In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

‘মসজিদের গুরুত্ব এবং আমাদের করণীয়’

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

হ্যামবার্গ, জার্মানী

১৫ই আগস্ট ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ كَمَا بَدَأَكُمْ تَعُودُونَ

(সূরা আল্ আরাফ: ৩০)

হুযূর বলেন, সচরাচর জলসার পূর্বে আমি যখনই জার্মানী আসি প্রথমে ফ্র্যাঙ্কফোর্ট যাই, এরপর বাইরের পালা; কিন্তু এবার রমযানের কারণে জার্মানীর জলসা স্বাভাবিক সময়ের এক সপ্তাহ পূর্বে হচ্ছে, তাই তাড়াতাড়ি আসা। এবছর পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশ থেকে অনেক আহ্‌মদী যুক্তরাজ্যের জলসায় যোগদান করেছেন, সবার সাথে সাধ্যমতো মোলাকাত করার চেষ্টা সত্ত্বেও হয়তো অনেকের সাথে তাড়াতাড়ি জার্মানীর উদ্দেশ্যে বের হওয়ার কারণে সাক্ষাত করা সম্ভব হয়নি। জার্মানীর আমীর সাহেব বলেন যে, দীর্ঘদিন হ্যামবার্গ যাওয়া হয়নি তাই এবার হ্যামাবার্গ আসতে হবে; এছাড়া দু’টি মসজিদও উদ্বোধন করার ছিল যার একটি গতকাল ষ্টুডবার্গে উদ্বোধন করেছি আরেকটি আগামীকাল হ্যানোভারে উদ্বোধন করা হবে। প্রথম মসজিদের নাম রাখা হয়েছে ‘বাইতুল করীম’। আজ আমি মসজিদের গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু বলবো। মসজিদ আল্লাহ্‌র ঘর যা কেবলমাত্র আল্লাহ্‌তা’লার ইবাদতের উদ্দেশ্যেই নির্মিত হয়। এদিকে আহ্‌মদীদের অনেক দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক। যতদূর সম্ভব আমি নিজে গিয়ে বিভিন্ন দেশে মসজিদ উদ্বোধন করে থাকি। গত কয়েক বছর ধরে আমি মসজিদ নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করে আসছি যে কারণে মসজিদ নির্মাণের প্রতি জামাতের ভেতর সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর উক্তি এ বিষয়ে আমাদের উদ্বুদ্ধ করে যে,

‘যদি কোন গ্রাম বা শহরে ইসলামের উন্নতি চাও তাহলে সেখানে মসজিদ বানিয়ে দাও।’

মসজিদ নির্মাণের জন্য নিয়্যত স্বচ্ছ হতে হবে। জাগতিক কোন স্বার্থ যদি না থাকে তাহলে খোদাতা’লা মসজিদ নির্মাণের ফলশ্রুতিতে আমাদের অশেষ কল্যাণে ভূষিত করবেন।

হুযূর বলেন, এতে কেবল জামাতের পরিচিতিই বাড়বে না বরং জামাতের সদস্যদের তরবিয়তও হবে। মসজিদ বানানোর পাশাপাশি আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, মসজিদ যেন সবার জন্য কল্যাণকর হয়। একসময় এখানে ছোট একটি মসজিদ ছিল যা তখনকার প্রয়োজনের নিরিখে যথেষ্ট ছিল এবং স্থানীয় লোকদের মধ্যে জামাতের জন্য যথেষ্ট সুনামের কারণ হয়েছে। হ্যামবার্গে আপনারা ‘বাইতুর রশীদ’ নামে জামাতের বড় মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। মসজিদ ঘর ছাড়াও এখানে বড় একটি হল রয়েছে কিন্তু আল্লাহ্‌তা’লা জামাতের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন, নামাযীর সংখ্যা বেড়েছে ফলে পুরনো মসজিদ ছোট হয়ে গেছে। গতকালও মাগরিব ও ইশার নামাযের সময় মসজিদে উপচে পড়া ভির ছিল, আশেপাশের এলাকা থেকে আহ্‌মদীরা এসেছিলেন তাই মসজিদের বাইরে তাবু খাঁটিয়ে নামাযের ব্যবস্থা করা হয় আর অনেকেই রাস্তার পার্শ্বে দাঁড়িয়ে নামায পড়েন। তাই আজ এখানে হল ভাড়া করে জুমুআর নামায আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা আমাদের প্রয়োজন অনুসারে বড় মসজিদ নির্মাণ করি কিন্তু খোদাতা’লা প্রতিনিয়ত নিজ অনুগ্রহে তা ছোট করে দেন এবং আমাদের প্রয়োজন বৃদ্ধি করে নিজ অনুগ্রহে চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করেন।

হুযূর বলেন, খুতবার শুরুতে আমি যে আয়াত তেলাওয়াত করেছি তার অনুবাদ হচ্ছে,

‘তুমি বলো, আমার প্রভু ন্যায়-বিচারের আদেশ দিয়েছেন এবং আরো যে, তোমরা প্রত্যেক মসজিদে উপস্থিতির সময় তাঁর দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করো এবং তাঁর উদ্দেশ্যে দ্বীনকে বিশুদ্ধ করে কেবল তাঁকেই ডাকো। যেভাবে তিনি তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলেন, সেভাবে তোমরা তাঁর পানে ফিরে যাবে।’

এ আয়াতে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি প্রত্যেক মু’মিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে ন্যায়-বিচার। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌তা’লা পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলেন,

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا

অর্থ: ‘নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার প্রাপককে অর্পণ করো, এবং যখন তোমরা লোকের মধ্যে বিচার করো তখন ন্যায়-পরায়ণতার সাথে বিচার করো। আল্লাহ্ তোমাদেরকে যার উপদেশ দিচ্ছেন নিশ্চয় তা অতি উত্তম। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সূরা আন্ নিসা: ৫৯)

এখানে মনে রাখার যোগ্য বিষয় হচ্ছে, মু’মিনের ইনসাফ বা ন্যায়-বিচারের মান তখনই বৃদ্ধি পাবে যখন সে খোদার অধিকার এবং বান্দার প্রাপ্য প্রদানের ক্ষেত্রে যত্নবান হবে। মু’মিন কিভাবে খোদার অধিকার প্রদান করবে? যখন খোদা প্রদত্ত সবকিছু তাঁকে ফিরিয়ে দিতে তৎপর হবে, খোদার নির্দেশ পালনে সদা সতর্ক থাকবে তখনই সে খোদার অধিকার আদায় করছে বলে বিবেচিত হবে। এ আয়াতে বর্ণিত আমানত শব্দের অর্থ হচ্ছে, সকল জাগতিক ও আধ্যাত্মিক আমানত। অর্থাৎ বান্দা খোদার সত্ত্বায় বিলীন হয়ে সবকিছু তাঁর জন্য উজাড় করে দিবে এটিই আমানত রক্ষার তাৎপর্য। আমানত রক্ষার মত নৈতিক আদর্শের উপর পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন কেবলমাত্র আমাদের আঁকা ও মনিব মহানবী (সা:)। তাঁর জীবন চরিত আমাদের জন্য এ পথে পরিচালিত হবার আলোকবর্তিকা স্বরূপ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌তা’লা বলেছ���ন, মহানবী (সা:) তোমাদের জন্য আদর্শ। তোমরা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করো। আমরা তখনই খোদার সত্যিকার বান্দা হবো যখন তিনি আমাদেরকে যা দিয়েছেন তা পুরোপুরি তাঁকে ফিরিয়��� ���িতে প্রস্তুত থাকবো। এ চিন্তা এবং চেতনা নিজেদের মাঝ�� ��ৃষ্ট�� হলেই আমরা খোদার অধিকার সঠিকভাবে প্রদান করতে পারবো। খোদার আমানত প্রত্যার্পণ এবং মানুষের প্রতি সুবিচারের মাধ্যমে সঠিক বান্দা হতে পারবো। আর সুবিচার করা বা আমানত সঠিকভাবে ফেরৎ দেয়াও খোদার অপার অনুগ্রহেই সম্ভব।

হুযূর বলেন, সুতরাং যখনই মসজিদে আসবেন খোদার কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আপনাদের সুবিচার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেন। কারো অধিকার খর্ব বা ন্যায়-নীতিকে পদদলিত করা থেকে খোদা আপনাদেরকে রক্ষা করুন। আমি যে আয়াত তেলাওয়াত করেছি তাতে খোদা নিজের সম্পর্কে ঘোষণা করেন যে, তিনি ‘বাসির’ অর্থাৎ সর্বদ্রষ্টা। তিনি কেবল বাহ্যিক অবস্থাই দেখেন তা নয় বরং তিনি মানুষের অন্তরের অন্তস্থল পর্যন্ত দেখে থাকেন। তিনি তোমাদের নিয়্যত বা সংকল্প সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত। তোমাদের ইনসাফ বা সুবিচার সম্পর্কেও তিনি জ্ঞাত কারণ তিনি সম্যক দ্রষ্টা।

খোদার নৈকট্য লাভের জন্য তাঁর ইবাদত করা ও তাঁর প্রতি সমর্পিত হওয়া একান্ত আবশ্যক। সর্বোত্তম ইবাদত হচ্ছে নামায। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে কেউ একজন প্রশ্ন করেন নামাযে মানুষের সর্বোত্তম অবস্থাকে কিভাবে চিত্রায়িত করা যায়? তিনি (আ:) বলেন,

‘পুরোপুরি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে নামায আদায় করো। তোমরা তোমাদের নামায এমনভাবে আদায় করো যেন তোমরা খোদাকে দেখছো যদি এতটা সম্ভব না হয় তা হলে এই নিশ্চিৎ বিশ্বাস পোষণ করো যে তিনি তোমাকে দেখছেন। নামাযে দোয়া মাসুরা ও বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করো। নিজের দুর্বলতা খোদার সমীপে প্রকাশ করো যেন খোদার দয়া লাভ হয়।’

হুযূর বলেন, মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর উপরোক্ত কথার সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাই আমাদের প্রিয় নবী (সা:)-এর ব্যবহারিক জীবনে। এ সম্পর্কে স্বয়ং খোদাতা’লা তাঁর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা করিয়েছেন,

قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

অর্থ: তুমি বলো, ‘নিশ্চয় আমার নামায এবং আমার কুরবানী এবং আমার জীবন এবং আমার মরন সব কিছুই আল্লাহ্‌র জন্য যিনি সমগ্র জগতের প্রভু-প্রতিপালক।’ (সূরা আল্ আন‘আম: ১৬৩)

খোদার এক বান্দা যখন এভাবে খোদার সত্ত্বায় বিলিন হবে বা মহানবী (সা:)-এর জীবনাদর্শ দৃষ্টিপটে রাখবে তখন ইনসাফ ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার সকল দাবী পূর্ণ করতে সে সক্ষম হবে এবং সে খোদার সত্যিকার দাসে পরিণত হবে । সুতরাং এভাবে খোদার নির্দেশের উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া এক ব্যক্তিকে শিশুর মত নিষ্পাপ হবার মর্যাদা দান করে।

আল্লাহ্‌তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ

অর্থ: ‘আল্লাহ্ নিশ্চয় সুবিচার ও উপকার সাধন করবার এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দিতেছেন এবং সর্বপ্রকার অশ্লীলতা ও মন্দকার্য এবং বিদ্রোহ করতে বারণ করছে।’ (সূরা আন্ নাহ্‌ল: ৯১)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘আমল বা কর্ম সম্বন্ধে পবিত্র কুরআনে উৎকর্ষ ও পরিপূর্ণ শিক্ষা সম্বলিত একটি আয়াত রয়েছে। আল্লাহ্ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন, তোমরা যেন ন্যায়-বিচার করো এবং ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত হও। আর যদি এরচেয়ে বেশি পূর্ণতা লাভ করতে চাও তবে অনুগ্রহ (ইহসান) করো। অর্থাৎ যারা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেনি তাদের প্রতিও উত্তম আচরণ ও অনুগ্রহ করো। আর যদি এরচেয়েও বেশি উন্নতি করতে চাও তবে ধন্যবাদ কিংবা কৃতজ্ঞতা বোধের আশায় নয় কেবল ব্যক্তিগত সহানুভূতি এবং স্বভাবজ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবের প্রতি অনুগ্রহ করো, যেমন এক মা আপন সন্তানের প্রতি কেবল এক স্বভাবজ মমতার টানে অনুগ্রহ করে থাকেন।’

হুযূর বলেন, আমাদের মৌখিক দাবী যথেষ্ট নয় বরং কার্যে পরিণত করে দেখানো আবশ্যক। মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর যে উদ্ধৃতিটি আমি পাঠ করেছি তাতে খোদাতা’লা তিনটি পুণ্যের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে খোদা ও বান্দার অধিকার প্রদানের বিষয়টি বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। আবার তিনটি পাপকে চিহ্নিত করে তা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি মানুষ সত্যিকারেই তাঁর ইবাদত করে তাহলে সে পাপে লিপ্ত হতেই পারে না। যেভাবে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,

إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ

অর্থ: ‘এবং নামায কায়েম করো, নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও মন্দকার্য হতে বিরত রাখে।’ (সূরা আনকাবূত: ৪৬)

সুতরাং যদি এক ব্যক্তি খাঁটি মু’মিন এবং ইবাদতকারী হিসেবে খোদার প্রতি সমর্পিত হয়ে সর্বদা নিজের পাপের প্রতি দৃষ্টি রেখে এর থেকে বাঁচার মানসে খোদার কাছে দোয়া করে তাহলে এটি হবে নিজের প্রতি সুবিচার। এই আয়াতে তিনটি পাপের কথা উল্ল্যেখ করা হয়েছে যা একজন মু’মিন কোন ক্রমে করতে পারেনা। প্রথমটি হলো ‘ফাহশা’ (অশ্লীলতা) বা মানুষের এমন পাপকর্ম যা মানুষ নিজে ছাড়া অন্য কেউ জানেনা। এর পরের শব্দ হলো ‘মুনকার’ অর্থাৎ এমন অপছন্দনীয় কর্ম যা অন্যের ক্ষতি না করলেও নিজের ক্ষতি অবশ্যই করে। যেমন অভ্যস্ত মিথ্যাবাদী। অনেকে কথায় কথায় গালি দেয়। খলীফাতুল মসীহ্ সানী (রা:) যুগে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে যে, অমুক ব্যাক্তি কথায় কথায় গালি-গালাজ করে। তিনি যখন তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন তখন সে ব্যক্তি প্রথমেই গালি দিয়ে বলে, কে আপনাকে বলেছে? হুযূর (রা:) তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন ঠিক আছে আর বলতে হবে না। অর্থাৎ মানুষ যখন কোন কিছুতে অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন সে কি করছে সে ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যায়। এ ধরনের অপরাধ থেকে প্রত্যেক আহ্‌মদীকে বাঁচতে হবে। মনে রাখবেন এরূপ কর্মে অন্যের ক্ষতি না হলেও নিজের বড় ক্ষতি হয়ে যায়। পরিশেষে এক পর্যায়ে সে আপন স্বার্থ সিদ্ধির জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয়। আল্লাহ্ বলেন, যারা সত্যিকার নামায পড়ে তারা এমন করতেই পারে না। এরপর বলা হয়েছে ‘বাগী’ অর্থাৎ যারা অন্যের অধিকার খর্ব করে তারা বিদ্রোহী। সকল নৈরাজ্য ও অন্যায়ের দ্বার এরা উম্মুক্ত করে। আল্লাহ্‌তা’লা এ অপকর্ম থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

এরপর হুযূর ইবাদত তথা নামাযের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। যদি কেউ নামায আদায় করে তাহলে তার মধ্যে উন্নত নৈতিক গুণাবলী সৃষ্টি হবে। পাপ, অবাধ্যতা, অন্যায় এবং অশ্লীলতা থেকে সে মুক্ত থাকবে। আল্লাহ্‌তা’লা প্রত্যেক আহ্‌মদীকে খোদার অধিকার আদায় এবং এবং বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে যত্নবান হবার তৌফিক দিন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে