In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবা

আল্লাহ্ তা’লার গুণবাচক নাম ‘হাদী’ (পথপ্রদর্শক) - দ্বীতিয় অংশ

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১৩ই ফেব্রুয়ারী ২০০৯ইং

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

গত খুতবায় আমি ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ এর বরাতে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর তত্বপূর্ণ লেখনীর আলোকে এ কথা ব্যাখ্যা করেছিলাম যে, এই দোয়াতে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর আবির্ভাবের ভবিষ্যদ্বাণীও আছে। এতে মুহাম্মদী সিলসিলার মধ্য থেকেই মসীহ্ মওউদ এর জন্ম নেয়ার ভবিষ্যদ্বাণীও রয়েছে এবং এতে যুগ ইমামকে মানার নির্দেশও রয়েছে। মুসলমানদেরকে এর প্রতি মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। মুসলমানদের দুর্বল অবস্থার সংশোধন এবং মুসলিম দেশসমূহের সম্মান ও মর্যাদা পুনঃবহাল ও প্রতিষ্ঠার জন্য এটিই একমাত্র সমাধান এবং উপায় যে, মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী মোতাবেক আল্লাহ্ তা’লার এই প্রেরিত পুরুষকে কবুল করে নেয়া। আল্লাহ্ করুন তারা যেন এই গূঢ় সত্যকে অনুধাবন করে।

আজ আমি এই আয়াতের সূত্র ধরে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) আমাদের আধ্যাত্মিক ও পার্থিব উন্নতির জন্য যে হেদায়াত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন তার মধ্য থেকে কয়েকটি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। যাতে বুঝা যায়, এই দোয়ার ব্যাপকতা কতো বেশি এবং হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে মানার পর আমাদের দায়-দায়িত্ব কী। এটিই আমাদের পরম লক্ষ্য হওয়া চাই। স্বীয় অবস্থার সংশোধন এবং সার্বিক উন্নতির জন্য আমাদের কী কী করতে হবে, কীভাবে আমাদের দোয়া করতে হবে। যাহোক, আমি উদ্ধৃতি উপস্থাপন করবো কিন্তু এর আগে এ প্রসঙ্গে আমি কিছু কথা বলতে চাই যাতে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়।

হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বিভিন্ন অভিধানের আলোকে ‘হাদা’র যে অর্থ করেছেন তাতে তিনটি বিষয় বর্ণনা করেছেন:

পথ দেখানো, রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছানো এবং সম্মুখে এগিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো।

রাস্তা দেখানো এবং রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছানো বাহ্যত এক মনে হলেও আসলে দূরে দাঁড়িয়ে থেকেও মানুষ পথ বাতলে দেয় যে, এই রাস্তা দিয়ে অমুক স্থানে যাওয়া যায়। আর রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছানোর অর্থ হচ্ছে, সেই রাস্তায় ছেড়ে আসা যা গন্তব্যে পৌঁছে। এরপর সেই রাস্তায় বরং সাথে গিয়ে সেই গন্তব্যে পৌঁছানো, এ হলো হাদী’র অর্থ। পবিত্র কুরআনেও আল্লাহ্ তা’লা এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন আয়াতে হেদায়াতের উল্লেখ করেছেন।

ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ এর দোয়াতে আমরা এই দোয়া করি এবং করা উচিত যে, হে আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে এমন পথে পরিচালিত করো, এভাবে আমাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করো যা ভালো পথ এবং নেকীর পানেও পরিচালিত করে, এরপর আমরা সেই পথে পরিচালিত হয়ে পুণ্যও অর্জন করবো। কেবল পথ সনাক্ত হলেই হবে না বরং আমরা তার উপর পরিচালিত হয়ে নেকীও অর্জন করবো। তারপর এই উদ্দেশ্য অর্থাৎ নেকী দ্রুত অর্জন করার পর উন্নতির সোপানও অতিক্রম করতে থাকবো। সুতরাং এই দোয়া করার পর মানুষ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না, একজন মু’মিন কখনো নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে না বরং সর্বদা আধ্যাত্মিকতায় সমৃদ্ধ হওয়া এবং পার্থিব উন্নতির নতুন-নতুন ধাপ মাড়ানোর চেষ্টাও করবে। সাধারণত জাগতিক ব্যাপারে আমরা ক্রমন্নোতির চেষ্টা করে থাকি এবং প্রাণান্ত চেষ্টা করি। কিন্তু তুলনামূলকভাবে আধ্যাত্মিকতার বেলায় এতোটা চেষ্টা করা হয় না। মোটকথা এই দোয়ায় উভয় জগতের অর্থাৎ পার্থিব এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির উল্লেখ রয়েছে। দ্বিতীয়তঃ এই দোয়াতে সন্যাসব্রতকে রদ করা হয়েছে। যারা বলে যে, ফকির হয়ে গেছে, এই পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তাদের কথাকেও রদ করা হয়েছে। যখন আল্লাহ্ তা’লা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তখন সৃষ্টির সাথে সাথে অগণিত নিয়ামত সৃষ্টি করেছেন, আর এই দোয়াতে তা লাভ করার প্রতিও মনোযোগ আকৃষ্ট করেছেন। সুতরাং যেহেতু তা অর্জন করার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তখন এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ্ তা’লা এসব কিছু মানুষের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। যাদেরকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ (সৃষ্টির সেরা জীব) বানিয়েছেন, তাদের উচিত পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে এগুলো অর্জন করার চেষ্টা করা। এরপর, যেভাবে আমি বলেছি, পার্থিব জ্ঞান ও মা’রেফতে উন্নতিরও দোয়া এটি। তারপর আধ্যাত্মিক জগতে উন্নতির জন্য এবং খোদা তা’লার সন্তুষ্টি লাভ করারও দোয়া এটি। যেহেতু হেদায়াত কেবল খোদা তা’লাই দিতে পারেন যেভাবে তিনি বলেন,

إِنَّ هُدَى ٱللَّهِ هُوَ ٱلۡهُدَى‌ۗ

অর্থ: ‘নিশ্চয় আল্লাহ্‌র হেদায়াতই প্রকৃত হেদায়াত।’ (সূরা আল্ বাকারা: ১২১)

এজন্য এই দোয়াও শিখিয়েছেন যে, কোনো ব্যাপারে যদি হেদায়াত বা নির্দেশনা লাভ করতে চাও তাহলে আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করো, ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ অর্থাৎ আমাদেরকে সরল-সুদৃঢ় পথে পরিচালিত করো। প্রতিটি প্রার্থিত বস্তুর জন্য নির্ধারিত যে পথ রয়েছে তার পানে আমাদেরকে পরিচালিত করো যাতে আমরা এর উপর সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারি, তা অর্জন করতে পারি। আর কেবল অর্জনই নয়, বরং সত্বর লাভ করতে পারি। অতএব উন্নতি লাভ করার জন্যও হৃদয়ে এই দোয়া উত্থিত হতে থাকে। কেননা এই দোয়ার সাথে সাথে একজন মানুষ আল্লাহ্ তা’লার কাছে এটিই বলে যে, হে খোদা! আমাকে এমন পথে পরিচালিত করো যেখানে আমার সকল কর্ম বৈধ পন্থায় অর্জিত হবে। যখন আল্লাহ্‌র কৃপায় একটি গন্তব্যে পৌঁছবো তখন পরবর্তী গন্তব্যের লক্ষ্যে নির্দেশনা ��্রদান করো। যাতে সময়ক্ষেপণ ছাড়াই পরবর্তী গন্তব্যের প্রতি ধাবিত থাকি। আর গন্তব্যের পর গন্তব্য অতিক্রম করতে থাকবো।

এখানে আরো একটি বিষয় সুস্পষ্ট করতে চাই যে, আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ এর দোয়া শিখিয়েছেন অর্থাৎ আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করো। যদিও মানুষ ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য দোয়া করে, কিন্তু যখন এক জামাতভূক্ত হয়, তখন জামাতের জন্যই আমাদের চিন্তা-ভাবনা এবং দোয়া করা উচিত। যখন এই দোয়া করবেন তখন তা ব্যক্তিগত দুর্বলতা দূর করার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে। যখন একথা মাথায় রেখে ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ এর দোয়া করা হবে অর্থাৎ আমাদেরকে সরল-সুদৃঢ় পথে এবং সফলতার পথে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছার পথে পরিচালিত করো। তখন মানুষ আত্মবিশ্লেষণও করবে যে, জামাতের সদস্য হিসেবে আমি এক্ষেত্রে কী ভূমিকা পালন করছি? স্বীয় আধ্যাত্মিকতাকে কতোটা সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছি? আল্লাহ্ বান্দাদের প্রাপ্য অধিকার কতোটা প্রদান করেছি? যখন আমরা আল্লাহ্ তা’লার কাছে হেদায়াতের পথ পাবার জন্য দোয়া করি তখন ব্যক্তিগত অসন্তোষ কীভাবে থাকতে পারে, আমাদেরকে তো একতাবদ্ধ হয়ে সেই পথে পরিচালিত হতে হবে। যেখানে আমাদের ব্যক্তিগত লাভও হবে, সেখানে জামাতের উন্নতি এবং দৃঢ়তার জন্যও চেষ্টা করতে হবে। আমাদেরকে নিজেদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্যও চেষ্টা করতে হবে, স্বীয় জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করার প্রতিও মনোনিবেশ করতে আর কর্মের সংশোধনের প্রতিও মনোযোগ নিবদ্ধ রাখতে হবে। তবেই আল্লাহ্ তা’লা স্বীয় প্রতিশ্রুতি মোতাবেক উন্নতির পথ উন্মুক্ত করতে থাকবেন। যেভাবে বলেছেন,

وَٱلَّذِينَ ٱهۡتَدَوۡاْ زَادَهُمۡ هُدً۬ى

অর্থ: ‘এবং যারা হেদায়াত পায় আল্লাহ্ তাদেরকে হেদায়াতের মধ্যে আরো বর্ধিত করে দেন।’ (সূরা মুহাম্মাদ: ১৮)

সুতরাং পুণ্যের উপর অবিচল থাকা, দৃঢ়তা প্রদর্শন করা, আল্লাহ্ তা’লার কাছে বর্ধিত হেদায়াতের দোয়া করতে থাকার ফলে ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক উন্নতির পাশাপাশি জামাতের আধ্যাত্মিক উন্নতিও নিহিত। উভয়ক্ষেত্রে সব ধরনের পার্থিব উন্নতিও নিহিত রয়েছে। অতএব এই দোয়া কোনো সাধারণ দোয়া নয় যা আমরা প্রত্যেক নামাযের প্রতি রাকাতে বারবার পুনরাবৃত্তি করে থাকি। বরং যদি এই দোয়া হৃদয় থেকে উৎসরিত হয় তাহলে এটিই সফলতার নিত্য-নতুন পথ উন্মুক্ত করতে থাকে। যেভাবে আমি বলেছি, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বিভিন্ন বিষয়ের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এই দোয়া মানব জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি (আ.) এই বিষয়ের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন:

‘অতএব সার কথা হলো, ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ এই দোয়া মানুষকে সর্বপ্রকার বক্রতা থেকে মুক্ত করে এবং তার কাছে চিরসত্য ধর্মকে সুস্পষ্ট করে।’

অর্থাৎ চিরন্তন ইসলাম ধর্মের শিক্ষাসমূহ তার নিকট সুস্পষ্ট করে।

‘এবং তাকে পরিত্যক্ত ঘর থেকে উদ্ধার করে সৌরভপূর্ণ ফুলেল বাগানে নিয়ে যায় আর যে ব্যক্তি এই দোয়াতে অনেক বেশি বিগলন সৃষ্টি করে আল্লাহ্ তা’লা তাকে কল্যাণ এবং আশীসে সমৃদ্ধ করেন।’

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) এক স্থানে বলেন, এটি আবশ্যক নয় যে,

‘এই দোয়া একবার নামাযে পড়েছো বলেই যথেষ্ট বরং বারবার পুনরাবৃত্তি করো যাতে এর অর্থ তোমাদের মস্তিকে পুনরাবৃত্ত হতে থাকে। ফলে আল্লাহ্ তা’লার প্রতি অধিক বিনত হবার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ হয়। এই দোয়া কবুল হবার জন্য হৃদয় থেকে চরম আকুতি উৎসারিত হয়।’

তিনি (আ.) আরো বলেন,

‘নবীরা দোয়ার মাধ্যমেই রহমান খোদার ভালবাসা লাভ করেছেন এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষণিকের তরেও দোয়াকে পরিত্যাগ করেন নি, এবং দোয়াকে উপেক্ষা করা অথবা এই পরম উদ্দেশ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া কারো জন্য শোভনীয় নয়, সে নবী বা রসূলই হোক না কেন। কেননা সত্যপথ এবং হেদায়াত লাভের ধারা কখনও শেষ হবার নয়’

অর্থাৎ নবীরা একটি পদমর্যাদা বা গন্তব্যে পৌঁছেছে বলেই সবকিছু পেয়ে গেছে তা নয় বরং আল্লাহ্ তা’লা তাঁদেরকে যে শক্তি-সামর্থ দিয়েছেন সে মোতাবেক উন্নতির চেষ্টা করতে থাকা আবশ্যক।

তিনি (আ.) বলেন,

সত্যপথ এবং হেদায়াত লাভের ধারা কখনও শেষ হবার নয় বরং তা অনন্ত, বিবেক-বুদ্ধি এবং জ্ঞানের চোখ সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। এজন্যই আল্লাহ্ তা’লা নিজ বান্দাদেরকে এই দোয়া শিখিয়েছেন এবং একে নামাযের প্রবেশদ্বার বানিয়েছেন। এটি নামাযের একটি মৌলিক বিষয় তাই ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ এর এই দোয়া বিশেষভাবে করো।

যাতে মানুষ এর নির্দেশনা থেকে উপকৃত হয় আর এর মাধ্যমে তৌহিদকে (খোদার একত্ববাদ) সম্পূর্ণ করে, এবং খোদার প্রতিশ্রুতি স্মরণ রেখে মুশরিকদের অংশীবাদিতা থেকে মুক্ত থাকে। এই দোয়ার আরেকটি অনুপম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, এটি মানুষের সকল পদমর্যাদাকে ঘিরে রেখেছে।

অর্থাৎ প্রথমত, পথনির্দেশনা এবং হেদায়াত প্রাপ্তির কোনো চূড়ান্ত সীমা নেই, প্রতিটি গন্তব্যে পৌঁছে নতুন গন্তব্যের সন্ধান লাভ করে। দ্বিতীয়ত, সকল শ্রেণীর মানুষ এই দোয়া থেকে উপকৃত হয় বা হতে পারে, দুর্বল ঈমানের অধিকারীও ঈমানী দৃঢ়তার জন্য এত্থেকে লাভবান হবে বরং নাস্তিক এবং ধর্মহীনরাও এদ্বারা লাভবান হবে যাতে তারা আল্লাহ্ তা’লার প্রতি বিনত হয়। যদি কেউ নেক নিয়্যতের সাথে এই দোয়া করে তাহলে এই দোয়া প্রত্যেককে স্বীয় যোগ্যতা অনুসারে পরবর্তী গন্তব্যের পানে পরিচালিত করবে। এবং প্রত্যেক ব্যক্তির উপরও ছেয়ে আছে। এটি একটি অসীম দোয়া যার চূড়ান্ত সীমারেখা বলে কিছু নেই আর এর কোনো শেষ প্রান্তও নেই।

এর কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য বা সীমা নেই।

‘সুতরাং আশীসমণ্ডিত তারা যারা খোদার এক আরেফ (তত্বজ্ঞানী) বান্দার মতো রক্ত ঝরা আহত হৃদয় নিয়ে এবং প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে এই দোয়ার উপর অবিচল থাকে, যা আহত হওয়া সত্বেও ধৈর্য ধারণকারী আত্মা।’

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেছেন,

একান্ত দরদের সাথে এই দোয়া করুন। আহত মানুষের ব্যথার মতো চরম বেদনার সাথে দোয়া করুন, যিনি আঘাত সত্বেও ধৈর্য ধারণ করেন এবং প্রার্থনা করতে থাকেন। এবং প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে ক্ষতের চিকিৎসা করতে থাকেন। নিজ আত্মাকে আল্লাহ্ তা’লার ইচ্ছায় সন্তুষ্ট রেখে জীবনে, চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। সেই গন্তব্য কী? তাহলো আল্লাহ্ তা’লার সন্তুষ্টি অর্জন করা।

তিনি (আ:) বলেন,

‘এটি সেই দোয়া যা সকল প্রকার কল্যাণ, শান্তি, দৃঢ়তা, অবিচলতায় সমৃদ্ধ এবং এই দোয়াতে ‘রব্বুল আলামীন’এর পক্ষ থেকে অনেক সুসংবাদ রয়েছে।’

এই সুসংবাদগুলো কী কী তার দু’একটি দৃষ্টান্ত এখানে উপস্থাপন করছি। আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

وَمَن يُؤۡمِنۢ بِٱللَّهِ يَہۡدِ قَلۡبَهُ

অর্থ: ‘এবং যে আল্লাহ্‌র উপর ঈমান আনে-তিনি তার হৃদয়কে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।’ (সূরা আত্ তাগাবূন: ১২)

এরপর বলেন,

وَإِن تُطِيعُوهُ تَهۡتَدُواْ‌ۚ

অর্থ: ‘যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো তাহলে তোমরা হেদায়াত পাবে।’ (সূরা আন্ নূর: ৫৫)

এ আয়াতে যে বিষয় বর্ণিত হয়েছে তার অর্থ হলো, মহানবী (সা.)-এর আনুগত্য করা। যদি আঁ-হযরত (সা.)-এর আনুগত্য করো তাহলে হেদায়াত পাবে। হেদায়াত কী? যেভাবে খুতবার শুরুতে এর অর্থ করতে গিয়ে আমি বলেছি, উন্নতির পানে এগিয়ে যাওয়া, আল্লাহ্ তা’লার সন্তুষ্টি অর্জন করা, এবং আল্লাহ্ তা’লার সন্তুষ্টি ও ভালবাসা লাভ করা মহানবী (সা.)-এর অনুসরণ এবং আনুগত্যের সাথে শর্তযুক্ত। ���বিত্র কুরআনেও এর উল্লেখ রয়েছে।

সুতরাং ঈমানে দৃঢ়তা, হেদায়াতের পানে ক্রমন্নোতি এবং আল্লাহ্ তা’লার সন্তুষ্টি লাভের জন্য ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ দোয়া একান্ত আবশ্যক। তারপর আল্লাহ্ তা’লা এই দোয়া কবুল করে নিজ বান্দাকে অগণিত পুরস্কারে ভূষিত করেন।

এরপর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ এর ধরন এবং এদ্বারা হেদায়াত পাবার পন্থা সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন,

‘সত্যিকার অর্থে পুণ্যের পথে পরিচালিত হবার নামই সিরাতে মুস্তাকীম।’

সিরাতে মুস্তাকীম হচ্ছে সত্যিকারভাবেই পুণ্যের পথে বিচরণ করা।

‘এবং এরই নাম মধ্যমপন্থা এবং সংযম কেননা, এর দ্বারাই আল্লাহ্ তা’লার একত্ববাদ বা তৌহিদ যা মানব জীবনের পরম উদ্দেশ্য তা অর্জিত হয়।’

অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’লার তৌহিদ যা মানব জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য, যদি মানুষ সংযমী হয় তবেই খোদার সত্যিকার তৌহিদ প্রমাণিত হয়। তা কীভাবে? তিনি (আ:) বলেন,

‘এবং যে ব্যক্তি এই পুণ্য অর্জনের ক্ষেত্রে আলস্য দেখায় সে এতে কম করে এবং যে ব্যক্তি এক্ষেত্রে বেশি বা কম করে সে সীমা লঙ্ঘনকারী।’

অর্থাৎ যে নেকী করার ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শন করে সে আল্লাহ্ তা’লার নির্দেশাবলীকে খাটো করে দেখে আর যে বেশি করার চেষ্টা করে সে আল্লাহ্ তা’লার নির্দেশাবলীর ক্ষেত্রে সীমাতিক্রম করে। উদাহরণস্বরূপ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে যা নিয়ে মানুষ বিতর্ক করে বা নেকীর প্রকাশ করে। নেকী করা খুবই ভালো এবং পুণ্যের প্রসার করা খুবই উত্তম। কিন্তু কতক বিষয় এমন আছে যার ব্যাপারে প্রজ্ঞার আলোকে জামাতের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, যদিও দুর্বলতা প্রদর্শন করা যাবে না তথাপি পরিস্থিতির কারণে চুপ থাকাই মঙ্গলজনক। এবং ইমাম ও যুগ খলীফার পক্ষ থেকে এই নির্দেশ জারী করা হয় যে, এরূপ পরিস্থিতিতে কিছুটা নিরবতা পালন করাই শ্রেয়। কিন্তু অনেকে আবেগের বশবর্তী হয়ে অপ্রয়োজনীয় উদ্দীপনা দেখায়। ফলে তা সেই সমাজে বসবাসকারী অন্যদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এজন্যই হাদীসেও বর্ণিত হয়েছে ‘আল্ ইমামু জুন্নাতুন’ অর্থাৎ ‘ইমাম ঢাল স্বরূপ’। তাঁর পিছনে থেকে তাঁর সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করার চেষ্টা করো। যদি বেশী আবেগপ্রবণ হও, বেশি অগ্রসর হবার এবং স্বইচ্ছা বলবৎ করার চেষ্টা করো, যদি তা নেকীও হয় আর আল্লাহ্ তা’লাও তা করার নির্দেশ দিয়ে থাকেন তবুও তা সীমালঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। তাই হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেছেন, যদি দুর্বলতা দেখাও তাও ভুল আর যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি এবং পরিস্থিতি সাপেক্ষে কাজ না করে বেশি এগুনোর চেষ্টা করো তাহলে সেটিও ভুল। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘সকল স্থানে দয়া দেখানো অসমীচীন। কেননা উপযুক্ত স্থানের সাথে অস্থানকে যুক্ত করে দেয়া সত্যের প্রতি অবিচার।’

মোটকথা, সবস্থানে দয়া প্রদর্শন করা ঠিক নয়, যেমন এক চোর বা পেশাদার অপরাধীকে ক্ষমা করা, প্রতিবারই ক্ষমা করা যাতে সে অপরাধ করতেই থাকে, এটি অসঙ্গত এবং সীমাতিক্রম। তিনি (আ.) বলেন,

‘আর এটিই সীমালঙ্ঘন এবং কোথাও দয়া না করা এটিও অন্যায্য।’

অর্থাৎ এতোটা স্বেচ্ছাচারী হওয়া যে, যদি কোথাও ক্ষমা, মার্জনা বা উপেক্ষা করার ফলে কারো সংশোধন হয় সেক্ষেত্রে ক্ষমা না করে তাকে শাস্তি দেয়া বা শাস্তির জন্য সুপারিশ করাও অন্যায়। মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন,

‘কেননা এর ফলে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় আর এটি একান্তই অনুচিত।’

অর্থাৎ স্থান-কাল ভেদে শাস্তি দেয়া বা না দেয়ার বিষয়টি অগ্রাহ্য করা হয়। তিনি (আ.) বলেন,

‘উপযুক্ত স্থানে যথার্থ কাজ করাই প্রকৃত নৈতিকতা এবং মধ্যপন্থা আর এটিই সিরামে মুস্তাকীম নামে আখ্যায়িত।’

অর্থাৎ প্রতিটি কর্ম স্থান-কাল-পাত্র ভেদে করাই যুক্তিযুক্ত এবং এটিই মধ্যপন্থা। তাই এটি অবলম্বন করা আবশ্যক। এবং এরই নাম সিরাতে মুস্তাকীম।

মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন,

‘যা লাভ করার জন্য প্রত্যেক মুসলমানের চেষ্টা করা আবশ্যক। এবং তার দোয়া প্রত্যেক নামাযেও নির্ধারিত রয়েছে যা সিরাতে মুস্তাকীম কামনা করে। কেননা এই কর্মই তাকে তৌহিদের উপর প্রতিষ্ঠিত করবে।’

অর্থাৎ এটিই সীমা অপেক্ষা কম বা বেশি করা থেকে রক্ষা করে এবং একটি মধ্যপন্থা অবলম্বনের প্রতি মনোযোগ আকৃষ্ট করে। যথোপযুক্ত পথে পরিচালিত করে তৌহিদের পানে ধাবিত করে। মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন,

‘কেননা সিরাতে মুস্তাকীমে প্রতিষ্ঠিত থাকা খোদার বৈশিষ্ট্য।’

অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’লা সর্বদা সরল-সুদৃঢ় পথে থাকে তাই মানুষ এগুলো করলে তৌহিদের পানে পরিচালিত হবে। তিনি (আ.) বলেন,

‘এছাড়া সিরাতে মুস্তাকীমের যথার্থতা হচ্ছে সত্য এবং প্রজ্ঞা। সুতরাং যদি খোদার বান্দাদের সাথে এই সত্য এবং প্রজ্ঞার আলোকে ব্যবহার করা হয় তাহলে এর নাম নেকী বা পুণ্য।’

অর্থাৎ সত্য এবং হিকমতের নাম হচ্ছে সিরাতে মুস্তাকীম। স্থান-কাল ভেদে অনুশীলন করতে হবে। এ অনুযায়ী মানুষের সাথে আমল করলে এর নাম নেকী। তিনি (আ.) বলেন,

‘এবং যদি খোদার জন্য এরূপ কর্ম করা হয় তাহলে এর নাম নিষ্ঠা এবং ইহসান বা অনুগ্রহ।’

এখানে ইহসানের অর্থ কেউ ভুল বুঝবেন না। এস্থলে ইহসানের অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ্ তা’লার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং অনুসরণ করা। আল্লাহ্ তা’লার জন্য যদি সত্যিকার সিরাতে মুস্তাকীম ব্যবহৃত হয় তাহলে এটি আল্লাহ্ তা’লার ইহসান এবং পূর্ণ অনুসরণ, যদি বান্দার সাথে করো তাহলে পরিপূর্ণ নেকী। মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন,

‘এবং যদি স্বীয় নফসের সাথে করো তাহলে এর নাম আত্মশুদ্ধি’।

অর্থাৎ তৃতীয় পর্যায়ে স্বয়ং নিজের জন্য যদি একে অবলম্বন করা হয় তাহলে এই সিরাতে মুস্তাকীম স্বীয় আত্মাকে পবিত্র করবে। তিনি (আ.) বলেন,

‘এবং সিরাতে মুস্তাকীম এমন শব্দকোষ যাতে সত্যিকার পুণ্য, আল্লাহ্‌র জন্য নিষ্ঠা এবং আত্মশুদ্ধি তিনটিই অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।’

সত্যিকার নেকীও এতে রয়েছে, আল্লাহ্ তা’লার সাথে আন্তরিক সম্পর্কও এতে বিদ্যমান এবং স্বয়ং নিজেকে পবিত্র করার শিক্ষাও এতে নিহিত আছে।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন,

‘এস্থলে এটিও বুঝা উচিত যে, সিরাতে মুস্তাকীম যার ভিত্তি সত্য এবং প্রজ্ঞার উপর তা তিন প্রকার যথা: জ্ঞান, কর্ম এবং বর্তমান’।

অর্থাৎ এগুলো যখন সামনে আসে, সত্যিকার নেকীই হচ্ছে সিরাতে মুস্তাকীম, আল্লাহ্ তা’লার সাথে নিষ্ঠাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা আর আত্মশুদ্ধি করাও সিরাতে মুস্তাকীম। তিনটি বিষয়ের উপর এর ভিত্তি আবার এ তিনটিরও তিন ধরন রয়েছে। যদিও এটি খুব কঠিন একটি উদ্ধৃতি। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম যে পড়বো না, কিন্তু অনেকই মসীহ্ মওউদ (আ.) এর লেখা পড়ে না। দ্বিতীয়ত, পৃথিবীতে এমনও অনেক আহ্‌মদী আছেন যাদের ভাষায় এগুলো সহজলভ্য নয় অথচ এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্ধৃতি। তাই আমি উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন যে,

‘(ইলমী) জ্ঞান, (আমলী) কর্ম এবং (হালী) বর্তমান এই তিনটিরও আবার তিনটি ধাপ রয়েছে। ইলমী দ্বারা আল্লাহ্‌র অধিকার, তাঁর বান্দার প্রাপ্য অধিকার এবং নিজ আত্মার অধিকার শনাক্ত করতে হবে। এবং আমলী দ্বারা সেসব অধিকার প্রদান করতে হবে।’

ইলমী কাকে বলে? আল্লাহ্‌র হক্ব, বান্দার হক্ব এবং নিজ আত্মার কী হক্ব রয়েছে তা জ্ঞাত হওয়া। আর আমলী অবস্থা হচ্ছে সেসব অধিকার যথাযথভাবে প্রদান করা। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন,

‘উদাহরণস্বরূপ ইলমী’র হক্ব হচ্ছে, তাঁকে এক জ্ঞান করা’।

অর্থাৎ আল্লাহ্‌র অধিকার প্রদানের অর্থ তাঁকে এক এবং অদ্বিতীয় জ্ঞান করা।

‘এবং তাঁকে সকল কল্যাণের উৎস এবং সকল গুণাবলীর মূর্তিমান আধার’

অর্থাৎ সকল কল্যাণ ও আশীস তাঁর থেকেই উৎসারিত এবং তিনিই সব কল্যাণের জনক আর সকল গুণাবলী তাঁরই মাঝে নিহিত।

‘আর সব কিছুর প্রত্যাবর্তন স্থল’

অর্থাৎ সবকিছু তাঁর প্রতিই প্রত্যাবর্তন করবে।

‘সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি ও ক্ষতির ঊর্ধ্বে জ্ঞান করা’

তিনি সর্বপ্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত।

‘এবং পূর্ণরূপে সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া’

সকল গুণ বা বৈশিষ্ট্যের একমাত্র মালিক হচ্ছেন আল্লাহ্ তা’লা, এর প্রতি একজন মু’মিনের বিশ্বাস রাখা আবশ্যক।

‘এবং তাঁকে সত্যিকার ইবাদতের যোগ্য জ্ঞান করা এবং তাঁর প্রতিই নির্ভর করা’

অর্থাৎ যদি সত্যিকারেই মানুষকে কারো দাসত্ব বরণ করতে হয় তাহলে তা কেবলই আল্লাহ্‌র আর তাঁরই ইবাদত করা আবশ্যক।

‘ইলমী’ সিরাতে মুস্তাকীমের আলোয় এটিই আল্লাহ্‌র হক্ব। ‘আমলী’ সিরাতে মুস্তাকীম হচ্ছে, নিষ্ঠার সাথে তাঁর আরাধনা করা’

অর্থাৎ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে আল্লাহ্‌র আনুগত্য করা, তাঁর নির্দেশ মান্য করা।

‘এবং আরাধনায় তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা এবং স্বীয় মঙ্গল কামনায় তাঁর কাছে প্রার্থনা করা’।

অর্থাৎ যখনই প্রয়োজন দেখা দিবে তাঁর কাছে বিনত হবে এবং তাঁরই কাছে দোয়া করবে।

‘তাঁর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা এবং তাঁরই ভালবাসায় বিলীন হওয়ার নাম হচ্ছে ‘আমলী সিরাতে মুস্তাকীম’ আর এটিই কর্তব্য।’

পুনরায় তিনি (আ.) বলেন,

‘এবং হুকুকুল ইবাদ’র ক্ষেত্রে ইলমী সিরাতে মুস্তাকীম হচ্ছে, তাদেরকে নিজেদের মতোই মানুষ জ্ঞান করা।’

অর্থাৎ এরাও আমাদেরই মতো এরচেয়ে বেশি কিছু নয়; আল্লাহ্‌রই সৃষ্টি। ধনী-দরিদ্র সবাই সমান এবং আল্লাহ্‌র বান্দা।

‘তাদেরকে খোদার বান্দা মনে করা এবং একেবারেই তুচ্ছাতিতুচ্ছ জ্ঞান করা’

অর্থাৎ তারা আল্লাহ্‌র বান্দা এ ছাড়া এসব সৃষ্টির ভেতর বিশেষ কোনো শক্তি নেই।

‘কেননা সৃষ্টির আসল পরিচয় এটিই যে, তাদের অস্তিত্বের কোনোই মূল্য নেই। কারণ, সব কিছুই নশ্বর।’

কিছু লোক আছে যারা অনেককে খুবই বড় মনে করে অথচ যে ব্যক্তি এ ধরায় এসেছে তাকে পরলোকে যেতে হবে তাই তার মৃত্যুর পর আর কোনো পথ খোলা থাকে না। অনেকে এদের অর্থাৎ সন্তান-সন্ততি এবং প্রিয়জনের মৃত্যুর কারণে খোদার দ্বারও পরিত্যাগ করে বসে। তাই তিনি (আ.) বলেন,

‘কেননা সৃষ্টির আসল পরিচয় এটিই যে, তাদের অস্তিত্বের কোনোই মূল্য নেই, কারণ সব কিছুই নশ্বর।’

এখানে এটিও সুস্পষ্ট হওয়া পয়োজন যে, বান্দা কখনই খোদা হতে পারে না যেভাবে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেছেন, সবই তুচ্ছ এবং নশ্বর। কিন্তু প্রত্যেক মানুষকে খোদা তা’লা যে সম্মান দিয়েছেন তার প্রতি সবাইকে যত্নবান হতে হবে। সবাই মানুষ তাই একথা বলা যে, সবাই সমান, কর্মকর্তা এবং অধিনস্তের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না বা বড় এবং ছোটর মাঝে কোনো তফাত থাকবে না- তা নয়। বরং এটি অবশ্যই বলবৎ থাকবে কিন্তু মানুষ হবার যেখানে প্রশ্ন সেখানে সবাই সমান। এরপর তিনি (আ.) বলেন,

‘এটি ইলমীরূপী তৌহিদ’,

বান্দার প্রাপ্য অধিকার যখন এভাবে প্রদান করা হয় তখন এটিও জ্ঞানলব্ধ তৌহিদ।

‘কেননা এর মাধ্যমে এক সত্ত্বার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়’

অধিকার প্রদান করা হচ্ছে বান্দার, মনোযোগ বান্দার প্রতি হলেও সত্যিকার মনোযোগ আকৃষ্ট করা হয়েছে তৌহিদের প্রতি, যখন তোমরা এরূপ করবে তখন তোমাদের কর্মের মাধ্যমে তৌহিদ প্রাঞ্জলভাবে প্রতীয়মান হবে। কেননা এই চেতনা সৃষ্টি হবে যে, খোদার সত্ত্বা ছাড়া সব কিছুই নশ্বর। মানুষ হবার দৃষ্টিকোন থেকে কেউ কারো চেয়ে বড় নয়, খোদার সৃষ্টি হিসেবে সবাই সমান। তারপর এদিকে মনোযোগ আকর্ষণ করে, খোদা এক! সবই তাঁর সৃষ্টি। এর ফলে তৌহিদের প্রতি মানুষের মনোযোগ নিবদ্ধ হয়। মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন,

‘কেননা এর মাধ্যমে এক সত্ত্বার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়, যাঁর মাঝে কোনো ত্রুটি নেই এবং যিনি আপন সত্ত্বায় কামেল বা পরিপূর্ণ।’

এদ্বারা আল্লাহ্ তা’লার শ্রেষ্ঠত্ব অবহিত হওয়া যায়। তিনিই একমাত্র সত্ত্বা যিনি আপন সত্ত্বায় পরিপূর্ণ।

অতঃপর তিনি (আ.) বলেন,

‘সত্যিকার পুণ্যকর্ম করাই হচ্ছে আমলী সিরাতে মুস্তাকীম। অর্থাৎ সেই কর্ম যা মূলত তার জন্য সঠিক এবং ন্যায়সঙ্গত তা সম্পাদন করার নামই তৌহীদে আমলী।’

আমলী সিরাতে মুস্তাকীম হচ্ছে সৎকর্ম সম্পাদন করা, সেই কাজ করা যা তার জন্য সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত। এমন কাজ যাতে কোনোরূপ ভুল বা অন্যায়ের আশঙ্কা থাকে, তা না করা, এটিই সিরামে মুস্তাকী এবং অন্য কথায় তৌহীদে আমলী। এটি বান্দার কর্ম থেকে প্রকাশ হয়, আমি আল্লাহ্‌র সত্ত্বায় ভরসা রাখি তাই কোনো মন্দকর্ম করবো না। আর যখন আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করবে তখন তার দ্বারা কোনো মন্দকর্ম সম্পাদিত হতে পারে না। পরিশেষে এটি আল্লাহ্ তা’লার এক ও অদ্বিতীয় হবার বিষয়ে মানুষকে মনোযোগী করে।

‘কেননা এক্ষেত্রে একত্ববাদী, নিজেকে খোদার গুণাবলীতে পুরোপুরি রঙ্গীন করাই জীবনের পরম লক্ষ্য মনে করে।’

কেননা যে এক খোদার ইবাদতকারী সে সর্বদা আল্লাহ্ তা’লার নির্দেশ মোতাবেক নিজ স্বভাব-চরিত্র গঠন করার চেষ্টা করবে। আল্লাহ্ তা’লা বান্দার কাছে তাঁর গুণে গুণান্বিত হবার প্রত্যাশা রাখেন। তিনি (আ.) বলেন,

‘হাক্কুন নফসের বেলায় সিরামে মুস্তাকীম এর অর্থ দাঁড়াবে, নিজ প্রাণের উপর যেসব বিপদাবলী আসে’

অর্থাৎ নিজের বেলায় সিরাতে মুস্তাকীমের অর্থ হচ্ছে, প্রবৃত্তির তাড়নায় যখন মানুষ মন্দকর্মে লিপ্ত হয়।

‘যেমন: অহংকার, কপটতা, গর্ব, ইর্ষা, হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, কৃপনতা, উদাসীনতা এবং যুলুম এইসব বিষয়ে অবগত হওয়া।’

এগুলো নিজ প্রাণের জন্য সিরাতে মুস্তাকীম অর্থাৎ মানুষ যেন বুঝতে পারে এবং এ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করে যে, এগুলো মন্দকর্ম যা মানুষকে ধ্বংস করে ফেলে, তাই এর নাম রাখা হয়েছে ইলমী সিরামে মুস্তাকীম। মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন,

‘বাস্তবে যেভাবে এগুলো মন্দ ও ঘৃণ্য কাজ এগুলোকে সেভাবে মন্দ জ্ঞান করাই হচ্ছে ইলমী সিরামে মুস্তাকীম’

অর্থাৎ এই সবকিছুই মন্দ এবং নোংরা তাই বাস্তবেও এদেরকে তদ্রুপ জ্ঞান করাই হবে ইলমী সিরামে মুস্তাকীম। অতঃপর বলেন,

‘এবং এটিই তৌহীদে ইলমী কেননা এদ্বারা এক সত্ত্বার শ্রেষ্ঠত্বই প্রতিপন্ন হয়, যাঁর মাঝে কোনো দোষ-ত্রুটি নেই এবং যিনি আপন সত্ত্বায় পবিত্র।’

যখন স্বীয় নফস এসব মন্দ সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত হবে তখন এর মাধ্যমেও আল্লাহ্ তা’লার তৌহীদের প্রতিই মনোযোগ আকৃষ্ট হবে। স্বীয় প্রবৃত্তি যখন এসব নোংরামী সম্পর্কে অবগত হবে তখন আল্লাহ্ তা’লার একত্ববাদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ হবে। কেননা মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেছেন, এর মাধ্যমে এক সত্ত্বার শ্রেষ্ঠত্বই ফুটে উঠে, যার ভেতর কোনরূপ দোষ-ত্রুটি নেই। মানুষের মধ্যে সবধরনের দোষ-ত্রুটি থাকতে পারে এত্থেকে মুক্ত থাকতে হবে এবং আল্লাহ্‌র আশ্রয়ে এলেই এত্থেকে রক্ষা পাবে, ফলে এর মাধ্যমে আবার খোদার তৌহীদ বিকশিত হবে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেছেন,

‘এক সত্ত্বার শ্রেষ্ঠত্বই প্রতিপন্ন হয়, যাঁর মাঝে কোনো দোষ-ত্রুটি নেই এবং যিনি আপন সত্ত্বায় পবিত্র।’

তিনিই এক��াত্র সত্ত্বা যিনি অতীব পবিত্র এবং তাঁর ভেতর কোনো দোষ বা ত্রুটি নেই। অন্য সকল সৃষ্টির মাঝে দোষ-ত্রুটি রয়েছে এবং মানুষের মাঝে উপরে বর্ণিত দোষ-ত্রুটি ছাড়াও অনেক দোষ-ত্রুটি রয়েছে। মানুষ পবিত্র হবার মানসে আল্লাহ্ তা’লার প্রতি বিনত হয়। ফলে এর মাধ্যমে তৌহীদ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

পুনরায় তিনি (আ.) বলেন,

‘এবং হক্কুন নফসের বেলায় সিরাতে মুস্তাকীম হচ্ছে, স্বীয় আত্মা থেকে মন্দ স্বভাবকে সমূলে উৎপাটন করা এবং প্রবৃত্তিকে এসব মন্দকর্ম থেকে মুক্ত করা এবং উন্নত নৈতিক গুণাবলীতে সজ্জিত করাই হচ্ছে আমলী সিরাতে মুস্তাকীম।’

অর্থাৎ মানুষের ব্যবহারিক সিরাতে মুস্তাকীম হচ্ছে, এইসব মন্দ ও ঘৃণ্য কর্ম নির্মূল করা। মন্দ প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হবার জন্য মানুষের ব্যবহারিক পদক্ষেপ হবে এটি। এবং ‘সিফতে তাখাল্লী আন রাযায়েল’ এবং ‘সিফতে তাহাল্লী বিল ফাযায়েল’ এর অর্থ হচ্ছে, মন্দ এবং ঘৃণ্য কাজ থেকে স্বয়ং নিজেকে মুক্ত করা এবং নেকী বা পুণ্যকে আপন করে নেয়া, আল্লাহ্ তা’লা যেসব নেকী বা পুণ্যের কথা বলেছেন তার অলঙ্কারে নিজেকে সজ্জিত করা। স্বীয় আত্মার জন্য এটিই সিরাতে মুস্তাকীম। এরপর বলেন,

‘এটিই তৌহীদে হালী’

অর্থাৎ নিজ আত্মার জন্য যা সিরাতে মুস্তাকীম তদ্বারা মানুষের অবস্থা সুস্পষ্ট হয়ে যায় এবং এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ্ তা’লার ‘তৌহীদে হালী’ প্রকাশ করে। তিনি (আ.) বলেন,

‘কেননা এ বেলায় একত্ববাদীর লক্ষ্য হয় আপন হৃদয়কে গায়রুল্লাহ্‌র (আল্লাহ্ ভিন্ন অন্য কোন উপাস্য-অনুবাদক) খপ্পর থেকে মুক্ত করা যাতে সে আল্লাহ্‌র পবিত্র সত্ত্বায় বিলীন হবার মর্যাদা লাভ করে।’

অর্থাৎ গাইরুল্লাহ্‌রুপী পার্থিব সেসব জিনিষ থেকে হৃদয়কে মুক্ত করা এবং আল্লাহ্ তা’লার পবিত্র মোকাম বা মর্যাদা লাভ করা। (আ.) বলেন,

‘এবং এতে এবং (হুকুকুল ইবাদের) বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে যে সিরাতে মুস্তাকীম রয়েছে তাতে একটি সূক্ষ্ণ পার্থক্য রয়েছে আর তা হলো, নিজ আত্মার অধিকার সংক্রান্ত সীরাতে মুস্তাকীমের কর্ম এমন এক নৈপুণ্য যা চর্চার মাধ্যমে মানুষ লাভ করে।’

অর্থাৎ মানুষ অনুশীলণের মাধ্যমে এই দক্ষতা অর্জন করে। এখানে চর্চার অর্থ আধ্যাত্মিক অনুশীলণ, ইবাদত এবং আল্লাহ্ তা’লাকে পাবার জন্য বিশেষ সংগ্রাম করা।

‘এবং এই সাধুতা কখনও বাইরে প্রকাশিত হোক বা না হোক এটি সর্বজন বিদিত।’

অর্থাৎ এটি প্রকৃতপক্ষ্যে এমন এক সম্মানিত স্থান যা বাহ্যিক ভাবে দেখা দৃশ্যমান হওয়া না হওয়ায় কিছু যায় আসে না কেননা একজন মানুষ যে নিজেকে কষ্টে নিপতিত করে আল্লাহ্ তা’লার পথে সংগ্রাম করে সে এটি লাভ করে। এটি সবার নিকট দৃশ্যমান হওয়া আবশ্যক নয়। তিনি (আ.) বলেন,

‘কিন্তু হুকুকুল ইবাদের ইলমী সিরাতে মুস্তাকীম হচ্ছে এক প্রকার খিদমত, এটি তখনই প্রযোজ্য হবে যখন বিশাল এক জনগোষ্ঠী বাহ্যিকভাবে এত্থেকে সেবা পাবে।’

বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদানের সিরাতে মুস্তাকীম তখনই কার্যকর প্রমাণিত হবে যখন বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ তা দেখবে এবং তাদের উপর এর প্রভাব পড়বে। মোটকথা মানুষ পরষ্পরের প্রাপ্য অধিকার প্রদান করে। (আ.) বলেন,

‘এবং খিদমতের শর্ত যেন পূর্ণ হয়। মোটকথা ব্যবহারিক সিরাতে মুস্তাকীম বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদানের মাঝে নিহিত।’

অর্থাৎ বান্দা পরস্পরের খিদমত করার ব্যাপারে খোদা যে শর্ত নিরূপণ করেছেন তা যেন পূর্ণ করে। এটি তখনই সত্য বলে প্রতিপন্ন হবে যখন বান্দা সত্যিকার অর্থেই অন্যের অধিকার প্রদান করবে। এমন অবস্থা হলেই তাকে ব্যবহারিক সিরাতে মুস্তাকীম বলা যেতে পারে। এরপর মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন,

‘এবং স্বীয় নফসের প্রাপ্য অধিকার সংক্রান্ত ব্যবহারিক সিরাতে মুস্তাকীম কেবল আত্মশুদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ।’

অর্থাৎ স্বীয় আত্মাকে সিরাতে মুস্তাকীমে পরিচালিত করার জন্য যে ব্যক্তি দোয়া করে, আল্লাহ্ তা’লার কাছে ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ বলে প্রার্থনা করে এর সত্যিকার ফলাফল তখনই প্রকাশিত হবে যখন মানুষ আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রে ‘কারো সেবা করা আবশ্যক নয়।’ আত্মশুদ্ধির জন্য অন্য কারো সেবা করা আবশ্যক নয়।

‘মানুষ বিরাণ জঙ্গলে নিভৃতে বসেও আত্মশুদ্ধি করতে পারে কিন্তু মানুষের সেবা ছাড়া হাক্কুল ইবাদ হতে পারে না জন্যই বলা হয়েছে, ইসলামে সন্যাসব্রত বলে কিছু নেই।’

(আল্ হাকাম ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯০৫ পৃ: ৫-৬, তফসীর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) ১ম খণ্ড, পৃ: ২৩৬-২৩৭)

মানুষ জঙ্গলে একা বসেও আত্মশুদ্ধি করতে পারে কিন্তু একটি সমাজে বাস করার কারণে আল্লাহ্ তা’লা মানুষের উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তা হচ্ছে অন্যের প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা। আর যখন সে নিজ সঙ্গী-সাথী, আল্লাহ্‌র সৃষ্টি, আপন সমাজ এবং প্রতিবেশীর প্রাপ্য অধিকার প্রদান করবে তখনই সিরাতে মুস্তাকীমে পরিচালিত ব্যক্তি বলে গণ্য হবে। এটি এমন এক ব্যাখ্যা যদি কেউ বুঝতে পারে যে, এটি পথ দেখায়, পথ পর্যন্ত পৌঁছায় এবং এর গভীর তাৎপর্য অনুধাবন করে এবং এর উপর আমল করে মানুষ গন্তব্যে পৌঁছায়। এবং এর উপর আমল বা অনুশীলণ করার জন্যও আল্লাহ্ তা’লার সাহায্য প্রয়োজন। এজন্যই বলা হয়েছে যে, ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ এর দোয়া করতে থাকো। এই উদ্ধৃতিতে সকল পুণ্য বা নেকীকে আল্লাহ্ তা’লার সন্তুষ্টি লাভ এবং তাঁর তৌহীদ প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এটিই সত্যিকার হেদায়াত আর এজন্যই একজন মু’মিনকে চেষ্টা করা উচিত।

নফসকে শির্কের সূক্ষ্ণ মিশ্রণ থেকে মুক্ত করার জন্য এই দোয়ার বরাতে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘অতঃপর জেনে রাখো যে, ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ* صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ এর আয়াতে আত্মাকে শির্কের সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণ প্রভাব থেকে পবিত্র করার এবং এসব প্রভাবের হেতু নিশ্চিত করার প্রতি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত রয়েছে। এজন্যই আল্লাহ্ তা’লা মানুষকে এই আয়াতে নবীদের মত চরোমৎকর্ষ অর্জন এবং এবং তাঁর কামালতের দ্বার উম্মুক্ত করার জন্য দোয়া বা প্রার্থনা করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। কেননা বেশিরভাগ শির্ক নবী এবং ওলীদের ব্যাপারে অতিরঞ্জনের ফলে পৃথিবীতে এসেছে। এবং যারা তাদের নবীদেরকে এরূপ অদ্বিতীয় এবং ওয়াহদাহু লা শারিক জ্ঞান করেছে, যেভাবে আল্লাহ্‌র পবিত্র সত্ত্বাকে জ্ঞান করা হয়, পরিণতিতে এরা কিছুকাল পরে সেই নবীকে উপাস্য বানিয়ে বসেছে।’

সবশেষে এরা সেই নবীকে মা’বুদ বানিয়ে বসেছে।

‘অনুরূপভাবে হযরত ঈসার প্রশংসায় অতিরঞ্জন এবং সীমালঙ্ঘন করার কারণে খ্রীস্টানদের হৃদয় বিকৃত হয়ে গেছে। সুতরাং আল্লাহ্ তা’লা এই আয়াতে এই নৈরাজ্য এবং ভ্রষ্টতার প্রতি ইঙ্গিত করেন এবং এর প্রতি ইঙ্গিত করেন যে, আল্লাহ্‌র কাছ থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত অর্থাৎ রসূল, নবী এবং মুহাদ্দাস এজন্য আবির্ভূত হন যাতে মানুষ এই মহাপুরুষদের রঙে রঙিন হয়, তাঁদের ইবাদত করার জন্য এবং তাঁদেরকে প্রতিমারূপী উপাস্য বানানোর জন্য নয়। সুতরাং এই পবিত্র উন্নত নৈতিকগুণাবলীর অধিকারীদের পৃথিবীতে প্রেরণ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের প্রত্যেক অনুসারী যেন তাঁদের গুণে গুণান্বিত হয়। তাদেরকে পাথরের প্রতিমা বানিয়ে তার উপর মস্তক ঘর্ষণকারী যেন না হয়।’

এ কারণেই হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) এক স্থানে বলেন,

‘ওলী হও কিন্তু ওলী পূজারী হয়ো না এবং পীর হও কিন্তু পীর পূজারী হয়ো না।’

আমাদের এখানে বিভিন্নস্থানে ব্যাপকভাবে পীর পূজার প্রচলন দেখা যায় এবং অনেকে একে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করেছে। যেভাবে মুসলমানদের বেশকিছু চ্যানেল অহোরাত্র চলতে থাকে, অনেক মানুষ ইস্তেখারা করানোর উদ্দেশ্য তাদের আশ্রয় নেয় আর তারা বই খুলে বসে থাকে এবং দু’ চারটা শব্দ পড়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে, তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক টিকবে কী টিকবে না। আমার কাছেও বিভিন্ন স্থান হতে কতক নারী-পুরুষের অভিযোগ আসে যে, তারা ৫/৬ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তেখারা করে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়, নিজেদের পছন্দমত বিয়ে করিয়ে দেয়। কিন্তু যখন বিয়ে ভেঙ্গে যায় তখন তারা বলে যে, এটা তোমাদের দোষ আমাদের ইস্তেখারা ঠিকই ছিল। যাহোক, এটি কেবল এজন্যই যে, এরা স্বয়ং দোয়া করে না, মনোনিবেশ করে না এবং নামাযের প্রতিও তাদের আকর্ষণ নেই। উপরন্তু ঐসব মানুষের প্রতি অন্ধবিশ্বাস রাখে যারা এগুলো নিয়ে ব্যবসা করে। এ জাতীয় কার্যকলাপ হতে আহ্‌মদীদেরকে বিশেষভাবে নিরাপদ থাকা উচিত।

তিনি (আ.) বলেন,

‘আল্লাহ্ তা’লা এ আয়াতে চিন্তাশীল ও বুদ্বিমানদেরকে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নবীদের পরাকাষ্ঠা (কামালাত) বিশ্ব প্রতিপালকের পরাকাষ্ঠা তুল্য নয়। কেননা আল্লাহ্ তা’লা স্বীয় বৈশিষ্ট্যে এক ও অদ্বিতীয়, স্বাধীন এবং অতুলনীয়। তাঁর সত্ত্বা ও গুণাবলীতে কোনো অংশীদার নেই। কিন্তু নবী এমন হন না বরং আল্লাহ্ তা’লা তাঁর অনুসারীদের মধ্য হতে তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। মোটকথা তাঁদের উম্মত তাদের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকেন। তাদের নবীরা যা কিছু প্রাপ্ত হন তার সবই তারা পেয়ে থাকেন কিন্তু শর্ত হচ্ছে যে, তারা যেন নবীদের পূর্ণ অনুসারী হয়। আর আল্লাহ্ তা’লা قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ আয়াতে এর প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন।’

সুতরাং এ দোয়াই মানুষকে তৌহীদ-এর পানে পরিচালিত করে।

“সত্যের উপর দৃঢ়তার সাথে অবিচল থাকার নামই ইসলাম” এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি (আ.) বলেন,

‘কুরআন শরীফে এর নাম ইস্তেকামাত রাখা হয়েছে। যেমন এই দোয়া শিখানো হয়েছে যে, ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ* صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ অর্থাৎ আমাদেরকে সরল-সুদৃঢ় পথে পরিচালিত কর, তাঁদের পথে যারা তোমার নিকট হতে পুরস্কার লাভ করেছে এবং যাঁদের জন্য স্বর্গীয় পথ খোলা হয়েছে। এ কথা স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, প্রত্যেক বস্তুর সৃষ্টির প্রতি লক্ষ্য রেখেই তার সরল-সুদৃঢ় পথের স্বরূপ নিরূপন করা হয়।’

অর্থাৎ প্রতিটি জিনিষের শক্তি-সামর্থ এবং সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখেই স্বরূপ নিরূপন করা হয়।

‘এবং মানব জীবনের লক্ষ্যও এটিই যে, তাকে খোদার প্রেমের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।’

অর্থাৎ মানুষ সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যই হলো, মানবকে খোদা তা’লার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।

‘অতএব তার জন্য নির্ধারিত সরল-সুদৃঢ় পথ হলো, প্রকৃতভাবে আল্লাহ্ তা’লার উদ্দেশ্যে নিজেকে উৎসর্গ করা। যখন সে তার যাবতীয় শক্তির মাধ্যমে খোদা তা’লার উদ্দেশ্যে নিজেকে উৎসর্গ করবে, তখন অবশ্যই তার জন্য পুরস্কার অবতীর্ণ হবে। যাকে অপর কথায় পবিত্র জীবন নামে অভিহিত করা যায়। যেমন, তোমরা দেখ সুর্যের দিকে জানালা যখন খুলে দেয়া হয় তখন সুনিশ্চিতভাবে সূর্যের আভা ভেতরে এসে পড়ে’।

তিনি (আ.) বলেন যে,

‘এই পৃথিবীই হচ্ছে এই পবিত্র জীবন লাভের স্থান। এর প্রতি ইঙ্গিত করেই আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন: مَنْ كَانَ فِي هَذِهِ أَعْمَى فَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ أَعْمَى وَأَضَلُّ سَبِيلًا অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইহকালে অন্ধ থাকে এবং খোদাকে দেখার আলো পায় নি সে পরকালে অন্ধই থাকবে।’

(খ্রীষ্টান সিরাজ উদ্দীনের চারিটি প্রশ্নের উত্তর-পৃ: ১৮-১৯)

অতএব আভ্যন্তরীণ এই অপবিত্রতা একবারে অপসৃত হয় না বা বিনা চেষ্টায় দূরীভূত হয় না। যেভাবে আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে পবিত্র কুরআনে বলেছেন, এর জন্য অবিরত চেষ্টার প্রয়োজন এবং দোয়া করা আবশ্যক। আর তখনই কেবল আল্লাহ্ তা’লার নিদর্শন প্রকাশিত হয় এবং তিনি আচমকা মানুষকে স্বীয় নূরের চাদরে আবৃত করেন।

মসীহ্ মওউদ (আ.) এক স্থানে বলেন, ‘মানুষের ইসমে আজম হচ্ছে ইস্তেকামাত।’ এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘ইসমে আজম এর অর্থ হলো, যদ্বারা মানব উৎকর্ষ লাভ করে’। যখন মানুষ মানবতায় উন্নতি লাভ করে তখন এরই নাম ইস্তেকামাত (দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত) এবং ইসমে আজম। অর্থাৎ মানুষ যেন মানবতায় উন্নতি করতে থাকে। তিনি (আ.) বলেন,

‘আল্লাহ্ তা’লা ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ আয়াতাংশে এর প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন।’

অতএব মানবতার ক্ষেত্রে যে অসীম পরাকাষ্ঠা রয়েছে তা প্রত্যেক মানুষকে, প্রত্যেক মু’মিনকে নিজ নিজ শক্তি সামর্থ অনুযায়ী অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। এবং এটিই ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ এর ব্যাপকতা তাই এ জন্য আমাদের দোয়া করা উচিত। তারপর দোয়া করার যে দায়িত্ব তার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করতে গিয়ে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, কীভাবে এই দোয়ার প্রচলন করা যায়। তিনি (আ.) বলেন,

‘দোয়া সম্পর্কে এটা স্বরণ রাখা আবশ্যক যে, আল্লাহ্ তা’লা সূরা ফাতিহায় দোয়া করা শিখিয়েছেন। অর্থাৎ ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ* صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ এতে তিনটি বিষয় মনে রাখা উচিত। প্রথমত, এক্ষেত্রে বিশ্ব মানবতাকে অন্তর্ভূক্ত রাখা।’

অর্থাৎ তোমরা তোমাদের ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ এর দোয়াতে গোটা বিশ্ব এবং পৃথিবীর সকল মানুষকে স্মরণ রাখো।

‘দ্বিতীয়ত, সকল মুসলমানকে নিজের দোয়ায় স্মরণ করো।’

যাতে আল্লাহ্ তা’লা তাদেরকে সরল-সুদৃঢ় পথে পরিচালিত করেন।

‘তৃতীয়ত, ঐসব ব্যক্তিবর্গকে যারা বাজামাত নামাযে উপস্থিত আছেন। অতএব এমন নিয়্যতের ফলে সমগ্র মানবমণ্ডলী এতে অন্তর্ভূক্ত হবে। আর খোদা তা’লার অভিপ্রায়ও এটিই। কেননা ইতিপূর্বে তিনি এ সূরায় স্বীয় নাম ‘রব্বুল আলামীন’ রেখেছেন, যা সর্বজনীন সহানুভূতির শিক্ষা প্রদান করে যাতে জীবজন্তুও অর্ন্তভূক্ত। এরপর নিজের নাম রেখেছেন ‘রহমান’, আর এ নাম মানবমণ্ডলীর প্রতি দয়ার শিক্ষা দিয়ে থাকে। কেননা এ দয়া মানবমণ্ডলীর ক্ষেত্রেই বিশেষভাবে প্রযোজ্য। তারপর নিজের নাম রেখেছেন ‘রহীম’, আর এ নাম মু’মিনদেরকে দয়ার শিক্ষা দিয়ে থাকে। কেননা ‘রহীম’ শদ্বটি বিশেষভাবে মু’মিনদের জন্য প্রযোজ্য। পুনরায় স্বীয় নাম রেখেছেন ‘মালিকে ইয়াওমিদ্দীন’। আর এ নাম বাজামাত নামাযে অংশগ্রহণকারীদেরকে দয়ার শিক্ষা দিয়ে থাকে। কেননা ইয়াওমিদ্দীন হচ্ছে সেই দিবসের নাম যেথায় মানুষ খোদা তা’লার সম্মুখে দলবদ্ধভাবে উপস্থিত হবে। সুতরাং ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٲطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ এর দোয়াতে এই বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। অতএব এত্থেকে এটিই অনুধাবন করা যায় যে, এই দোয়াতে সমগ্র মানবমণ্ডলীর প্রতি সহানুভূতি অর্ন্তভূক্ত রয়েছে। আর সকলের মঙ্গলাকাঙ্খী হওয়াই ইসলামের অনুপম শিক্ষা।’

অতএব যে কথাগুলো আমরা শুনলাম তা আমাদের কাছে এই দাবীই করে, আমরা যেন বিশ্ববাসী ও মুসলমানদের হেদায়াতের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ্ তা’লা বিশ্ব মানবতাকেও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন। বর্তমানে খোদা তা’লা’কে ভুলে মানুষ যেদিকে এগুচ্ছে, এক দেশ বাহ্যত না হলেও ভেতরে ভেতরে অন্য দেশের সাথে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত। একে অপরের ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করছে এবং অত্যন্ত দ্রুতবগে সেদিকে অগ্রসর হচ্ছে যেখানে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আবার মানবতার ধ্বংস অনিবার্য��� এজন্য বিশেষভাবে এ দোয়া করা উচিত, যেন আল্লাহ্ তা’লা যুদ্ধের অনিষ্ট ও ক্ষতি হতে সকল আহ্‌মদীদের নিরাপদ রাখেন। অনুরূপভাবে মুসলিম উম্মাহ এবং গোটা মানব জাতিকেও নিরাপদ রাখেন। যদি এক দৃষ্টিকোন হতে দেখা হয় তবে দেখা যাবে যে, পৃথিবী একটি অগ্নিকুণ্ডের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে এবং যে কোনো মুহূর্তে এ কিনারা ভেঙ্গে পড়বে এবং বিশ্বে একটি ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে। তাই অনেক বেশী দোয়ার প্রয়োজন, এর প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ দিন। আজ বিশ্বকে যদি কেউ রক্ষা করতে পারে তাহলে আহ্মদীরাই দোয়ার মাধ্যমে রক্ষা করতে পারে। কেননা এরাই সত্যিকার মু’মিন এবং সেই জামাতের অন্তর্ভূক্ত যা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর জামাত। সুতরাং বিশেষ চেষ্টা দ্বারা নিজের মাঝেও পবিত্র পরিবর্তন এনে বিশ্বের অনাগত ধ্বংসকে দৃষ্টিপটে রেখে বিশেষভাবে অনেক দোয়া করুন। আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এর তৌফিক দিন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে