In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহতা’লার ঐশী গুণ ‘আল-রায্‌যাক’ (রিয্‌ক দাতা)

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১৩ই জুন, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, গত খুতবায় আমি আল্লাহ্‌তা’লার একটি অনুপম বৈশিষ্ট্য ‘রায্‌যাক’ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম আজও এ বিষয়ে কিছু বলবো। এর অর্থ হচ্ছে তিনি মানুষকে রিয্‌ক দেন বরং খোদাতা’লার এ বৈশিষ্ট্য থেকে বিশ্বের সকল সৃষ্টি লাভবান হচ্ছে। হুযূর বলেন, কোন মু’মিন যদি ত্বাকওয়া বা খোদাভীতির মাঝে জীবন অতিবাহিত করাকে নীতি হিসেবে অবলম্বন করে তাহলে আল্লাহ্‌তা’লা তাকে এমন স্থান থেকে রিয্‌ক সরবরাহ করেন যার সে কল্পনাও করতে পারে না। হুযুর বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আহ্‌মদীরা খোদা তা’লা যে অলৌকিকভাবে তাদেরকে রিয্‌ক প্রদান করেন তা উল্ল্যেখ করতে গিয়ে লিখেন, আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে বাহ্যতঃ এতটা লাভ হবার কথা ছিল না কিন্তু খোদা তাঁর অপার দানে আমাদেরকে সমৃদ্ধ করেছেন। খোদার এহেন দান আহ্‌মদীদের ঈমান বৃদ্ধির কারণ হয় আর এরা এমন মানুষ যারা খোদার দয়া ও ভালবাসা দেখে তৎক্ষণাৎ খোদার সমীপে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর নিকট সমর্পিত হন। এমন মানুষ সম্পর্কে আল্লাহ্‌তা’লা বলেন,

وَمَنْ يَشْكُرْ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ

অর্থাৎ, ‘বস্তুতঃ যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে কেবল নিজের মঙ্গলের জন্যেই তা প্রকাশ করে।’ (সূরা লুক্‌মান: ১৩)

সুতরাং খোদার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মানুষের জন্য কল্যাণকর আর যে অকৃতজ্ঞ তার জন্য সে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হুযূর বলেন, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর সন্তান-সন্ততিদের জন্য দোয়া করতে গিয়ে খোদার সন্নিধানে আকুতি করেছিলেন যে,

হে খোদা! তাদের রিয্‌ক দান কর আর একই সাথে তাদেরকে কৃতজ্ঞতার চেতনায়ও সমৃদ্ধ কর।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌তা’লা ইব্রাহীম (আঃ)-এর এ দোয়ার কথা এভাবে উল্ল্যেখ করেন,

وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ

অর্থাৎ, ‘তাদেরকে ফলফলাদির রিয্‌ক দান কর, যেন তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।’ (সূরা ইব্‌রাহীম: ৩৮)

একজন মু’মিন যখন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, ঈমান ও খোদাভীরুতায় উন্নতি করে তখন খোদা আপন অনুগ্রহে তাঁর রিয্‌ক বৃদ্ধি করেন। রিয্‌ক বৃদ্ধি পাওয়া কোন দৈব ব্যাপার নয় বরং এটি ঐশী প্রতিশ্রুতির পূর্ণতাস্বরূপ হয়ে থাকে। যেমন খোদাতা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ

অর্থাৎ, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হয়ে চল তাহলে নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে আরো অধিক দান করবো।’ (সূরা ইব্‌রাহীম: ৮)

তাই যারা সর্বদা খোদার প্রতি অনুগত থাকে খোদা প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাদের জন্য অদৃশ্য স্থান থেকে রিয্‌ক’এর ব্যবস্থা করেন।

হুযূর বলেন, যে মু’মিন নয় সে হয়ত বলতে পারে, প্রকৃতি আমাকে প্রাচুর্য দিয়েছে বা অনুকূল আবওহাওয়ার কারণে আমার ফসল ভাল হয়েছে। কিন্তু একজন মু’মিন যখন সাধ্যমত পরিশ্রম করার পর খোদার উপর নির্ভর করে তখন খোদা তার পরিশ্রমে যে ঘাটতি থাকে তা আপন অনুগ্রহে পূর্ণ করেন, ফলে খোদার দয়ায় তার পরিশ্রম অসাধারণ সফলতা বয়ে আনে। হুযূর বলেন, এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও আছে এছাড়া অনেক আহ্‌মদীও লিখে থাকেন যে, গয়ের আহ্‌মদীদের তুলনায় আমাদের ফসল ভাল হয়েছে। গয়ের আহ্‌মদীরা জিজ্ঞেস করে তোমরা এমন কি করেছ যে, একই বীজ ও মাটি হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের ভাল ফসল উৎপন্ন হয়েছে? আহ্‌মদীরা উত্তরে বলেন এর মধ্যে ১৬ ভাগের ১ভাগ বা ১০ভাগের ১ভাগ খোদার জন্য নির্ধারিত তাই খোদা এতে বরকত দিয়েছেন; এর বেশী কিছু নয়। কেননা খোদাতা’লা স্বয়ং পবিত্র কুরআনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন,

مَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجاً. وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ

অর্থাৎ, ‘যে আল্লাহ্‌র ত্বাকওয়া অবলম্বন করে-তিনি তার জন্য কোন না কোন উদ্ধারের পথ করে দিবেন এবং তিনি তাকে এমন স্থান থেকে রিয্‌ক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সূরা আত্‌ তালাক: ৩-৪)

হুযূর বলেন, আল্লাহ্‌ মানুষের প্রতি যে দয়া করেন তার জন্য মানুষ যদি সারাজীবনও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তা যথেষ্ট হবেনা। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) এ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন,

‘সকল সূক্ষ্ম পাপ, মিথ্যা ও আত্মশ্লাঘা থেকে যারা নিজেকে বিরত রাখে খোদা নিজ প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাদেরকে সকল সমস্যা থেকে উদ্ধার করবেন।’

হুযূর বলেন, হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর উপরোক্ত কথার আলোকে আমি একটি বিষয়ের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, পাশ্চাত্ব্যের বিভিন্ন সরকার নাগরিকদেরকে Social Benefit (সামাজিক সুযোগ-সুবিধা) দিয়ে থাকে। যারা নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের জীবন-যাত্রা যাতে ব্যহত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে সরকার দেশের জনসাধারণকে এ সুযোগ দিয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই এত্থেকে অন্যায় সুযোগ গ্রহণ করছে। কতক আছে যারা কাজ করে কিন্তু সরকারকে সঠিক আয় দেখায় না, আবার অনেকেই Taxi চালায় কিন্তু সরকারের কাছে তা গোপন রেখে পুরো অন্যায় সুবিধা নিচ্ছে। অনেকের নিজের বাড়ী থাকা সত্ত্বেও সরকারের কাছ থেকে ঘর ভাড়া আদায় করছে আবার অনেকে কর ফাঁকি দিচ্ছে। বর্তমানে প্রসাশন এমন লোকদের খুঁজে বের করছে। এমন দুর্নীতিবাজ কেউ ধরা পড়লে যারা বৈধভাবে সাহায্য নিচ্ছে তাদেরও ক্ষতি হয়। এমন আহ্‌মদীর সংখ্যা নাই বললেই চলে কিন্তু যদি কেউ থেকে থাকে তারা জামাতের সম্মানের উপর আঘাত হানছে। যারা মিথ্যা বলে ক���েকটি পাউন্ড আয় করছে তারা মূলতঃ প্রকাশ্য শির্‌ক করছে। হযরত মসীহ���‌ মওউদ (আঃ) বলেছেন,

‘যারা খোদার উপর নির্ভর করা ছেড়ে দেয় তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে নাস্তিকতা জন্ম নেয় আর পরিশেষে এরা শয়তানের কোলে আশ্রয় নেয়।’

সাধারণত আহ্‌মদীদের সম্পর্কে সরকারের ধারণা ভাল, কিন্তু যদি এমন একজন আহ্‌মদীও থাকে তাহলে আমি আমীর সাহেবকে বলেছি, তার কাছ থেকে চাঁদা নিবেন না। এদের কাছ থেকে চাঁদা না নিলে জামাতের কোন সমস্যা হবে না। আর সমস্যা হলেও এদের কাছ থেকে জামা'ত চাঁদা নিবে না। অন্যের ‘রিয্‌ক’এর প্রতি লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকানো উচিত নয়; খোদার উপর নির্ভর করলে স্বল্পে তুষ্টতা সৃষ্টি হয়। আল্লাহ্‌তা’লা কখনই মু’মিনকে মিথ্যার মুখাপেক্ষী করেন না কিন্তু যদি কারো সামান্য অর্থ কষ্ট হয়ও মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে তা সহ্য করা উচিৎ। খোদার সত্তা দুর্বল নয় যদি তাঁর উপর নির্ভর কর তাহলে তিনি স্বয়ং রিয্‌ক’এর ব্যবস্থা করবেন এবং রিয্‌ক বর্ধিত করবেন।

যদি তোমরা চাও যে, তোমাদের সম্পদ বৃদ্ধি পাক তাহলে তার উপায় আল্লাহ্‌তা’লা পবিত্র কুরআনে উল্ল্যেখ করেছেন তিনি বলেন,

وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ

অর্থাৎ, ‘তোমরা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে যাকাত দাও-জেনে রেখ যে, এরাই নিজেদের ধন-সম্পদ বহু গুণে বর্ধিত করছে।’ (সূরা আর রূম: ৪০)

খোদার পথে সামর্থানুসারে খরচ করা সম্পদ বৃদ্ধির কারণ হয়। যদি তোমরা তোমাদের পবিত্র আয় থেকে খোদার রাস্তায় খরচ কর তাহলে অল্পে তুষ্টতা সৃষ্টি হবে। অন্যায়ভাবে আয় করে তা থেকে চাঁদা দিলে তাতে কোন লাভ নেই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌তা’লা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ

অর্থাৎ, ‘হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা তোমাদের উপার্জনকৃত পবিত্র বস্তু থেকে খরচ কর।’ (সূরা আল্‌ বাকারা: ২৬৮)

পবিত্র আয় থেকে যদি তোমরা খোদার সন্তুষ্টির জন্য খরচ কর তাহলে খোদাতা’লা তোমাদের সম্পদে বরকত সৃষ্টির নিশ্চয়তা দিয়েছেন। চোর-ডাকাত এবং মজুদদার সবাই উপার্জন করে কিন্তু তারা কি বলতে পারে যে, এটি খোদার দান কিন্তু এমন অপবিত্র বস্তু খোদার হতে পারে না। অন্যায়ভাবে উপার্জিত সম্পদ কম হোক বা বেশি তা পবিত্র হতে পারে না, প্রত্যেক আহ্‌মদীকে এদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।

হুযূর বলেন, এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা বলছি; অনেকেই বলেন, বাজেট লিখিয়েছি কিন্তু সে মোতাবেক আয় হচ্ছে না, এমন মানুষের যদি খোদার সন্তুষ্টির উপর দৃষ্টি থাকে তাহলে তারা প্রকৃত আয় অনুসারে নিজেদের বাজেট পুনঃনির্ধারণ করে আদায় করতে পারে।

আল্লাহ্‌তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

يَسْأَلونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ

অর্থাৎ, ‘তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে যে তারা কি খরচ করবে? তুমি বল যা খরচ করলে তোমাদের কষ্ট না হয় তা খরচ কর।’ (সূরা আল্‌ বাকারা: ২২০)

হুযূর বলেন, আল্লাহ্‌র ফযলে জামাতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নিজেদেরকে কষ্টে নিপতিত করে হলেও পুরো হারে চাঁদা আদায় করার চেষ্টা করেন। এটি তাদের উন্নত ঈমানের পরিচয়।

একটি হাদীসে এসেছে, হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) বর্ণনা করেন, মহানবী (সাঃ) ফজরের নামাযান্তে সালাম ফিরিয়ে এ দোয়া করতেনঃ-

‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআন ওয়া রিযকান তাইয়্যেবান ওয়া আমালান মুতাকাব্বালান’।

অর্থাৎ, হে আমার আল্লাহ্‌! আমি তোমার কাছে এমন জ্ঞান চাই যা কল্যাণকর, এমন ‘রিয্‌ক’ যা পবিত্র এবং এমন কর্ম করার সামর্থ চাই যা গ্রহণযোগ্য।’

গত খুতবায় বলেছিলাম ‘রিয্‌ক’এর একটি অর্থ অংশ; তা ভালও হতে পারে আবার মন্দও। আল্লাহ্‌তা’লা বলেন,

وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ

অর্থাৎ, ‘তোমরা কি মিথ্যা বলে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করাকে নিজেদের জীবিকা স্বরূপ অবলম্বন করেছে?’ (সূরা আল্‌ ওয়াকে’আ: ৮৩)

হুযূর বলেন, এ আয়াতে আল্লাহ্‌ সেসব দুর্ভাগাদের কথা বলেছেন যারা খোদাকে নয় বরং পার্থিবতাকে ভয় করে। বস্তুতঃ এরা শয়তানের ক্রোড়ে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে মানুষ জগতের ভয়ে সত্যকে মানে না। মিম্বরের লোভে মোল্লারা সত্যের বিরোধীতা করে, আর ক্ষমতা বা গদির লোভে রাজনীতিবিদরা সত্যকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে। এরা পৃথিবীর কীট, এরা প্রতিনিয়ত ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। আজ যেসব দেশে আহ্‌মদীদের বিরোধিতা হচ্ছে সেখানে মূলতঃ মোল্লা ও রাজনীতিবিদরা হাতে হাত মিলিয়ে আহ্‌মদীদের বিরোধিতা করছে। রাজনীতিবিদদের ধর্ম নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই। কেবল ভোট ও ক্ষমতা লাভের অভিপ্রায়ে আহ্‌মদীদের বিরোধিতা করছে। মোল্লারা মাদ্রাসা বা জামেয়ার নাম নিয়ে মানুষ ও বিভিন্ন সরকারকে প্রতারিত করে টাকা উপার্জন করছে। এদের জীবিকার উপায় হচ্ছে মিথ্যা। আল্লাহ্‌ গরম পানি দ্বারা এদের আতিথেয়তা করবেন আর আগুনের ইন্ধন হবে এদের আবাসস্থল।

হুযূর বলেন, বর্তমানে পাকিস্তান ও ইন্দোনেশীয়াতে জামাতের চরম বিরোধিতা হচ্ছে। মোল্লারা সাধারণ মানুষকে জামাতের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে আর গত একশত বছর ধরে জামাতের বিরোধিতা করছে কিন্তু জামাতের উন্নতির ক্ষেত্রে তারা কোন বাঁধ সাধতে পারেনি। আমাদের সামান্য ও সাময়িক কষ্ট হয়েছে সত্য কিন্তু তারা জামাতের উন্নতি রুখতে পারে নি আর পারবেও না ইনশাআল্লাহ্‌। এক স্বৈরাচারী বলেছিল, আহ্‌মদীদের হাতে আমি ভিক্ষার ঝুলি ধরিয়ে দিবো, আইন করে আহ্‌মদীদের পিষ্ট করতে চেয়েছে কিন্তু স্বয়ং তার পরিণতি কি হয়েছে তা পৃথিবী জানে। অপর স্বৈরশাসক জামা'তকে নির্মূল করতে চেয়েছে কিন্তু খোদা স্বয়ং তাকে নির্মূল করেছেন।

খোদাতা’লা রাযেক। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,

إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ

অর্থাৎ, ‘নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তিনি, যিনি পরম রিয্‌কদাতা, শক্তির অধিকারী, সুদৃঢ়।’ (সূরা আল্‌ যারিয়াত: ৫৯)

সুতরাং আমরা হলাম এমন খোদার ইবাদতকারী; তাই এই পৃথিবীর কীটরা কিভাবে আমাদের রিয্‌ক বন্ধ করবে? তারা আমাদের ঈমানেও চিড় ধরাতে পারবে না।

হুযূর বলেন, পাকিস্তানে, হায়দ্রাবাদের কোটলিতে আহ্‌মদীদের উপর নির্যাতন হচ্ছে। তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালাও পোড়াও অভিযান চলছে। ফয়সালাবাদ মেডিকেল কলেজ আহ্‌মদী ছাত্র-ছাত্রীদের বহিষ্কার করেছে। তারা মনে করেছে, এরা পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে ভেবে তাদের কাছে নতি স্বীকার করবে, নিজেদের ঈমান বিকিয়ে দেবে; কিন্তু এরা জানে না আহ্‌মদীরা কোন্‌ খোদায় বিশ্বাসী আর তাদের ঈমান কত দৃঢ়। আপনারা পাকিস্তান ও ইন্দোনেশীয়ার আহ্‌মদীদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করুন।

সবশেষে হুযূর বলেন, চলতি সপ্তাহে আমি আমেরিকা ও কানাডা সফরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবো, ইনশাআল্লাহ্‌। এটি আমার প্রথম আমেরিকা সফর। খিলাফত জুবিলী উপলক্ষ্যে তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দোয়া করুন যেন খোদাতা’লা নিজ করুণায় সকল বিপদাপদ থেকে মুক্ত রাখেন এবং উত্তম সফলতা দান করেন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে