In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

নামাযের গুরুত্ত্ব এবং খোদার সন্তুষ্টি লাভের উপায়

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

নাইজেরিয়া

২রা মে, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর (আই:) বলেন, আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলে আজকের খুতবার মাধ্যমে জামাতে আহ্‌মদীয়া নাইজেরিয়ার ৫৮তম বার্ষিক জলসার উদ্বোধণ করা হচ্ছে। আমাদের প্রতি খোদার একান্ত অনুগ্রহ যে, এ যুগে যখন মানুষ খোদাকে ভুলে বসেছে তখন আহ্‌মদীরা খোদার সন্তুষ্টির সন্ধানে পৃথিবীর সকল দেশে জলসা করছে। আমরা নিজেদের মাঝে আধ্যাত্মিক পরিবর্তণ আনয়নের লক্ষ্যে বছরে কয়েকদিনে জন্য একত্রিত হই। আমরা যেন খোদার সন্তোষভাজন হই এটিই জলসার উদ্দেশ্য। মানুষের মাঝে এ আধ্যাত্মিক বিপ্লব সাধণের জন্যই আল্লাহ্‌ তা’আলা হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে প্রেরণ করেছেন।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) এ জলসার প্রবর্তণ করতে গিয়ে বলেন,

‘এ জলসা কোন জাগতিক মেলা নয়, আর কয়েকদিনের জন্য অনেক মানুষকে সমবেত করে বিশ্বকে দেখানোর কোন উদ্দেশ্য আমার নেই বরং এ কথা ভাবতেও ঘৃণা হয়’।

হুযূর (আই:) বলেন, জলসার উদ্দেশ্য হচ্ছে পবিত্র পরিবর্তন। আমরা এ জলসায় যে কথাগুলো শুনবো তা আমাদের জীবনের অংশে পরিণত করতে হবে। আমরা যেন নিজেদেরকে মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর প্রত্যাশিত মানে অধিষ্টিত করতে পারি। এটি খোদার দয়া ছাড়া সম্ভব নয়, আর খোদার অনুগ্রহ লাভের জন্য ঐকান্তিক চেষ্টা ও সংগ্রামের প্রয়োজন তাহলেই খোদা আপন বান্দার সাহায্যে ছুটে আসেন। পবিত্র কুরআন বলে,

“যারা আমাদের সাথে মিলিত হবার বাসনা নিয়ে চেষ্টা প্রচেষ্টা করে আমরা অবশ্যই তাদের সাথে মিলিত হবো”।

হুযূর (আই:) বলেন, খোদাকে পাবার জন্য চেষ্টা করো। সদকা ও খয়রাতের মাধ্যমে খোদার সাথে সাক্ষাতের সংগ্রাম করো। যেভাবে এক অসুস্থ্য ব্যক্তি আরোগ্য লাভের জন্য ডাক্তারের কাছে যায় এবং সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করে অনুরূপভাবে আধ্যাত্মিকভাবে আরোগ্যলাভের জন্য সকল রীতি ও উপায় অবলম্বন করো। বয়’আতের পর একজন আহ্‌মদী মুসলমানকে এমনই করা উচিৎ।

হুযূর (আই:) বলেন, জলসা মানুষের মাঝে পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করে এবং খোদার নৈকট্য প্রদান করে। আজ এখানে এত বিশাল সংখ্যায় আপনাদের সমবেত হওয়া প্রমাণ করে যে, আমরা নিজেদের মাঝে পবিত্র পরিবর্তন আনতে চাই। সুতরাং এই তিন’টি দিন নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রত্যেক আহ্‌মদীকে বিশেষ চেষ্টা করা উচিত তাহলেই এখানে সমবেত হবার উদ্দেশ্য সফল হবে।

হুযূর (আই:) বলেন, খোদার সন্তুষ্টি লাভের উৎকৃষ্ট পন্থা হচ্ছে নামায। মানুষ যখন খাঁটি হৃদয় নিয়ে খোদার সম্মুখে নত হয়, তখন খোদা করুণাবশতঃ তার মাঝে পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করেন। মানুষ মন্দ কর্ম থেকে রক্ষা পায় আর পূণ্যের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন,

‘নিশ্চয় নামায তোমাদেরকে অশ্লীলতা ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে’।

তাই নামায যথাযথভাবে আদায় করো। যখন তোমরা নামাযের জন্য দন্ডায়মান হও তখন এ চেতনা রাখো যে, তুমি খোদাকে দেখছ আর না হলে কমপক্ষে এ বিশ্বাস রাখো যে, খোদা তোমায় দেখছেন। খোদা আমাদের অন্তরের অন্তস্থল পর্যন্ত জানেন, আমাদের চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে সর্বোতভাবে অবহিত। মনে রাখবেন, আমাদের খোদা এমন খোদা যাকে কখনও ধোঁকা দেয়া যায় না।

হুযূর (আই:) বলেন, মানুষ বাহ্যত যত নেক’ই হোক না কেন হৃদয়ে খোদাভীতি না থাকলে তার নামায খোদার দরবারে গৃহীত হয় না। কাজে ও কথায় মিল না থাকায় তাদের নামায তাদের জন্য সংশোধনের পরিবর্তে ধ্বংসের কারণ হয়।আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন, তাদের জন্য ধ্বংস যারা নিজেদের নামায সম্পর্কে উদাসীন। বাহ্যত এরা নামায পড়ে কিন্তু এদের হৃদয় জাগতিকতার পূজায় রত থাকে।

হুযূর (আই:) বলেন, ‘যদি চাও যে, তোমাদের নামায কবুল হোক তাহলে তোমাদের কাজে ও কথায় সামঞ্জস্য সৃষ্টি করো। আমরা দাবী করি যে, যুগ ইমামকে মানার ফলে আমরা অন্যদের থেকে উত্তম। আমাদের এ মৌখিক দাবী যথেষ্ট নয় বরং আমাদের মাঝে আধ্যাত্মিক বিপ্লব সাধনের চেষ্টা করতে হবে। সে নামায পড়তে হবে যা সকল পাপ ও অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখবে। যা মানুষকে নেকীর ক্ষেত্রে উন্নত করবে’।

সুতরাং একজন আহ্‌মদী মু’মিনের জন্য নিজের নামাযের হিফাযত করা আবশ্যক। নামাযকে নৈতিক পরিবর্তনের মাপকাঠী বানান। যদি আপনি নৈতিক উন্নত গুণাবলী সম্পন্ন হন তাহলে ধরে নিতে পারেন যে, আপনার নামায গৃহীত হয়েছে। দোয়া ও যিকরে এলাহীর প্রতি মনযোগ নিবদ্ধ করুন। সাধ্যানুসারে সদকা করুন। মহানবী (সাঃ) বলেন, সদকা বিপদাপদ দূরীভূত করে। প্রদর্শনের জন্য নয় যে যতটা পারে সদকা খয়রাত করা উচিত। যে কাজ আন্তরিকতার সাথে খোদার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা হয় তা অবশ্যই খোদার দরবারে গৃহীত হয়।

হুযূর (আই:) বরেন, নিজেকে পাক ও পবিত্র করার জন্য সকল চেষ্টা ও প্রচেষ্টা করা উচিত। সেসব নৈতিক গুণাবলী অবলম্বনের চেষ্টা করা উচিত খোদা যার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ তা’আলা বিশ্বাসঘাতককে পছন্দ করেন না। অনেক সময় মানুষ সাময়িক উত্তেজনার বশে আমানতের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখেন না। তাদের মনে রাখা উচিত, আমাদের প্রতিটি কাজ খোদাতা’লা দেখছেন।

এরপর হুযূর (আই:) পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নৈতিক গুণাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে বলেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, সত্য বলা, অহংকার না করা এগুলো হচ্ছে উন্নত নৈতিকতা লাভের মাধ্যম। আপনা��� পরষ্পরের মধ্যে উন্নত দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। অনর্থক ও বেহুদা কথা-বার্তা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। জামা'ত এবং সকল অঙ্গ-সংগঠন এমন কর্মসূচী প্রণয়ন করু�� ��াতে জামাতের আপামর সদস্যের মধ্যে উন্নত নৈতিক গুণাব���ী প্রতিষ্���িত হয়।

সবশেষে হুযূর (আই:) বলেন, নৈতিক গুণাবলীর তালিকা অনেক দীর্ঘ এখন সব কথা বলার সময় নেই। জলসায় আমার আরো দু’টি বক্তৃতা আছে সেখানে এসব বিষয়ে আলো্কপাত করবো আশা করি। এখন শুধু এটুকু বলে শেষ করছি, আপনারা নিজেদের দায়িত্ব বুঝুন এবং খিলাফতের কল্যাণ থেকে আশিস মন্ডিত হোন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে