In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

‘যুক্তরাজ্যের সালানা জলসা সাফল্যজনকভাবে সমাপন উপলক্ষ্যে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন’

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১লা আগস্ট ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করেন,

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلا تَكْفُرُونِ

(সূরা আল্‌ বাকারাঃ ১৫৩)

এরপর হুযূর বলেন, আল্লাহ্‌তা’লার অপার অনুগ্রহে গত বোরবার আমাদের যুক্তরাজ্যের বার্ষিক জলসা অত্যন্ত সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। খলীফার উপস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যের জলসা অনেকটা কেন্দ্রীয় জলসার রূপ পরিগ্রহ করেছে। বছরের শুরু থেকেই গোটা বিশ্বের আহ্‌মদীরা এ জলসায় যোগদানের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। যাদের আকাশপথে সফর করে জলসায় যোগদানের সামর্থ্য রয়েছে তারাতো করেনই বরং যাদের সামর্থ্য কম তারাও নিজেদের সঞ্চয় যা আছে তা খরচ করে জলসায় যোগদানের চেষ্টা করেন। অনেকেই জলসা সমাপন করে পরের দিন ফিরে গেছেন আবার অনেকে পরবর্তী জুমুআর অপেক্ষা করেন এবং জুমুআ পড়ে কাল অথবা পরশু ফিরে যাবেন। হুযুর বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেককে জানি যাদের তেমন আর্থিক সামর্থ্য নেই, তারা মূলত জলসায় যোগদান করেন হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর দোয়া ও খলীফার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে।

হুযূর বলেন, এবছর বিপুল সংখ্যক আহ্‌মদী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জলসায় যোগদানের উদ্দেশ্যে ভিসার আবেদন করেন, কিন্তু তার তুলনায় খুব অল্পলোকই ভিসা পেয়েছেন। ভিসা সমস্যার কারণে অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্বেও আসতে পারেন নি, তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছেন কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় অনেকের আকাংখার বাস্তবায়ন হয়নি। যাদের ভিসার আবেদন প্রত্যাখাত হয়েছে তারা আমাকে আবেগভরা পত্র লিখেন কিন্তু সত্যিকার আবেগ সেসব লোকের চিঠিতে পাওয়া যায় সত্যিকারেই যাদের লন্ডন আসার কোন সামর্থ্য নেই এবং যারা এমনকি আগামী বছরের জলসায়ও আসার কথা ভাবতে পারে না। তাদের আবেগ এতই প্রবল যে, তা কেবল ব্যক্ত করাই কঠিন নয় বরং তা পাঠকারীকেও গভীরভাবে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

আল্লাহ্‌তা’লা এমন ব্যবস্থা করুন যেন এই দূরত্বের সমস্যা সহসা দূরীভূত হয়ে যায়। যতই চেষ্টা করা হোক পাকিস্তান থেকে কেবল কয়েক হাজার আহ্‌মদী এই জলসায় যোগদান করতে পারেন; কিন্তু সেখানকার জলসায় তো লাখো লোক যোগদান করতেন। ফলে পাকিস্তানের আহ্‌মদীদের জলসায় যোগদানের আকাংখা বেশি কারণ দীর্ঘকাল ধরে তারা জলসা করতে পারছেন না। যুগ খলীফাকে স্বশরীরে দেখতে পারছে না। তাদেরকে জোর করে নিজেদের আধ্যাত্মিক ইমামের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তাই সব কিছুর বিনিময়ে তারা যুগ খলীফার উপস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের জলসায় যোগদান করতে চেষ্টা করেন। দোয়া করুন আমাদের এই দূরত্ব যেন খোদা দূর করে দেন। অচিরেই খোদা আমাদেরকে পরস্পরের সাথে মিলিত হবার ব্যবস্থা করুন। যাহোক, সকল বাঁধা-বিপত্তি সত্বেও চল্লিশ হাজারের বেশি মানুষ এ আধ্যাত্মিক জলসায় যোগদানের সৌভাগ্য লাভ করেছেন। এমটিএ’র কল্যাণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসে আহ্‌মদীরা এ জলসার অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন। জলসা শেষ হবার পর থেকে আমি অসংখ্য শুভেচ্ছামূলক পত্র পাচ্ছি আর এমন পত্রের স্তুপ জমে গেছে। এমন মোবারকবাদের পত্র আসা আফ্রিকা সফরের পর থেকে আরম্ভ হয়েছে। যারা জলসায় সরাসরি যোগদান করতে পারেননি তাদের আবেগ-অনুভূতির কথা পত্রপাঠে বিশদভাবে অবহিত হওয়া যায়। অনেকে নিজেদের বাড়ীতে সমবেতভাবে জলসা দেখার ব্যবস্থা করে কিছুটা হলেও জলসার পরিবেশ গড়ে তুলেছেন। লঙ্গরখানার মতই আলু গোস্ত এবং ডালের ব্যবস্থা করেছেন। মোটকথা তারা ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানো’র আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তারা এমটিএ’র মাধ্যমে আমাকে দেখলেও আমিতো তাদের দেখতে পারছি না, তবে অন্তরের চোখ দিয়ে তাদের আবেগ-অনুভূতি উপলদ্ধি করার চেষ্টা করি। খিলাফত শতবার্ষিকী জুবিলী জলসায় সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি ছিল ঘানা’তে। সেখানে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ জলসায় যোগদান করেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের জলসায় পঁচাশি’টি দেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল। এত বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব অন্য কোন দেশের জলসায় হয়নি। সবদিক থেকে জলসা অত্যন্ত সফল হয়েছে যার কথা আপন-পর সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন। কেউ কেউ আপত্তিও করেছেন কিন্তু তা কেবল আপত্তির খাতিরে আপত্তি।

হুযূর বলেন, এ জলসায় আহ্‌মদীরা ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে অমুসলমান প্রতিনিধিরা যোগদান করেছেন। তাদের কেউ কেউ আবার তাদের সরকারের পক্ষ থেকে বাণীও নিয়ে এসেছেন। উগান্ডার জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার যিনি একজন মহিলা তিনি তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আমাকে বলেন,

‘আপনি মহিলাদের উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমাকে অভিভূত করেছে। নারীর অধিকার সম্পর্কে অনেকেই অনেক কথা বলে কিন্তু তাদের অধিকার কি তা কেউ বলে না; কুরআনের আলোকে যে ইসলামী শিক্ষা আপনি বর্ণনা করেছেন তা অনন্য’।

তাজাকিস্তান থেকে আগত প্রতিনিধি মন্তব্য করেছেন,

‘আপনাদের শিক্ষা হচ্ছে আসল ইসলামী শিক্ষা। সারা বিশ্ব যদি এই শিক্ষা গ্রহন করতো তাহলে কত ভাল হতো’।

একজন আহ্‌মদী লিখেছেন,

‘জলসা গাহে যেসব শিশুরা পানি পান করিয়েছে তাদের কাছ থেকে আমরা যখনই পানি নিতাম তারা ��নন্দিত হতো কিন্তু কখনও পানি না খেতে চাইলে তাদের মুখ অন্ধকার হয়ে যেতো’।

আইভরিকোষ্ট থেকে আগত একজন রাজনীতিবিদও একথাই বলেছেন,

‘যখনই তারা আ��ার কাছে পানি নিয়ে এসেছে আমি পানি নিতে বাধ্য হতাম, পানি ন�����লেই তা��ের চেহারা হাস্যোৎফুল্���� হয়ে যেতো’।

এই হচ্ছে আহ্‌মদী শিশুদের ধর্ম সেবার প্রতি আন্তরিকতা। বিশ্ববাসী একে অতিরঞ্জন মনে করতে পারে কিন্তু আমি জানি সকল ডিউটি প্রদানকারী কর্মী এভাবেই অত্যন্ত আনন্দের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সেসব মা’য়েরা মোবারকবাদ পাবার যোগ্য যাদের ক্রোড়ে এসব শিশুরা লালিত পালিত হচ্ছে।

হুযূর বলেন,

‘একজন অ-আহ্‌মদী বন্ধু আমাকে বলেছেন, জলসাগাহে যখন আহ্‌মদীরা আবেগাপ্লুত হয়ে ধ্বনি উত্তোলন করছিল তখন একবার আপনি থামতে বললে সবাই এক মূহুর্তের মধ্যে চুপ করে যান, এ দৃশ্য আমি ইতোপূর্বে আর কোথাও দেখিনি। আমার মতে সত্যিকার ইসলামী শিক্ষা আপনাদের মধ্যেই আছে’।

হুযূর বলেন, আমি তাকে বলেছি, পাকিস্তানের মৌলভীদেরকে আপনি একথা জানাবেন। আজকে সবাই খিলাফতের প্রয়োজন অনুভব করে কিন্তু মানুষ ঐশী নেতৃত্বকে গ্রহণের জন্য প্রস্তুত নয়।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

‘আমি এই জামাতকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততায় সুস্পষ্ট ভাবে উন্নতি করতে দেখছি। অনেক সময় জামাতের আন্তরিকতা ও ঈমানী উদ্দীপনা দেখে স্বয়ং আমিও আশ্চর্য হই।’

তিনি (আঃ) আরো বলেন,

‘জামাতের সদস্যদের উন্নতি আমাকেও বিস্ময়াভিভূত করে।’

তিনি (আঃ) অন্যত্র বলেন,

‘খোদাতা’লা এই সত্যবাদীকে প্রেরণ করে এখন এমন একটি জামাত প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন যারা সত্যিকারভাবেই খোদাকে ভালবাসবে।’

হুযুর বলেন, এ জলসা যেখানে জামাতের উন্নতির কারণ সেখানে তবলীগেরও অনেক সুযোগ নিয়ে আসে। এবছরের জলসার সৌন্দর্য বর্ধণ করেছে জার্মানী থেকে আগত এক’শ সাইকেল আরোহী। খিলাফত শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেখানকার এক’শ যুবক সাইকেল চালিয়ে জলসায় অংশ গ্রহণ করেন। এটি জামাতের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা নয়। বুর্কিনাফাঁসো থেকে তিন’শ যুবক প্রচন্ড গরমের মধ্যে প্রায় ষোল-সতের’শ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এবছর ঘানার জলসায় যোগদান করেন। তাদের রাস্তা ভাঙ্গা ছিল, সাইকেলও ছিল ভাঙ্গাচোরা; প্রচার মাধ্যমের প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তোলে এ সাইকেল গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে কি? তাদেরকে উত্তর দেয়া হয়েছিল, সাইকেল ভাঙ্গা হলেও আমাদের ঈমান মজবুত; একথা সেখান পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিল। হুযূর বলেন, এ কারণে সাইকেল সফলকারীদের মধ্যে বুর্কিনাফাঁসো প্রথম স্থানের দাবী রাখে। পূর্বে হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ সালেস (রাহেঃ)-এর তাহরীক অনুযায়ী সে যুগেই জামাতের যুবকরা সাইকেল চালনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠে। সাইকেল ভ্রমনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে হুযুর নিজের একটি ব্যক্তিগত ঘটনা বর্ণনা করেন, তিনি বলেন রাবোয়ার এক জলসার পর তিনি এবং তাঁর এক আত্মীয় ফয়সালাবাদের উদ্দেশ্যে বাস স্ট্যান্ড আসেন। বাস আসতে বিলম্ব হওয়াতে তাঁরা ঘরে ফিরে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আর সাইকেল চালিয়েই ফয়সালাহ্‌বাদ পৌঁছেন। সাইকেল ভ্রমণের এ রীতি হযরত খলীফাতুল মসীহ সালেসের যুগে আরম্ভ হয়। আল্লাহ্‌তা’লা বুর্কিনাফাঁসো এবং জার্মানীর যুবকদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা গ্রহণ করুন। জামাতের মধ্যে এখন সাইকেল ভ্রমণের অভ্যাস ধরে রাখা উচিৎ, এটি অনেক উপকারী, এতে অনেক ব্যায়াম হয়, তেল খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি তবলীগের পথও সুগম হয়। বুর্কিনাফাঁসোর যুবকদের সাইকেল ভ্রমণও প্রচার মাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল আর জার্মানীর যুবকদের সাইকেল চালিয়ে জলসায় যোগদানও জার্মানী এবং যুক্তরাজ্যের মিডিয়ার জন্য আকর্ষণের কারণ হয়েছে। মানুষের এমন সফলতা দেখে শত্রুও সৃষ্টি হয় তাই আমাদেরকে সর্বদা খোদার আশ্রয়ে থাকার জন্য দোয়া জারী রাখতে হবে।

এরপর হুযূর বলেন, জলসার সফলতার পিছনে মূল অবদান হলো স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর। প্রায় চল্লিশটি বিভাগ আছে যারা নিজ নিজ গন্ডীত তাদের উপরস্থ কর্মকর্তার নির্দেশে কাজ করে থাকেন। একটি বিভাগ হলো ‘অনুবাদের’। এবারের জলসায় মূল মার্কীতে ২৫০০ মানুষকে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ শুনানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ প্রসঙ্গে আমি ‘ওয়াকফে নও’দের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, আমাদের ‘ওয়াকফে নও’দেরকে ভাষা শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। আগামীতে আমাদের আরো অনেক বেশি অনুবাদকের প্রয়োজন হবে আর ‘ওয়াকফে নও’রাই পারবে সেই চাহিদা পূর্ণ করতে।

হুযূর বলেন, এবছর জলসাকে সর্বাঙ্গীন সফল করার পিছনে প্রায় ৩৫০০ পুরুষ ও ১৮০০ মহিলা নিরবধি কাজ করেছেন। ১১০জন এমটিএ’ কর্মী সবার ঘরে ঘরে এই জলসার অনুষ্ঠান পৌঁছানোর কাজ করেছে। এদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর লক্ষ্যে সবাইকে এদের জন্য দোয়া করা উচিৎ। আর কর্মীদের উচিৎ তারাও যেন খোদার প্রতি বিনীতভাবে দোয়া করে, কেননা খোদাতা’লাই তাদেরকে এমন খিদমত করার তৌফিক দিয়েছেন। যে আয়াত আমি পাঠ করেছি তাতেও খোদাতা’লা একথাই শিক্ষা দিয়েছেন। ‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব, এবং আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, এবং আমার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ জলসায় যোগদানকারীরা যেসব ভাল কথা বা নেকীর কথা শুনেছেন তার উপর প্রতিষ্ঠিত হোন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। জলসার সকল কর্মীর দোয়া করা উচিৎ যাতে খোদাতা’লা ভবিষ্যতে তাদেরকে আরো বেশি বেশি খিদমত করার তৌফিক দেন।

হুযূর বলেন, জলসার এই আধ্যাত্মিক পরিবেশ থেকে অ-আহ্‌মদীরা প্রভাবিত হবে আর আহ্‌মদীরা হবে না তা কোন ক্রমেই হতে পারে না। আহ্‌মদীরা যারা উপস্থিত ছিলেন আর যারা এমটিএ’র মাধ্যমে জলসা দেখেছেন তারা সবাই গভীরভাবে অভিভূত হয়েছেন। আমি প্রতিদিন তাদের পক্ষ থেকে অগণিত চিঠি পাচ্ছি। আল্লাহ্‌তা’লা তাদের ঈমান ও আমলে বরকত দিন। আপনারা খোদার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন, নিজেদের মাঝে পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করুন তাহলে খোদাতা’লাকে লাভ করতে পারবেন। নিজেদের মাঝে পবিত্র পরিবর্তন আনয়ন করতে পারলেই হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর জলসা আয়োজনের উদ্দেশ্য সফল হবে। নেকীর ক্ষেত্রে উন্নতি করুন আর শয়তানের হাত থেকে বাঁচার জন্য লড়াই অব্যাহত রাখুন। আল্লাহ্‌ ও রসূলের নিষ্টাবান দাসদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে সৎকর্ম সম্পাদনের আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকুন। সবশেষে মহানবী (সাঃ)-এর একটি দোয়া দিয়ে খুতবা শেষ করছি। হুযুর পাক (সাঃ) দোয়া করতেনঃ

‘হে আমার প্রভু! এমনটি কর যেন আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ হই, তোমাকে স্মরণকরি, তোমাকে ভয় করি, তোমার পরিপূর্ণ আনুগত্যকারী হই এবং তোমার সামনে আত্মসমর্পণ করি।’

আল্লাহ্‌তা’লা আমাদের এই তৌফিক দান করুন যেন এই দোয়াকে আমরা আমাদের দোয়ার বিশেষ অংশে পরিণত করতে পারি এবং নিজেদের পক্ষ্যে তা পূর্ণ হতে দেখি, আমিন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে