In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবা

মহিমান্বিত কুরআন - দ্বিতীয় অংশ

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১১ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

لَوْ اَنْزَلْنَا هٰذَا الْقُرْاٰنَ عَلٰى جَبَلٍ لَّرَاَيْتَهٗ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللّٰهِ‌ؕ وَتِلْكَ الْاَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُوْنَ

এ আয়াতের অর্থ হল, ‘যদি আমরা এই কুরআনকে কোন পর্বতের উপর অবতীর্ণ করতাম তবে তুমি অবশ্যই একে আল্লাহ্‌র ভয়ে বিনীত হয়ে বিদীর্ণ হতে দেখতে। এবং আমরা মানুষের জন্য উপমারূপে যা বর্ণনা করি - যেন তারা চিন্তা করে।’

(সূরা আল্ হাশ্‌র: ২২)

কতক মানুষের হৃদয় এতটাই কঠোর হয়ে যায় যে, ঐশী বাণীর কোন প্রভাবই তাদের হৃদয়ে দাগ কাটে না; যদিও, যে আয়াত আমি তিলাওয়াত করেছি তাতে আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন, এই কুরআনকে আমরা পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করলে তা ভয়ে টুকরো টুকরো হয়ে যেত।

অতএব আল্লাহ্ তা’লার এ কথা থেকে প্রমাণ হয় যে, কতক মানুষের হৃদয় পাহাড়ের চেয়েও বেশি কঠোর হয়ে থাকে। তারা জন্মের উদ্দেশ্যকে ভুলে যায়, আপন সৃষ্টিকর্তা এবং নিজেদের পরিণামকে ভুলে যায়।

সুরা বাকারায় আল্লাহ্ তা’লা মানব হৃদয়ের কঠোরতা সম্পর্কে বলেছেন,

ثُمَّ قَسَتْ قُلُوْبُكُمْ مِّنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ فَهِىَ كَالْحِجَارَةِ اَوْ اَشَدُّ قَسْوَةً‌ ؕ وَاِنَّ مِنَ الْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ الْاَنْهٰرُ‌ؕ وَاِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الْمَآءُ‌ؕ وَاِنَّ مِنْهَا لَمَا يَهْبِطُ مِنْ خَشْيَةِ اللّٰهِ‌ؕ وَمَا اللّٰهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ‏

অর্থাৎ ‘এরপর তোমাদের হৃদয় কঠোর হয়ে গেল, যেন তা পাথর সদৃশ বা এর চেয়েও অধিক কঠোর। এমনও পাথর আছে যা থেকে নদী প্রবাহিত হয়ে থাকে, আবার কতক এমনও রয়েছে যেগুলো বিদীর্ণ হলে তা হতে পানি বইতে থাকে, ঝর্ণাধারা উৎসারিত হয় আর এগুলোর মধ্যে এমনও কতক আছে যেগুলো আল্লাহ্ তা’লার ভয়ে বিনত হয়ে পড়ে।

(সূরা আল্ বাকারা: ৭৫)

সুতরাং আল্লাহ্ তা’লার সিদ্ধান্ত, আল্লাহ্ তা’লার বাণী এবং পৃথিবীতে আল্লাহ্ তা’লার যে সব নিয়ম-নীতি চালু রয়েছে, জড়বস্তুর উপরও এর প্রভাব পড়ে। কিন্তু মানুষের হৃদয় এতটাই কঠোর হয়ে যায় যে, আল্লাহ্ তা’লার চিরন্তন রীতি দেখার পরও তারা নিজেদের মাঝে কোন পরিবর্তন আনতে চায় না। সূরা বাকারার এ আয়াতে ইহুদীদের বরাতে আলোচনা হচ্ছে, কিন্তু এই উদ্ধৃতিটি নিছক একটি ঘটনাই নয় বরং ভবিষ্যদ্বাণীও বটে; যদি আল্লাহ্ তা’লার ভয় (তোমাদের হৃদয়ে) সৃষ্টি না করো তাহলে তোমাদের হৃদয়ও এরূপ কঠিন হয়ে যাবে।

বর্তমান অবস্থা দেখুন! এটি মুসলমানদের জন্যও একটি চিন্তনীয় বিষয়। গভীরভাবে ভেবে দেখুন! এসব কেন হচ্ছে? পশ্চিমা বিশ্বে মুসলমানরা নিজেদের অনুষ্ঠানাদিতে এখানকার রাজনীতিবীদদের নিমন্ত্রণ জানায় অথবা যখন তারা নিজেরাই কোন অনুষ্ঠান করে, তখন এসব লোক তাদের বক্তৃতায় মুসলমানদের প্রশংসা করে থাকে। কিন্তু সামগ্রীকভাবে যখন কোন সিদ্ধান্তের প্রশ্ন উঠে, তখন নিজেদের পছন্দমত সিদ্ধান্তই তারা গ্রহণ করে, মুসলমানদের স্বার্থকে সামনে রাখা হয় না।

অতএব, (এসব দেশে) মুসলমানদেরকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর মর্যাদা দেয়া হয়, আর নিজেদের (মুসলমানদের) রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাদেরকে অন্যের দয়ামায়ার উপর নির্ভর করতে হয়, এছাড়া পার্থিব ও আসমানী বিপদাবলীতো আছেই। এসবের কারণ কী? সূরা হাশ্রের যে আয়াতটি আমি তিলাওয়াত করেছি এর পূর্ববর্তী আয়াতেও মু’মিনদেরকেই সম্বোধন করা হয়েছে, আর তাক্বওয়া অবলম্বনের প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আগামী দিনের জন্য কিছু অগ্রে প্রেরণের প্রতি মনোযোগ আকৃষ্ট করা হয়েছে। আখিরাত ও পরিণামের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। আল্লাহ্কে স্মরণ করার প্রতি মনোযোগ আকৃষ্ট করা হয়েছে। (আল্লাহ্) বলছেন, অন্যথায় তোমরা নিজেদের পরিচয় (গৌরব) হারিয়ে ফেলবে। পাপাচারিতায় লিপ্ত হয়ে লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার হবে। কাজেই চেতনাবোধ জাগ্রত করো এবং শয়তানের খপ্পর থেকে মুক্ত হও; আর নিজেদের হৃদয়ের কঠোরতাকে আল্লাহ্ তা’লাকে স্মরণের মাধ্যমে কোমলতায় পরিবর্তন করো। কিন্তু শয়তান (তাদেরকে) এভাবে করায়ত্ত করেছে যে, তারা বাস্তবতা বুঝতে চায় না। এ অবস্থার চিত্র আল্লাহ্ তা’লা একস্থানে এভাবে অঙ্কন করেছেন,

وَلٰـكِنْ قَسَتْ قُلُوْبُهُمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطٰنُ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ‏

অর্থাৎ ‘বরং তাদের হৃদয় আরো কঠোর হয়ে গেছে এবং তারা যা কিছু করে শয়তান তাদেরকে তা আরো সুশোভন করে দেখিয়েছে।’

(সূরা আল্ আন্’আম: ৪৪)

সব ধরনের বিপদাপদ এবং ক্লেষ হতে শিক্ষা নেয়ার পরিবর্তে অন্যায় অবিচারে আরো বেড়ে যায়, পাপাচারিতার ক্ষেত্রে আরো ধৃষ্ট হয়।

আজকাল পাকিস্তানেও হৈ-চৈ হচ্ছে। সেখানে সর্বত্র মারামারি-হানাহানির রাজত্ব। কোথাও বিদ্যুতের জন্য, কোথাও যুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে, আবার কোথাও বাজারের উর্ধ্ব গতির কারণে মিছিল হচ্ছে। কোথাও আবার অন্যান্য বিপদাপদ রয়েছে। নেতাদের (এ নিয়ে) কোন মাথা ব্যাথা নেই। সংবাদপত্রে কলামের পর কলাম লিখা হচ্ছে যে, আমরা ধ্বংসের শেষ সীমায় পৌঁছে যাচ্ছি। কেন এসব হচ্ছে? এসবের একটি বড় কারণ আমি বলছি এবং অনেক আগে থেকেই বলে আসছি। আর তা হল, যুগ ইমামকে মানা তো দূরের কথা বরং এমন আইন প্রবর্তন করা হয়েছে যে, (যুগ ইমামের) মান্যকারীদের আইনের যাঁতাকলে পিষ্ট করা হয়। আগে এসব অত্যাচার বন্ধ করো। প্রতিটি সরকারি কাগজ-পত্রে যুগ ইমামের বিরুদ্ধে গাল মন্দের যে বন্যা বইয়ে দেয়া হয়, সেগুলো বন্ধ করো; নতুবা (জেনে রেখো) খোদা তা’লার বিধান তাঁর প্রিয়পাত্রদের জন্য স্বীয় শক্তি প্রদর্শন করে থাকে। পাকিস্তানে কোন অমুসলমান আল্লাহ্ ও মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম নিলে বা গলায় লকেট পরলে তারা (অর্থাৎ পাকিস্তানীরা) অত্যন্ত আনন্দিত হয়। কিন্তু আহমদীরা যদি আল্লাহ্ ও মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম তাদের মসজিদ ও বাড়িতে লিখে, তবে সেগুলোকে ভেঙ্গে-চুরে নোংরা নর্দমায় ভাসিয়ে দেয়া হয়। তখন তাদের এ কথা মনে পড়ে না যে, এ সব সরকারি কর্মচারীদের মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’লার নামের অসম্মান হচ্ছে; তখন রসুল (সা.)-এর অবমাননা তাদের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে না। অতএব এ বিষয়গুলো যখন (তাদের) দৃষ্টিতে পড়ে না, তখন আল্লাহ্ তা’লার বিধানও স্বীয় শক্তি প্রদর্শন করে।

পাকিস্তানের নামধারী মোল্লাদের অজ্ঞতার অবস্থা এমনই যে, মুবাশ্বের লুকমান সাহেব যিনি একজন টিভি প্রোগ্রামার ও উপস্থাপক, তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে একটি অনুষ্ঠান করছেন। টেলিভিশনে তার অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয়েছে। কত দিন নির্ভীকভাবে এ অনুষ্ঠান চালাতে পারবেন তা আল্লাহ্ তা’লাই ভাল জানেন। কিন্তু যাইহোক, একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছে, তাতে একজন আলেম আহমদীদের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, যেভাবে কোকা-কোলার একটি নিজস্ব ট্রেডমার্ক রয়েছে এবং অন্য কোন কোম্পানী এ নামে কোকা-কোলা প্রস্তুত করতে পারবে না, নতুবা ধরা পরবে - অনুরূপভাবে শুধু আমরাই মুসলমান আখ্যা পেতে পারি, আহমদীরা মুসলমান হবার দাবী করলে শাস্তি পাবে। এ সব উলামা এমন ফতওয়া দেয় - যাদের সম্পর্কে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, মহানবী (সা.) বলেছেন,

‘এক যুগে মানুষ চরম অজ্ঞ লোকদেরকে তাদের নেতা নিযুক্ত করবে এবং তাদের কাছে বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইবে; আর তারা (উলামারা) না জেনেই ফতওয়া দিবে।’

মোটকথা তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। মুসলমান কে? এ বিষয়ে আমি দীর্ঘ বিতর্কে জড়াতে চাই না। তবে এতটুকু জানা কর্তব্য, পরিপূর্ণ অনুগত, মহানবী (সা.)-এর সব আদেশ পালনকারী এবং পবিত্র কুরআনের পরিপূর্ণ অনুসরণকারী যদি কেউ থেকে থাকে, মুসলমানের সংজ্ঞা যদি কারো ক্ষেত্রে প্রজোয্য হয়, তবে তারা হল শুধু আহমদী।

এখন আমি এ সম্পর্কে দু’টি হাদীস উপস্থাপন করছি যাতে মহানবী (সা.) মুসলমানের সংজ্ঞা দিয়েছেন। আর এটি-ই হল (মুসলমানের) প্রকৃত সংজ্ঞা। এটি সে সব আলেমের দেয়া সংজ্ঞা নয়, যারা কোকা-কোলার প্যাটেন্ট নামকে ইসলামের নামের সাথে তুলনা করতে চায়, এটি তাদের চরম অজ্ঞতা বৈ আর কিছু নয়।

হযরত আবি মালিক (রা.) হতে একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে - তিনি বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন,

‘মান ক্বালা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া কাফারা বিমা ইউ’বাদু মিন দুনিল্লাহি হারুমা মালুহু ওয়া দামুহু ওয়া হিসাবুহু আলাল্লাহি’

অর্থাৎ, আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এ অঙ্গীকার করে যে, আল্লাহ্ তা’লা ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই এবং আল্লাহ্ তা’লা ছাড়া যাদের উপাসনা করা হয় তাদেরকে অস্বীকার করে, তখন তার প্রাণ ও সম্পদ সম্মানযোগ্য হয়ে যায়। (তারা আইনগত নিরাপত্তা লাভ করে)। তার হিসাব- নিকাশের দায়িত্ব আল্লাহ্ তা’লার হাতে ন্যস্ত।

(মুসলিম-কিতাবুল ঈমান)

একমাত্র আল্লাহ্-ই তার নিয়্যত বা অভিপ্রায় সম্পর্কে অবহিত এবং তিনি তাকে তার নিয়্যত অনুযায়ী প্রতিদান দিবেন। কলেমা পাঠ করার পর, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলার পর, সে বান্দার হস্তক্ষেপের ঊর্ধ্বে চলে যায়।

অন্য আরেকটি হাদীসে হযরত আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, মহানবী (সা.) বলেছেন,

‘মান সাল্লা সালাতানা ওয়াস্তাক্ববালা ক্বিবলাতানা ওয়া আকালা যাবিহাতানা ফাযালিকাল্ মুসলিমুল্লাযী লাহু যিম্মাতুল্লাহি ওয়া যিম্মাতু রাসূলিল্লাহি ফালা তুখফিরুল্লাহি ফি যিম্মাতিহী।’

হযরত আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন যে, মহানবী (সা.) বলেছেন,‘যে ব্যক্তি আমাদের ক্বিবলার দিকে মুখ করে এবং আমাদের মত নামায পড়ে, আমাদের যবাইকৃত পশুর মাংস খায় - সে মুসলমান। তার নিরাপত্তার দায়িত্ব আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল (সা.) নিয়েছেন। কাজেই আল্লাহ্ তা’লার এই দায়িত্বের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল হবে না, একে অকার্যকর করার চেষ্টা করো না, এবং এর মাহাত্ম্যকে খাট করার চেষ্টা করো না।’

(সহীহ্ বুখারী-কিতাবুস সালাত)

অতএব, যে সব উলামা বিপরীত কথা বলে থাকে তাদের কাছে আমার নিবেদন, নিজেদের (মনগড়া) ইসলামকে প্যাটেন্ট করবেন না। এমন ইসলাম উপস্থাপন করবেন না, যা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল (সা.)-এর দেয়া সংজ্ঞা বিরোধী। মহানবী (সা.) প্রদত্ত সংজ্ঞাই ইসলামের সংজ্ঞা। এ সংজ্ঞা মোতাবেক মহানবী (সা.) আমাদেরকে মুসলমান আখ্যা দিয়েছেন, এরপর আমাদের আর কোন মৌলভী এবং কোন সংসদের সার্র্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।

এ প্রসঙ্গে আমি আরেকটি কথাও বলে দিতে চাই, সম্প্রতী কোন পত্রিকার বরাতে কেউ আমাকে একটি সংবাদ পাঠিয়েছে। সে এর ফটোকপি বা প্রিন্ট আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। আহমদীদের মাঝে আমাকে এমন খবর সম্পর্কে অবহিত করা অথবা খুব সম্ভব আমার মতামত জানার আগ্রহ থাকে। সংবাদটি হল, এম.কিউ.এম নেতা আলতাফ হোসেন সাহেব সম্পর্কিত, যিনি আহমদীদের পক্ষ নিয়ে প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট বিবৃতি দিয়েছেন, আর পাকিস্তানে আহমদীদের সাথে যেসব যুলুম-নির্যাতন হচ্ছে, প্রকাশ্যে এর সমালোচনা করেছেন; এবং বলেছেন (আহমদীদের বিরুদ্ধে) অন্যায় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, অন্যায়াচরণ করা হচ্ছে। এ সংবাদ যখন প্রেসে পৌঁছে, যেহেতু সাংবাদিকরা কোন সংবাদকে সেনসেশনাল (আলোচিত) করার ব্যাপারে অতিউৎসাহী হয়ে থাকে; তাই সম্ভবত এতে এটি যুক্ত করে দেয়া হয়েছে যে, লন্ডনে মির্যা মসরূর আহমদ ও আলতাফ হোসেনের মাঝে মিটিং হয়েছে। আর তারা পাঞ্জাব ও পাকিস্তানে এম.কিউ.এম-কে কীভাবে চাঙ্গা করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করেছে।

আলতাফ হোসেন সাহেবের বিবৃতির যতটুকু সম্পর্ক, আমার মতে প্রতিটি দেশপ্রেমিক পাকিস্তানী নাগরিক এটা চাইবে যে, দেশে শান্তি ফিরে আসুক, মোল্লাতন্ত্রের অবসান ঘটুক, ফির্কাবাজি এবং ধর্মীয় ঘৃণা-বিদ্বেষ দেশ থেকে দূরীভূত হোক। অত্যন্ত আনন্দের কথা, আলতাফ হোসেন সাহেব এমন বিবৃতি দিয়েছেন এবং সাহসিকতা প্রদর্শন করেছেন বলে আমি খুশি হয়েছি, বরং এবার বেশ ভাল বিবৃতি দিয়ে যথেষ্ট সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, এত্থেকে প্রমাণ হয় যে, তিনি দেশে শান্তি দেখতে চান - সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মীয় হিংসা-বিদ্বেষ বিদূরিত করতে চান যাতে দেশের উন্নতি হয়। আমরা কারো নিয়্যতের ব্যাপারে সন্দেহ করতে পারি না কেননা আল্লাহ্ তা’লাই নিয়্যত সম্পর্কে ভাল জানেন। আল্লাহ্ তা’লা তাকে সদুদ্দেশ্য অর্জনে সফল করুন এবং কখনও তিনি যেন রাজনীতি বা রাজনৈতিক বলির পাঠা না হন। কিন্তু গতকাল রাতেই যখন আমি খবর দেখার জন্য টেলিভিশন চালু করি তখন সংবাদে বলা হয়, খতমে নবুয়ত সংগঠনের উলামাদের উদ্দেশ্যে তিনি যে বক্তব্য প্রদান করেছেন এতে তারা আশ্বস্ত হয়েছে। খতমে নবুয়ত সংগঠনের আলেমদের রক্ষণশীল মনোভাব ছিল, আর তার এই বিবৃতির পর এখন তা দূর হয়ে গেছে। আমি বিস্তারিত দেখি নি, কি সংশয় ছিল আর কি-করেইবা তা দূর হলো; কিন্তু মনে হয় তিনি এমন কোন বিবৃতি দিয়েছেন যাতে মৌলভীরা আনন্দিত হয়েছে। মৌলভীদের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সম্প্রতী সংবাদপত্রে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি ছিল যে, আমি চাই অমুক-অমুক কাজ হয়ে যাক কিন্তু উলামাদের ভয় পাই। এই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার বহর।

আর আমার মিটিং এর যতটুকু প্রশ্ন, যেভাবে আমি বলেছি সাংবাদিকরা আলোচিত করার উদ্দেশ্যে দিবা স্বপ্নও দেখে থাকে। যদি কোন মিটিং হতো তাহলে যেভাবে আলতাফ হোসেন সাহেব বিবৃতি দিচ্ছেন তাতে সম্ভবত এটিও তিনি বলে দিতেন যে, আমার সাথে মিটিং হয়েছে। তবে আমি একথা অবশ্যই বলবো, যে-ই দেশকে বাচাঁনোর এবং ঘৃণার এই দেয়াল সমূহ ভাঙ্গার চেষ্টা করবে আল্লাহ্ তা’লা তাকে সফল করুন। আমরা দেশকে ভালবাসি, আমরা দেশ গড়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছি এবং প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্যও সব ধরনের কুরবানী করে যাচ্ছি ও করে যাবো, ইনশাআল্লাহ্। প্রত্যেক আহমদী এই দোয়া করা উচিত, যাতে আল্লাহ্ তা’লা দেশে ভাল নেতৃত্ব সৃষ্টি করেন।

আহমদীদের উপর নিপিড়ন-নির্যাতন এবং এটি প্রতিহত করার বিষয়টি আমরা আমাদের খোদার তা’লার নিকট সোপর্দ করেছি। আমরা যদি নির্ভৃতে কথা বলি, তবে তা শুধু প্রিয় প্রভুর সাথে। আর আমরা এ দৃঢ় বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত, আহমদীয়াতের পক্ষ্যে খোদা তা’লা যে পরিকল্পনা প্রনয়ণ করবেন এবং করছেন তার সামনে সকল মানবীয় চেষ্টা-প্রচেষ্টা তুচ্ছ। পাকিস্তানে এবং সমগ্র ইসলামী বিশ্বে জামাতে আহমদীয়ার পক্ষ্যে সেই ঐশী পরিকল্পনা অবশ্যই, অবশ্যই অত্যন্ত মহিমার সাথে পরিপূর্ণতা লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ্ তা’লা। প্রকৃত মুসলমান কে এবং ইসলামের জন্য কারা সত্যিকার দরদ রাখে তা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যাবে।

অতএব আমি আহমদীদেরকে বলছি, বিশেষভাবে পাকিস্তানী আহমদীদেরকে - তারা দেশে বিদেশে যেখানেই থাকুন না কেন, আপনারা দেশের জন্য দোয়া করুন, আল্লাহ্ তা’লা এ লোকদেরকে শুভ বু্িদ্ধ দিন এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে তারা যে খেলায় মেতেছে তাত্থেকে যেন দেশ মুক্ত হয়। অনুরূপভাবে অন্যান্য মুসলমান দেশ ও আরব দেশসমূহে বসবাসকারী আহমদীদেরও রমযানের এই বিশেষ দিনগুলোতে যা দোয়া গৃহীত হবার ও আল্লাহ্ তা’লার নৈকট্য লাভের দিন, দোয়া করা উচিত আল্লাহ্ তা’লা সত্ত্বর যেন তাঁর ‘তক্বদীরে মুবরাম’ (অটল বিধান) প্রকাশ করেন।

এবার আমি সেই আয়াতের বর্ণিত বিষয়বস্তুর দিকে ফিরে আসছি যা আমি তেলাওয়াত করেছি। মুসলমানের সংজ্ঞা বর্ণনা করতে কিছুটা সময় লেগে গেছে, তবে একথাগুলো বর্ণনা করাও আবশ্যক ছিল।

আল্লাহ্ তা’লা যা বলেছেন: لَوْ اَنْزَلْنَا هٰذَا الْقُرْاٰنَ عَلٰى جَبَلٍ لَّرَاَيْتَهٗ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللّٰهِ‌ؕ ؕ (সূরা আল্ হাশ্‌র: ২২)-এর তফসীর করতে গিয়ে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন:

‘প্রথমতঃ এর অর্থ হলো, কুরআন শরীফের প্রভাব এমনই, যদি এটি পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ হতো তাহলে পাহাড় খোদার ভয়ে টুকরো-টুকরো হয়ে যেত এবং মাটির সাথে মিশে যেতো। জড় বস্তুর উপর এর এমন প্রভাব থাকা সত্ত্বেও যেসব মানুষ এর প্রভাব থেকে লাভবান হয় না, তারা কতই না নির্বোধ। দ্বিতীয়তঃ এর অর্থ হল, দু’টি বৈশিষ্ট্য নিজের মাঝে সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত কোন ব্যক্তি ঐশী ভালবাসা ও ঐশী সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে না। প্রথমতঃ অহংকার পরিত্যাগ করা, যেভাবে উন্নত শিরে দাঁড়ানো পাহাড় ধ্বসে পড়ে মাটির সাথে মিশে যায়, তেমনিভাবে মানুষকে সকল প্রকার অহংকার ও নোংরা চিন্তা-ভাবনা পরিহার করে বিনয় ও দীনতা অবলম্বন করা উচিত। এছাড়া তার পূর্বের সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়া উচিত, যেভাবে পাহাড় ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়, ইট থেকে ইট পৃথক হয়ে যায়, তেমনিভাবে সে তার পূর্বের সম্পর্কসমূহ যা নোংরামী ও ঐশী অসন্তুষ্টির কারণ ছিল তা থেকে পুরোপুরি সম্পর্কচ্ছেদ করা। এখন তার সাক্ষাত, বন্ধুত্ব ও শক্রতা যেন শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র জন্য হয়ে যায়।’

(আল্ হাকাম ৫ম খন্ড, ২১ নাম্বার, ১০ জুন, ১৯০১-পৃ:৯-তফসীর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.), ৪র্থ খন্ড-৩৩৮ নাম্বার)

অতএব, এই অহংকারকে চূর্ণ-বিচুর্ণ করা আর স্বীয় হৃদয় ভূমিকে সমতল করা প্রয়োজন। আমি পুনরায় ঐসব নামধারী আলেমদের বলবো, কথা ঘুরে ফিরে সেখানেই আসে, যতক্ষণ পর্যন্ত হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর মোকাবেলায় নিজেদের অহংকার পরিত্যাগ করতঃ মাথা নত না করবে, (ততক্ষণ) কুরআন ও ইসলামের এমন হাস্যস্কর সংজ্ঞা-ই দিতে থাকবে। (কেননা) বর্তমানে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের সাথে ভালবাসা রাখার দাবি করতে চাইলে, যুগ ইমামের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা আবশ্যক। এরপর দেখবে পূর্ব-পশ্চিম আর উত্তর-দক্ষিণে তোমাদেরকে কিরূপ সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হয়। তবেই তোমরা মহানবী (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ আল্লাহ্ তা’লার এই পবিত্র বাণীর রহস্য ও ইশারা বুঝতে সক্ষম হবে, এর বুৎপত্তি তোমরা লাভ করবে। কেননা, পবিত্র কুরআন বোঝার জন্যও খোদা তা’লার মনোনীতের প্রয়োজন হয়ে থাকে। যেভাবে স্বয়ং আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন:

اِنَّهٗ لَـقُرْاٰنٌ كَرِيْمٌۙ‏ فِىْ كِتٰبٍ مَّكْنُوْنٍۙ‏

অর্থাৎ ‘নিশ্চয়ই এটি মহা সম্মানিত কুরআন। যা এক গুপ্ত সুরক্ষিত কিতাবে আছে। পবিত্ররা ছাড়া কেউ একে স্পর্শ করতে পারবে না।’

(সূরা আল্ ওয়াকে’আ: ৭৮-৮০)

এ আয়াতগুলোতে যেখানে অমুসলমানদের সামনে পবিত্র কুরআনের সম্মান ও মাহাত্ম্যের বহিঃপ্রকাশ করা হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে যে, এর এক গভীর মাহাত্ম্য আছে। এমন এক গ্রন্থ যা অমূল্য ধনভান্ডার, যার শিক্ষা সুরক্ষিত। অর্থাৎ অবতীর্ণ হবার সময় থেকে এটি সুরক্ষিত রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু যে পবিত্র হৃদয় নিয়ে এ থেকে লাভবান হওয়া পছন্দ করবে সেই কল্যাণমন্ডিত হবে। একই সাথে মুসলমানদের জন্যও এতে উপদেশ রয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত পবিত্র হৃদয় নিয়ে এর উপর আমল না করবে আর পরিপূর্ণরূপে এর তাৎপর্য অনুধাবন না করবে এবং এই গুপ্ত রত্নভান্ডারকে অর্জন করার জন্য সেসব পবিত্রাত্মার অন্বেষণ না করবে, যাদেরকে খোদা তা’লা বুৎপত্তি দান করেছেন বা করেন; ততক্ষণ পর্যন্ত শুধুমাত্র মুসলমান হলেই এ থেকে কল্যাণমন্ডিত হওয়া যাবে না। আর এ যুগে মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী ও খোদা তা’লার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগমনকারী মসীহ্ ও মাহদীর-ই এই মর্যাদা লাভ করার কথা ছিল এবং লাভ করেছেন। আর খোদা তা’লা কাছ থেকে সরাসরি জ্ঞান লাভ করে তিনি (আ.) এই মহান কিতাবের রহস্যাবলী উন্মোচন করেছেন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) এ বিষয়ের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন:

‘কুরআনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জ্ঞান ও তত্ত্বাবলী কেবল তার সামনেই উন্মোচিত হয়, যাকে পবিত্র করা হয়েছে।’

(বারাকাতুদ্ দোয়া-রূহানী খাযায়েন-৬ষ্ঠ খন্ড-পৃ:১৮)

‘অতএব এসব আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কুরআন বুঝার জন্য এমন এক শিক্ষকের প্রয়োজন আছে যাকে খোদা তা’লা নিজ হাতে পবিত্র করেছেন। কুরআন শিক্ষার জন্য যদি শিক্ষকের কোন প্রয়োজন না হতো তাহলে প্রাথমিক যুগেও প্রয়োজন ছিল না।’ তিনি (আ.) বলেন, ‘এটি বলা যে, শুরুতে কুরআনের কঠিন বিষয়াবলী সমাধানের জন্য একজন শিক্ষকের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু এখন যেহেতু সমাধান হয়ে গেছে তাই শিক্ষকের আর প্রয়োজন কি? এর উত্তর হল, সমাধানকৃত বিষয়ও কিছুকাল পর পুনরায় সমাধানের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে। এছাড়া প্রত্যেক যুগে উম্মতকে নতুন নুতন সমস্যাবলীর সম্মুখীনও হতে হয়।’

এখন দেখুন! উম্মতে তা কার্যতঃ দেখাও যাচ্ছে। এক সময়ে পবিত্র কুরআনের কয়েক’শ আয়াতকে রহিত বলে মনে করা হতো। অতঃপর আল্লাহ্ তা’লার পবিত্র বান্দা, যাঁকে তিনি জ্ঞান দিয়েছেন, তিনি সেগুলোর সমাধান করেন, আর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.), এসব সমস্যার সমাধান করেন। অতএব, শিক্ষকের আবশ্যকতা ইসলামের ইতিহাস থেকেও প্রমাণিত। এত যে ফির্কাবাজী তার কারণ হলো, প্রত্যেকে নিজ নিজ পছন্দ ও রুচি অনুসারে যা বুঝেছে তাকেই চূড়ান্ত কথা মনে করে এর উপর অনুশীলন করেছে আর তার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বড় বড় সমস্যার কথা বাদ দিন; ওযু সম্বন্ধেও মুসলমানদের মাঝে বিভিন্ন মতবিরোধ দেখতে পাওয়া যায়, অথচ পবিত্র কুরআনে এ সম্বন্ধে পরিষ্কার দিক নির্দেশনা রয়েছে।

যাই হোক, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) আরো বলেছেন:

‘কুরআন সকল জ্ঞানের সমষ্টি।’ অর্থাৎ সর্বপ্রকার জ্ঞান এতে পাওয়া যায়। ‘কিন্তু একই যুগে এর সকল জ্ঞানভান্ডার প্রকাশিত হওয়া আবশ্যক নয়, বরং যখন যে সমস্যাবলীর উদ্ভব হয় তদনুযায়ী কুরআনের (সে সম্পর্কিত) জ্ঞান প্রকাশিত হয় এবং প্রত্যেক যুগের সমস্যা অনুযায়ী সেসব সমস্যার সমাধানকারী আধ্যাত্মিক শিক্ষক প্রেরণ করা হয়।’

(শাহাদাতুল কুরআন -রূহানী খাযায়েন-৬ষ্ঠ খন্ড-পৃ:৩৪৮)

অতঃপর তিনি (আ.) খুতবা ইলহামীয়াতে বলেছেন,

‘বলা হয়, মসীহ্ ও মাহদীর কোন প্রয়োজন আমাদের নেই, বরং কুরআনই আমাদের জন্য যথেষ্ট - আর আমরা সঠিক পথে আছি। অথচ তারা জানে, কুরআন এমন একটি কিতাব, পবিত্র ব্যক্তি ব্যতিরেকে অন্য কারো বোধবুদ্ধি এর অন্তর্নিহিত তত্ত্ব উদঘাটন করতে পারে না। এ কারণে এমন একজন মুফাস্সের (ব্যাখ্যাকারক) এর প্রয়োজন পড়েছে, যাকে খোদা তা’লা স্বহস্তে পবিত্র করেছেন এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টি দিয়েছেন।’

(খুতবা ইলহামীয়া -রূহানী খাযায়েন-১৬তম খন্ড-পৃ:১৮৩-১৮৪, রাবওয়াহ্ থেকে প্রকাশিত; তফসীর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-৪র্থ খন্ড-পৃ:৩০৯)

বর্তমানে মুসলমানদের এই দুরাবস্থার কারণ হচ্ছে, তারা তাঁকে {হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে} মানতে অস্বীকার করছে যাকে খোদা তা’লা মনোনীত (প্রেরণ) করেছেন, যিনি খোদা তা’লা কর্তৃক জ্ঞান প্রাপ্ত হয়ে এসেছেন এবং এ যুগে তিনি আমাদের সামনে কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। অতএব মুসলমানদের অস্তিত্বের নিশ্চয়তা এবং উম্মতের সম্মান ও মর্যাদা কেবল মহানবী (সা.)-এর সত্যিকার প্রেমিককে মানার ও তাঁর কথার উপর আমল করার মাঝেই নিহিত।

তিনি (আ.) এক স্থানে বলেন:

‘সত্য কথা হচ্ছে, প্রতিশ্রুত মসীহ্ ও মাহদী যুদ্ধ-বিগ্রহের ধারা বন্ধ করবেন; আর কলম, দোয়া ও খোদার প্রতি মনোযোগের মাধ্যমে ইসলামের জয় ঢাক বাজাবেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, মানুষ এ বিষয়টি বুঝতে পারে না, কারণ পার্থিবতার প্রতি তাদের যতটা মোহ বা আকর্ষণ আছে, ধর্মের প্রতি ততটুকু নেই। পার্থিব অপবিত্রতা ও পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত থেকে কীভাবে এই প্রত্যাশা করতে পারে যে, তাদের জন্য পবিত্র কুরআনের তত্ত্বজ্ঞান উম্মোচিত হবে? সেখানে (কুরআনে) পরিষ্কার লেখা আছে, لَايَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ ।’

(মলফুযাত-৪র্থ খন্ড-পৃ:৫৫৩-রাবওয়াহ্ থেকে প্রকাশিত)

এটি যেখানে সাধারণ মুসলমানদের জন্য চিন্তার বিষয়, সেখানে আমরা যারা আহমদী মুসলমান তাদেরও নিজ নিজ দায়িত্বের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে। অতএব, এই বরকতপূর্ণ মাসে প্রত্যেক আহমদীকে খোদা তা’লার দরবারে এ দোয়াও করা উচিত, আমাদের হৃদয় সমূহকে এমনভাবে পবিত্র করো, যাতে পবিত্র কুরআনের আশিস সমূহ হতে আমরা সেভাবে কল্যাণ লাভ করতে পারি, যেভাবে খোদা তা’লা একজন সত্যিকার মু’মিনের কাছে প্রত্যশা করেন; আর এ যুগে যার ব্যাখ্যা আল্লাহ্ তা’লা কর্তৃক প্রেরিত পুরুষ আমাদের সামনে বর্ণনা করেছেন।

আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য, শিক্ষা ও এর মর্যাদা সম্বন্ধে কুরআন করীমের অনেক স্থানে যা বর্ণনা করেছেন, এর কতক দৃষ্টান্ত আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি; সত্যিকার অর্থে গোটা কুরআনই এই বর্ণনায় পরিপূর্ণ। যারা পবিত্র কুরআনের অনুপম শিক্ষামালার উপর অনুশীলনকারী হবে তারা কি মর্যাদা লাভ করবে?

যে ব্যক্তি পবিত্র হৃদয়ে এটি বুঝে এবং বোঝার চেষ্টা করে তার মর্যাদাও অনেক বড়। এ সম্বন্ধে একটি বর্ণনায় এসেছে, সাহ্ল বিন মা’আয জোহনী তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন,

‘যে ব্যক্তি কুরআন পড়েছে এবং তার উপর আমল করেছে, কিয়ামত দিবসে তার পিতা-মাতাকে এমন দু’টি মুকুট পড়ানো হবে যার দ্যুতি সূর্যের আলোর চাইতেও উজ্জল হবে, যা তাদের পার্থিব ঘর (কে আলোকিত) করতো।’

(সূনান আবু দাউদ-কিতাবুস্ সালাত)

তার পিতা-মাতা যদি এ মর্যাদার অধিকারী হয় তাহলে ভেবে দেখুন! যে কুরআনের প্রতি আমল করেছে সে-ই ব্যক্তির মর্যাদা কিরূপ হবে?

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) একথা বলেছেন,

‘যারা কুরআনকে সম্মান করবে, তারা আকাশে সম্মান লাভ করবে।’

(কিশতিয়ে নূহ্-রূহানী খাযায়েন-১৯তম খন্ড-পৃ:১৩)

এই সম্মান তখনই লাভ হবে, যখন আমরা এর (শিক্ষার উপর) অনুশীলন করবো। এছাড়া এর উপর যে আমল করে তার মর্যাদা আল্লাহ্ তা’লার নিকট কতটুকু, তা উক্ত হাদীস থেকে সহজেই অনুমেয়।

পবিত্র কুরআন পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ ও এর অনিন্দ্য সুন্দর শিক্ষা সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন:

‘যেহেতু পবিত্র কুরআন খাতামুল কুতুব ও আকমালুল কুতুব (সর্বশেষ ও পরিপূর্ণ গ্রন্থ - অনুবাদক) এবং আসমানী গ্রন্থ সমূহের মাঝে অন্যতম ও সুন্দরতম। তাই এর শিক্ষা সমূহের ভিত্তি রেখেছেন - উৎকর্ষের চরম মার্গে। আর এটি সকল অবস্থায় প্রাকৃতিক বিধানকে আইনের বিধানের সাথে সামঞ্জস্য করে দিয়েছে যাতে এটি লোকদেরকে পথভ্রষ্টতা হতে সুরক্ষিত রাখে। আর তিনি এই ইচ্ছা পোষণ করেছেন, সে-ই মানবকে যেন নি¯প্রাণ বস্তুর ন্যায় বানিয়ে দেয় যা স্বয়ং ডানে-বামে নড়া-চড়া করতে পারে না এবং মহাপরাক্রমশালী খোদা তা’লার অনুমতি ব্যতিরেকে কাউকে ক্ষমা করতে পারে না আর না-ই কারো কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারে।’

(খুতবা ইলহামীয়া -রূহানী খাযায়েন-১৬তম খন্ড-পৃ:৩১৬)

অতএব পবিত্র কুরআনের প্রতিটি নির্দেশ পালনের চেষ্টা করার অর্থই হচ্ছে, এর শিক্ষার উপর সত্যিকার আমল করা; তখনই আমলকারী বা পাঠকারীর প্রতিটি পদক্ষেপ ও কর্ম খোদা তা’লার সন্তুষ্টির অধীন বলে গণ্য হবে। এ (কুরআনের) শিক্ষার মধ্যে কঠিন কোন কিছু নেই, বরং এটি হুবহু প্রকৃতি সম্মত। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ্ তা’লা এর উল্লেখ করেছেন। যেমন রোযার নির্দেশাবলীর সাথেই আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন,

يُرِيْدُ اللّٰهُ بِکُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيْدُ بِکُمُ الْعُسْر

অর্থাৎ, ‘আল্লাহ্ তা’লা তোমাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য চান, তোমাদের জন্য কাঠিন্য চান না।’

(সূরা আল্ বাকারা: ১৮৬)

এটি একটি নীতিগত ঘোষণা। কুরআন করীমের শিক্ষা প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এর (শিক্ষার) মধ্যে কেবল স্বাচ্ছন্দ্যই - স্বাচ্ছন্দ্য। তোমাদের শক্তি-সামর্থ অনুযায়ী তোমাদের শিক্ষা দেয়া হয়েছে। আল্লাহ্ তা’লা বলেন, তিনি তোমাদের জন্য কাঠিন্য চান না। এছাড়া এই শিক্ষা সেই উচ্চ ‘মান’ সম্পর্কে তোমাদেরকে অবগত করে, যে ‘মান’ তোমাদেরকে খোদা তা’লার নিকটবর্তী করে দেয়।

অতঃপর একস্থানে আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন,

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْاٰنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ‏

অর্থাৎ ‘নিশ্চয় আমরা উপদেশের জন্য কুরআনকে সহজ করেছি, অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?’

(সূরা আল্ কমর: ১৮)

উপদেশ দিতে হবে বলেই উপদেশ দেয়ার কথা এখানে বলা হয় নি, উপদেশ দিলাম আর সমস্যার নিরসন হয়ে গেল (তা নয়) বরং এর অর্থ এই উপদেশাবলী গ্রহণ করো আর এর প্রতি অনুশীলন করো। যদি মনে করা হয় যে, এটি কঠিন শিক্ষা, তবে তাও ভুল ধারণা। এটি সেই খোদার বাণী যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক মানুষের যোগ্যতা ও সামর্থ সম্বন্ধেও তাঁর জ্ঞান রয়েছে। সেই খোদা এই ঘোষণা করেন, তাঁর উপদেশাবলী এবং কুরআনের শিক্ষার প্রতি আমল করা মানবের সামর্থ এবং হুবহু প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এরপরও কি তুমি এই ভাবনায় পড়ে থাকবে যে, কীভাবে এর প্রতি আমল করবো? এই শিক্ষামালার উপর আমল করো, তাহলে মহানবী (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী অগণিত নিয়ামতরাজির উত্তরাধিকারী বলে গণ্য হবে।

অতঃপর এই কুরআনে পূর্বের জাতি সমূহের ঘটনাবলী এজন্যই বর্ণনা করা হয়েছে যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো, আর খোদা তা’লার সন্তুষ্টি মোতাবেক নিজেদের কর্ম সমূহ সম্পাদন করো, যাতে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের উপর সেসব বিপদাবলী, শাস্তি ও আযাব নেমে এসেছিল তা থেকে রক্ষা পাও।

খোদা তা’লা আরেকটি আয়াতে বলেছেন, এই কুরআন করীমের শিক্ষা চিরন্তন। বলেন,

رَسُوْلٌ مِّنَ اللّٰهِ يَتْلُوْا صُحُفًا مُّطَهَّرَةًۙ‏ فِيْهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌؕ‏

‘আল্লাহর রসূল পবিত্র সহিফা পাঠ করে, তাতে চিরস্থায়ী শিক্ষা সমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।’

(সূরা আল্ বাইয়্যেনাহ্: ৩-৪)

এ সম্বন্ধে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বিভিন্ন স্থানে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করেছেন। একটি বিবরণ আমি পড়ছি। তিনি (আ.) বলেন,

‘কুরআন আনয়নকারী সেই মর্যাদা রাখে যে, رَسُوْلٌ مِّنَ اللّٰهِ يَتْلُوْا صُحُفًا مُّطَهَّرَةًۙ‏ فِيْهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌؕ‏ (সূরা আল্ বাইয়্যেনাহ্: ৩-৪) এমন একটি গ্রন্থ যাতে সকল গ্রন্থ ও সব সত্য বিদ্যমান রয়েছে। কিতাবের সাধারণ অর্থ ঐসব উত্তম কথামালা, যেগুলোকে মানুষ স্বভাবতই অনুসরণ যোগ্য মনে করে।’

(মলফুযাত-১ম খন্ড-পৃ:৫১-৫২-রাবওয়াহ্ থেকে প্রকাশিত)

ঐসব বিষয় যা স্বভাবতই মানুষ আমল ও অনুকরণের যোগ্য মনে করে, আর (আমল) করাও উচিত।

তিনি (আ.) বলেন,

‘কুরআন শরীফ প্রজ্ঞা ও তত্ত্বজ্ঞানের সমষ্টি, আজেবাজে গালগল্পে ভরা কোন ভান্ডার নয়।’ (এতে কোন বেহুদা কথা নেই)। ‘প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিজেই প্রদান করে আর প্রত্যেক প্রয়োজন পূরণের উপকরণ এতে বিদ্যমান রয়েছে। প্রত্যেক দিক থেকে এটি এক দৃষ্টান্ত ও নিদর্শন। কেউ যদি অস্বীকার করে, তবে আমরা প্রত্যেক দিক থেকে এর সত্যতা প্রমাণ করতে ও দেখাতে প্রস্তুত আছি।’ হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) ঐ সময় এই চ্যালেঞ্জ প্রদান করেন। তিনি (আ.) বলেন, ‘বর্তমানে তৌহিদ ও খোদা তা’লার অস্তিত্বের উপর প্রচন্ড আক্রমন হচ্ছে’- (এ যুগে পুনরায় আল্লাহ্ তা’লার অস্তিত্বের বিরুদ্ধে অনেক বেশি বই-পুস্তক লেখা হচ্ছে, তাই বর্তমানে অনেক বেশি পবিত্র কুরআন পাঠ করা প্রয়োজন) তিনি (আ.) বলেন, ‘আজকাল তৌহিদ ও খোদা তা’লার অস্তিত্বের উপর শক্তিশালী আক্রমন হচ্ছে। খ্রিষ্টানরাও শক্তিশালী আক্রমন চালিয়েছে আর লিখেছে। কিন্তু যা কিছু বলেছে ও লিখেছে, তা ইসলামের খোদার সম্বন্ধেই লিখেছে। কোন মৃত, ক্রুশবিদ্ধ বা দুর্বল খোদার সম্বন্ধে নয়। আমরা দাবীর সাথে বলছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা’লার অস্তিত্ব ও সত্তার বিরুদ্ধে কলম ধরবে, তাকে পরিশেষে ইসলামের খোদার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। কেননা (মানব) প্রকৃতির রন্ধ্রে-রন্ধ্রে তাঁর দেখা মেলে আর প্রকৃতিগতভাবে মানুষ সেই খোদার ছাপই নিজের মাঝে ধারণ করে। মোটকথা, এই সব লোকের পদক্ষেপ যখন উঠবে তখন তা ইসলামের পানেই উঠবে।’ তিনি (আ.) বলেন, ‘এটিও এক মহাসম্মান। যদি কোন ব্যক্তি পবিত্র কুরআনের এই অলৌকিক নিদর্শন অস্বীকার করে, তবে যেন এক দিক দিয়েই আমাদেরকে পরীক্ষা করে নেয়। অর্থাৎ, যদি কোন ব্যক্তি কুরআনকে খোদার বাণী মনে না করে তবে এই আলো এবং বিজ্ঞানের যুগে এমন দাবীকারক খোদা তা’লার অস্তিত্বের পক্ষ্যে দলীল-প্রমাণ দিক পক্ষান্তরে আমরাও পবিত্র কুরআন হতে সে সমস্ত দলীল-প্রমাণ বের করে দেখিয়ে দিবো, আর সেই ব্যক্তি যদি খোদা তা’লার একত্ববাদ সম্পর্কে প্রমাণাদি রচনা করে তবে সেসব দলীল-প্রমাণও আমরা কুরআন থেকেই বের করে দেখিয়ে দিবো। এরপর সে ঐ সব দলীল-প্রমাণের স্বপক্ষ্যে দাবী করে লিখুক যে, এগুলো কুরআনে নেই অথবা ঐসব সত্য বা পবিত্র শিক্ষার পক্ষ্যে দলীল-প্রমাণ লিখুক যা সম্পর্কে তার ধারণা যে, এগুলো পবিত্র কুরআনে নেই। তাহলে এমন ব্যক্তিকে আমরা পরিষ্কার ভাবে দেখিয়ে দিবো যে, কুরআনের দাবী: فِيهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌ (সূরা আল্ বাইয়্যেনাহ্: ৪) কত সত্য এবং সুস্পষ্ট। অথবা আসল এবং প্রকৃতি সম্মত ধর্ম সম্পর্কে দলীল-প্রমাণ লিখতে চাইলে আমরা সব দিক থেকে পবিত্র কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে দেখাবো এবং সমস্ত সত্য ও পবিত্র শিক্ষা যে এর মাঝে বিদ্যমান আছে তা জানিয়ে দেবো। মোটকথা, পবিত্র কুরআন এমন এক কিতাব যাতে সকল প্রকার তত্বজ্ঞান এবং সূক্ষ্ম রহস্যাবলী সন্নিবেশিত রয়েছে, কিন্তু তা অর্জন করার জন্য আমি পুনরায় বলছি, সেই পবিত্রকরণ শক্তির প্রয়োজন। যেভাবে আল্লাহ্ তা’লা স্বয়ং বলে দিয়েছেন: لَايَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ (সূরা আল্ ওয়াকে’আ: ৮০)।’

(মলফুযাত-১ম খন্ড-পৃ:৫১-৫২-রাবওয়াহ্ থেকে প্রকাশিত)

অতএব এটি সেই পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ এবং হেদায়াতের ভান্ডার, যার পাঠকারী এবং (শিক্ষার উপর) আমলকারী সর্বদা আল্লাহ তা’লার কৃপায় হেদায়াতের পথে পরিচালিত থাকে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) যে চ্যালেঞ্জ প্রদান করেছিলেন, তা আজও বলবৎ রয়েছে। বরং তাঁর অনুসারীরাও এর প্রতি অনুশীলন করে বিশ্বে প্রমাণ করেছে যে, পবিত্র কুরআনের সত্যতা সর্বকালের জন্য।

ড. আব্দুস সালাম সাহেব যে মতবাদ উপস্থাপন করেছিলেন, তাও খোদা তা’লার একত্ববাদ এবং পবিত্র কুরআনের সত্যতাই প্রমাণ করে। অতএব, আজও যেসব আহমদী বিজ্ঞানী ও গবেষক রয়েছেন তারাও এ সত্যকে দৃষ্টিপটে রেখে চিন্তা-ভাবনা বা অভিনিবেশ করুন তাহলে খোদা তা’লা স্বয়ং আপনাদেরকে পথ দেখাবেন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’লা হেদায়াত লাভের ব্যাপারে বলেন, কুরআনী শিক্ষা অনুযায়ী এতে আধ্যাত্মিক হেদায়াতও আছে আর ভবিষ্যতে প্রকাশিতব্য জ্ঞানের পানে পথ প্রদর্শনের নির্দেশনাও বিদ্যমান রয়েছে, আল্লাহ্ বলেন:

وَاَنْ اَتْلُوَا الْقُرْاٰنَ‌ۚ فَمَنِ اهْتَدٰى فَاِنَّمَا يَهْتَدِىْ لِنَفْسِهٖ‌ۚ

‘এবং কুরআন পাঠ করো, সুতরাং যে হেদায়াত পায় সে মূলত: নিজের জন্যই হেদায়াত পায়।’

(সূরা আন্ নাম্ল: ৯৩)

অত:পর, তিলাওয়াত করার ফলে পবিত্র কুরআনে হেদায়াত দেখতে পাবে। কিন্তু, সব ধরনের হেদায়েত কেবল সেই পেতে পারে যার ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ অর্থাৎ যে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হবে। কুরআন বুঝার জন্যও পবিত্র হওয়া শর্ত; অন্যথায় বুঝতে পারবে না।

এছাড়া পবিত্র কুরআনের আর একটি দাবী হলো, এতে সবকিছু সংরক্ষিত আছে। মৌলিক নৈতিকতা অর্থাৎ চারিত্রিক শিক্ষা থেকে আরম্ভ করে উচ্চ পর্যায়ের জ্ঞান পর্যন্ত সবকিছুই এই সুরক্ষিত গ্রন্থে সুপ্তভাবে নিহিত আছে। যেভাবে আল্লাহ্ তা’লা সুরা ইউনুসে বলেন,

وَمَا تَكُوْنُ فِىْ شَاْنٍ وَّمَا تَتْلُوْا مِنْهُ مِنْ قُرْاٰنٍ وَّلَا تَعْمَلُوْنَ مِنْ عَمَلٍ اِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُوْدًا اِذْ تُفِيْضُوْنَ فِيْهِ‌ؕ وَمَا يَعْزُبُ عَنْ رَّبِّكَ مِنْ مِّثْقَالِ ذَرَّةٍ فِىْ الْاَرْضِ وَلَا فِىْ السَّمَآءِ وَلَاۤ اَصْغَرَ مِنْ ذٰلِكَ وَلَاۤ اَكْبَرَ اِلَّا فِىْ كِتٰبٍ مُّبِيْنٍ‏

‘এবং তুমি যে কোন কাজে ব্যস্ত থাকো না কেনো এবং তার পক্ষ থেকে সমাগত কুরআনের যে কোন অংশ আবৃতি করো না কেন এবং তোমরা, হে মু’মিনগণ! যে কোন কাজ করো না কেন আমরা অবশ্যই তার উপর সাক্ষী থাকি, যখন তোমরা তাতে মুগ্ধ থাকো। আর তোমার প্রভূর দৃষ্টি থেকে অনু পরিমান বস্তুও পৃথিবীতে এবং আকাশে গোপন নেই আর এর চেয়ে ছোট বা এর চেয়ে বড় তা সব এক উজ্জল কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।’

(সূরা ইউনুস: ৬২)

উক্ত আয়াত, আল্লাহ্ তা’লার মহিমার বহিঃপ্রকাশ, প্রত্যেক বস্তুর প্রতি আল্লাহ্ তা’লার দৃষ্টির বহিঃপ্রকাশ। দৃশ্য-অদৃশ্য, দূরবর্তী-নিকটবর্তী এবং ছোট-বড় সবকিছুই আল্লাহ্ তা’লা জ্ঞাত। অতএব এই ঘোষণা; মু’মিন, অ-মু’মিন এবং মুসলমান ও কাফির সবার জন্যই সমান, এই মহান কিতাব সম্যক জ্ঞানের অধিকারী খোদার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে, আর এতে সকল প্রকার জ্ঞান, ঘটনাবলী, সতর্কবাণী এবং এর মান্যকারীদের দায়-দায়িত্ব সম্বন্ধেও বলা হয়েছে। এটি আল্লাহ্ তা’লার বিশেষ গ্রন্থ, এ কারণেই এ কিতাব অবতীর্ণ হবার পর আল্লাহ্ তা’লা এর সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন। এটি নাযিল হবার পর, এর অস্বীকারকারীরও পলায়নের কোন পথ খোলা নেই এবং এর মান্যকারীদেরও এর (শিক্ষার) উপর অনুশীলন না করার ক্ষেত্রে অজুহাত দেখানোর কোন উপায় নেই। তাই মান্যকারীদেরও সর্বদা স্মরণ রাখা উচিৎ, যখন সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছো, তখন নিজেদের ক্বিবলাও (দিক) ঠিক রাখতে হবে। নিজ নিয়্যতকেও সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। আত্মবিশ্লেষণও করতে হবে। কেবল একথা বলা যে, আমরা কুরআন পড়ি আর এটিই যথেষ্ট, এটি যথেষ্ট নয়। কেবল একথা বলা যে, আমরা এর মাধ্যমে বিশ্বকে আমাদের প্রতি আহ্বান করি, এটিও যথেষ্ট নয়; বরং দেখা দরকার, এটি পাঠ করার ফলে আমাদের মাঝে কি-কি পরিবর্তন সাধিত হচেছ। এটিও দেখা দরকার যে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্যরা আমাদের থেকে কি শিখছে, তাদের মধ্যে কিরূপ পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে; ইসলামের প্রতি কতটা তাদের আকর্ষণ জন্মাচ্ছে। আল্লাহ্ তা’লা কারো আত্মীয় নন। তিনি যখন সব কথা সুস্পষ্টভাবে পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করে দিয়েছেন, তিনি যখন আপন প্রতিশ্রুতি মোতাবেক যুগের শিক্ষককে প্রেরণ করেছেন, তাই তাঁর (আ.) মান্যকারীদের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে, যদি তোমরা নিজেদের উপর সেই শিক্ষা কার্যকর করার চেষ্টা না করে থাকো, তবে কেনো করো নি? সে সম্পর্কে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। আর অস্বীকার কারীদেরকেও জবাব দিতে হবে। তাদেরকেও জবাবদিহি করা হবে, যখন এত প্রাঞ্জল শিক্ষা এবং নিদর্শনাবলী প্রকাশ পেয়েছে তা সত্ত্বেও তোমরা যুগ ইমামকে গ্রহণ করলে না কেন? অস্বীকারকারীদের যতটুকু সম্পর্ক, তাদের বিষয় আল্লাহ্‌র হাতে ন্যস্ত। তিনি কী ব্যবহার করবেন (তা তিনিই ভাল জানেন)। কিন্তু আমাদেরকে নিজেদের বিষয় পরিষ্কার রেখে এই কিতাব পাঠ করা এবং এর প্রতি অনুশীলন করার চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এর তৌফিক দান করুন।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) পবিত্র কুরআনের কল্যাণাদি উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:

‘আমাদের কাছে যদি কুরআন না থাকতো, আর হাদীসের এসব সংকলন আমাদের গৌরবময় বিশ্বাস ও ঈমানের মূল ভিত্তি হতো, তবে আমরা লজ্জায় অন্যান্য জাতিকে মুখও দেখাতে পারতাম না। আমি যখন কুরআন শব্দ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলাম, তখন আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে, এই বরকতময় শব্দে এক মহান ভবিষ্যদ্বাণী আছে আর তা হলো, এই কুরআনই পাঠযোগ্য একমাত্র গ্রন্থ। আর এক যুগে এটি-ই সবচেয়ে বেশী পঠিত কিতাব হবে, যদিও অন্যান্য পুস্তকাদিও এর সাথে পড়া হবে, সে সময় ইসলামের সম্মান রক্ষার্থে এবং মিথ্যার মূল উৎপাটনের জন্য কেবল এই কিতাবটি-ই পাঠের যোগ্য থাকবে এবং অন্যান্য কিতাব নিশ্চিতরূপে পরিত্যাজ্য হবে। ফুরকানেরও এই একই অর্থ, অর্থাৎ এই একটি কিতাবই সত্যকে - মিথ্যা থেকে পৃথককারী সাব্যস্ত হবে। আর কোন কিতাব বা হাদীস এ মর্যাদার সমকক্ষ হবে না। তাই অন্য সকল গ্রন্থ পরিত্যাগ করো আর রাত দিন আল্লাহ্‌র কিতাব পড়। সে ব্যক্তি বড়ই বেঈমান যে কুরআনের প্রতি মনোযোগ দেয় না বরং অন্যান্য গ্রন্থের প্রতি দিন-রাত ঝুঁকে থাকে। আমাদের জামাতের মনপ্রাণ দিয়ে কুরআনের প্রতি মনোনিবেশ এবং অভিনিবেশে রত থাকা উচিৎ, আর হাদীসের প্রতি মনোনিবেশ পরিহার করা উচিত। বড়ই পরিতাপের বিষয়! যে পবিত্র কুরআনের সেই সম্মান করা হয় না বা মূল্যায়ন করা হয় না যতটা হাদীসকে করা হয়। এখন পবিত্র কুরআনের অস্ত্র হাতে নাও কেননা, এতেই তোমাদের বিজয় নিহিত, এই আলোর সামনে কোন অন্ধকার দাঁড়াতে পারবে না।’

(মলফুযাত-১ম খন্ড-পৃ:৩৮৬-নবসংস্করণ)

এখানে একটি ব্যাখ্যা উপস্থাপন করি, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন,

‘হাদীস পরিত্যাগ করো আর কুরআন পড়’, কিন্তু অন্য স্থানে বলেছেন, ‘কেবল হাদীসের উপরে ভরসা করো না বরং যেসব হাদীস কুরআন সম্মত তা গ্রহণ করো আর বাকীসব পরিহার করো।’

(ইযালায়ে আওহাম-রূহানী খাযায়েন-৩য় খন্ড-পৃ:৪৫৪)

এরপর তিনি (আ.) বলেন,

‘পবিত্র কুরআনকে বাদ দিয়ে সফলতা লাভ করা অসম্ভব এবং অবাস্তব বিষয়, আর এমন সফলতা যার সন্ধানে এরা লেগে আছে তা অলিক বিষয়। সাহাবাদের (রা.) দৃষ্টান্ত নিজেদের সামনে রাখো। দেখো! তারা যখন খোদার রসূল (সা.)-এর অনুসরণ করেছেন এবং ধর্মকে, পার্থিব বিষয়াদীর উপর অগ্রাধিকার প্রদান করেছেন, তখন তাদের সাথে কৃত আল্লাহ্ তা’লার ঐসব প্রতিশ্রুতি পূর্ণতা পেয়েছে। প্রাথমিক যুগে বিরোধীরা হাসি-ঠাট্টা করে বলতো, স্বাধীনভাবে বাইরে চলাফেরার মুরোদ নেই আবার বাদশাহ্ হবার দাবী করছে। কিন্তু দেখো, মহানবী (সা.)-এর আনুগত্যে বিলীন হয়ে তারা তা লাভ করেছে যা শত-শত বৎসরেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি।’

(মলফুযাত-১ম খন্ড-পৃ:৪০৯, রাবওয়াহ্ থেকে প্রকাশিত)

অতএব, আজও পবিত্র কুরআনের শিক্ষার উপর আমলের মাঝেই আমাদের বিজয় নিহিত। আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এর তৌফিক দান করুন। আর আহমদীয়াতের বিজয়কে নিকটতর করুন।

এখন একটি দুঃখজনক সংবাদও দিতে চাই। আমাদের কানাডার একজন মোবাল্লেগ সিলসিলাহ্ মুকাররাম মুহাম্মদ তারেক ইসলাম সাহেব দু’দিন পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন, إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ । মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তার যকৃত বা Spleen ক্যান্সার হয়েছিল আর এ রোগেই তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। কয়েক দিন অসুস্থ্য থাকার পর তিনি মারা গেলেন। তিনি ১৯৭৮ সালে শাহেদ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, এরপর পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছেন। এরপর তিনি ওকালাতে উলিয়া রাবওয়াহ্‌র কেন্দ্রীয় দপ্তরেও কাজ করেছেন। তাকে ইতালী প্রেরণ করা হয়েছিল, কিন্তু ভিসা না পাবার কারণে কয়েক মাস পরেই ফিরে আসেন। এরপর ওকালাতে তবশীরে কাজ করেছেন। ১৯৯৩ সাল থেকে কানাডাতে খিদমত করছিলেন। ভ্যাঙ্কুভার ও ওটোয়াতে মুরব্বী হিসেবে কাজ করছিলেন। অত্যন্ত্য মিশুক, স্নেহশীল এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। নিজের আত্মীয়-স্বজন এবং গরিবদের প্রতি খুবই যত্নবান ছিলেন। জামাতী রীতি-নীতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন আর আনুগত্যের ব্যাপারে সদা সচেতন ছিলেন। খিলাফতের প্রতি অগাধ ভালবাসা রাখতেন; এটি তো প্রত্যেক আহমদীর মাঝেই আছে, প্রত্যেক মুরব্বীর ভেতর থাকা উচিৎ আর রয়েছে, কিন্তু অনেকের ভালবাসা হয়ে থাকে অসাধারণ, তিনিও তাদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। কখনো কোন অভিযোগ করতেন না। অত্যন্ত সূক্ষ্ম দৃষ্টি ও কঠোর পরিশ্রম করে সকল কাজ করতেন। কানাডাতে আমার সফর হলে মোলাকাতের জন্য বা অন্যান্য কাজের জন্য প্রাইভেট সেক্রেটারীর দপ্তরে তিনি ডিউটি দিতেন। আর সর্বদা খোশ মেজাজে, অত্যন্ত পরিশমের সাথে কাজ করতেন।

আল্লাহ্ তা’লা তার পদমর্যাদা উন্নীত করুন। তার সাথে ক্ষমার আচরণ করুন। তিনি বিধবা স্ত্রী এবং পাঁচ কন্যা রেখে গেছেন। দু’জনের বিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেছে। তার ছোট মেয়ের বয়স সম্ভবত বার বছর। তাদের জন্য দোয়া করুন, আল্লাহ্ তা’লা তাদের সবাইকে ধৈর্য এবং সাহস দিন আর তাদেরকে স্বীয় নিরাপত্তায় আগলে রাখুন। আমাদের এখানকার মোবাল্লেগ মজীদ সিয়ালকোটি সাহেব - তারেক ইসলাম সাহেবের ভগ্নিপতি হন। তার আর এক ভাই হাফিয তাইয়্যেব আহমদ ঘানাতে আছেন, তিনি জানাযায় অংশ নিতে পারেন নি। আল্লাহ্ তা’লা তার সকল আত্মীয়-স্বজনকে ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল দান করুন। এখন জুমুআর নামাযের পর আমি তার গায়েবানা জানাযা পড়াবো, ইনশাআল্লাহ্।

(জামেয়া আহমদীয়া বাংলাদেশ এবং কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্কের যৌথ উদ্যোগে অনুদিত)

প্রাপ্ত সুত্র: কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে