In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহতা’লার ঐশী গুণ ‘আল-রায্‌যাক’ (রিয্‌ক দাতা)

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

৬ই জুন, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

তাশাহ্‌হুদ, তায়্যাউয ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর বলেন, আল্লাহ্‌তা’লার একটি গুণবাচক নাম হলো ‘রায্‌যাক’। আল্লাহ্‌র জন্যই এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। হুযুর পবিত্র কুরআন ও বিভিন্ন অভিধান যেমন, মুফরদাত ইমাম রাগেব, লেসানুল আরব এবং আকরাবুল মওয়ারেদের আলোকে এর বিভিন্ন অর্থ তুলে ধরেছেন যার সার হচ্ছে, খোদাতা’লাই মানুষের দৈহিক ও আধ্যাত্মিক জীবিকার ব্যবস্থা করে থাকেন তাই তাঁকে রাযেক বলা হয়। মানুষের খোরাক, বেতন-ভাতা ও যুগে যুগে নবী প্রেরণ সবই, রিয্‌কের অন্তর্গত যার ব্যবস্থা ‘রায্‌যাক’ খোদা স্বয়ং করে থাকেন।

পবিত্র কুরআনে এ শব্দের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। হুযূর পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে খোদাতা’লার এ বৈশিষ্ট্যের উপর আলোকপাত করেন। সর্বপ্রথম সূরা হুদের আয়াত,

وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُبِينٍ

অর্থাৎ, ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোন জীব নেই যার রিয্‌কের দায়িত্ব আল্লাহ্‌ বহণ করছেন না; আর তিনি তাদের অস্থায়ী এবং স্থায়ী আবাসস্থল সম্পর্কেও অবহিত। সবকিছু একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। (সূরা হূদ: ৭)

হুযূর বলেন, এ আয়াতের আলোকে আল্লাহ্‌তা’লা সমগ্র পৃথিবীর সকল সৃষ্টির জন্য রিয্‌ক সরবরাহ করেন। পশু-পাখি,কীট-পতঙ্গ এবং জানা অজানা অগণিত পোকা-মাকড় আছে, খোদা সবার জীবিকার যোগান দেন। অনেক কীট-পতঙ্গ ও পোকা মাকড় আছে যা সম্পর্কে মানুষ জানে আবার অনেক এমনও আছে যা মানুষের অজানা কিন্তু খোদাতা’লা তাঁর রায্‌যাক বৈশিষ্টের সুবাদে সকল প্রাণীকেই খাবার পৌঁছাচ্ছেন। মানুষ ফসল বুনে আর তার একটি অংশ নিজেরা ব্যবহার করে কিন্তু এর একটি বড় অংশ অন্যান্য জীব ভক্ষণ করে। মোটকথা খোদার সর্বপ্রকার দানকেই রিয্‌ক বলা হয়। পারলৌকিক রিয্‌ক শুধুমাত্র মানুষের জন্য নির্ধারিত কেননা মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। এ রিয্‌ক লাভের ভিত্তি হচ্ছে আধ্যাত্মিকতা এবং খোদাভীতি। পুণ্যকর্মের সাথে এর সম্পৃক্ততা। মানুষ তার পার্থিব কর্মের ফলাফল ভোগ বা প্রত্যক্ষ করবে পরকালে। পরকালীন রিয্‌কের কোন কোন অংশ খোদাতা’লা মানুষকে এজগতেও দেন যাতে মু’মিনরা আধ্যাত্মিকতায় আরো উন্নতি করতে পারে কিন্তু পরম বা পরিপূর্ণরূপে তা দেয়া হবে পরকালে। খোদাতা’লা তাঁর নবী-রসূলদেরকেও মূলতঃ আধ্যত্মিক রিয্‌কের যে বিধান রয়েছে তার অধীনে প্রেরণ করেন।

হুযূর বলেন, এ পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী জীবনে যেখানে খোদাতা’লা মানুষের প্রতি এত স্নেহশীল, দয়ার্দ্র, সেই খোদা পরকালীন স্থায়ী জীবনে রিয্‌ক বা জীবিকার বিধান করবেন না তা কি করে হয়।

হুযূর বলেন, পরিমাণ ও মানের দিক থেকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ রিয্‌ক খোদাতা’লা মহানবী (সাঃ)-এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে দান করেছেন। তাই পবিত্র কুরআন বলছে, তোমাদের জন্য যে আধ্যাত্মিক রিয্‌ক খোদা পাঠিয়েছেন তাঁর মূল্যায়ন কর নতুবা মনে রেখো, এর প্রতি অবজ্ঞার কারণে কখনও কখনও তাঁর বাহ্যিক রিয্‌ক উঠিয়েও নেয়া হয়। যেমন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌তা’লা বলেন,

وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً قَرْيَةً كَانَتْ آمِنَةً مُطْمَئِنَّةً يَأْتِيهَا رِزْقُهَا رَغَداً مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَكَفَرَتْ بِأَنْعُمِ اللَّهِ فَأَذَاقَهَا اللَّهُ لِبَاسَ الْجُوعِ وَالْخَوْفِ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ

অর্থাৎ, এমন এক জনপদ যা সবদিক থেকে নিরাপদ ও পরম সুখ-শান্তিতে ছিল। সব জায়গা থেকে সেখানে রিয্‌ক আসত, তথাপি তা আল্লাহ্‌র নিয়ামতরাজির অকৃতজ্ঞতা করলো; সুতরাং আল্লাহ্‌ তাদের কৃতকর্মের দরুন একে ক্ষুধা ও ভয়ের পোষাকে আবৃত করলেন। (সূরা আন্‌ নাহল: ১১৩)

হুযূর বলেন, এ আয়াতে খোদাতা’লা মক্কার চিত্র বর্ণনা করেছেন। যতদিন মহানবী (সাঃ) মক্কায় ছিলেন ততদিন সব স্থান থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে, কিন্তু তাঁর হিজরতের পর এ ধারা বন্ধ হয়ে যায় এবং ভয়ানক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। যাতে মানুষের প্রাণ বিনাশ হবার আশংকা জাগে। পরিশেষে আবু সুফিয়ান মহানবী (সাঃ)-এর সাথে মদীনায় সাক্ষাত করেন এবং দোয়ার অনুরোধ জানান; আর মহানবী (সাঃ) ছিলেন দয়ার সাগর, তিনি তৎক্ষণাৎ তাদের জন্য দোয়া করেন ফলে খোদাতা’লা মক্কাবাসীদের এ চরম বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। দেখুন! শত্রুরা জানতো মহানবী (সাঃ)-ই এ পৃথিবীতে আধ্যাত্মিক ও জাগতিক রিয্‌ক লাভের মাধ্যম। বিপদে তাঁর কাছে ছুটে এসেছে কিন্তু তারপরও এরা তাঁর বিরোধীতা পরিত্যাগ করেনি।

হুযূর বলেন, বর্তমানে বিশ্বে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এর কারণ কি? মানুষের চিন্তা করা উচিৎ। আমেরিকা যাকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সম্পদশালী রাষ্ট্র মনে করা হয় সেখানেও খাদ্য ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পূর্বের তুলনায় এখন ১০/১৫ গুণ বেশি খাদ্য উৎপাদন হলেও আমেরিকাসহ বিশ্বের বড় বড় দেশ খাদ্য সংকটে ভুগছে। মানুষ যখন খোদার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তখন খোদা এভাবেই তাদেরকে ঝাঁকুনি দেন। তাই এমতাবস্থায় মুসলমানদেরকে নিজেদের অবস্থা পর্যালোচনা করা উচিৎ।

হুযূর বলেন, বর্তমান যুগে অনেক দরিদ্র দেশ সম্পদশালী রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থাকে আর তাদেরকেই রিযক্‌দাতা মনে করে, ফলে তাদের ��কল অন্যায় দাবী এরা মাথা পেতে মেনে নেয়। এদের মনে রাখা উচিৎ আসল রিয্‌কদাতা হচ্ছে মহাপরাক্রমশালী খোদা। যদি মাথা নত করতেই হয় তাহলে খোদার সমীপে করো কিন্তু সাহ�����্য বন্ধ হয়ে যাবার আশংকায় পার্থিব শক্তির পূজা করো না। কেননা আল্ল���হ্‌ত���’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

وَكَأَيِّنْ مِنْ دَابَّةٍ لا تَحْمِلُ رِزْقَهَا اللَّهُ يَرْزُقُهَا وَإِيَّاكُمْ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

অর্থাৎ, এমন কত জীবজন্তু আছে যারা নিজেদের রিয্‌ক বহণ করে বেড়ায় না। আল্লাহ্‌ই তাদেরকে ও তোমাদেরকে রিয্‌ক দেন। এবং তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী। (সূরা আল্‌ আন্‌কাবূত: ৬১)

আল্লাহ্‌ বলেন, সকল জীবজন্তুর জন্য খোদা রিয্‌কের ব্যবস্থা করেন। অন্যান্য প্রাণীর জন্য করতে পারলে মু’মিনের জন্য কেন করবেন না?

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন, ‘আল্লাহ্‌তা’লা জাগতিক উপকরণ ব্যবহারে নিষেধ করেন নি। চাকুরীজীবি চাকুরী করবে, কৃষক জমি চাষাবাদ করবে, শ্রমিক তার কাজ করবে যাতে সে তার পরিবার পরিজনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। মোটকথা একটি সীমা পর্যন্ত এসব করা সংগত এবং এগুলো করতে নিষেধ করা হয়নি। কিন্তু উপকরণকেই সবকিছু জ্ঞান করা আর এর উপর নির্ভরশীলতা শির্‌ক; আর এ শির্‌ক মানুষকে জীবনের মূল উদ্দেশ্য থেকে দূরে নিক্ষেপ করে। উদাহরণ স্বরূপ যদি কেউ বলে যে, অমুক জিনিষ যদি না হতো তাহলে না খেয়ে মরতাম। অথবা যদি সম্পত্তি বা অমুক জিনিষ না পেতাম তা হলে আমার অবস্থা শোচনীয় হতো। অমুক বন্ধু না থাকলে কষ্ট করতে হতো। এগুলো এমন কথাবার্তা যা খোদা পছন্দ করেন না। সহায়-সম্পত্তি ও উপকরণের উপর এতটা নির্ভর করবে যতটা খোদা কর্তৃক অনুমোদিত।

হুযুর বলেন, আল্লাহ্‌তা’লা বিশ্বাসী ও মুত্তাকীদের অভাব দূর করেন এবং তাদের চাহিদা পূরণ করেন আর তিনি স্বয়ং তাদের জন্য রিয্‌কের ব্যবস্থা করেন। যেভাবে আল্লাহ্‌তা’লা বলেন,

(সূরা আয্‌ যারিয়াত: ৫১) وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَم تُوعَدُونَ

(সূরা আত্‌ তালাক্: ৪) وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

(সূরা আত্‌ তালাক্: ৩-৪) * وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ * مَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجاً

(সূরা আল্‌ আরাফ: ১৯৭) وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ

পবিত্র কুরআনে এধরনের অনেক আয়াত রয়েছে, তিনি খোদাভীরুদের অভিভাবক ও রক্ষক। তাই মু’মিনকে প্রকৃত প্রভু ও উপাস্যের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখে দৃঢ়তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিৎ। যিনি চিরস্থায়ী দাতা ও রাযেক তাঁর উপরই সদা নির্ভর করা উচিত। খোদার আধ্যাত্মিক পানি থেকেও উপকৃত হবার চেষ্টা করা চাই। তাহলে এটি তোমাদের ইহ ও পরকালকে সুন্দর করবে। নবীরা মানুষকে এটি শিখানোর চেষ্টা করেছেন যে, সকল শক্তি, সম্মান ও মাহত্বের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ্‌তা’লা। তাই উপকরণকে গুরুত্ব দেয়া উচিৎ কিন্তু খোদা বানানো অনুচিত। উপকরণের উপর নির্ভর না করে খোদার প্রতি নির্ভর করা উচিৎ।

এরপরে হুযূর পবিত্র কুরআনের সূরা আল্‌ জাসিয়া’র ৬ নাম্বার আয়াত তেলাওয়াত করেন।

وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ رِزْقٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ آيَاتٌ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ

অর্থাৎ, রাত ও দিবসের পরিবর্তনের মধ্যে এবং আকাশ থেকে আল্লাহ্‌ যে রিয্‌ক নাযেল করেন যদ্বারা যমীনকে তিনি এর মৃত্যুর পর জীবিত করেন, এবং বায়ূ প্রবাহে বুদ্ধিসম্পন্ন জাতির জন্য বহু নিদর্শন আছে। (সূরা আল্‌ জাসিইয়া: ৬)

এ আয়াতে আল্লাহ্‌তা’লা বলেন, একটি দীর্ঘ যুগের অবসানে পুনরায় মানুসের আধ্যাত্মিক কল্যাণের জন্য পানিরূপ আধ্যাত্মিক বারী বর্ষণ করবেন। হুযুর বলেন, এ আয়াতে বিশেষ করে মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণী রয়েছে। সকল উন্নতি হয় দিনের বেলা আর রাতে নেমে আসে অন্ধকার; ধর্মের ক্ষেত্রেও তাই। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আবির্ভাবের পূর্বে সর্বত্র অন্ধকার ছেয়ে ছিল কিন্তু আল্লাহ্‌তালা তাঁকে কামেল ও সম্পূর্ণ শরিয়ত প্রদান করেন যা মানুষের হৃদয়কে জ্যোতির্মন্ডিত করেছে এবং মানুষ পুনরায় আত্মিক জীবন ফিরে পায়। হুযুর (সাঃ) বলেছেন, তাঁর পর শেষ যুগে পুনরায় অন্ধকার ছেয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর মাধ্যমে খোদা এ যুগে আধ্যাত্মিক রিয্‌ক নাযেল করেছেন, অন্ধকার দূরীভূত হবার প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়েছে। আমরা যারা তাঁকে মেনেছি আমাদেরকে তাঁর নির্দেশের উপর শতভাগ আমল করা উচিৎ আর তা বিশ্বাবাসীর কাছে পৌঁছানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করা প্রয়োজন।

এরপর হুযূর নিম্নোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করেন,

وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لا نَسْأَلُكَ رِزْقاً نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى

অর্থাৎ, তুমি তোমার পরিবারবর্গকে নামাযের তাগিদ করতে থাকো, এবং তুমি নিজেও এর উপর অবিচলভাবে কায়েম থাকো। আমরা তোমার কাছে কোন রিয্‌ক চাই না, বরং আমরাই তোমাকে রিয্‌ক দিচ্ছি। বস্তুত ত্বাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য উত্তম পরিণাম। (সূরা তাহা: ১৩৩)

এ আয়াতে আল্লাহ্‌তা’লা মানুষকে তাঁর ইবাদত, বিশেষভাবে নামায প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন। সত্যিকার রিয্‌ক লাভের জন্য খোদার ইবাদত ও তাঁর সন্তুষ্টি আবশ্যক। আল্লাহ্‌ আমাদের কাছে কোন রিয্‌ক চান না, কিন্তু আমরা খোদার নির্দেশে যে চাঁদা দেই তা আমাদেরই কল্যাণের জন্য। খোদা মানুষের সকল পুণ্য র্কমের বহুগুণ প্রতিদান দিয়ে থাকেন।

হুযুর বলেন, অভিধানিকদের মতে বৃষ্টিকেও রিয্‌ক বলা হয়ে থাকে। এখন সে আধ্যাত্মিক বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে তাই দীর্ঘকাল সতেজতা বিরাজ করবে আর হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আধ্যাত্মিক জ্যোতির প্রসার করবেন।

সূরা কাফের ১২ নাম্বার আয়াত উল্ল্যেখ করতঃ হুযুর বলেন, আল্লাহ্‌তা’লা এ আয়াতে বলেন, আমার বান্দাদের জন্য রিয্‌ক হিসেবে আমি মৃত ভূমিকে জীবিত করে থাকি আর এভাবে পুনরুত্থান হবে। এখানে বৃষ্টিকে রিয্‌ক আখ্যা দেয়া হয়েছে যা মৃত ভূমিকে জীবিত করে থাকে। হুযুর পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মৃতভূমি কিভাবে জীবিত হয় তার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন বিশেষ করে তিনি সিন্ধু প্রদেশের মরু অঞ্চলের কথা উল্ল্যেখ করেন। হুযুর বলেন, খোদার এভাবে জীবিকার ব্যবস্থা মানুষকে খোদার প্রতি কৃতজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করা উচিত। খোদাতালা এ আয়াতে বলেছেন যেভাবে বাহ্যত মৃত জমি বৃষ্টির মাধ্যমে জীবন ফিরে পায় একই ভাবে মৃত্যুর পর মানুষের পুনরুত্থান হবে। আমাদের কৃত কর্মের হিসাব হবে। খোদাতা’লা আমাদেরকে তাঁর ক্ষমার চাঁদরে আবৃত করুন আর যারা সত্যকে গ্রহণ করেনা তারা সম্ভিত ফিরে পাক।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে