In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবা

আল্লাহতা’লার ঐশী গুণ ‘আল্‌-ওয়াহাব’ (মহান দাতা)

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১৪ই নভেম্বর, ২০০৮ইং

আল্লাহ্ তা’লার ওয়াহাব বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে পুণ্যবান ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ত্বাকওয়ার ভূমিকা এবং আমাদের করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বারোপ।

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

আল্লাহ্ তা’লার একটি গুণবাচক নাম হলো ‘ওয়াহেব’ বা ‘ওয়াহাব’। আভিধানিকগণ এই শব্দের যে সকল অর্থ এবং ব্যাখ্যা করেছেন তা অনেকটা অভিন্ন তাই আমি আরবী অভিধান গ্রন্থ লিসানুল আরব যে অর্থ করেছে, তা নিয়েছি। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আল্ ওয়াহাব’ খোদা তা’লার একটি গুণবাচক নাম বা সিফ্‌ত। ‘আল্ মুনয়েমু আলাল্ ইবাদ্’ অর্থাৎ, বান্দাদের পুরস্কার দাতা। অনুরূপভাবে খোদা তা’লার একটি সিফ্‌ত বা বৈশিষ্ঠ্য হলো ‘ওয়াহেব’। তিনি লিখেন ‘আল্ হেবা’ এমন দানকে বলা হয়, যার বিনিময়ে কিছু নেয়া বা অন্য কোন উদ্দেশ্য না থাকে। এমন দান যদি অজস্র ধারায় করা হয় তাহলে এর দাতাকে ‘ওয়াহাব’ বলা হয়।

এই শব্দ মানুষের জন্যও ব্যবহৃত হয়ে থাকে কিন্তু খোদা তা’লার সত্ত্বাই হলেন প্রকৃত ‘ওয়াহাব’ বা দাতা, যিনি নিজ বান্দাদের চাইলেও দিয়ে থাকেন আবার অযাচিত ভাবেও দান করেন এবং প্রচুর দিয়ে থাকেন। একজন প্রকৃত মু’মিন যদি গভীরভাবে চিন্তা করে তবে, খোদা তা’লার ‘ওয়াহাব’ অর্থাৎ তাঁর দান ও পুরস্কারের দৃষ্টান্ত সদা প্রত্যক্ষ করতে পারে। এটিই আমাদের জীবন্ত খোদার অস্তিত্বের সাক্ষ্য বহন করে। কিন্তু যে ব্যক্তি অকৃতজ্ঞ, খোদা তা’লার দান এবং কৃপা তার চোখে পড়ে না। যে বস্তুবাদিতার চোখে দেখে সে বস্তুবাদী জগতকেই লদ্ধ এ সকল নিয়ামতের কারণ মনে করে।

আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এই শব্দ ও নিজের এই সিফত বা গুণবাচক নামের কথা উল্লেখ করেছেন। নবী এবং পুণ্যবান লোকদের উপর নিজ দানের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার এই গুণবাচক নামের বরাতে দোয়ার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যে দোয়াগুলোর মধ্যে, নেক সন্তান-সন্ততির জন্যও দোয়া রয়েছে, সমাজের পুণ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য দোয়া রয়েছে, নিজেদের ত্বাকওয়ার ক্ষেত্রে উন্নতি এবং ঈমানের দৃঢ়তার জন্যও দোয়া রয়েছে, বস্তুত এই গুণবাচক নামের বরাতে কুরআনে অনেক দোয়া রয়েছে।

এখন আমি এ সকল কুরআনী দোয়ার প্রেক্ষাপটে একটি দিক তুলে ধরবো। আল্লাহ্ তা’লা মু’মিন প্রজন্মকে তাদের সৃষ্টির উদ্যেশ্যের নিকটতর রাখার জন্য বরং সে লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য পুণ্যবান বান্দাদের দৃষ্টি এদিকে আকর্ষণ করেছেন যে, তারা যেন নিজেদের সন্তান-সন্ততি বরং স্ত্রীদের জন্যও দোয়া করেন। আর স্ত্রীদেরকে বলেছেন তারা যেন নিজেদের স্বামী ও সন্তানদের জন্য দোয়া করেন, যাতে নেকীর প্রেরণা বংশ পরাম্পরায় সৃষ্টি হওয়া অব্যাহত থাকে এবং প্রজন্মান্তরে তা যেন জাগরুক থাকে। আল্লাহ্ তা’লা বলেন:

وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

অর্থ: ‘এবং যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রভু! তুমি আমাদেরকে আমাদের স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততির মাধ্যমে চক্ষু স্নিগ্ধতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের ইমাম বানাও।’ (সূরা আল্ র্ফুকান: ৭৫)

এটি একটি কামেল দোয়া, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পরের জন্য নয়ণের স্নিগ্ধতার কারণ কর এবং এমন সন্তান দাও যাদের দেখলে নয়ন জুড়ায়। যেখানে স্বয়ং খোদা এই দোয়া শিখাচ্ছেন যে, চোখ শীতল করার জন্য দোয়া কর সেখানে এটি প্রকৃতপক্ষে খোদার সেই অনন্ত কৃপাবারীর জন্য দোয়া যার জ্ঞান মানুষের নেই বরং শুধু খোদা তা’লাই জানেন, যাকে মানবীয় চিন্তাভাবনা আয়ত্ত্বই করতে পারে না। আর আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে যেসব পুণ্যের কথা বলেছেন তার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তান সন্ততি পরস্পরের জন্য শুধু এই পৃথিবীতেই নয়ণের স্নিগ্ধতার কারণ হয় না বরং মৃত্যুর পরও মানুষ পৃথিবীতে যে পুণ্যকর্ম করে সেই নেকীর কারণে খোদা তা’লা তাদেরকে আপন নিয়ামতে ভূষিত করেন। একজন মু’মিনের মৃত্যুর পর তার নেক সন্তান সেই নেকী এবং পুণ্যের ধারা জারী রাখে যার উপর তিনি প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। পিতামাতার জন্য নেক সন্তান দোয়া করে যা তাদের মর্যাদার উন্নয়ন ঘটায়। তারা অন্যান্য যেসব সৎ কর্ম করে তাও তাদের মর্যাদাকে উচুঁ করে। সন্তান সন্ততির নেকী এবং পিতা-মাতার জন্য তাদের দোয়া পরকালেও একজন মু’মিনের জন্য নয়ণের স্নিগ্ধতার কারণ হয়। আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

অর্থ: ‘বস্তুত: কেউই জানে না যে, তাদের জন্য তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ কি কি নয়ন-তৃপ্তিকর বস্তু গোপন করে রাখা হয়েছে।’ (সূরা আস্ সাজদা: ১৮)

এটি সে সমস্ত লোকদের জন্য বলা হয়েছে যারা খোদাভীতির কারণে হৃদয়ে খোদাকে লালন করে, খোদার ইবাদতের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করে এবং তাঁর পথে খরচও করে এবং অন্যান্য সৎকর্মও করে। তারা রাতে উঠে নিজেদের সড়ল-সুদৃঢ় পথে প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং নিজেদের সন্তান-সন্ততির সঠিক পথে পরিচালিত হবার জন্য দোয়া করেন। আল্লাহ্ তা’লার কাছে এমন নয়ণের স্নিগ্ধতার জন্য তারা দোয়া করেন, যার জ্ঞান শুধু খোদা তা’লাই রাখেন। নিজেদের ���ন্তান-সন্ততি ও স্ত্রীদের জন্য অর্থাৎ স্ত্রী’রা স্বামীদের জন্য এবং স্বামীরা স্ত্রীদের জন্য খোদা তা’লার দরবারে দোয়া করেন যেন তারা সকলেই ত্বাকওয়ার উপর প্রত��ষ্ঠিত থাকে�� আর আল্লাহ্ তা’লা তাদের সকলকে পৃথিবীতেও যেন সেই নিয়ামত দান করেন যা তার সন্তুষ্টির কারণ হবে আর পরকালেও যেন তারা খোদার নৈকট্য অর্জনকারী হতে পারে।

অতএব এই হলো তাদের দোয়া যারা ইবাদুর রহমান, যারা সতত পুণ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে এই দোয়া করেন। আর নিজেদের পিছনে এমন সন্তান রেখে যাওয়ার চেষ্টা করেন যারা নেকীর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। এই দোয়া শিখিয়ে খোদা তা’লা নিরন্তর আমাদের দৃষ্টি সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি আকর্ষণ করেছেন, যা শুধু আমাদের নিজেদের জন্য তার সন্তুষ্টির কারণ হবে তাই নয় বরং ভবিষ্যত প্রজন্মও যেন সেই নেকীর উপর পারিচালিত হয় যা খোদার কৃপা ও ফযলের উত্তরাধিকারী করবে। وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا বলে আল্লাহ্ তা’লা একথা স্পষ্ট করেছেন যে, নয়ণের স্নিগ্ধতা তখনই লাভ হতে পারে যদি তোমরা নিজেরাও ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত থাক এবং তোমাদের সন্তান সন্ততিও ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। যদি তোমাদের নিজস্ব কর্ম থেকে ত্বাকওয়ার বহিঃপ্রকাশ না ঘটে তাহলে তোমরা নিজস্ব গন্ডিতে মুত্তাকীদের ইমামও হতে পারবে না।

অতএব আমাদের প্রত্যেককে নিজের অবস্থা ও অবস্থানকে খতিয়ে দেখতে হবে যে, আমরা এই দোয়া করার পর পারস্পরিক অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত কি না? সন্তানদের শিক্ষা ও তরবিয়তের জন্য সেই শর্ত মোতাবেক কাজ করছি কি-না যা তাদেরকে ত্বাকওয়ার পথে পরিচালিত করবে। যদি পারিবারিক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার দাবী অনুসারে জীবন যাপন না করে, তাহলে সন্তানের পক্ষে নিজের দোয়া কবুল হওয়ার নিদর্শন কি করে দেখা সম্ভব হতে পারে? আর ত্বাকওয়াই যদি না থাকে তাহলে খিলাফত এবং জামাতের কল্যাণ থেকে কিভাবে মানুষ অংশ পেতে পারে? খিলাফতের জন্য খোদা তা’লা পবিত্র কুরআনে সৎকর্মকে শর্ত রির্ধারণ করেছেন। যদি খোদাভীতিই না থাকে, ত্বাকওয়াই না থাকে তাহলে সৎকর্ম কিভাবে হবে আর নেককর্মই যদি না থাকে তাহলে ত্বাকওয়া কোথা থেকে আসবে? আর ত্বাকওয়া যদি না থাকে তাহলে পরস্পর পরস্পরের জন্য নয়ণের স্নিগ্ধতার কারণ হতে পারেনা আর সন্তানও কখনো হৃদয়ের প্রশান্তি বা নয়ণের স্নিগ্ধতার কারণ হতে পারে না। অতএব সন্তানকে নয়ণের স্নিগ্ধতা বা হৃদয়ের প্রশান্তির কারণ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিজেদের অবস্থা এবং নিজেদের ইবাদতকে বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিতে দেখা আবশ্যক যে, আমরা সেই মহান মানে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করছি কিনা।

মহানবী (সা:) স্বামী-স্ত্রীর ইবাদত সম্পর্কে নিম্নলিখিত নসীহত করেছেন। তিনি (সা:) বলেন যে,

‘খোদা তা’লা সে ব্যক্তির উপর রহম করুন যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং স্ত্রীকে জাগায়। যদি সে উঠতে না চায় তাহলে তার মুখে পানির ছিটা দেয় যেন সে উঠে নামায আরম্ভ করে। একইভাবে আল্লাহ্ তা’লা সেই মহিলার উপর রহম করুন যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং স্বামীকে জাগায়। স্বামী যদি উঠতে আলস্য প্রদর্শন করে তাহলে তার মুখে পানির ছিটা দেয় যেন স্বামী দন্ডায়মান হয়।’

সন্তান-সন্তুতির মাধ্যমে হৃদয়ের প্রশান্তি যদি লাভ করতে হয় তাহলে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই দায়িত্ব নিজেদের ইবাদতের দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করা। অনেক পুরুষ সম্পর্কে অভিযোগ আসে যে তারা, নামাযের জন্য উঠাতো দূরের কথা, মহিলাদের জাগানো সত্ত্বেও, মনোযোগ আকর্ষণ করার পরও ফজরের নামায ছাড়া অন্যান্য নামাযের বেলায়ও দুর্বলতা দেখিয়ে থাকে। এমন মানুষ কিভাবে এবং কোন মুখে رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ এর দোয়া পড়ে? সন্তান-সন্তুতির পক্ষ থেকে হৃদয়ের প্রশান্ত হওয়ার দোয়া তারা কিভাবে করতে পারে? আল্লাহ্‌র কাছে কিভাবে এ আশা রাখে যে, তাদের সন্তান মুত্তাকী হওয়ার দোয়া গৃহীত হবে! হ্যাঁ খোদা তা’লা যদি অনুগ্রহ প্রদর্শন করতে চান তাহলে ভিন্ন কথা, তিনি করতে পারেন কেননা তিনি তো মালিক। কিন্তু ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নির্দেশও খোদা তা’লাই দিয়েছেন। যদি তার ফযল এবং কৃপা থেকে অংশ পেতে হয় তাহলে নিজেদের অবস্থা সংশোধন করার নির্দেশও খোদা তা’লাই প্রদান করেছেন। অতএব যারা প্রতাশা রাখে যে, সন্তান-সন্ততি তাদের নয়ণের স্নিগ্ধতার কারণ হোক তাদেরকে রসূলুল্লাহ্ (সা:)-এর এই উক্তি স্মরণ রাখতে হবে; কেননা

‘ভাল তরবিয়তের তুলনায় উত্তম কোন উপহার নেই যা একজন পিতা তার সন্তানকে দিতে পারে, বা দেয়া সম্ভব।’

আর ভাল তরবিয়ত তখনই সম্ভব যদি মানুষের নিজের কর্ম তার সন্তানের জন্য আদর্শ-স্থানীয় হয়। ইবাদতের মান উন্নত হতে হবে আর অন্যান্য কর্মও উত্তম হওয়া চাই।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) এ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এক স্থানে বলেন,

‘খোদা তা’লা আমাদেরকে আমাদের স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততির পক্ষ থেকে নয়ণের স্নিগ্ধতা দান করুন। এটি তখনই সম্ভব যদি মানুষ স্বয়ং অনাচার এবং পাপাচারিতাপূর্ণ জীবনকে ঘৃণা করে অর্থাৎ ইবাদুর রহমান হয়ে জীবন যাপন করে আর খোদা তা’লাকে সকল কিছুর উপর প্রাধান্য দেয়।’

এরপর মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন যে,

‘এরপর আল্লাহ্ তা’লা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا সন্তান যদি নেক এবং মুত্তাকী হয় তাহলে এমন ব্যক্তিই তাদের ইমাম হবে অর্থাৎ এতে মুত্তাকী হওয়ার দোয়া শিখানো হয়েছে।’

তো এই দায়িত্ব সর্বপ্রথম পুরুষের উপর বর্তায় অর্থাৎ সেই পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করতে হবে যা তাকে রহমান খোদার বান্দায় পরিণত করবে। নারীরাও ঘরের তত্ত্বাবধায়িকা হিসেবে এর জন্য দায়ী অর্থাৎ ত্বাকওয়ার উপর পরিচালিত হয়ে নিজেদের এবং নিজেদের সন্তান-সন্ততি এবং স্বামীদের তরবিয়ত করা তাদের দায়িত্ব, যাতে তারা সমাজের জন্য উপকারী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়। কিন্তু মহিলাদের তরবিয়তের জন্যও প্রথমে পুরুষদের পদক্ষেপ নিতে হবে। উভয়ে যদি নেকির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং পরিচালিত হয় তাহলে সন্তানও পুণ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার চেষ্টা করবে আর উভয়ের দোয়া সন্তানের তরবিয়তে সহায়ক হবে।

আমি পূর্বে একটি হাদীস বর্ণনা করেছি যে, পুরুষ যদি প্রথমে জাগে তাহলে সে মহিলাকে জাগাবে, আর মহিলা প্রথমে জাগলে পুরুষকে জাগাবে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পরস্পরের প্রতি যদি গভীর প্রেম ও অনুরাগ থাকে তাহলেই এটি সম্ভব, তারা যদি পরস্পরের মন বোঝে, যদি তারা বুঝে যে, আমাদের রাতের ইবাদত এবং নামাযের হেফাযত করতে হবে আর সে কারণেই প্রভাতে জাগার জন্য পরস্পরকে সাহায্য করতে হবে। বোঝাপড়া না থাকলে, পুরুষ যদি ঘুমিয়ে থাকে, (অনেক সময় অভিযোগ আসে) এবং স্ত্রী তাকে নামাযের জন্য জাগায় ফলে হতভাগিনীর উপর মহাবিপদ নেমে আসে। কঠোর কথা শুনা ছাড়াও এমন মহিলার মার খাওয়াও বিচিত্র নয়। আমি শুধু কথার কথা বলছি না, কোন কোন ঘরের এটি বাস্তব চিত্র বা বাহ্যিক চিত্র। ধীরে ধীরে বেচারী চুপ হয়ে যায়, নিরবে নিজের নামাযের হিফাযত করে অথবা স্বামীর রীতি অনুসরণ করে। এমন ঘরের বাচ্চারা জাগতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুটা উন্নতি ও পড়ালেখা করলেও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বিকৃত হয়ে যায়। বরং ঘরের পরিস্থিতি যদি এমন হয় তাহলে অনেক সময় জাগতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অনেক সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। তাই সন্তানকে নয়ণের মণি হিসেবে যদি দেখতে হয় তাহলে পিতামাতাকে নিজেদেরও সংশোধন করতে হবে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন যে,

‘আমাদের জামাতের জন্য আবশ্যক আমরা যেন ধার্মীক হবার জন্য নিজ স্ত্রীদেরকে ধার্মিকতার শিক্ষা দেই। নতুবা তারা গোনাহ্‌গার বা পাপাচারিনী হবে। আর যখন কোন স্ত্রী স্বামীর সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলতে পারে যে, তোমার মধ্যে অমুক অমুক দোষ-��্রুটি আছে তাহলে সেই স্ত্রী কিভাবে আল্লাহ্‌কে ভয় পাবে? তার মধ্যে কোন ত্বাকওয়া থাকবে না এমন পরিবেশে সন্তানও নষ্ট হয়ে যায়। সন্তানকে পবিত্র বানাতে হলে তাকে একটি পবিত্র পরিবেশ দিতে হবে নতুবা সন্তান নষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য সময় থাকতে তওবা করা উচিৎ এবং সন্তানের জন্য উত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত। নারীরা স্বামীর পরিচর্যাকারীনি হয়ে থাকেন তাই স্বামী কখনই স্ত্রীর কাছে নিজ দুর্বলতা লুকোতে পারে না। এটি মনে করা উচিৎ নয় যে, সে কিছু বুঝে না বা নির্বোধ। পতি যদি পবিত্র স্বভাবের হয় তাহলে সেই গৃহের পত্নী তাকে ভয় করবে এবং খোদাকে ভয় পাবে। সহধর্মীনি তার স্বামীর প্রভাবে প্রভাবান্তিতা হয় তাই স্বামী যত বেশি নেকী বা পুণ্যের পথে পরিচালিত হবে তা থেকে স্ত্রী কিছু না কিছু অংশ অবশ্যই গ্রহণ করবে।’

এই হলো সে প্রত্যাশা হযরত যা মসীহ্ মওউদ (আ:) প্রত্যেক আহ্‌মদী পুরুষের কাছে করেছেন বা পোষণ করছেন। এই শব্দগুলো আমাদেরকে আন্দোলিত করার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত, পুরুষের উপর অনেক বড় দায়িত্ব বর্তায়। অতীতকালে নারীরা অজ্ঞ ছিল, তাদের বিদ্যা ছিল যৎ সামান্য, এখন আল্লাহ্ তা’লার কৃপায় শিক্ষার আলো নারীর বুদ্ধি-চেতনার মানকে অনেক বিকশিত করেছে। আমি পূর্বেই বলেছি, জামাতে এমন মহিলাও আছেন বরং তারা জামাতের ভেতর সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণী, যারা পুরুষের দুর্বলতার কারণে অনেক কষ্ট পান এবং পুরুষের কঠোর ব্যবহারের কারণে হতোদ্দম হয়ে পড়েন। নিজেরা নেকীর উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করেন আর স্বামীর তুলনায় সন্তান-সন্ততির তরবিয়তের ব্যাপারে বেশী উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত হন। অনেক সময় যা হয় তা হলো, পুরুষদের বিপথগামীতা দেখে স্বামী থেকে স্ত্রী পৃথক হয়ে যান, খোলা নিয়ে নেন। এর ফলে সন্তানের উপর বড় বিরূপ প্রভাব পড়ে। এই সমাজে যেখানে বিশেষভাবে শিশুদের জন্য পিতার নিগরানী এবং তত্ত্বাবধানের অনেক প্রয়োজন সেখানে এমন শিশুরা যৌবনে পৌঁছতেই ভুল পথে পা বাড়ায়। বলা যায়, এসব কিছুর জন্য দায়ী হলো পুরষ, এমন পুরুষদের চিন্তা করা উচিত। কতবড় দূর্ভাগ্যের বিষয় যে, আমাদের খোদা আমাদের অস্তিত্ব এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য দোয়া শিখাচ্ছেন। খোদা তা’লার দোয়া শিখানোর অর্থ হলো আল্লাহ্ তা’লা সেই দোয়া কবুল করতে চান এবং করেন। আর দোয়ার বাক্যে هَبْ لَنَا শব্দকে অন্তর্ভূক্ত করে আল্লাহ্ তা’লা বলছেন যে, তোমাদের কাছ থেকে তাঁর কিছু পাবার নেই। তোমাদের ইহকাল এবং পরকালকে সুনিশ্চিত করার জন্য, তোমাদের পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য, সঠিক পথে চলার রীতি শিখিয়ে তিনি তোমাদের পুরস্কৃত করছেন এবং বলেন যে, যদি এ পথে পরিচালিত হও তাহলে নিয়ামত পাবে, পুরস্কার পাবে; কিন্তু পরিতাপ! আমরা এই নিয়ামত থেকে অংশ নিচ্ছিনা। অতএব আমাদেরকে আত্মজিজ্ঞাসার চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে সে পথে চলার চেষ্টা করা উচিত যা খোদার সন্তুষ্টি অর্জনের কারণ হবে, সদা নিজদের গৃহের শান্তি বজায় থাকার কারণ হবে এবং সন্তান-সন্ততির পক্ষ থেকেও আমাদের আত্মিক প্রশান্তির কারণ হবে আর সত্যিকার অর্থেই প্রত্যেক আহ্‌মদী গৃহে ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত মানুষের জন্ম হোক। আহ্‌মদী সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি ত্বাকওয়ার উপর বিচরণকারী হোক আর এর কল্যাণেই আমরা খিলাফতের নিয়ামত থেকে পুরোপুরি লাভবান হতে পারবো। আর এটিই মহানবী (সা:)-এর আনুগত্যে ও অনুসরণে আগমনকারী মসীহ্ মওউদের জামাতের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব আছে, সেই দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে। অতএব আমাদের ভেতর তারাও ভাগ্যবান, যারা এই সত্যকে বুঝে ওয়াহাব খোদার কাছে যখন চায়, খোদা তা’লা এ পৃথিবী এবং পরকালেও তাদের জন্য এমনভাবে নয়ণের স্নিগ্ধতা এবং হৃদয়ের প্রশান্তির ব্যবস্থা করবেন যা মানুষ ভাবতেও পারে না।

সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে এখানে আরেকটি কথা আমি বলতে চাই যা অনেক সময় ঘর-ভাঙার কারণ হচ্ছে বা স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক তিক্ত সম্পর্কের কারণে সন্তান-সন্ততির উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ; আর তা হলো, ছেলে কেন হচ্ছে না শুধু মেয়ে কেন হচ্ছে। কেবল এ কারণে অনেক স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট হয় বা স্ত্রীর প্রতি নিছক এ কারণেই স্বামী অসন্তুষ্ট থাকে যে, তার গর্ভে ছেলে কেন হয়না। আল্লাহ্ তা’লা বলেন:

يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ

অর্থ: তিনি যাকে চান কন্যা দান করেন এবং যাকে চান পুত্র দান করেন। (সূরা আশ্ শূরা: ৫০)

আল্লাহ্ তা’লা বলছেন যে, যাকে চান তিনি ছেলে দেন আর যাকে চান তিনি মেয়ে দেন। অন্যত্র বলেন, যাকে চান, ছেলে-মেয়ে দু’টোই দান করেন। এটি খোদা তা’লার দান। খোদার এই দানের কারণে কাউকে অভিযুক্ত করা ত্বাকওয়া বহির্ভূত। এ যুগে খোদা তা’লা মানুষকে যে জ্ঞান এবং চিকিৎসা রীতি এবং পদ্ধতি শিখিয়েছেন তা অনুসরণে বা একে কাজে লাগিয়ে অনেকের উপকারও হয়। যাদের ছেলের বাসনা থাকে তাদের ঘরে ছেলেও হয় কিন্তু অনেক সময় খোদা তা’লাই যে স্রষ্টা তা তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন আর আপন ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। সেক্ষেত্রে লক্ষ চিকিৎসা করলেও কোন লাভ হয় না। অধিকন্তু মেয়ে কেন হয় এই প্রশ্নে স্ত্রীদের জীবন দুর্বিসহ করে তোলা বা মেয়েদেরকে সেভাবে পিতৃস্নেহ না দেয়া যেভাবে তাদের স্নেহ পাবার অধিকার আছে, সবসময় তাদেরকে খোঁটা দেয়া; মেয়েদের হৃদয়ে পিতার বিরুদ্ধে একটি ঘৃণার জন্ম দেয়। এ ধরনের বিষয় যখন আমার সামনে আসে তখন বিস্মিত হতে হয় যে, এ যুগেও এমন মানুষ আছে যারা মেয়েদের উপর সেভাবে যুলুম এবং অত্যাচার করছে যা অতীতকালে আরবের অজ্ঞ যুগের ইতিহাসে দেখা যায়। তখন কারও ঘরে মেয়ে হলে, অনেকের চেহারা মলিন হয়ে যেত, অতএব এগুলো অজ্ঞতাপ্রসূত কথা এবং ধ্যান-ধারণা; প্রত্যেক মু’মিন এবং প্রত্যেক আহ্‌মদীকে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

আমি একটি আহ্‌মদী পরিবারকে জানি, এটি অনেক দিনের পুরনো কথা। সে ব্যক্তির ঘরে শুধু মেয়ে হতো, প্রথম স্ত্রীর ঘরে চার পাঁচটি মেয়ে হয়, তিনি ছেলের বাসনায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই স্ত্রীর ঘরেও দুই-তিনটি মেয়ে হয়। ছেলের আশায় তিনি আরেকটি বিয়ে করেন। সেই মহিলার গর্ভে আরও তিন চারটি মেয়ে হলো। এরপর তিনি চতুর্থ বিয়ে করেন, সেখানেও আল্লাহ্ তা’লা তাকে মেয়েই দিয়েছেন। অবশেষে প্রথমা স্ত্রীর গর্ভেই প্রথম ছেলে সন্তান জন্ম নেয় পূর্বে যার গর্ভে কেবল মেয়েই হচ্ছিল। অতএব এটি খোদা তা’লার ইচ্ছা, যাকে চান যেভাবে চান তিনি দান করেন। তাই যদি সন্তানই চাইতে হয়, ছেলেই যদি চাইতে হয়, ঝগড়া-বিবাদ না করে, ঘরে অশান্তি সৃষ্টি না করে, ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে খোদা তা’লার কাছে চাওয়া উচিত এবং নেক সন্তানের জন্য দোয়া করা উচিত। খোদা তা’লা আমাদেরকে পবিত্র কুরআনে নবীদের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে দোয়া শিখিয়েছেন। এক স্থানে আল্লাহ্ তা’লা বলেন,

رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ

অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সৎ কর্মশীল পুত্র দাও।’ (সূরা আস সাফ্‌ফাত: ১০১)

অন্যত্র এই দোয়া শিখিয়েছেন,

رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً

অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! তুমি তোমার সন্নিধান হতে আমাকে পবিত্র সন্তান-সন্ততি দান করো।’ (সূরা আলে ইমরান: ৩৯)

অতএব সবসময় এমন সন্তানের জন্য দোয়া করা উচিত বা বাসনা পোষণ করা উচিত, যারা পবিত্র ও নেক হবে এবং যারা পুণ্যবানদের অন্তর্ভূক্ত হবে। আর সবসময় সে যেন নয়ণের স্নিগ্ধতার কারণ হয়, এ দোয়া করা উচিত। অনেকেই আমার কাছে ছেলে সন্তান লাভের বাসনা বা ইচ্ছা ব্যক্ত করে চিঠি লিখেন, আমি সব সময় তাদেরকে বলি, পুণ্যবান এবং সুস্থ্য সন্তানের জন্য দোয়া করুন। অনেক সময় মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় পিতামাতার �����শি সেবা করে ��র বেশী নেক হয়ে থাকে। পিতা-মাতার জন্য তারা সুনাম বয়ে আনে, আর অপরদিকে ছেলেরা অনেক সময় বদনামী ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে থাকে। অতএব একজন মু’মিনের এটিই পরিচয় হওয়া উচিৎ, সন্তানের জন্য দোয়া করতে গিয়ে সে যেন নেক এবং সুস্থ্য-সবল সন্তানের জন্য দোয়া করেন। সে স্থায়ীভাবে এ দোয়া করে যে, সন্তান যেন তার নয়ণের স্নিগ্ধতার কারণ হয় নতুবা এমন সন্তানে লাভ কি যে বদনামী বা দুশ্চিন্তার কারণ হয়। অনেক চিঠি আমার কাছ আসে যাতে ছেলে নষ্ট হওয়ার কারণে দুশ্চিন্তার কথা লেখা থাকে। অনেকে ব্যক্তিগত সাক্ষাতে ও এমন দু:শ্চিন্তা প্রকাশ করে থাকেন। আসল বিষয় হলো, হৃদয়ের প্রশান্তি এবং সন্তানের নেক ও পুণ্যবান হওয়া। যদি এটি না হয় তাহলে সন্তান-সন্ততির কোন অর্থ নেই।

সালেহীন বা পুণ্যবানের যে সংজ্ঞা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বর্ণনা করেছেন তা এখানে তুলে ধরছি। তিনি বলেন,

‘সালেহীন বা পুণ্যবানদের ভেতর কোন প্রকার আধ্যাত্মিক ব্যাধি থাকে না, কোন প্রকার বিশৃংখলা বা ত্রুটিবিচ্যুতি থাকে না।’

অতএব আমাদের সন্তান-সন্ততি যাতে এ মান অর্জনে সক্ষম হয় সে জন্য আমাদের দোয়া করা উচিত। আমাদের নিজেদেরকেও এর উপর প্রতিষ্ঠিত হবার চেষ্টা করা উচিত যেন ভবিষ্যত প্রজন্মের মাঝে নেকীর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং পবিত্র প্রজন্মের ধারা যেন অব্যাহত থাকে। বংশ-পরাম্পরায় যারা পিতা-মাতার জন্য নয়ণের স্নিগ্ধতার কারণ হবে এবং পরিবারের জন্য, ও জামাতের জন্য সুনাম কুড়িয়ে আনবে। আমি বলেছি যতক্ষণ আমরা নিজেদের অবস্থার প্রতি সজাগ দৃষ্টি না রাখবো, বা মনোযোগ না দেবো এবং আমরা নিজেরা যতক্ষণ পুণ্যবানদের অন্তর্ভূক্ত না হবো এবং ত্বাকওয়ার উপর চলতে অভ্যস্ত না হবো এটি ততক্ষণ পর্যন্ত এটি সম্ভব নয়। অতএব এটিকে অবলম্বন এবং এর উপর অনুশীলন ও এর উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া একান্ত প্রয়োজন। আল্লাহ্ তা’লা আমাদের সবাইকে এর তৌফিক দান করুন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে