In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

আল্লাহ্‌ তা’আলার ইবাদত

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাগ-এ-আহ্‌মদ, ঘানা

১৮ই এপ্রিল, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর (আই:) বলেন, গতকাল জলসার উদ্বোধণী বক্তৃতায় আমি ইবাদতের প্রতি আপনাদের মনযোগ আকর্ষণ করেছিলাম। ইবাদতের সাধারণ অর্থ হচ্ছে পাঁচ বেলা নামায পড়া। আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র কুরআনের অগণিত স্থানে বারংবার তাঁর ইবাদত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সূচনাতেই বলেছেন, মু’মিন তাঁরাই যাঁরা নামায কায়েম করে। নামায একটি মৌলিক ইসলামী শিক্ষা। নামায ইবাদতের প্রাণ বা মগজ তাই প্রত্যেক মু’মিনকে প্রাণ রক্ষার্থে নিয়মিত নামায আদায় করা উচিত।

হুযূর (আই:) বলেন, জলসার সময় নামাযের প্রতি বিশেষ মনযোগ সৃষ্টি হয়। বাড়ীতে গিয়ে ভুলে যাবেন না বরং একে আঁকড়ে থাকুন। আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর ইবাদতের উদ্দেশ্যেই মানুষ সৃষ্টি করেছেন। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য বর্ণণা করতে গিয়ে বলেন, মানুষ ও খোদার মধ্যে সত্যিকার সম্পর্ক সৃষ্টি করাই আমার প্রেরিত হবার মূল কারণ। তাই প্রত্যেক আহ্‌মদীকে রীতিমত নামায পড়তে হবে।

হুযূর (আই:) বলেন, আমাদের জানতে হবে আহ্‌মদীয়াত কি? মানব হৃদয়ে এক খোদার রাজত্ব্য প্রতিষ্ঠা করার নামই আহ্‌মদীয়াত। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে মানার পর আমরা যদি সে চিরঞ্জীব সত্বার সাথে সম্পর্ক গড়ে না তুলি তাহলে আমাদের দাবী মিথ্যা। আমরা সবার কাছে মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর তবলীগ পৌঁছিয়ে তাদেরকে খোদার নিকটতর করবো, এ অঙ্গীকারও মিথ্যে হবে। পৃথিবীতে বর্তমানে অনেক মুসলমান আছে, অনেক মুসলমান দেশ আছে যারা তেল সম্পদে সমৃদ্ধ, কিন্তু তাদের কেউই বিশ্ববাসীকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের দাবী করে না বরং তারা একজন খূনী মাহ্‌দীর আগমনের অপেক্ষায় আছে। কিন্ত্তু আপনারা ছোট্ট একটি দরিদ্র জামা’ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ইসলামের বাণী পৌঁছানোর অঙ্গীকারে আবদ্ধ।

হুযূর (আই:) বলেন, আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের আহ্‌মদীরা এখানে সমবেত আছেন। আমাদের এমন সংখ্যাধিক্যও নেই আর অর্থবলও নেই যদ্দারা পৃথিবীর সকল দেশে আহ্‌মদীয়াতের পতাকা উত্তোলন করতে পারি, কিন্তু মনে রাখবেন সেই শক্তিশালী মহান খোদার হাত আমাদের সাথে আছে। আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে যুগ মসীহ্‌র উপর ইসলামের সুমহান শিক্ষা পুনরায় বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব রয়েছে; যেন বিশ্ববাসী অনন্য ও মহিমার অধিকারী খোদার সম্মুখে নত হতে পারে। আপনার সেই খোদার সমীপে নত হোন, দোয়া করুন, আর দোয়ার উত্তম মাধ্যম হচ্ছে নামায এবং এ নামায এবং দোয়াই আমাদেরকে ইহ ও পরকালে সফলতা এনে দিবে । নতুবা আমাদের কাছে পার্থিব কোন শক্তি নেই যার বলে বলীয়ান হয়ে আমরা পৃথিবীকে জয় করবো। তরবারীর মাধ্যমে বিশ্ব ইসলাম জয়যুক্ত হয়েছে এটি বিরুদ্ধবাদীদের অপলাপ মাত্র। ওহদ, বদর ও আহযাবের যুদ্ধে কোন শক্তি মসুলমানদের জয়যুক্ত করেছে? একমাত্র মহানবী (সাঃ)-এর দোয়ার শক্তিই মুসলমানদেরকে সর্বত্র বিজয় লাভে সহায়তা করেছে। মনে রাখবেন শক্তি দিয়ে দেশ জয় করা যায় কিন্ত্তু মানুষের মন জয় করা যায় না।

হুযূর (আই:) বলেন, পবিত্র কুরআনে আয়াতে এস্তেখলাফের পরের আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন,

“তোমরা নামায কায়েম করো এবং যাকাত দাও এবং এ রসূলের আনুগত্য করো যেন তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করা যায়”।

খিলাফতের নিয়ামতকে ধরে রাখার জন্য নামাযের প্রতিষ্ঠাকে সর্ব প্রথম শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদেরকে ইবাদতের মাধ্যমে খোদার সাথে জীবন্ত সম্পর্ক গড়তে হবে। এরপর আর্থিক কুরবানী করতে হবে।

হুযূর (আই:) বলেন, আমি যুবক ও নবাগত আহ্‌মদীদেরকে বলছি, পবিত্র কুরআন যাকাত ছাড়াও আল্লাহ্‌র রাস্তায় কুরবানী করার নির্দেশ দিয়েছে। আর আর্থিক কুরবানী তোমাদের আত্মশুদ্ধির জন্য একান্ত আবশ্যক। খোদার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কৃত কোন কর্মই বৃথা যায় না।

হুযূর (আই:) বলেন, আমি খোদার প্রতি কৃতজ্ঞ আর আপনাদেরও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। ঘানা জামা'ত খোদার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আর্থিক কুরবানী করছে। এখানে অনেক আহ্‌মদী আছেন যারা স্বয়ং পকেটের পঁয়সা খরচ করে জামাতের জন্য বড় বড় মসজিদ নির্মাণ করছেন। আল্লাহ্‌ আপনাদের কুরবানী কবুল করুন।

কাদিয়ানের গন্ড গ্রামে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) আবির্ভূত হয়েছিলেন আর আজ সেখান থেকে সহস্র সহস্র মাইল দূরে বসবাসকারী আফ্রিকার নিষ্ঠাবান আহ্‌মদীরা ধর্মের খাতিরে নিজেদের আর্থিক কুরবানী করে যাচ্ছেন।

হুযূর (আই:) বলেন, এর পরের নির্দেশ হচ্ছে, আল্লাহর রসূলের আনুগত্য করা। পবিত্র কুরআন বলে, যদি তোমরা আল্লাহ্‌কে ভালবাসতে চাও, তাহলে আমার রসূলকে ভালবাস। এতে একটি ভবিষ্যদ্বাণী আছে, আল্লাহ্‌ তা’আলা বলছেন, মসীহ্‌ ও মাহ্‌দী যিনি আসবেন তিনি মহানবী (সাঃ) কর্তৃক আনীত শরীয়তের উপর মুসলমানদেরকে পুরোপুরি অনুশীলন করাবেন। তিনি হাকাম ও আদল হবেন আর ন্যায় ভিত্তিক নির্দেশ দিবেন।

হুযূর (আই:) বলেন, আমি আপনাদেরকে বিশেষ করে আহ্‌মদী যুবক-যুবতীদেরকে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর একটি নির্দেশাবলী জানাতে চাই। তিনি (আঃ) আহ্‌মদী ছেলে-মেয়েদেরকে জামাতের মধ্যে বিয়ে শাদী করতে বলেছেন। যদি আপনাদের জীবন সাথী ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হয় তাহলে আপনাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যত কি হবে? তারা ধর্ম হারা হয়ে পঙ্কিলতার অতল গহবরে নিপতিত হবে। তাই আপনারা আহ্‌মদী হবার সুবাদে আহ্‌মদী��� সাথেই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন আপনারা ধর্মকে জাগতিকতার উপর প্রাধান্য দেয়ার অঙ্গীকারে আবদ্ধ। তাই সর্বাবস্থায় সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন আপনার দ্বারা ধর্মের কোন অবমাননা যেন না হয়।

হু���ূর (আই:) বলেন, পরিশেষে আমি আপনাদেরকে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর ভাষায় বলতে চাইঃ

“অতএব, যারা আমার শীষ্যমন্ডলী বলে পরিচয় দিয়ে থাক, একথা নিশ্চিত জানিও যে আকাশে কেবল তখনই তোমরা আমার শীষ্যমন্ডলী বলে পরিগণিত হবে, যখন তোমরা সত্যসত্যই ধর্মনিষ্ঠার পথে অগ্রসর হবে। সুতরাং তোমরা তোমাদের দৈনিক পাঁচ বেলার নামায এরূপ ভীতি সহকারে এবং নিবিষ্টচিত্তে আদায় করবে যেন তোমরা আল্লাহ্‌ তা’আলা কে সাক্ষাতভাবে দেখছ। তোমাদের রোযাও নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। তোমাদের মধ্যে যারা যাকাত দেয়ার উপযুক্ত, তারা অবশ্যই যাকাত দিবে। যাদের জন্য হজ্জ অবশ্য কর্তব্য এবং তা পালনে কোন বাঁধা নেই, তারা অবশ্য হজ্জ পালন করবে। সকল পূণ্য কাজ সুচারূরূপে সম্পন্ন করবে এবং সকল পাপকে ঘৃণার সাথে পরিহার করবে। একথা নিশ্চয় জানবে যে কোন ধর্মই আল্লাহ্‌র নিকট গৃহীত হবে না যাতে প্রকৃত তাকওয়া বা খোদাভীতি নেই”।

আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদেরকে সর্বদা ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন। তাঁর ইবাদতকারী বানান এবং তাঁর নিয়ামতের যোগ্য উত্তরসূরী করূন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে