আহ্‌মদীয়া জামাতের একজন সদস্য বলেছেন, পূর্ব বার্লিন যা দেশের রাজধানীও বটে সেখানে এই প্রথম মসজিদ নির্মিত হবার কারণে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই মসজিদ নির্মাণকে স্বাগত জানিয়েছেন।’

বিভিন্ন দেশের এধরনের বেশ কিছু প্রসিদ্ধ পত্রিকার উদ্ধৃতি পাঠ করে হুযূর বলেন, আজ জামাতে আহ্‌মদীয়া সম্পর্কে বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাচ্ছে। খোদা তা’লা তাঁর মসীহ্‌র জামাতের প্রচার ও প্রসারের জন্য নিত্য-নতুন মাধ্যম সৃষ্টি করছেন। জার্মানীর কোন কোন পত্রিকা এটিও উল্লেখ করেছে যে,

‘সাধারণত এখানে মনে করা হয় যে, মুসলমানরা নারীর অধিকার খর্ব করে। কিন্তু বার্লিনের মসজিদের প্রকৌশলী একজন মহিলা এবং এই মসজিদের নামকরণও করা হয়েছে হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর পবিত্র স্ত্রী’র নামে। এ দু’টি বিষয় প্রচলিত ধারণাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট মনে হয়।’

বার্লিনে কর্মরত জামাতের মোবাল্লেগ মওলানা আব্দুল বাসেত সাহেব লিখেছেন, সেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মসজিদ পরিদর্শন করতে আসছেন। গত দু’দিনে প্রায় নয়শত দর্শনার্থী মসজিদ পরিদর্শন করেছেন এবং তাদেরকে জামাতের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। ছোট ছোট নাসেরাত সেখানে আগত অতিথিদের হাসিমুখে সেবা ও আতিথেয়তা প্রদান করেছে দেখে অভ্যাগতরা প্রভাবিত হচ্ছেন। মোটকথা সর্বমুখী তবলীগের দ্বার উম্মুক্ত করেছে এই মসজিদ।

হুযূর বলেন, বার্লিন থেকে ফেরার পথে আমি বেলজিয়ামে আনসারুল্লাহ্‌র বার্ষিক ইজতেমায় সমাপনী বক্তব্য রাখার সুযোগ প��ই। সেখানে অবস্থা ও প্রয়োজনানুসারে নসীহত করেছি। এরপর লন্ডনে ফিরে গত ২২শে অক্টোবর বৃটিশ সংসদের একটি সূধীসমাবেশে যোগদানেরও সৌভাগ্য হয়। এ অনুষ্ঠানটি যেহেতু সংসদ ভবনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় তাই এতে অনেক সাংসদ, বিভিন্ন মন্ত্রী ও গণ����মান্য ব্���ক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেও আমি ইনসাফ-আদল, জিহাদের তাৎপর্য সম্পর্কে ইসলামের সুমহান শিক্ষা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা ভাবের কারণ ও এত্থেকে উত্তোরণ সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করি। উপস্থিত সূধীজন আমার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করেন। অনেকে আবার নোটও নিতে থাকেন। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সাক্ষাতে অনেকেই বক্তৃতার কপি সংগ্রহ করার আকাংখা প্রকাশ করেন। সেখানেই যোহর ও আসর নামায আদায়েরও সুযোগ ঘটে। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর বিশেষ করুণায় আমাদেরকে অবারিত সুযোগ দিচ্ছেন।

সবশেষে হুযূর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর একটি উদ্ধৃতি পাঠ করেন। তিনি (আ:) বলেন,

‘নির্বোধ মৌলভীরা যদি জেনে বুঝে নিজেদের চক্ষু বন্ধ রাখতে চায় তাহলে রাখুক। এতে সত্যের কি এমন ক্ষতি হবে? কিন্তু সে যুগ আগত প্রায় বরং অতি সন্নিকটে যখন ফেরআউন স্বভাবের মানুষ এসব ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে যদি চিন্তা করে তাহলে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। খোদা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার সত্যতা মানুষের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত না হয় আমি উপর্যুপুরি আক্রমন করবো। সুতরাং হে মৌলভীগণ! যদি খোদার সাথে লড়াই করার শক্তি তোমাদের থাকে তাহলে লড়াই করো। আমার পূর্বে এক অসহায় মানুষ মরিয়ম তনয়ের সাথে ইহুদীরা কি করতে বাকী রেখেছে আর কিভাবে তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যার আত্মপ্রসাদ নিয়েছে। কিন্তু খোদা তাঁকে ক্রশের মৃত্যু থেকে রক্ষা করেছেন। অথবা সেই যুগ ছিল যখন তাঁকে কেবল একজন প্রতারক ও মিথ্যাবাদী মনে করা হতো এরপর সেই যুগ আসে যখন এত বেশি তাঁর সম্মান হৃদয়ে সৃষ্টি হয়েছে যে, এখন চল্লিশ কোটি মানুষ তাঁকে খোদা হিসেবে মান্য করে। যদিও এক দুর্বল মানুষকে খোদা বানিয়ে তারা কুফরী করেছে কিন্তু এটি ইহুদীদের কর্মের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ ছিল। কেননা এরা যাকে এক মিথ্যাবাদীর মত পায়ের নিচে পিষ্ট করতে চেয়েছিল সেই মরিয়ম পুত্র ঈসা’ই এমন সম্মান লাভ করেছে যে, এখন চল্লিশ কোটি মানুষ তাঁকে সিজদা করে (যদিও এখন এ সংখ্যা অনেক বেশী)। এবং তাঁর নাম শুনে রাজা-বাদশাহ্রাও মস্তক নত করে। সুতরাং আমি যদিও এই দোয়া করেছি যে, ঈসা ইবনে মরিয়মের মত শির্‌ক বিস্তারের মাধ্যম যেন না হই এবং আমি বিশ্বাস রাখি যে, খোদা তা’লা এমনই করবেন। কিন্তু খোদা তা’লা আমাকে বারংবার সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আমাকে অনেক সম্মান দিবেন আর আমার ভালবাসা মানব হৃদয়ে প্রোথিত করবেন। এবং আমার জামাতকে পুরো বিশ্বে বিস্তার করবেন আর সকল ফির্কার উপর আমার ফির্কাকে জয়যুক্ত করবেন। আমার মান্যকারীরা জ্ঞান ও মা’রেফতে এত বেশি বুৎপত্তি লাভ করবে যে, তারা সত্যের জ্যোতি এবং প্রমাণ ও নিদর্শনাবলী দ্বারা সবাইকে নির্বাক করে দিবে। এবং প্রত্যেক জাতি এ প্রস্রবণ থেকে পানি পান করবে এবং এ জামাত দ্রুত প্রসার লাভ করবে ও বৃদ্ধি পাবে এবং এক পর্যায়ে সারা পৃথিবীতে ছেয়ে যাবে। অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে এবং বিপদাবলী আসবে কিন্তু খোদা পথের সকল বাঁধা দূর করবেন এবং আপন প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন। খোদা আমাকে সম্বোধন পূর্বক বলেছেন, আমি তোমাকে কল্যাণের পর কল্যাণ দান করবো এমনকি বাদশাহ্ তোমার পোষাক থেকে কল্যাণ অন্বেষণ করবে।

সুতরাং হে শ্রবণকারীগণ! এ কথাগুলোকে স্মরণ রাখো। এবং এই শুভসংবাদকে নিজেদের সিন্দুকে সংরক্ষণ করে রাখো কেননা এটি খোদার বাণী যা একদিন অবশ্যই পূর্ণ হবে। আমি আমাতে কোন পুণ্য দেখিনা এবং আমি সে কাজ করিনি যা আমার করা উচিৎ ছিল। বস্তুত আমি নিজেকে একজন অযোগ্য শ্রমিক মনে করি। এটি কেবল খোদার কৃপা যা আমার সাথে রয়েছে। সুতরাং সেই মহা শক্তিশালী ও সম্মানিত খোদার হাজার শুকরিয়া যে, তিনি একটি মাটির ঢেলাকে এতসব অযোগ্যতা সত্বেও গ্রহণ করেছেন।’

একজন সত্যিকার আহ্‌মদী বনে আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এসব প্রতিশ্রুতির পূর্ণতা ও বিজয় দেখার তৌফিক দিন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে