In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

জলসায় আগত অতিথিদের মেহমানদারী

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১৮ই জুলাই, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, রীতি মোতাবেক জলসা আরম্ভ হবার পূর্বে জুমুআর খুতবায় আয়োজকদের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। তাই আজ আমি জলসার কর্মীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবো। জলসা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে অতিথিরা আসবেন। অনেকে জামাতের তত্ত্বাবধানে থাকবেন আবার কতক তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাসায় অবস্থান করবেন। অতিথি যেখানেই অবস্থান করুন না কেন যেহেতু তিনি হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আহবানে সাড়া দিয়ে জলসায় যোগদানের উদ্দেশ্যে এসেছেন তাই যথাসম্ভব তাদের সেবা করতে হবে।

হুযূর বলেন, অতিথি সেবার কথা পবিত্র কুরআনে ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আর মহানবী (সাঃ) এবং তাঁর নিষ্ঠাবান প্রেমিক হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-ও অতিথি সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা আমাদের জন্য অনুকরণীয়। অতিথি সেবার ফলে পরস্পরের মধ্যে প্রেম-প্রীতি ও সৌহার্দ্র সৃষ্টি হয়। এটি নবীদের অনুপম বৈশিষ্ট্য। তাই আমাদেরকে যুগ ইমাম হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আহবানে যেখানে মানুষ সমবেত হবে সেখানেই তাদের সেবা করতে হবে। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর জন্য এ যুগে খোদা প্রদত্ত যেসব দায়িত্বাবলী রয়েছে তার মধ্যে অতিথি সেবা একটি বড় দায়িত্ব। আল্লাহ্‌তা’লা তাঁকে ইলহাম করে বলেছেন,

‘লা তুসা’য়্যের লি খালকিল্লাহি ওয়ালা তাস্‌আম মিনান্‌ নাস’

অর্থাৎ ‘তুমি আল্লাহ্‌র সৃষ্টির প্রতি গাল ফুলিয়ে রেখো না এবং লোকদের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়োনা।’

তিনি (আই:) তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য লঙ্গরখানা প্রতিষ্ঠা করেছেন। আজ তাঁর জামা'ত বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে লঙ্গরখানা স্থাপন করেছে। আজ যারা হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর অতিথিদের সেবা করার সুযোগ পাচ্ছেন তারা ধন্য। জামাতের যুবক-বৃদ্ধ সবাই অতিথি সেবার জন্য উদগ্রীব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জলসায় আমি যোগদান করি, প্রতিটি স্থানে আমি জামাতের নিষ্ঠাবান সদস্যদেরকে অতিথি সেবা করার জন্য স্বতস্ফূর্ত দেখতে পাই। আফ্রিকা ও কানাডায় খিলাফত শত বর্ষ পূর্তি জলসায় ব্যাপক লোক সমাগম ঘটে। সেখানেও সবাইকে আন্তরিকতার সাথে হাসি মুখে দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি।

হুযূর বলেন, যুক্তরাজ্যের জলসা খলীফার উপস্থিতির কারণে ভিন্ন মর্যাদা রাখে। আমাদের সবার অলক্ষ্যে এখানকার জলসার গুরুত্ব প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তাই আমার চিন্তাও বাড়ছে। মানুষের প্রত্যাশা ও চাহিদা বাড়ছে। যুগ খলীফা এখানে বসবাস করার কারণে এখানকার খোদ্দামরা গত চব্বিশ বছর ধরে লাগাতার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। রাবওয়াতে জামাতের নিজস্ব কর্মী বাহিনী আছে। কিন্তু এখানকার মত ব্যয়বহুল দেশে বসবাস করেও খোদ্দাম ও আনসার তাদের নিজেদের সময় এবং অর্থ কুরবানী করছে, যা সবার জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত বহণ করে।

হুযূর বলেন, জামাতের আয়োজন ও লঙ্গরখানার ব্যবস্থাপনা দেখে অ-আহ্‌মদীরা অনেক প্রভাবিত হয়। মহানবী (সাঃ)-এর অতিথিরাও তাঁর আতিথেয়তা দেখে মুগ্ধ হতো। আজও তাঁর সত্যিকার প্রেমিক মসীহ্‌র জামাতের আতিথেয়তা দেখে মানুষ অভিভূত হয়। আফ্রিকার জলসায় অংশগ্রহণকারী বিশাল সংখ্যার অতিথিদের জন্য সম্মিলিত আহারের ব্যবস্থা এবং আয়োজন দেখে সবাই বিস্মিত হয়েছে, অনেকে একে ঐশী জামাতের সত্যতার চিহ্ন হিসেবে দেখেছেন। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) তাঁর মনিবের পদাঙ্ক অনুসরণে অতিথি সেবার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যেভাবে মহানবী (সাঃ)-এর এমন অনুপম গুণ ও বদান্যতা দেখে কাফেররা আকৃষ্ট হতো।

হুযূর বলেন, আল্লাহ্‌তা’লা হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে বলেছেন,

‘আমি তোমার প্রচারকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছাবো।’

এ ইলহামের ফলে আজ বিশ্ববাসীকে এক পতাকা তলে সমবেত করার দায়িত্ব বর্তেছে যুগ মসীহ্‌ ও তাঁর জামাতের উপর। মানুষের সাধ্য কি এ কাজ করার, কিন্তু খোদা যা চান তাই করেন। খোদাতা’লা স্বয়ং মানুষের হৃদয়কে সত্যের প্রতি ঝুঁকান।

মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর উপর ইলহাম হয়েছে,

‘ইয়াতূনা মিন কুল্লি ফাজ্জিন আ’মীক’

অর্থাৎ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তোমার কাছে আসবে’

তাদের আগমনে তুমি ভীত হয়ো না।

হুযূর বলেন, জলসার উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষ কেবল ধর্মের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়। তাই যেসব অতিথি হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আহবানে সাড়া দিয়ে এ মহতী জলসায় যোগদানের উদ্দেশ্যে এসেছেন তাদের আধিক্য দেখে ভয় পাবেন না এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহারও করবেন না।

হুযূর বলেন, মহানবী (সাঃ)-এর জীবন চরিত আমাদের জন্য অতিথি সেবার অসাধারণ প্রমাণ বহণ করে। কোন এক অমুসলিম অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁর আতিথ্য গ্রহণ করে এবং রাতে বিছানা নষ্ট করে পালিয়ে যায় কিন্তু (সাঃ) বিরক্ত না হয়ে স্বয়ং নিজ হাতে এই ময়লা পরিস্কার করেন। নাজ্জাশী’র পক্ষ থেকে আগত প্রতিনিধিদের তিনি (সাঃ) নিজ হাতে সেবা করেছেন। সাহাবীরা খিদমত করতে চাইলে তিনি (সাঃ) বলেন, মুসলমানদের সাথে নাজ্জাশী অনেক উত্তম ব্যবহার করেছেন তাই আমি নিজ হাতে তাঁর প্রতিনিধিদের সেবা করবো। একবার এক ভদ্রলোক তাঁর আতিথ্য গ্রহণ করেন, মহানবী (সাঃ) তাকে একটি ছাগলের দুধ পান করতে দেন, সে একে একে সাতটি ছাগলের দুধ পান করে কিন্তু মহানবী (সাঃ) কোন রাগ না করে তার চাহিদা পূরণ করেন। মহানবী (সাঃ)-এর বিশ্বস্ত সাহাবীদের দৃষ্টান্তও অসাধারণ। কোন একটি পরিবার বাচ্চাদের না খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয় আর তাদের খাবার দিয়ে অতিথি সেবা করেন। নিজেরা অন্ধকারে মুখ নেড়ে খাবার ভান করেন। তাদের �����ন কর্মে সন্তুষ্ট হবার কথা খোদাতা’লা ইলহাম করে মহানব����� (সাঃ)-কে ��ানিয়েছেন। সাহাবীদের এমন আতিথেয়তা কোন সাময়িক ঘটনা ছিল না। মুহাজেরদেরকে আনসাররা নিজেদের অর্ধেক সম্পদ পর্যন্ত দিয়ে দেন। আল্লাহ্‌তা’লা তাদের কথা উল্ল্যেখ করে পবিত্র কুরআনে বলেন,

يُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ

অর্থাৎ, নিজেদের দারিদ্রতা সত্বেও তারা অন্যকে নিজের উপর প্রাধাণ্য দেয়। (সূরা আল্‌ হাশ্‌র: ১০)

হুযূর বলেন, পাকিস্তান এবং আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক নতুন অতিথি এবারের খিলাফত শত বার্ষিকী জলসায় যোগদান করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তারা সবাই ধর্ম শেখার উদ্দেশ্যে এবং দ্বীনি কথা-বার্তা শোনার জন্য এখানে আসবেন, তাদেরকে হাসি মুখে বরণ করা এবং তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করা ও তাদের খিদমত করা অনেক বড় সওয়াবের কাজ। ব্যবস্থাপনা উন্নত করার চেষ্টা হচ্ছে কিন্তু কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা না করলে ব্যবস্থাপনা কোনভাবেই সফল হবে না। যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে অতিথিরা আসছেন তাদেরকে সেভাবেই স্বাগত জানান। খিলাফত জুবিলী জলসা উপলক্ষ্যে ব্যাপক খিদমত করার মনমানসিকতা তৈরী করুন। যেভাবে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) করেছেন সেভাবে আন্তরিকতার সাথে করার চেষ্টা করুন।

অতিথি সেবার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

‘লঙ্গরখানার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপককে বলুন যেন প্রত্যেক অতিথির চাহিদার প্রতি দৃষ্টি রাখে, কিন্তু যেহেতু সে একা এবং কাজও অনেক বেশি ফলে তার দৃষ্টি এদিকে নাও যেতে পারে তাই অন্য কেউ তাকে স্মরণ করিয়ে দিন। কারো অপরিস্কার কাপড় দেখে তার প্রতি কম মনোযোগ দেয়া ঠিক হবে না কেননা অতিথি সবাই সমান। আর যিনি অপরিচিত মানুষ তার সকল প্রয়োজনের প্রতি দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। অনেক সময় শৌচাগার কোথায় তা কেউ হয়তো নাও জানতে পারে অথচ তার কষ্ট হচ্ছে। তাই অতিথিদের সব ধরনের প্রয়োজনের প্রতি দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। আমি অধিকাংশ সময় অসুস্থ্য থাকি তাই অপারগ। কিন্তু যাদেরকে এ কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের উচিৎ, কোন সমস্যা যেন সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা। কেননা, মানুষ শত সহস্র মাইল দূর থেকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সত্য জানার উদ্দেশ্যে এখানে আসেন। যদি তাদের এখানে কোন কষ্ট হয় তাহলে হতে পারে তারা দুঃখ পাবেন আর দুঃখ পেলে সেখান থেকে আপত্তিও সৃষ্টি হয়ে থাকে। পরিশেষে এটি পরীক্ষার কারণ হয় এবং অতিথি সেবকের কাঁধে এর দায়িত্ব বর্তায়।’

হুযূর বলেন, খিলাফত শত বার্ষিকী জলসা তাই আফ্রিকা থেকে অনেক অ-আহ্‌মদী অতিথি জলসায় যোগদান করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতিপূর্বে যারাই এসেছেন তারা জামাতের আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ ও প্রভাবিত হয়েছেন। এবার বেশি লোক আসবে বলে দুশ্চিন্তার কারণ।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

‘আমি চাই কোন অতিথির যেন কোন প্রকার কষ্ট না হয়। বরং এ জন্য সর্বদা তাগীদ দিতে থাকি, যতটা সম্ভব অতিথির স্বাচ্ছন্দের বিধান করা উচিৎ। অতিথির হৃদয় কাঁচের মত ভঙ্গুর তাই সামান্য আঘাতেই তা ভেঙ্গে পড়ে। ইতোপূর্বে আমি স্বয়ং অতিথিদের সাথে বসে আহার করতাম কিন্তু যখন থেকে রোগের আধিক্য দেখা দেয় তখন থেকে নিয়মমাফিক খাবার খেতে হয় ফলে আগের ব্যবস্থা আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এছাড়া অতিথির সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে, স্থানও সংকুলান হচ্ছিল না তাই অপারগ হয়ে পৃথক খেতে হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে প্রত্যেক অতিথিকে বলা আছে, আপনাদের সমস্যার কথা জানিয়ে দিন। অনেকে এমন আছেন যারা রোগী। তাদের জন্য আলাদা রান্নার ব্যবস্থা থাকা চাই।’

এরপর হুযূর হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর বিভিন্ন অতিথি সেবার ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করেন। হযরত মৌলভী হাসান আলী (রাঃ) বলেন,

(এটি বয়’আত গ্রহণ করার পূর্বের ঘটনা) আমি ১৮৮৭ সালে প্রথমবার কাদিয়ান যাই এবং মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আতিথ্য গ্রহণ করি। আমার পান খাবার অভ্যাস আছে জেনে হযরত (আঃ) কাউকে কাদিয়ান থেকে ১৬মাইল দূরবর্তী গুরুদাসপুরে পাঠিয়ে পান আনান এবং আমাকে পরিবেশন করেন।

পরবর্তীতে পুনরায় ১৮৯৪ সনে হযরত মৌলভী হাসান আলী (রাঃ) কাদিয়ান আসেন এবং হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর হাতে বয়’আত করেন।

মির্যা বশির আহমদ সাহেব মৌলানা আব্দুল্লাহ্‌ সানৌরী (রাঃ) বরাতে লিখেন যে, তিনি বলেন,

‘একবার আমি হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর সাথে ছিলাম, তিনি (আঃ) বাইতুল ফিক্‌র’এ আরাম করছিলেন আর আমি তাঁর পা টিপে দিচ্ছিলাম। বাইরে লালা শরমপত অথবা সম্ভবত মালাওয়ামাল দরজায় করাঘাত করলে আমি দরজা খুলতে উদ্যত হই কিন্তু হযরত (আঃ)-এর পূর্বেই দ্রুত উঠে দরজা খুলে দেন এবং পূর্বের স্থানে বসে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি আমাদের অতিথি, আমাদের নবী (সাঃ) অতিথির সেবা করতে বলেছেন।’

বাহ্যতঃ ছোট কথা কিন্তু তিনি (আঃ) সদা তাঁর মনিবের অনুসরণ ও নির্দেশ পালনে ছিলেন তৎপর।

হুযূর বলেন, আজ অপবাদ আরোপ করা হয় যে, নাউযুবিল্লাহ্‌ তিনি নাকি মহানবী (সাঃ)-এর চেয়েও বড় কিছু হবার দাবী করেছেন।

এরপর মীর হামেদ আলী সিয়ালকোটি (রাঃ) তাঁর ব্যক্তিগত একটি ঘটনা লিখেছেন। তিনি বলেন,

‘একবার এই অধম কিছুদিন হযরত (আঃ)-এর আতিথ্য গ্রহণ করে। ফিরে যাবার সময় হলে তিনি হুযুরের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন। হুযূর (আঃ) ঘরের মধ্য থেকে উত্তর দেন দাঁড়ান আমি এক্ষুণি আসছি। তাঁর নির্দেশ মোতাবেক আমি বাইরে গোল কামড়ার পাশে অপেক্ষা করতে থাকি, ইতোমধ্যে আরো অনেকেই সেখানে সমবেত হন। কিছুক্ষণ পর হুযূর (আঃ) বাইরে একটি দুধের জগ হাতে নিয়ে আসেন মির্যা মাহমুদ সাহেব একটি গ্লাস ও একটি রুমালে জড়ানো মিস্‌রিদানা নিয়ে সাথে আসেন। হুযূর জিজ্ঞেস করেন শাহ্‌ সাহেব কোথায়? আমি সেখানেই ছিলাম, তৎক্ষণাৎ আগে এগিয়ে গিয়ে বলি হুযূর অধম হাজির। হুযূর দাঁড়িয়ে আমাকে বলেন, বসে পড়। আমি সেখানেই মেঝেতে বসে পড়ি। গ্লাসে দুধ ঢেলে মিস্রিদানা মিশান। আমার এখন সঠিক মনে নেই যে, মিয়া মাহমুদ সাহেব আমার হাতে গ্লাস দিয়েছিলেন না-কি হুযূর নিজেই দিয়েছিলেন। যাই হোক ঘটনা এখনও আমার চোখের সম্মুখে ভাসছে। হুযূর একে একে আমাকে তিন গ্লাস দুধ পান করান। শেষে আমি বললাম হুযূর আমার পেট ভরে গেছে আমি আর খেতে পারবো না। তারপর হুযূর আমাকে তাঁর পকেট থেকে ছোট একটি বিস্কুটের প্যাকেট বের করে বলেন, তোমার পকেটে রাখো, পথে ক্ষুধা লাগলে খাবে। এরপর হুযূর বলেন, এবার চলো তোমায় ছেড়ে আসি। আমি বললাম হুযূর আমি এখান থেকেই বাহনে বসে পড়ি। হুযূর আমার কথা না শুনে বললেন, চলো তোমাকে এগিয়ে দিয়ে আসি। যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তারাও সাথে চলতে আরম্ভ করেন। রীতি মোতাবেক বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা করতে করতে হুযূর অনেক দূর চলে আসেন। পরিশেষে মৌলানা নূরউদ্দিন (রাঃ) আমার কানে কানে বলেন, এগিয়ে গিয়ে বিদায়ের অনুমতি নাও; যতক্ষণ তুমি অনুমতি না চাইবে হুযূর ততক্ষণ চলতেই থাকবেন। আমি তাঁর কথা মত এগিয়ে গিয়ে বলি, হুযূর অনুমতি দিলে এবার আমি রওয়ানা হই। ফিরে যাবার সময় একান্ত স্নেহ ও আন্তরিকতার সাথে হুযূর (আঃ) বললেন, ঠিক আছে আমার সামনেই বস। আমি এক্কা গাড়ীতে বসে পড়ি তারপর হুযূর ফিরে যান।’

মুফতি মুহাম্মদ সাদেক সাহেবকে স্বয়ং নিজ হাতে আপ্যায়ন করেছেন হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)। জলসার দিনে প্রচন্ড শীতের মধ্যেও নিজের লেপ-তোষক পর্যন্ত অতিথিদের আরামের জন্য দিয়ে দিয়েছেন।

হযরত মুফতী মুহাম্মদ সাদেক সাহেব (রাঃ) লিখেন,

‘হযরত সাহ���ব (আঃ) অতিথি সেবার প্রতি ছিলেন একান্ত যত্নবান। যতদিন পর্যন্ত অতিথির সংখ্যা কম ছিল তিনি নিজেই তাদের আহার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতেন। যখন থেকে অতিথির সংখ্��া ��াড়তে আরম্ভ করে তখন হাফিয হামেদ আলী সাহেব, মিয়া নিজাম উদ্দিন সাহেবদ��রকে বলতে থাকতেন, অতিথির যেন কোন প্রকার কষ্ট না হয় সেদিকে দৃষ্টি রেখো। তাদের পানাহারের প্রতি পুরো যত্নবান থাকবে। অনেককে তোমরা চিন কিন্তু আবার কতক আছে যাদেরকে তোমরা চিন না। তাই সবাইকে সম্মানিত অতিথি মনে করে সেবা করাই যুক্তিযুক্ত। শীতের দিন তাই সবাইকে চা দাও যেন কারো কোন কষ্ট না হয়। আমার বিশ্বাস, তোমরা অবশ্যই অতিথির স্বাচ্ছন্দের বিধান করো। তাদের সবার সাধ্যমতো সেবা করো। যদি কারো কক্ষে বেশি ঠান্ডা হয় তাহলে কাঠ বা কয়লার সাহায্যে আগুন জ্বালানোর ব্যবস্থা করো।’

হুযূর বলেন, হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর ব্যক্তিগত অতিথি সেবার ঘটনা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমরাও যেন তাঁর মত করার চেষ্টা করি। এবছর অনেক বেশি অতিথি আসবেন। আবহাওয়া বার্তা এখনও তেমন সুখের নয়। আল্লাহ্‌ যেভাবে চাইবেন সেভাবেই হবে। নির্ধারিত স্থান থেকে বাসে করে জলসায় যোগদানকারীদেরকে সময়মতো জলসায় পৌছানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ বছর এদিক থেকে পরিবহণ বিভাগের দায়িত্ব অনেক বেশি। আশা করি তারা গত বছরের চেয়েও উন্নত সেবা প্রদানের চেষ্টা করবেন। স্থানীয় আহ্‌মদীদের সবার সহযোগিতা কাম্য।

হুযূর বলেন, আপনারা আন্তরিকতার সাথে অতিথি সেবার প্রেরণায় সমৃদ্ধ হয়ে কাজ করুন, ইনশাআল্লাহ্‌ কোন ঘাটতি থাকলে তা খোদা নিজ করুণায় পূরণ করে দিবেন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে