In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

পবিত্র রমযান এবং আমাদের করণীয়

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

৫ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ

অর্থ:-

হে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের উপর রোযা বিধিবদ্ধ করা হলো, যেরূপে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল যেন তোমরা ত্বাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।

হাতে গোনা কয়টি দিন মাত্র; কিন্তু তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় অথবা সফরে থাকে, তাহলে তাকে অন্য সময়ে এই সংখ্যা পূর্ণ করতে হবে, এবং যাদের পক্ষে এটি ক্ষমতাতীত, তাদের উপর ফিদিয়া-এক মিসকীনকে আহার্য দান করা। অতএব যে কেউ স্বেচ্ছায় পুর্ণকর্ম করবে, তা অবশ্যই তার জন্য উত্তম হবে। বস্তুত: যদি তোমরা জ্ঞানরাখ তাহলে জেনে রেখো যে, তোমাদের জন্য রোযা রাখাই কল্যাণকর।

রমযান সেই মাস যাতে পবিত্র কুরআন নাযেল করা হয়েছে যা মানবজাতির জন্য হেদায়াত স্বরূপ এবং হেদায়াত ও ফুরকান (সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী) বিষয়ক সুস্পষ্ট প্রমাণাদি স্বরূপ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাসকে পায়; সে যেন রোযা রাখে কিন্তু যে অসুস্থ্য বা সফরে থাকে তাকে অন্য দিনে গণনা পূর্ণ করতে হবে; আল্লাহ্ তোমাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ চান এবং তোমাদের জন্য কাঠিন্য চান না, এবং তোমরা গণনা পূর্ণ কর এবং আল্লাহ্‌র মহিমা কীর্তন কর এ জন্য যে, তিনি তোমাদেরকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

এবং যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বল), ‘আমি নিকটে আছি। আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনার উত্তর দেই যখন সে আমার কাছে প্রার্থনা করে। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে যাতে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়।’

(সূরা আল্‌ বাকারা: ১৮৪-১৮৭)

হুযূর বলেন, বর্তমানে আমরা রোযার মাস অতিক্রম করছি। যেসব আয়াত আমি পাঠ করেছি তা থেকে রমযানের গুরুত্ব সুস্পষ্ট। এই রোযা কোন উদ্দেশ্যহীন কর্ম নয় বরং আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ, ত্বাকওয়া অবলম্বন এবং সঠিক পথ প্রাপ্তির জন্য খোদার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য একটি বিশেষ আয়োজন। হাদীসে এসেছে রোযা ঢাল স্বরূপ। কেবল অভূক্ত না থেকে যদি মানুষ সত্যিকারেই রোযা রাখে আর তার সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যদি রোযায় অংশ নেয় তাহলে সে খোদার আশ্রয় লাভ করবে। কোন অনিষ্ট তার কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। রোযা সম্পর্কে খোদার নির্দেশ সর্বদা স্মরণ রেখে রোযা রাখতে হবে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রোযা সম্পর্কে হুযূর বলেন, চোখের রোযা হলো পুরুষ ও নারীদের দৃষ্টি অবনত রাখা এবং পরস্পরের প্রতি না তাকানো। অনেকে নোংরা চলচ্চিত্র বা ছবি দেখে, যদি রোযার মাসে এই বদভ্যাস পরিত্যাগ করতে পারেন আর ভাল অভ্যাস গড়ে উঠে তাহলে পরবর্তী সময়েও বাঁচতে পারবেন।

জিহ্বার রোযা হলো, অযথা-অনর্থক কথা-বার্তা বলবে না। যদি কেউ গায়ে পড়ে তোমার সাথে ঝগড়া করতে চায় তাহলে বলবে ‘ইন্নি সায়েমুন’ অর্থাৎ, তুমি যাই বলো না কেন আমি রোযা রেখেছি, তোমার কথায় পড়ে আমি আমার রোযা মাকরুহ্ করতে চাই না।

হাত, কোন অপকর্ম করবে না। ত্বাকওয়া বা খোদাভীতির দাবী হচ্ছে, খোদা তা’লা যা বলেছেন তা করবে যা করতে বারণ করেছেন তা করবে না। যেমন কোন ব্যক্তি শুকর খায় না অথচ খাওয়ায় বা কেউ মদ পান করে না অথচ অন্যকে পান করায়, এরা উভয়ে সমান পাপে পাপী। মহানবী (সা:) মদ পরিবেশনকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন। তাই খোদার নির্দেশরূপী ঢালের পিছনে আশ্রয় নাও নতুবা মৌখিক দাবী আত্ম প্রতারণার শামিল হবে।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘যদি সমস্ত শর্তের সাথে রোযা না রাখা হয়, যা করার নির্দেশ দিয়েছেন তা যদি না করো আর যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত না হও তাহলে তোমাদের রোযায় খোদার কোন আগ্রহ নেই।’

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) আরও বলেন,

‘পবিত্র কুরআনের শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত আদেশ ও নির্দেশে পরিপূর্ণ আর অনেক নির্দেশের কয়েকশত শাখা-প্রশাখা এতে বর্ণিত হয়েছে। রোযা সম্পর্কে খোদা তা’লা বলেন, রোযা আমার জন্য আর এর প্রতিদান স্বয়ং আমি।’

হুযূর বলেন, এ মাস রোযার মাস। এ মাসে খোদা তা’লা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কেবল অভূক্ত আর পিপাসার্তই থাকবে না বরং হাত-পা-কান-চোখ সবকিছুকে সংযত রাখতে হবে। এজন্য সংগ্রামের প্রয়োজন। যদি যথারীতি সংগ্রাম চালিয়ে যাও তাহলে আধ্যাত্মিক উন্নতি ও খোদার নৈকট্য লাভের পাশাপা��ি তোমার দোয়াও গৃহীত হবে।

হুযূর বলেন, আমি যে শেষ আয়াত তেলাওয়াত করেছি তাতে আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন, ‘ইন্নি করীব’ অর্থাৎ আমাকে লাভ করার জন্য আমার পথে যখন তোমর�� ��েষ্টা করবে তখন জেনে রাখো যে, আমি স্বয়ং এর প্রতিদান। তাই সুন্দরভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় এই রোযা পালনের চেষ্টা করুন। আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا

অর্থ: ‘এবং যারা আমাদের সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে চেষ্টা-সাধনা করে, নিশ্চয় আমরা তাদেরকে নিকটে আসার পথসমূহ্ প্রদর্শন করব।’ (সূরা আল্ আন্‌ কাবূত: ৭০)

এরপর হুযূর মহানবী (সা:)-এর বরাতে একটি ঘটনা উল্ল্যেখ করতে গিয়ে বলেন,

‘একবার যুদ্ধ ক্ষেত্রে এক মা দিগ্বিদিক জ্ঞানহীন অবস্থায় ছুটে বেড়াচ্ছিলেন আর যে শিশুকেই দেখছিলেন তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করছিলেন, তাঁর এ ধারা অব্যহত ছিল। সে মা আসলে যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর হারানো সন্তানকে খুঁজে ফিরছিলেন, পরিশেষে যখন আপন সন্তানকে খুঁজে পান তখন তাকে জড়িয়ে ধরে আদরে আদরে ভরিয়ে দিতে থাকেন। হুযূর পাক (সা:) ও তাঁর সাহাবীগণ এ দৃশ্য দেখছিলেন। তিনি (সা:) তাঁর সাথীদের সম্ভোধন করে বলেন, এই মা যেভাবে হারানো সন্তানকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত খোদাতা’লা তাঁর পথভ্রষ্ট বান্দাকে ফিরে পেয়ে তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন।’

হুযুর বলেন, এক মা নিজ সীমিত সাধ্যের ভেতর থেকে সন্তানের চাহিদা পূরণ করেন আর তাকে সাময়িক নিরাপত্তা দেন আর অনেক সময় তাও পারেন না কিন্তু আমাদের খোদা যিনি গোটা বিশ্বের অধিপতি তিনি মানুষের জন্য কি-না করতে পারেন আর এমন কি আছে যা তিনি করেন না? সুতরাং রোযার মাস একটি সুযোগ নিয়ে আসে, আমাদের উচিত এ মাসে সঠিক প্রশিক্ষণ নেয়া, খোদার সমীপে বেশি বেশি আহাজারি করা। দোয়া করার সময় কেবল নিজের ব্যক্তিগত অভাবই খোদার সম্মুখে তুলে ধরবেন না বরং ইসলাম ধর্মের মর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে দোয়া করুন। ইসলামের বিজয় ও আর্ত মানবতার জন্য দোয়া করুন তাহলে খোদা নিজ করুণায় আপনার প্রয়োজন পূর্ণ করবেন এবং আপনাদের অভাবও মোচন করবেন।

হুযূর বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا آَمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ

অর্থ: হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা ঈমান আন আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের উপর। (সূরা আন নিসা: ১৩৭)

কেবল মৌখিক ঈমানই যথেষ্ট নয় বরং প্রতিনিয়ত উন্নতির পানে যাত্রা অব্যহত রাখ এবং সংগ্রাম চালিয়ে যাও। প্রত্যেক বছর রমযান আমাদের জন্য উন্নতির বার্তা বা মহা সুযোগ নিয়ে আসে। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’লা বলেন, যদি তোমরা আমার খাতিরে একনিষ্ঠ হয়ে রোযা রাখ তাহলে তোমাদের রোযা গৃহীত হবে। খোদা তা’লা বলেন,

أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ

অর্থ: আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনার উত্তর দেই যখন সে আমার কাছে প্রার্থনা করে।

খোদা তা’লা মহানবী (সা:)-কে সম্বোধন করে বলেন যে, আমার বান্দা যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করে, তুমি বল আমি নিকটে আছি। অনেকেই খোদার সত্ত্বা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে। আল্লাহ্ বলেন, আমার অস্তিত্বের প্রমাণ হচ্ছে, আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো, আমার কাছে চাও আমি তোমাদের প্রয়োজন পুরো করবো। খোদার অস্তিত্বের বিভিন্ন প্রমাণের একটি হচ্ছে, তার সাথে কথোপকথন। মধ্যবর্তী পর্দা অপসারণ করো তাহলে খোদার সাথে কথোপকথনের সম্মান লাভ করবে। রমযান যেহেতু ইবাদতের মাস তাই এ মাসে এই পর্দা ভেদ করার চেষ্টা করতে হবে যাতে আমরা দোয়া কবুল হবার দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। সর্ব প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হচ্ছে, খোদার ধর্মের বিজয়ের জন্য দোয়া, মহানবী (সা:)-এর পতাকাতলে বিশ্ববাসীর সমবেত হবার জন্য দোয়া আর বান্দাকে খোদার নিকটতর করার জন্য দোয়া। আজ রমযানের প্রথম জুমুআ। হাদীসে এসেছে জুমুআর দিন আমাদের জন্য দোয়া গৃহীত হবার একটি বড় সুযোগ নিয়ে আসে। আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে এমন একটি মূহুর্ত আসে যখন দোয়া গৃহীত হয়। এ সময় নফল নামায পড়া যায় না কিন্তু মসনূন দোয়া করতে কোন বাঁধা নেই। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন স্থানে জামাত সমস্যা ও প্রতিকূলতার সম্মুখিন হচ্ছে। একমাত্র খোদার অনুগ্রহেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। তাই এ সুযোগকে কাজে লাগান, বেশি বেশি দোয়া করুন যাতে খোদা তা’লা আমাদের দুর্বলতা ও উদাসীনতা ক্ষমা করেন আমাদের জন্য তাঁর নৈকট্যের পথসমূহ সহজ করে দেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর সাথে খোদার প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে,

نصرت بالرعب

(উচ্চারণ: নুসিরতু বিররুবি)

অর্থ: আমাকে মহা প্রতাপের সাথে সাহায্য করা হবে।

আরেকটি ইলহামে খোদা তা’লা বলেন,

انا كفينك المستهزئين

(উচ্চারণ: ইন্না কাফাইনাকাল মুসতাহ্‌যিইন)

অর্থ: হাসি-ঠাট্টা কারীদের বিরুদ্ধে আমরাই তোমার জন্য যথেষ্ট।’

ইতোপূর্বে বিরুদ্ধবাদীদের সাথে খোদা কি করেছেন তা আমরা সবাই জানি কিন্তু কোথায়ও আমাদের দুর্বলতার কারণে বিজয় না বিলম্বিত হয়ে যায় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের জীবদ্দশায়ই প্রতিটি শহর এবং অলি-গলিতে যেন খোদা তা’লা সে বিজয় দেখান। খোদা নিজ করুণায় আমাদের সকল দুর্বলতা ঢেকে রাখুন।

হুযূর বলেন, রোযার মাসে খোদা সপ্তম আকাশ থেকে নীচে নেমে আসেন। মানুষের দোয়া গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকেন। তাই এ মাসে বেশি বেশি দোয়ার প্রতি আমাদের মনোযোগ নিবদ্ধ করতে হবে। যদি ঈমান ও ত্বাকওয়ায় উন্নতি হয় তাহলে আপনাদের ইবাদত গৃহীত হবে।

কুরআনের বিভিন্ন আয়াত, হাদীস ও মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর লেখনির আলোকে হুযূর রোযার তাৎপর্য এবং আমাদের করণীয় সবিস্তারে বর্ণনা করেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন,

لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ

অর্থ: তোমাদের ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ্‌র স্মরণ হতে উদাসীন না করে।’ (সূরা আল্ মুনাফিকুন: ১৯)

পরিশেষে হুযূর মহানবী (সা:)-এর একটি অতি প্রিয় দোয়ার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন:-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ وَالْعَمَلَ الَّذِي يُبَلِّغُنِي حُبَّكَ. اللَّهُمَّ اجْعَلْ حُبَّكَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ نَفْسِي وَأَهْلِي وَمِنَ الْمَاءِ الْبَارِدِ

অর্থ:‘হে আল্লাহ্! আমি তোমার ভালবাসা চাই এবং তার ভালবাসা চাই যে তোমাকে ভালবাসে। আমার হৃদয়ে এমন কাজের আকর্ষণ সৃষ্টি কর যা তোমার ভালবাসা পাবার মাধ্যম। হে আল্লাহ্ তোমার ভালবাসা! আমার প্রাণ, ধন-সম্পদ, পরিবার পরিজন এবং ঠান্ডা পানির চেয়েও যেন আমার কাছে অধিক প্রিয় হয়।

জামাতকে সম্বোধন করে হুযুর বলেন, হে মুহাম্মদী মসীহ্‌র দাসগণ! হে মুহাম্মদী মসীহ্‌র সত্ত্বারূপী বৃক্ষের সবুজ শাখা-প্রশাখা! যাদেরকে খোদা তা’লা হেদায়েত দিয়েছেন। তাদের উপর পৃথিবীর বিভিন্ন্ প্রান্তে যুলুম-অত্যাচার হচ্ছে আল্লাহ্ তা’লা আপনাদেরকে এই পবিত্র রমযানে নিষ্ঠার সাথে দোয়া করার একটি সুযোগ দিয়েছেন। এটি আহ্‌মদীয়া খিলাফতের দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথম রমযান তাই দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে এই রমযানকে চুড়ান্ত সফলতার রমযান বানিয়ে দিন।

আল্লাহ্ তা’লা সবাইকে রমযানের গুরুত্ব উপলদ্ধি করে রোযা রাখার এবং এথেকে আশিস মন্ডিত হবার তৌফিক দিন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে