In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

উত্তর আমেরিকা সফর ও জলসা সমূহ

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১১ই জুলাই, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, সম্প্রতি জলসা উপলক্ষ্যে আমি আমেরিকা ও কানাডা সফর করেছি। জলসা ছাড়াও এ দু’টি দেশে খিলাফত শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি হয়েছে। যারা এ অনুষ্ঠান দেখেছেন এবং এতে যোগদান করেছেন তাদের মধ্যে আপন-পর সবাই এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ্‌তা’লার অপার অনুগ্রহে বিশ্বের এ প্রান্তেও আহ্‌মদীয়াত তথা ইসলামের সত্যিকার শিক্ষা পৌঁছানোর সৌভাগ্য হয়েছে এবং মানুষের উপর এর গভীর প্রভাব পড়েছে। তবে এসব অনুষ্ঠানের সফলতায় কর্মকর্তাদের কোন প্রচেষ্টা বা আমার বক্তব্যের কোন ভূমিকা আছে বলে আমি মনে করি না, এটি কেবলই মহান খোদার অনুগ্রহ, খোদার পবিত্র কালাম, মহানবী (সাঃ)-এর উক্তি ও হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর লেখনীর প্রভাবে এমন হয়েছে। পাশ্চাত্বে ইসলাম ও মুসলমানদেরকে তীর্যক দৃষ্টিতে দেখা হয় কিন্তু আমাদের এসব অনুষ্ঠান ইসলাম সম্পর্কে তাদের ভুল ধারণা পাল্টে দিতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান শেষে যোগদানকারীরা প্রকাশ্যে তা স্বীকার করতেও দ্বিধা করেন নি। হযরত মসীহ মওউদ (আঃ)-কে খোদাতালা জানিয়েছিলেন;

‘আমার সাহায্য ও সমর্থন তোমার সাথে থাকবে’

আজকে ইসলামের প্রতি মানুষের এমন মনোভাব নিঃসন্দেহে এই ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণতা। আল্লাহ্‌তা’লা ইলহামের মাধ্যমে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে বলেছেন,

‘আমি তোমাকে সম্মানের সাথে বিশ্বে খ্যাতি প্রদান করবো’ ‘আমি তোমার প্রচারকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছাবো।’

হুযূর বলেন, খোদাতা’লা আমাদের মত দুর্বলদের প্রচেষ্টায় বরকত দেন এবং বিশ্বের দরবারে ইসলামের শিক্ষা সমুন্নত করার কাজে সফলতা দান করা ঐশী প্রতিশ্রুতির পরিপূর্ণতা নয়তো কি।

এরপর হুযূর বলেন, খিলাফত শতবার্ষিকী জামাতের ব্যাপক প্রচার ও তবলীগের প্রভুত সুযোগ নিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র জামা’ত খিলাফত শতবার্ষিকী জুবিলী জলসা করার জন্য পেনসিলভিনিয়া রাজ্যের রাজধানী হ্যারেসবার্গ’কে বেছে নেয়। জলসা উপলক্ষ্যে অত্রাঞ্চলে ব্যাপক জনসংযোগ করা হয়। জামাতের পরিচিতি সেখানে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানকার রাজ্যকর্মকর্তারা বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। তারা সংসদে জামাতে আহ্‌মদীয়ার খিলাফত শতবার্ষিকী জুবিলী উপলক্ষ্যে রেজুলেশন পাশ করার সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু একজন কট্টর খৃষ্টান সাংসদ এতে বাঁধ সাধেন। এখানে উল্ল্যেখ যোগ্য যে, যুক্তরাষ্ট্যে যুক্তরাজ্যের তুলনায় খৃষ্টধর্ম সম্পর্কে গোড়ামী বেশী দেখা যায়। যাহোক তিনি বলেন, আহ্‌মদীরা যেহেতু হযরত ঈসা (আঃ)-কে খোদা মানে না তাই এদেরকে স্বাগত জানানোর কোন প্রয়োজন নেই। রেজুলেশন পাশ করার বিষয়টি জামাতের অনুরোধে উত্থাপিত হয়নি বরং রাজ্যকর্মকর্তারা নিজেরাই এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যাহোক, কট্টর সাংসদের এই মন্তব্যে হৈচৈ আরম্ভ হয় এবং ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় ও তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। তাদের মধ্য থেকে অনেকেই এর বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং বলে, আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলি তা সত্ত্বেও এমন মন্তব্যের হেতু কি? ইহুদীরা বলে, আমরাও ঈসাকে খোদা মানি না তাহলে কি ভবিষ্যতে আমাদের আমেরিকায় বসবাসের এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকেও লঙ্ঘন করা হবে? মোটকথা এই মন্তব্য নিয়ে স্থানীয়-পত্র-পত্রিকা এবং ওয়েব সাইটে বিতর্কের ঝড় উঠে। এর সুবাদে জামাতের পরিচিতি এবং ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি হয়। আমাদের জলসাও যোগাযোগ মাধ্যমে যথেষ্ট প্রচার পেয়েছে। পরিশেষে রেজুলেশন পাশ হয়েছে, যদি তারা নীরবে রেজুলেশন পাশ করতো তাহলে আমাদের তেমন কোন লাভ হতো না কিন্তু বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় আহ্‌মদীয়া মতাদর্শের ব্যাপক প্রচার হয়। তো এই খ্যাতি পাবার পিছনেও খোদার প্রজ্ঞা কাজ করেছে। বিশ্বে বর্তমানে জামাতের পরিচিতি দ্রুত বাড়ছে, এটি ঐশী তকদীর। বিরোধী বা শত্রু জামাতের বিরোধিতায় যে পন্থাই অবলম্বন করবে সে মাধ্যমকে খোদা জামাতের উন্নতি, প্রচার ও প্রসার এবং জামাতের পবিত্র প্রতিষ্ঠাতার সম্মান বৃদ্ধির কাজে লাগাবেন এবং সামগ্রিকভাবে জামা’ত বিশ্বে সম্মান ও পরিচিতি লাভ করবে। হুযুর বলেন, আজকে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশে জামাতের যে বিরোধিতা হচ্ছে তা জামাতের ব্যাপক প্রচারের কারণ হচ্ছে।

হুযূর বলেন, আমেরিকার জলসায় সংবাদ মাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদক আসেন। জলসার কার্যক্রম উপভোগ করেন। পেনসিলভিনিয়া’র Lancasterp Intelligencer সাময়িকীর এর একজন সাংবাদিক ১৯শে জুন আমার একটি একান্ত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে এবং ২০শে জুন ছবিসহ তা হুবহু প্রকাশ করেন। ছবির নিচে ক্যাপশনে লিখেনঃ-

‘মুসলমানদের খলীফা’ সপ্তাহান্তে বিশ্ববাসী তথা বিশেষভাবে হ্যারিসবার্গ বাসীদের জন্য একটি বার্তা নিয়ে এসেছেন।

...................মির্যা মসরুর আহমদ তাঁর বাণীতে বলেন, যদি তোমরা সৃষ্টিকে ভালবাস তাহলেই তোমরা স্রষ্টাকে চিনতে পারবে, আর এই বাণী কেবল যুক্তরাষ্ট্রবাসীদের জন্যই নয় বরং গোটা বিশ্বের জন্য, যা মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) নিয়ে এসেছেন। যদি প্রত্যেকেই এই বাণী স্মরণে রাখে এবং এর উপর আমল করে তাহলে পৃথিবীতে হানাহানি থাকবে না। মানুষের হৃদয় হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হবে। বিশ্বে শান্তি প���রতিষ্ঠার জন্য এটিই একমাত্র মাধ্যম। যদি আল্লাহ্‌র সৃষ্ট সকল বস্তুকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা হয় তাহলে পারমানবিক বোমার আর কোন প্রয়োজন থাকবেনা। ...........খ�����ফা মনোনীত হবার পর তিনি এই প্রথম আমেরিকা সফরে আসেন। উ�����্দেশ্য জামাতের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত এবং প্রত্যেক সেই ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত যিনি তাঁর সাথে দেখা করতে চান। তাঁর বাণী কেবল মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য নয় বরং সকল ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা এর উদ্দেশ্য। তিনি আরো বলেন, সবাই যে ব্যক্তির আগমনের অপেক্ষায় আছে সেই মসীহ্‌ এসে গেছেন।

হুযূর বলেন, আমি আগেও বলেছি; আমেরিকায় একটি বিশাল জন বসতি আছে যারা এখনও ঈসার আগমন প্রতীক্ষায় অপেক্ষমান। তাদের উদ্দেশ্য করে একথা বলা যে, যাঁর জন্য তোমরা প্রতীক্ষা করছো তিনি এসে গেছেন। এটি একটি বিরাট তবলীগ। ২২টি পত্রিকা, ২টি রেডিও চ্যানেল, তিন’টি টেলিভিশন চ্যানেল এবং ১৫টি ওয়েব সাইটে জামাতের জলসার সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।

হুযূর বলেন, এরপর আমেরিকার একটি বড় হোটেলে অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। সেখানে আমি কুরআন, হাদীস এবং মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর লেখনীর আলোকে জিহাদের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোকপাত করি। আর আমি একথাও বলেছি, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আঃ) মসীহ্‌ মওউদ হিসেবে এ যুগে খোদার পক্ষ থেকে আবির্ভূত হয়েছেন। আমেরিকা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ তারা সুবিচারের ভিত্তিতে কাজ করলে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব।

হুযূর বলেন, আমার এ কথার বেশ প্রভাব পড়েছে বলে মনে হলো। অনুষ্ঠান শেষে অনেকে ব্যক্তিগত সাক্ষাতে বলেছেন, আজ আমরা ইসলাম সম্পর্কে নতুন কথা শুনলাম। আসলে আমরা নতুন কোন কথা বলি না। অধুনা মোল্লারা বিশ্বের দরবারে মহানবী (সাঃ)-এর কথা বিকৃত করে উপস্থাপন করে ফলে মুসলমানদের প্রতি তাদের ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছে। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) সত্যিকার ইসলামী শিক্ষা উপস্থাপন করে ইসলাম সম্পর্কে তাদের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তন করেছেন আর আজ তাঁর খলীফারাও একই কাজ করছেন।

হুযূর বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রে আমার প্রথম সফর। দশ বছর পর কোন খলীফার আমেরিকা সফর। জামাতের যুবকদের নিষ্ঠা, বিশ্বস্ততা এবং জামা’ত ও খলীফার খিদমতের প্রেরণা দেখে বিষ্মিত হতে হয়। খোদার অপার কৃপায় আমেরিকার জলসা অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। একই ছাদের নিচে তারা সব আয়োজন করেছে। আমি তাদের আয়োজন ঘুরে ঘুরে দেখেছি। একটি প্রদর্শনী আমার খুব ভালো লেগেছে। এখানে তারা হযরত আদম (আঃ) থেকে আরম্ভ করে মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) পর্যন্ত সকল খলীফার সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছেন। আমেরিকা জামাতের একটি বড় অংশ আফ্রো আমেরিকান, কিছু শ্বেতাঙ্গ আহ্‌মদীও আছেন। তারা সবাই খিলাফতের প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত। তারা তাদের দায়িত্ব পালনেও যথেষ্ট আন্তরিক।

হুযূর বলেন, এরপর কানাডার জলসা হয়। এর আগেও আমি দু’বার কানাডার জলসায় যোগদান করেছি। আপনারা জানেন সাধারণত কানাডাতে বেশ বড় জলসা হয় কিন্তু এবার আমার আমেরিকা সফরের ফলে সেখান থেকে প্রতিবছর যে ৪/৫হাজার আহ্‌মদী কানাডায় আসতেন তারা আসেন নি। আর ক্যালগ্যরীর মসজিদ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে পৃথক অনুষ্ঠান থাকায় সেখান থেকেও সদস্যরা আসেননি। কানাডা অনেক বড় দেশ। টরেন্টো থেকে ক্যালগ্যরী যেতে এরোপ্লেনে চার ঘন্টা সময় লাগে আর সময়ের ব্যবধান দু’ঘন্টা। যাহোক, কানাডার খিলাফত শতবর্ষ পূর্তি জলসায় মোট উপস্থিতি ছিল পনের হাজার । ৫টি পত্রিকায় জলসার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে আর এর পাঠক সংখ্যা প্রায় পঁচিশ লক্ষ। এছাড়া রেডিও, টেলিভিশন ও ইন্টারনেট ওয়েবসাইটে জলসার সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। আপন-পর সবাই দেখেছে, ব্যাপকভাবে জামাতের প্রচার হয়েছে। এছাড়া কানাডা জামা’ত একটি বিশেষ অভ্যর্থনারও আয়োজন করে। এতে ওন্টারিও প্রদেশের প্রধান মন্ত্রী, প্রাদেশিক মন্ত্রীবর্গ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সাংসদ, কানাডার প্রধান মন্ত্রীর প্রতিনিধি ছাড়াও সরকারী ও বেসরকারী উচ্চপদস্থ প্রায় পাঁচশত পঞ্চাশ জন কর্মকর্তা যোগদান করেন। বেশ কয়েকজন খৃষ্টান পাদ্রীও আসেন, অনুষ্ঠান শেষে ব্যক্তিগত সাক্ষাতে তারা বলেন, আজ আমরা অনেক নতুন কথা শুনলাম। ইসলাম সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী সুধরে দিয়েছে আজকের অনুষ্ঠান।

এরপর আপনারা এমটিএ’র মাধ্যমে দেখেছেন, জুমুআর নামাযের মাধ্যমে ক্যালগ্যরী মসজিদ উদ্বোধন করা হয়। পরের দিন শনিবার অ-আহ্‌মদীদের উদ্যেশ্যে একটি অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। তিন বছর পূর্বে যেদিন আমি এ মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করি সেদিন প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। এলাকাটি দেখে মনে হচ্ছিল এটি একটি জনমানব শূন্য এলাকা। কিন্তু খোদাতা’লা এ অবস্থার পরিবর্তন করেছেন। এখন মসজিদের সম্মুখ দিয়ে রাজপথ চলে গেছে। গত বছর এখানে রেল ষ্টেশন স্থাপিত হয়েছে। মাত্র বিশ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে এয়ারপোর্ট। বড় বড় রাস্তা-ঘাট হয়েছে। কাউন্সিল জামা’তকে এসব রাস্তা-ঘাট দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছে। মোটকথা, এখন এখানে মসজিদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। আর আল্লাহ্‌তা’লার ফযলে গোটা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এ মসজিদ।

কানাডার প্রধান মন্ত্রী স্বয়ং এ অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন। তাঁর দেশের বাইরে যাবার প্রোগ্রাম ছিল তাসত্বেও তিনি আমাদের অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। গোটা মসজিদ-কমপ্লেক্স ঘুরে দেখেন। বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানে এবং জামাতের ভূয়সী প্রশংসা করেন, তারপর বিদেশ সফরে বের হন। আল্লাহ্‌তা’লা তাঁকে উত্তম পুরস্কারে ভূষিত করুন।

হুযূর বলেন, এ অনুষ্ঠানেও অনেক পাদ্রী যোগদান করেন। উপাসনালয় সম্পর্কীত ইসলামী শিক্ষার কথা শুনে একজন পাদ্রী কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, এমনই হওয়া উচিৎ, এটিই মাবজাতির মূল শিক্ষা। একজন আফগানী বন্ধু অনুষ্ঠান শেষে আমার সাথে সাক্ষাত করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আহ্‌মদীয়া জামা’ত সম্পর্কে আমার সকল ভুল ধারণা পাল্টে গেছে, আমি আজই বয়’আত করতে চাই। পরিশেষে তিনি বয়’আত করেন এছাড়া আরো বয়’আত হয়। মোটকথা, খোদাতা’লার প্রতিশ্রুতির কল্যাণে ইসলামের শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছানোর তৌফিক পেয়েছি এ সফরে। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর সাথে খোদার প্রতিশ্রুতি,

‘আমি তোমার প্রচারকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছাবো’ এবং আমি তোমাকে সম্মানের সাথে খ্যাতি প্রদান করবো’

এটি এ সফরে উজ্জ্বলভাবে পূর্ণ হয়েছে। ৯টি টেলিভিশন চ্যানেল এই মসজিদ উদ্বোধনের সচিত্র সংবাদ প্রচার করেছে। যার দর্শক সংখ্যা প্রায় ৩১ লক্ষ। ৯টি রেডিও এই মসজিদ উদ্বোধনের সংবাদ প্রচার করেছে। যার শ্রোতার সংখ্যা প্রায় ২৩ লক্ষ। পুরো কানাডার প্রতিটি শহরের পত্র-পত্রিকায় ক্যালগ্যরী মসজিদ উদ্বোধনের সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে যার পাঠক সংখ্যা প্রায় চল্লিশ লক্ষ। এছাড়া বিশ্বের নিন্মোক্ত এগারটি দেশের প্রচার মাধ্যম ক্যালগ্যরী মসজিদ উদ্বোধনের সচিত্র সংবাদ ছাপিয়েছে। (১) অষ্ট্রেলিয়া (২) জার্মানী) (৩) নিউজিল্যান্ড (৪) ভারত (৫) পাকিস্তান (৬) ইতালী (৭) যুক্তরাজ্য (৮) যুক্তরাষ্ট্র (৯) বেলজিয়াম (১০) সংযুক্ত আরব আমিরাত (১১) কেনিয়া।

এছাড়া আরবের ৪১টি দেশের পত্র পত্রিকায় এ মসজিদ উদ্বোধনের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ইরান, তুরষ্ক, সৌদী আরব, জর্ডান, ফিলিস্তিন, লেবানন, মিশর, কাতার এবং সুদান উল্ল্যেখযোগ্য। বিশ্বের ১৩০টি ওয়েব সাইটে ক্যালগ্যরী মসজিদ উদ্বোধনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। এসব ওয়েব সাইটে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) এবং জামাতের পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে লিখেছে,

‘আহ্‌মদীরা ইসলামেরই একটি ফির্কা।’

এসব ওয়েব সাইটে মানুষের মতামতও ছাপানো হয়েছে। ক্যালগলীর মেয়রের বরাতে লেখা হয়েছে,

‘বাইতুন নূর’ মসজিদ ক্যালগরীর দিগন্তে একটি উজ্জল নক্ষত্র।’

কানাডার CBC টেলিভিশনের সংবাদে প্রায় দু’মিনিট মসজিদ ও জুমুআর নামাযের উপর রিপোর্ট দেখানো হয়। তারা হযর��� মসীহ্‌ মও��দ (আঃ)-এর ছবিও দেখিয়েছে।

হুযূর বলেন, হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর ছবি উঠানোর মূল উদ্দেশ্যই এটি যেন বিশ্ববাসী তাঁর পবিত্র চেহারা দর্শনে ধন্য হয় এবং সত্যকে অনুধাবন করে। আজও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অনেকে বয়’আত করার পর বলেন, এই বুযূর্গকে আমরা ইতিপূর্বে স্বপ্নে দেখেছি। অনেকে এমটিএ’তে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে দেখার পর গবেষণা আরম্ভ করেন এবং পরিশেষে সত্য গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেন।

হুযূর বলেন, আল্লাহ্‌তা’লা মুসলমান ও খৃষ্টাদের বক্ষ উম্মুক্ত করুন তাদের হৃদয়ের দ্বার খুলে দিন। যেন তারা যুগ মসীহ্‌কে চিনতে পারেন এবং নিজেদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সক্ষম হন।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

‘সেদিন আগত যখন পাশ্চাত্ব্যবাসীরা হঠাৎ করে ইসলামের প্রতি ঝুঁকবে। এবং মৃত পূজারী ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে সত্য ধর্ম ইসলামের ছায়াতলে আসবে আর একেই নিজেদের মুক্তির কারণ মনে করবে।’

আল্লাহ্‌তা’লা করুন সেদিন যেন আমাদের জীবদ্দশায় দেখতে পাই যেদিন বিশ্বের প্রতিটি দেশে ইসলামের পতাকা অত্যন্ত সম্মানের সাথে উড্ডীন হবে।

পরিশেষে কানাডা জামাতের বন্ধুদের কথা বলছি, তারা খিলাফতের প্রতি বিশ্বস্ততা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনে অনুপম দৃষ্টান্ত। আল্লাহ্‌তা’লা তাদের আন্তরিকতা ও ধর্মের প্রতি ভালবাসা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করুন।

সানী খুতবায় হুযূর বলেন, প্রায় বিশ দিন পূর্বে জামাতের একনিষ্ঠ প্রবীণ সেবক, পুরনো মোবাল্লেগ মোহতরম নূর উদ্দিন মুনির সাহেব করাচিতে ইন্তেকাল করেন, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকায় জামাতের খিদমত করেন এছাড়া কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পদে থেকে কাজ করেছেন। আল্লাহ্‌তা’লা তাঁর রূহের মাগফেরত করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসে স্থান দিন।

নামাযে জুমুআর পর হুযূর তাঁর গায়েবানা জানাযার নামায পড়ান।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে