In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

সফর ও ভ্রমন সম্পর্কিত ইসলামী শিক্ষা

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১১ই এপ্রিল, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

হুযূর সফর ও ভ্রমন সম্পর্কিত ইসলামী শিক্ষার উপর সবিশেষ আলোকপাত করেন। হুযূর বলেন, সফরে মানুষের উত্তম পাথেয় থাকলে কষ্ট কম হয়, ভ্রমন হয় আরামদায়ক ও আনন্দময়। পবিত্র কুরআন বলে, সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে ত্বাকওয়া বা খোদাভীরুতা। তাই মানুষের খোদার ভয় আপন হৃদয়ে ধারণ করা উচিৎ।

হুযূর বলেন, মন্দ কর্ম দূরীভূত হয়ে ভাল গুণাবলী তার স্থান দখল করবে তাই এমন নিয়্যত করতে হবে যে, পাপের কাছেও যাবো না। এরূপ নিয়্যতই মানুষকে পরিশুদ্ধ করে আর তাদের জীবন চলার পথের পাথেয় হয় ত্বাকওয়া। ফলে মু’মিন সর্বাবস্থায় খোদার অনুপম বৈশিষ্ট্য ‘হামিদুন’ হবে অর্থাৎ যেথায়ই থাক না কেন সে খোদার মহিমা ও গুণ-কীর্তণকারী হবে।

হুযূর বলেন, যারা রুকুকারী ও নামায আদায়কারী মু’মিন তাদেরকে জান্নাতের শুভসংবাদ দেয়া হয়েছে। রুকু ও সিজদা কেবল খোদারই জন্য বিনয় অবলম্বন করে করে করা উচিৎ। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “মানুষ সেজদারত অবস্থায় খোদার সবচেয়ে নিকটে অবস্থান করে।” মানুষ নিজের আমিত্ব-অহমিকা বিসর্জন দিয়ে খোদার সমীপে নত হয় তাই সে এর পুরস্কার পাবে। মানুষের উচিৎ পাপের বিরুদ্ধে জিহাদ করা আর নিজে পাপ মুক্ত হয়ে গোটা বিশ্বকে পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করা যাতে মানুষ খোদার নিয়ামত লাভের যোগ্য বিবেচিত হয়।

হুযূর বলেন, যে মানুষকে পাপ বিমুখ করে সে মূলতঃ পৃথিবীতে খোদার রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে। তাই এ দুদিনের দুনিয়াতে মুসাফিরের ন্যায় আমাদেরকে ত্বাকওয়াকে পাথেয় করা উচিৎ। আল্লাহ্‌ করুন আমাদের সফর এবং স্বস্থানে অবস্থান খোদার পুণ্য লাভের জন্য হয়।

হুযূর বলেন, দু-তিন দিনের মধ্যে আমিও পশ্চিম আফ্রিকা সফরে যাচ্ছি। এবার এখান থেকেই খিলাফত জুবলীর সফর আরম্ভ হবে। এ সফরে ঘানা, নাইজেরিয়া এবং বেনিন যাবো। এবছর অনেক ব্যস্ততা থাকবে, অনেক দেশেই যেতে হবে। আপনারা দোয়া করুন আমাদের সফর যেন সবদিক থেকে বাবরকত হয়। শতবছর ধরে খোদার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনার্থে সব দেশেই খিলাফত জুবলী পালন করা হবে। সফরে খোদা যেন সহায় হন। খোদার সাহায্য, দয়া, করুণা এবং কৃপা না হলে আমাদের মত দূবর্লদের মধ্যে নেকী সৃষ্টি হবে না আর আমাদের মধ্যে নেকী জন্ম না নিলে অপরকে কল্যাণের দিকে আহবান সম্ভব নয়।

মহানবী (সাঃ) সফরের পূর্বে বিভিন্ন দেয়া করেছেন এবং তার মান্যকারীদেরকে শিখিয়েছেন। যখন তোমরা বাহনে আরোহন করো তখন তোমরা দোয়া করো, “হে খোদা! এ বাহন আমাদের জন্য যেন আরাম দায়ক ও কল্যাণের কারণ হয়।”

হুযূর বলেন, আপনারা খোদার প্রতি সমর্পণের চেতনা নিয়ে দোয়া করুন, যেন আমার সফর সর্বৈব কল্যাণময় হয়। আমি বিশ্বাস করি, পুরো জামাতের দোয়া খোদার রহমত আকর্ষণ করবে। আমাদের কোন দূর্বলতা বা ত্রুটি যেন সফরের কল্যাণ থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত না করে।

এরপর হুযূর বিভিন্ন হাদীসের উল্ল্যেখ করেন, যাতে মহানবী (সাঃ) নিজের ব্যবহারীর আদর্শ উপস্থান করেছেন এবং তাঁর উম্মতকে বিভিন্ন নির্দেশ দিয়েছেন। মহানবী (সাঃ) সফরে সফলতার জন্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তৌফিক পাবার জন্য দোয়া করতেন। সফর বা ভ্রমন যেন খোদার সন্তুষ্টির কারণ হয়। মহানবী (সাঃ) কোন স্থান ঘাঁটি স্থাপন করলে, দু’রাকাত নামায না পড়ে সে স্থান ত্যাগ করতেন না। মহানবী (সাঃ) সফর আরম্ভ করার পূর্বে পশু সদকা করতেন। মহানবী (সাঃ) কোন টিলার উপর দিয়ে গেলে তিনবার আল্লাহু আকবর বলতেন আর খোদার মহীমা ঘোষণা করতেন। মহানবী (সাঃ)বলেন, “খোদা মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের পক্ষে পিতার দোয়া অগ্রাহ্য করেন না”।

মহানবী (সাঃ) পথভ্রষ্ট হওয়া, স্খলন, যুলুম, অন্যায়-অত্যাচার-নির্যাতন, কাঠিন্য, লাভের পর ক্ষতি হওয়া, সফলতার পর ব্যর্থতা থেকে খোদার কল্যাণ কামনা করে সফরে দোয়া করতেন।

মহানবী (সাঃ) সফর থেকে ফিরে এসে দোয়া করতেন, “আমরা তওবাকারী, কৃতজ্ঞ বান্দা এবং প্রভুর প্রশংসাকারী হিসেবে ফিরে এসেছি।”

খুতবার শেষাংশে হুযূর বলেন, গতবার আমি জার্মানীর লাজনাদেরকে বলেছিলাম তাদেরকে আর জলসায় যোগদান করতে দেয়া হবে না। কিন্তু তারা এত বেশি নিজেদের অবস্থায় পরিবর্তন এনেছেন এবং গোটা বিশ্বের লাজনারা তাদের হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন আর তারাও লজ্জিত হয়ে বারংবার ক্ষমার আবেদন করেছেন যা দেখে আমার হৃদয়ে তাদের জন্য শ্রদ্ধা বেড়েছে। আমি বলছি আপনারা ঘাবড়াবেন না, ইনশাআল্লাহ্‌ আপনারা জলসায় আসবেন।

সফরের সফলতার জন্য আবারো দোয়ার আবেদন জানিয়ে হুযূর খুতবা শেষ করেন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে