In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবা

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড শহরে জামাতে আহ্‌মদীয়ার নবনির্মিত মসজিদ ‘বাইতুল মাহ্‌দী’-এর উদ্বোধন

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল মাহ্‌দী, ব্র্যাডফোর্ড, ইউ.কে

৭ই নভেম্বর, ২০০৮ইং

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর হাতে বয়’আত করার পর আপন-পর সবাইকে আমাদের কথা ও ব্যবহারিক কর্মদ্বারা প্রমাণ করতে হবে যে, আমরা এক ও অদ্বিতীয় খোদার ইবাদতের জন্য মসজিদ নির্মাণ করি।

মসজিদ নির্মাণ করা তাদের কাজ নয় যারা মু’মিনদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে। অতএব আজ আমাদের প্রত্যেক আহ্‌মদীর এ ধ্বনিই উচ্চারিত করা উচিত আর কেবল ধ্বনিই নয় বরং প্রতিটি কথা এবং কর্ম দ্বারা এর প্রকাশ ঘটানো উচিত যে, আহ্‌মদীরা ভালবাসার পতাকাবাহী। তারা মানুষের মাঝে বন্ধনকে দৃঢ় করে এবং সার্বিকভাবে পৃথিবী থেকে ফিৎনা ও নৈরাজ্য দূরীভূত করে।

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে মসজিদুল মাহ্‌দী’র উদ্বোধনকালে প্রদত্ত জুমুআর খুতবাতে, ব্র্যাডফোর্ডের মসজিদুল মাহ্‌দী, শেফিল্ডের মসজিদ, লেমিংটন স্পা এবং হার্ডারসফিল্ড এ নতুন কেন্দ্র স্থাপনের বিবরণ।

তাহ্‌রীকে জাদীদের ৭৪তম বছর সমাপ্ত এবং ৭৫তম বছর আরম্ভ হবার ঘোষণা।

আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়া জামাত তাহ্‌রীকে জাদীদ খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে এবং শীর্ষ দশটি জামাতে স্থান করে নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

قُل لِّعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ يُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُنفِقُواْ مِمَّا رَزَقۡنَـٰهُمۡ سِرًّ۬ا وَعَلَانِيَةً۬ مِّن قَبۡلِ أَن يَأۡتِىَ يَوۡمٌ۬ لَّا بَيۡعٌ۬ فِيهِ وَلَا خِلَـٰلٌ

(সূরা আল্ ইব্রাহীম: ৩২)

আলহামদুলিল্লাহ্, সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ্ তা’লার। ব্র্যাডফোর্ড জামাত এই মসজিদ নির্মাণের সৌভাগ্য লাভ করেছে। পূর্বে এখানে একটি ঘর জামাতের মসজিদ হিসাবে ব্যবহৃত হতো আর আমার মনে হয় তাতে যে ধারণক্ষমতা ছিল তাতে ব্র্যাডফোর্ড জামাতের চাহিদা অনেকটা পূরণ হচ্ছিল। কিন্তু সেটাকে মসজিদ আখ্যায়িত করা যেতে পারেন না। বিশেষ করে মসজিদের ঘর যাকে ইংরেজীতে Purpose built মসজিদ বলা হয়, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে অত্রাঞ্চলে জামাতে আহ্‌মদীয়া কর্তৃক নির্মিত এটিই প্রথম মসজিদ। অনেকে বলেন প্রধান সড়ক থেকে মসজিদ খুব সুন্দর দেখায় আর এর ছাদে দাঁড়িয়ে এক নজরে পুরো শহর দেখা যায়; যদিও আমি এখনও দেখিনি কিন্তু অনেকেই বলেছেন, অবশ্য আমি ছবি দেখেছি। এমন মনে হয় যেন পুরো শহর মসজিদকে দেখছে। এখানে গয়ের আহ্‌মদীদের অন্যান্য ফিরকার মসজিদও রয়েছে যা সামনে দুর দুরান্তে চোখে পড়ে।

যাইহোক, খোদা তা’লা নির্মাণের জন্য এখানে এই জায়গা দিয়েছেন যা শহরের অনেক উঁচু স্থানে অবস্থিত। এখান থেকে পুরো শহর আর শহর থেকে এই মসজিদটি দেখা যায়। এ দৃষ্টিকোন থেকে এই মসজিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান লাভ করেছে আর এ সবকিছুই খোদা তা’লার কৃপা ও অনুগ্রহ। আপনারা যারা ব্র্যাডফোর্ডের অধিবাসী তারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে, ইচ্ছা এবং সংকল্প যদি দৃঢ় হয় তাহলে খোদা তা’লা অবশ্যই সাহায্য করে থাকেন। আপনারা যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে, মসজিদ নির্মাণ করতেই হবে তখন খোদা তা’লাও সাহায্য করলেন।

এছাড়া অত্রাঞ্চলে আরও কিছু মসজিদ নির্মিত হচ্ছে আর কতক ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে। আজকের জুমুআয় সেগুলো সম্পর্কেও সংক্ষেপে কিছু বলতে চাই। শেফিল্ডেও একটি মসজিদ নির্মিত হয়েছে, আগামীকাল এর উদ্ধেধন করা হবে, ইনশাআল্লাহ্। কিন্তু যেহেতু জুমুআর সুযোগ থাকবেনা তাই সে সম্পর্কেও আজই বলছি। এছাড়া আপনাদের আরও দু’টি কেন্দ্র ক্রয় করার সৌভাগ্য হয়েছে। গোটা বিশ্বের আহ্‌মদীরা মসজিদের সংক্ষিপ্ত তথ্য বা বিবরণী জানতে চায়। এছাড়া আপনারা যারা যুক্তরাজ্যের অধিবাসী তাদেরও অনেকেই সবকিছু অবগত নন; তাই সংক্ষেপে কিছু বিবরণ তুলে ধরছি।

এখানে জামাতের ইতিহাস অনেক পুরনো। ১৯৬২ থেকে এখানে জামাত প্রতিষ্ঠিত। হযরত খলীফাতুল মসীহ্ সালেস (রাহে:) এখানে এসেছিলেন, তিনি প্রথমবার আসেন ১৯৬৮ সনে তারপর পুনরায় তার শুভাগমন হয় ১৯৭৩ সনে। এখন যে জায়গা ব্যবহৃত হচ্ছে তা ১৯৭৯ সনে ক্রয় করা হয়েছিল। তারপর হযরত খলীফাতুল মসীহ্ রাবে (রাহে:) ১৯৮২ সনে এখানে এসেছিলেন, এরপর ১৯৮৯ এবং ১৯৯২ সালেও তিনি এখানে আসেন। হযরত খলীফাতুল মসীহ্ রাবে (রাহে:)-এর নির্দেশে এখানে মসজিদের জন্য জায়গা সন্ধান করা হয়। আর এর নকশা অনুমোদিত হয় ২০০১ সনে। আপনারা জানেন যে, ২০০৪ সনে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এখন পর্যপ্ত প্রাপ্ত হিসাব মোতাবেক মসজিদ নির্মাণে ২.৩ মিলিয়ন, অর্থাৎ ২৩ লক্ষ পাউন্ড খরচ হয়েছে। আর এতে ছয়’শ মুসল্লির সংকুলান হবে। একটি হল পুরুষদের জন্য আর মহিলাদের জন্যও সমআকৃতির পৃথক একটি হল রয়েছে। এছাড়া আরও একটি হল রয়েছে। মসজিদ নির্মাণে নির্মাণ কোম্পানী ছাড়াও আমাদের স্বেচ্ছাসবীরা যথেষ্ট কাজ করেছেন। রশীদ সাহেব, শাহেদ সাহেবসহ আরও অনেকেই কাজ করেছেন। আল্লাহ্ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন।

মসজিদের জন্য তহবিল এককভাবে ব্র্যাডফোর্ড জামাতই সংগ্রহ করেনি বরং আমি এর সিংহভাগ যোগান দেয়ার ভার লাজনা ইমাইল্লাহ্‌র উপর ন্যস্ত করেছি; একইভাবে খোদ্দামুল আহ্‌মদীয়াকেও বলেছি কেননা, আনসারউল্লাহ্ প্রদত্ত বিরাট অংকের সুবাদে হার্টলিপুলের মসজিদ নির্মিত হয়েছে। যাইহোক, লাজনা ইমাইল্লাহ্ স্বত:স্ফূর্তভাবে একান্ত উৎসাহের সাথে চাঁদা দিয়েছেন একইভাবে খোদ্দামুল আহ্‌মদীয়াও। এছাড়া স্থানীয় ব্র্যাডফোর্ড জামাতও যথেষ্ট ত্যাগ স্বীকার করেছে। আল্লাহ্ তা’লা তাঁদের সকলকে পুরস্কৃত করুন।

আল্লাহ্ তা’লার ফযলে ইউ.কে জামাতেও এখন জাগরণ সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিপুর্বে কয়েক বছর পর পর একটি মসজিদ নির্মিত হতো বা কোন কেন্দ্র ক্রয় করা হতো এখন Purpose built মসজিদ নির্মাণের দিকে তাদের মনোযোগ নিবদ্ধ হয়েছে। আল্লাহ্ তা’লা এধারা চলমান রাখুন। আপাতত তারা পঁচিশ’টি মসজিদ নির্মাণের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তা যেন দ্রুত অর্জন করতে পারে।

ইউরোপে যেখানে একটি শ্রেণী ইসলামের বিরোধিতায় চরম পন্থা অবলম্বন করছে সেখানে আল্লাহ্ তা’লার ফযলে যুবকদের একটি বিশেষ শ্রেণী এমনও আছে যাদের ভেতর ইসলামের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হচ্ছে। পবিত্র কুরআন তথা ইসলাম কি শিক্ষা দেয় তা তারা জানে, তারা ইতিহাসও পড়ে আর ঘটনাবলীও জানে। ইউরোপে ইসলামের এই যে, অভ্যুদয় ঘটছে তাও তারা দেখছে আর ইসলামের কল্যাণে যে উন্নতি হয়েছে তদ্বারাও তারা প্রভাবিত হয়। জামাতে আহ্‌মদীয়া যেহেতু কোন কোন স্থানে সংখ্যায় অত্যন্ত কম আর ততটা পরিচিত নয় এবং মানুষ জামাতে আহ্‌মদীয়া সম্পর্কে ততটা জানেও না তাই এরা যে সকল মুসলমান ফির্‌কাগুলোর কাছে যায়, তাদের তবলীগে ইসলাম গ্রহণ করে কিন্তু অনেক সময় তারা ভুলপথে পরিচালিত হয়। সে কারণে আমি পূর্বে একবার বলেছিলাম, ফ্রান্সের মসজিদ উদ্বোধনকালে একজন জার্মান কূটনৈতিক সেখানে এসেছিলেন। তিনি বললেন,

‘জার্মান যুবকদের মাঝে ইসলামের প্রতি প্রবল আকর্ষণ সৃষ্টি হচ্ছে। আমার ইচ্ছা হল যদি মুসলমানই হতে হয় তাহলে আহ্‌মদী মুসলমান হওয়া উচিত যাতে তারা সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে।’

তো এই যে প্রবণতা সৃষ্টি হচ্ছে সেটিকে কাজে লাগাতে হবে। আর আমাদের মসজিদ নির্মাণের ফলে জামাত নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করে এবং পরিচয়ের নিত্য-নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।

আমীর সাহেব আমাকে যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতে লাজনার প্রশংসা করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের দিক থেকে লাজনা ইমাইল্লাহ্ ইউ.কে. নিজ ওয়াদা পুরণ করেছেন, কিন্তু খোদ্দামুল আহ্‌মদীয়ার বিরুদ্ধে তাঁর কিছুটা অভিযোগ ছিল। খোদ্দামুল আহ্‌মদীয়ার যতটুকু সম্পর্ক, তারাও নিজ ওয়াদা রক্ষা করেছে বলে জানিয়েছে কিন্তু যদি না করে থাকেন তাহলে অভিযোগ খন্ডন করুন।

দ্বিতীয় যে মসজিদের কথা বলেছি তা শেফিল্ডে নির্মিত হয়েছে। সেখানে ১৯৮৫ সন থেকে জামাত প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। বর্তমানে যেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে ২০০৬ সনে সেই জমি ক্রয় করা হয়েছে। সেখানেও পাঁচ লক্ষ পাউন্ড ব্যয়ে মসজিদ নির্মিত হয়েছে। ২০০৬ সনে সেখানে গুটিকয়েক আহ্‌মদী ছিল মাত্র কিন্তু এখন আল্লাহ্‌র ফযলে দু’শতাধিক সদস্য বিশিষ্ট জামাত এটি। সে মসজিদেও তিনশত নামাযীর সংকুলান হবে।

এভাবে আরও কয়েকটি কেন্দ্র করা হয়েছে; লেমিংটন স্পা এবং হার্ডাসফিন্ডেও একটি করে নতুন প্লট ক্রয় করা হয়েছে, এটি দেড় একর বিশিষ্ট যায়গা। এখানেও ভবিষ্যতে অতিসত্বর মসজিদ নির্মিত হবে, ইনশাআল্লাহ্।

খোদার প্রতি এ কারণে আমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত যে, আহ্‌মদীয়া বিশ্বে মসজিদ নির্মাণের প্রতি যে দৃষ্টি নিবদ্ধ হচ্ছে যুক্তরাজ্যবাসীরাও এতে অবদান রাখছেন। আল্লাহ্ তা’লা সত্বর আপনাদেরকে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের তৌফিক দান করুন। কিন্তু সর্বদা স্মরণ রাখা উচিত যে, অট্টালিকা নির্মাণ বা একটি সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণই যথেষ্ট নয়। এটি কী আমাদেরকে হাদীসে বর্ণিত নিয়ামতের উত্তরাধিকারী করবে? হাদীসে রসুলুল্লাহ্ (সা:) বলেছেন,

যে ব্যক্তি এই পার্থিব জগতে খোদার ঘর নির্মাণ করে সে বস্তুত পারলৌকিক জান্নাতে নিজ ঘর নির্মাণ করে।

নি:সন্দেহে মসজিদ নির্মাণ একটি পুণ্যকর্ম আর খোদার দৃষ্টিতে বড় পছন্দনীয় কাজ সে কারণেই পরকালে এর বিনিময়ে আল্লাহ্ তা’লা তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণের শুভ সংবাদ দিয়েছেন। কিন্তু খোদা তা’লা যেই উদ্দেশ্যে এ ঘর নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন সেই উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ন একান্ত আবশ্যক। নিয়্যতকে পূত-পবিত্র করে নিজেদের ভেতর সেই প্রেরণা ও চেতনা সৃষ্টি করা আবশ্যক।

খোদা তা’লা যিনি মানব হৃদয়ের স্বরূপ জানেন। যিনি জানেন যে, বান্দার কোন কাজের পিছনে উদ্দেশ্যে কি। সেই খোদার সন্তুষ্টির জন্য এমন নিষ্ঠাপূর্ণ হৃদয়ের প্রয়োজন যা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের গভীর চেতনায় সমৃদ্ধ থাকবে। যাতে শুধু খোদার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাঁর অধিকার প্রদানের পাশাপাশি বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদানের চেতনাও একইভাবে বিরাজ করবে। আমি দৃঢ় বিশ্বাস রাখি যে, মুহাম্মদী মসীহ্‌র দাস হিসেবে এই চেতনা প্রত্যেক আহ্‌মদীর হৃদয়ে রয়েছে আর এখানেও এ মসজিদ নির্মাণের সময় সেই চেতনাই সৃষ্টি হয়ে থাকবে। এই প্রেরণা এবং এই চেতনা যদি না থাকে তাহলে এমন মসজিদের বিনিময়ে পরকালের জান্নাতে ঘর বানানোর তো প্রশ্নই উঠেনা বরং যে মসজিদ নির্মাণের পিছনে উদ্দেশ্য খোদার সন্তুষ্টি নয় এই পৃথিবীতেই এমন মসজিদকে ধুলিস্মাৎ করার নির্দেশ দিয়েছেন। দেখুন মহানবী (সাঃ)-এর যুগে বিরোধী ও মুনাফেকীনরা যখন মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য আল্লাহর নামে একটা মসজিদ নির্মাণ করেছিল খোদা তা’লা সেই মসজিদকে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। একথা উল্লেখ করতে গিয়ে খোদা তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন যে,

وَٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُواْ مَسۡجِدً۬ا ضِرَارً۬ا وَڪُفۡرً۬ا وَتَفۡرِيقَۢا بَيۡنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ وَإِرۡصَادً۬ا لِّمَنۡ حَارَبَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُ ۥ مِن قَبۡلُ‌ۚ وَلَيَحۡلِفُنَّ إِنۡ أَرَدۡنَآ إِلَّا ٱلۡحُسۡنَىٰ‌ۖ وَٱللَّهُ يَشۡہَدُ إِنَّہُمۡ لَكَـٰذِبُونَ

لَا تَقُمۡ فِيهِ أَبَدً۬ا‌ۚ لَّمَسۡجِدٌ أُسِّسَ عَلَى ٱلتَّقۡوَىٰ مِنۡ أَوَّلِ يَوۡمٍ أَحَقُّ أَن تَقُومَ فِيهِ‌ۚ فِيهِ رِجَالٌ۬ يُحِبُّونَ أَن يَتَطَهَّرُواْ‌ۚ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلۡمُطَّهِّرِينَ

أَفَمَنۡ أَسَّسَ بُنۡيَـٰنَهُ ۥ عَلَىٰ تَقۡوَىٰ مِنَ ٱللَّهِ وَرِضۡوَٲنٍ خَيۡرٌ أَم مَّنۡ أَسَّسَ بُنۡيَـٰنَهُ ۥ عَلَىٰ شَفَا جُرُفٍ هَارٍ۬ فَٱنۡہَارَ بِهِۦ فِى نَارِ جَهَنَّمَ‌ۗ وَٱللَّهُ لَا يَہۡدِى ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّـٰلِمِينَ

অর্থ: ‘এবং (মোনাফেকদের মধ্য থেকে) যারা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল-(ইসলামের) ক্ষতিসাধন, কুফরী প্রচার, মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং ঐ ব্যক্তির জন্য গোপন ঘাঁটিরূপে ব্যবহার করার জন্য যে ইতিপূর্বে আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। এবং তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, এবং আমরা কেবল সৎ উদ্দেশ্যেই তা করেছি, কিন্তু আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। তুমি কস্মিনকালেও এতে নামাযের জন্য দাঁড়াবে না। যে মসজিদ প্রথম দিন থেকে ত্বাকওয়ার ভিত্তির উপর নির্মিত হয়েছে, তা অধিকতর যোগ্য যে, তুমি তথায় নামাযের জন্য দন্ডায়মান হও, সেখানে এমন লোক আছে যারা পবিত্র হতে ভালবাসে, এবং আল্লাহ্ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র ত্বাকওয়া এবং তাঁর সন্তুষ্টির উপর অট্টালিকার ভিত্তি স্থাপন করে সে উৎকৃষ্টতর, না ঐ ব্যক্তি যে নিজের অট্টালিকার ভিত্তি এক গর্তের পতনোম্মুখ কিনারায় স্থাপন করে ফলে তা তদসহ জাহান্নামের আগুনে পতিত হয়? এবং আল্লাহ্ অত্যাচারী জাতিকে হেদায়াত দান করেন না।’ (সূরা আত্ তাওবা: ১০৭-১০৯)

সুতরাং এখানে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র ত্বাকওয়া ও তাঁর সন্তুষ্টির উপর অট্টালিকার ভিত্তি রাখে সে উৎকৃষ্টতর না ঐ ব্যক্তি যে নিজের অট্টালিকার ভিত্তি এক পতনোম্মুখ কিনারায় স্থাপন করে? ফলে তা তৎসহ জাহান্নামের আগুনে পতিত হয় এবং আল্লাহ্ অত্যাচারী জাতিকে হেদায়াত দেন না।

আমরা যারা এই দাবী করি যে, আমরা মুহাম্মদী মসীহ্‌র দাসদের অন্তুর্ভুক্ত, যাঁকে খোদা তা’লা এ যুগে পৃথিবীর সামনে ত���ঁর পরিচয় তুলে ধরার জন্য পাঠিয়েছেন। যার প্রেরিত হওয়ার উদ্দেশ্যই হলো, বান্দাদেরকে খোদার নিকটতর করা এবং খোদার সৃষ্টির প্রাপ্য অধিকার প্রদানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। আল্লাহ ক্ষমা করুন! আমাদের মসজিদ সম্পর্কে ভাবাই যায়না যে, তা মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হবে; তাতে কুফরীর শিক্ষা দেয়া হবে বা কোন সময় মু’মিনদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির কারণ হবে অথবা খোদা ও রসূলের বিরোধীদের আমরা এতে আশ্রয় প্রদান করবো! এমনটি কখনও কল্পনাই করা যায়না। অতএব, যেহেতু আমরা কখনও এমন অপকর্ম করতেই পারি না তাই আমদেরকে সমাজে এ শিক্ষা প্রসার করতে হবে। মসজিদ নির্মাণের পর মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর বাণী পৌঁছানোর কাজে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি গতি সঞ্চার করতে হবে। মহানবী (সা:)-এর দাসত্বে যে মসীহ্ এবং মাহ্‌দীর আগমন করার কথা ছিল আর যার আসার উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবী থেকে কষ্ট দুর করা, সেই মসীহ্ এবং মাহ্‌দী এসে গেছেন। আমরা তাঁর জামাতের সদস্য এবং তাঁর মান্যকারী। কষ্ট দেয়াতো দূরের কথা বরং আমরা সে জামাতভূক্ত যারা ভালবাসা এবং প্রেম-প্রীতির প্রদীপ হৃদয়ে প্রজ্জলিত করি। আমরা সেই মুহাম্মদী মসীহ্‌র মান্যকারী যিনি ঘোষণা করেছেন যে,

‘খোদা তা’লা আমাকে এজন্য প্রেরণ করেছেন যাতে সত্য প্রকাশের মাধ্যমে ধর্মীয় যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তির ভীত রচনা করতে পারি’। (লেকচার লাহোর, রূহানী খাযায়েন ২০তম খন্ড-পৃ: ১৮০)

সুতরাং আমাদের মসজিদ যেন সে শিক্ষার প্রচারক হয় যা প্রেম-প্রীতি ভালবাসা ও সহনশীলতার ভিত গড়ে থাকে। আমরা সর্বাবস্থায় মিমাংসার হস্ত প্রসারিত করে পৃথিবীকে নিরাপত্তা দেয়ার স্বপ্ন দেখি। পৃথিবীর কষ্ট দুরীভূত করার জন্য আমরা সদা ত্যাগ স্বীকার করেছি এবং করে যাবো। আজ গোটা পৃথিবীতে জামাতে আহ্‌মদীয়ার পরিচয়ই হলো, এই জামাত বিশ্বাবাসীর কষ্ট লাঘব করার ক্ষেত্রে প্রথম সারির লোকদের অন্যতম। যারাই আমাদের জানে তারা আমাদেরকে এই জন্য জানে যে, এটি একটি শান্তিপ্রিয় জামাত; বরং আমি বলব যে, আমরা সর্বাগ্রে রয়েছি কারণ যেখানেই সুযোগ ঘটে রং-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা নিঃস্বার্থ সেবা করে থাকি।

আফ্রিকায় Huminity First-এর মাধ্যমে আমরা সেবা করছি। বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ আমেরিকাতেও আমরা খিদমত করছি। আহ্‌মদী প্রকৌশলীদের সংগঠন রয়েছে। আল্লাহ্‌র ফযলে যুক্তরাজ্য নিঃস্বার্থভাবে আফ্রিকা এবং অন্যান্য দেশে অনেক কাজ করছে। সর্বত্র আমাদের কাজ হচ্ছে মানবসেবা করা, যাতে মানুষের কষ্ট দূরীভূত হয়। যেখানে পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই সেখানে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করি। মোটকথা, বিভিন্নভাবে জামাতে আহ্‌মদীয়া সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে। এরপর আমি যে আয়াতগুলো তেলাওয়াত করেছি তাতে যে মসজিদ খোদার খাতিরে নির্মিত না হয় সে মসজিদের একটি ক্ষতিকর দিক বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে মসজিদ কুফরী প্রচার করে থাকে। অথচ আমাদের মসজিদতো এক খোদার ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়ে থাকে। আমাদের মসজিদগুলো আমাদের জন্মের যে উদ্দেশ্য তা বাস্তবায়নের জন্য নির্মিত হয়। আর সেই উদ্দেশ্য হল, এক খোদার ইবাদত। অত্রাঞ্চলে মুসলমানদের বিরাট জনবসতি রয়েছে। আমি পূর্বেই বলেছি, এখানে তাদেরও অনেক মসজিদ আছে। এদের একটি শ্রেণী আমাদের মসজিদ নির্মাণকে ভাল দৃষ্টিতে দেখেনি ফলে নির্মাণকালে তারা অনেক ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। এছাড়া অনেক অমুসলিমও আমাদের ক্ষতি সাধনের অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের এহেন কর্ম এবং অপচেষ্টা খোদার ইবাদতের প্রতি আমাদের সচেতনতা পুর্বের তুলনায় আরও বৃদ্ধির কারণ হওয়া উচিত। খোদার সাথে আমাদের বন্ধনকে দৃঢ় করার ক্ষেত্রে পুর্বের তুলনায় আরো বেশি চেষ্টা করতে হবে।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর এই নির্দেশকে দৃষ্টিপটে রেখে আমাদেরকে এর উপর আমল করার চেষ্টা করতে হবে। মসীহ মওউদ (আ:) স্বীয় আবির্ভাবের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে,

‘সেই খাঁটি ও বিশুদ্ধ তৌহিদ যা সকল প্রকার শিরকের মিশ্রণ থেকে মুক্ত তা এখন পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে। তাই পুনরায় মানুষের মধ্যে তৌহিদের স্থায়ী চারা রোপণ করাই আমার আগমনের মূল উদ্দেশ্য।’ (লেকচার লাহোর-রূহানী খাযায়েন, ২০তম খন্ড-পৃ: ১৮০)

সুতরাং তাঁর (আ:) দায়িত্ব কেবল সেই খাঁটি তৌহীদ যা পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে তা প্রতিষ্ঠিত করাই নয় বরং এর এমন চারা রোপণ করতে হবে যা কখনও শুষ্ক না হয়, যা চিরসবুজ ও চির হরিৎ থাকবে। আমরা এমন মানুষ যারা তাঁর জামাতভূক্ত বলে দাবী করি। আমরা সেই বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা। যতদিন আমরা সবুজ ও সতেজ শাখা হয়ে থাকবো, এর প্রাপ্য অধিকার প্রদান করবো, তৌহীদের ব্যাপারে যত্নবান থাকবো ততদিন আমরা এই গাছের জীবন্ত শাখা হয়ে থাকবো নতুবা শুকনো পাতা ও ডালের মতো ঝরে যাবো।

এতএব হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর হাতে বয়’আতের পর আপন-পর সবার কাছে নিজেদের কথা এবং কর্মের মাধ্যমে আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, আমরা এক খোদার ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করি। শির্‌ক নির্মুল করার লক্ষ্যে সকল ত্যাগ স্বীকার করি যাতে পৃথিবী থেকে চিরতরে কুফরী ও খোদাদ্রোহ বিলুপ্ত হয়।

এরপর খোদা তা’লা বলেন যে, মসজিদ নির্মাণ করা তাদের কাজ নয় যারা মু’মিনদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে। অতএব আজ আমাদের প্রত্যেক আহ্‌মদীর এ ধ্বনিই উচ্চারিত করা উচিত আর কেবল ধ্বনিই নয় বরং প্রতিটি কথা এবং কর্ম দ্বারা এর বহি:প্রকাশ ঘটানো উচিত যে, আহ্‌মদীরা ভালবাসার পতাকাবাহী। তারা হৃদয়ের বন্ধনকে দৃঢ় করে, তারা সাধারণভাবে পৃথিবী থেকে ফিৎনা ও নৈরাজ্য দূরীভূত করে বিশেষভাবে নিজেদের ভেতর থেকে এবং আপন সমাজ থেকে অশান্তি দুর করে। আর তারা رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ অর্থাৎ পরস্পরের প্রতি দয়ার্দ্রচিত্ততার ব্যবহারিক দৃষ্টান্ত। যদি এমনটি হয় তাহলেই আমাদের মসজিদ সেই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে যার ভিত্তি রাখা হয়েছে ত্বাকওয়ার উপর। তাহলেই আমাদের তবলীগ অন্যদের হৃদয়ে প্রভাব বিস্তার করবে। তবেই আমাদের মুসলমান ভাইদের মন আমরা জয় করতে পারবো, অজ্ঞতা এবং ভুল নেতৃত্ব যাদেরকে সন্দেহ ও সংশয়ে লিপ্ত করে রেখেছে। কেননা এযুগে মহানবী (সা:)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তাঁর নিষ্টাবান প্রেমিক এবং মুহাম্মদী মসীহ্ই সকল মুসলমানকে উম্মতে ওয়াহেদা বা ঐক্যবদ্ধ উম্মতে পরিণত করার দায়িত্ব পালন করবেন। এখন মুহাম্মদী মসীহ্‌র জামাতের দায়িত্ব সত্যিকার মু’মিনের ভূমিকা পালন করা। আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূল (সা:)-এর প্রকৃত শিক্ষা শিরোধার্য করা। ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং এই মসজিদকে সেই মসজিদের আদলে প্রতিষ্ঠিত করা, যার সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং ত্বাকওয়ার উপর এর ভিত্তি রাখা হয়েছিল। নতুবা এমন মসজিদ যা ত্বাকওয়া শূন্য এবং ত্বাকওয়ার দাবী পূর্ণ না করে যে মসজিদ নির্মিত হয় তা আগুনের পতনোম্মুখ গর্তের কিনারায় নির্মিত মসজিদ হয়ে থাকে।

হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল (রা:) একস্থানে এভাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন যে,

‘নদীর তীর ভেঙ্গে তা পানিতে পড়ে, এতে নদী প্রশস্ত হয় এর ফলে অনেক মানুষের জন্য তা উপকারী সাব্যস্ত হয় কিন্তু কপট বা মুনাফিকাতের কিনারা বা তীর ভেঙ্গে আগুনেই পড়ে।’

যে মসজিদ শুধু একনিষ্ঠভাবে খোদার সন্তষ্টির জন্য নির্মিত না হয় সে মসজিদের দৃষ্টান্ত দিয়ে আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এটিই বুঝিয়েছেন যে, সেই মসজিদ আগুনের গর্তেই পতিত হওয়ার ছিল। আমরা তো কপটতামুক্ত হয়ে নিষ্ঠার সাথে খোদার সন্তুষ্টির জন্য কাজ করি। আমাদের মসজিদ ইনশাল্লাহ সেই মসজিদের ভূমিকা পালন করবে যা প্রত্যেক ত্যাগী ব্যক্তির জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে।

সুতরাং খোদা তা’লা যেখানে দৃষ্টান্তস্বরূপ কপট এবং বিরোধীদের এমন অপকর্মের উল্লেখ করেছেন যদ্বারা মু’মিনদের ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে বা যদ্বারা তাদের ক্ষতির দুরভিসন্ধি রাখা হয় সেখানে আল্লাহ্ তা’লা এই নিশ্চয়তাও দিয়েছেন যে, মহানবী (সা:)-এর যুগেও এমন হীনচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ভবিষ্যতেও যদি মু’মিন, সত্যিকার মু’মিন ঈমান অনুসারে ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তাহলে খোদা তা’লা মু’মিনদের জামাতকে সকল অনিষ্ট ও কষ্ট থেকে রক্ষার ব্যবস্থা করবেন।

কিন্তু মু’মিনদের দায়িত্ব অনেক বড়, এই মসজিদ যা ত্বাকওয়ার ভিত্তিতে নির্মিত এর দৃষ্টান্ত তোমাদের সম্মুখে রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, মসজিদে নবুবীর ভিত্তি বিনয় ও দোয়ার উপর রাখা হয়েছিল যা ত্বাকওয়া বা খোদাভীতির মূল। অতএব মহানবী (সা:) এবং তাঁর সাহাবীরা মসজিদের ভিত্তি রাখার সময় যে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন ভবিষ্যতেও মু’মিন যেন সর্বদা এই আদর্শ দৃষ্টিপটে রাখে নতুবা তোমাদের মসজিদ খোদার নৈকট্যের কারণ হওয়ার কোন নিশ্চয়তা দিতে পারে না। অতএব খোদার ভালবাসা ও নৈকট্য লাভের জন্য নিজ হৃদয়কে পবিত্র করার আকাঙ্খা এবং এই উদ্দেশ্যে ত্বাকওয়ার পানে পদচারণা একান্ত আবশ্যক।

সুতরাং প্রত্যেক আহ্‌মদী যখনই মসজিদ নির্মাণ করবে তাদের সদা এই কথা মাথায় রাখতে হবে যে, এটি নির্মাণের উদ্দেশ্য হচ্ছে এক খোদার ইবাদত আর ত্বাকওয়ার পথে পরিচালিত হয়ে খোদার সন্তুষ্টি অর্জন।

ত্বাকওয়া কি? খোদাভীতি কি? অথবা, মুত্তাকী কে? এ প্রসঙ্গে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘আল্লাহ্ তা’লার ভয়ে এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে যে ব্যক্তি প্রতিটি পাপ এড়িয়ে চলে তাকে মুত্তাকী বলা হয়।’

আরেক স্থানে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

‘পবিত্র কুরআন ত্বাকওয়ার শিক্ষাই প্রদান করে এবং এটিই এর পরম উদ্দেশ্য’

অর্থাৎ ত্বাকওয়া সৃষ্টিই কুরআনের মূল উদ্দেশ্য।

‘যদি মানুষ ত্বাকওয়া অবলম্বন না করে তাহলে তার নামাযও নিরর্থক বরং তা দোযখের কুঞ্জী প্রমাণিত হতে পারে।’

(তফসীর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:), ১ম খন্ড-পৃ:৪১১; আল্ হাকাম-১১তম খন্ড, নম্বর-২৮, তারিখ: ১০ই আগস্ট,১৯০৭-পৃষ্ঠা:১৪)

আল্লাহ্ প্রত্যেক আহ্‌মদীকে এ থেকে নিরাপদ রাখুন। এমন নামায কেবল নিরর্থকই নয় বরং দোযখ বা জাহান্নামের প্রতি ধাবিত করে। আমরা মসজিদের কথা বলছি, ত্বাকওয়া বা খোদাভীতি সৃষ্টিই এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। আর সেই ত্বাকওয়া লাভের জন্যই একজন মুসলমান নামায পড়ে। ত্বাকওয়ার উদ্দেশ্যে সে নামায পড়ে। আর মসজিদ নির্মাণের কল্যাণে আল্লাহ্ তা’লা মানুষকে জান্নাতে স্থান দেন। একথার মাধ্যমে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) সত্যিকার অর্থে আমাদের সতর্ক করেছেন।

অতএব প্রত্যেক সেই ব্যক্তি যে মসজিদ নির্মাণের জন্য কুরবানী করে তাকে সর্বদা প্রথম যে কথা দৃষ্টিপটে রাখতে হবে তাহলো, মসজিদ নির্মাণের সময় যেন নিয়্যত পরিষ্কার ও স্বচ্ছ থাকে। সকল প্রকার অশান্তি ও নৈরাজ্য থেকে যেন মুক্ত থাকে। আর যারা নামাযী তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, যদি খোদাভীতি না থাকে তাহলে বাহ্যত তোমরা যতই নামায পড় না কেন তা অর্থহীন। মানুষ যদি এ সম্পর্কে ভাবে তাহলে শরীরের লোম শিউরে উঠে।

এরপর অন্যত্র তিনি (আ:) বলেন,

‘যেখানে ত্বাকওয়া নেই সেখানে কোন সৎকর্ম যথার্থ অর্থে সৎকর্ম নয় আর কোন পুণ্য সেখানে পুণ্য বলে বিবেচিত হবে না।’ (তফসীর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:), ১ম খন্ড-পৃ:৪১০; আল্ হাকাম-৫ম খন্ড, নম্বর-৩২, তারিখ: ৩১শে আগস্ট, ১৯০১-পৃষ্ঠা: ৩)

অতএব আমরা খুব সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করেছি যা দূর থেকে দেখা যায় এবং শহরে খুবই গুরুত্ব রাখে; কেবল এটি ভেবে আমাদের আত্মপ্রসাদে গর্বিত হলে চলবে না। এর আসল সৌন্দর্য তখন প্রকাশ পাবে যখন আমরা ত্বাকওয়ার উপর পরিচালিত হয়ে এই মসজিদ নির্মাণের যে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য তা অর্জনকারী হবো। ত্বাকওয়ার পথে পরিচালিত হয়ে এ উদ্দেশ্যগুলো পূর্ণকারী হবো।

তাই প্রত্যেক আহ্‌মদীকে এই মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি একনিষ্ঠভাবে খোদা তা’লার খাতিরে নামায আদায় করার চেষ্টা করা উচিত, পারস্পরিক প্রেম-প্রীতি ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন পূর্বের তুলনায় দৃঢ় করা আর খোদা তা’লার সন্তুষ্টির খাতিরে পরস্পরের ভুল-ভ্রান্তি উপেক্ষা করা উচিত। নিজেদের হৃদয় সকল প্রকার হিংসা, বিদ্বেষ এবং ঈর্ষা থেকে যেন মুক্ত থাকে। আপন-পর সকলের প্রাপ্য অধিকার যেন প্রদান করা হয়, হৃদয় বিনয় ও নম্রতা সৃষ্টিকারী হয়। তবেই এই মসজিদ নির্মাণের কল্যাণে জান্নাতে খোদা নির্মিত গৃহে আমরা স্থান লাভ করবো। আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এই মর্যাদা লাভের এবং এর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার তৌফিক দান করুন।

আমি প্রথম দিকে যে আয়াত তেলাওয়াত করেছি এতে আল্লাহ্ তা’লা মু’মিমনদেরকে দু’টো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন, যা কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন আঙ্গিক ও সূত্রে আল্লাহ্ তা’লা বারবার বর্ণনা করেছেন। এরমধ্যে প্রথম নির্দেশ হচ্ছে, নামায প্রতিষ্ঠা করা। যে সম্পর্কে পূর্বেই কিছুটা মনোযোগ আকর্ষণ করেছি যে, এ মসজিদ নির্মাণের পর ত্বাকওয়ার পথে পরিচালিত হয়ে স্বীয় নামাযের হিফাযত করা প্রত্যেক মু’মিনের দায়িত্ব। আর এটিই তোমাদেরকে ত্বাকওয়ার উন্নত মার্গে পৌঁছে দেবে।

নামাযের তাৎপর্য সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,

নামায কি? এটি একটি দোয়া, যা তসবীহ্ (মহিমা কীর্তন), তাহ্‌মীদ (প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন), তাকদীস (পবিত্রতা ঘোষণা) এবং ইস্তেগফার ও দুরূদসহ সবিনয়ে প্রার্থনা করা। সুতরাং যখন তোমরা নামায পড় তখন দোয়ার মধ্যে কেবল অজ্ঞ লোকদের ন্যায় আরবী শব্দ ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ থেকো না। কারণ তাদের নামায এবং ইস্তেগফার সবই বাহ্যিক ক্রিয়াকলাপ মাত্র। এতে কোন সারবস্তু নেই। কিন্তু তোমরা যখন নামায পড় তখন খোদা তা’লার কালাম কুরআন এবং রসূলুল্লাহ্ (সা:)-এর কালাম বা দোয়ায়ে মাসূরার কতিপয় প্রচলিত দোয়ার পাশাপাশি নিজেদের যাবতীয় সাধারণ দোয়া বিগলিত চিত্তে নিজ ভাষাতেই করো যেন সেই সকাতর দোয়ার সুপ্রভাব তোমাদের হৃদয়ে পতিত হয়।’ (কিশতিয়ে নূহ্-রুহানী খাযায়েন, ১৯তম খন্ড-পৃ: ৬৮-৬৯)

আর যখন সুপ্রভাব পড়বে তখন ত্বাকওয়ার মানও উন্নত হবে। অতএব নামায বুঝে-শুনে পড়লেই আল্লাহ্ তা’লার নৈকট্য লাভ হয়। এ মসজিদ নির্মাণের পর এখন আপনাদের দায়িত্ব্ বৃদ্ধি পাবে। কেননা আমার অভিজ্ঞতা হলো, সাধারণত মসজিদ নির্মাণের সাথে জামাতের পরিচিতির গন্ডি ব্যাপকতা লাভ করে আর তবলীগের নিত্য-নতুন পথ উম্মুক্ত হয়। অতএব একারণেও নিজেদের ইবাদতের মান উন্নত করা আবশ্যক যাতে খোদা তা’লার কৃপাবারি পুর্বের তুলনায় বেশি বর্ষিত হয়। এই নামাযের কল্যাণে আপনাদের আত্ম-সংশোধনের পাশাপাশি আহ্‌মদীয়াতের পয়গাম পোঁছানোরও উত্তম সুযোগ লাভ হবে এবং এর উত্তম ফলাফলও প্রকাশিত হবে, ইনশাআল্লাহ্।

এখন এ আয়াতে বর্ণিত অন্যান্য শিক্ষার প্রতি দৃষ্টি দেয়া যাক। এটি কাকতালীয় বিষয় যে, আমি একদিনের ব্যবধানে ব্র্যাডফোর্ড এবং হার্টলিপুল মসজিদের ভিত্তি রেখেছিলাম। প্রথমে ব্র্যাডফোর্ড আর পরেরদিন হার্টলিপুল মসজিদের। কিন্তু আজ থেকে দু’বছর পুর্বেই হার্টলিপুল মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। সেটি ছোট ছিল বলে তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হয়েছে। ব্র্যাডফোর্ড মসজিদ নির্মাণে সময় কিছুটা বেশি লেগেছে। যাইহোক আমি যে কথা বলতে চাই তা হলো, হার্টলিপুল মসজিদের যখন উদ্বোধন হয় তখনও এটি দৈব ব্যাপার ঘটে বা খোদার বিশেষ কোন অভিপ্রায় প্রকাশ পায়। অর্থাৎ সেখান থেকে আমি তাহ্‌রীকে জাদীদের নববর্ষের ঘোষণা করি। আমার পক্ষ থেকে লন্ডনের বাইরের কোন স্থান হতে তাহ্‌রীকে জাদীদের নববর্ষের সেটিই প্রথম ঘোষণা। আজ কাকতালীয়ভাবে আপনাদের মসজিদও সেই দিনেই উদ্বোধন করা হচ্ছে যখন তাহ্‌রীকে জাদীদের পুরনো বছর সমাপনে নববর্ষের সূচনা হচ্ছে।

আহ্‌মদীয়াতের শত্রুদের ক্রমবর্ধমান শত্রুতাই তাহ্‌রীকে জাদীদ প্রবর্তনের কারণ। যখন হযরত খলীফাতুল মসীহ্ সানী (রা:) তাহ্‌রীকে জাদীদের প্রবর্তন করেন তখন আহ্‌মদীয়তকে নির্মূল করার জন্য শত্রুর ষড়যন্ত্র ছিল বড় ভয়াবহ। কিন্তু খোদার কৃপায় তাঁর এই তাহ্‌রীকের পর এই পরিকল্পনার কল্যাণে আহ্‌মদীয়াতের প্রচার পূর্বের তুলানায় বর্ধিতমাত্রা এবং অধিক মহিমার সাথে বর্হিবিশ্বে প্রসার লাভ করতে থাকে। আজকে আমরা যে মসজিদ নির্মাণ করছি বা যে মিশন হাউজ খুলছি, তবলীগি কেন্দ্র ক্রয় করছি এবং জামাতের সংখ্যা যে বৃদ্ধি পাচ্ছে এটি সত্যিকার অর্থে সেই তাহ্‌রীকেরই সুফল। অতএব আজ এক নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে আপনাদেরকে দোয়ার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করতে হবে কেননা খোদা তা’লা অঢেল দানে আমাদেরকে ভূষিত করছেন। একটি গভীর অনুরাগের সাথে তবলীগ করা আবশ্যক। গভীর আবেগ নিয়ে আর্থিক কুরবানী করা প্রয়োজন। এটিই সত্যিকারের কৃতজ্ঞতা এবং শত্রুর হীন ষড়যন্ত্রের এটিই দাঁতভাঙা জবাব। আল্লাহ্ তা’লা এই আয়াতে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কথা যা বর্ণনা করেছেন তা হলো, অর্থ ব্যয় কর। বিবেকবান মাত্রই জানে এ স্থলে আর্থিক কুরবানীর অর্থ হলো, খোদা তা’লার পথে খরচ করা। এর মাধ্যমে যেন তবলীগের উদ্দেশ্যে বই-পুস্তক ইত্যাদির চাহিদা পুরণ হতে পারে, মসজিদ নির্মাণ এবং নতুন মিশন হাউস প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় আর মোবাল্লেগ তৈরী করা যেতে পারে। ইতোপুর্বে দু’টি জামেয়া ছিল, একটি কাদিয়ানে আর একটি ছিল রাবোয়ায়। এখন মোবাল্লেগের অপ্রতুলতা দূর করা ও মোবাল্লেগ প্রশিক্ষণের নিমিত্তে বেশ কয়েকটি স্থানে জামেয়া খুলেছে যাতে ভবিষ্যতের প্রয়োজন বা চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হয়। ইংল্যান্ডও সে সৌভাগ্যবান দেশগুলোর একটি যেখানে জামেয়া আহ্‌মদীয়া প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। যাইহোক আল্লাহ তা’লা এখানে বলেছেন, তোমরা আর্থিক ত্যাগ স্বীকার কর। ব্যয় নির্বাহের বেলায় খোদার নির্দেশ হলো, কেবল একটি কাজ করে তোমরা বসে যেও না বরং যেভাবে খোদার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে খাঁটি মন মানসিকতা নিয়ে খোদার ইবাদতের প্রয়োজন এবং নামাযের প্রতি স্থায়ী মনোযোগ দেয়া আবশ্যক একইভাবে আর্থিক কুরবানীরও প্রয়োজন রয়েছে। একবার আর্থিক কুরবানী করে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একটি মসজিদ নির্মাণের পর আর্থিক কুরবানীর ক্ষেত্রে শৈথিল্য দেখা যাওয়া উচিত নয়। স্বল্প পরিমান বই পুস্তক ছেপে এটি মনে করা উচিত নয় যে, অনেক হয়েছে।

এখন তো খোদার কৃপায় তবলীগের নতুন পথও আল্লাহ্ তা’লা স্বয়ং উন্মোচন করেছেন যার জন্য অর্থের প্রয়োজন। আমরা জানি নতুন মাধ্যমগুলোর একটি MTA বটে। আজকে প্রথমবারের মতো এখানে এ শহর থেকে সরাসরি পৃথিবীবাসী জুমুআর খুতবা শুনছে। তবলীগের ময়দানে MTA-এর অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। এর মাধ্যমে আহ্‌মদীয়ত বিশ্বে কেবল পরিচিতই হচ্ছে না বরং পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশের অধিকাংশ স্থানে আহ্‌মদীয়াতের পয়গাম পৌঁছে গেছে। এখন শুধু কোন কোন দেশে বা কয়েকটি শহরে বাণী পৌঁছে দেয়াই যথেষ্ট নয় বরং পৃথিবীর সকল শহর, উপশহর, গ্রাম, বরং প্রতিটি অলি-গলিতে ইসলামের এই বাণী পৌঁছাতে হবে। আর এর জন্য সর্বাবস্থায় ত্যাগ স্বীকার করা আবশ্যক। এর জন্য দোয়ার আবশ্যকতা রয়েছে। আর এই জন্যই আপনারা অঙ্গীকার করেন যে, আমরা প্রাণ, সম্পদ, সময় ও সম্মান উৎসর্গ করবো। কেন? উদ্দেশ্যবিহীনভাবে আমরা এমনটি করছিনা! বরং খোদার ধর্মের পয়গাম পৌঁছানোর জন্য করছি। মহানবী (সা:)-এর পতাকা সারা বিশ্বে উড্ডীন রাখার জন্য করবো।

এটি খোদা তা’লার অপার কৃপা যে, জামাতের বন্ধুদের হৃদয়ে তিনি স্বয়ং আর্থিক কুরবানীর প্রেরণা সৃষ্টি করেন। আজ যখন গোটা বিশ্ব আর্থিক সংকটের সম্মুখীন তখন আল্লাহ্ তা’লা আহ্‌মদীদেরকে বলছেন, তোমাদের ইবাদত এবং আর্থিক কুরবানী তোমাদেরকে এর কুফল থেকে নিরাপদ রাখবে। কেননা মু’মিনের দৃষ্টি তার চূড়ান্ত গন্তব্যের উপর নিবদ্ধ থাকে এবং এমনটিই হওয়া উচিত। আর এজন্য আল্লাহ তা’লা বলেন, জাগতিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং টাকা-পয়সা কিংবা বন্ধুত্ব কোন কাজে আসবেনা। বরং কাজে লাগবে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কৃত ইবাদত এবং আর্থিক কুরবানী। এ জামাতের উপর খোদার অনেক বড় অনুগ্রহ যে, আহ্‌মদীরা আল্লাহ্‌র এই পয়গামকে অনুধাবন করতে পেরেছে। অনেক সময় আর্থিক কুরবানী এতবেশি করতে হয় মনে হয় যেন, বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এসত্বেও আল্লাহ্ তা’লার ফযলে আহ্‌মদীদের একটি বিরাট সংখ্যা এমন আছেন যাদের কুরবানীর অভ্যাস হয়ে গেছে এবং তা তারা ধরে রাখেন। এই যে মসজিদ নির্মিত হয়েছে এতেও অনেকেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে অংশ নিয়েছেন। একজনকে আমি জানি তিনি সাময়িকভাবে এখানে এসেছিলেন। তার নিকট যা কিছু ছিল তিনি সবকিছু এই মসজিদ নির্মাণের জন্য দান করেন। ফলে আমি তাকে বলতে বাধ্য হলাম, তোমার নিজের প্রাণেরও একটা অধিকার রয়েছে এবং সেটাও তোমাকে প্রদান করতে হবে।

আপনারা অনেকেই জানেন, তাহ্‌রীকে জাদীদের বছর ৩১শে অক্টোবর সমাপ্ত হয়। সেদিন থেকে অনেকেই প্রস্তুত থাকেন যে কখন আমি খুতবা দেবো? আর কখন নববর্ষের ঘোষণা করা হবে এবং তারা চাঁদা দিবে বা ওয়াদা লেখাবে। আমি জানি অনেকে এমনও আছেন যারা টাকা জোগাড় করে বসে থাকেন যখনই ঘোষণা আসবে তখনই ওয়াদার সাথে-সাথে আদায়ও করবেন। খোদার প্রাপ্য প্রদানে তারা ব্যর্থ হন না। এমনও অনেকেই আছেন যারা চিন্তা করেন, ঋণ নিয়ে নিজের চাহিদা পুরণ করা গেলে ঋণ করে তাহ্‌রীকে জাদীদ বা অন্যান্য চাঁদা কেন দিতে পারবো না? অথচ নিজ প্রাণের যে প্রাপ্য তাও প্রদান করা আবশ্যক। কিন্তু স্বীয় খোদার সাথে প্রত্যেক ব্যক্তির সম্পর্কের প্রকৃতি আলাদা হয়ে থাকে। তাই যদিও অনেকের অবস্থা তত সচ্ছল নয় কিন্তু আমি তাদেরকে একথাও বলিনা যে চাঁদা ফেরত নাও। আমি তাদের দৃষ্টি অবশ্যই আকর্ষণ করি যে, তোমার নিজের এবং স্ত্রী-সন্তানদের যা অধিকার পাওনা আছে তাও প্রদান কর। এক্ষেত্রে তাদের উত্তর এটিই হয়ে থাকে, আল্লাহ্ তা’লার সাথে এটাই আমাদের ব্যবসা। বরং এমন মানুষের স্ত্রীরাও উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে আর্থিক কুরবানি করেন। আমি দেখেছি, আহ্‌মদী নারীরা পুরুষদের তুলনায় আর্থিক কুরবানির ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন, মাশাআল্লাহ্। এখনই আপনারা শুনেছেন! আমীর সাহেবের রিপোর্ট সূত্রে আমি বলেছি, লাজনারা তাদের ওয়াদা পুরণ করেছেন।

একইভাবে জার্মানীর বার্লিনে যে মসজিদ নির্মিত হয়েছে সেখানেও যুক্তরাজ্যের লাজনারা প্রায় দুই লক্ষ পাউন্ড দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে যেসব নতুন মসজিদ নির্মিত হয়েছে এবং সেন্টার ক্রয়ের যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে আমি মনে করি এক্ষেত্রেও আহ্‌মদী নারীদের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। আহ্‌মদী মহিলাদের পক্ষ থেকে অনেক মিটিং এবং শূরায়ও এর প্রকাশ হয়ে থাকে। আমার সামনেও কয়েকবার তা প্রকাশ করা হয়েছে। মোলাকাতের সময়ও তারা প্রকাশ করেন, অনতিবিলম্বে মসজিদ নির্মাণ হওয়া উচিত কেননা তা আমাদের সন্তানদের তরবিয়তের জন্য অত্যাবশ্যক। অতএব এটি হলো আহ্‌মদীয়াতের সৌন্দর্য। এটা হচ্ছে সেই বিপ্লব যা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) আমাদের ভেতর সৃষ্টি করেছেন। একই জাগরণ আমাদের মা-বোন এবং মেয়েদের মাঝে সৃষ্টি করেছেন, যতদিন এই চেতনা তাদের মাঝে সমুন্নত থাকবে ততদিন তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইবাদত এবং আর্থিক কুরবানীর ক্ষেত্রে অগ্রগামী থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রতিযোগিতামূলকভাবে আর্থিক কুরবানীতে অভ্যস্ত হবে। আল্ল��হ্ তা’লা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর জামাতকে সদা এমন ত্যাগী নারী-পুরুষ শিশু ও বৃদ্ধ দান করুন যারা পার্থিব বন্ধুত্ব এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি দৃষ্টি রাখার পরিবর্তে পরকালের প্রতি দৃষ্টি রেখে খোদার সন্তুষ্টির সন্ধানী হবে এবং ত্বাকওয়ার পথ অনুসরণ করবে।

এখন আমি শেষের দিকে সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরছি যাতে তাহ্‌রীকে জাদীদের তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ পাবে কেননা পৃথিবীর আহ্‌মদীরা এ তথ্যের জন্যও অপেক্ষমান থাকে। তাহ্‌রীকে জাদীদের ৭৪তম বছর শেষ হয়েছে এবং ৭৫তম বর্ষ আরম্ভ হয়েছে। আর রিপোর্ট অনুযায়ী খোদা তা’লার কৃপায় এ বছর সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে জামাত তাহ্‌রীকে জাদীদ খাতে মোট ৪১,০২,৭৯২ (একচল্লিশ লক্ষ দুই হাজার সাতশত বিরানব্বই) পাউন্ড আর্থিক কুরবানী করার সৌভাগ্য লাভ করেছে যদিও বিশ্বে বর্তমানে অনেক বড় অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে তবুও গত বছরের তুলনায় আদায় হয়েছে ৫লক্ষ পাউন্ড বেশি। আহ্‌মদীদের মনমানসিকতা প্রায় সর্বত্রই এমন, তারা শেষ মাস বা শেষ দিনে নিজেদের ওয়াদা পূর্ণ করে। পুরো বছর অপেক্ষা করে বা ভাগ করে তারা এভাবে পরিশোধ করে।

যাইহোক সারা পৃথিবীর জামাতগুলোর মধ্যে সার্বিক দৃষ্টিকোণ এ বছরও পাকিস্তান প্রথম স্থানে রয়েছে। মোট আদায়ের দৃষ্টিকোণ হতে শীর্ষ দশটি জামাত সম্পর্কে বলছি। পাকিস্তান প্রথম, আমেরিকা দ্বিতীয় এবং ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আমেরিকার দ্বিতীয় স্থান লাভের রহস্য হলো ডলারের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি। তবে তাদের মোট আদায় গত বছরের তুলনায় কম, তাই আমেরিকাকে এদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। এ বছর আদায়ের দৃষ্টিকোণ হতে যুক্তরাজ্য চুয়াত্তর হাজার পাউন্ড বেশি আদায় করেছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে জার্মানী। তারপর কানাডা, ইন্দোনেশীয়া, ভারত, বেলজিয়াম আর অষ্ট্রেলিয়া রয়েছে অষ্টম স্থানে। নবম স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড (পুর্বে শীর্ষ দশ থেকে ছিটকে পড়েছিল পুনরায় স্থান করে নিয়েছে ) এবং দশম স্থানে রয়েছে নাইজেরিয়া ও মরিশাস।

নাইজেরিয়া জামাত তাহ্‌রীকে জাদীদের বেলায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে এসেছে আর মোট আদায়ের দিক থেকে শীর্ষ দশটি জামাতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়া প্রথম দেশ যা শীর্ষ দশটি জামা’তের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে এবং তারা একটি উত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যেমন কিনা আমি উল্লেখ করেছি, গত বছর সুইজারল্যান্ড এই তালিকা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল কিন্তু এবার স্বস্থানে ফিরে এসেছে। ঘানা, নরওয়ে, ফ্রান্স, হল্যান্ড, এবং মধ্যপ্রাচ্যের কোন কোন জামাতও মোট আদায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে উল্লেখযোগ্য। সংখ্যা উল্লেখ করছি না কিন্তু নি:সন্দেহে তারা উন্নতি করেছে। স্থানীয় মুদ্রায় আদায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে যেসব দেশ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে তাদের মধ্যে পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইন্দোনেশীয়া, ঘানা, সিয়েরালিওন, ত্রিনিদাদ এবং সিঙ্গাপুর অন্তর্ভুক্ত।

এবছর আল্লাহ্ তা’লার ফযলে চাঁদা আদায়কারীর মোট সংখ্যাও পাঁচ লক্ষের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। যদিও আমার ধারণা এবং আমার মাথায় যে লক্ষ্য আছে তদনুযায়ী এটি অপর্যাপ্ত। যদি এরা ইচ্ছে করে এবং জামাতগুলো সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করে বিশেষ করে আফ্রিকান জামাতগুলো, তবে এক বছরেই এ সংখ্যা তিনগুণ বর্ধিত হতে পারে এবং পরবর্তীতে এ সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকবে, ইনশাআল্লাহ্ তা’লা। আর যেমনটি আমি বলেছি, এ খাতে চাঁদাদাতার সংখ্যাও বাড়াতে হবে। আফ্রিকায় নাইজেরিয়া এদিকে দৃষ্টি দিয়েছে ফলে সবচেয়ে বেশি সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। এরপর ঘানা, কানাডা, ভারত, জার্মানী, যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশীয়া, বেনিন, নাইজেরিয়া এবং আইভরীকোষ্ট জামাত চাঁদাদাতার সংখ্যা বর্ধিত করেছে। আফ্রিকার ৫টি দেশ এক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর প্রতি যদি আরও মনোযোগ দেয়া হয় তবে এ সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেতে পারে। যখন সর্বপ্রথম দপ্তরের গোড়া পত্তন হয় বা হযরত খলীফাতুল মসীহ্ সানী (রা:) যখন এ তাহ্‌রীক আরম্ভ করেন সে দপ্তরকে প্রথম দপ্তর (দপ্তর আউয়াল) বলা হয় যা উনিশ বছর স্থায়ী হয়। এ দপ্তরের প্রয়াত বুজুর্গদের হিসাব পুনর্বহাল করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এতে প্রায় ৩৮৫১জনের নামে পুন:চাঁদা দেয়া আরম্ভ হয়েছে। কিছু হিসাব স্বয়ং তাদের উত্তরাধীকারী ও আত্মীয়-স্বজনরা বহাল করেছে। অবশিষ্ট যা ছিলো সেগুলো অনেকে ইউরোপ থেকে যে টাকা পাঠিয়েছে তদ্বারা কেন্দ্রীয় উদ্যোগে ২৭২ টি খাতা সক্রিয় করা হয়েছে।

পাকিস্তানের জামাতগুলোর রিপোর্টও পেশ করছি। এতে মোট আদায়ের দিক থেকে তিনটি বড় জামাতের মধ্যে প্রথম লাহোর, দ্বিতীয় রাবোয়া এবং করাচী তৃতীয় স্থানে রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ্‌র কৃপায় রাবোয়াবাসীরা মোট আদায়ের ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে অনেক বেশি এগিয়ে আছে। যদি আদায়ের দিক থেকে দেখা হয় তাহলে প্রথম স্থানে রয়েছে রাবোয়া, দ্বিতীয় করাচি এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে লাহোর।

আদায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তানের অন্যান্য ১০টি জামাতের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে: রাওয়ালপিন্ডি, ইসলামাবাদ, সিয়ালকোট, মুলতান, কোয়েটা, শেখুপুরা উকাড়াহ্, হায়দ্রাবাদ, ভাওয়ালপুর, সাহীওয়াল।

জেলাগুলির ক্ষেত্রে শীর্ষ দশটি জেলা হচ্ছে: সিয়ালকোট, মিরপুর খাস, গুজরানওয়ালা, ফয়সালাবাদ, সারগোদা, গুজরাত, ভাওয়াল নগর, নারওয়াল, মীরপুর আজাদ কাশ্মীর, পেশওয়ার এবং বদ্বীন।

এরপর আদায়ের ক্ষেত্রে যারা আশাতীত উন্নতি করেছে সেগুলো হচ্ছে: সাংঘাড়, ওয়াহকেনট, কুনরী, খোখার গারবী (এগুলো ছোট-ছোট জামাত) ১৬৬ মুরাদ, নাদীমাবাদ, বশীরাবাদ, ঘাটিয়ালিঁয়া খুরদ সাবনদাস্তি।

যুক্তরাজ্য এবার বড় এবং ছোট জামাতগুলোকে পৃথক করেছে। কেননা ছোট জামাত বড় জামাত থেকে এগিয়ে যেতো। হয়তো আপত্তি দূর করার জন্য এমনটি করেছে; কিন্তু এ সত্বেও আদায়ের দিক দিয়ে ছোট বলুন বা বড় স্ক্যানথর্পই এগিয়ে আছে। প্রথম দশটি বড় মজলিস হলো মসজিদ ফযল হালকা প্রথম, উষ্টার পার্ক দ্বিতীয়, ওয়েষ্টহীল তৃতীয়, টুটিং চতুর্থ, স্যাটন পঞ্চম, নিউ মাল্ডেন ৬ষ্ঠ, ৭ম ব্র্যাডফোর্ড নর্থ ও সাউথ। (আল্লাহ্‌র শোকর যে, কতক জামাত এগিয়ে আসছে)। ৮ম ম্যানচেষ্টার, ৯ম জিলিংহাম এবং ১০ম স্থানে রয়েছে ইনারপার্ক। ছোট জামাত যেগুলো তারা নির্ণয় করেছেন তার মধ্যে ১ম স্ক্র্যানথর্প, ২য় উলভরহ্যাম্পটন, ৩য় ব্রিসটল, ৪র্থ স্পেনভেলী, ৫ম ল্যামিংটন স্পা, ৬ষ্ঠ ব্রোমথ, ৭ম নর্থ ভিলেজ, ৮ম ওকীং, ৯ম কীথলে এবং ১০ম স্থানে রয়েছে কর্নওয়াল।

আমেরিকায় ১ম স্থানে রয়েছে সিলিকন ভ্যালি, ২য় শিকাগো ওয়েষ্ট, ৩য় নর্দান ভার্জিনিয়া, এবং ৪র্থ স্থানে রয়েছে ডেট্রয়েট। কানাডার প্রথম তিনটি জামাত হচ্ছে ক্যালগেরী নর্থ ইস্ট ১ম, ক্যালগেরী নর্থ ওয়েস্ট ২য়, এবং পিস ভিলেজ ৩য় স্থান দখল করেছে। আমার ধারণা ছিল পিস ভিলেজ ১ম স্থান অধিকার করবে।

যাইহোক আল্লাহ্ তা’লা এসব আর্থিক কুরবানিকারীদের উত্তম প্রতিদানে ভুষিত করুন। তাদের ধনসম্পদ ও জনবলে অফুরন্ত বরকত দিন। এবং ভবিষ্যতেও এ বাস্তবতাকে অনুধাবন করে আর্থিক কুরবানীর প্রেরণাকে সমুন্নত রেখে কুরবানি করুন এবং স্বীয় ইবদাতের মান সমুন্নত রাখুন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে