In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহ্ তা’লা তাঁর মুহাইমেন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

৩রা অক্টোবর, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, গত কয়েক খুতবা পূর্বে আমি আল্লাহ্ তা’লার মুহাইমেন বৈশিষ্ট্যের উপর আলোকপাত করেছিলাম, অভিধানের আলোকে এর অর্থও বলেছি আর কিছুটা ব্যাখ্যাও করেছিলাম। মুহাইমেন শব্দের মধ্যে আশ্রয় দেয়ার অর্থ রয়েছে আর আল্লাহ্ তা’লার সত্ত্বাই মূলতঃ মানুষকে আশ্রয় দিতে পারেন। তিনিই সব কিছুর চুড়ান্ত আশ্রয়স্থল। তিনি মানুষকে আশ্রয় প্রদান এবং তাদের নিরাপত্তা বিধানের নিমিত্তে বিষ্ময়কর নিদর্শন প্রকাশ করেন। মুহাইমেন শব্দের একটি অর্থ সাক্ষ্য দেয়া। খোদা তা’লার মনোনীত বান্দাদেরকে যখন পাপাচারী ও বিরুদ্ধবাদীরা অস্বীকার করে এবং তাদের উপর কদর্য অপবাদ আরোপ করে তখন খোদা তাঁর নির্বাচিত নবীদের সত্যায়নে স্বয়ং সাক্ষ্য প্রদান করেন এবং তাদের সমর্থনে অলৌকিক নিদর্শন প্রকাশ করেন। সৃষ্টির জন্য যখন মুহাইমেন শব্দ বর্ণিত হয় তখন এর অর্থ দাঁড়ায়: নেগরান, নিরাপত্তা দাতা বা রক্ষাকর্তা। আরেকটি অর্থ হচ্ছে ভয়-ভীতির অবস্থাকে শান্তি ও নিরাপত্তায় পরিবর্তন করা। আল্লাহ্ তা’লার এই বৈশিষ্ট্য থেকে সবচেয়ে বেশী যারা লাভবান হন তাঁরা হলেন খোদার মনোনীত নবী-রসূল। খোদা তা’লা আপন বৈশিষ্ট্যের আলোকে নবীদের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করেন যাতে বিশ্ববাসী সত্য নবীদের চিনতে সমর্থ হয়। নবীর মান্যকারীদের সাথেও খোদা তা’লা নিজ বৈশিষ্ট্য মোতাবেক ব্যবহার করেন।

হুযূর বলেন, মুহাইমেন বৈশিষ্ট্যের যে সূক্ষ্ম ও প্রচ্ছন্ন দিক রয়েছে এখন আমি তা আপনাদের সম্মুখে বর্ণনা করবো। এ বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ স্বরূপ খোদা তা’লা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর কিভাবে নিরাপত্তা বিধান করেছেন তা বিভিন্ন ঘটনার আলোকে আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরবো। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) সবকিছুই লাভ করেছেন তাঁর আঁকা ও মনিব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর দাসত্ব ও আনুগত্যের কল্যাণে। খোদার অনুগ্রহবারী তাঁর উপর বর্ষিত হয়েছে এ জন্য যেন ইসলাম এবং মহানবী (সা:)-এর সত্যতা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়। মহানবী (সা:) সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) একস্থানে লিখেন:

‘মহানবী (সা:)-এর জীবনে পাঁচবার অত্যন্ত নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর প্রাণ নাশের সমূহ আশংকা দেখা দিয়েছিল। মহানবী (সা:) যদি আল্লাহ্‌র রসূল না হতেন তাহলে নিশ্চয় তাঁকে হত্যা করা হতো। প্রথম ঘটনা হচ্ছে: একবার মক্কার কুরাইশরা মহানবী (সা:)-এর ঘর ঘিরে ফেলে এবং কসম খায় ‘আজ আমরা তাঁকে হত্যা করবই’। দ্বিতীয়: সেই ঘটনা যখন কাফেরদের বিরাট একটি দল পাহাড়ের চুড়ায় সেই গুহার মুখে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিল যার অভ্যন্তরে মহানবী (সা:) এবং হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রা:) গোপনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তৃতীয় নাজুক অবস্থা হচ্ছে: যখন মহানবী (সা:) উহুদের যুদ্ধক্ষেত্রে নি:সঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন এবং কাফেররা তাঁকে ঘিরে ফেলেছিল। এবং কাফেররা সমবেতভাবে তাঁর উপর বহুবার আক্রমন চালিয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা ব্যর্থ ও বিফল হয়েছে। এ ছিলো খোদার এক অলৌকিক নিদর্শন। চতুর্থবার: এক ইহুদী নারী মহানবী (সা:)-কে মাংসের মধ্যে বিষ মিশিয়ে খেতে দিয়েছিল। সেই বিষ ছিল অত্যন্ত তীব্র ও মারাত্মক এবং পরিমানেও ছিল অনেক বেশি। পঞ্চম বারের ঘটনাও ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক: পারস্যের সম্রাট খসরু পারভেজ মহানবী (সা:)-কে হত্যা করার দৃঢ় সংকল্প করেছিল। তাঁকে বন্দী করে নিয়ে যাবার জন্য সৈন্য প্রেরণ করেছিল। এ পাঁচটি ঘটনা থেকেই বুঝা যায় যে, এসব চরম বিপজ্জনক অবস্থা থেকে মহানবী (সা:)-এর প্রাণে বেঁচে যাওয়া এবং পরিশেষে সেইসব শত্রুদের উপর বিজয় লাভ করা এ সত্যের এক শক্তিশালী প্রমাণ যে, প্রকৃত পক্ষে মহানবী (সা:) সত্য ছিলেন এবং খোদা তাঁর সাথে ছিলেন। অদ্ভুত বিষয় হলো আমার জীবনেও এমন মুহুর্ত এসেছে যখন প্রাণ-সম্মান হারানোর সমূহ আশংকা দেখা দিয়েছিল। প্রথম ঘটনা হচ্ছে: আমার বিরুদ্ধে ডা: হেনরী মার্টিন ক্লার্ককে হত্যার মিথ্যা অভিযোগ আনা। দ্বিতীয়ত: যখন পুলিশ একটি ফৌজদারী মামলা আমার বিরুদ্ধে গুরুদাসপুরের ডেপুটি কমিশনারের আদালতে দায়ের করে। তৃতীয় ঘটনা হচ্ছে: জেহলমের অধিবাসী করমদীন নামী এক ব্যক্তি কর্তৃক আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মোকদ্দমা। চতুর্থত: সেই ফৌজদারী মামলা যা উক্ত করমদীন কর্তৃক আমার বিরুদ্ধে গুরুদাসপুরে দায়ের করা হয়। পঞ্চম হচ্ছে সেই ঘটনা: যখন লেখরামের মৃত্যুর পর আমার গৃহ তল্লাশী করা হয় এবং শত্রুরা আমাকে হত্যাকারী সাব্যস্ত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। কিন্তু এসব মামলায় তারা নিষ্ফল ও চরম ব্যর্থ হয়েছে।’

হুযূর বলেন, যে ছেলের মাধ্যমে মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর বিরুদ্ধে ডা: হেনরী মার্টিন ক্লার্ককে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল সেই ছেলের কোন ধর্ম ও ঈমান ছিল না বরং সে ছিল চরম মিথ্যাবাদী আর তাকে এ বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হয় যে, নাউযুবিল্লাহ্ মসীহ্ মওউদ (আ:) নাকি তাকে মার্টিন ক্লার্ককে হত্যা করতে বলেছিলেন। এই ছেলে নিজ ধর্ম পরিবর্তনে অভ্যস্ত ছিল, বয়’আত করার বাসনা নিয়ে কাদিয়ানেও এসেছিল কিন্তু হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) তার বয়’আত নেননি। ডা: হেনরী মার্টিন ক্লার্ক ছিল একজন খৃষ্টান পাদ্রী। খৃষ্ট ধর্মের ভ্রান্ত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) যেহেতু সর্বদা সোচ্চার ছিলেন সে কারণে মার্টিন ক্লার্ক ছিল তাঁর প্রতি শত্রুভাবাপন্ন। এ মামলায় হযরত (আ:)-কে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য বিরোধীরা সম্মিলিত মোর্চা গড়ে তুলে এমনকি মৌলভী মোহাম্মদ হোসেন বাটালভীও তা��ের পক্ষ নিয়ে মিথ্যা সাক্ষী দেয়। কিন্তু খোদা তা’লা পূর্�����েই হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে অবহিত করেছিলেন যে,

‘তাঁর অপার কৃপায় তিনি নিরাপদ থাকবেন।’

বিচারক ক্যাপ্টেন ডগলাস সাহেব পুরো মামলাটির তদন্ত করেন এবং তাঁকে নির্দোষ সাব্যস্ত করেন। আল্লাহ্ তা’লা কিভাবে হেফাযত করেছেন তা বিচারক ডগলাস সাহেবের ভাষায় শুনুন। একজন অ-আহ্‌মদী রাজা গোলাম হায়দার সাহেব যিনি আদালতে কাজ করতেন তিনি বলেন,

‘রায় ঘোষনার পূর্বে একদিন বিচারক সাহেব অত্যন্ত বিচলিত অবস্থায় রেল ষ্টেশনের প্লাটফর্মের উপর পায়চারি করছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে আপনি এত চিন্তিত কেন? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করো না। তিনি নাছোড়বান্দা হলে মি: ডগলাস বলেন, মির্যা সাহেবের চেহারা দেখার পর থেকে আমার এমন মনে হচ্ছে যেন কোন ফিরিশ্তা মির্যা সাহেবের দিকে ইশারা করে বলছে যে, তিনি নিরপরাধ। তিনি কোন অন্যায় করেন নি আর তাঁর কোন দোষ নেই। এরপর ম্যাজিষ্ট্রেট তদন্তের রীতি পরিবর্তন করেন এবং অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে দেবার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উৎঘাটিত হয়।’

যে শত্রু হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে লাঞ্ছিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল সে নিজেই লাঞ্ছিত ও অপদস্ত হয়। আর আল্লাহ্ তা’লা তাঁকে স্বসম্মানে এ অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেন এবং আপন অনুগ্রহে তাঁর নিরাপত্তা বিধান করেন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) স্বীয় গ্রন্থ হাকীকাতুল ওহী’তে বলেন,

‘পঁচিশতম নিদর্শন: করমদীন জেহলমীর ঐ ফৌজদারী মামলা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী। সে আমার বিরুদ্ধে জেহলমে এই মোকদ্দমা দায়ের করেছিল। খোদা তা’লার পক্ষ থেকে আমার উপর এ ইলহাম হয়:

رب كل شيئ خادمك رب فاحفظني وانصرني وارحمني

{রব্বী কুল্লু শাইইন খাদিমুকা রব্বী ফাহ্ফাযনীওয়ান সূরনী ওয়ারহামনী}

এছাড়া অন্যান্য ইলহামও হয়েছে যাতে নির্দোষ প্রমাণিত হবার ওয়াদা ছিল। বস্তুত খোদা তা’লা এ মোকদ্দমা হতে নির্দোষ হিসেবে আমাকে মুক্তি দেন।’

হুযূর বলেন, এ প্রসঙ্গে আমি আপনাদের দৃষ্টি দোয়ার প্রতিও আকর্ষণ করতে চাই। কয়েকদিন পূর্বে আমি স্বপ্নে দেখেছি,

‘শত্রুর পক্ষ থেকে কোন ষড়যন্ত্র চলছে কিন্তু তাদের আক্রমনের পূর্বেই আমি সেটি বুঝতে পেরেছি। আর আমি তখন দোয়া পড়ছিলাম,

رب كل شيئ خادمك رب فاحفظني وانصرني وارحمني

{রব্বী কুল্লু শাইইন খাদিমুকা রব্বী ফাহ্ফাযনীওয়ান সূরনী ওয়ারহামনী}

এ দোয়া পড়তে পড়তে আমার মনে হলো, আমার নিজের চেয়ে জামাতের জন্য আমার বেশি দোয়া করা উচিত আর জামাতকে এতে অন্তভূক্ত করা উচিৎ।’

এ বরাতে আমি জামাতের বন্ধুদেরকে আহবান করছি আপনারা অন্যান্য দোয়ার পাশাপাশি এ দোয়াটিও পাঠ করুন। আল্লাহ্ তা’লা জামাতকে শত্রুর সকল অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখুন। সার্বিকভাবে জামাতের হেফাযত করুন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে আশ্বস্ত করার জন্য আল্লাহ্ তা’লা ইলহাম করেছেন এবং রুইয়া ও সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে তা বর্ণিত আছে। আল্লাহ্ তা’লা তাঁকে বলেন,

‘আমি সকল ক্ষেত্রে তোমার সাথে থাকবো আর সকল ময়দানে রুহুল কুদ্দুস দ্বারা তোমায় সাহায্য করবো।’

আরেকটি ইলহামে বলেন,

‘আলা ইন্না আউলিয়াল্লাহে লা খওফুন আলাইহীম ওয়ালাহুম ইয়াহযানুন’

অর্থ: সাবধাণ! নিশ্চয় যারা খোদার নৈকট্যপ্রাপ্ত তাদের কোন ভয় নেই আর তারা দু:খিতও হবে না।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন, খোদা তা’লা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে,

‘তোমার বিরুদ্ধে দন্ডায়মান প্রত্যেক ব্যক্তি পরাস্ত হবে’।

তিনি (আ:) অন্যত্র বলেন,

‘আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন, আমার প্রিয়, সে আমার অতি নিকটে কিন্তু বিরুদ্ধবাদীরা তা দেখে না, তারা তোমাকে হত্যা করতে চায় কিন্তু আল্লাহ্ তোমার হেফাযত করবেন এবং তোমার নিরাপত্তা বিধান করবেন। আমি তোমার তত্ত্বাবধানকারী, খোদা তা’লার অনুগ্রহ তোমার হেফাযত করবে।’

হুযূর বলেন, আরেকটি আরবী ইলহামের অনুবাদ পড়ে শুনাচ্ছি:

‘বিরুদ্ধবাদীরা খোদা তা’লার নূরকে নির্বাপিত করতে চায়! তুমি বলো, খোদা তা’লা স্বয়ং সেই নূরের হেফাযত করবেন। খোদা তা’লার বিশেষ দৃষ্টি তোমার তত্বাবধান করবে। আমরাই তাঁকে নাযেল করেছি আর আমরাই তার হেফাযত করবো। আল্লাহ্ সবশ্রেষ্ট রক্ষাকর্তা। তিনি সবচেয়ে বড় দয়ালু। তারা তোমাকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করবে কিন্তু কাফেরদের সর্দারকে তুমি ভয় করো না কেননা, বিজয় তোমারই; যুক্তি-প্রমাণ এবং কবুলিয়াত ও কল্যাণের দিক থেকে তুমিই জয়যুক্ত হবে। আল্লাহ্ তা’লা সকল ক্ষেত্রে তোমাকে সাহায্য করবেন অর্থাৎ ধর্মীয় বিতর্ক ও মুনাযেরায় তুমিই সফল হবে। তিনি সত্য এবং মিথ্যার মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্য করবেন। আল্লাহ্ তা’লা লিখে রেখেছেন যে, আমি এবং আমার রসূল অবশ্যই জয়যুক্ত হবো। কেউ খোদা তা’লার কথা পরিবর্তন করতে পারে না। আমি নিজ সন্নিধান থেকে তোমায় সাহায্য করবো। আমি তোমার দু:খ-কষ্ট দূর করবো। তোমার খোদা সর্বশক্তিমান।’

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর নবুয়ত প্রাপ্তীর পরের অগণিত ঘটনা আছে কিন্তু পূর্বেও আল্লাহ্ তা’লা বিভিন্ন সময়ে তাঁর সাথে থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছেন আর বারংবার তাঁর ভয়-ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তন করেছেন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘আমার পিতা মির্যা গোলাম মর্তুজা সাহেবের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে আল্লাহ্ তা’লা আমাকে বলেন, ‘ওয়াস্ সামায়ে ওয়াত্বারেক্ব’ অর্থ: আকাশের কসম এবং সেই দুর্ঘটনার কসম! যা সুর্যাস্তের পর প্রকাশিত হবে। তাঁর জীবনের সাথে যেহেতু আমাদের জীবিকার সম্পর্ক ছিল তাই মানবীয় দুর্বলতার কারণে চিন্তা হলো যে, তাঁর মৃত্যুর ফলে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তার মৃত্যুর সাথেই আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে এ চিন্তা মাথায় আসা মাত্রই ইলহাম হলো, ‘আলাই সাল্লাহ্ বিকাফিন আবদাহু’ অর্থ: ‘আল্লাহ্ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নয়’। এরপর এ চিন্তা আমার মাথা থেকে এভাবে অপসৃত হলো যেভাবে দিনের আগমনে অন্ধকার দূরীভূত হয়। ইলহাম মোতাবেক সেদিন সুর্যাস্তের পর আমার পিতা ইন্তেকাল করেন। এবং ‘আলাই সাল্লাহ্ বিকাফিন আবদাহু’ সম্পর্কীত ইলহামটি অনেককে ঘটনা ঘটার পূর্বেই শুনানো হয়েছে। লালা শরমপত এবং কাদিয়ানের আরো অনেককেই শুনানো হয়েছে এবং তারা কসম খেয়ে তা বলতে পারবে। মির্যা সাহেবের (মির্যা গোলাম মর্তুযা) মুত্যুর পর সেই ইলহামী বাক্য লালা মালাওয়ামাল এর হাতে একটি আংটিতে খোদায়ের জন্য পাঠানো হয় যে কাজের জন্য সচরাচর অমৃতসর যেত।’

এটি সেই আংটি যা উত্তরাধিকার সূত্রে খলীফাগণ পেয়ে আসছেন। এখন পর্যন্ত সেই আংটি আমার হাতে আছে।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) সাঁতার কাটা এবং ঘোড়ায় চড়া পছন্দ করতেন। একবার দৈবক্রমে তিনি একটি ঘোড়ায় চড়ে বসেন যা দুর্ভাগ্যক্রমে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। ঘোড়াটি দিগ্বিদিক ছুটে যেতে থাকে আর এক পর্যায়ে সজোরে একটি দেয়ালের সাথে নিজের মাথা আঘাত করে ফলে মাথা ফেটে ঘটনাস্থলেই ঘোড়াটি মারা যায় কিন্তু অলৌকিকভাবে তিনি (আ:) প্রাণে বেঁচে যান।

হযরত খলীফাতুল মসীহ্ সানী (রা:) বলেন,

একবার একজন খৃষ্টান মৌলভী সানাউল্লাহ্ অমৃতসরীর বক্তৃতা শুনে উত্তেজিত হয় এবং আমাকে মারার উদ্দেশ্যে কাদিয়ান আসে আমি তখন কাদিয়ানের পাশ্ববর্তী ফেরোচিচি গ্রামে অবস্থান করছিলাম। সে সেখানে পৌঁছে কিন্তু দেখতে পায় যে, আমার এক সাথী সেখানে দাঁড়িয়ে নিজের বন্দুক পরিস্কার করছেন যা দেখে সে মনে মনে ভাবলো পরিস্থিতি অনুকূল নয় তাই পরে মারার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাথে আনা পিস্তল সহ আপন গৃহে ফিরে যায় সেখা��ে গিয়ে স্ত্রীর নামে এমন কিছু কথা শুনতে পায় যা শুনে সে হিতা���ি���জ্ঞান শূন্য হয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে আর এভাবে সেই নোংরা ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয় বরং সে ব্যক্তী স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হয়।

হুযূর বলেন, খোদা তা’লা কেবল তাঁর মনোনীত নবীদেরকেই নিরাপত্তা দেন তা কিন্তু নয় তিনি নবীর জামাতের নিষ্ঠাবান সদস্যদেরও নিরাপত্তা বিধান করেন। আর এ ব্যাপারে জামাতে আহ্‌মদীয়ার ইতিহাসে অসংখ্য ঘটনা রয়েছে।

হুযূর বলেন, ফিজিতে যখন জামাতের মিশন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছিল তখন সেখানকার বিরোধীরা জামাতের কর্মকান্ড প্রতিহত করার জন্য সব ধরনের অপচেষ্টা চালায়। মিশন হাউসের এক কক্ষে আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয় কিন্তু তেমন কোন ক্ষতি হবার পূর্বেই আগুন নেভানো হয়। সেই আগুনে পোড়া কক্ষে দাড়িয়ে আমাদের একজন মুবাল্লেগ নূরুল হক আনোয়ার সাহেব একান্ত দু:খের সাথে দোয়া করেন, যে বিরুদ্ধবাদী ইসলাম প্রচারের কেন্দ্র আগুনে পোড়ানোর চেষ্টা করেছে তার ঘর যেন আগুনে পুড়ে ছাই হয়। এর কয়েকদিন পর জামাতের কট্টর বিরোধী নেতা আবু বকর কোইয়ার ঘরে আগুন লাগে এবং সম্ভাব্য সকল চেষ্টা সত্বেও আগুন আয়ত্বে আনা সম্ভব হয়নি এবং তার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আল্লাহ্ তা’লা মুহাইমেন বৈশিষ্ট্যের অধীনে তাঁর বান্দাদের সর্বদা হেফাযত করেন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন:

‘এ বিষয়ের প্রমাণ উপস্থাপনের কোন প্রয়োজন নেই যে, মানুষ তার অস্থায়ী জীবনে বিভিন্ন বিপদ-আপদ থেকে বাঁচার জন্য কত সাহায্যের মুখাপেক্ষী। তাই ব্যক্তিগতভাবেও বিপদাপদ থেকে বাঁচার জন্য দোয়া করা উচিৎ। মানুষের অপকর্মের ফলে যে সমস্যা ও বিপদাপদ আসে তা থেকে সে যদি বাঁচতে চায় তাহলে সত্যিকার তওবার মাধ্যমেই তা সম্ভব। তওবার কল্যাণসমূহের একটি হচ্ছে, খোদা তার হাফেয ও রক্ষাকর্তা হয়ে যান, তার সকল বিপদাবলী দূর করে দেন এবং শত্রুর পাতানো সকল ষড়যন্ত্র থেকে তাকে রক্ষা করেন। এবং খোদা তা’লা তাঁর বিশেষ বান্দাদের জন্য করুণা ও আশিস বর্ষণ করেন। যে ব্যক্তি খোদার দিকে আসে এবং তার আদেশ নিষেধের উপর অনুশীলন করে সে এমন যে, খোদার কাছে তওবা করেছে। আল্লাহ্ তা’লা প্রত্যেক সত্য তওবাকারীকে সকল বিপদাবলী থেকে রক্ষা করেন এবং তাদেরকে ভালবাসেন। সুতরাং তওবা এবং ঈমানে সমৃদ্ধ হওয়া এবং ঈমানকে পরিপূর্ণ করা এবং আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক বন্ধনে যারা দৃঢ় হন তারা সবাই এ দৃশ্য দেখতে পান।’

আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এই দর্শন বুঝার তৌফিক দিন এবং আমাদের প্রত্যেককে খোদা তা’লা বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে আবৃত রাখুন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে