In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবা

আল্লাহ্ তা’লার গুণবাচক নাম ‘আল্‌ - ওয়াসে’ - দ্বিতীয় অংশ

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১৫ই মে, ২০০৯ইং

বৈবাহিক জীবনের দায়-দ্বায়িত্ব সম্পর্কে ইসলামর শিক্ষা

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

গত খুতবায় আমি আল্লাহ্ তা’লার ‘ওয়াসে’ বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষাপটে পবিত্র কুরআনে যেসব বিষয় এবং আদেশ-নিষেধ বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছিলাম। একই ধারাবাহিকতায় আজও এমন কতক আয়াত তুলে ধরবো যাতে বিভিন্ন ধরনের সেসব বিষয় বর্ণিত হয়েছে, যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথেও সম্পর্ক রাখে আর আমাদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অবস্থার সাথেও সম্পর্ক রাখে।

আল্লাহ্ তা’লা সবিশেষ জ্ঞাত হবার কারণে আমাদের প্রতিটি কর্ম সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত। তিনি এসব বিষয় এবং আদেশ-নিষেধ দিয়ে আমাদেরকে সেই পথের দিশা দিয়েছেন, যার উপর পরিচালিত হলে আল্লাহ্ তা’লার অফুরন্ত আশিস হতে আমাদের স্ব-স্ব যোগ্যতানুযায়ী আমরা অংশীদার হতে পারি, তা অর্জন করতে পারি, তা হতে কল্যাণমন্ডিত হতে পারি এবং আল্লাহ্ তা’লার সন্তুষ্টি অর্জনকারী হতে পারি।

আল্লাহ্ তা’লা এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদেরকে আমাদের দাম্পত্য জীবন, সামাজিক জীবন ও আমাদের ধর্মীয় বিষয়াদি সঠিকভাবে পরিচালিত করার দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। আমাদের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক অবস্থা আল্লাহ্ তা’লার সন্তুষ্টি মোতাবেক রূপায়িত করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বস্তুত মানব জীবনের যত দিক রয়েছে খোদা তা’লা সেগুলোকে সম্পূর্ণভাবে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং এ সব বিষয়ে আমাদেরকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

মানুষকে যেহেতু আল্লাহ্ তা’লা তাঁর গুণে গুণান্বিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, তাই তাকে বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষাপটে নিজের আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক পরাকাষ্ঠাসমূহ অর্জনের লক্ষ্যে নিজ চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও কর্মকান্ডকে ব্যাপকতর করার আদেশ দিয়েছেন, যাতে মানুষ আল্লাহ্ তা’লার নৈকট্য অর্জন করতে পারে। কিন্তু একইসাথে আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এ কথাও বলেছেন যে, যেহেতু আমি তোমাদের যোগ্যতা সম্পর্কে অবহিত তাই তোমাদের উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছি তা তোমাদের সাধ্যাতীত নয়। এছাড়া প্রত্যেক মানুষের যোগ্যতা বা ক্ষমতা সমান নয়। যোগ্যতা যেহেতু সমান নয় তাই আল্লাহ্ তা’লা যখন নির্দেশ দেন তখন ততটুকুই দেন যতটুকু পালন করার শক্তি সে রাখে। কিন্তু যোগ্যতার পরিসীমা নির্ধারণ করা কোন মানুষের কাজ নয়। একমাত্র আল্লাহ্ তা’লা-ই প্রত্যেকের সামর্থ ও যোগ্যতা সম্পর্কে জ্ঞাত।

এ জন্য আল্লাহ্ তা’লা যেসব আদেশ-নিষেধ নাযিল করেছেন তা সম্পর্কে এটা বলা যাবে না যে, এটি আমাদের জন্য সাধ্যাতীত। প্রত্যেক মানুষের মাঝে আল্লাহ্ তা’লা সুপ্ত যোগ্যতা রেখে দিয়েছেন। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটানো, পরিস্ফুটন এবং একে উজ্জ্বলতর করার দায়িত্ব মানুষের।

আল্লাহ্‌ তা’লা মহানবী (সা.)-এর কথা উল্লেখপূর্বক যেখানে আমাদেরকে বলেছেন যে, তিনি (সা.) তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ সেখানে সেই কামেল বা পরিপূর্ণ মানবের উত্তম আদর্শ মোতাবেক পরিচালিত হবার নির্দেশও আমাদেরকে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা’লা একজনই পরিপূর্ণ মানব সৃষ্টি করেছেন, তাঁর যোগ্যতা ও সামর্থের যে পরিধি তার কোন সীমা-পরিসীমা নেই। আমরা তাঁর (সা.) জীবনের যে আঙ্গিক নিয়েই ভাবি না কেন তাকে আমরা একটি সুমহান মার্গ হিসেবে দেখতে পাই। আমাদের জন্য নির্দেশ হচ্ছে, মহানবী (সা.)-এর সত্তা তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ, সে মোতাবেক চলা তোমাদের জন্য আবশ্যক। চেষ্টা করো, সাধ্যানুযায়ী এর উপর প্রতিষ্ঠিত হও।

আমি প্রারম্ভেই বলেছি, আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে যে সব বিষয়ে দিকনির্দেশনা দান করেছেন তার ভেতর পারিবারিক বিষয়াদিও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আমি পবিত্র কুরআনের কতক আয়াত উপস্থাপন করবো কিন্তু সেগুলো উপস্থাপনের পূর্বে তিনি (সা.) তাঁর পরিবারের সাথে কিরূপ ব্যবহার করতেন এবং সে প্রেক্ষাপটে আমাদের সম্মুখে মহানবী (সা.)-এর যে উত্তম জীবনাদর্শ রয়েছে এবং তিনি (সা.) যে উন্নত মান প্রতিষ্ঠা করেছেন তা তুলে ধরবো।

তিনি (সা.) একবার বলেছিলেন,

‘তোমাদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম সে যে তার স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করে এবং তোমাদের মধ্য হতে আমি আমার পরিবারের সাথে সবচেয়ে উত্তম ব্যবহার করি।’

(সুনান তিরমিযী - কিতাবুল মানাকেব)

এরপর তিনি (সা.) আমাদেরকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন,

‘তোমরা পরস্পরের মাঝে যদি কোন প্রকার দোষ-ত্রুটি দেখতে পাও অথবা আরেক জনের অভ্যাস বা আচার-ব্যবহার অপছন্দনীয় হলে এমন অনেক বিষয়ও থেকে থাকবে যা তোমাদের ভাল লাগে।’

(সহীহ্‌ মুসলিম - কিতাবুন্ নিকাহ্)

অতএব এই ভাল দিকগুলোকে সামনে রেখে ত্যাগের মন মানসিকতা গড়ে তোলা উচিত আর সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এই আদেশ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য। তাঁর (সা.) সহধর্মিনীগণ এ কথার সাক্ষী যে, তিনি সর্বদা তাঁদের সাথে উত্তম ব্যবহার করেছেন।

‘সফরে যাওয়ার সময় লটারী করে স্ত্রীদের মধ্য হতে যে স্ত্রীর নাম উঠতো তাঁকে সাথে নিয়ে যেতেন।’

(সহীহ্‌ বুখারী - কিতাবুল মাগাযী)

‘স্ত্রীদের অসুস্থতার সময় তাদের সেবা শুশ্রূষা করতেন।’

(সহীহ্‌ বুখারী - কিতাবুল মাগাযী)

তাঁদের আবেগ অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন কিন্তু এরপরও তিনি (সা.) এই দোয়া করতেন,

‘হে আল্লাহ্! তুমি তো জান এবং দেখ যে, মানবী�� প্রচেষ্টার সীমার মধ্যে থেকে সমান ও ন্যায়নীতি সূলভ বন্টনের যতটুকু সম্পর্ক আছে- তা আমি করি। হে আমার প্রভু! মনের উপর আমার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই, কারো কোন বিশেষ গুণ, যোগ্যতা বা বৈশিষ্ট্যের কারণে মন যদি কারো প্রতি বেশি ঝুঁকে যায় তবে তুমি আমাকে ক্ষমা করো।’

(আবু দাউদ - কিতাবুন্ নিকাহ্)

হযরত খাদীজাহ্ (রা.)-এর সাথে যে সম্পর্ক ছিল সে সম্পর্কে হযরত আয়শা (রা.)-কে উত্তর দিয়েছেন,

‘খাদীজাহ্ (রা.) তখন আমায় সঙ্গ দিয়েছেন যখন আমি নি:সঙ্গ ছিলাম। তিনি তখন সাহায্যকারিনী হিসেবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন যখন আমার সাথে কেউ ছিলনা। আমার জন্য তিনি তাঁর সম্পদ নির্দ্বিধায় উৎসর্গ করেছেন। তাঁর গর্ভে আল্লাহ্ তা’লা আমাকে সন্তান-সন্ততিও দান করেছেন। সারা পৃথিবী যখন আমাকে মিথ্যা বাদী আখ্যায়িত করেছে তখন তিনি আমায় সত্যায়ন করেছেন।’

(মুসনাদ আহমদ বিন হাম্বল)

মূল্যায়নের এই চেতনা তাঁর উদার মনে সবসময় জাগ্রত ছিল। যদিও তাঁর (সা.) জীবিত এবং যুবতী স্ত্রীগণ ছিলেন আর প্রিয়তমা স্ত্রীও (হযরত আয়েশার দিকে ইঙ্গিত) সাথে ছিলেন।

সেই স্ত্রীর সবচেয়ে প্রিয় হওয়ার কারণ হলো, তাঁর কক্ষেই খাদা তা’লার ওহী সবচেয়ে বেশী অবতীর্ণ হয়েছে।

(তিরমিযী- কিতাবুল মানাকেব)

তিনি [আয়শা (রা.)] যখন বললেন,

‘আপনার জীবিত স্ত্রীগণ থাকা সত্ত্বেও কেন আপনি সেই বৃদ্ধার কথা আওড়াতে থাকেন? তখন অত্যন্ত কোমলভাবে তাঁকে বুঝিয়ে বলেন, সংকীর্ণ মনের পরিচয় দিও না, উদার হবার চেষ্টা করো। অমুক, অমুক কারণে আমি আমার প্রথম স্ত্রীর স্মৃতিচারণ করি এবং তাকে স্মরণ করি।’

(মুসনাদ আহমদ বিন হাম্বল)

অধুনা যে সব ধর্মযাজক এবং মহানবী (সা.)-এর উপর অপবাদ আরোপকারীরা বাজে কথাবার্তায় সীমা ছাড়িয়ে গেছে, আমার মনিবের এই সর্বোত্তম আর্দশ কি তাদের চোখে পড়ে না যে, কীভাবে তিনি তাঁর পরিবারের অধিকার প্রদান করেছেন? জীবিত স্ত্রীগণের সাথেও সমান ব্যবহার করেছেন। মনের উপর কারো জোর খাটে না ঠিকই তা সত্ত্বেও বাহ্যিক আচার-ব্যবহারের ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। আর যে স্ত্রী প্রারম্ভেই সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর ত্যাগের কথা স্মরণ করে জীবিত স্ত্রীগণকেও জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমি তাঁর মূল্যায়নকারী। যদি আমি এর মূল্যায়ন না করি তবে সেই খোদার কৃতজ্ঞ বান্দা বলে গণ্য হতে পারবো না, যিনি কখনও আমায় খালিহাত রাখেন নি বরং তাঁর অপরিসীম নিয়ামতের ভাগী করেছেন।

মহানবী (সা.) যে স্ত্রীগণের সাথে উত্তম ব্যবহার করেছেন এর কারণ হলো আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন, ন্যায় বিচার বা ইনসাফের দাবী রক্ষা কর। তিনি যেখানে স্বীয় মান্যকারীদের নির্দেশ দিয়েছেন যে এটা আল্লাহ্ তা’লার নির্দেশ, এর উপর আমল কর; সেখানে নিজেও এর উত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’লা একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন সেখানে বিভিন্ন শর্তও আরোপ করেছেন। ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর উপর আপত্তি করা হয় যে, একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়ে নারীজাতির উপর অন্যায় করা হয়েছে অথবা কেবল পুরুষের আবেগ অনুভূতিকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’লা বলেন:

وَاِنْ خِفْتُمْ اَلَّا تُقْسِطُوْا فِىْ الْيَتٰمٰى فَانكِحُوْا مَا طَابَ لَـكُمْ مِّنَ النِّسَآءِ مَثْنٰى وَثُلٰثَ وَرُبٰعَ‌‌ۚ فَاِنْ خِفْتُمْ اَلَّا تَعْدِلُوْا فَوَاحِدَةً اَوْ مَا مَلَكَتْ اَيْمَانُكُمْ‌ؕ ذٰلِكَ اَدْنٰٓى اَلَّا تَعُوْلُوْاؕ‏

অর্থ, যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, এতীমদের ব্যাপারে ন্যায়-বিচার করতে পারবে না তবে তোমরা (অন্য) নারীদের মধ্য থেকে পছন্দমত দু’জন, তিনজন বা চারজনকে বিয়ে কর; কিন্তু তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, তোমরা ন্যায়-বিচার করতে পারবে না, তবে একজনই যথেষ্ট অথবা তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তাদের বিয়ে কর। তোমাদের জন্য অবিচার এড়ানোর এটি নিকটবর্তী ব্যবস্থা।

(সূরা আন্ নিসা: ৪)

প্রথমত: এই আয়াতে প্রধাণতঃ এতীম মেয়েদের নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে। এতীমদের বিয়ে কর কিন্তু অন্যায়ের বশবর্তী হয়ে নয় বরং তাদের পুরো প্রাপ্য প্রদান করে বিয়ে কর। আর বিয়ের পর তাদের আবেগ-অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকো আর কখনো মনে করো না, কখনো এটি যেন মাথায় না আসে যে, এদের খোঁজ-খবর নেয়ার যেহেতু কেউ নেই তাই তাদের সাথে যাচ্ছে তাই ব্যবহার করা যাবে। আর নিজের অভ্যাস বশতঃ যদি আশঙ্কা কর এবং যদি এই সন্দেহ থাকে যে সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে স্বাধীন নারীদের বিয়ে কর। ন্যায়-বিচারের দাবী পূরণ সাপেক্ষে দুই, তিন এবং চারজন পর্যন্ত বিয়ে করার অনুমতি আছে। যদি ইনসাফ করতে না পার তাহলে একের অধিক বিয়ে করো না।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) এ প্রসঙ্গে বলেন:

‘যেসব এতীম মেয়েদের তোমরা লালন-পালন কর তাদেরকে বিয়ে করতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি লাওয়ারিশ (পরিচয়হীন) হওয়ার কারণে তোমাদের নফস তাদের উপর অত্যাচার করবে বলে আশঙ্কা কর তাহলে এমন নারীদের বিয়ে কর যাদের পিতা-মাতা ও জ্ঞাতি-গোষ্ঠি আছে। যারা তোমাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে আর তোমরাও তাদের ব্যাপারে সাবধান থাকবে। ন্যায়-বিচারের শর্ত সাপেক্ষে এক, দুই, তিন ও চারটি পর্যন্ত (বিয়ে) করতে পার। যদি সুবিচার করতে না পার তাহলে প্রয়োজন থাকলেও একটিতেই সন্তুষ্ট থাকো।’

(ইসলামী নীতি দর্শন - রূহানী খাযায়েন, ১০ম খন্ড, পৃ: ৩৩৭)

‘যদিও প্রয়োজন থাকুক না কেন’ এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাক্য। এখন দেখুন! যুগের হাকাম ও ন্যায়বিচারক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, প্রয়োজনের অজুহাতে তোমরা বিয়ে করতে চাও; কিন্তু স্মরণ রেখো যে তা আসল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, বরং সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং ইনসাফই হল মুখ্য বিষয়।

আজকাল কোন না কোন স্থান হতে এই অভিযোগ আসতে থাকে যে, সন্তান-সন্তুতি থাকা সত্ত্বেও স্বামী বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিয়ে করতে চায়। প্রথম কথা যা বলেছেন তা হলো, যদি সুবিচার করতে না পার, তাহলে বিয়ে করবে না। আর ইনসাফ বলতে সকল প্রকার অধিকার প্রদান করা বুঝায়। যদি সংসার চালানোর মত আয়ই না থাকে তাহলে আরেকটি বিয়ের বোঝা কাঁধে নেয়া প্রথম স্ত্রী এবং সন্তানদের অধিকার হরণের নামান্তর হবে।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) এক স্থানে বলেছেন যে,

‘বাধ্যবাধ্যকতা হেতু যদি দ্বিতীয় বিবাহ করতেই হয় তাহলে এমতাবস্থায় পূর্বের তুলনায় প্রথম স্ত্রীর প্রতি অধিক যত্নবান হও।’

(মলফুযাত, ৩য় খন্ড, পৃ: ৪৩০, নবসংস্করণ)

কিন্তু বাস্তবে আজকাল আমরা সমাজে যা দেখি তা হলো, প্রথম স্ত্রী এবং সন্তানদের অধিকার প্রদানের প্রতি ক্রম ঔদাসীন্য পূর্ণ ঔদাসীন্যে রূপ নিচ্ছে আর আল্লাহ্ তা’লার নির্দেশের পরিপন্থী কাজ করছে। অতএব এটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, আর্থিক প্রয়োজন মিটানো এবং অন্যান্য অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে অবিচার হবে না তো?

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন,

‘আমাদের দৃষ্টিতে নিজেকে পরীক্ষায় না ফেলাই মানুষের জন্য উত্তম।’

(আল্ হাকাম, ২য় খন্ড, নাম্বার: ২-৬ই মার্চ, ১৮৯৮)

অর্থাৎ এখানে দ্বিতীয় বিয়ে করে পরীক্ষায় পড়ার কথা বুঝানো হয়েছে।

অতএব স্ত্রীর অধিকার প্রদান করা এত বড় একটি দায়িত্ব যে, তা প্রদান না করে মানুষ পরীক্ষায় নিপতিত হয় অথবা হতে পারে এবং খোদা তা’লার অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। আমি মহানবী (সা.)-এর একটি দোয়ার কথা উল্লেখ করেছিলাম। তিনি (সা.) আল্লাহ্ তা’লার কাছে এই দোয়া করতেন, বাহ্যত আমি প্রত্যেকের অধিকার প্রদানের চেষ্টা করি, কিন্তু কোন স্ত্রীর কোন গুণের কারণে কতক বিষয় যদি প্রকাশ পায়, যা আমার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত তাহলে এমতাবস্থায় আমাকে ক্ষমা করো। আর এটি এমন এক বিষয় যা সম্পূর্ণভাবে মানব প্রকৃতি সম্মত। আর খোদা তা’লা যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন, যিনি বান্দ���র হৃদয় এবং অন্তরের অন্তঃস্থল সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত; তিনি এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বা পরিস্থিতির কারণে তোমরা একজনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হতে পারো! এমতাবস্থায় আবশ্যকীয় বিষয় হলো- তার জাগতিক প্রাপ্য অধিকার পরিপূর্ণ ভাবে প্রদান কর। যেমনটি সূরা নিসাতে আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَلَنْ تَسْتَطِيْعُوْۤا اَنْ تَعْدِلُوْا بَيْنَ النِّسَآءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ‌ۚ فَلَا تَمِيْلُوْا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوْهَا كَالْمُعَلَّقَةِ‌ؕ وَاِنْ تُصْلِحُوْا وَتَتَّقُوْا فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا‏

তোমরা যতই আকাঙ্খা কর না কেন, স্ত্রীগণের মধ্যে তোমরা কখনো (পূর্ণ) সমতা রক্ষা করতে পারবে না। সুতরাং তোমরা (একই স্ত্রীর প্রতি) পূর্ণরূপে ঝুঁকে যেও না যার ফলে তোমরা তাকে (অন্য স্ত্রীকে) দোদুল্যমান বস্ত্তর ন্যায় ছেড়ে দাও। আর যদি তোমরা পরস্পরের মধ্যে মিমাংসা কর এবং ত্বাক্ওয়া অবলম্বন কর, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।

(সূরা আন্ নিসা: ১৩০)

অতএব এমন বিষয়, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে সেক্ষেত্রে পরিপুর্ণ ন্যায়-বিচার করা সম্ভব নয়। কিন্তু যা মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সেক্ষেত্রে ন্যায়-বিচার একান্ত আবশ্যক। আর বাহ্যিক ইনসাফ, যেমনটি আমি বলেছি পানাহার, পোসাক, বাসস্থান এবং সময় ইত্যাদি এর অন্তর্ভূক্ত। যদি কেবল খরচপত্র দাও কিন্তু সময় না দাও তাহলে এটিও যথার্থ নয়। আর শুধু যদি বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দাও, সংসারের খরচাদি না দিয়ে মহিলাকে মানুষের কাছে হাত পাততে বাধ্য করা হয়, তবে এটিও সঙ্গত নয়। সুতরাং সাংসারিক দৃষ্টিকোণ থেকে দায়িত্ব পালন করা পুরুষের কর্তব্য।

একটি হাদীসে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন,

‘যার দু’জন স্ত্রী রয়েছে, সে যদি শুধু এক জনের প্রতি আকর্ষণ রাখে এবং দ্বিতীয় জনকে উপেক্ষা করে তাহলে কিয়ামত দিবসে শরীরের একটি অংশ কর্তিত অথবা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।’

(সুনান নেসাঈ)

অতএব আল্লাহ্ তা’লা বলেন, ত্বাক্ওয়া হচ্ছে - উভয়ের বাহ্যিক অধিকার সমানভাবে প্রদান করা আর কোন স্ত্রীকে এভাবে উপেক্ষা না করা যে, স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও সে সকল প্রকার প্রাপ্য অধিকার হতে বঞ্চিত থাকবে। না তাকে তালাক দিচ্ছ আর না-ই যথার্থভাবে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করছো। একজন মু’মিনের রীতি এরূপ হওয়া উচিত নয়। সুতরাং মু’মিনের দায়িত্ব হল সেসব কাজ এড়িয়ে চলা যা করতে আল্লাহ্ তা’লা বারণ করেছেন আর আত্মসংশোধন করা।

শুধু একজন স্ত্রী’র প্রতিই অধিক মনোযোগ দেয়া এবং অন্য স্ত্রীর প্রতি খেয়াল না রাখার ব্যাপারে বিভিন্ন অভিযোগ আসে। দু’জন নয় বরং কোন কোন ক্ষেত্রে এক স্ত্রীর ক্ষেত্রেও অনেক সময় স্ত্রী’র কোন কথার অজুহাতে, এমন সব দাম্পত্য কলহ দেখা যায়; বলা হয় যে, আমি তোমাকে তালাকও দিব না আর তোমাকে নিয়ে ঘরসংসারও করবো না। আবার কাযা বোর্ডে অথবা আদালতে মামলা পেশ হলে অকারণে মামলা দীর্ঘ দিন ঝুলিয়ে রাখা হয়। এমন অজুহাত বা বাহানা খুঁজে বের করা হয় যাতে মামলা দীর্ঘায়িত হতে পারে। পূর্বেও আমি কয়েকবার বলেছি, অনেককে তালাক দেয়া হয় না এজন্য যাতে সে (স্ত্রী) নিজেই খোলা নিয়ে নেয় আর এভাবে সে দেনমোহর এড়িয়ে যেতে পারে। অতএব এগুলো এমন বিষয় যা মানুষকে ত্বাকওয়া থেকে বঞ্চিত করে। আল্লাহ্ তা’লা বলেন, আত্মসংশোধন কর, যদি নিজের জন্য আল্লাহ্ তা’লার দয়া ও ক্ষমা প্রত্যাশা কর, তাহলে তুমিও দয়া প্রদর্শন করো আর স্ত্রী’কে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করে তাকে নিয়ে সংসার করো। যদি আল্লাহ্ তা’লার ব্যাপক দয়া হতে অংশ পেতে হয় তাহলে নিজের দয়াকেও ব্যাপকতর করো।

আমি যে আয়াত পাঠ করেছি তার পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَاِنْ يَّتَفَرَّقَا يُغْنِ اللّٰهُ كُلاًّ مِّنْ سَعَتِهٖ‌ؕ وَكَانَ اللّٰهُ وٰسِعًا حَكِيْمًا‏

অর্থ: এবং যদি তারা একে অপর হতে পৃথক হয় তাহলে আল্লাহ্ তাদের প্রত্যেককে তার যোগ্যতানুযায়ী প্রাচুর্য দিয়ে স্বনির্ভর করে দিবেন। বস্ত্তত: আল্লাহ্ প্রাচুর্যদাতা, প্রজ্ঞাময়।

(সূরা আন্ নিসা: ১৩১)

এ আয়াতে আল্লাহ্ তা’লা বলেন, যদি সংশোধনের কোন পথই খোলা না থাকে তাহলে ‘কালমুয়াল্লাকাহ্’ অর্থাৎ ঝুলিয়ে রেখো না। তাকে তার প্রাপ্য প্রদান করে সুন্দরভাবে বিদায় করো। যদি কোন পুরুষ তাকে ঝুলিয়ে রাখে তাহলে এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রী-ও কাজীর মধ্যস্থতায় খোলা নেয়ার অধিকার রাখে।

যাহোক, আল্লাহ্ তা’লা বলেন মু’মিন পুরুষ এবং মু’মিন নারী যদি প্রেম-প্রীতি এবং ভালবাসার সাথে জীবন যাপনের চেষ্টা করে তাহলেই ত্বাক্ওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত বলে বিবেচিত হবে। আর যদি সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহলে পরস্পর একান্ত ভদ্রতার সাথে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে। পুরুষের উচিত সুন্দরভাবে নারীর প্রাপ্য অধিকার দিয়ে তাকে পৃথক করে দেয়া, কেননা এটিই পুরুষের কর্তব্য এবং নারীর প্রাপ্য অধিকার। আর যেহেতু ত্বাক্ওয়ার দাবী অনুসারে কাজ করা সত্বেও একত্রে বসবাসের সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে ফলে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটছে। তাই আল্লাহ্ তা’লা বলেন, তিনি স্বীয় অফুরন্ত দয়া ও কৃপা দ্বারা নর ও নারী উভয়ের জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা করবেন এবং তাদেরকে নিজ সন্নিধান থেকে প্রাচুর্যশীল করবেন এবং পরমুখাপেক্ষিতা থেকে রক্ষা করবেন। যদিও একটি হাদীসের আলোকে,

‘স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটা আল্লাহ্ তা’লার দৃষ্টিতে চরম অপছন্দনীয় কাজ।’

(আবু দাউদ কিতাবুত ত্বালাক)

কিন্তু যেহেতু ত্বাক্ওয়ার উপর পরিচালিত হয়ে এ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এ কারণে খোদা তা’লা যিনি অন্তর্যামী, তাঁর প্রতি যখন বিনত থেকে এ সিদ্বান্ত গ্রহণ করতেই হলো অর্থাৎ উপায়ান্তর না থাকায় বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটাতে হয়েছে এমন ক্ষেত্রে তিনি প্রাচুর্যশীল হওয়ার বা উভয়ের জন্য পুনরায় প্রাচুর্যের বিধান করবেন। যেহেতু তিনি প্রজ্ঞাবানও সে কারণে আল্লাহ্ তালার সাহায্য প্রার্থনা করে যে সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হয় তা প্রজ্ঞাপূর্ণ হয়ে থাকে, আর আল্লাহ্ তা’লার নির্দেশনার আলোকে হয়ে থাকে।

এ আয়াতে একটি মৌলিক কথা এও বলা হয়েছে যে, আবেগতাড়িত হয়ে আত্মীয়তার সিদ্ধান্ত করা উচিত নয়। পিতা-মাতা বা ছেলে-মেয়ে কারো পক্ষ হতেই আবেগের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়া উচিত নয়। বরং খোদা তা’লা যিনি সবকিছু অবহিত এবং সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন তাঁর সাহায্য নিয়ে, দোয়ার মাধ্যমে চিন্তা-ভাবনা করে আত্মীয়তা করা বাঞ্ছনীয় আর এভাবে আত্মীয়তা গড়ে উঠলে আল্লাহ্ তা’লা বলেন, তিনি আপন কৃপায় এতে প্রাচুর্য দান করেন। আল্লাহ্ তা’লা তাদেরকে প্রাচুর্যশীল করে দেন, তাদের সম্পদেও আল্লাহ্ তা’লা বরকত দেন আর তাদের সম্পর্ক সুমধুর করেন।

একটু আগেই আমি তালাকের উল্লেখ করেছিলাম, অনেক পুরুষ তালাকের বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখে এবং প্রলম্বিত করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। প্রথমত: বিয়ের পর, কিছুদিন পুরুষ-নারী একত্রে বসবাস করে, অনেক সময় সন্তানাদিও হয়ে যায়, তারপর তালাকের প্রয়োজন দেখা দেয়। এমন ক্ষেত্রে পুরুষকে যা দিতে হবে এবং তার দায়-দায়িত্বের বিষয়টি সুস্পষ্ট। সন্তানদের ভরণ-পোষণ এবং দেন মোহর ইত্যাদি। কিন্তু আল্লাহ্ তা’লা বলেন, অনেক সময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে, এখনও রুখসতী বা কন্যা-বিদায় হয়নি অথবা দেন মোহর নির্ধারিত হয়নি (এসময়ে যদি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়) সেক্ষেত্রেও নারীর প্রাপ্য অধিকার প্রদান করো।

সূরা আল্ বাকারাতে আল্লাহ্ তা’লা বলেন:

لَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ اِنْ طَلَّقْتُمُ النِّسَآءَ مَا لَمْ تَمَسُّوْهُنَّ اَوْ تَفْرِضُوْا لَهُنَّ فَرِيْضَةً ۖۚ وَّمَتِّعُوْهُنَّ‌ۚ عَلَى الْمُوْسِعِ قَدَرُهٗ وَ عَلَى الْمُقْتِرِ قَدَرُهٗ‌ۚ مَتَاعًاۢ بِالْمَعْرُوْفِ‌‌ۚ حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِيْنَ‏

অর্থ: তোমাদের কোন পাপ হবে না যদি তোমরা স্ত্রীদিগকে ঐসময়েও তালাক দাও যখন তোমরা তাদেরকে স্পর্শ করোনি, অথবা তাদের জন্য দেন মোহর ধার্য করনি। কিন্তু তোমরা তাদেরকে উপহারস্বরূপ কিছু দিও; বিত্তবানের উপর তার ক্ষমতানুযায়ী এবং বিত্তহীনের উপর তার সাধ্যানুযায়ী - ন্যায়সংগতভাবে উপকার করা বিধেয়। এটি সৎকর্মশীলদের কর্তব্য।

(সূরা আল্ বাকারা: ২৩৭)

এ আয়াতে খোদা তা’লা বলেন, কারণ যাই হোক না কেন পুরুষ যদি কোন মূল্যে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে না চায়, তখন সে সম্পর্ক ছিন্ন করার বেলায় নারীর প্রতি সহানুভূতিসূলভ আচরণ করা এবং নিজ সামর্থানুযায়ী তাকে উপহার প্রদান করা পুরুষের কর্তব্য। আল্লাহ্ তা’লা যদি সামর্থ দিয়ে থাকেন তাহলে পুরুষের প্রতি নির্দেশ হলো, সেই সামর্থের বহিঃপ্রকাশ আবশ্যক। যে খোদা সামর্থ দিয়েছেন যদি তোমরা তা প্রকাশ না করো তাহলে তিনি তা প্রত্যাহার করার ক্ষমতাও রাখেন। স্বাচ্ছন্দ্য থাকা সত্ত্বেও যদি প্রাপ্য অধিকার প্রদান না করো, অনুগ্রহ না করো তাহলে সেই স্বাচ্ছন্দ্যকে দারিদ্রতায় পরিবর্তন করার শক্তিও তিনি রাখেন। কাজেই আল্লাহ্ তা’লার কৃপা হতে যদি অংশ পেতে চাও নারীর প্রতি অনুগ্রহসূলভ ব্যবহার করতে গিয়ে স্বীয় স্বাচ্ছন্দ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটাও আর যেহেতু আল্লাহ্ তা’লা কারো উপর তার সাধ্যাতীত বোঝা অর্পণ করেন না তাই বলেছেন, যদি বিত্তহীন বেশি দেবার সামর্থ না রাখে তবে নিজ সামর্থানুসারে যতটুকু বিধেয় তাই দেবে। অতএব আল্লাহ্ তা’লা বলেন, যদি তোমরা সৎকর্মশীল হও এবং খোদা ভীতির দাবী মোতাবেক কাজ করো তাহলে তোমাদের জন্য এরূপ অনুগ্রহ করা অবশ্য কর্তব্য।

মহানবী (সা.)এর উপর কত সচেতনভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তা একটি হাদীস হতে বুঝা যায়।

‘একদা একজন আনসারী বিয়ে করেন তারপর স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক দেন অথচ তখনও তার দেন মোহর নির্ধারণ করা হয়নি। বিষয়টি যখন মহানবী (সা.)-এর খিদমতে পেশ করা হয় তখন তিনি (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি অনুগ্রহ করতঃ তাকে কিছু দিয়েছ কি? সেই সাহাবী নিবেদন করেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তাকে দেয়ার মত আমার কাছে কিছুই নেই। একথা শুনে তিনি (সা.) বলেন, যদি কিছুই না থাকে তাহলে তোমার মাথায় যে টুপি আছে তাই দিয়ে দাও।’

(রূহুল মা’য়ানী, ১ম খন্ড, পৃ: ৭৪৫-৭৪৬)

এথেকে বুঝা যায় যে, মহানবী (সা.) নারীর অধিকার কীভাবে সুস্পষ্ট করেছেন এবং এ সম্পর্কে কত সচেতন ছিলেন। মোটকথা হলো দেন মোহর নির্ধারিত না হলেও কিছু না কিছু দাও। আর পূর্বেই যদি দেন মোহর নির্ধারিত হয়ে থাকে তাহলে এমন পরিস্থিতিতে কি করতে হবে? এ সম্পর্কে পরের আয়াতে অত্যন্ত পরিস্কার নির্দেশনা রয়েছে অর্থাৎ দেন মোহর নির্ধারিত হয়ে থাকলে তার অর্ধেকাংশ পরিশোধ করো।

এভাবে পবিত্র কুরআন পুরুষ ও তার পরিবারের উপর নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে আর পুরুষের দায়িত্ব-কর্তব্য কি তা বলেছে। তাদের আত্মীয়স্বজন বা সন্তানদের দুধ পান করানো সম্পর্কে অত্যন্ত পরিস্কার নির্দেশনা প্রদান করেছে। অনুরূপভাবে নারীরও দায়-দায়িত্ব রয়েছে যা সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সন্তান-সন্তুতি এবং স্বামী সম্পর্কে যে নির্দেশ রয়েছে তা পালন করা নারীর জন্য কর্তব্য। পুরুষ এবং নারীর সকল অধিকার এবং পরস্পরের প্রতি যে দায়-দায়িত্ব রয়েছে তার উল্লেখ করতে গিয়ে খোদা তা’লা বলেন, আমরা তোমাদের শক্তি-সামর্থকে দৃষ্টিতে রেখে এসব দায়-দায়িত্ব অর্পণ করেছি তাই তা পালন করো। এটি বিস্তারিত একটি বিষয় যা এখন আমি বর্ণনা করবো না। এখন কেবল যে দু’টি বিষয় আমি তুলে ধরেছি তাই যথেষ্ট। এ সম্পর্কে প্রথমতঃ যা বলতে চাচ্ছি তা হলো, স্ত্রীদের অধিকার সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ কিরূপ? আর আল্লাহ্ তা’লার সন্তুষ্টি লাভের জন্য তিনি (সা.) এসব অধিকার প্রদানের কি মহান মান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। দ্বিতীয়তঃ সেই আদর্শের উপর পরিচালিত হবার মানসে সকল আহমদী মুসলমানকে এসব অধিকার প্রদানের প্রতি কতোটা মনোযোগ নিবদ্ধ করা প্রয়োজন। বিশেষভাবে সেই কর্তব্য পালনের প্রতি যা আল্লাহ্ তা’লা পুরুষের উপর ন্যস্ত করেছেন।

এখন আমি আরেকটি বিষয়ের প্রতিও মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই যা আল্লাহ্ তা’লার ফযলে জামাতের ভেতর সার্বজনীন না হলেও আহমদী সমাজের কোন কোন স্থান হতে এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনের সূরা আল্ আন্’আমে বলেন:

وَلَا تَقْرَبُوْا مَالَ الْيَتِيْمِ اِلَّا بِالَّتِىْ هِىَ اَحْسَنُ حَتّٰى يَبْلُغَ اَشُدَّهٗ‌ۚ وَاَوْفُوْا الْكَيْلَ وَالْمِيْزَانَ بِالْقِسْطِ‌ۚ لَا نُـكَلِّفُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا‌ۚ وَاِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوْا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبٰى‌‌ۚ وَبِعَهْدِ اللّٰهِ اَوْفُوْا‌ؕ ذٰلِكُمْ وَصّٰٮكُمْ بِهٖ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَۙ‏

অর্থ: এবং কেবল সেই নিয়ম ব্যতীত যা সর্বোত্তম, তোমরা এতীমের ধন-সম্পদের নিকট যেও না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা প্রাপ্ত বয়সে উপনীত হয়। এবং ন্যায় সঙ্গতভাবে মাপ ও ওজন পুরোপুরি দাও আমরা করো উপর সাধ্যাতীত দায়িত্ব ভার অর্পন করি না। এবং যখন তোমরা কথা বল তখন তোমরা ন্যায়বিচার কর- যদিও নিকটাত্মীয়ই হোক না কেন। এবং আল্লাহ্‌র অঙ্গীকারকে পূর্ণ কর এটি সেই বিষয় যার তাকিদপূর্ণ আদেশ তিনি তোমাদেরকে দিচ্ছেন যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।

(সূরা আল্ আন্’আম: ১৫৩)

এ আয়াতে প্রায় পাঁচটি বিষয় বর্ণিত হয়েছে যা আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া প্রথম কথা যা বলেছেন তাহলো, আল্লাহ্ তা’লার অমোঘ ঘোষণা- আমরা কারো উপর তার সাধ্যাতীত বোঝা অর্পণ করি না, যেভাবে আমি পূর্বেও বলেছি; বান্দাদের সামর্থ কতটুকু আর এর পরিসীমা কি তা আল্লাহ্ তা’লা স্বীয় সর্বব্যাপী জ্ঞানের আলোয় অবহিত আছেন। অতএব আল্লাহ্ তা’লা যেসব আদেশ-নিষেধ দিয়েছেন তা আমাদের সাধ্যের ভেতর, যা আমরা পালন করতে সক্ষম।

এ আয়াতে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে সর্ব প্রথম নির্দেশ হচ্ছে, সর্বোত্তম পন্থা ছাড়া এতীমের ধন-সম্পদের নিকটে যেও না। যার কাছে এতীমের সম্পদ আসে সে তার রক্ষক (আমীন)। তাই তা এতীমদের কল্যাণার্থে ব্যবহার করা বাঞ্চনীয়।

আল্লাহ্ তা’লা এই আয়াতের এক-দুই আয়াত পূর্বে বলেন, তোমাদের প্রথম চেষ্টা হওয়া উচিৎ যাতে এতীমের সম্পদ সুরক্ষিত থাকে আর নিজেরা তাদের পড়াশুনা এবং লালন-পালনের ব্যবস্থা করো কিন্তু যদি কারো সঙ্গতি না থাকে আর ব্যয়ভার বহন করতে না পারে তাহলে সে অতি সাবধানে তাদের সম্পদ হতে তাদের পিছনে ব্যয় করতে পারে। কোনক্রমেই তাদের বড় হওয়ার পূর্বে তাদের সম্পদ উড়িয়ে দেয়া যাবেনা। অতএব সত্যিকার ঈমানদার সে যে এতীমদের বড় হওয়া পর্যন্ত তাদের ধন-সম্পদ রক্ষণা-বেক্ষণের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে আর সত্যিকার দায়িত্ব পালন তখনই সম্ভব হবে- নিজের মূলধন বিনিয়োগের সময় যেমন দরদ রাখে আর চিন্তা-ভাবনা করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করে, ব্যবসার বা লাভের উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করে অথবা লাভজনক ব্যবসায় লগ্নি করে এতিমের সম্পদের প্রতিও অনুরূপ দরদ থাকা চাই। অবশ্য ব্যবসা বলতে কেবল লাভই বুঝায় না কেননা যদি কেবল লাভের জন্য বিনিয়োগ করা হয় তাহলে তা সুদেরই নামান্তর। মোটকথা যেভাবে নিজের সম্পদের জন্য দরদ রয়েছে অনুরূপভাবে এতীমের সম্পদের জন্য দরদ থাকা উচিৎ। এতীমের সম্পদ বিনিয়োগের নির্দেশ রয়েছে যাতে ব্যবসায় উন্নতির ফলে তারা লাভবান হতে পারে অথবা তাদের সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর যখন তারা বড় হবে তখন ব্যবসা-বাণিজ্যে যেন তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এরফলে সে এতীম হওয়া সত্ত্বেও সমাজের একটি মর্যাদাবান ও সম্মানিত অংশে পরিণত হবে।

কিন্তু অনেক সময় অভিযোগ আসে যে, আত্মীয়-স্বজন এতীমের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করতে গিয়ে সততার পরিচয় দেয়নি। কোন আত্মীয়ের কাছে তার এতীম ভাতিজা বা ভাগ্নে থাকলে তাদের সম্পদকে অন্যায়��াবে আত্মসাৎ করা হয়। এমন লোকদের স্মরণ রাখা উচিৎ যে, এমন সম্পদ ভক্ষণ করলে তাদের অর্থ সম্পদ কখনও বৃদ্ধি পাবে না আর এই পার্থিব জগতে কোনরূপ আর্থিক স্বার্থ সিদ্ধি হলেও তারা আল্লাহ্ তা’লার সেই সতর্কবাণীর আওতায় আসবে যাতে আল্লাহ্ তা’লা বলেন, যারা এতীমের সম্পদ ভক্ষণ করে,

اِنَّمَا يَاْكُلُوْنَ فِىْ بُطُوْنِهِمْ نَارًا‌

অর্থ: তারা নিজেদের উদরে কেবল অগ্নি ভক্ষণ করে।

(সূরা আন্ নিসা: ১১)

আর যারা এসব অত্যাচারীকে সাহায্য করে তারাও আল্লাহ্ তা’লার নির্দেশ পরিপন্থী কাজ করে। এই আয়াতের পরেই তা বর্ণিত হয়েছে,

فَاعْدِلُوْا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبٰى‌‌

অর্থ: তোমরা ন্যায়বিচার কর, যদিও নিকটাত্মীয়ই হোক না কেন।

(সূরা আল্ আন্’আম: ১৫৩)

অতএব এতীমের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি বড়ই স্পর্শকাতর। যদি কেউ অন্যায়ভাবে তা ব্যবহার করে তাহলে তার যেন কোনভাবে সাহায্য না করা হয়। এতীমদের সম্পদের হিফাযত এবং তাদের প্রাপ্ত বয়সে উপনীত হওয়ার পর ধন-সম্পদ তাদের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ প্রদানের পর আল্লাহ্ তা’লা বলেন, মাপ ও ওজন ন্যায় সঙ্গতভাবে পুরোপুরি দাও। অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতারণার আশ্রয় নিও না। কেননা জাতির উপর যেসব ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসে সেক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতারণাও একটি কারণ হয়ে থাকে। সাহাবীদের রীতি ছিল, অনেক সময় পণ্যের ত্রুটি ক্রেতার চোখে না পড়লেও তাঁরা নিজেদের জিনিষ সম্পর্কে স্বয়ং বলে দিতেন যে, এতে এই এই খুঁত আছে যেন কোনরূপ প্রতারণা না হয়।

আদ্ল বা ন্যায়বিচারের কথা আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি। শেষের দিকে আল্লাহ্ তা’লা বলেন, আল্লাহ্ তা’লার সাথে কৃত তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করো। প্রথম কথাগুলো হচ্ছে, সমাজের উন্নতি এবং এর অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। কিন্তু এর উপর তখনই প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব যদি এ বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ্ তা’লা সেই সত্তা যাঁর জ্ঞানের পরিধি সবচেয়ে ব্যাপক। তিনি জানেন যে, কে কতটা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে। আল্লাহ্ তা’লার সত্তাকে দৃষ্টিতে রেখে নিজেদের অঙ্গীকার যদি রক্ষা কর তাহলেই আল্লাহ্‌র অধিকার এবং বান্দার প্রাপ্য প্রদানে সমর্থ হবে। এবং যখন এসব বিষয় তুমি বুঝবে তখনই বুঝা যাবে যে, তুমি উপদেশ গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহ্ তা’লার নির্দেশের উপর কঠোরভাবে অনুশীলনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছ। কোনভাবেই এ ধারণা করা উচিত নয় যে, এই কাজ আমার শক্তি ও সামর্থের ঊর্ধ্বে বরং আল্লাহ্ তা’লার যেসব আদেশ রয়েছে তা আমাদের সাধ্য মোতাবেক তাই সর্বদা তা পালন করার চেষ্টা করো।

যখন আমাদের চিন্তাধারা এমন হবে এবং এর উপর আমল করার চেষ্টা থাকবে তখন আমরা আল্লাহ্ তা’লার সেই প্রতিশ্রুতি ও শুভসংবাদ অনুযায়ী কেবল আর কেবলমাত্র তাঁর কৃপা হতে অংশ লাভকারী হবো। যেখানে আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَا نُـكَلِّفُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَاۤ اُولٰۤٮِٕكَ اَصْحٰبُ الْجَـنَّةِ‌ۚ هُمْ فِيْهَا خٰلِدُوْنَ‏

অর্থ: এবং যারা ঈমান আনে এবং পুণ্যকর্ম করে- আমরা কোন আত্মার উপর তার সাধ্যাতীত দায়িত্বভার অর্পণ করি না- এরাই জান্নাতের অধিবাসী; তথায় তারা চিরকাল বাস করবে।

(সূরা আল্ আ’রাফ: ৪৩)

আল্লাহ্ করুন যেন সর্বদা সেই খোদার সমীপে বিনত এবং তাঁর নির্দেশাবলীর উপর আমলকারী হই। যিনি আমাদের শক্তি এবং যোগ্যতানুসারে আমাদের আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন। যিনি আমাদের প্রতি আমাদের সীমিত সামর্থ মোতাবেক আমলের বোঝা অর্পণ করেছেন কিন্তু পাশাপাশি স্বীয় অকূল এবং অসীম ও সুপ্রশস্ত নিয়ামতের উল্লেখ করে স্বীয় ক্ষমার চাদরে আবৃত করার সুসংবাদও প্রদান করেছেন। কাজেই এই ব্যাপকতর রহমত এবং দয়ার কারণে ঈমান সমৃদ্ধি এবং সৎকর্ম সম্পাদনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এর তৌফিক দিন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে