In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহতা’লার ঐশী গুণ ‘আল-জব্বার’ (প্রবল প্রতিবিধায়ক)

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১৬ই মে, ২০০৮ইং

পবিত্র কুরআনের সূরা আল্‌ হাশর এর ২৪ নাম্বার আয়াত তেলাওয়াত করেন এবং পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও আরবি অভিধানের আলোকে আল্লাহ্‌ তা’আলার ‘জব্বার’ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন।

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ

অর্থঃ “তিনিই আল্লাহ্‌, যিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই; যিনি সর্বাধিপতি, অতীব পবিত্র, পরম শান্তিময়, পূর্ণ নিরাপত্তা দাতা, সর্বোত্তম রক্ষাকর্তা, পরাক্রমশালী, প্রবল প্রতিবিধায়ক, অতীব গরিয়ান। তারা যাকে শরীক করে আল্লাহ্‌ তা থেকে পবিত্র”। (সূরা আল্‌ হাশর: ২৪)

পবিত্র কুরআনের উপরোক্ত আয়াত তেলাওয়াতের পর হুযূর (আই:) বলেন, প্রসিদ্ধ আরবী অভিধান গ্রন্থাবলীতে লেখা হয়েছে, জব্বার আল্লাহ্‌ তা’আলার একটি গুণবাচক বৈশিষ্ট্য। এর অর্থ অভাব মোচনকারী, প্রবল প্রতিবিধায়ক। জব্বারের একটি অর্থ হলো ভাঙ্গা হাড়ে জোড়া দেয়া এবং মানুষের অগোছালো কাজকে গোছানো এবং অনিয়ন্ত্রিত কাজকে সুশৃংখল করা।

আবার কেউ কেউ বলেছেন, যদি এ বাক্য আল্লাহ্‌র জন্য ব্যবহার হয় তাহলে এর অর্থ দাঁড়াবে মানুষের সংশোধনকারী এবং তাদের অভাব মোচনকারী। মানুষের ক্ষেত্রে এর একটি অর্থ হলো অধিকার খর্বকারী, অন্যকে হেয় করে বাহুবলে নিজেকে সম্মানিত করার অপচেষ্টা করা।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) এ শব্দের অর্থ করেছেন, মানুষের অগোছালো অবস্থাকে সুশৃংখলকারী। হযরত মুসলেহ্‌ মওউদ (রাঃ)-এর অর্থ করেছেন, সংশোধনকারী। মোটকথা, যে সকল মানুষ সমস্যার আবর্তে দিশেহারা, যারা কোন উপায় খুঁজে পায়না, যাদের পরিস্থিতির উপর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই, এমন মানুষের পাশে যে সত্ত্বা দাঁড়ান তিনি হলেন জব্বার। হুযূর (আই:) বলেন, আপনারা ‘তকদীরে এলাহী’ বইটি পাঠ করলে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।

হুযূর (আই:) বলেন, আমি যে আয়াত পড়েছি তাতে খোদার আরেকটি অনুপম বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে আর তা হলো, ‘আস্‌সালাম’ খোদাতা’লা এমন এক সত্ত্বা, যিনি সকল যুলুম-নির্যাতন ও কঠোরতা থেকে মুক্ত এবং সবার নিরাপত্তার প্রতিবিধায়ক। খোদা সত্যিকার ভাবেই তাঁর বান্দাদেরকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন। খোদার সত্যিকারের মান্যকারী কোথাও লাঞ্ছিত হতে পারে না। তিনি এমনই ক্ষমতাধর সত্ত্বা যিনি মহাপরাক্রমশালী এবং সবার উপর প্রবল। তিনি মানুষের বিশৃংখল জীবনে শৃংখলা ফিরিয়ে আনেন আর নিজ অসহায় বান্দাদের আপন নিরাপত্তার বেষ্টনীতে স্থান দেন। আল্লাহ্‌ সর্বাধিপতি, তিনি সকল দোষ-ত্রুটি ও দুর্বলতা থেকে মুক্ত। পার্থিব রাজা-বাদশাহদের ক্ষমতা সাময়িক কিন্তু খোদার আধিপত্য চিরন্তন। আল্লাহ্‌ যেখানে জব্বার শব্দ নিজের জন্য ব্যবহার করেছেন তা বান্দার নিরাপত্তা ও সংশোধনের নিমিত্তে ব্যবহার করেছেন কিন্তু মানুষের জন্য যেখানেই এ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে তা কেবলই নেতীবাচক অর্থে বর্ণিত হয়েছে।

এরপর হুযূর (আই:) পবিত্র কুরআনে মানুষের জন্য এ শব্দ ব্যবহারের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। যেখানে মানুষের জন্য এ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে সেখানে এর অর্থ হলো মানুষের উপর অন্যায় ভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা, আল্লাহ্‌র ইবাদতের প্রতি বিদ্রোহ করা, বা ইবাদত না করা। কঠোরভাবে মানুষকে শাস্তি দেয়া, নির্দয় ব্যবহার করা এবং মানুষের উপর জোর-জবরদস্তি করা। মোটকথা অবাধ্য ও বিদ্রোহীদের জন্যই এ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আদ ও সামুদ জাতির অবাধ্যতা ও বিদ্রোহের চিত্র তুলে ধরার জন্য এ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে আর তাদের এমন অবাধ্যতার কারণেই তাদের উপর খোদার শাস্তি এসেছে।

হুযূর (আই:) বলেন, পাকিস্তানে বিভিন্ন সময় ঐশী আযাব আসার পর অনেক কলামিষ্ট লিখেছেন, আমাদের ভুল-ভ্রান্তির কারণেই এ শাস্তি এসেছে; কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত নয়। হুযূর (আই:) বলেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে বারংবার তাদেরকে বুঝানো এবং খোদার নির্দেশ মানুষকে স্মরণ করানো। আল্লাহ্‌ তা’আলা হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে ইলহামে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ‘আমি তোমার জামা'তকে পৃথিবীর প্রান্তে-প্রান্তে পৌঁছাবো। আমরা প্রত্যহ অত্যন্ত মহিমার সাথে এ ইলহাম পূর্ণ হতে দেখছি কিন্তু তারপরও হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর মান্যকারী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ‘নিরন্তর সত্যের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছাতে থাকা’।

হুযূর (আই:) বলেন, পৃথিবীতে আজ বিভিন্ন শক্তি ‘জব্বারের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সাহায্যের নামে বড় বড় শক্তি অন্য দেশের উপর আধিপত্য বিস্তার বা রাজত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। নিষ্পেষণমূলকভাবে দুর্বল জাতিসমূহকে তারা শাস্তি দেয়; কিন্তু প্রবল পরাক্রমশালী খোদাকে ভুলে যায় এবং অত্যাচার, যুলুম ও নির্যাতনে সীমা ছাড়িয়ে যায়।

হুযূর (আই:) বলেন, আজকাল কোন কোন দেশ মুসলমান রাষ্ট্র হওয়ার দাবী করে কিন্তু তারা কুরআনী শিক্ষার বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন অথচ মুসলমান হিসেবে তাদের কুরআনী বিধি-নিষেধ মান্য করা উচিৎ। পাকিস্তানে বিভিন্ন সময়ে কতক রাষ্ট্রপ্রধান আহ্‌মদীয়া জামাতের উপর যুলুম অত্যাচারের চাকা চালিয়েছে। বর্তমান�� ইন্দোনেশিয়াতে জামাতের উপর অকথ্য ও অবর্ণনীয় নির্যাতন হচ্ছে। সে দেশের জোট সরকার ভেঙ্গে যাবার আশঙ্কায় মোল্লার দাবীর সামনে নতি স্বীকার করছে আর নিরিহ আ���্‌মদীদের উপর অত্যাচার করছে, আহ্‌মদীদের বাড়ীঘর ভাংচুর করছে এবং মসজিদে অগ্নি সংযোগ করছে। ক্ষমতাশীনদের নাকের ডগায় এ অমানবিক ঘটনা ঘটছে আর তারা দাঁড়িয়ে থেকে তামাশা দেখছে; এভাবে কুরআনের এ ভবিষ্যৎবাণীও পুরা হলো যে অত্যাচারী সত্যের অনুসারীদের আগুনে জ্বলতে দেখে আনন্দবোধ করবে। এরা জানে না আমাদের প্রভূই হচ্ছেন প্রবল পরাক্রমশালী ও মহা ক্ষমতার অধিকারী।

হুযূর (আই:) বলেন, হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর জামাতের সাথে খোদাতা’লার প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে, তিনি অবশ্যই এ জামা'তকে বিজয় দান করবেন। খোদাতা’লা আরো বলেছেন, হে মসীহ্‌ ও মাহদী, আমি তোমার ও তোমার জামাতের সাথে আছি। তাই আমরা পূর্ণ বিশ্বাস রাখি শেষ বিজয় আমাদের জন্যই নির্ধারিত। আহ্‌মদীদের উপর নির্যাতন করে এরা শক্তিশালী হচ্ছে বলে মনে করে কিন্তু এরা জানে না সহসাই এদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে এবং তারা ভূগর্ভে হারিয়ে যাবে।

হুযূর (আই:) বলেন, আমি আহ্‌মদীদেরকে বলছি যেখানেই আপনারা নির্যাতিত হোন না কেন, ধৈর্য্য ধরুন আর প্রবল ও পরাক্রমশালী খোদার দরবারে বিনম্র হয়ে দোয়া করুন, হে খোদা! যদি এদের হেদায়াত না ই বা পাওয়ার থাকে তাহলে আমাদেরকে এদের কবল থেকে মুক্ত করো। পৃথিবীর অন্যান্য অংশের নিরাপত্তার জন্যও দোয়া করুন।

হুযূর (আই:) বলেন, আমি ইন্দোনেশিয়ার আহ্‌মদীদেরকে বলছি, আপনারা নিরাশ হবেন না। প্রথমে কুরআনের এ ভবিষ্যৎবাণী পুর্ণ হয়েছে পাকিস্তানে। আহ্‌মদীদের সম্পদ লুন্ঠিত হয়েছে, বাড়ী-ঘর মসজিদে আগুন লাগানো হয়েছে আর আইনের রক্ষক পুলিশ বাহিনী ও সরকারী কর্মকর্তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেছে আর এখন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে ইন্দোনেশিয়াতে। সেখানে আহ্‌মদীদের উপর দফায় দফায় আক্রমন হচ্ছে। আপনারা ইন্দোনেশিয়ার আহ্‌মদীদের জান-মাল ও ঈমানের নিরাপত্তার জন্য বেশি বেশি দোয়া করুন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে