In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহতা’লার ঐশী গুণ ‘আল-জব্বার’ (প্রবল প্রতিবিধায়ক)

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

২৩শে মে, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর বলেন, গত খুতবায় খোদাতা’লার ‘জব্বার’ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম, এ শব্দ যখন খোদার জন্য ব্যবহৃত হয় তখন এর অর্থ হয় মানুষের সংশোধন এবং তাদের অগোছালো অবস্থা ও কাজে সুশৃংখলা আনয়নকারী। মহানবী (সাঃ) আমাদেরকে নামাযে দু’ সেজদার মাঝে একটি দোয়া পাঠ করতে শিখিয়েছেন,

‘রাব্বীগ ফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াজবুরনী ওয়ার যুকনী ওয়ার ফা’নী’
অর্থাৎ, ‘হে আমার প্রভু-প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করো, আমার প্রতি দয়া কর, আমার বিশৃংখল অবস্থাকে শুধরে দাও এবং আমাকে মান-মর্যাদায় উন্নীত করো।

আল্লাহ্‌তা’লা যুগে যুগে মানবের সংশোধনকল্পে তাঁর প্রতিশ্রুত পুরুষদের আবির্ভূত করেছেন। বর্তমান যুগে মানুষকে অন্ধকার থেকে উদ্ধারকল্পে তিনি আপন মসীহ্‌ ও মাহদীকে প্রেরণ করেছেন। তিনি এ যুগের প্রতিশ্রুত সংস্কারক। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর কয়েকটি ইলহামের ভিত্তিতে হুযুর তাঁর খুতবায় এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

হুযূর বলেন, খোদাতা’লা হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে ১৮৮৩ সনে ইলহাম করেছিলেন,

‘তুবু ওয়াআসলেহু ওয়া তাওজ্জাহুল্লাহু’
অর্থাৎ, তওবা কর, পাপ ও অন্যায় থেকে বিরত হও এবং সংশোধন করো এবং আল্লাহ্‌র প্রতি অবিচলভাবে মনোযোগ নিবদ্ধ করো এবং তাঁর সাহায্য চাও।

অর্থাৎ আল্লাহ্‌র দিকে মনযোগ নিবদ্ধ করো তাঁর প্রেরিত মসীহ্‌কে গ্রহণের মাধ্যমে। কেননা বর্তমানে সংশোধন যুগ মসীহ্‌র সাথে সম্পর্কযুক্ত।

খোদাতা’লা হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে আরেকটি ইলহামী দোয়া শিখিয়েছেন, তাহলো,

‘রাব্বি আসলিহ্‌ উম্মতা মুহাম্মদিন’
অর্থাৎ হে আমার প্রভূ-প্রতিপালক! উম্মতে মুহাম্মদীয়ার সংশোধন করো।

হুযূর বলেন, আল্লাহ্‌তা’লা উম্মতে মুহাম্মদীয়ার প্রত্যেক ব্যক্তিকে এ যুগ মসীহ্‌র হাতকে শক্তিশালী করার তৌফিক দিন।

হুযূর বলেন, বর্তমানে অনেক ধর্মীয় আলেম মুসলমানদের সংশোধনের ব্যাপারে চিন্তিত ও উৎকন্ঠিত। পাকিস্তানের একজন নামকরা ইসলামী চিন্তাবিদ ডঃ ইসরার আহমদ সাহেব লিখেছেন, গত চার’শ বছরে উম্মতের সংশোধন ও সংস্কারের কাজ মূলত উপমহাদেশে হয়েছে এবং অধিকাংশ মুজাদ্দিদ এ উপমহাদেশে আবির্ভূত হয়েছেন। তাই মনে হয় এ অঞ্চল নিয়ে খোদার কোন বিশেষ পরিকল্পনা আছে; অর্থাৎ মসীহ্‌ মওউদ ও মাহদীর এ অঞ্চলে আসার বিষয়টি তারা অনুধাবন করে কিন্তু পরিস্কার ভাষায় তা প্রকাশ করেনা।

খোদার শেষ মোজাদ্দিদ এখানে এসেছেন, আকাশ ও পৃথিবীর সাক্ষ্য সত্বেও তারা এদিকে কর্ণপাত করছেনা। এরা অন্ধ, বোবা এবং বধির। তারা জাগতিক পড়াশুনা করে সব জলাঞ্জলি দিয়েছে; (সব শিকায় তুলেছে) জ্ঞান তাদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়নি বরং হঠকারীতার ফলে তারা সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীবে পরিণত হয়েছে। এরা নিজেরা অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে আর তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারীরাও অন্ধকারে দিশেহারা।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেছেন, ১৮৯৩ সনের ইলহামে আমার নাম ‘ফাতাহ্‌’ এবং ‘জাফর’ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ প্রচন্ড বিরোধিতা এবং বিরুদ্ধবাদীদের সকল অপচেষ্টা সত্বেও খোদাতা’লা আমাকে বিজয়ী করবেন আর আল্লাহ্‌ আমার সকল কাজকে সঠিক ও সুন্দর পরিসমাপ্তির দিকে পরিচালিত করবেন।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর উপর আর একটি ইলহাম হয়েছে,

‘আসলেহ্‌ বাইনি ওয়া বাইনা ইখওয়াতী’
অর্থাৎ হে আল্লাহ্‌! আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে মীমাংসা করো।

এ ইলহামে আল্লাহ্‌তা’লা তাঁকে অবহিত করেছেন যে, বিরুদ্ধবাদীরা তাঁর সামনে ঝুঁকতে বাধ্য হবে। তারা বলবে, আল্লাহ্‌র কসম! খোদা আপনাকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য খোদার দরবারে দোয়া করবেন এবং তাদের সকল ভ্রান্তি তিনি ক্ষমা করবেন।

হুযূর সূরা ইব্রাহীমের ১৬ নাম্বার আয়াত পাঠ করে বলেন, চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-ও বিরোধিতার সম্মুখিন হয়েছেন এবং আজও প্রত্যহ তাঁর জামা'ত বিরোধিতার সম্মুখিন। এ বিরোধিতা তাঁকে বা তাঁর জামা'তকে ধ্বংস করার জন্য নয় বরং বিরোধিতার সেই ভয়াবহ যুগে নবীর বেদনাবিধূর দোয়াকে খোদাতা’লা গ্রহনযোগ্যতার মর্যাদা দান করেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ মহানবী (সাঃ)-কে নিয়েও বিরোধিরা উপহাস ও হাসি-ঠাট্টা করেছে। তিনি মক্কায় ১৩ বছর কাটিয়েছেন আর মদীনায় কাটিয়েছেন ১০ বছর অর্থাৎ তাঁর কষ্টের যুগ ছিল দীর্ঘ; কিন্তু যখন তারা অত্যাচারে সীমা ছাড়িয়ে গেছে তখন মহানবী (সাঃ) দোয়া করেছেন। মক্কা জীবনে হুযূর পাক (সাঃ) এমন দোয়া করেছেন যা শুনলে শরীরের লোম শিউরে উঠে। খোদাতা’লা তাঁর কাতর দোয়া শুনেছেন ফলে সীমালঙ্ঘনকারীরা লাঞ্ছনার সাথে ইহধাম ত্যাগ করেছে আর যারা অনুতপ্ত হয়েছে খোদা তাদেরকে সত্যের পতাকা তলে আশ্রয় দিয়েছেন।

হুযূর বলেন, আজও একই রীতি অনুসৃত হচ্ছে। মানুষ যুগ মসীহ্‌কে অস্বীকার করছে আর অপরদিকে অমুসলিমরাও সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর ঘৃণ্য আক্রমণ করছে আর এভাবে ঐশী শাস্তি-কে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। আমরা দোয়া করি, যেন খোদা তাদেরকে হেদায়াত দেন। তারা যেন নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি খাটায় এবং সত্যের বিরোধিতা পরিত্যাগ করে বরং সত্যের হাতকে মজবুত করার তৌফিক লাভ করে।

হযরত মসী���্‌ মওউদ (আঃ) তাঁর লেখনীতে বিভিন্নভাবে বিরুদ্ধবাদীদেরকে সত্য মানার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন,

‘আমি তোমাদের একজন আন্তরিক শুভাকাংখী হিসেবে বল�����, আমার কথা তোমাদের ভাল লাগুক বা না লাগুক; তোমরা প্রথম��� নিজের সংশোধন করো পরে অন্যের সংশোধনের কথা বল। সূর্য অন্যদের আলোকিত করার পূর্বে প্রথমে নিজে আলো অর্জন করেছে। অন্যকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা সম্ভব কিন্তু নিজে ত্যাগ স্বীকার করা কঠিন। অতীতের মুনী-ঋষীরা জঙ্গলে গিয়ে নিভৃতে আপন ধ্যানে মগ্ন হতেন আর তাঁরা প্রথমে আত্ম ও আত্মিক সংশোধন করেছেন। তাই প্রথমে আত্ম সংশোধন করো নতুবা তুমি নিজেও ধ্বংস হবে আর অন্যকেও ধ্বংস করবে।’

আরেক স্থলে তিনি (আঃ) বলেন,

‘পাপ মুক্ত হবার জন্য অহংকার ও আত্মগরিমা পরিহার করা আবশ্যক। আভ্যন্তরীন জ্যোতি বা নূর আকাশ থেকে অবতরণ করে। ঈমান ও পবিত্রতা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়। সত্য মা’রেফত হচ্ছে, নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করে একান্ত বিনয়ের সাথে খোদার কাছে জ্ঞান ও জ্যোতির জন্য দোয়া করা। বিনয়ী ও নিরহংকারী হয়েই মানুষ খোদার নৈকট্য লাভ করতে পারে। যদি বিনয়ী না হও তাহলে অহংকার বশে অন্যকে হেয় জ্ঞান করবে আর গালি দিবে’।

হুযূর বলেন, বর্তমান যুগের আলেমদের অবস্থাও এমনই। এরা জ্ঞানের অহংকারে অন্যকে হেয় মনে করে আর গালি-গালাজ করতে কুন্ঠিত হয় না।

মহানবী (সাঃ) বলেছেন,

‘হৃদয়ের সংশোধন তাঁরই কাজ যিনি হৃদয়ের মালিক’।

বড় বড় বুলি আওড়ানো যথেষ্ট নয়। আল্লাহ্‌কে আল্লাহ্‌র মাধ্যমেই চেনা সম্ভব। যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে আর এটি বুঝেনা যে, সত্য হেদায়েত খোদার পক্ষ থেকে আসে; সে কিছুই বুঝেনি। মহানবী (সাঃ) বলেছেন,

‘মান লাম ইয়ারেফ ইমামা যমানিহী ফাক্বাদ মা’তা মিতাতাল জাহেলিয়্যাতে’
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি যমানার ইমামকে না মেনে মারা যাবে সে অজ্ঞতার মৃত্যুবরণ করবে।

হুযুর বলেন জামাতের বাইরে অনেকেই আছে যারা এমটিএ দেখে আর সত্যকে গ্রহণ করে আর অনেকেই আছে সত্য কি তা বুঝে কিন্তু মানুষের ভয়ে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। আল্লাহ্‌তা’লা সবাইকে যুগ ইমামকে মানার তৌফিক দিন। মানুষকে ভয় না করে খোদা প্রেরিত ইমামকে মানার সৌভাগ্য দান করুন। আর আমরা যারা সত্যকে মানার সৌভাগ্য অর্জন করেছি তারা যেন খোদার ‘জব্বার’ বৈশিষ্টের আলোকে নিজেকে সংশোধন করতে পারি আর একান্ত বিনয়ের সাথে যেন তাঁর প্রতি সমর্পিত হতে পারি।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে