In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

জলসা সালানা, ইউকে-২০০৮

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

হাদীকাতুল মাহ্‌দী, হ্যম্পশাইয়ার, ইউকে

২৫শে জুলাই, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, আল্লাহ্‌তা’লার অশেষ কৃপায় আজ জুমুআর খুতবার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক জলসা আরম্ভ হচ্ছে। এ জলসা থেকে পুরোপুরী লাভবান হওয়ার জন্য আমাদেরকে সর্বাবস্থায় জলসার পবিত্র উদ্দেশ্য দৃষ্টিপটে রাখতে হবে। জলসায় বসে নিজেদের পছন্দমত কয়েকটি বক্তৃতা শোনাই যথেষ্ট নয় বরং নিজেদের মাঝে পবিত্র পরিবর্তন আনয়ন একান্ত আবশ্যক। এ কয়দিন যথাসময় বাজামাত নামায আদায় করুন। জলসা ও নামায চলাকালে বাজার বন্ধ থাকে, তাই সেখানে যাবার প্রয়োজন নেই। অনুষ্ঠান চলাকালে কোন মতেই নিয়ম-কানুন লঙ্ঘন করে সেখানে যাবেন না। জলসার দিনগুলোতে বাজামাত তাহাজ্জুদের ব্যবস্থা রয়েছে, অবশ্যই তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাযে শামিল হবার চেষ্টা করুন। যারা জামাতের ব্যবস্থাপনায় না থেকে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীতে থাকছেন তারা অবশ্যই মসজিদ বা নিকটবর্তী নামাযের স্থানে গিয়ে ফজরের নামায আদায় করুন।

হুযূর বলেন, ঘরের মালিক নামাযে আসুন এবং আপনার অতিথিকেও নামাযে আসার জন্য উৎসাহিত করুন। জলসায় এসে যদি পুরো প্রস্তুতির সাথে নামায না পড়েন তাহলে কেবল বক্তৃতা শোনা কোন কাজে আসবে না। যারা বিভিন্ন দায়িত্বে আছেন তারা নিজ নিজ স্থানে নামাজ পড়ুন। এবছরের জলসা খিলাফত শতবার্ষিকী জলসা। পবিত্র কুরআনে যেখানে খিলাফতের আয়াত বর্ণিত হয়েছে তাতে খোদাতা’লা খিলাফত প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি প্রদানের পরই খোদার ইবাদত এবং তার সাথে কাউকে শরীক না করার জন্য মু’মিনদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ্‌তা’লা বলেছেন,

يَعْبُدُونَنِي لا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئاً

যদি তোমরা আমার ইবাদত করো এবং আমার সাথে কাউকে শরীক না করো তাহলে খেলাফতের ধারা নিরবচ্ছিন্ন থাকবে। (সূরা আন্‌ নূর: ৫৬)

হুযূর বলেন, এদিনগুলোতে আপনারা একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে সমবেত হয়েছেন। তাই এই সময় বেশি বেশি দোয়া করুন, একান্ত বিনয়ের সাথে নামায আদায় করুন। নামায এমন ভাবে পড়ুন যেন আপনাদের হৃদয় বিগলিত হয়। আল্লাহ্‌তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ

এবং যারা সতত তাদের নামাযের হিফাযত করে। (সূরা আল্‌ মু’মিনূন: ১০)

নামায একটি কাজ যার ফলে উভয় জগৎ সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনিশ্চিত হয়। নামায এমন একটি কর্ম যার ফলে সকল অশ্লিলতা দূরীভূত হয়। কিন্তু খোদার ফযল ছাড়া মানুষ এমন নামায পড়তে পারে না। দিনরাত দোয়া করুন যেন খোদা আমাদেরকে এই নামায পড়ার তৌফিক দেন যার ফলে আমরা সকল নোংড়ামি থেকে মুক্তি লাভ করতে পারব ইনশাল্লাহ।

হুযূর বলেন, দ্বিতীয় বিষয় হলো সালাম। বেশি বেশি সালামের প্রচলন করুন। পারষ্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রীতি ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য সালাম মূখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

হুযূর বলেন, গত খুতবায় আমি মেযবানের (আতিথেয়তকারী) দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছি। আজ অতিথিদের সম্পর্কে কিছু বলবো। অতিথিকে স্মরণ রাখতে হবে যে, তাদেরও কিছু দায়-দায়িত্ব আছে। এ ব্যাপারে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আদর্শ কি ছিল তা আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। তাঁর অতিথি সেবার কথা গত জুমুআয় বিস্তারিত বলেছি কিন্তু যখন তিনি অন্যের আতিথ্য গ্রহণ করেছেন তখন তিনি কেমন আদর্শ স্থাপন করছেন তাও আমাদের জানা আবশ্যক।

শেখ ইয়াকুব আলী ইরফানী (রাঃ) একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেনঃ জঙ্গে মোকাদ্দস এর দিনগুলোর ঘটনা, আবদুল্লাহ আথম এর সাথে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) যে ধর্মীয় বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় তা-ই জঙ্গে মোকাদ্দস নামে পরিচিত। এ সফরে অনেক অতিথি সমবেত হন। যার ঘরে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল তিনি স্ত্রী’কে বলে গেলেও তার স্ত্রী খাবার পরিবেশন করতে ভুলে যান। তিনি (আঃ) খাবারের জন্য অপেক্ষা করেন আর এভাবে রাত গভীর হয়ে যায়। তিনি (আঃ) গৃহকর্তাকে খাবারের কথা জিজ্ঞেস করেন। তিনি জানতে পারলেন যে খাবার নেই আর গৃহ কর্তা ব্যতিব্যস্ত হয়ে কিছু করতে যাচ্ছিলেন তিনি (আঃ) বলেন, কষ্টের দরকার নেই। দস্তর খানে কিছু আছে কিনা দেখ, কয়েকটি রুটির শুকনো টুকরা পড়ে ছিল মাত্র। তাই খেয়ে তিনি অনায়াসে তাঁর আহার সেরে নেন। এই হলো হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর উন্নত নৈতিক আদর্শ। খাবার আনা যেতো কিন্তু তিনি পছন্দ করেন নি, কাউকে প্রশ্ন করেন নি যে কেন এমন হলো? বরং হযরত (আঃ) অন্যের ভীতি দুর করে বলেন, কোন সমস্যা নেই যা আছে তা দিয়েই চলে যাবে।

এরপর যারা পরিবহনের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন তাদেরকে উদ্দেশ্য করে হুযূর বলেন, এবছর পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন এবং বাসে করে জলসা গাহে অতিথিদের আনা-নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে ব্যবস্থা উন্নত হবে বলে আশা করা যায়। তারপরও যদি কোন ঘাটতি থেকে যায় তাহলে অতিথিদের কাছ থেকে ধৈর্য প্রত্যাশা করছি। কোথাও কোন ক্রটি থাকলে রাগ না করে চিন্তা করবেন আমাদের জলসায় যোগদানের মূল উদ্দেশ্য কি? শত-শত বরং হাজার-হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এখানে আসার উদ্দেশ্য কি?

এরপর হুযূর বলেন, খাবার বেলায়ও ধৈর্য প্রদর্শন করুন। অনেক সময় কর্মীদের কারনেও অশান্তি দেখা দেয়। যারা রোগী বা অসুস্থ্য তাদের খাবারের প্রতি দৃষ্টি রাখুন। রোগীদের জন্য পরিবহন ষ্ট্যান্ডে কিছু খাবার প্যাকেটের ব্যবস্থা রাখুন। যাতে বাস আসতে দেরী হলে অসুস্থ্যরা ক্ষুধার কারনে কষ্ট না পায়। প্রয়োজনে আটার রুটি রাখা যেতে পারে। বিলম্বে পৌঁছার কারণে ঘানার জল��ায় বেনিন ও আইভরি কোষ্ট থেকে আগত প্রতিনিধিদল খাবার পায় নি। পরে তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয় কিন্তু সময়মতো খাবার সরবরাহ করতে না পারায় তাদের কাছে ক্ষমাও চাওয়া হয়। কিন্তু তারা বলেন, যে উদ্দেশ্যে আমরা জলসায় এসেছি তা পূর্ণ হয়েছে। যুগ খলীফার উপস্থিতিতে শত বার্ষিকী জলসায় যোগদান করাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য আর তা পূর্ণ হয়েছে। এই হলো আফ্রিকার নবাগত আহ্‌মদীদের উন্নত দৃষ্টান্ত।

হুযূর বলেন, অনেক সময় মহিলারা ছোট-খাট ব্যাপারে অভিযোগ করে থাকে। মনে রাখবেন, মেজবানের যদি কিছু দায়িত্ব থাকে তাহলে অতিথিরও কিছু দায়িত্ব আছে। মহানবী (সাঃ) অতিথিকে কেবল তিন দিন আতিথ্য গ্রহণের অধিকার দিয়েছেন। তিনদিন পরে থাকলে তা জোর করে থাকার শামিল। আহ্‌মদী অতিথি কেবল আতিথ্য গ্রহণের জন্যই আসেনা বরং সামগ্রিকভাবে জলসার কল্যাণ ও দোয়ার জন্য আসে। তাই নামায, দোয়া, নফল ইবাদত, সালাম এবং প্রেম প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করুন যেন জলসার দোয়া থেকে অংশ পেতে পারেন। যারা এমন করবেন তারা সকল দেশে অনুষ্ঠিত জলসায় কল্যানের ভাগী হবে। জলসায় দিনগুলোতে বেশি বেশি দোয়ার উপর জোর দিন। খোদাতা’লা তাঁর মু’মিন বান্দাদের দোয়া কবুল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

হুযূর বলেন, প্রসঙ্গ ক্রমে বলে রাখছি। আপনারা জলসার পরেও যদি থাকতে চান তাহলে নিজ দায়িত্বে থাকবেন। কতক এমন আছেন যারা জলসা শেষে বিভিন্ন কাজ-কর্ম করে অর্থ উপার্জন করেন। জলসায় এসে কাজ করা এমনিতেই অন্যায়; কারণ ভ্রমন ভিসায় এসে কাজ করার কোন বৈধ অনুমতি নেই। এখানকার সরকার জামাতকে বিশ্বাস করে তাই এবিশ্বাসকে ভূলুন্ঠিত করবেন না।

হুযূর বলেন, জলসার দিনগুলোতে আপনারা পরিবেশে ও পরিস্থিতির উপর দৃষ্টি রাখুন। অপরিচতি কাউকে দেখলে বা কোন বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে সাথে সাথে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দৃষ্টিগোচর করুন। মহিলাদের জলসা গাহের ভেতরও সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত। কেউ মুখ ঢেকে বসবেন না। যদি কারো চেহারা ঢাকা দেখেন তাহলে শৃংখলা রক্ষাকারীদের অবহিত করুন; যেন এমন মহিলার চেহারা দেখার ব্যবস্থা নেয় হয়। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্নবান হোন। জলসার যে অনুষ্ঠান সূচি ছাপানো হয়েছে তা পাঠ করুন। অধিকাংশ মানুষ পড়েনা। উড়ো জাহাজে ভ্রমন কালে যে দিকনির্দেশনা মানুষকে দেয়া হয় তাও অনেকে পড়েনা। দিকনির্দেশানা পড়া উচিত। আমি সব সময় কর্তৃপক্ষের প্রদেয় কার্ড পড়ি। অনেকে আবার কুসংস্কার বসত পড়েনা। সব মুসাফেরের জন্য দোয়া করা উচিত।

হুযূর বলেন, সম্প্রতি আমাদের কয়েকজন আত্মীয় আমেরিকাতে নৌকা ভ্রমনে যান। এক আত্মীয়া বলেন বলেন, কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে যে নির্দেশনামা দিয়েছিল তা আমরা পাঠ করিনি হঠাৎ আমাদের নৌকা উল্টে যায়। তখন বুঝতে পারি যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল তা পাঠ করা কত আবশ্যক ছিল। ভাসা দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। যাই হোক অনেক প্রাণহানী হতে পারতো আল্লাহ্‌ সবাইকে রক্ষা করেছেন।

হুযূর বলেন, আপনাদের জলসায় যেগদান প্রভূত কল্যাণের কারণ হোক। জলসায় যোগদানকারীদের জন্য কৃত হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর সকল দোয়া আপনাদের পক্ষ্যে গৃহিত হোক আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে