In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

ক্যালগ্যারীতে উত্তর আমেরিকার সর্ব বৃহৎ মসজিদ ‘বাইতুন নূর’-এর শুভ উদ্বোধন

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুন নূর মস্‌জিদ, ক্যালগ্যারী, কানাডা

৪ঠা জুলাই, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ্‌র যিনি কানাডা জামা'তকে আরো একটি মসজিদ নির্মাণ করার সৌভাগ্য দান করেছেন। আজ জুমুআর খুতবার মাধ্যমে এ মসজিদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর যাবত ক্যালগ্যারী’তে মসজিদের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছিল, কিন্তু খোদাতা’লার সব কাজেই গভীর হিকমত বা প্রজ্ঞা নিহিত থাকে। যদি দু’বছর পূর্বে এখানে মসজিদ নির্মিত হতো তাহলে এত সুন্দর ও বড় মসজিদ নির্মাণ করা আদৌ সম্ভব হতো না। কিন্তু এখন আল্লাহ্‌তা’লার অপার অনুগ্রহে এত সুন্দর ও বড় মসজিদ নির্মিত হয়েছে যা আপন পর সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। গতকাল ক্যালগ্যারী এয়ারপোর্টে আমাকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে শহরের মেয়র ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, আমি তাদেরকে বলেছি, আশা করি এই মসজিদ আপনাদের শহরের শোভা বর্ধণ করবে, ইনশাআল্লাহ্‌। একটি চমৎকার অবস্থানে নির্মিত এই মসজিদের মিনার ও নয়নাভিরাম দৃশ্য শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম।

হুযূর বলেন, যেহেতু এমটিএ-র মাধ্যমে সারাবিশ্ব এই খুতবা শুনছে তাই আমি মনে করি এ মসজিদ সম্পর্কে আহ্‌মদী বিশ্বকে কিছুটা বিস্তারিত জানানো প্রয়োজন। প্রায় দেড় কোটি কানাডিয়ান ডলার ব্যয়ে চার একর জমির উপর নির্মিত এ বাইতুন নূর মসজিদের নকশা খুবই সুন্দর। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য বড় নামাযের ঘর, জিমনেসিয়ামের ফ্লোর সম্পন্ন প্রশস্ত হল, ডাইনিং হল, আবাসন এবং বিভিন্ন সংগঠনের অফিস ইত্যাদির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। আপাতত জামাতের সকল চাহিদা পূরণে সক্ষম এ মসজিদ। আল্লাহ্‌তা’লা কানাডা জামা'তকে ভবিষ্যতে আরো মসজিদ নির্মাণের সৌভাগ্য দিন।

হুযূর বলেন, এ মসজিদ নির্মাণের তাহরীকের পর থেকে জামাতের সদস্যরা আমাকে পত্র লেখা আরম্ভ করে যে, হুযূর আমাদের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল না হওয়া সত্বেও আমরা এত পরিমান ওয়াদা করেছি, আপনি দোয়া করুন যেন খোদাতা’লা আমাদেরকে ওয়াদা পূরণের তৌফিক দান করেন। এখনও অনেকে লিখছেন, ওয়াদা করেছিলাম কিন্তু আদায় করতে পারিনি, হুযূর দোয়া করবেন। মোটকথা এখানকার জামা'ত অনেক বড় কুরবানী করেছে। আল্লাহ্‌তা’লা সবার আন্তরিক কুরবানী কবুল করুন আর যারা এখনও ওয়াদা পূরণ করতে পারেনি তাদেরকে ওয়াদা পূর্ণ করার তৌফিক দিন। খোদাতা’লা সবার সম্পদ ও জনবলে প্রভূত বরকত দিন।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

“মসজিদ আমাদের জামাতের প্রসারতার একটি বড় মাধ্যম”।

তিনি (আঃ) আরো বলেন,

“যদি কোন গ্রাম বা শহরে জামাতের উন্নতি চাও তাহলে সেখানে মসজিদ বানিয়ে দাও। মসজিদ নির্মাণের জন্য নিয়্যত স্বচ্ছ হতে হবে। জাগতিক কোন স্বার্থ যদি না থাকে তাহলে খোদাতা’লা মসজিদ নির্মাণের ফলশ্রুতিতে আমাদের অশেষ কল্যাণে ভূষিত করবেন”।

তিনি বলেন,

“জামাতের অবশ্যই মসজিদ থাকা উচিৎ এবং আহ্‌মদীদের মধ্য থেকে ওয়াজ-নসীহতের জন্য সেখানে একজন ইমামও নিযুক্ত হওয়া উচিত”।

হুযূর বলেন বর্তমানে পাশ্চাত্ব্যে অমুসলমানদের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যম হচ্ছে মসজিদ। আজ আপনারা যে ত্যাগ করে এ মসজিদ নির্মাণ করেছেন, অবশ্যই এর পিছনে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর কথা আপনাদের দৃষ্টিপটে থাকবে। জামাতের মাঝে ঐক্যের ভিতকে দৃঢ় ও মজবুত করার জন্য এ মসজিদ নির্মিত হয়েছে।

হুযূর বলেন, এই মসজিদ তারা নির্মাণ করেছে যারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সত্যিকার প্রেমিক অর্থাৎ হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর মান্যকারী। তিনি (আঃ) এ যুগে মানুষকে খোদার নিকটতর করার জন্য আবির্ভূত হয়েছেন। আমাদেরকে এ মসজিদের অধিকার প্রদান করতে হবে আর মসজিদের অধিকার প্রদানের অর্থ হলো, তাতে বাজামা'ত নামায আদায় করা। মনে রাখবে, যারা ভালো পোষাক পরিধান করে বা ভালো খাবার খায় খোদা তাদের প্রতি দৃষ্টি দেন না, বরং খোদাতা’লা তাদেরকে ভালবাসেন যারা যথাযথভাবে তাঁর ইবাদত করেন।

হুযূর বলেন, সুন্দর ও সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ অর্থহীন যদি না এতে খোদার ইবাদত করা হয়। আপনারা মসজিদ নির্মাণ করেছেন এখন একে আবাদ রাখার দায়িত্ব আপনাদেরই। মসজিদ আবাদ করার অর্থ হচ্ছে, বাজামা'ত নামায প্রতিষ্ঠা করা। এই মসজিদ নির্মাণ তখনই আপনাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে যখন আপনারা খোদার অধিকার এবং বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করবেন। যে মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্টরা এ দু’টি অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে উদাসীন তাদের এমন মসজিদকে মসজিদে ‘যারার’ বা ক্ষতিকর মসজিদ বলা হয়েছে। এমন মসজিদ মানুষের জন্য কল্যাণের পরিবর্তে অভিশাপ বয়ে আনে। আজ দেখুন! যারা যুগ ইমামকে অস্বীকার করেছে তাদের মসজিদের অবস্থা কি? তাদের মসজিদ শান্তি ও সৌহার্দ্রের পরিবর্তে কুফরী ফতোয়া প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাদের হৃদয় থেকে অন্যের প্রতি ঘৃণার লাভা উৎসারিত হচ্ছে। আর এমনই হওয়া স্বাভাবিক। আজ অ-আহ্‌মদীদের অনেকেই প্রকাশ্যে বলছে, তোমাদের মসজিদ যেভাবে শান্তির শিক্ষা দেয় আমাদের মসজিদগুলো সে ভূমিকা পালন করেনা। বর্তমান যুগের চিত্র অঙ্কন করতে গিয়ে আজ থেকে চৌদ্দ’শ বছর পূর্বে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন,

‘মানুষের উপর এমন এক সময় আসবে, যখন ইসলামের মাত্র নাম এবং কুরআনের কেবল অক্ষরগুলি অবশিষ্ট থাকবে। তাদের মসজিদগুলি বাহ্যিক আড়ম্বরপূর্ণ হবে, কিন্তু ��েদায়াত শূন্য থাকবে। তাদের আলেমগণ আকাশের নিম্নস্থ সকল ���ৃষ্টজীবে����� মধ্যে নিকৃষ্টতম জীব হবে। তাদের মধ্য হতে ফেৎনা-ফাসাদের উদ্ভব হবে এবং তাদের মধ্যেই তা ফিরে যাবে।’

হুযূর বলেন, আমাদেরকে ঈমানের বলে বলীয়ান হতে হবে। যে দামী ঝাড়বাতি আপনারা এ মসজিদে লাগিয়েছেন, সুউচ্চ মিনার নির্মাণ করেছেন তা কোন কাজে আসবে না যদি খোদাভীতির সাথে এতে ইবাদত না করা হয়। মনে রাখবেন, মসজিদ বাহ্যিকভাবে সুন্দর ও আড়ম্বরপূর্ণ হওয়া আবশ্যক নয়। মহানবী (সাঃ)-এর মসজিদ পৃথিবীর সেরা মসজিদ হওয়া সত্বেও তা ছিল কাঁচা মসজিদ। কিন্তু এর ভিত্তি ছিল ত্বাকওয়া বা খোদাভীতির উপর। আফ্রিকায় আমাদের জামাতের অনেক মসজিদ আছে যা অনাড়ম্বর এবং কাঁচা মসজিদ, বাহ্যিকভাবে দেখতেও তেমন সুন্দর নয় কিন্তু সেখানকার নিষ্ঠাবান দরিদ্র আহ্‌মদীরা এগুলো আবাদ করেছেন। খোদার দরবারে তাদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা গৃহীত হয়েছে।

হুযূর বলেন, আপনাদের এই মসজিদ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তাই বলে কেবল মসজিদ নির্মাণ করলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না বরং এটি আবাদ করার প্রতিও আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। যারা এ মসজিদে নামায আদায় করবেন তাদের হৃদয়ে যেন খোদাভীতি ও অন্যের প্রতি ভালবাসা থাকে। তারা যেন মানুষের প্রাপ্য অধিকার প্রদান করে এবং জামাতের আনুগত্য করে। আমাদের মসজিদ সেই গৃহের আদলে নির্মাণ করতে হবে যার ভিত্তি হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত ইসমাঈল (আঃ) দোয়ার মাধ্যমে রেখেছিলেন। মসজিদ সম্মিলিত হবার স্থান এবং নিরাপত্তার মূল কেন্দ্র। আমাদেরও এ উদ্দেশ্যকে দৃষ্টিপটে রেখেই খোদার ঘর বা মসজিদ নির্মাণ করা উচিৎ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ পবিত্র কুরআনে বলেন,

وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْناً وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلّىً

অর্থাৎ ‘এবং যখন আমরা এ গৃহ (কাবা)-কে মানবজাতির জন্য পুনঃপুনঃ মিলন কেন্দ্র এবং নিরাপদ স্থান করেছিলাম এবং বলেছিলাম, তোমরা মুকামে ইব্‌রাহীমকে নামাযের স্থানরূপে গ্রহণ কর।’ (সূরা আল্‌ বাকারা: ১২৬)

হুযূর বলেন, পবিত্র কুরআনের শিক্ষা মোতাবেক বারংবার মসজিদে আসতে হবে। বাজামা'ত নামাযের জন্য এখানে সমবেত হতে হবে। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, যারা এক ওয়াক্ত নামায আদায় করে পরবর্তী ওয়াক্তের নামাযের জন্য অপেক্ষা করে এবং এক জুমুআর পর পরবর্তী জুমুআর জন্য অপেক্ষা করে আর নামায আদায় করে আল্লাহ্‌তা’লা তাদের মধ্যবর্তী সকল অপরাধ ক্ষমা করে দেন। তাই আপনারা যদি খোদার দয়া লাভ করতে চান তাহলে বেশি বেশি মসজিদে আসুন এবং খোদার ইবাদতে আত্মনিয়োগ করুন। এই মসজিদে আপনাদের এবং অত্রাঞ্চলেন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা রয়েছে। মনে রাখবেন যদি কেউ খাঁটি হৃদয়ে খোদার ইবাদত করে তাহলে মানব সেবার প্রতি তার দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে। আর এই স্থানকে সত্যিকারেই

وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلّىً

অর্থাৎ তোমরা ইব্‌রাহীমের দাঁড়াবার স্থানকে নামাযের স্থানরূপে গ্রহণ কর,

এটিই মসজিদ নির্মাণের মহৎ উদ্দেশ্য। যারা এ উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করে তাদেরকে খোদা ইবরাহীমের উত্তরাধিকারীর মর্যাদা প্রদান করেন। ইব্‌রাহীমের মুকাম বলতে কোন স্থানকে বুঝায় না বরং এতে তার যে পদমর্যাদা ছিল তা অর্জনের শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

এরপর হুযূর বলেন, খোদাতা’লা ইলহামে বর্তমান যুগের মসীহ্‌র নামও ইব্‌রাহীম রেখেছেন। যেমন বলা হয়েছে,

‘সালামুন আলা ইবরাহীমা-সাফাইনাহু ওয়া নাজ্জাইনাহু মিনাল গাম্মি- তাফাররাদনা বিযালিকা ফাত্তাখিযু মিম্‌ মাকামে ইব্‌রাহীমা মুসাল্লা।’

অর্থঃ ‘ইবরাহীমের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, আমরা তাকে মনোনীত করেছি এবং দুঃখ-কষ্ট থেকে উদ্ধার করেছি। আমরাই এ কাজ করেছি, সুতরাং তোমরা ইবরাহীমের পদাঙ্ক অনুসরণ করো।’

এই ইলহামে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে আল্লাহ্‌তা’লা আশিসমন্ডিত হবার সুসংবাদ দিয়েছেন আর তাঁর অনুসারীদেরকে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে।

হুযূর বলেন, এখানে আমি প্রসঙ্গক্রমে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চাই কেননা এ সমস্যাটি দিন দিন প্রকটরূপ ধারণ করছে। কতক আহ্‌মদী ছেলে-মেয়ে জামাতের বাইরে অ-আহ্‌মদীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করছে। আর তারা এ বিয়ে পড়াচ্ছে গয়ের আহ্‌মদী মৌলভী দিয়ে। যে মৌলভী আপনার মনিব ও আধ্যাত্মিক গুরুকে গালী দেয়, তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে অস্বীকার করে, তাকে দিয়ে কিভাবে আপনি বিবাহ পড়ান? আপনার এরূপ কর্ম প্রমাণ করে যে, আপনি স্বয়ং মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর বয়’আত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম কথা হচ্ছে, আহ্‌মদীদের উচিৎ আহ্‌মদীদের মাঝে বিয়ে করা। যদি কোনক্ষেত্রে অপারগতা থাকে তাহলে জামাতের অনুমতি সাপেক্ষে আহ্‌মদী ইমাম দিয়ে বিয়ে পড়ানো যেতে পারে কিন্তু কোন ক্রমেই আহ্‌মদী হয়ে কোন গয়ের আহ্‌মদী দিয়ে বিয়ে পড়িয়ে নিজেকে জামা'তভূক্ত বলে দাবী করতে পারেন না। যারা এরূপ করেন তারা মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর হাতে বয়াতের শর্ত পূরণ না করার কারণে, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ না করার অপরাধে জামা'ত থেকে বহিস্কৃত হন। আমার কাছে যখন এমন কেস আসে আমি বাধ্য হই তাদেরকে নেযামে জামা'ত থেকে বহিস্কার করতে, যদিও কাউকে ইখরাজ করা আমার জন্য খুবই কষ্টদায়ক। তাই আমি এ ভয়াবহ ব্যাধি থেকে আহ্‌মদী ছেলে-মেয়েদেরকে মুক্ত থাকার জন্য নসীহত করছি।

এরপর হুযূর বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার সাথে মসজিদের একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। আজ আমরা এই মসজিদের মাধ্যমেই পাশ্চাত্ব্যবাসীদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবো। মহানবী (সাঃ)-এর অনুপম শিক্ষা প্রচার ও খোদার সাথে তাঁর সৃষ্টিকে পরিচিত করানোর মাধ্যম হবে আমাদের এই মসজিদ। এখানে আপনারা বারবার আসুন, বাজামা'ত নামাযে অংশ গ্রহণ করুন এবং নিজেদের ও সন্তান-সন্ততিদের ভবিষ্যত নিরাপদ ও সুনিশ্চিত করতে সচেষ্ট হোন। আল্লাহ্‌তা’লা সবাইকে এর তৌফিক দিন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে