In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

জুমুআর নামাযের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর পবিত্র কুরআনের সূরা আল্ জুমুআর নিম্নোক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا قُلْ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ اللَّهْوِ وَمِنَ التِّجَارَةِ وَاللَّهُ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

অর্থ: ‘হে যারা ঈমান এনেছো! যখন তোমাদেরকে জুমুআর দিনে নামাযের জন্য আহবান করা হয় তখন আল্লাহ্‌র স্মরণের জন্য দ্রুত আসো এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানতে। অতঃপর যখন নামায শেষ হয়ে যায় তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহ্‌র ফযল অন্বেষণ করো; এবং আল্লাহ্‌কে বেশি বেশি স্মরণ করো যেন তোমরা সফলকাম হও। এবং যখন তারা কোন ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা আমোদ-প্রমোদ দেখতে পায়, তখন তারা তোমাকে একা দন্ডায়মান অবস্থায় ছেড়ে সেদিকে ছুটে যায়। তুমি বলো, যা আল্লাহ্‌র নিকট আছে তা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আমোদ-প্রমোদ হতে উৎকৃষ্টতর, বস্তুতঃ আল্লাহ্ রিয্‌কদাতাদের মধ্যে সর্বোত্তম।’ (সূরা আল্ জুমুআ: ১০-১২)

হুযূর বলেন, যে আয়াতগুলো আমি তেলাওয়াত করেছি তাতে জুমুআর গুরুত্ব সুস্পষ্ট। কথা হলো, পবিত্র কুরআনে যেখানে নামাযের গুরুত্ব, সময় মতো নামায পড়া, যথারীতি নামায আদায় করা, নামাযের পূর্বে বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব, বা-জামাত নামাযের গুরুত্ব এবং মসজিদে এসে নামায পড়ার গুরুত্বের কথা সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে তারপর আবার কেন জুমুআর নামাযের ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হলো? নিশ্চয় খোদার দৃষ্টিতে এর বিশেষ মূল্য রয়েছে।

হুযুর বলেন, রমযানের সূচনাতে আমি বলেছি যে, জুমুআর দিন এমন এক বিশেষ মুহুর্ত আসে যখন মানুষের দোয়া গৃহীত হয়। আমি আশা করব সকলেই এই দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে রমযান থেকে যথাসাথ্য লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেছেন। অনেকে রমযানের এই শেষ জুমুআকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে অথচ সকল জুমুআকেই ইসলাম সমান গুরুত্ব দিয়েছে। অতএব এটি সত্য যে, জুমুআর দিনে খোদার নৈকট্য লাভের জন্য বিশেষ সুযোগ আসে, কিন্তু সেই জুমুআ যদি হয় রমযানের জুমুআ তাহলেতো সোনায় সোহাগা অর্থাৎ খোদার নৈকট্য লাভের সত্যিই অপূর্ব সুযোগ। জুমুআর কল্যাণে আল্লাহ্ তা’লা দিনেও দোয়া কবুল করেন আর রাতেও; তাই আমাদের এ সুযোগকে বেশী বেশী কাজে লাগানো উচিত।

হাদীসে মহানবী (সা:) বলেছেন,

‘জুমুআর দিনে খোদা তা’লা নেকী বা পুণ্যের প্রতিদান কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন।’

আরেক হাদীসে বলা হয়েছে,

‘জুমুআর দিনে ফিরিশতা মসজিদের দ্বারে দাঁড়িয়ে যায় এবং মসজিদে সর্বপ্রথম আগমনকারীকে তালিকার শীর্ষে স্থান দেয় এবং তার দৃষ্টান্ত এমন ব্যক্তির ন্যায় যে উট কুরবানী করেছেন। এরপর যিনি আসেন তিনি সেই ব্যক্তির মতো যিনি গাভী কুরবানী করেন। তারপর আগমনকারীগণ যথাক্রমে ছাগল, মুরগী এবং ডিম কুরবানীকারীর মত। ইমাম যখন মিম্বরে দাঁড়িয়ে যান তখন ফিরিশ্তা নিজের রেজিস্টার বন্ধ করে যিক্‌র শোনা আরম্ভ করে।’

আরেক হাদীসে এসেছে,

‘খোদার দৃষ্টিতে সর্বোৎকৃষ্ট দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। সর্বোৎকৃষ্ট মাস হচ্ছে রমযান মাস এবং সর্বোৎকৃষ্ট রাত হচ্ছে লাইলাতুল কদর।’

অন্য একটি হাদীসে মহানবী (সা:) বলেছেন,

‘জুমুআর দিন হচ্ছে অন্যান্য দিনের সর্দার বা রাজা আর আল্লাহ্‌র দৃষ্টিতে সবচেয়ে মহান দিন। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার চেয়েও এ দিনের মাহাত্ব্য বেশি। এ দিনের পাঁচটি অনুপম বৈশিষ্ট্য রয়েছে, প্রধানত: এদিন আল্লাহ্ তা’লা হযরত আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এদিন আল্লাহ্ তা’লা হযরত আদমকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ করেছেন, এদিনে আল্লাহ্ তা’লা হযরত আদমকে মৃত্যু দিয়েছেন, আর এদিনে এমন একটি মুহুর্ত আছে যখন বান্দা হারাম জিনিষ ছাড়া যা কিছু চাইবে তিনি তাকে তা দান করবেন এবং এদিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। আল্লাহ্‌র নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতা, আসমান, যমীন, বাতাস, পাহাড় এবং সমুদ্র এদিনের নাম শুনে ভয়ে কম্পমান থাকে।’

হুযূর বলেন, যে হাদীস আমি পাঠ করেছি তাতে মহানবী (সা:) বলেছেন,

‘জুমুআর দিনে খোদা তা’লা নেকী বা পুণ্যের প্রতিদান কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেন।’

প্রতিদান বাড়িয়ে দেয়ার কারণ হচ্ছে এতায়াত বা আনুগত্য। খোদার নির্দেশ পালন করার জন্য মানুষ সকল আমোদ-প্রমোদ পরিত্যাগ করে খোদার ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে সমবেত হয়। যোহরের নামাযের সময় জুম’আর নামায আদায় করা হলেও এই নামায যোহরের তুলনায় দীর্ঘ হয়ে থাকে। জুমুআর খুতবার কারণে সময় বেশি লাগে, মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কাজ-কর্ম ছেড়ে নামাযে আসে খোদার নির্দেশ পালনার্থে; তাই খোদা তাদের ত্যাগের প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।

আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ

অর্থ: ‘এবং যারা আল্লাহ্ ও তা��র রসূলের আনুগত্য করে এবং আল্লাহ্‌কে ভয় করে আর ত্বাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই কৃতকার্য হয়।’ (সূরা আন্ নূর: ৫৩)

সাধারণ অবস্থায় যারা খোদার আনু�����্য করে তারাও সফলকাম হয় কিন্তু যারা খোদার স্মরণের জন্য কেবল খোদা��� খাতিরে নিজেদের বাহ্যিক ক্ষতি স্বীকার করে জুমুআর নামাযে আসেন খোদা তা’লা তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন,

ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ

অর্থাৎ: ‘এটি তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানতে।’

যারা খোদাকে ভালবাসে, সব কিছুর উপর তাঁর নির্দেশকে প্রাধান্য দেয় তারাই কল্যাণ প্রাপ্ত। যদি তোমরা জানতে, জুমুআর নামাযের গুরুত্ব কত অপরিসীম তাহলে তোমরা কেবল শেষ জুমুআর জন্য অপেক্ষা করতে না বরং জুম্’ুআর দিন সর্ব প্রথম মসজিদে আসতে আর একান্তই না পারলে ফিরিশ্তার খাতা বন্ধ করার পূর্বে আসতে। যিকরে এলাহী এবং জুমুআর নামাযের ব্যাপারে আহ্‌মদীদের হৃদয়ে একটি বিশেষ গুরুত্ব থাকা উচিৎ কেননা আখারীনদেরকে পূর্বর্তীদের সাথে মিলিত করার ক্ষেত্রে এ দিনের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আর এ সময় শয়তান আমাদেরকে সেসব পুণ্যকর্ম থেকে দূরে রাখতে চায় যা খোদার নৈকট্যের কারণ।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) জুমুআর গুরুত্ব সম্বন্ধে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন,

‘আমি সত্য সত্যই বলছি, এটি একটি অনুষ্ঠান বা উৎসব আল্লাহ্ তা’লা সৌভাগ্যবানদের জন্য যার আয়োজন করেছেন। সে আশিস মন্ডিত যে এত্থেকে পান করবে। তোমরা যারা আমার সাথে সম্পর্ক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছো, এটি নিয়ে গর্ব করবে না যে, তোমাদের যা পাবার তা তোমরা পেয়ে গেছো। এটি সত্য কথা যে, তোমরা অমান্যকারীদের তুলনায় সৌভাগ্যবান এবং খোদার নৈকট্যপ্রাপ্ত, কেননা তারা চরম বিরোধিতা এবং অস্বীকার করে খোদাকে অসন্তুষ্ট করেছে। আর একথাও সত্য যে, তোমরা সুধারণা বশে খোদা তা’লার আযাব বা ক্রোধ থেকে নিজেদেরকে রক্ষার ব্যবস্থা করেছো। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমরা এ প্রস্রবনের নিকটে এসে পৌঁছেছো যা এখন খোদা তা’লা অনন্ত জীবন লাভের জন্য সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু পানি পান করা এখনও বাকী আছে। খোদার ফযল ও অনুগ্রহ কামনা করো যাতে তিনি তোমাদেরকে পরিতৃপ্ত করেন কেননা আল্লাহ্‌র সাহায্য ছাড়া কিছু লাভ করা সম্ভব নয়। আমি নিশ্চিত জানি, যে ব্যক্তি এ প্রস্রবন থেকে পান করবে সে ধ্বংস হবে না। কেননা এ পানি প্রাণ সঞ্জিবনী আর ধ্বংস থেকে রক্ষা করে এবং শয়তানের আক্রমন থেকে নিরাপত্তা দান করে। এ প্রস্রবন থেকে পান করার উপায় কি? উপায় হচ্ছে, খোদা তা’লা যে দু’টি অধিকার প্রদানের দায়িত্ব তোমাদের উপর অর্পণ করেছেন তা পালন করো এবং যথাযথভাবে পালন করো। এর একটি হচ্ছে, খোদার অধিকার আর দ্বিতীটি হলো বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা।’

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর যুগে যদি তিনি তাঁর মান্যকারী সাথীদেরকে উপদেশ দিতে গিয়ে একথাগুলো বলেন; যারা সরাসরি তাঁর তত্বাবধানে শিক্ষা লাভ করেছেন তাহলে আজ আমাদেরকে কত সচেতনতার সাথে এর প্রতি দৃষ্টি দেয়া উচিৎ!

হুযূর বলেন, এ জুমুআ একটি মহান জুমুআ যা আমরা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে মান্য করার বদৌলতে পেয়েছি। তাই একে মূল্যায়ন করতে হবে। শুধু রমযানেই নয় বরং সর্বদা খোদা এবং বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করুন আর এ কাজকে জীবনের স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত করুন। রমযানে ‘ইন্নি সায়েমুন’ বলে যে বদভ্যাস, ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন এবং ইবাদতের একটি অনুপম অভ্যাস গড়ে তুলছেন তা লালন করুন। আল্লাহ্ তা’লা সবাইকে ভবিষ্যতে আগত সকল জুমুআর কল্যাণদ্বারা আশিসমন্ডিত করুন।

হুযূর বলেন, হাদীস অনুসারে জুমুআর দিন হচ্ছে সর্বোত্তম দিন। আজ জুমুআর দিন এবং রমযানের শেষ দশকের পঞ্চম দিন অতিক্রান্ত হচ্ছে। অল্প কিছু সময় মাত্র বাকী আছে; এ সময় খোদার ভালবাসা পাবার বাসনায় ইবাদত ও দোয়ায় আত্ম নিয়োগ করুন আর অন্যায় থেকে মুক্ত হোন এবং খোদা ও তাঁর বান্দার অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে সবিশেষ যত্নবান হোন। এদিনগুলোতে এত বেশি কল্যাণ লাভের চেষ্টা করুন যদ্বারা আগামী রমযান আসা পর্যন্ত লাভবান হতে পারেন। সর্বোত্তম রাত হচ্ছে ‘লাইলাতুল কদর’এর রাত। হাদীস অনুযায়ী রমযানের শেষ দশকে রয়েছে এ রাত। আবার কোন কোন হাদীসে এসেছে শেষ সাত দিনে আবার কোন হাদীসে বলা হয়েছে শেষ দশকের বেজোড় রাতে রয়েছে ‘লাইলাতুল কদর’। তাই আপনারা অবশিষ্ঠ রাতগুলো ইবাদত, দোয়া আর খোদার স্মরণে অতিবাহিত করুন। কেননা এ রাতগুলো দোয়া কবুল হবার রাত।

হুযূর বলেন, ‘পবিত্র কুরআনে সূরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ এর উল্লেখ রয়েছে। ‘লাইলাতুল কদর’ সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর কথা আমি নিজের ভাষায় তুলে ধরছি:

‘একটি ‘লাইলাতুল কদর’ হচ্ছে তা যা রাতের শেষাংশে এসে থাকে তখন আল্লাহ্ তা’লা আপন সত্ত্বার বিকাশ ঘটান এবং বলেন, কোন দোয়া বা ক্ষমাপ্রত্যাশী আছে কি? যার প্রার্থনা গ্রহণের জন্য এখন আমি প্রস্তুত! কিন্তু ‘লাইলাতুল কদর’এর আরেকটি অর্থ আছে আর তাহলো, এ রাতে আল্লাহ্ কুরআন নাযেল করেছেন যা অন্ধকার ঘন রাত ছিলো। এ রাত একজন সংস্কারকের অপেক্ষায় ছিলো।’

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) এর ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে,

‘মহানবী (সা:) এবং পবিত্র কুরআন যে যুগে অবতীর্ণ হয়েছে সে যুগই হলো ‘লাইলাতুল কদর’ আর এযুগ কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে।’ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ অর্থ: ‘নিশ্চয় আমরা একে লাইলাতুল কদরে নাযেল করেছি।’ এটি একটি ব্যাপক বিষয়।

হুযূর বলেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর বক্তব্যের প্রথমাংশের উপর আমি কিছুটা বলতে চাই অর্থাৎ এমন রাত যখন খোদা মানুষের দোয়া এবং ইস্তেগফার কবুল করার জন্য আপন হস্ত প্রসারিত করেন। আমাদের এ রাতের সন্ধানে থাকা উচিত। ‘লাইলাতুল কদর’ আমাদের জন্য তখনই ফল বয়ে আনবে যখন আমরা আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য অনুধাবনে সচেষ্ট হবো এবং আমাদের মন ও মননে ইবাদতের একটি স্পৃহা জন্ম নিবে।

আল্লাহ্ বলেছেন,

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ

অর্থ: ‘অতঃপর যখন নামায শেষ হয়ে যায় তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহ্‌র ফযল অন্বেষণ করো’।

জুমুআর নামাযের পর বৈধ কাজ করো যেন খোদার ফযলকে আকৃষ্ট করতে পারো। সেসব হাজীদের মতো হয়ো না যারা বাহ্যিক হজ্জ্ব করে, তবসবীহ্ জপতে থাকে কিন্তু তাদের আয়ের উৎস হচ্ছে অবৈধ। খোদাকে খোদার নির্দেশিত পদ্ধতিতে স্মরণ করো। আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

অর্থ: ‘এবং যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং নিজেদের পার্শ¦দেশে শুয়ে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে এবং আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃজনের বিষয়ে চিন্তা করে এবং বলে, হে আমাদের প্রভু! তুমি এসব বৃথা সৃষ্টি করো নি। তুমি পবিত্র, সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করো।’ (সূরা আল্ ইমরান: ১৯২)

যারা সর্বদা খোদাকে দৃষ্টিপটে রাখে। পৃথিবী ও আকাশমন্ডলের মালিক সর্বাধিপতি খোদাকেই মানে। তাদের বিশ্বাস হলো, সবকিছু খোদার অনুগ্রহেই লাভ হয় তাই খোদাকে ছেড়ে মানুষ কোথায় যাবে? কেউ যদি নিজ ব্যবসা-বাণিজ্যকে বড় মনে করে তাহলে সে শির্‌ক করবে; আর খোদা তা’লা বলেন, আমি বান্দার সকল অপরাধ ক্ষমা করবো কিন্তু যে আমার সাথে শরীক করবে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। মনে রাখবেন, খোদার কৃপাই আমাদেরকে ধন্য করতে পারে। আমাদের একান্ত বিনয়ের সাথে দোয়া করা উচিৎ, হে খোদা! আমরা যেন সবসময় তোমাকে স্মরণ করতে পারি আর তোমার সাথে কাউকে যেন শরীক না করি। ইহ ও পরকালে যেন তোমার নৈকট্য পাই এবং আমরা যেন লাঞ্ছিত না হই। তোমার দয়াই আমাদেরকে এমন অন্যায় ও মন্দকর্ম থেকে বিরত রাখতে পারে��

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেছেন,

‘উলুল আলবাব’ ত��রা যারা সর্বদ��� উঠতে বসতে খোদাকে স্মরণ করে।

হুযূর বলেন, আমাদেরকে সাহাবাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। তাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন কিন্তু এক মূহুর্তের তরেও খোদাকে ভুলেন নি। যৎসামান্য পূঁজি নিয়ে ব্যবসা আরম্ভ করেছেন আর ধীরে ধীরে খোদার কৃপায় প্রভূত সম্পদের অধিকারী হয়েছেন।

َاللَّهُ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

অর্থ: ‘বস্তুতঃ আল্লাহ্ রিয্‌কদাতাদের মধ্যে সর্বোত্তম।’

হুযূর বলেন, অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারার কারণে সর্বস্ব হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে যায়। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। কারো সম্পদ ও অর্থের কোন নিশ্চয়তা নেই কিন্তু খোদা তা’লা স্বীয় বান্দাদের জন্য নিশ্চয়তা দিচ্ছেন যে, যারা আমার হবে আমি তাদের জন্য সর্বোত্তম রিয্‌ক’এর নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

সবশেষে হুযূর বলেন, হাদীসে এসেছে,

‘যে অলসতার কারণে এক নাগাড়ে তিনটি জুমুআ পরিত্যাগ করে খোদা তা’লা তার হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।’

খোদা তা’লা আমাদেরকে শয়তানের আক্রমন থেকে রক্ষা করুন এবং সর্বদা তার দয়ার চাদরে আবৃত রাখুন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে