In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবা

৪৩তম সালানা জলসা, ইউকে -২০০৯

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

হাদীকাতুল মাহ্‌দী, আল্টন, হ্যমশাইয়ার, ইউকে

২৪শে জুলাই, ২০০৯ইং

অতিথি এবং ব্যবস্থাপকদের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

আল্লাহ্ তা’লার অপার কৃপায় আজ জামাতে আহমদীয়া U.K.(যুক্তরাজ্য) এর জলসা সালানা আরম্ভ হচ্ছে। U.K. গত পঁচিশ বছর যাবৎ জামাত এমন জলসার আয়োজন করে থাকে যাকে একদিক থেকে আন্তর্জাতিক জলসা বলা যেতে পারে। কেননা এখানে যুগ খলীফার উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশের আহমদী অতিথিরা তাদের সাধ্য ও সামর্থ অনুযায়ী বেশি বেশি আসার চেষ্টা করেন। এছাড়া অ-আহমদী বন্ধুরাও আসেন যারা জামাতে আহমদীয়াকে পৃথিবীর অন্যান্য ইসলামী বা ধর্মীয় জামাত হতে ভিন্ন মনে করে। আর এ জামাতকে সবার ভেতর স্বতন্ত্র জ্ঞান করে সম্পর্ক রাখেন আর তাদের নেক আকাঙ্খা সমূহ ব্যক্ত করেন আর এখানে এসে বাণী পাঠ করে শুনান। এমন লোকদের একটি শ্রেণী আফ্রিকা ছাড়া অন্যান্য দেশ হতেও এসে থাকেন। আর তারা একটি বিশেষ অনুভূতি নিয়ে ফিরে যান। তাদের অনুভূতি যা আমি প্রত্যেক বছর জলসার পরবর্তী খুতবায় বর্ণনা করে থাকি তা তখন উল্লেখ করা হবে।

এখন আমি কিছু বিষয়ের প্রতি আহমদী বন্ধুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব, যা মেজবান ও অতিথিদের সাথে সম্পর্কযুক্ত; বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আমি অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ এবং হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর জীবনীর আলোকে খুতবায় অতিথি সেবক এবং যারা ডিউটি (দায়িত্বে নিয়োজিত-অনুবাদক) দিচ্ছে তাদের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলি অর্থাৎ আতিথেয়তার পদ্ধতি আমি সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করেছি। আজ আরো কিছু বিষয় বর্ণনা করব যার কতক মেজবানদের জন্য বাকীটা অতিথিদের জন্য। আমি বলে এসেছি এ জলসা এক দিক থেকে আন্তর্জাতিক জলসার রূপ নিয়েছে। এমন সব অ-আহমদী যারা জামাত সম্পর্কে সুধারণা রাখেন তারাও এতে অংশগ্রহণ করেন এবং তিন দিনই বিভিন্ন প্রোগ্রামে নিজ নিজ সময় সুযোগ অনুযায়ী অংশ নেন।

এরপর রয়েছে আমাদের সেসব প্রতিবেশী যাদের কতক আমাদেরকে এখনো সেসব মুসলমানদের মতো মনে করে যাদের সম্বন্ধে সাধারণত ধারণা করা হয় যে, তারা চরমপন্থী। এদের ধারণা অনুসারে এ কারণেই পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে। বাহিরে কোন সভায় যখনই আমি সুযোগ পাই তাদের এই ভুল ধারণা দূর করার চেষ্টা করি যে, ইসলাম গোড়ামীর শিক্ষা দেয় না বরং ইসলামের শিক্ষা প্রেম-প্রীতি ও শান্তির শিক্ষা। এই শিক্ষাকে এ যুগে খুব সুন্দর ও স্পষ্টরূপে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) আমাদের সম্মুখে উপস্থাপন করেছেন।

আমি পূর্বেই বলেছি, ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কিছু কথা বলব। এই দৃষ্টিকোণ থেকে যেসব অ-আহমদী ইসলামী শিক্ষা সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করে আমি তাদের সামনে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর ভাষায় তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করছি যার মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য ও মাহাত্ম্য সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হবে।

তিনি (আ.) বলেন,

‘আমরা যদি পৃথিবীতে যত নবী এসেছেন তাঁদের সবাইকে সত্য নবী জ্ঞান করি তাহলে এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়, নিরাপদ ও শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী ও চারিত্রিক অবস্থার সহায়ক একটি নীতি। তাঁরা ভারতবর্ষ, পারস্য বা চীন অথবা অন্য যে কোন দেশেই এসে থাকুন না কেন, কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আল্লাহ্ তা’লা তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁদের ধর্মের মূলকে প্রথিত করে দিয়েছেন এবং কয়েক শতাব্দী যাবৎ সে ধর্ম চলে এসেছে। এটাই সেই নীতি যা কুরআন আমাদেরকে শিখিয়েছে। এ নীতি অনুযায়ী যাদের জীবন এ সংজ্ঞার আওতায় পড়ে এমন প্রতিটি ধর্মের প্রধান বা নেতাকে আমরা সম্মানের দৃষ্টিতে দেখি। হোন না তাঁরা হিন্দু ধর্মের বা ইরানী ধর্মের বা চীনাদের বা ইহুদি ধর্মের অথবা খৃষ্ট ধর্মের নেতা।’

(তোহ্‌ফা কায়সারীয়া-রূহানী খাযায়েন-দ্বাদশ খন্ড-পৃ: ২৫৯)

এরপর তিনি (আ.) বলেন,

‘ইসলাম সেই পবিত্র ও শান্তিপ্রিয় ধর্ম যা কোন জাতির নেতার উপর আক্রমণ করেনি এবং কুরআন সেই সম্মানযোগ্য গ্রন্থ যা জাতিসমূহের মাঝে শান্তির ভিত রচনা করেছে এবং প্রত্যেক জাতির নবীকে স্বীকার করে। একমাত্র পবিত্র কুরআনই সমগ্র বিশ্বে বিশেষভাবে এ গৌরবের অধিকারী, যা নবীদের সম্পর্কে এই শিক্ষা প্রদান করেছে- وَنَحْنُ لَهٗ مُسْلِمُوْنَ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ اَحَدٍ مِّنْهُمْ(সূরা আলে ইমরান: ৮৫) অর্থাৎ হে মুসলমানগণ! তোমরা বল, আমরা পৃথিবীর সকল নবীদের উপর ঈমান আনি এবং তাদের কাউকে মানবো আর কাউকে অস্বীকার করবো, এই প্রভেদ আমরা তাদের কারো মধ্যে করি না।’

অতএব, অন্যদের সম্মানিত, প্রবীন এবং নবীদের সম্মান করলেই প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসার পরিবেশ গড়ে উঠে। যাঁরা আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে প্রেরিত হন এবং প্রেরিত হবার দাবী করেন অথবা যাদের মান্যকারীরা তাদেরকে খোদার মনোনীত বলে মনে করেন এবং একটি দল তাদের অনুসরণ করে, তাদেরকে সম্মান করুন। সুতরাং এমন শিক্ষা বর্তমান থাকা সত্ত্বেও ইসলামকে গোঁড়া ও সন্ত্রাসী ধর্ম বলা এবং এর উপর ভিত্তি করে সেসব মানুষ সম্পর্কে কু-ধারণা করা এবং তাদের বিরুদ্ধে অকারণে আপত্তি করা শুধু ন্যায়নিষ্ঠার পরিপন্থীই নয় বরং যুলুমও বটে।

তাই আমি আমাদের এমন প্রতিবেশীদের বলবো, যাদের কেউ কেউ বা কারো প্রতিনিধি কোন কোন সময় জুমুআয় এসে থাকেন তাদের মাধ্যমে এ কথা তাদের কাছে পৌঁছে যাবে; যে আমাদের সম্পর্কে সব ধরণের কুধারণা দূর করে নিজেদের হৃদয় পরিস্কার করুন। আমাদের সম্পর্কে বলছি, আমাদের এ আদেশ দেয়া হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের শত্রুর জন্যও হৃদয়কে পরিছন্ন রাখ এবং তার জন্য দোয়া কর। বরং আমাদের ধর্ম অর্থাৎ ইসলাম ধর্মে প্রতিবেশীকে এতটা অধিকার দেয়া হয়েছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবাগণ (রা.) এক সময় এমন ধারণা করেছিলেন যে, কোথাও আমাদের প্রতিবেশীকে আমাদের সম্পদের উত্তরাধিকারী করে না দেয়া হয়।

কাজেই যাদের হৃদয়ে কিছুটা রক্ষণশীলতা রয়েছে তারা যেন নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, কেননা আমরা ‘হাদীকাতুল মাহদী’ নামের এই জমিতে হেদায়াতের বাগান করতে এসেছি, প্রেম-প্রীতি, ভালবাসা ও মানবাধিকারের ফসল বুনতে এসেছি। এর সাথে এমন অনেক ভিন্ন মতাবলম্বিও রয়েছেন যাদের অধিকাংশ আমাদের সাথে সহমর্মীতাপূর্ণ সম্পর্ক রাখেন, আমাদেরকে সব ধরনের সাহায্যের জন্য তারা সর্বদা প্রস্তুত, আমি তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এ দিনগুলোতে আমাদেরকে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, এ ব্যাপারে অনেকেই সাহায্য সহযোগিতা করেছেন এবং এ বছরও জলসা আয়োজনের জন্য আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাই সব আহমদীর তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা উচিত।

দ্বিতীয়তঃ আমি আমার বন্ধু, সহমর্মী এবং সেসব লোকদেরও অর্থাৎ আমাদের সম্পর্কে যাদের সংশয় রয়েছে তাদেরকে বলতে চাই, যেভাবে আমি এখনই বলেছি, সমস্ত ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাদের সম্মানের দৃষ্টিতে দেখাই হল ইসলামের শিক্ষা। আমরা আমাদের ঈমানের কারণে সব নবীর সম্মান করে থাকি। কিন্তু যখন আমাদের নবী এবং আমাদের নেতা ও অভিভাবক হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.) সম্পর্কে পশ্চিমা বিশ্বে বাজে বই-পুস্তক ছাপা হয়; তাঁকে, পবিত্র কুরআনকে, তাঁর পবিত্র সহধর্মীনিদের এবং সাহাবাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অপমান করা হয় তখন মুসলমানরা এর উত্তরে প্রতিক্রিয়া দেখায়। আর যেসব মুসলমান জামাতে আহমদীয়ার অন্তর্ভূক্ত নয়, এবং খিলাফতের নিয়ামত হতে বঞ্চিত, নেতৃত্ব না থাকার কারণে তাদের প্রতিক্রিয়ায় উগ্রতা প্রকাশ পায়।

জামাতে আহমদীয়াও প্রতিক্রিয়া দেখায় তবে আমাদের প্রতিক্রিয়া ইসলামের সুন্দর শিক্ষা ও মহানবী (সা.)-এর উত্তম জীবনাদর্শকে পৃথিবীতে প্রকাশের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যাহোক, প্রাচ্যের নামধারী লেখক ও চিন্তাবিদ বলে অভিহিত কিছু লোক বাজে বই লিখে মুসলমানদের উত্তেজিত করে। আমি এখানকার বিভিন্ন স্তরের লোকদের নিকট যখনই এ কথা বলেছি তারা সর্বদাই এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসা বৃদ্ধির জন্য পরস্পরের আবেগ অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া আবশ্যক।

অতএব আমাদের সে সব প্রতিবেশী যাদের মনে ভুল ধারণা রয়েছে, বাস্তবতাকে সামনে রেখে ন্যায়পরায়ণতার দাবী পূরণের চেষ্টা করুন। আমি যেভাবে বলেছি, আমাদের এখানে আসার উদ্দেশ্যেই হলো প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসার ফসল চাষ করা এবং প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসার মাধ্যমে হৃদয় জয় করা। আমাদের বিরোধিতায়; মানুষ আমাদের সাথে যেমন এবং যে আচরণই করুক না কেন তাদের জন্য সর্বদা আমাদের পক্ষ থেকে থাকবে শুভকামনা।

অন্যদের সম্বোধন করে আমি যে দীর্ঘ বক্তৃতা করলাম এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি আহমদীদের বলছি, আপনারাও নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হোন। এছাড়া অতিথি হিসেবে একটি দায়িত্বতো আছেই যা সম্পর্কে আমি পরে বলবো কিন্তু এছাড়াও প্রত্যেক আহমদীর উচিত সে যেন ডিউটি দেয়, এটিও তার একটি দায়িত্ব। সুতরাং প্রত্যেক আহমদী যারা কোন না কোন ভাবে এ জলসায় যোগদান করেছেন, হোন তিনি পুরুষ বা নারী, যুবক বা বৃদ্ধ, আপনারা নিজেদের এই দায়িত্বকে অনুধাবন করুন।

প্রত্যেক বছর কোন না কোন প্রতিবেশী কোন না কোন ভাবে আপত্তির সুযোগ পেয়ে যায়। যদিও অধিকাংশ মানুষ এই বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞাত এবং বুঝেন যে, এতো বড় একটা সমাবেশে প্রতিটি কাজ শতভাগ নিখূঁত ভাবে সম্পাদিত হওয়া সম্ভব নয়, তারা দুর্বলতা ও ঘাটতি যে থাকতে পারে তা ভুলেই যান। তথাপি আমাদের পক্ষ থেকে এমন চেষ্টা হওয়া উচিত যাতে যারা আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং যারা বর্তমানে সহানভূতিশীল নয়, যারা আমাদের দুর্বলতার সুযোগ খুঁজে তাদেরকে যেন এই বাহানার সুযোগ না দেই যে, জলসার সময় স্থানীয় লোকদের কোনরূপ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আপত্তি করার জন্য কেউ কেউ সর্বদা অভ্যাসবশতঃ ত্রুটি খুঁজে কিন্তু আমাদের চেষ্টা করতে হবে এবং দোয়াও করতে হবে যেন অজুহাত সন্ধানীরা কখনো কোন সুযোগ না পায়।

জলসা সালানার ব্যবস্থাপনা যানবাহন (গাড়ী) চলাচলের জন্য যে নিয়মকানুন নির্ধারণ করেছেন সেগুলো পরিপূর্ণরূপে মেনে চলুন। বরং দেশীয় আইন অনুসারে এখানকার রাষ্ট্রীয় ট্রাফিক আইন মেনে চলা সবার জন্য আবশ্যক। এটা মনে করবেন না যে, এটা ছোট রাস্তা তাই যেখানে ইচ্ছে গাড়ী রাখতে পারি। ইউরোপ থেকে আগত কতক অতিথি অসাবধানতা দেখিয়ে থাকেন এবং ব্রিটেনের কোন কোন অধিবাসীও অসতর্ক আচরণ করেন। সবাই যদি রাস্তায় গাড়ি রাখা আরম্ভ করে তাহলে রাস্ততা একদম বন্ধ হয়ে যাবে।

এরপর আমাদের দুই পাশে যে জনবসতি রয়েছে অর্থাৎ একদিকে অল্টন শহর এবং অন্যদিকে একটি ছোট গ্রাম বা উপশহর রয়েছে। তাদের রাস্তায় এবং বাড়ির সামনে কখনো গাড়ি রাখবেন না। দুই বছর পূর্বেও বিশেষ করে বৃষ্টির দিনগুলিতে যখন যানবাহন অনেক বেড়ে গিয়েছিল তখন এখানকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল। এখন ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। কিন্তু আজও বৃষ্টির কারণে ভেতরে ঢুকতে যদি সমস্যা বা কষ্ট হয় হোক কিন্তু কোনভাবেই বাইরে গাড়ি রাখবেন না। কেননা দুই বছর পূর্বে যে অভিযোগ উঠেছিল সে সম্পর্কে প্রতিবেশিরা আমাদের সম্পর্কে অনেক উচ্চবাচ্য করার সুযোগ পেয়েছিল। যদিও এমন ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনা প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়টির প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন; কিন্তু কোন আহমদীর আচার-ব্যবহার এমন হওয়া উচিত নয় যার ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনাকে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করতে বাধ্য হতে হয়।

প্রত্যেক আহমদীর সে যেখান থেকেই আসুক না কেন তার দায়িত্ববোধ জাগ্রত থাকা উচিত। নিজে সাবধানতা অবলম্বন করুন। আমি পূর্বেই বলেছি, ইসলাম প্রতিবেশীকে অনেক অধিকার দিয়েছে। হাদীকাতুল মাহ্‌দীর ডানে বামে বসবাসকারী সব লোক এবং গ্রামগুলো জলসায় অংশগ্রহণকারী জামাতের প্রত্যেক সদস্যের প্রতিবেশী।

পার্কিং-এর যতটুকু সম্পর্ক আছে, যারা গাড়ী নিয়ে আসেন তাদের জন্য বৃষ্টির ক্ষেত্রেও ব্যবস্থাপনা; পার্কিং এর ব্যবস্থা করেছেন। এক দীর্ঘ সময় থেকে অর্থাৎ বছরকাল ধরে এ ব্যাপারে জামাতকে বলা হচ্ছে এবং গত বছর এটা পরীক্ষাও করা হয়েছিল আর এটিই উপযোগী ও সাশ্রয়ী অর্থাৎ নিজেদের গাড়ী না এনে লন্ডন থেকে অল্টন পর্যন্ত ট্রেনের যে ব্যবস্থা রয়েছে সেটি ব্যবহার করুন। স্টেশন থেকে আনা নেওয়ার জন্য লন্ডন মসজিদ এবং বায়তুল ফুতূহ্ থেকে বাসের শাটল সার্ভিস এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অল্টন থেকে হাদীকাতুল মাহ্‌দী পর্যন্ত আসা যাওয়ার জন্যও বাসের ব্যবস্থা আছে। আল্লাহ্‌ তা’লার জন্য যখন জলসায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত করেছেন তখন ছোট-খাটো কষ্ট ও কাঠিন্যকে উপেক্ষা করা উচিত।

অনেকে একথাও বলেন যে, রাস্তা ছোট, যানবাহন চলাচলেরও সমস্যা আর বৃষ্টিরও আশঙ্কা থাকে তবে কেন এই জায়গাটি ক্রয় করা হলো। আপনারা জলসার জন্য যেখানেই জায়গা নিবেন সেখানে এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। ইসলামাবাদেও এসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। অথচ সেখানে জলসায় যোগদানকারীর সংখ্যা সে সময় খুব কম ছিল। সেখানকার অধিবাসী ও আহমদীরাও ধীর�� ধীরে এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। ট্রাফিকের কারণে সেখানেও শুরুতে প্রতিবেশীদের আপত্তি ছিল। ধীরে ধীরে তারা এতে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং এখন সে আপত্তিও দূর হয়ে গেছে, ইনশাআল্লাহ্ এখানেও দূর হয়ে যাবে।

কিন্তু একজন আহমদীর দায়িত্ব, সে যেন কোন অবস্থাতেই এখানকার স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য কষ্টের কারণ না হয়। বরং প্রত্যেক আহমদী এমন দৃষ্টান্ত পেশ করুন, যদি কারো হৃদয়ে আহমদীদের সম্পর্কে কোনরূপ কুধারণা থেকেও থাকে সে যেন আপনার আচরণ দেখে লজ্জিত হয় এবং আহমদীদের সম্পর্কে তার কুধারণা যেন সুধারণায় পরিবর্তিত হয়, বরং তারা যেন বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় এবং আমাদের সাথে সম্পর্ককে নিজের জন্য সম্মানের কারণ মনে করে।

প্রত্যেক আহমদী, আহমদীয়াতের দূত স্বরূপ। সর্বদা সকলের এটা মনে রাখা উচিত, আপনি আহমদীয়াতের একজন দূত। উক্ত প্রত্যাশা ব্যক্ত করতে গিয়ে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, “আমাদের মুরিদ হয়ে আমার দুর্নামের কারণ হয়োনা, মুরিদ হয়ে কে দুর্নামের কারণ হতে পারে?” এর অর্থ তোমাদের চরিত্র এমন মহান হওয়া চাই, তোমরা সেই পবিত্র দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী হও, প্রত্যেক আহমদীর প্রতি (অ-আহমদীদের-অনুবাদক) নির্দেশকারী আঙ্গুল যেন জামাতে আহমদীয়া ও হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর সুনামের কারণ হয়। জলসা সালানার আসল উদ্দেশ্য হল পবিত্র পরিবর্তন সাধন করা। সুতরাং এ পবিত্র পরিবর্তন-ই এক আহমদীকে অন্যদের থেকে পৃথক করে।

এই দিনগুলোতে যেখানে আপনাদের পক্ষ থেকে ইবাদতের মাধ্যমে এটি প্রকাশ পাবে, সেখানে আপন-পর সকলের সাথে উত্তম ব্যবহার করা প্রত্যেক আহমদীর জন্য আবশ্যক। এতে সন্দেহ নেই যে, আমি কর্মকর্তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছি যেন তারা সর্বদা আতিথেয়তার কাজে সোচ্চার থাকেন এবং কখনো কোন অতিথিকে অভিযোগের সুযোগ না দেয়। কিন্তু অতিথিরও উচিত সর্বদা উত্তম আচরণ প্রদর্শন করা, ধৈর্য্য ও বড় মনের পরিচয় দেয়া। কোন সময় কোন কর্মকর্তার যদি সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে যায় তবে স্মরণ রাখবেন, তারাও মানুষ, ভুল-ভ্রান্তি হতেই পারে।

অনেক কর্মী অনবরত কয়েকদিন ধরে কাজ করছেন, অনেকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেবল দুই ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ হয়। মানবীয় দূর্বলতার কারণে এমতাবস্থায় কেউ যদি কোন বিষয়ে কোন অতিথিকে সন্তোষজনক উত্তর না দেয় অথবা তার ধারণা মোতাবেক যদি তার সঠিক আতিথেয়তা না হয় তবে অতিথিরও (এ ত্রুটি-অনুবাদক) উপেক্ষা করা উচিত এবং কর্মকর্তাদের মার্জনা করা সমীচীন হবে।

অধিকাংশ অতিথি যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা যারা বিভিন্ন শহর থেকে এসেছেন। যেভাবে আমি বলেছি, এখানে সারা পৃথিবী থেকে আহমদী ও অ-আহমদী অতিথি এসে থাকেন। কোন কর্মকর্তা যদি স্থানীয় অতিথিকে বাদ দিয়ে বহিরাগত অতিথিদের প্রতি বেশি দৃষ্টি দেয়, যা দেয়া উচিতও; এমতাবস্থায় স্থানীয় অতিথিদের মন খারাপ করা উচিত নয়।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর অতিথি হওয়ার দৃষ্টান্ত, অর্থাৎ হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) যখন অতিথি হিসেবে কোথাও যেতেন তখন তিনি যে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন, তাও আমাদের সামনে রয়েছে। এ দৃষ্টান্ত আজও আমাদের জন্য আলোক বর্তিকা।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-ও একবার সফরে ছিলেন, কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ কারণে তিনি (আ.) রাতের খাবার খান নি, রাতে যখন ক্ষুধা অনুভূত হল তখন তিনি (আ.) খাবারের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন সব কর্মীরা উৎকন্ঠিত হয় যে, সব খাবার তো শেষ। যত লোক এসেছিল তারা এবং কর্মীদের খাওয়ার পর একটুও খাবার বাঁচে নি। রাতে বাজারও বন্ধ ছিল নয়তো কোন হোটেল থেকে খাবার আনিয়ে নেয়া যেত। হুযুর (আ.) যখন জানতে পারলেন যে খাবার শেষ হয়ে গেছে, ব্যবস্থাপকরা সবাই অস্থির এবং তাড়াতাড়ি খাবার রান্নার ব্যবস্থা করছে তখন তিনি (আ.) বললেন, “অস্থির হওয়ার কোন দরকার নেই; খুঁজে দেখ দস্তরখানায় অতিরিক্ত রুটির টুকরা পড়ে থাকবে হয়তো, তা-ই নিয়ে আস”। তিনি সেই রুটির টুকরা থেকে একটু খেয়ে নেন এবং ব্যবস্থাপকদের আশ্বস্ত করেন। লেখক লিখেছেন,

হুযুর (আ.) যদি খাবার রান্নার নির্দেশ দিতেন তবে তা আমাদের জন্য সম্মানের কারণ হত, এতে আমরা গর্ববোধ করতাম। এতেই বরকত ছিল, কিন্তু তিনি আমাদের কষ্টের কথা ভেবে বারণ করলেন এবং বললেন, কোন প্রয়োজন নেই।

অতএব, যারা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর হাতে বয়’আত করে তাদের এই আদর্শই দেখানো উচিত।

আমার কাছে জলসার দিনে এবং অন্য সময়েও কোন কোন লঙ্গরখানা সম্পর্কে অভিযোগ এসে থাকে। অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, যতটা অতিরঞ্জিতভাবে বিষয় পেশ করা হয়েছে অতিথি সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে ততটা ঔদাসীন্য প্রদর্শিত হয়নি, একথা ঠিক যে, অতিথির আবেগ-অনুভূতির খেয়াল রাখা উচিত কিন্তু অতিথিদেরও প্রকৃত ঘটনা মোতাবেক কথা বলা উচিত। রাবওয়ায় এখন আর জলসা হয় না কিন্তু যখন হতো তখন সেখানেও অভিযোগ দেখা দিত। রাবওয়াতে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর লঙ্গরখানা বা দারুয্ যিয়াফত রয়েছে, সেখানে লঙ্গরখানা রীতিমত কাজ করছে। ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে যদি কখনো কোন ভুল হয়ে যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপকদের ক্ষমা চাওয়ার পরেও অনেক অতিথি অভিযোগ অনুযোগ করে থাকেন।

একইভাবে কাদিয়ানের লঙ্গরখানা সম্পর্কেও আমার কাছে অভিযোগ আসে; আর এখানে যুগ খলীফার অবস্থানের কারণে স্থায়ীভাবে লঙ্গরখানা কাজ করছে, এখানেও অভিযোগ উঠতে থাকে, বিশেষভাবে জলসার দিনগুলোতে অভিযোগ উঠে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে সাধারণ দিনগুলোতে লঙ্গরখানা খোলা থাকে না। কারণ সেখানে লঙ্গরের এত বিশাল ব্যবস্থাপনা নেই আর না সেখানে লোকদের আনাগোনা রয়েছে। কিন্তু জলসার দিনগুলোতে লঙ্গরখানা চলে আর সেখানেও অভিযোগ সৃষ্টি হয়। যাহোক, কর্মীদের পক্ষ থেকে ত্রুটি যা হয় তা হওয়া উচিত নয়। যে ব্যক্তি হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর লঙ্গরে (অতিথিশালা) আসেন তাকে পুরোপুরি সম্মান প্রদর্শন করা কর্মীদের কর্তব্য, তাকে যেন সমাদর করা হয়।

আমি কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, যেসব স্থানে স্থায়ী লঙ্গরখানা (অতিথিশালা) আছে সেখানে যে অতিথিই আসুক না কেন, রাবওয়া বা কাদিয়ান অথবা স্থানীয় অধিবাসী হোক না কেন তাদের আবেগ-অনুভুতির প্রতি যেন সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয় আর কখনও কোন আক্রমণাত্মক কথা বলবেন না। যাহোক, আমি আতিথেয়তার প্রেক্ষাপটে সাধারণ লঙ্গরখানা সম্পর্কে একথাগুলো বলে দিলাম।

পুনরায় অতিথিদের সম্বোধন করে বলছি, তাদের ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা দেখানো উচিত। জলসার এই দিনগুলোতে যারা কাজ করছেন তারা সবাই স্বেচ্ছাসেবক, তারা বিভিন্ন পেশার সাথে সম্পর্ক রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ছাত্র, এ পরিবেশে বসবাস করা সত্ত্বেও হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর হাতে বয়’আত করার কারণে তারা নিজেদেরকে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর অতিথিদের সেবায় নিজেদের পেশ করে থাকেন। তাদের দুর্বলতাগুলোকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন। তাদের সেই আবেগের মূল্যায়ন করুন যার কল্যাণে তারা নিজেদেরকে সেবায় নিয়োজিত করেছেন।

অ-আহমদী অতিথিদের যতটুকু সম্পর্ক, তাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর এই ঘোষণা ‘তোমাদের নিকট যদি কোন জাতির সম্মানিত ব্যক্তি আসে তবে তাকে অনেক বেশি সম্মান দেখাও এবং আতিথেয়তা করো।’ এর আলোকে আলাদা ব্যবস্থা করা হয় যাতে তাদের আতিথেয়তা উত্তমভাবে করা যায়।

এখানে জলসায় আগত অতিথিদের এ বিষয়ের প্রতিও দৃষ্টি রাখা উচিত যে, তাদের আগমনের উদ্দেশ্য হলো জলসা শোনা ও এর আধ্যাত্মিক সুফল লাভ করা। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই জলসা জাগতিক কোন মেলার মত নয়। জাগতিক মেলাগুলোর চিত্র হলো, তাতে সারাদিন মানুষ ঘোরাফেরা করতে থাকে, তামাশা দেখতে থাকে, বাজে ও অনর্থক মাহফিলে বসে। সেখানে পানাহার ও হৈহুল্লোড় ছাড়া আর কিছুই হয় না। এখানে যদি মানুষ তিনদিন দৈহিক খাবারের পরিবর্তে আধ্যাত্মিক খাবারের প্রতি মনোযোগী হয় তবে সে বয়’আতের অঙ্গীকার রক্ষাকারী সত্যিকার আহমদী আখ্যায়িত হতে পারে।

অতএব এ বিষয়কে আবশ্যকীয় করে নিন, জলসায় যেসব প্রোগ্রাম রয়েছে তাতে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও যুবক সবাই নিষ্ঠার সাথে অংশ গ্রহণ করুন আর যেসব কথা ও বক্তৃতাদি শুনবেন তা নিজের জীবনের অংশ করে নিন। যেন কোন নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ, যুবক ও শিশুকে জলসা চলাকালীন সময় বাহিরে ঘুরতে, দলবেঁধে আড্ডা দিতে এবং খেলতে না দেখা যায়।

ছোট্ট শিশু আছে এমন মহিলাদের জন্য পৃথক তাবু রয়েছে। কেননা শিশুরা কান্নাকাটি, চিৎকার ও চেঁচামেচি করে থাকে, এতে অন্যান্য মহিলা যাদের শিশু সন্তান নেই বা যাদের সন্তানরা বড় হয়ে গেছে তারা বিরক্তি বোধ করেন। কিন্তু এমন বাচ্চা যারা ছোট নয় এবং কান্নাকাটির বয়স পার করেছে, যাদের বয়স ৭/৮ বছর, কিছুটা বোধ-বুদ্ধি রাখে; অভিভাবকদের তাদেরকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে সাথে আনা উচিত যে, আমরা জলসায় যাচ্ছি, সেখানে একটি অধিবেশন যা ২/৩ ঘন্টার হয়ে থাকে তাতে তোমাকে শান্তভাবে বসতে হবে।

অনেক বাচ্চা আছে, যাদেরকে মায়েরা বুঝিয়ে-শুনিয়ে নিয়ে আসেন ফলে বাচ্চারা খুবই শান্তভাবে বসে থাকে। এসকল বৈঠকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সন্তানদের ভেতর বাল্যকালেই সৃষ্টি করুন, আর সারা বছর ঘরে এর প্রশিক্ষণ দিন আর দেয়া উচিতও। অনেক সময় আমি অভিযোগ পাই, সারা বছর আতফাল ও নাসেরাতের যেসব অনুষ্ঠানাদি হয় তাতে বাচ্চাদেরকে শান্তভাবে বসে অনুষ্ঠান শোনার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা হয় না। নাসেরাতের মধ্যে কম কিন্তু আতফালদের ভেতর কিছুক্ষণ পর-পরই এই সমস্যা দেখা দেয় কেননা এরূপ দুষ্টুমির প্রবণতা ছেলেদের মধ্যে বেশি থাকে। পিতা-মাতা এবং অঙ্গ সংগঠনগুলো যদি বাচ্চাদেরকে এ দৃষ্টিকোণ থেকে সারা বছর তরবিয়ত করতে থাকেন তাহলে জলসায় সময় এই অভিযোগ আসবে না।

আল্লাহ্‌ তা’লার অপার কৃপায় এখানকার ছেলেপুলেদের একটা বড় অংশ ডিউটি দিয়ে থাকে আর ছোট্ট বয়সের বাচ্চারা বড় সুন্দরভাবে ডিউটি দিয়ে থাকে। কিন্তু বড় একটা সংখ্যা এমনও রয়েছে যারা কোন ডিউটি দেয় না। তারা অন্য শহর থেকে এসেছে বা অন্য দেশ থেকে এসেছে। তারা অবশ্যই খেলাধুলা ও হৈহুল্লোড় করে জলসার শ্রোতাদের বিরক্ত করে থাকে।

অতএব এ দিক থেকেও জলসায় যোগদানকারীদের উচিত, স্নেহের সাথে নিজেদের বাচ্চাদেরকে তরবিয়ত করা। এটা তখনই সম্ভব হবে যখন বাচ্চারা এটা অনুভব করবে যে, আমাদের বড়রাও জলসার প্রোগ্রাম মনোযোগ দিয়ে শুনছেন, আর জলসার পবিত্রতার প্রতি তারা যত্নবান। আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি তো এমন হওয়া আবশ্যক, যেখানে পুরুষ ও মহিলা কর্মীরা, পুরুষদের মার্কীতে এমনটি হয় না তবে মহিলাদের মার্কিতে হয়ে থাকে, এই নোটিশ নিয়ে দন্ডায়মান থাকবেন যে, ‘নিরবে জলসা শুনুন’। আপনারা নিজেরা ব্যবস্থা করুন যাতে কোন ধরনের মনোযোগ আকর্ষণের প্রয়োজন না পড়ে আর স্বয়ং নিজে নিরবতার সাথে জলসার অনুষ্ঠান শুনতে থাকুন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি আর তা হলো, নিজের চতুর্দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন। জামাতের সুরক্ষা খোদা তা’লাই করবেন, আর সর্বদা করে আসছেন। আমাদের ইতিহাস আমাদেরকে এটাই বলছে। আমরা যদি তাঁর সাহায্য কামনা করে, তাঁর প্রতি বিনত থাকি তবে জামাতের সাথে সম্পর্কও দৃঢ় হবে আর আল্লাহ্ তা’লার নিরাপত্তা বেষ্টনিতেও সুরক্ষিত থাকবো।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর সাথে আল্লাহ্‌ তা’লার এই প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে, “আমি তোমার সাথে ও তোমার প্রিয়দের সাথে রয়েছি আর চুড়ান্ত বিজয় তোমারই”। এটি এমন বিষয় প্রকাশ করে যে, আল্লাহ্ তা’লা জামাতকে সর্বদা সমষ্টিগতভাবে নিজের হিফাযতে রাখবেন, ইনশাল্লাহ্। আল্লাহ্ তা’লার অপার কৃপায় জামাত সর্বদাই উন্নতি করতে থাকবে।

কিন্তু বিরুদ্ধবাদী ও শত্রু সর্বদা এ সুযোগের অপেক্ষায়ই থাকে যাতে কোন ভাবে জামাতের ক্ষতি করা যায়। অনেক সময় ব্যক্তিগতভাবেও বিভিন্ন কুরবানী দিতে হয়। অনেক সময় বিরুদ্ধবাদীরা আমাদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে থাকে। বর্তমানে পৃথিবীর যে অবস্থা তাতে বাহ্যিক সতর্কতা অবলম্বন করা আর অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করা বিবেকের দাবী, আর খোদা তা’লার নির্দেশেও।

কাজেই ব্যবস্থাপনা এ বছর এই ব্যবস্থাও করেছে। আপনারা হয়তো দেখেছেন, স্ক্যানার বসানো হয়েছে। এজন্য হয়ত কোন সময় জলসাগাহে পৌঁছতে খানিকটা সময় বেশি লেগে যেতে পারে। প্রথমত, ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার সাথে নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী নিজের চেকিং করানোর ব্যাপারে ব্যবস্থাপনাকে পুরোপুরি সহযোগিতা করুন। বরং চেকিং এর দায়িত্বে যেসব কর্মী নিয়োজিত তাদেরকেও, এমনকি তারা পরিচিত হলেও একবার বাহিরে গিয়ে যদি ভেতরে আসতে চায় তাদেরও স্ক্যানারের মধ্যে দিয়ে ভিতরে আনুন।

দ্বিতীয়ত, জলসায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকে নিজের চারপাশের পরিবেশের উপর দৃষ্টি রাখুন। কেননা এটা জানা কথা, প্রত্যেক নিষ্ঠাবান আহমদী সর্বদাই জামাতকে যেকোন ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষার চিন্তায় থাকেন। এজন্য নিজের চারপাশের বিরাজমান অবস্থার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা কর্তব্য। এই দৃষ্টিকোণ থেকে এ দিনগুলোতে এভাবেও ব্যবস্থাপনাকে সহযোগিতা করুন। যদি কারো ব্যাপারে কোন রকমের সন্দেহ হয়, তার গতিবিধি সন্দেহজনক হয় বা অনুরূপ কোন কাজ চোখে পড়ে তাহলে ব্যবস্থাপনাকে অবহিত করুন। বিশেষভাবে মহিলাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। লাজনাদের অংশে কোন মহিলা পুরোপুরি মুখ ঢেকে যেন ঘুরাফেরা না করে, বা সেখানে না বসে।

কয়েক বছর পূর্বে এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে, পুরুষের ছদ্মবেশে একজন মহিলা ধরা পড়েছিল। তাই এটা মনে করবেন না যে, এখন আমরা যথেষ্ট সতর্ক আর খুব ভালোভাবে চেকিংও হচ্ছে তাই নিশ্চিন্ত থাকা যায়। Relax বা শিথিল হবার সুযোগ নেই। উদাসীনতার কারণেই কখনো কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়। এ কারণেই প্রত্যেক মু’মিনকে সর্বদা সজাগ থাকা উচিত।

এরপর রয়েছে পরিচ্ছন্নতা, এর প্রতিও বিশেষ দৃষ্টি রাখুন। জলসার মাঠে কখনো কোন আবর্জনা মাটিতে ফেলবেন না। এটা ভাববেন না, কর্মীরা পরবর্তীতে তা উঠিয়ে নিবে। আপনি নিজেই নির্ধারিত স্থানে, যেখানে ডাস্টবিন রাখা আছে সেখানে গিয়ে ময়লা ফেলবেন। তা কোন one-time গ্লাসই হোক বা কাগজ অথবা যে কোন জিনিসই হোক না কেন। একটু কষ্ট হবে, কিন্তু সেখানে গিয়ে ময়লা ফেললে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকবে।

অনুরূপভাবে স্নানাগার, শৌচাগার, ব্যবহার করার পর ভালভাবে পরিস্কার করে আসার চেষ্টা করবেন; এটি এমন কাজ নয় যা করলে মর্যাদাহানি হতে পারে। যেসব পুরুষ ও মহিলা কর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন তারাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সামর্থবান এবং উচ্চ বংশীয়। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করলে সম্মান কমে না, বরং সম্মান বৃদ্ধি পায় আর উত্তম চরিত্র সাব্যস্ত হয়। প্লেনেও যখন আপনারা ভ্রমণ করেন, শৌচাগারে লেখা দেখবেন যে, অন্য যাত্রীর সুবিধার্থে শৌচাগার পরিস্কার করে যাবেন।

(জলসা উপলক্ষ্যে-অনুবাদক) যেদিন কর্মীদের পরিদর্শন (inspection) হয়েছে, সেদিন আমি তাদের সামনে একজন মহিলার দৃষ্টান্ত তুলেধরেছিলাম। তিনি খুব আন্তরিকতার সাথে মহিলাদের অংশে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ডিউটি করতেন। যখনই কেউ গোসলখানা ব্যবহার করত দ্রুত গিয়ে তিনি তা পরিস্কার করে আসতেন। তাকে দেখে কেউ একজন ভাবলো যে, দেখে তো এই মহিলাকে খুব সম্ভ্রান্ত বংশীয় বলে মনে হয়, খোঁজ নিয়ে দেখি তো ইনি কে? যখন তার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিলেন-জানতে পারলেন, ইনি মরহুমা আপা মজিদা শাহ্ নেওয়াজ।

তিনি একজন সরকারী কর্মকর্তার কন্যা এবং একজন বড় ব্যবসায়ীর স্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তিনি হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর অতিথিদের সেবার প��রেরণায় এ খেদমত করেছেন এবং করে যান। তিনি জামাতের জন্য অশেষ আর্থিক ত্যাগ স্বীকার করতেন, কিন্তু এই মালী কুরবানীকে যথেষ্ট মনে করেন নি বরং খিদমতের প্রেরণায় সর্বদা সমৃদ্ধ থাকতেন। আল্লাহ্ তা’লা তাঁর বংশধরকেও জামাতের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক রাখার তৌফিক দিন।

যাহোক, মহানবী (সা.)-এর নির্দেশ মোতাবেক পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ। অতএব মু’মিনদের কাজ হচ্ছে প্রত্যেক সেই ছোট ছোট নেকী অবলম্বন করা, যা সম্পর্কে আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূল নির্দেশ প্রদান করেছেন। আর পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাকে মু’মিনের চিহ্ন বা পরিচয় বলা হয়েছে, ঈমানের অংশ বলা হয়েছে। তাই প্রত্যেক অতিথি এবং জলসায় যোগদানকারী এদিকে দৃষ্টি দিন আর এমনটি ভাববেন না যে, আমি যাই - আমার যাবার পর পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বিভাগ তাদের কাজ করতে থাকবে।

বিশেষ ভাবে আজ যেহেতু বৃষ্টি হচ্ছে, সামান্য ময়লা বড় বেশী বলে মনে হয়, কর্দমাক্ত জুতা পায়ে যখন আপনারা গোসল খানায় যাবেন তখন তা নোংরা হবে। প্রথমতঃ ব্যবস্থাপকগণ পাপোশ বা এমন কোন জিনিস রাখার চেষ্টা করুন যেন মানুষ জুতা পরিষ্কার করে ভেতরে প্রবেশ করে, কেননা আজ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে তাই সারা দিনও বৃষ্টি হতে পারে।

আজকাল সোয়াইন ফ্লুর বিস্তার ঘটেছে। এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনের জন্যও সরকারের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হচ্ছে, আর এম.টি.এ.-তেও ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। ব্যবস্থাপকগণও এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছেন, বাহ্যিক সতর্কতা স্বরূপ প্রত্যেক আগমনকারীকে হোমিও ঔষধ দেয়া হবে। আমি জানিনা, আজ দেয়া হয়েছে কি না? যদি না দেয়া হয়ে থাকে, তবে আবার যখন বাইরে যাবেন আর এই স্ক্যানার দিয়ে অতিক্রম করবেন তখন সেই ঔষধ দেয়া উচিত। এ ব্যাপারে প্রত্যেক অতিথি ও প্রত্যেক আগমনকারীর সাহায্য করা উচিত।

যদি কারো কোন ধরনের flue বা সর্দি-জ্বর হয়েছে বলে সন্দেহ হয়, তবে অন্যদের কথা ভেবে এখানে আসার পূর্বে আপনার সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। আল্লাহ্ তা’লা প্রত্যেক আহমদীকে এই রোগ থেকে নিরাপদ রাখুন এবং সকল প্রকার রোগ-ব্যাধি হতে মুক্ত রাখুন। জলসায় অংশগ্রহণকারীরা জলসার সকল বরকত সহকারে আপন নিবাসে ফিরে যান।

অন্যান্য দেশ থেকে যে সব অতিথিরা এসেছেন, বিশেষ করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত ও আফ্রিকার দেশসমূহ থেকে যারা এসেছেন, তাদেরকে আমি সর্বদা বলি, নিজেদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই দেশে ফেরত যাবার চেষ্টা করুন। কেননা এবার বিভিন্ন দেশের ব্রিটিশ দুতাবাসের ভিসা বিভাগ এই আপত্তির সাথে অনেকের ভিসার আবেদন প্রত্যাখান করেছে যে, আহমদীরা জলসার নামে যায় আর ফিরে আসেনা। যদিও এটি একেবারেই ভ্রান্ত কথা কেননা গত ৬/৭ বছর ধরে আমি জানি যে, যারাই এখানে আসেন তারা ফেরত যান আর যদি কেউ এখানে থেকে থাকে তাহলে তাদের সংখ্যা ৪/৫ এর অধিক নয়। আর যারা (জলসার ভিসায়-অনুবাদক) এসে এখানে থেকে যায় তাদেরকে শাস্তিও দেয়া হয়।

তারপরও বিরল কেউ যদি এখানে থেকে যায় তবে এটা একটা অন্যায় কাজ এবং জামাতের দুর্নামের কারণও বটে। কেননা এর মাধ্যমে অন্যরা যারা জলসার নিয়্যতে এখানে আসতে চায় তাদের পথও বন্ধ হয়ে যায়। এটি এমন একটি কাজ যা কোনভাবেই একজন আহমদীর জন্য শোভনীয় নয়।

জলসার ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, আতিথেয়তার ব্যবস্থাও রয়েছে, এটিও সাধারণত দু’সপ্তাহের জন্য হয়ে থাকে। এরপর মেজবানের (অতিথি সেবক-অনুবাদক) অনুমতি ব্যতিরেকে এখানে অবস্থান করা কোনভাবে সঙ্গত নয়। এটি অনাহুত অতিথির মত, যা কি না ইসলামের দৃষ্টিতে একান্ত অপছন্দনীয়।

একইভাবে যারা নিজের আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবের নিকট অবস্থান করছেন তাদেরও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত, কেননা তারা আপনাদেরকে নিজেদের কাছে থাকার সুযোগ দিয়েছেন তাই অকারণে তাদের উপর বোঝা চাপানো উচিত নয়। পরবর্তীতে অনেকে আমার কাছে এসে অভিযোগ করেন যে, এত দিনের জন্য এসেছিলাম কিন্তু যে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছি তার ব্যবহার এখন এমন যে, আমরা এখন (তার কাছে নয়-অনুবাদক) জামাতী ব্যবস্থাপনার অধীনে থাকতে চাই। আর যদি থাকতে নাও চায় তবুও অভিযোগ ঠিকই করেন।

তাই আতিথ্য ততদিনের নেয়া উচিত যতটা অন্যের জন্য বোঝা না হয় আর কখনো অভিযোগ যেন সৃষ্টি না হয়। জলসার উদ্দেশ্য হচ্ছে পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা। যদি পরস্পরের মধ্যে প্রেম-প্রীতি বৃদ্ধির পরিবর্তে ঘাটতি দেখা দেয় তাহলে জলসায় যোগদানের উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় না। যেখানে ঘরের লোকদের ও অতিথি সেবকদের বড়মনের পরিচয় দেয়া উচিত সেখানে অতিথিদেরও তাদের প্রতি দৃষ্টিরাখা কর্তব্য।

সর্বদা স্মরণ রাখবেন! আপনাদের এই সফর খোদা তা’লার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। তাই এ সফরকে জাগতিক লাভের মাধ্যম হিসেবে নিবেন না। কেবলমাত্র আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যেই যেন আপনাদের এই সফর হয়। এই সফরকে ‘লিল্লাহি’ বা আল্লাহ্‌র জন্য সফরে রূপ দেয়ার চেষ্টা করুন। আল্লাহ্ তা’লা সবাইকে এর তৌফিক দান করুন।

আর একটি জরুরী কথা হল, যে অনুষ্ঠান সূচী ছাপানো হয়েছে সেখানে কতিপয় নির্দেশাবলীও লেখা হয়েছে, এগুলো অবশ্যই পড়ুন এবং এর ওপর অনুশীলন করার চেষ্টা করুন। আজকে আবহাওয়া অফিস থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। এটিও দোয়া করুন এরপর যেন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়। আল্লাহ্ তা’লা যেন আকাশ পরিস্কার করে দেন। আগামী দিনগুলোতে যেন আমরা আল্লাহ্ তা’লার অপার কৃপায় শান্তিপূর্ণভাবে জলসার কার্যক্রম শুনতে পারি। কেননা মুষলধারে বৃষ্টি হলে, তাবুর উপর যখন বৃষ্টির পানি পড়ে এত শব্দ হয় যে, হয়ত কেউ কেউ স্পষ্টভাবে কথা বুঝতেও পারেন না, সমস্যা হয়। এছাড়া চলাফেরার ও অসুবিধা হবে। শিশু এবং মহিলাদেরও কষ্ট হয়। দোয়া করুন আল্লাহ্ তা’লা যেন আবহাওয়া আমাদের অনুকূল করে দেন, আমীন।

(জামেয়া আহমদীয়া বাংলাদেশ এবং কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্কের যৌথ উদ্যোগে অনুদিত)

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে