In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

৩২তম কানাডা জলসার উদ্বোধন এবং আল্লাহ্’র ইবাদত এর গুরুত্ত্ব

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, মিসেসাগা, কানাডা

২৭শে জুন, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, আজ এ জুমুআর খুতবার মাধ্যমে কানাডা জামাতের বার্ষিক জলসার উদ্বোধন হচ্ছে। আল্লাহ্‌তা’লার অপার অনুগ্রহে আজ বিশ্বের সর্বত্র জামাতে আহ্‌মদীয়া জলসার আয়োজন করছে, ফলে জলসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রতিটি আহ্‌মদী অবহিত। আজ এমটিএ’র মাধ্যমে আহ্‌মদীরা বিভিন্ন দেশ ও জাতির জলসা উপভোগ করেন এবং পরস্পরের রীতি-নীতি ও আচার ব্যবহার সম্পর্কেও সবাই অবগত হচ্ছে। এ যুগে খোদাতা’লা মহানবী (সাঃ)-এর সত্যিকার প্রেমিক হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে আবির্ভূত করে তাঁর মাধ্যমে পুনরায় বিশ্ববাসীকে মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করেছেন। আল্লাহ্‌তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ

অর্থাৎ ‘তুমি তাদেরকে সর্বদা রুকু ও সিজদারত দেখতে পাবে, তারা সর্বদা আল্লাহ্‌র ফযল ও সন্তুষ্টি লাভের জন্য যত্নবান থাকে। সিজদার চিহ্নের দরুন তাদের চেহারায় তাদের পরিচয়ের লক্ষণাবলী রয়েছে।’ (সূরা আল্‌ ফাত্‌হ: ৩০)

উপরোক্ত আয়াতের আলোকে হুযূর বলেন, আহ্‌মদী মু’নিদের অবস্থা এমনই হওয়া বাঞ্ছনীয় যা খোদাতা’লা তাঁর পবিত্র গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আমাদের ঈমানের অবস্থা যেন এমন হয় যাতে খোদা আমাদের জিহবা, হাত ও পা হয়ে যান, যদ্বারা আমরা বলি, সৎকর্ম করি এবং চলি। আহ্‌মদীদের মধ্যে আধ্যাত্মিকতার এমন উঁচু মান প্রতিষ্ঠা করার জন্য হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বক্তৃতা ও লেখনীর মাধ্যমে বারংবার আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আর খোদার মাঝে বিলীন হয়ে যাওয়াই মূলতঃ জলসার মূখ্য উদ্দেশ্য।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

“আমার হাতে বয়’আতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পৃথিবীর প্রতি তোমাদের ভালবাসা যেন শীতল হয়। মহানবী (সাঃ)-এর ভালবাসায় তোমাদের হৃদয় যেন ছেয়ে যায়। পার্থিবতার প্রতি ঔদাসীন্য ও বৈরাগ্য সৃষ্টি হয়।”

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) আরও বলেন,

“খোদাতা’লার কাছে আমার দোয়া হলো, তিনি যেন আমার জামা'তকে পবিত্র করেন। খোদার ভালবাসায় জামাতের সদস্যরা যেন নিমগ্ন হয় আর তারা যেন কেবল খোদার সমীপেই সিজদাবনত হয়।”

হুযূর বলেন, সুতরাং এ দিনগুলোতে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর প্রত্যাশানুযায়ী আমাদেরকে সেই সিজদা করতে হবে যাতে তিনি (আঃ) জলসায় যোগদানকারীদের জন্য যে দোয়া করেছেন আমরা তার ভাগী হতে পারি। তাঁর দোয়া থেকে অংশ পাবার জন্য আমরা যেন এদিনগুলোতে খোদার নির্দেশের উপর আমল করে সত্যিকারেই তাঁর দরগাহে সিজদা ও ইবাদতকারী হই। খোদাতা’লার দরবারে কৃত হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর সকল দোয়া আমাদের প্রত্যেকের পক্ষে পূর্ণ হোক। আপনারা জলসার দিনগুলোতে বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদতে আত্মনিয়োগ করুন। আমরা যদি খোদার অধিকার ও বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদানে তৎপর হই এবং সত্যিকার ইবাদতকারী হই তাহলে আমাদের সন্তান-সন্ততিরাও মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর দোয়াদ্বারা কল্যাণ মন্ডিত হবে।

হুযূর বলেন, আল্লাহ্‌তা’লা মানুষকে মৃত্যুর পর একটি অনন্ত জীবনের সুসংবাদ দিয়েছেন কিন্তু অন্য কোন প্রাণীকে এ সংবাদ দেয়া হয়নি। এলক্ষ্যে আল্লাহ্‌তা’লা মানুষের জন্য কিছু রীতি-নীতিও নির্ধারণ করেছেন। যদি আমরা খোদা কর্তৃক নির্দেশিত পথে পরিচালিত হই তাহলে পরকালের অনন্ত জীবন আমাদের জন্য অশেষ কল্যাণ বয়ে আনবে। প্রশ্ন হচ্ছে, খোদা তাঁর বান্দার জন্য কি রীতি-নীতি নির্ধারণ করেছেন, তাহলো- তাঁর ইবাদত করা ও সময়োপযোগী সৎকর্ম করা। আর খোদাকে লাভ করার উপায় সম্পর্কে আল্লাহ্‌তা’লা স্বয়ং বলেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

অর্থাৎ, ‘আমি জিন্ন ও ইনসানকে শুধু এজন্য সৃষ্টি করেছি যেন তারা কেবলমাত্র আমারই ইবাদত করে।’ (সূরা আয্‌ যারিয়াত: ৫৭)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

“তোমাদের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য খোদার ইবাদত, তাই করো। যারা একে ভুলে গিয়ে বন্য জন্তুর মত জীবন-যাপন করে তাদের জন্য খোদা কোন দায়িত্ব নেন না। এ আয়াতের প্রতি বিশ্বাস রেখে জীবনে আমূল পরিবর্তন আনা আবশ্যক। আমি একথা বলছি না যে, জাগতিকতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে কেবল ধর্ম-কর্ম নিয়েই পড়ে থাকো, বরং আমার বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, সব কাজ করো কিন্তু যে কোন কাজ করার সময় মনে রেখো এতে খোদা সন্তুষ্ট কিনা? এ উদ্দেশ্য পরিত্যাগ করে যারা কেবল সংসার পূজায় মত্ত থাকে তাদের সাথে খোদা কিরূপ ব্যবহার করবেন? মনে রেখো জীবনের কোন ভরসা নেই। তাই মানব হৃদয়ে খোদার নির্দেশনা লাভের জন্য একটি উদগ্র বাসনা থাকা চাই। এটি না করে কেবল পার্থিবতার পূজায় মগ্ন হলে খোদা তাদেরকে সাময়িক ছাড় দিলেও অবশেষে লাঞ্ছিত করেন।”

হুযূর বলেন, যারা ইবাদুর রহমান বা রহমান খোদার বান্দা তারা সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে খোদাকে ভুলে যায় না বরং আরো বেশি খোদার প্রতি বিনত হয় এবং তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। পৃথিবীর সকল সৃষ্টি তাদেরকে খোদা চিনতে সাহায্য করে এবং তারা পুণ্যে অগ্রগামী হয়। এদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌তা’লা বলেন,

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَ��لْأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآياتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ*الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَاماً وَقُعُوداً وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ

অর্থা��, ���নিশ্চয় আকাশমালা ও পৃথিবীর সৃজনের মধ্যে এবং রাত্রি ও দিবসের পর���বর্তনের মধ্যে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে এবং নিজেদের পার্শ্বদেশে শুয়ে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে এবং আকাশসমূহ্‌ ও পৃথিবীর সৃজনের বিষয় চিন্তা করে।’ (সূরা আলে ‘ইমরান: ১৯১-১৯২)

আল্লাহ্‌ মানুষকে যে বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়েছেন তা তাকে সেরা জীবে পরিণত করেছে। খোদার সৃষ্টি ও সুনিপুন সৃজন দর্শনে তারা খোদার অস্তিত্ব ও নৈকট্য লাভে সক্ষম হয়। এরপর তারা আরো রহস্য উদঘাটনের জন্য খোদার সাহায্য প্রার্থনা করে, ফলে তাদের যুক্তি ও বুদ্ধি প্রখরতা লাভ করে। কিন্তু অধুনাকালে মানুষ স্বীয় আবিষ্কারকেই সবকিছু মনে করে ফলে তারা মূল কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়।

হুযূর বলেন, খোদাতা’লা মরহুম প্রফেসর আব্দুস সালাম সাহেবকে সফল করেছেন। তিনি তাঁর গবেষনার মূলতত্ব সংগ্রহ করেছেন পবিত্র কুরআন থেকে। তাই যেসব আহ্‌মদীরা বর্তমানে গবেষনা কর্মে রত আছেন তারা ইবাদতশুন্য লোকদের তুলনায় বেশি সফল হবেন। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেছেন,

“খোদাতা’লা মানুষের মধ্যে অনেক সূক্ষ্ণ ও নিগূঢ় বৃত্তি সৃষ্টি করেছেন। একজন বিশ্বাসী তার গবেষণা দ্বারা সৃষ্টির সূক্ষাতিসূক্ষ্ণ রহস্য উম্মোচন করেন বা মৌলিক জ্ঞান লাভ করেন। একজন অমুসলমান তার গবেষণা কর্মের সফলতায় অহংকারী হয়ে উঠে অপরদিকে একজন ইবাদতকারী স্বীয় সফলতায় অধিক বিনত ও খোদার প্রতি সমর্পিত হয়। যারা মু’মিন তারা খোদার সৃষ্টি রহস্য বুঝে, তারা উৎকর্ষতায় পৌঁছে যে জ্ঞান লাভ করে তা তাদেরকে আরো বেশি খোদার প্রতি আকৃষ্ট করে। তাদের ঈমান অধিক দৃঢ় ও মজবুত হয়।”

আল্লাহ্‌তা’লা বলেন,

إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآياتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّداً وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لا يَسْتَكْبِرُونَ

অর্থাৎ, আমাদের নিদর্শনসমূহের প্রতি কেবল তারাই ঈমান আনে, যাদেরকে সেগুলো সম্পর্কে যখনই স্মরণ করানো হয়, তখনই তারা সিজদায় ভূলুন্ঠিত হয়, এবং তাদের প্রভু-প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তসবীহ্‌ করতে থাকে, এবং তারা অহংকার করে না।’ (সূরা আস্‌ সাজদা: ১৬)

হুযূর বলেন, আল্লাহ্‌র আয়াত বা কুরআনের নিদর্শন এবং নবীর মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন নিদর্শনও এর অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং যে মু’মিন সৃষ্টি রহস্য, বিশ্ব জগত এবং খোদার সত্ত্বা নিয়ে চিন্তা করে, খোদার ইবাদতকারী হওয়া ছাড়া তার কোন গত্যন্তর নেই।

এরপর হুযূর বলেন, অনেকে আহ্‌মদী হবার কারণে আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবের পক্ষ থেকে বিরোধিতার সম্মুখিন হচ্ছেন, তাদের এ বিরোধিতা সহ্য করার কোন মূল্য নেই যদি না তারা খোদার ইবাদত করে। এ বিষয়ে আমাদের চিন্তা করা উচিৎ, কেবল ঈমান আনা বা বিশ্বাস করাই যথেষ্ট নয়। খোদার নৈকট্য লাভের জন্য তাঁর ইবাদত ও তাঁর প্রতি সমর্পিত হওয়া একান্ত আবশ্যক। সর্বোত্তম ইবাদত হচ্ছে নামায। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

“তোমরা তোমাদের নামায এমনভাবে আদায় করো যেন তোমরা খোদাকে দেখতে পাও নতুবা জেনে রাখো খোদা অবশ্যই তোমাদের দেখছেন। নামাযে দোয়া মাসুরা ও বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করো। নিজের দুর্বলতা খোদার সমীপে প্রকাশ করো যেন খোদার দয়া লাভ হয়।”

হুযূর বলেন, তাই খোদার নৈকট্য ও তাঁর সাথে সত্য সম্পর্ক স্থাপনই আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য। যে মূল উদ্দেশ্য লাভ করে সে জাগতিক নিয়ামত থেকেও বঞ্চিত থাকে না। শত্রু তাকে দেখে এবং ব্যর্থ আক্রোশে মত্ত হয়।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

‘যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে খোদার প্রতি ধাবমান হয় সে কখনো ব্যর্থ হয় না।’

হুযূর বলেন, এ যুগে আল্লাহ্‌তা’লা ইবাদতকারীদেরকে অনেক বড় নিয়ামতের সুসংবাদ প্রদান করেছেন, আর তা হলো খিলাফত। তাই জামাতের প্রতিটি সদস্য আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলকে ইবাদতের উন্নত মান প্রতিষ্ঠার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। এরা এমন মানুষ হবে যারা খোদার সাথে কাউকে শরীক করবে না। আধুনিক যুগে বিভিন্ন নিত্য নতুন আবিষ্কার মানুষকে শির্‌কের দিকে আহবান জানাচ্ছে। কিন্তু যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে খোদার ইবাদত করে এগুলো তার কোন ক্ষতি করতে পারে না এবং সে ব্যর্থ হয় না। এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মও খোদার রহমতের ছায়ায় নিরাপদ থাকবে। যুগ খলীফার দোয়া তারা লাভ করবে আর তাদের দোয়াও খলীফার পক্ষ্যে পূর্ণ হবে। ইনশাআল্লাহ্‌ খিলাফতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌তা’লা ধর্মকে দৃঢ়তা প্রদান করবেন কিন্তু প্রত্যেককে স্বয়ং এ জামাতে সংশ্লিষ্ট থাকার চেষ্টা করতে হবে।

হুযূর বলেন, ২৭শে মে’ লন্ডনে খিলাফত শত বার্ষিকী জুবিলীর বিশাল অনুষ্ঠান হয়েছে। পৃথিবীর সর্বত্রই হয়েছে। আপনাদের এখান থেকে কেউ কেউ লিখেছে, সেদিন রাত ২.৩০টায় আমরা ঘর থেকে বের হই এবং যানজট না থাকায় ৪০ মিনিটের পথ ২০মিনিটে পাড়ি দিয়ে মসজিদের কাছে গিয়ে দেখি প্রচন্ড ভিড়। শেষ পর্যন্ত কোন ক্রমে শেষ দু’রাকাত নফলে যোগ দিতে পেরেছি। আপনাদের মাঝে এই যে, আবেগ-অনুভূতি ও প্রেরণা সৃষ্টি হয়েছে তাকে একটি ব্যাকুলতার সাথে আকাশের উচ্চতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে। কারণ এটি খোদার আশিস বা কৃপা লাভের একমাত্র উপায়।

হুযূর বলেন, আজকের এ জলসা কোন সাধারণ জলসা নয়, বরং খিলাফত জুবিলী জলসা। আপনারা একমাস পূর্বে খলীফার সাথে যে অঙ্গীকার করেছেন তা যেন স্থায়ী রূপ নিতে পারে সেজন্য চেষ্টা করুন। আল্লাহ্‌তা’লা প্রত্যেক আহ্‌মদীকে এর তৌফিক দিন। এ জলসায় যোগদানকারী সবাই যেন ইবাদতের দায়িত্ব পালনকারী হয়। আর এ জলসা যেন ইবাদতের দায়িত্ব পালনে সহায় হয়, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে