In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

১০০তম খিলাফত দিবস উপলক্ষ্যে শুকরিয়া জ্ঞাপন

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

৩০শে মে, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, এ সপ্তাহের ২৭শে’ মে তারিখে আমরা খিলাফত জুবিলী উদ্‌যাপন করেছি। যদিও প্রতি বছর জামা'ত এ দিনটি উদ্‌যাপন করে থাকে কিন্তু এবছর এ ঐতিহাসীক দিনটি আহ্‌মদীয়া খিলাফতের শতবার্ষিকী জুবিলী হিসেবে উদ্‌যাপিত হয়েছে। এমন মুহূর্ত সাধারণত মানব জীবনে একবারই আসে। কিন্তু কেউ যদি খোদার দয়ায় সুদীর্ঘ জীবন লাভ করে তাহলে হয়তো তাঁর বার্ধক্যে সে আবারো দেখতে পারে।

হুযূর বলেন, ১৯৮৯ সনে জামাতে আহ্‌মদীয়ার শতবর্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়েছে, কিন্তু সে সময় যারা শিশু বা কিশোর ছিল তারা সে অনুষ্ঠানের মর্ম ততটা বুঝতে পারেনি কেননা তখনও তাদের বুদ্ধি পরিপক্কতা লাভ করেনি; কিন্তু এবার খিলাফতের শতবার্ষিকী জুবিলী উদ্‌যাপনে তারা এক নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করেছে।

হুযূর বলেন, খিলাফত শতবার্ষিকী জুবিলী উপলক্ষ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলসা হচ্ছে কিন্তু কেন্দ্রীয় জলসা হয়েছে পূর্ব লন্ডনের ExCel সেন্টারে। কাদীয়ান এবং রাবওয়া থেকেও আহ্‌মদীরা এ অনুষ্ঠানে পরোক্ষভাবে অংশ গ্রহণ করেছেন। আমরা তাদেরকে দেখেছি আর তারাও আমাদের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। এ অনুষ্ঠানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব হয়েছে। প্রায় ১৮/১৯ হাজার নিষ্ঠাবান আহ্‌মদী এতে যোগদান করেছেন। অত্যন্ত সফলতার সাথে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে, আমরা খোদাতালা’র প্রতি কৃতজ্ঞ।

হুযূর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য চিঠি-পত্র ও Fax আসা আরম্ভ হয়েছে। মানুষ এত আবেগের সাথে পত্র লিখছে যা পাঠে আমিও আবেগাপ্লুত। সেদিন আমার সামনে হলে বসে যারা জলসা শুনেছেন এবং যারা যেভাবে যেখানেই এ জলসা শুনেছেন তারা সবাই একটি বিশেষ ভাবাবেগ এবং বিশেষ অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছেন। যাদের সাথেই আমার সাক্ষাত হয়েছে তারা সবাই বলেছে, এ অনুষ্ঠান আমাদের সবার ঈমানকে দৃঢ় ও মজবুত করেছে। কেউ বলেছে, মনে হচ্ছে যেন আজ আমি নতুনভাবে আহ্‌মদী হয়েছি। অনেকে বলেছে, আমরা পূর্বে আপনার হাতে বয়’আত করেছিলাম কিন্তু সন্দেহের দোলাচালে সময় পার করেছি কিন্তু আজ এ অনুষ্ঠান আমাদের হৃদয়ের কলুষতা ও দুর্বলতা দূরীভূত করেছে, আমাদের ঈমানের দৃঢ়তা ফিরে এসেছে। এখন আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও দৃঢ়ভাবে খিলাফতের উপর প্রতিষ্ঠিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করবো। একজন লিখেছেন, যদি মৃতকে জীবিত করার কোন ব্যবস্থা থাকে তাহলে আজকের এ অনুষ্ঠান এবং বক্তৃতা সে কাজ করেছে। খোদা এমনই করুন।

এরপর হুযূর বলেন, কেবল নিজেদের লোকজনই নয় বরং ExCel সেন্টারের আশে পাশের মানুষও সেদিন বিস্মিত হয়েছে। মুসলমানদের সম্পর্কে তাদের যে ধারণা ছিল এ অনুষ্ঠান তা পাল্টে দিয়েছে। তারা চেয়ে চেয়ে দেখছিল যে, বাহ্যত এরা মুসলমান বলে মনে হয় আর অধিকাংই এশিয়ান; তারপরও এদের মাঝে এত শৃঙ্খলা কোত্থেকে এল। ExCel সেন্টারের একজন মহিলা কর্মী আমাদের একজন লাজনা বোনকে বলেছে, আপনাদের এ অনুষ্ঠান আমার জন্য এক সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা ; আজকের এ অনুষ্ঠান দেখেই আমি মুসলমান হতে চাই।

হুযূর বলেন, এরা সত্যভাষী যা সত্য বলে মনে করেন তা প্রকাশ করতে দ্বিধা করেনা।

হুযূর বলেন, মুসলমানরা মহানবী (সাঃ)-এর নির্দেশ, ‘আমার মসীহ্‌ ও মাহদী আবির্ভূত হলে তাঁকে আমার সালাম পৌঁছাবে’। যতদিন পর্যন্ত না মানবে ততদিন তারা খোদার নৈকট্যের পরিবর্তে শয়তানের ক্রোড়ে আশ্রিত থাকবে। আজ আহ্‌মদীরা সেই দৃঢ় হাতলকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে, যা কখনও ভাঙ্গবেনা বলে স্বয়ং খোদাতালা অঙ্গীকার করেছেন। এটি সে পেয়ালার হাতল যাকে খোদাতা’লা যুগ মসীহ্‌র মাধ্যমে বিশুদ্ধ আধ্যাত্মিক পানিতে পরিপূর্ণ করেছেন। এটি সেই প্রাণ সঞ্চারী পানি যা পানে মানুষ আধ্যাত্মিকতার চুড়ান্ত মার্গে উপনীত হতে পারে আর কখনই তাদের ঈমান হুমকীর সম্মুখিন হয়না। যুগের বিরোধিতা কখনই আহ্‌মদীদের ঈমানকে দুর্বল করতে পারে নি। পিতার সম্মুখে প্রিয় সন্তান হত্যা করা হয়েছে, সন্তানের সামনে পিতাকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে আর এটি সুদূর অতীতের কোন ঘটনা নয় বরং আজও এমন ঘটনা ঘটছে।

হুযূর বলেন, আজ আমরা খোদার অনুগ্রহ ও কৃপায় খিলাফতের শতবার্ষিকী জুবিলী উদ্‌যাপন করছি। এ আনন্দঘন মূহুর্তে আমাদেরকে যেখানে খোদার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে সেখানে সেসব শহীদদেরকেও স্মরণ রাখবেন যারা নিজেদের রক্ত দিয়ে খিলাফতের বাগানকে সজীব ও সতেজ রেখেছেন। ‘উরওয়া’র একটি অর্থ চির সবুজ বাগান। আল্লাহ্‌তা’লা বলেন,

فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لا انْفِصَامَ لَهَا

অর্থঃ সে নিশ্চয় এমন সুদৃঢ় হাতলকে দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধরেছে যা কখনও ভাঙ্গবার নয়।

আর শেষে বলা হয়েছে

وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

(সূরা আল্‌ বাকারা: ২৫৭)

যারা স্বচ্ছ হৃদয় নিয়ে কৃতজ্ঞতার সাথে মজবুত হাতলকে ধরে রাখার জন্য দোয়া করবেন তাদের জেনে রাখা উচিত, খোদা অনেক বেশি দোয়া কবুল করেন। যদি আমরা খোদার নিয়ামতরূপী হাতল অর্থাৎ খিলাফতকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখি তাহলে আমাদের প্রত্যেকের ঈমান দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হতে থাকবে। খোদা ���মাদের ও আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে এমন ঈমান সৃষ্টি করবেন যা চির সবুজ ও হিল্লোলিত ফসলের ন্যায় হবে।

হুযূর বলেন, যথারীতি আমাদের সফলতা ও আনন্দ দেখে বিরোধ���রা হিংসায় জ্বলছে আর এটিও মহানবী (সাঃ) এর ভবিষ্যৎবাণী অনুসারে হচ��ছে। হুযুর বলেন, ��জ যে সকল নিদর্শন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন তা সত্যিকার অর্থে মহানবী (সাঃ) এরই নিদর্শন। আমার সমর্থনে যে সকল নিদর্শন প্রকাশ পায় তা মহানবী (সাঃ)-এর পবিত্র আধ্যাত্মিকতার কল্যাণে হচ্ছে। আজ যে ঐক্য আমরা দেখতে পাচ্ছি খোদা করুন তা যেন স্থায়ী হয়।

পাকিস্তান সরকার ১৯৮৯ সনে জামাতের শত বার্ষিকী জুবিলী উদ্‌যাপনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এবার জামা'ত কিছুটা রেখে ঢেকে অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয় এবং সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বাইরে বেশি জানাজানি না হবার কারণে মোল্লারা ভেবেছে সরকার আমাদের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। তারা তাদের বিবৃতিতে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং বলেছে, ‘সরকার জামাতে আহ্‌মদীয়াকে খিলাফত শত বার্ষিকী জুবিলী উদ্‌যাপন করতে দেয়নি, তারা শিশুদের মাঝে মিষ্টি ও উপহার বিতরণ করতে পারেনি যার ফলে মুসলিম উম্মাহ্‌ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে’। যেন আহ্‌মদী শিশুদের মাঝে মিষ্টি ও উপহার বিতরণের মধ্যেই মুসলিম উম্মাহ্‌র ধ্বংস নিহিত। এরা এতই নির্বোধ। আপনারা পাকিস্তানের জন্য দোয়া করুন যাতে সেখানকার দরিদ্র আহ্‌মদীরা এ অত্যাচারীদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পায়।

হুযূর বলেন, কুরআন শরীফের একটি আয়াত যা হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর উপর ইলহাম হয়েছে, তাহলো,

كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي

অর্থাৎ ‘আল্লাহ্‌ লিখে নিয়েছেন, আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রসূল অবশ্যই বিজয়ী হবে’।

এ ইলহামে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কেও আল্লাহ্‌তা’লা বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিজয় বা সফলতা লাভের জন্য যে উপকরণ প্রয়োজন তাও আল্লাহ্‌তা’লাই সৃষ্টি করবেন। অতীতেও করেছেন এবং এখনও যত উন্নত প্রযুক্তি আছে তা হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর সফলতার জন্য ব্যবহার করা হবে।

এরপর হুযূর বলেন, হযরত মসীহ মওউদ (আঃ) তাঁর লেখনীর আকারে জামাতের মধ্যে যে অফুরান আধ্যাত্মিক ভান্ডার রেখে গেছেন তা থেকে মানবজাতি উপকৃত হতে থাকবে। বর্তমান যুগে যত আধুনিক প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি। এর সঠিক ও সদ্ব্যবহার করছে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর জামা'ত। MTA’র মাধমে আজ বিশ্বের প্রান্তে- প্রান্তে- মহানবী (সাঃ)-এর সত্যিকার দাসের বাণী পৌঁছানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আজ বিশ্বের অনেক মুসলমান দেশ আছে আর আছে তাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট ব্যবস্থা কিন্তু মানবতার মুক্তি ও মানুষের কল্যাণের কাজ করছে একমাত্র এম.টি.এ (MTA)। স্বেচ্ছাসেবীরা কঠোর শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে খলীফার নেতৃত্বে এ চ্যানেলটি পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। তাই আমাদেরকে বেশি বেশি খোদার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। আপনারা বেশি বেশি এম.টি.এ (MTA) দেখুন, এম.টি.এ (MTA) থেকে উপকৃত হোন; বিশেষভাবে যুগ খলীফার খুতবা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান নিজে দেখুন এবং সন্তানদেরকেও এর কল্যাণ থেকে উপকৃত করানোর চেষ্টা করুন। এম.টি.এ (MTA) সত্যিকার অর্থে খিলাফতের একটি কল্যাণ এটিও খিলাফত ছাড়া এভাবে চলতে পারতো না। খোদাতা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ

অর্থঃ ‘যখন তোমাদের প্রভু ঘোষণা করেছিলেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হয়ে চল তাহলে নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে আরো অধিক দান করবো’। (সূরা ইব্‌রাহীম: ৮)

তাই খোদার নিয়ামতরাজি স্মরণ করে আপনারা বেশি বেশি খোদার প্রতি কৃতজ্ঞ হোন। শত্রু যতই বিরোধিতা করুক না কেন তারা আমাদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ খোদার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা মহানবী (সাঃ)-এর সত্যিকার প্রেমিককে মেনেছি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করুন, আর আমি আপনাদের জন্য দোয়া করবো।

হুযূর বলেন, আরেকটি সুসংবাদ হচ্ছে.দীর্ঘদিন থেকে জামাতে আহ্‌মদীয়া ইতালী মসজিদ ও মিশন হাউস নির্মাণের জন্য জমি ক্রয়ের চেষ্টা করছিল কিন্তু কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু দেখুন খোদার কি ইচ্ছা! ঠিক ২৭শে মে কাউন্সিল জামা'তকে ডেকে এক টুকরো জমি ক্রয়ের অনুমতি প্রদান করে। জমি কেনা হয়ে গেছে ,এখন সেখানে মিশন হাউস ও মসজিদ নির্মাণ করা হবে ইনশাআল্লাহ্‌। এখনও ইতালীতে খৃষ্ট ধর্মের খিলাফতের কেন্দ্র রয়েছে আর খোদার কৃপায় জামা'ত সেখানে জমি পেয়েছে, ইনশাল্লাহ্‌ অচিরেই সেখানকার মসজিদ থেকে একত্ববাদের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হবে ইনশাআল্লাহ্‌।

সবশেষে হুযূর বলেন, আমি সবার কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছি। অনেকের হৃদয়ে এর গভীর প্রভাব পড়েছে। ওয়াদা যেন কেবল মৌখিক ওয়াদা না হয়; বরং আপনাদের জীবনে ও কাজে-কর্মে যেন আমূল পরিবর্তন আসে। আল্লাহ্‌তা’লা আপনাদেরকে অঙ্গীকার রক্ষাকল্পে সৎকর্ম করার তৌফিক দিন। স্মরণ রাখবেন প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। অনেকই চিঠি লিখে দোয়ার আবেদন করেছেন যে, হুযূর দোয়া করুন যেন খোদা আমাদেরকে ওয়াদা রক্ষা করার তৌফিক দেন। আসলে খোদার সাহায্য ও অনুগ্রহ ছাড়া ওয়াদা রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদতের প্রতি মনোনিবেশ করুন। খোদাতা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা মু’মিনের দায়িত্ব কিন্তু যে এ ব্যাপারে উদাসীন সে জিজ্ঞাসিত হবে।

আপনার বিশ্বের শান্তি ও মুক্তির জন্যও দোয়া করুন। আপনাদের মধ্যে এ অনুষ্ঠান যে পরিবর্তন সৃষ্টি করেছে, যে আবেগ-অনুভূতি ও প্রেরণা আপনাদের হৃদয়ে সঞ্চারিত হয়েছে তা সাময়িক না হয়ে যেন আপনাদের জীবনের স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হয়ে যায়। হুযুর বলেন, মানবতা আজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে ; দোয়া করুন খোদা যেন তাদের রক্ষা করেন আর তারা যেন সত্যকে অনুধাবন ও গ্রহণ করতে পারে।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে