In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

জার্মানীর সফল জলসা উপলক্ষ্যে আয়োজক ও কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতার প্রেরণায় সমৃদ্ধ হয়ে আরো উন্নত সেবা প্রদানের আহবান

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

২৯শে আগস্ট, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, গত দুদিন পূর্বে আমি জার্মানী সফর শেষে ফিরে এসেছি। খিলাফত শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জার্মানী জামাতের বার্ষিক জলসা গত রোববার অত্যন্ত সফলতার সাথে সমাপ্ত হয়েছে। আজ আমি অন্য আরেকটি বিষয়ে খুতবা দেয়ার ইচ্ছে করেছিলাম কিন্তু নোট্‌স তৈরী করার সময় হঠাৎ মনে হলো রীতি অনুসারে জলসা থেকে ফেরার পর সেই জলসা এবং সেই দেশের জামাত সম্পর্কে কিছু বলে থাকি তাই আজ জার্মানীর জলসা সম্পর্কে কিছু কথা উপস্থাপন করবো। এছাড়া জলসায় যে সব কর্মীরা কাজ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আবশ্যক আর একজন মু’মিনের কাছে এটিই প্রত্যাশা করা হয়। এবছর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত জার্মানীর জামাতও খিলাফত শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জলসার ব্যাপক আয়োজন করেছে। এবারের জলসায় উপস্থিতি ছিল সাইত্রিশ হাজারের উর্ধ্বে আর আয়োজনও ছিল ব্যাপক। জামাতের স্বেচ্ছাসেবীরা নিরলস পরিশ্রম করে জলসা সফল করেছেন। প্রতিবছর জলসা হবার সুবাদে জামাতের কর্মীরা এত দক্ষ হয়ে গেছেন যার দরুন, বড় বড় আয়োজনও তাদেরকে বিচলিত করে না। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) জলসার যে সব উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে একটি হচ্ছে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সুদৃঢ় করা। আপন-পর যারাই এবার যোগদান করেছেন তারা সবাই একবাক্যে একথা স্বীকার করেছেন, এই জলসায় সবাই নিরবে হাসিমুখে অতিথি সেবা করেছেন। পারস্পরিক প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসার এ সম্মিলন দেখে অ-আহ্‌মদীরা অভিভূত। তাদের মধ্যে অনেকেই আমার সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাতে নির্দ্বিধায় তা ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া জলসায় যে সমস্ত বক্তব্য রাখা হয়েছে তা খুবই উন্নতমানের এবং শ্রোতারাও মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তা শুনেছেন। মোটকথা সবদিক থেকে এ জলসা অত্যন্ত সফল হয়েছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর আমার অনুষ্ঠানসূচীতে একটি বিশেষ অধিবেশন যোগ করা হয় আর এতে জার্মানী এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অমুসলমান অতিথিরা যোগদান করেন। যাদের সংখ্যা ছিল চার’শ বা সাড়ে চার’শ। এ অনুষ্ঠানে আমি তাদের কাছে জিহাদের মূলতত্ত্ব বর্ণনা করি। আমি তাদেরকে একথাও বলেছি, হিজরতের পূর্বে মক্কায় কাফিররা কিভাবে মুসলমানদের প্রতি অত্যাচার করেছে এবং হিজরতের পরে মদীনায় কিভাবে মুসলমাদের বিরুদ্ধে আক্রমন করেছে। কুরআনের শিক্ষা অনুসারে মুসলমানরা সেসব আক্রমন কতটুকু প্রতিহত করেছে। আর এ যুগে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) জিহাদের প্রকৃত স্বরূপ কি বর্ণনা করেছেন এবং বর্তমানে আহ্‌মদীরা কিভাবে জিহাদ করছে। আমার এই বক্তব্য অভ্যাগতদের মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। এ অনুষ্ঠান শেষে আগত অতিথিরা আমার সাথে সাক্ষাতে বলেছেন, আজ মুসলমানদের সম্পর্কে আমাদের অনেক সন্দেহ ও সংশয় নিরসন হয়েছে। এখানে এসে আমরা বুঝতে পারলাম, আহ্‌মদীরাই ইসলামের খাঁটি শিক্ষা উপস্থাপন করছে। বিভিন্ন দেশের শিক্ষিত লোকজন এতে যোগদান করেন, অনেক সাংবাদিক এবং লেখক এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে পত্র-পত্রিকায় জলসা এবং জিহাদ সম্পর্কে সঠিক ইসলামী শিক্ষা তুলে ধরবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। এস্তোনিয়া ও আইসল্যান্ড থেকে আগতদের সবাই খৃষ্টধর্মাবলম্বী ছিলেন। এছাড়া আলবেনিয়া, মালটা, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া ছাড়াও আরো ৫/৬টি দেশের প্রতিনিধিরা এ অধিবেশনে যোগদান করেন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন খৃষ্টধর্মাবলম্বী।

হুযূর বলেন, বুলগেরিয়াতে জামাত প্রতিষ্ঠিত আছে কিন্তু সেখানে যেহেতু মুসলমানদের একটি বড় জনগোষ্ঠি বসবাস করে, ফলে সেখানকার সরকার মুসলমান না হওয়া সত্বেও উগ্র-মোল্লা বা নামধারী ইসলামী চিন্তাবিদদের চাপে জামাতের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করেছে। জামাতের বিরোধিতা হচ্ছে। সাধারণ জনতা ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানে না অথচ তারাও উগ্র-মোল্লাদের খপ্পরে পরে জামাতের বিরোধিতা করছে। সেখান থেকে আগত প্রতিনিধিদের মধ্যে অনেক অ-আহ্‌মদী মুসলমান ছিলেন। তারা আমাদের অনুষ্ঠানাদি এবং এত বড় আয়োজন দেখে অভিভূত হয়েছেন। তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে এ সফরের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। জামাত সেখানে চেষ্টা করছে, মামলাও করা হয়েছে। দোয়া করুন অচিরেই যেন সেখানে জামাতের রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে যায়।

হুযূর বলেন, এরপর জলসার শেষ দিন জার্মান আহ্‌মদী নারী-পুরুষের সাথে একটি অধিবেশন হয়। প্রথমে মেয়েদের অধিবেশনে একটি ২৭/২৮ বছরের যুবতি মেয়ে বলে, আমি জামাত সম্পর্কে অনেক পড়াশুনা করেছি, দীর্ঘদিন ধরে জামাতের সাথে আমার যোগাযোগ আছে। যতটুকু সন্দেহ ছিল আজ তা দূরীভূত হয়েছে আমি এক্ষুনি বয়’আত করতে চাই। পুরুষদের অধিবেশনেও গ্রীস থেকে আগত একজন বয়’আত করেন এছাড়া একজন খৃষ্টান যুবকও বয়’আত করে। বয়’আতের সময় তাদের আবেগ দেখার মত ছিল। তারা হেঁচকি দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বয়’আতের বাক্য পাঠ করছিলেন। আল্লাহ্ তা’লা এদের সবার আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততা কবুল করুন।

এবছর খিলাফত শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে খোদ্দামুল আহ্‌মদীয়া ম্যানহাইমে একটি খেলাধুলা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় সপ্তাহ-দশ দিন পূর্বেই সেখানে ওয়াকারে আমল অর্থ্যৎ স্বেচ্ছাশ্রম-ভিত্তিক কার্যক্রম আরম্ভ করে। সেখানকার যুবকরা নিজেরাই মার্কী স্থাপন করে। আবার জলসা শেষে সব কিছু গুছিয়ে প্রশাসনকে জায়গা বুঝিয়ে ���েয়া এটিও অনেক বড় কাজ। অনেকেই ৩৬/৪৮ ঘন্টা একাধারে কাজ করেছে, ঘুমান���র সময়টুকু পর্যন্ত পায় নি। মোটকথা জার্মানী জামাত অত্যন্ত সুন্দরভাবে সকল কাজ সম্পাদন করেছে।

হুযূর বলেন, গত বছর আমি খুতবায় বলেছিলাম যে, এখানকার তিনভাই মিলে হাড়ি-পাতিল ধোয়ার একটি মেশিন বানিয়েছেন আর এবছর তারা এই মেশিনটিকে একটি স্বয়ংক্রিয় মেশিনে রূপ দিতে সমর্থ হয়েছেন। যার ফলে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দু’মিনিটের মধ্যে বড় বড় পাতিল ধুয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব। এরা এখন কাদিয়ানের জন্য মেশিন বানাতে মনস্থির করেছেন। এ ভাইদের নাম হচ্ছে, সর্বজনাব আতাউল মান্নান হক, ওয়াদুদুল হক এবং নূরুল হক। আল্লাহ্ তা’লা এদের পরিশ্রম কবুল করুন আর ভবিষ্যতে আরো বেশি বেশি জামাতের সেবা করার তৌফিক দিন। আল্লাহ্ তা’লা এ সফলতায় তাদেরকে বিনয়ে আরো সমৃদ্ধ করুন।

হুযূর বলেন, আমাদের প্রত্যেক আহ্‌মদীকে এমন আদর্শ স্থাপন করতে হবে যা অপরদেরকে আহ্‌মদীয়াতের প্রতি আকৃষ্ট করবে। বর্তমানে পাশ্চাত্ব্যের যুবকদের মাঝে একটি অস্থিরতা বিরাজ করছে। যদি সত্যিকারেই তাদের কাছে আহ্‌মদীয়াত তথা ইসলামের সঠিক শিক্ষা পৌঁছানো যায় তাহলে তারা শান্তি লাভের প্রত্যাশায় আহ্‌মদীয়াতের ক্রোড়ে আশ্রয় না নিয়ে থাকতে পারবে না। তাই আমাদেরকে নিজেদের আচরণ ও স্বভাবের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। তবলীগের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করতে হবে। যেভাবে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেছেন,

ہر طرف اواز دینا ہے ہمارا کام آج
جس کی فطرت نیک ہے وہ آئیگا انجام کار

‘চতুর্দিকে আহবান করাই আজ আমাদের কাজ
যার স্বভাব পবিত্র সে পরিশেষে আসবেই’

আমরা যে আহবান জানাচ্ছি তা একটি ব্যতিক্রমী আহবান। এটা যদি সাধারণ কোন আহবান হতো তাহলে মানুষের মন এর প্রতি আকৃষ্ট হতো না। তাই বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য আমাদেরকে নিজেদের অবস্থানও আকর্ষণীয় করতে হবে। এ ব্যাপারে হযরত মসীহ্ মওউদ একাধারে জামাতের তরবিয়ত করেছেন এবং তারপর জামাতের খলীফাগণ এই কাজ করে চলেছেন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘নৈতিক চরিত্রের সংশোধন করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ আত্মিক বিশ্লেষণ না করে ততক্ষণ এই সংশোধন সম্ভব নয়। কুবাক্য মানুষের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করে তাই সর্বদা মুখে লাগাম দিয়ে রাখা উচিৎ।’

এরপর তিনি (আ:) জামাতের তরবিয়ত করতে গিয়ে বলেন,

‘অতএব দরিদ্র ভাইদের সাহায্য করা তোমাদের রীতি হওয়া উচিৎ। এবং তাদেরকে শক্তি যোগাতে হবে।’

তিনি (আ:) অন্যত্র বলেন,

‘পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে تَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى (তায়াওয়ানু আলাল বির্‌রে ওয়াত্ ত্বাকওয়া), দুর্বল ভাইদের বোঝা বহন কর, কোন জামাত ততক্ষণ পর্যন্ত জামাত হতে পারে না যতক্ষণ দুর্বলদেরকে শক্তিমানরা সাহায্য না করে । আর তাদের দুর্বলতা ঢেকে রাখার ফলেই এটি সম্ভব। সাহাবীদেরকেও শিক্ষা দেয়া হয়েছে, নবাগতদের দুর্বলতা দেখে উত্তেজিত হবে না কেননা তোমরাও এরূপই দুর্বল ছিলে। অনুরূপভাবে এটি আবশ্যক যে, বড়রা ছোটদের যত্ন নিবে এবং একান্ত স্নেহ ও ভালবাসার সাথে তাদের লালন পালন করবে। মনে রেখো, সে দল জামাতবদ্ধ হতে পারে না যারা একে অপরের ক্ষতি করতে লালায়িত। তোমরা তখনই জামাতবদ্ধ হবে যখন অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের দুর্বলতা ঢেকে রাখবে। এমন অবস্থা হলেই তোমরা একে অপরের সাহায্যকারী অঙ্গে পরিণত হবে। এবং নিজের আপন ভাইয়ের চেয়েও তাকে বড় মনে করবে।’

এরপর তিনি (আ:) বলেন,

‘এখন তোমাদের মধ্যে একটি নতুন ভ্রাতৃত্ব বন্ধন গড়ে উঠেছে আর অতীতের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। খোদা তা’লা একটি নতুন জাতি সৃষ্টি করেছেন যাতে ধনী, দরিদ্র, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ মোটকথা সব ধরনের মানুষ রয়েছে। সুতরাং দরিদ্রদের উচিত তাদের ধনী ভাইদের মূল্যায়ন করা ও সম্মান দেখানো, এবং ধনীদের দায়িত্ব হচ্ছে, তারা যেন দরিদ্রদের সাহায্য করে এবং তাদেরকে ভিখারী ও নি:স্ব মনে না করে, কেননা তারাও তোমাদের ভাই।’

এরপর হুযূর বলেন, গতবছর মহিলাদের জলসার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার পর তারা যথেষ্ট উন্নতি করেছেন। এবার সামগ্রিক রিপোর্ট ভাল ছিল। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর প্রিয় জামাত খলীফার আহবানে সর্বদা সাড়া দিতে প্রস্তুত, এটি বিশ্বের অন্য কোথায় দেখা যাবে না। মানুষের হৃদয়ের মালিক একমাত্র খোদাই এরূপ করাতে পারেন।

খুতবার শেষাংশে হুযূর বলেন, আজ আমি একটি বিষয়ে দোয়ার অনুরোধ করছি। বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে জামাতের ব্যাপক বিরোধিতা হচ্ছে। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদে দক্ষিণ্যাত্যের মোল্লাদের আন্দোলনের মুখে সরকার আমাদের খিলাফত শতবার্ষিকী জলসা করতে দেয়নি। এছাড়া সাহরানপুরে আহ্‌মদীদের মারধর করা হয়েছে। তাদের ঘর-বাড়ী এবং আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে। বাড়ী-ঘরে আগুন লাগানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। আহ্‌মদীরা এখন নিরাপদে আছেন। তাদের ক’জন কাদিয়ানে আছেন আবার ক’জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। কিন্তু তাদের ঈমানের অবস্থা দৃঢ়। এরা পুরনো আহ্‌মদী নন, প্রায় সবাই নবাগত। মোল্লাদের ঈমান যেহেতু নড়বড়ে তাই তারা মনে করেছে, এদেরকে ধমক দিলেই আহ্‌মদীয়াত পরিত্যাগ করবে কিন্তু সুখের কথা হচ্ছে, বিরোধিতা এবং নির্যাতনের ফলে একজনও আহ্‌মদীয়াত পরিত্যাগ করেনি বরং আরো ১০/১৫ জন আহ্‌মদী হয়েছেন। এছাড়া ভারতের অন্যান্য মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা থেকেও বিরোধিতার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) আল্ ওসীয়্যত পুস্তিকায় বলেন,

‘তোমাদের উচিত, সহানুভূতি ও চিত্ত শুদ্ধি দ্বারা রুহুল কুদুস হতে অংশ লাভ কর। কারণ রুহুল কুদুস ব্যতীত প্রকৃত ত্বাকওয়া লাভ সম্ভব নয়। প্রবৃত্তির বশবর্ত্তিতা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করে খোদার সন্তুষ্টি লাভের জন্য সে পথ অবলম্বন কর, যার অপেক্ষা কোন পথই সংকীর্ণতর নয়। দুনিয়ার ভোগ বিলাসে মুগ্ধ হয়ো না কারণ, তা খোদা হতে দূরে নিক্ষেপ করে।’

পাকিস্তানেও নতুন করে আবার বিরোধিতা দেখা দিচ্ছে। কয়েকদিন পূর্বে লাহোরে আমাদের একটি কেন্দ্র থেকে পুলিশ কলেমা তৈয়্যবা নামিয়ে নিয়েছে। ‘কুনরীতে’ও জামাতের মসজিদের উপর এবং আহ্‌মদীদের বাড়ী-ঘরের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমাকে একজন বলেছেন,

‘জামাতে ইসলামীর একজন নেতা বলেছে, যদি আহ্‌মদীদেরকে খিলাফত শতবার্ষিকী উদযাপন করতে দেয়া হয় তাহলে তাদের উন্নতির ধারাবহিকতা কেউ প্রতিহত করতে পারবে না। আর আমাদের অবস্থা হবে রাস্তার কুকুরের মত।’

হুযূর বলেন, আমরা কাউকে গালী দেই না কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থান বর্ণনা করছে। তারা জানে তাদের কি হবে আর আল্লাহ্ ভালো জানেন।

জামাতের উন্নতি সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘তোমরা খোদার স্বহস্তে রোপিত এক বীজ বিশেষ, যা ভূপৃষ্ঠে বপন করা হয়েছে। খোদা বলেন, এই বীজ বর্ধিত হবে, পুষ্প প্রদান করবে এর শাখা-প্রশাখা সর্ব-দিকে প্রসারিত হবে এবং এটি মহামহীরূহে পরিণত হবে। সুতরাং ধন্য তারা, যারা খোদার কথায় ঈমান রাখে এবং মধ্যবর্তীকালীন বিপদাবলীর জন্য ভীত হয় না।’

হুযূর বলেন, অতীতে যখন জামাত চারাগাছের মত দুর্বল ছিল তখনও মোল্লাদের বিরোধিতা আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারে নি আর আজ যখন জামাত একটি গাছ আকারে প্রতিষ্ঠিত তখনও তাদের বিরোধিতা জামাতের উন্নতির ক্ষেত্রে কোন অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারবে না। আল্লাহ্ তা’লা এই নির্বোধ মোল্লাদেরকে শুভবুদ্ধি দিন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে