In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

মসজিদ নির্মাণ ও আল্লাহ্‌ তা’আলার ইবাদত

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

পোর্ট নভো, বেনিন

২৫শে এপ্রিল, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর (আই:) বলেন, এটা আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযল যে আজ আমারা একটি নবনির্মিত বিরাট ও মনোরম মসজিদে নামায আদায় করছি। আল্লাহ্‌ তা’আলা এ সুযোগ দান করেছেন যাতে সর্বাধীক সংখক মানুষ একত্রিত হয়ে খোদাতা’লার ইবাদত করতে পারে। গতবারের সফরেও এখানে একটি বিরাট ও মনোরম মসজিদের উদ্বোধন করেছিলাম। এটি জামাতের প্রতি খোদাতা’লার একান্ত অনুগ্রহ যে, তিনি আমাদেরকে পৃথিবীর সর্বত্র মসজিদ নির্মাণের তৌফিক দিচ্ছেন। আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে, এমনি করে বড় শহরে মসজিদ নির্মিত হচ্ছে, যেরূপ ইউরোপ ও পাশ্চাত্ব্যের বড় বড় শহরেও মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। আমাদের কাছে কোন তেল সম্পদ নেই বা না তারা অন্য কোন উপায়ে সম্পদ জড়ো করছে; প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলে জামা'ত আহ্‌মদীয়া অসাধারণ ত্যাগ ও কুরবানী করে মসজিদ নির্মাণ করছে। আহ্‌মদীদের কাছে ঈমানের সম্পদ আছে যার ফলে তারা কুরবানী করতে পারছে।

হুযূর (আই:) স্মরন করান যে, আমাদেরকে এ মূল্যবান ঈমানী সম্পদের সবসময় হিফাযত করতে হবে। এটি এমন অঢেল সম্পদ যা চুরী করার জন্য চোর ও ডাকুরা বিভিন্ন স্থানে ওঁত পেতে বসে আছে। না আমাদের দিন, নাইবা আমাদের রাত এদের হাত থেকে নিরাপদ। বরং এরা শয়তানের রূপে আমাদের রক্তে বহমান। মহানবী (সাঃ) এই রক্তে প্রবাহিত শয়তানের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক করেছেন।

হুযূর (আই:) বলেন, আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে আদমের জন্মের সময়েই শয়তান মানুষকে বিপদগামী করার শপথ নিয়েছিল। এতএব, এটা স্মরন রাখা উচিত যে, ঈমানী সম্পদ এমন এক সম্পদ যার সুরক্ষা অত্যন্ত কঠিন। দুনিয়ার সম্পদের রক্ষার জন্য আমরা দুনিয়াবী ব্যবস্থা যেমন তালাবদ্ধ করা হয়, পাহারাদার রাখা হয়। পরন্তূ, ঈমানী সম্পদ এমন যার সুরক্ষার জন্য আমাদের সবসময় আত্বার পবিত্রতা রক্ষার দিকে মনযোগী হতে হবে। এর হিফাযতের জন্য একজন মু’মিনকে অনন্তর আল্লাহ্‌র দরবারে সাহায্য চাইতে হবে। এটা ছাড়া ঈমানের হিফাযত সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেকের জন্য খোদার সত্যিকার দাস বা বান্দা হওয়া আবশ্যক। সে খোদার প্রতি আমাদেরকে অনুগত হতে হবে যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর অনন্ত নিয়ামতে ভূষিত করেছেন। আল্লাহ্‌ তা’আলার অপার নিয়ামতের একটি হচ্ছে, এই মসজিদ। মসজিদ বানানোর উদ্দেশ্য হলো, আমরা যেন এক খোদার ইবাদতের উদ্দেশ্যে এখানে সমবেত হই। এ মসজিদে যেন আমরা পাঁচ বেলার নামাযে উপস্থিত হই তাহলেই খোদাতালার শুকরিয়া জ্ঞাপন করা হবে। খোদার নির্দেশ পালন ও ইবাদতের মান সমুন্নত করার জন্য মসজিদে আসা আবশ্যক। হাদীসে এসেছে, মহানবী (সাঃ) বলেন, মসজিদে এসে জামাতে নামায পড়া একা নামায পড়ার চেয়ে ২৭গুন বেশি সওয়াবের কাজ। আমরা যদি কেবল খোদার ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসি তাহলেই মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য সফল হবে আর আমরাও হবো পূণ্যের ভাগী।

হুযূর (আই:) বলেন, যদি এক দেহ, এক প্রাণ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে খোদার ইবাদত করো তাহলে বর্ধিত সওয়াব লাভ করবে। মনে রাখবে! প্রত্যেক কাজের ফলাফল তার নিয়্যতের উপর নির্ভর করে। নিয়্যত ভাল না হলে কাজ ভাল হওয়া সত্বেও খোদা মানুষকে উত্তম প্রতিদান দেন না।

কুরআন বলে, একপ্রকার নামযী আছে যাদের নামায তাদের প্রতি অভিসম্পাত বর্ষণ করে। কারণ তারা তাদের নামাযের উদ্দেশ্য ভুলে যায়। সেটিই সত্যিকার নামায যাতে মানুষ স্বাদ পায় ও উপভোগ করে। এমন নামায পড়তে পারলেই মানুষের মনে পাপের প্রতি ঘৃণা জন্ম নিবে। এমন নামাযের কথা বলতে গিয়ে মহানবী (সাঃ) বলেছেন, নামায মু’মিনের জন্য মি’রাজ স্বরূপ।

হুযূর (আই:) বলেন, পৃথিবীতে এমন অনেক মসজিদ আছে যেখানে ইমাম বা খতীব খুতবার পরিবর্তে অপরকে গালী-গালাজ করে থাকে। অনেক মসজিদ আছে যাদের কাজই আহ্‌মদীদের গালী দেয়া। মসজিদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি হয় এমন দৃষ্টান্তও কম নয়। পরিশেষে শান্তি-শৃংখলা রক্ষার্থে কতৃপক্ষকে মসজিদে তালা লাগাতে হয়। সুতরাং চিন্তা করে দেখুন এমন মসজিদ মানুষের জন্য শান্তি ও কল্যাণের কারণ হতে পারে কি?

হুযূর (আই:) বলেন, মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর এ পৃথিবীতে আগমনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বান্দাকে খোদার নিকটতর করা। খোদার নৈকট্য তারাই লাভ করে যারা ত্বাকওয়াশীল। আর ত্বাকওয়া লাভ করতে চাইলে খোদার অধিকার ও বান্দার প্রাপ্য প্রদান আবশ্যক।

হুযূর (আই:) বলেন, আজ গোটা বিশ্ব যেখানে কলহ-বিবাদে জর্জরিত সেখানে খোদাতালা আমাদেরকে এক জামাতে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তাই খোদার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আমাদের ইবাদতের মান উন্নত করতে হবে। হুযূর (আই:) বলেন, পরষ্পরের মধ্যে শান্তি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরো বাড়ানো। মনকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা আর নবাগতদেরকে ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসার মাধ্যমে আপন করে নেয়া একটি বড় কাজ। যদি এ কাজ আমরা না করি তাহলে এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য বৈ কিছুই নয়।

হুযূর (আই:) বলেন, সর্বদা মহানবী (সাঃ)-এর অনুপম আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করুন, সে মোতাবেক অনুশীলন করুন তাহলে সত্যিকার মু’মিন হবেন। খোদার সন্তুষ্টি সন্ধানী হোন তাহলে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করবেন এবং অন্যদের কাছেও ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করতে সমর্থ হবেন।

হুযূর (আই:) বলেন, আল্লাহ্‌ তা’আলা আপনাদের এ মসজিদ সবদিক থেকে কল্যাণমন্ডিত করুন এবং আপনাদেরকে মসজিদ নির্মাণের উত্তম প্রতিদান দিন।

সবশেষে হুযূর (আই:) প্রশাসনিক কিছু কথা বলেন এবং অঙ্গ সংগঠণগুলোকে জামাতের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে কর্ম পরিকল্পনা প্�����য়ণ করতে বলেন।

হুযূর (আই:) বলেন, অঙ্গসংগঠণগুলো মন����� র��খবেন আপনার জামাতের উপর কোন প্রাধা���্য রাখেন না। তাই নিজেদের কোন ইচ্ছা বা মতামত জামাতের উপর চাঁপানোর চেষ্টা করবেন না।

আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের সবাইকে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার তৌফিক দিন এবং আমিত্বের পরিবর্তে খোদার সন্তুষ্টি লাভের বাসনায় জামাতের খিদমত করার তৌফিক দিন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে