In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবার সারাংশ

নমনিয়তা, সহনশীলতা, ঔদার্য্য ও উন্নত নৈতিক গুণাবলীর বিষয়ে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর শিক্ষা

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

৪ঠা এপ্রিল, ২০০৮ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

একজন আহ্‌মদীকে সর্বদা তার বয়াতের অঙ্গীকারকে দৃষ্টিপটে রাখতে হবে। অন্ধকারের যে গাড় গহ্বর থেকে আমরা বা আমাদের পূর্ব-পুরুষ হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর হাত ধরে উদ্ধার পেয়েছি সেখানে যেন পুনরায় পতিত না হই। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর হাতে বয়াতের অর্থ মূলতঃ মহানবী (সাঃ)-এর নির্দেশ পালন। কেননা বর্তমান যুগও তাঁরই যুগ আর কেয়াতম পর্যন্ত তাঁরই আধ্যাত্মিক রাজত্ব্য বলবৎ থাকবে।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বিভিন্ন স্থানে তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন,

একস্থানে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং জোরালো ভাবে বলেন,

যে নূর পৃথিবী থেকে হারিয়ে গিয়েছিল তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং এবং বিশ্ববাসীকে নোংরা ও পঙ্কিলতার পথ থেকে উদ্ধার করাই আমার মূল দায়িত্ব।

তিনি (আঃ) অন্যত্র বলেন,

আমি কোন জয়-ঢাক বাজিয়ে মানুষের দৃষ্টি এ প্রস্রবণের প্রতি আকৃষ্ট করবো যাতে তারা সত্যের নূরে দিপ্তীমান হয়।

হুযূর আনোয়ার (আই:) বলেন, আমাদেরকে ভালো হতে হবে আর স্বজাতি ও আত্মীয়-পরিজনকে এ সত্যের জ্যোতিতে আলোকিত করতে হবে। কিন্তু কিভাবে? সহনশীলতা, উত্তম নৈতিক গুণ, উন্নত চরিত্র এবং সহানূভুতির মূর্তিমান রূপ হয়ে মানুষকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে হবে।

তিনি (আঃ) অন্যত্র তাঁর প্রিয় জামা'তকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন,

তোমরা নমনিয়তা, সহনশীলতা, ঔদার্য্য ও উন্নত নৈতিক গুণাবলীর সমুজ্জল বিকাশ ঘটিয়ে জামাতের সত্যতা অন্যদের সম্মুখে প্রতিভাত করো, তাহলে বিভ্রান্ত মানবকুল পথের দিশা পাবে আর জীবনকে করবে পাপের অভিশাপ থেকে মুক্ত।

তিনি (আঃ) অন্যত্র বলেন, জামাতের সদস্যরা ছোট-ছোট কথা শুনে রেগে যান, কাউকে জনসমক্ষে আহাম্মক বলাও কঠোরতা। যার স্বভাব-চরিত্র ভালো নয় তার ঈমান নিয়ে আমার সন্দেহ আছে কেননা, তার হৃদয় অহংকারের বীজ রয়েছে।

হুযূর বলেন, যারা ঝগরাটে, জামাতের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয় তারা পরিশেষে ঈমান হারায়। তাদের ওয়াকফে নও সন্তানদের সম্পর্কে জামা'ত ভিন্ন চিন্তা করতে বাধ্য হয়। কারণ যেখানে পিতামাতার তরবিয়ত নেই সেখানে জামাতের আমানত কিভাবে সুরক্ষা পেতে পারে।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

যে হঠাৎ করে রেগে যায় তার হৃদয় হিকমত শূন্য। ক্রোধ হচ্ছে অর্ধেক উম্মাদনা যখন তা বেড়ে যায় তখন পুরো উম্মাদনা গ্রাস করে। যে মাথা গাছ থেকে কাটা পরে তাকে আর গাছের অংশ বলা হয় না।

হুযূর বলেন, তাই আমরা যারা জামাতের শিক্ষা ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাবনত হয়ে যুগ ইমামের নির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালিত করবো তারাই কেবল নিজেদেরকে খোদার ওয়াদা পূরণের যোগ্য রাখবো। যারা জামাতের শিক্ষার বিপরীতে গিয়েও খোদার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক পুরস্কার লাভের প্রত্যাশা রাখে তারা মূলত বোকার স্বর্গে বাস করে।

হুযূর (আই:) মহানবী (সাঃ) এবং মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর ব্যবহারিক জীবনের দৃষ্টান্ত দিয়ে কুরআনের নির্দেশ পালনের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং জামাতের সবাইকে যুগ খলীফার নির্দেশনা অনুসরণে খোদার প্রিয়পাত্র হবার আহবান জানান।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে