In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

জলসার উদ্দেশ্য এবং আমাদের দায়-দায়িত্ব

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

Mannheim, জার্মানী

২২শে আগস্ট ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, আজ জুমুআর খুতবার মাধ্যমে আল্লাহ্‌তা’লার অপার অনুগ্রহে আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামাত, জার্মানীর বার্ষিক জলসা আরম্ভ হচ্ছে। এটি খিলাফত শতবার্ষিকী জলসা। এ জলসার গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া আমার উপস্থিতির কারণে আয়োজকসহ সবাই সচেতন, কোনভাবেই যেন আয়োজনে কোন কমতি না থাকে। খিলাফত শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এটি আমার ৭ম জলসা যাতে আমি স্বশরীরে উপস্থিত হয়েছি। আপনারা যদি এ জলসার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারেন তাহলে নিজেও লাভবান হবেন আর জলসা আয়োজনের উদ্দেশ্যও সফল হবে। জামাতের সকল সদস্য, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা এই পবিত্র উদ্দেশ্যকে দৃষ্টিপটে রাখুন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বয়’আতের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,

‘এ অধমের হাতে বয়’আতপূর্বক এ জামাতে প্রবেশকারী সকল নিষ্ঠাবান ব্যক্তির জেনে রাখা দরকার, বয়’আত করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ যেন নিবারিত হয়। আর স্বীয় মহান প্রভু এবং রসূলে মকবুল (সা:)-এর প্রতি ভালবাসা প্রাণে যেন সমুন্নত থাকে।’

হুযূর বলেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) তাঁর হাতে বয়’আতকারীদেরকে ‘মুখলেসীন’ বলে বর্ণনা করেছেন। এর অর্থ, যারা সত্যিকারেই খোদা ও রসূলের জন্য আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান। এই হলো আপন জামাত সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর প্রত্যাশা। আমাদের উচিৎ, আমরা যেন এই অবস্থান ও মর্যাদা লাভ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি। এ গুণ আমরা যদি নিজেদের মাঝে ধারণ করতে পারি তাহলে খোদা ও রসূলের ভালবাসা লাভে আমরা সক্ষম হবো।

আল্লাহ্‌তা’লা পবিত্র কুরআনে হযরত ইউসুফ (আ:)-এর বরাতে বলেন, একজন নারী তাঁকে মন্দকর্মে প্রলুদ্ধ করতে চেষ্টা করেছিল কিন্তু তিনি পবিত্রতা ও নিষ্ঠায় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ও অবিচল থেকেছেন ফলে খোদা সাক্ষ্য দিয়েছেন,

إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُخْلَصِينَ

অর্থ: ‘নিশ্চয় সে আমাদের মনোনীত বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত ছিলো।’ (সূরা ইউসুফ: ২৫)

মানুষের মধ্যে যদি পবিত্রতা ও খোদার ভয় থাকে তাহলে সে সকল অন্যায় ও অপরাধ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।

শয়তান খোদার সাথে এই বলে অঙ্গীকার করেছে, হে খোদা! আমি তোমার বান্দাদেরকে অবশ্যই পথভ্রষ্ট করবো। আমার প্রলোভনে মুগ্ধ হয়ে তারা বিচ্যুত হবে, আমার উপস্থাপিত মোহ ও চাকচিক্য দেখে তারা লালায়িত হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি নিজের পরাজয়ও স্বীকার করে বলেছে,

إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ

অর্থ: ‘তাদের মধ্য থেকে কেবল তোমার নিষ্ঠাবান মনোনীত বান্দাগণ ব্যতিরেকে।’ (সূরা আল্ হিজ্‌র: ৪১)

শয়তান কখনই খোদার নিষ্ঠাবান বান্দাদেরকে পরাস্ত করতে পারবে না।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘এই অতুলনীয় মর্যাদাসম্পন্ন ও মহামহিমান্বিত নবী যদি পৃথিবীর বুকে না আসতেন তাহলে অতীতের নবীদের সত্যতার স্বপক্ষে আমাদের কাছে কোন প্রমাণই থাকতো না, যদিও তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন খোদাতা’লার প্রিয়পাত্র। এই সেই নবী (সা:)-যাঁর কৃপা বা অনুগ্রহের দরুন এঁরা সবাই পৃথিবীতে সত্য বলে স্বীকৃত হতে পেরেছেন।’

তা না হলে তাঁদের অনুসারীরা কিন্তু তাঁদের সত্ত্বাকে বিকৃত করে ফেলেছিল।

হুযূর বলেন, পবিত্র কুরআন একটি স্থায়ী শিক্ষা। মহানবী (সা:) এবং তাঁর নিষ্ঠাবান দাসকে অস্বীকার করে মুক্তির কোন পথ খোলা নেই। এ যুগে খোদাতা’লা আমাদেরকে তাঁর প্রেরিত ইমামকে মানার সৌভাগ্য দিয়েছেন। আমাদের এই নিয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ণ করা উচিৎ। যারা খোদার এই নিয়ামতকে অস্বীকার করবে তারা ব্যর্থ ও লাঞ্ছিত হবে আর সফলতা তাদের জন্যই নির্ধারিত যারা খোদার নিষ্ঠাবান বান্দা সাব্যস্ত হবেন। যারা কোন খোদার সত্ত্বায় বিশ্বাস রাখে না তারা কখনই সফল হতে পারে না, ব্যর্থতা তাদের নিয়তি। তাই আপনারা কেবল সমস্যার সম্মুখীন হয়ে খোদাকে স্মরণ করবেন তা যেন না হয় বরং সর্বদা খোদার স্মরণে রত থাকুন। প্রত্যেক সেই স্থানে খোদার মাহাত্ব্য ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করুন যেখানে বর্ণনা করা প্রয়োজন। যেখানেই খোদার সম্মান হানীকর কিছু দেখেন সেখানেই তাঁর একত্ব ও সম্মান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খোদার জয়ধ্বনি করুন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) একস্থানে বলেছেন,

‘আমার নিষ্ঠাবান অনুসারীরা যদি খোদা ও তাঁর রসূলকে সব কিছুর ওপর প্রাধান্য দেয় তাহলে তারা সব সময় পাপ ও গুনাহ্ থেকে রক্ষা পাবে।’

হুযূর বলেন, এ যুগে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর শিক্ষা বাস্তবায়ন করা আমাদের জন্য একান্ত আবশ্যক। আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুশীলনের জন্য সঠিক জ্ঞান অর্জন করাও প্রয়োজন। নেকী ও পুণ্যের মান বৃদ্ধি করলে আর ত্বাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত হলে সকল জাগতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের তুলনায় বয়’আতকে প্রাধান্য দিয়েছো বলে বিবেচিত হবে। এমন লোকদের জন্যই খোদা ‘নিষ্ঠাবান বান্দা’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। তাদের শয়ন-জাগরণ সবই খোদার জন্য নিবেদিত হয়ে যায়। তারা সর্বদা খোদার ধ্যানে মগ্ন থাকে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌তা’লা বলেন,

قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ

অর্থ: ‘তুমি বল, তোমরা যদ��� আল্লাহ্কে ভালবাস, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ কর; আল্লাহ্ও তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তিনি তোমাদেরকে তোমাদের সকল অপরাধ ক্ষমা করে দিবেন। এবং আল্লাহ্ অতীব ক্ষমা���ীল, পরম দয়াময়।’ (সূরা আলে ইমরান: ৩২)

এ ��য়াত থেকে আমর��� জানতে পারি, মহানবী (সা:)-এর প্রতি ভালবাসা আমাদেরকে খোদার ভালবাসায় সমৃদ্ধ করবে।

জলসার পবিত্র উদ্দেশ্য সম্পর্কে একস্থানে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘বছরে এরূপ তিনদিন ব্যাপী জলসার আয়োজন করা হোক, যার মধ্যে নিষ্ঠাবান বন্ধুরা কেবল ‘রব্বানী’ কথা-বার্তা শুনার জন্য এবং দোয়ায় অংশ গ্রহণ করার যোগদান করবেন। আর জলসায় এমন মাহাত্ম্যপূর্ণ ও তত্ত্বজ্ঞান সমৃদ্ধ কথা-বার্তা শুনানোর ব্যবস্থা থাকবে, যা ঈমানে প্রতীতি ও তত্ত্বজ্ঞানে বুৎপত্তি দানের জন্য আবশ্যক।’

মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর ভাষায় এ জলসা কোন জাগতিক মেলা নয়। আপনারা এই খিলাফত শতবার্ষিকী জলসায় যোগ দিয়েছেন। এই অংশগ্রহণ তখনই আপনাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে যখন আপনারা নিজেদের ভেতর পবিত্র পরিবর্তন আনয়নের চেষ্টা করবেন। এ দিনগুলোতে খোদার ভালবাসা লাভের জন্য তাঁর রসূলের আদর্শ অনুসরণ করুন। পবিত্র কুরআনের সকল নির্দেশই মহানবী (সা:)-এর ‘আদর্শ’। হযরত আয়েশা (রা:)-কে কেউ মহানবী (সা:)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন হচ্ছে তাঁর চরিত্র। তিনি (সা:) কুরআনের সকল নির্দেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ পালন করেছেন। মহানবী (সা:) কুরআন সম্পর্কে বলেছেন, এগুলো খোদার নির্দেশ যদি তোমরা এর উপর আমল করো তাহলে খোদার ভালবাসা পাবে।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) একস্থানে বলেছেন,

‘আল্লাহ্ ও রসূলের সাথে ভালবাসার সম্পর্ক দাবী করার পরও কেউ যদি আল্লাহ্ ও তাঁর বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদান না করে তাহলে তার দাবী মূল্যহীন।’

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌তা’লা বলেন, যদি তোমরা চাও তোমাদের দোয়া কবুল হোক, তাহলে মহানবী (সা:)-এর প্রতি দরূদ প্রেরণের মাধ্যমে আমার কাছে প্রার্থনা কর। এর প্রতি ইঙ্গিত করেই আল্লাহ্‌তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

অর্থ: ‘নিশ্চয় আল্লাহ্ এই নবীর প্রতি রহমত নাযেল করছেন এবং তাঁর ফিরিশ্তাগণও (তার জন্য রহমত কামনা করছে)। হে যারা ঈমান এনেছো! তোমরাও তার জন্য দরূদ পাঠ (রহমত কামনা) কর এবং পূর্ণ শান্তি কামনা কর।’ (সূরা আল্ আহযাব: ৫৭)

হুযূর বলেন, এ দিনগুলোতে ইবাদত ও দোয়ার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করুন। আল্লাহ্‌র রসূলের প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ করুন। আল্লাহ্‌র রসূলের অনুপম আদর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করুন। কুরআনের নির্দেশাবলী পালনের চেষ্টা করুন। মহানবী (সা:)-এর আদর্শ কিরূপ ছিল? একরাতে তাকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে হযরত উম্মুল মু’মিনীন (রা:) ভাবলেন হয়তো অন্য কোন স্ত্রী’র কাছে রাত কাটাতে গিয়েছেন, কিন্তু খুঁজতে গিয়ে দেখেন, তিনি রাতের আঁধারে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে খোদার দরবারে কাঁদছেন। তিনি এমনভাবে কাঁদছিলেন যা শুনে মনে হচ্ছিল হাড়িতে পানি ফুটছে। প্রচন্ড অসুস্থ্যতা সত্বেও বাজামাত নামায তিনি পরিত্যাগ করেন নি। জীবনের অন্তিম মূহুর্তে অসুস্থ্যতা হেতু বারবার মূর্চ্ছা যাচ্ছিলেন কিন্তু জ্ঞান ফিরতেই প্রথমে নামাযের সময় হয়েছে কি-না জানতে চেয়েছেন। এবং মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে বাজামাত নামাযে যোগ দিয়েছেন। তিনি (সা:) বলতেন, ‘নামায হচ্ছে আমার চোখের স্নিগ্ধতার কারণ।’ এই মোকাম বা মর্যাদা সবাই লাভ করতে পারে না। কিন্তু মহানবী (সা:) খোদার দরবারে এই সম্মান ও মর্যাদা লাভ করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌তা’লা বলেন,

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

অর্থ: ‘নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহ্‌র রসূলের মধ্যে উৎকৃষ্টতম আদর্শ রয়েছে।’ (সূরা আল্ আহযাব: ২২)

যারা আল্লাহ্কে স্মরণ করে তাদের উচিৎ এই রসূলের অনুসরণ করা। যারা এ যুগের ইমামকে মেনেছেন তাদের জন্য এই রসূলের আদর্শ অনুসরণ করা আবশ্যক। কেবল মৌখিক দাবীই যথেষ্ট নয় বরং সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করুন। জলসার দিনগুলোতে নামায ও ইবাদতের প্রতি বিশেষভাবে মনযোগী হোন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘ভালভাবে স্মরণ রেখো, তৌহিদের কার্যকরী রূপ হচ্ছে নামায। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার অপবিত্র চিন্তা-ভাবনা, সংকল্প, আমিত্ব, অহংকার ইত্যাদী ভষ্ম না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা খোদার বান্দা হতে পারবে না। কেবল দৈহিকভাবে উঠাবসা যেন না হয়। তোমাদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থা যদি বিনত না হয় তাহলে সেই নামায মূল্যহীন। যতক্ষণ তোমাদের মধ্যে বিনয় সৃষ্টি না হবে ততক্ষণ তোমাদের দোয়া কবুল হবে না। আমাদের জন্য মহানবী (সা:)-এর আদর্শ অনুকরণীয়। মানুষের সম্মুখে এবং খোদার সম্মুখে যারা বিনয় অবলম্বন করে তারাই মূলত খোদার নিষ্ঠাবান বান্দা। এক্ষেত্রে মহানবী (সা:) হচ্ছেন, আমাদের অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর বিনয়াবনত অবস্থা দেখে স্বয়ং খোদা বলেছেন, ‘তার জন্য তিনি এবং তাঁর ফিরিশতারা পর্যন্ত রহমত কামনা করেন’। বয়’আতের সময় যারা তার হাতে হাত রেখেছেন সে সম্পর্কে খোদা বলেন, ‘হে মুহাম্মদ (সা:) তাদের হাতের ওপর তোমার হাত নয় বরং আমার হাত ছিলো।’ এদতসত্বেও তাঁর বিনয় দেখুন! সাহাবীদেরকে নসীহত করতে গিয়ে বলেন, খোদার অনুগ্রহ না হলে কারো পক্ষেই জান্নাতে প্রবেশ করা সম্ভব হবে না। সাহাবীরা বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল আপনিও না? বিনয়ের সর্বোত্তম পরাকাষ্ঠার উত্তর দেখুন। ‘হ্যাঁ-খোদার ফযল ছাড়া আমার কর্মও আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে না’। এটি অহংকারের বিরুদ্ধে তাঁর মহাযুদ্ধ। তিনি (সা:) নসীহত করেন, তোমরা বিনয়ী হও। বান্দা যদি কোন মানুষকে ক্ষমা করে আর বিনয় অবলম্বন করে তাহলে খোদা তার মর্যাদা সমুন্নত করেন।

এরপর হুযূর বলেন, এখানে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত স্বামী-স্ত্রী’র বিবাদ-বিতন্ডা বেড়ে চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরাই এর জন্য দায়ী কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে মহিলারাও দোষী। যদি উভয়ই ধৈর্য ধরেন, হৃদয়ে ত্বাকওয়া থাকে তাহলে বিবাদ মীমাংসা হতে পারে। এক্ষেত্রে মহানবী (সা:)-এর উপদেশ হলো, যদি স্বামী বা স্ত্রী’র মধ্যে কোন দোষ পরিলক্ষিত হয় তাহলে তার অন্যান্য গুণের দিকে লক্ষ্য রেখে তা উপেক্ষা করো, ফলে সমস্যার সমাধান হবে। হুযূর পাক (সা:) কেবল উপদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি বরং স্বয়ং আমল করে দেখিয়েছেন। সুতরাং এ কয়টি দিন আত্ম-বিশ্লেষন করুন। মানুষের উপর পরিবেশের গভীর প্রভাব বর্তায়। জলসায় আধ্যাত্মিক পরিবেশ থেকে লাভবান হবার আপ্রাণ চেষ্টা করুন। মানুষের মাঝে ততক্ষণ নৈতিক গুণ সৃষ্টি হতে পারে না যতক্ষণ সে অহংকার পরিত্যাগ না করে। যার হৃদয় থেকে অহংকার দূরীভূত হয় সে সেই অবস্থানে উপনীত হয় যে স্থানে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) আমাদেরকে দেখতে চেয়েছেন। তাই এই দিন ক’টিতে নিজেদের অভ্যন্তরীণ অবস্থার সংশোধন করুন। জলসায় অনেক বক্তৃতা হবে, আল্লাহ্‌তা’লা বক্তাদেরকে ভালভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের তৌফিক দিন আর শ্রোতাদেরকেও সেসব বক্তব্য নয় কেবল শোনার বরং এসবের উপর আমল করার তৌফিক দিন।

হুযূর বলেন, গত বছর জার্মানীর জলসায় লাজনাদের মার্কীতে হট্টগোল হবার কারণে আমি বলেছিলাম ভবিষ্যতে তাদেরকে জলসায় যোগদান করতে দেয়া হবে না। কিন্তু পরবর্তীতে তারা বারবার ক্ষমা চেয়ে পত্র লিখেন এবং ভবিষ্যতে হট্টগোল না করার প্রতিজ্ঞা করলে আমি জলসায় যোগদানের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তুলে নেই। আল্লাহ্‌তা’লা আপনাদেরকে অঙ্গীকার রক্ষার তৌফিক দিন। এবং আপনাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য ���েশের লাজনাদেরকেও অনুরূপ আমল করার তৌফিক দিন।

হুযূর বলেন, জামাতের প্রতি প্রতিনিয়ত খোদার রহমতের যে বারি বর্ষিত হচ্ছে, আমাদের মধ্য থেকে প্রত্যেক আহ্‌মদী যেন তা থেকে অংশ লাভ করতে সক্ষম হই, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে