In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

তওবা ও ইস্তেগফারের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, রোযা দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে যেন কাল শুরু হয়েছে অথচ বর্তমানে আমরা রমযানের দ্বিতীয় দশকও যেন অতিক্রান্ত হয়ে গেল, আর দু-তিন দিন পরেই শেষ দশক আরম্ভ হবে। তাই আজ দ্বিতীয় দশক এবং শেষ দশক সম্পর্কে কিছু বলবো। হাদীসে এসেছে:-

هُوَ شَهْرٌ أَوَّلُهُ رَحْمَةٌ، وَأَوْسَطُهُ مَغْفِرَةٌ، وَآخِرُهُ عِتْقٌ مِنَ النَّارِ

(উচ্চারণঃ হুয়া শাহরুন আউয়ালুহু রহমাতুন ওয়া আওসাতুহু মাগফিরাতুন ওয়া আখিরুহু ইতকুম্ মিনান্ নার)

অর্থ: ‘এ মাসের প্রথম দশক রহমত, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাত এবং শেষ দশক নাজাত বা আগুন থেকে মুক্তির।’

হুযূর বলেন, এ মাস ক্ষমা ও দোয়ার মাস। এ মাসে প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানের উচিৎ খোদার কাছে বেশি বেশি দোয়া করা আর ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ্ তা’লা স্বয়ং এবং তাঁর নবীরাও ইসতেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করার প্রতি মু’মিনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে যেখানে আমাদেরকে وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ (উচ্চারণঃ ওয়াসতাগফিরুল্লাহা) পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন সেখানেই বলেছেন, إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ (উচ্চারণঃ ইন্নাল্লাহা গাফুরুরর রাহীম) তোমরা জেনে রাখো নিশ্চয় আল্লাহ্ অতীব ক্ষমাশীল পরম দয়াময়; তাই আমাদের উচিৎ এ দশকে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন:

‘পবিত্র কুরআনে খোদা তা’লা বলেছেন, আমার ব্যাপারে তোমরা নিরাশ হবে না। আমি রহীম, করীম, সাত্তার ও গাফ্‌ফার। নিজের পিতার চেয়েও আমাকে বেশি ভালবাস কেননা আমি তোমাদেরকে তাদের চেয়েও বেশি ভালবাসি। যদি তোমরা আমার কাছে আস, আমি তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করবো। তওবা করো, আমি তা গ্রহণ করবো। ধীর পদক্ষেপে আমার দিকে অগ্রসর হলে আমি তোমার পানে দৌড়ে আসবো। যে আমাকে সন্ধান করবে সে আমাকে পাবে, আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি বিনত হবে তার জন্য আমার দ্বার উম্মুক্ত থাকবে। আমি তওবাকারীদের পাপ পর্বত প্রমাণ হলেও ক্ষমা করে দেই।’

হুযূর বলেন, এখানে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) যা বলেছেন আমরা যদি সে মোতাবেক কাজ করি তাহলে পবিত্র রমযান আমাদের জন্য যে আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে এসেছে তা থেকে আমরা কল্যাণমন্ডিত হতে পারবো। সুতরাং আমাদের মধ্যে সৌভাগ্যবান তারা, যারা এ দিনগুলোতে লাভবান ও কল্যাণমন্ডিত হবার মানসে ইবাদত করেছে আর খোদার নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় তাঁর শিখানো পদ্ধতিতে ক্ষমা প্রার্থনা করছে। হুযুর বলেন, নিরাশ হবার কিছু নেই! যারা শৈথিল্য প্রদর্শন করেছেন তাদের জন্য এখনও সময় আছে। রমযানের অবশিষ্ট দিনগুলোতে খোদার ভালবাসা পাবার বিষয়ে যত্নবান হোন।

যারা খোদার কাছে তাঁর পথে চলার আকাংখা করেন তারাও সে পথের দিশা পাবেন। আল্লাহ্ তা’লা সব সময়ই বান্দার তওবা কবুল করেন তবে রমযানে বেশি বেশি তওবা কবুল করেন। পবিত্র কুরআনে তিনি বলেন,

لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا

অর্থ: তারা নিশ্চয় আল্লাহ্‌কে তওবা গ্রহণকারী এবং পরম দয়ালু হিসেবে পেত।’ (সূরা আন্ নিসা: ৬৫)

আল্লাহ্ বলেন, আমি মানুষকে ক্ষমা করি, তাদেরকে আমার দয়ার চাদরে আবৃত করি তারপরও মানুষ আমার কাছে ক্ষমা চায় না। অনেকে বলে, খোদা মানুষের দোয়া এবং তওবা কবুল করেন না। তাদের কথা ভুল। খোদা মানুষের প্রার্থনা শুনেন, মানুষকে ক্ষমা করেন এবং পাপমুক্ত হতে সাহায্য করেন। পবিত্র কুরআনে যেখানে রোযা’র কথা বর্ণিত হয়েছে সেখানে স্বয়ং খোদা বলেছেন, إِنِّي قَرِيبٌ অর্থাৎ আমি তোমাদের নিকটেই আছি। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেছেন,

‘যারা খোদার দিকে হেঁটে আসে খোদা তাদের প্রতি দৌড়ে আসেন।’

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ স্বয়ং ঘোষণা করেছেন,

وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا

অর্থ: ‘এবং যারা আমাদের সাথে মিলিত হবার বাসনায় চেষ্টা-সাধনা করে, নিশ্চয় আমরা তাদেরকে আমাদের নিকটে আসার পথসমূহ প্রদর্শন করবো।’ (সূরা আন্‌কাবূত: ৭০)

ইস্তেগফার খোদাকে লাভ করার মাধ্যম। ইস্তেগফার কি? মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘নিছক মৌখিকভাবে ইস্তেগফার শব্দ উচ্চারণে কোন কাজ হবে না। বরং আন্তরিকভাবে ইস্তেগফার করো যাতে আল্লাহ্ তা’লা পূর্বকৃত পাপসমূহ ক্ষমা করেন এবং ভবিষ্যতে পাপ হতে রক্ষা করেন আর সৎকর্মের তৌফিক দেন।’

বাহ্যিকভাবে মানুষের রোগ-ব্যাধি দূর হয়না যদিনা সঠিকভাবে ঔষধ-পথ্য সেবন করা হয়; অনুরূপভাবে আধ্যাত্মিক ব্যাধিও ততক্ষণ পর্যন্ত দূর হয়না যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ সত্যিকার ইস্তেগফার ও তওবা না করে। তওবার অর্থ কেবল পাপ মুক্ত হওয়াই নয় বরং এ অঙ্গীকার করা যে, ভবিষ্যতে সকল প্রকার পাপ থেকে বিরত থাকবো। বছরে পাপ থেকে মুক্ত হবার জন্য রমযানে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণের বিধান রেখেছেন খোদা তা’লা।

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত, হাদীস এবং হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর লেখনীর আলোকে হুযূর তওবা ও ইস্তেগফারের গুরুত্ব এবং কিভাবে খোদার ভালবাসা লাভে মানুষ ধন্য হতে পারে তা সবিস্তারে আলোকপাত করেন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

তওবা গৃহীত হবার জন্য তিনটি জিনিস একান্ত আবশ্যক আর তা হচ্ছে: (১) প্রথমে তোমাদের চিন্তা-ভাবনা পবিত্র করতে হবে। (২) যখন পাপের চিন্তায় মন আচ্ছন্ন তখন এ কলুষতা থেকে হৃদয়কে মুক্ত করার পাশাপাশি অনুশোচনা করতে হবে। মনে রাখত�� ��বে কেবল কবীরা গুনাহ্ই পাপ নয় বরং অন্যের অধিকার খর্ব �����রাও পাপ। (৩) দৃঢ় সংকল্প করা। দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে ইস্তেগফারের মাধ্যমে সকল পাপ পরিহার করা এবং নিজ সত্তাকে তাঁর নিকটতর করা এবং সময়োপযোগী সৎকর্ম দ্বারা পাপের আবেষ্টন থেকে নিজেকে মুক্ত করা।

হুযূর বলেন, বিশুদ্ধ তওবা তখনই হবে যখন পাপের প্রতি ঘৃণা জন্মাবে। তওবা শুধু মৌখিক নয়, বরং তওবার পূর্ণতা সৎকর্মের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যাবতীয় সৎকর্মই তওবার পূর্ণতার জন্য। যদি মনমানসিকতা এমন হয় যে, শুধু রমযানে পাপ পরিহার করবো এরপর রমযান শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকবো আর পুনরায় পুরোন অভ্যাসে মেতে উঠবো! এমনটি হলে তো ক্ষমা লাভ হবে না। খোদা তা’লা অন্তর্যামী, তাঁকে প্রতারিত করা যায় না। খোদা বলেন, তোমরা তওবাতুন নসূহা করো। উপরোক্ত তিনটি অবস্থা যদি নিজের ভেতর সৃষ্টি করতে পারেন তাহলে সত্যিকার তওবা করার সৌভাগ্য লাভ হবে। আর পাপ দূরীভূত হয়ে সেখানে পুণ্য জন্ম নিবে।

আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআন বলেন,

إِلَّا مَنْ تَابَ وَآَمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا

অর্থ: ‘সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে তওবা করে এবং ঈমান আনে আর পুণ্য কর্ম করে; এরা এমন মানুষ আল্লাহ্ যাদের মন্দ কর্মগুলিকে সুন্দর কর্মে বদলে দিবেন, বস্তুত: আল্লাহ্ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।’ (সূরা আল্ ফুরকান: ৭১)

অর্থাৎ প্রথমে চিন্তা-ভাবনা পবিত্র করার জন্য ইস্তেগফার করে শক্তি অর্জন করা তারপর সেই শক্তি ও সংকল্পকে খোদার ইচ্ছার অনুগত করা। মোটকথা, ইস্তেগফার একটি অস্ত্র যার মাধ্যমে শয়তানের মোকাবেলা করা যায় আর তওবা হলো সে অস্ত্রের ব্যবহার। যদি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে এটি করো তাহলে এ দশক ক্ষমার দশক হবে, কেবল এ দশকই নয় বরং পরের দশক, মাস এবং বছরের পর বছর ক্ষমা লাভ করতে থাকবে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘আল্লাহ্‌র প্রতি বান্দা বিনত হবে আর খোদা বান্দার প্রতি সদয় হবেন না এটি হতে পারে না। কোন বান্দা যদি খোদাকে পাবার বাসনায় তাঁর প্রতি অগ্রগামী হয় তাহলে খোদা তা’লা তাঁর প্রতি দ্রুত ধাবিত হন। খোদার একটি নাম হলো ‘তাওয়াব’ অর্থাৎ তিনি পুন:পুন: মানুষের তওবা গ্রহণকারী। বান্দা যদি অনুনয় বিনয় এবং আহাজারীর মাধ্যমে খোদার প্রতি সমর্পিত হয় তাহলে সে ক্ষমা পাবার আশা করতে পারে। যদি কোন ত্রুটি থেকে যায় তাহলে তার জন্য বান্দাই দায়ী কিন্তু খোদা সকল দোষ ত্রুটির ঊর্ধ্বে, তিনি তার বান্দার সম্বন্ধে গাফেল নন। তাই বান্দার উচিৎ খোদার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করা।’

আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَاللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْكُمْ

বস্তুত: আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টিপাত করতে চান।’ (সূরা আন্ নিসা:২৮)

হুযূর বলেন, যে কাজ খোদা তা’লা ভালবাসেন তা তিনি করবেন না এটি কি করে হতে পারে। সুতরাং এ মাস; যাতে ক্ষমা, দয়া ও রহমত বেশি বর্ষিত হচ্ছে তা থেকে লাভবান হবার সর্বাত্মক চেষ্টা করুন। আল্লাহ্ বলেন,

وَمَنْ تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهُ يَتُوبُ إِلَى اللَّهِ مَتَابًا

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি তওবা করে এবং সংকর্ম করে বস্তুত: সে পূর্ণরূপে আল্লাহ্‌র প্রতি বিনত হয়।’ (সূরা আল্ ফুর্কান: ৭২)

সত্যিকার তওবার শর্ত হচ্ছে সৎকর্ম। রমযানের মধ্যবর্তী দশদিন তখনই ক্ষমার আশারা হবে যখন আমরা আমাদের সকল কর্ম খোদার ইচ্ছাধীন করবো আর তাহলেই শেষ দশক আমাদের জন্য নাজাত বা মুক্তির বার্তা নিয়ে আসবে।

আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ

অর্থ: এবং আল্লাহ্ এমন নন যে, তিনি তাদেরকে আযাব দিবেন এমতাবস্থায় যে, তুমি তাদের মধ্যে রয়েছো এবং আল্লাহ্ এমনও নন যে, যখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে তখন তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন।’ (সূরা আল্ আনফাল: ৩৫)

এখানে আল্লাহ্ স্বয়ং ঘোষণা করছেন যে, যখন বান্দা ক্ষমা চায় তখন খোদা তাকে ক্ষমা করেন। মানুষ যখন অন্যের অধিকার প্রদান করে তখন তার নামায ও ইবাদতের হেফাযত হয় আর এর ফলে মানুষ অন্যান্য পুণ্যকর্ম করার তৌফিক পায়। হাদীসে এসেছে,

‘রোযার দিনে যদি কেউ তোমাদের সাথে ঝগড়া করে তাহলে তুমি বলবে, আমি রোযাদার। আমার জন্য নির্দেশ হচ্ছে, খোদার শিক্ষা মান্য করা আর খোদার নির্দেশ মোতাবেক জীবন যাপন করা।’

এমনটি যারা করবে তারা অবশ্যই জান্নাত পাবে। আমি যে হাদীস খুতবার শুরুতে পড়েছি তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,

‘রমযান মাস ধৈর্য্যরে মাস আর ধৈর্য্যরে প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত।’

হুযূর বলেন, যারা আল্লাহ্‌র অধিকার এবং বান্দার প্রাপ্য প্রদান করবে তাদের জন্য সৎকর্ম আবশ্যক। আর সৎকর্মশীলদের জন্য রয়েছে খোদা ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে জান্নাতের সুসংবাদ।

এ সাসে পাকিস্তান এবং অন্যান্য স্থানে নামধারী ইসলাম সেবক উগ্রপন্থীরা আহ্‌মদীদেরকে যুলুম ও নির্যাতনের লক্ষ্যে পরিণত করছে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেছেন,

‘কোন অবস্থাতেই ধৈর্য্যরে আঁচল পরিত্যাগ করবে না।’

সুতরাং এ মাসে ধৈর্য্য, দোয়া ও নফলের মাধ্যমে খোদার সন্তুষ্টির জান্নাতকে আকর্ষণ করো। ধৈর্য্যরে পুরষ্কার সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا

অর্থ: এবং যেহেতু তারা ধৈর্য্য ধারণ করেছে, তিনি তাদেরকে বিনিময়ে জান্নাত এবং রেশমী বস্ত্র দান করবেন।’ (সূরা আদ্ দাহ্‌র: ১৩)

আল্লাহ্ তা’লা সবাইকে পবিত্র রমযান বা আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের মাসে সঠিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং আমৃত্যু সেই শিক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার তৌফিক দিন।

খুতবার শেষাংশে হুযূর বলেন, গত খুতবায় জনাব শেখ সাঈদ আহমদ সাহেবের জন্য দোয়ার আবেদন করেছিলাম। সম্প্রতি করাচীতে উগ্রপন্থীরা তাকে গুলি করে গুরুতর আহত করে। দীর্ঘ ১২দিন তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে অবশেষে নিয়তির কাছে নতি স্বীকার করে গত ১৩ই সেপ্টেম্বর শাহাদত বরণ করেছেন। إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ তিনি একজন নিষ্ঠাবান ও তবলীগ প্রেমী আহ্‌মদী ছিলেন। মাত্র ৪২ বছরের একজন যুবক, গত বছরই বিয়ে করেছিলেন। তিনি যখন হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায় তখন তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছে। সামান্য চেতনা ফিরে এলে তাকে সন্তান লাভের সুসংবাদ জানানো হলে তিনি কোন কথা বলতে পারেন নি কিন্তু চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরেছে অঝোর ধারায়। শহীদ স্ত্রী-সন্তান এবং ৭২বছর বয়স্কা বৃদ্ধা মা রেখে গেছেন। দোয়া করুন খোদা যেন তার শোক সন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য্যরে সাথে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার তৌফিক দেন। জুমুআর নামায শেষে হুযূর এই বীর শহীদ এবং আরো দু’জন সিরিয়ান আহ্‌মদীর গায়েবানা জানাযার নামায পড়ান।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে